Category: ধর্ম

  • আজ ইফতার ও কাল সেহরির সময়

    আজ ইফতার ও কাল সেহরির সময়

    পবিত্র রমজান (১৪৪১ হিজরি) মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

    আজ ১০ রমজান (৪ মে) সোমবার ইফতারের শেষ সময় ৬টা ৩২ মিনিট। ১১ রমজান (৫ মে) রবিবার সেহরির শেষ সময় ৩টা ৫৪ মিনিট।

    এদিকে, আগামী ২০ মে বুধবার দিনগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

    দেশের কিছু জেলায় ঢাকার সময়ের সঙ্গে সেহরি এবং ইফতারের সময়ের মিল রয়েছে। তবে বেশিরভাগ জেলার সাথে ঢাকা জেলার ইফতার এবং সেহরির সময়ের কিছুটা পার্থক্য আছে।

  • কোন দেশে রোজার সময় সবচেয়ে কম

    কোন দেশে রোজার সময় সবচেয়ে কম

    রমজান প্রতিটি মুসলমানের আত্মশুদ্ধির মাস। সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার এবং যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। বিশ্বের সব দেশের মানুষ একই নিয়মে রোজা রাখেন। তবে কোনো কোনো দেশে বেশি সময়, আবার কোনো কোনো দেশে কম সময় রোজা রাখতে হয়।

     

    প্রাকৃতিকভাবে সূর্যের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ও দেশে রোজা রাখার সময় কম-বেশি হয়। ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতেই এ সময় নির্ধারিত হয়। তাই তো দেখা যায়, কোথাও রোজা ২২ ঘণ্টা, আবার কোথাও রোজা ১০ ঘণ্টারও কম।

     

    roza-cover-(2)

     

    কম সময়ের রোজা: নিম্নলিখিত দেশ বা স্থানসমূহে সবচেয়ে কম সময় রোজা পালিত হয়-

    ১. আর্জেন্টিনার উশহুইয়ায় ১১ ঘণ্টা

    ২. অস্ট্রেলিয়ায় ১১ ঘণ্টা

    ৩. চিলির সান্টিয়াগো শহরে ১২ ঘণ্টা ৪ মিনিট

    ৪. ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট

    ৫. দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে ১২ ঘণ্টা ৪ মিনিট

    ৬. তানজানিয়ার দারুস সালামে ১৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট

    ৭. কেনিয়ার নাইরোবি শহরে ১৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিট

    ৮. ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় ১৩ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট

    ৯. ভারতের দিল্লিতে ১৪ ঘণ্টা ৫১ মিনিট

    ১০. আমেরিকার মিয়ামিতে ১৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট

    ১১. ভারতের হায়দরাবাদে ১৪ ঘণ্টা ৯ মিনিট

    ১২. ইয়েমেনের সানায় ১৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট

    ১৩. ওমানের মাসকাটে ১৪ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট

    ১৪. সৌদি আরবের রিয়াদে ১৪ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট।

     

    roza-cover

     

    তবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সময়ই গ্রহণযোগ্য। কেননা সূর্যের উদয় বা অস্ত যাওয়ার ওপর নির্ভর করে রোজার সময়।

  • আজও স্বনাতন ধর্মালম্বী তিলক্তমা ইফতার নিয়ে ভাসমান মানুষের দুয়ারে উপস্থিত

    আজও স্বনাতন ধর্মালম্বী তিলক্তমা ইফতার নিয়ে ভাসমান মানুষের দুয়ারে উপস্থিত

    কখনো মেঘলা আকাশ কিংবা কখনো বৃষ্টি ঝড়ছে, আর এরইমধ্য দিয়ে নিজের ঘরে হাতে তৈরি করা ইফতার সামগ্রী নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভাসমান ও খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষদের মাঝে বিতরণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার।

     

    শনিবার প্রথম রমজান ও রোববার দ্বিতীয় রমজানে বরিশাল নগরের সদররোডসহ বিভিন্ন রাস্তায় তাকে পায়ে হেটে এসব ইফতার সামগ্রী বিতরণ করতে দেখেছেন নগরবাসী। ভিন্নতর এ কাজে এরইমধ্যে সাধারণের ভালোবাসা কুড়িয়েছেন এই ছাত্রী নেত্রী।

     

    রোববার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে বরিশাল নগরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো, কিন্তু সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি ভাসমান ও শ্রমজীবী মানুষের হাতে ইফতার সামগ্রী তুলে দেয়া অব্যাহত রাখেন। ইফতার সামগ্রী বিতরণের সেই ছবি নিজের ফেসবুকে আপলোড দিয়ে তিনি লিখেছেন, বাহিরে প্রচণ্ড বৃষ্টি থাকা সত্বেও তৈরি খাবার নষ্ট হবে পাশাপাশি ওই কর্মহীন মানুষদের কথা ভেবে রমজানের দ্বিতীয় দিনে ইফতার নিয়ে ভাসমান, খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দ্বারে দ্বারে। যে পোষ্টের নিচে ৬ ঘন্টার মধ্যেই ২৫ হাজার লাইক ও লাভ রিয়্যাক্ট, ৫ হাজার ২ শত কমেন্ট, ১ হাজার ৭ শত শেয়ার হয়েছে।

    আজও ব্যাতিক্রম নয়, ইফতার নিয়ে ভাসমান খেটে খাওয়া মানুষের কাছে পৌছেছে স্বনাতন ধর্মলম্বী ছাত্রলীগ নেত্রী তিলক্তমা|

     

    এরআগে শনিবার ইফতার বিতরণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে তিনি লিখেছেন, সেদিন টিভিতে অ্যাড দেখছিলাম সবাইকে নিয়ে ভাল থাকার মাঝে রমজানের প্রকৃত মহিমা। এবারের রমজানটা সবার কাছেই অপরিচিত। যারা ঘরে বসে পরিবারের সাথে ইফতার করছে তাদের কাছে কষ্টের না হলেও ভাসমান, শ্রমজীবী শ্রেনীর কাছে এই পবিত্র রমজান ততটাই ভয়ংকর এবং অসহায়ত্বের। তাদের কথা চিন্তা করে প্রথম রমজানে ইফতার তৈরী করে নিয়ে এসেছি রমজানের আনন্দ ভাগ করতে।

     

    এ পোষ্টেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

     

    সনাতন ধর্মাবলম্বী একটি মেয়ের এমন মানবিক উদ্যোগ যেন সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন তাকে। তিলোত্তমা জানান, শনিবার থেকে রমজান শুরু হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটা বছর অপেক্ষা করে রমজানের জন্য। কিন্তু করোনার মধ্যে এবারের রমজান আগের থেকে ভিন্ন। করোনার সংকটের কারণে অনেকের বাসায় ইফতারের ব্যবস্থা নেই। অনেকের ঘরে খাবার নেই। তাই প্রথম রমজান থেকে বাসায় ইফতার তৈরি করে রাস্তায় বের হয়েছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে শতাধিক মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করেছি শনিবার।

     

    তিনি বলেন, এই ইফতার বিতরণ আমার কাছে জীবনের অন্যতম আনন্দের এক মুহূর্ত মনে হয়েছে। কারণ এসব মানুষ ইফতার পেয়ে যে খুশি হয়েছেন তা দেখে আমার মন ভরে গেছে। আমি চেষ্টা করছি, আমার আয়োজনটা আরেকটু বড় করার।

     

    এদিকে খোজ নিয়ে জানাগেছে, শুধু ইফতার বিতরণ নয়, লকডাউনের কারণে বিপদে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিলোত্তমা সিকদার। ঢাবির ছাত্রদের মধ্যে যারা লকডাউনের কারণে টিউশনি বা বিকল্প আয়ের পথ হারিয়ে বিপদে পড়েছেন তাদের নাম সংগ্রহ করে সহযোগিতা করছেন তিলোত্তমা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি। নিজ হল এবং আশপাশে যারা বিভিন্ন বাসায় আটকা পড়েছেন; তাদের জন্য ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, দুই লিটার তেল ও আটা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তিলোত্তমা সিকদার।

  • ওয়ারিশ ঠকানো ব্যক্তির ইবাদত কবুল হয় না

    ওয়ারিশ ঠকানো ব্যক্তির ইবাদত কবুল হয় না

    তৃতীয় তারাবির কোরআন তেলাওয়াতে হাফেজ সাহেবরা শোনাবেন সূরা আলে ইমরানের ৯১ নম্বর আয়াত থেকে সূরা নিসার ৮৭ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। আজকের তেলাওয়াতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসবের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ওয়ারিশদের অধিকার ও মৃতের সম্পদ বণ্টন। কেউ মারা গেলে তার সম্পদের কতটুকু কে পাবে এর বিস্তারিত আলোচনা থাকছে সূরা নিসার বিভিন্ন আয়াতে।

     

    মৃতের সম্পদ আল্লাহর করা আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মাঝে ভাগ হওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। সাধারণত দেখা যায় বিভিন্ন বিধানের মূলনীতিটা আল্লাহতায়ালা নিজে কোরআনে বলে দিয়েছেন। পরবর্তীতে সেগুলোর শাখাগত খুঁটিনাটি বিধান আল্লাহ নিজে সরাসরি না বলে নবীর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়েছেন। কিন্তু মৃতের পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টনের শাখাগত প্রায় সকল খুঁটিনাটি বিধানসমূহ নবীর মাধ্যমে না শিখিয়ে মহান আল্লাহ নিজে সরাসরি শিখিয়েছেন। আত্মীয়ের নাম নিয়ে নিয়ে বলে দিয়েছেন কে, কতটুকু পাবে।

     

     

    মৃতের সম্পদ বণ্টনের পর মহান আল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘উহা (মৃতের সম্পদ বণ্টনের এ আইন) আল্লাহর সীমানা। যে আল্লাহ ও তার রসূলের আনুগত্য করবে (আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মৃতের সম্পদ বণ্টন করবে) তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। যার তলদেশে নদ-নদী প্রবাহিত। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। উহা মহা সফলতা। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলের অবাধ্য হবে, আল্লাহর (ওই) সীমানা লংঘন করবে (মৃতের সম্পদ আল্লাহর আইন মতো বণ্টন না করে, নিজের খেয়াল-খুশি মতো বণ্টন করবে) আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। সে তাতে চিরকাল থাকবে। উহা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।’

     

    আজকের তারাবির পর প্রত্যেকেরই বিশেষ কর্তব্য হবে, নিজের অতীত মিলিয়ে নেওয়া। পরিবারের অতীত মৃতদের সকল সম্পদ কি আল্লাহর আইন অনুযায়ী ঠিক ঠিকভাবে বণ্টন হয়েছে! যদি হয়ে থাকে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে এখনই সংশোধন করতে উদ্যোগী হই। মৃতের সম্পদ বণ্টনে আল্লাহর আইন অমান্য করার জন্য, ওয়ারিশ ঠকানোর জন্য শুধু তওবা যথেষ্ট হবে না। তওবার আগে ওয়ারিশদের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। আর ওয়ারিশদের হক ফিরিয়ে তাদের মন খুশি করার আগ পর্যন্ত ফরজ-নফল কোনো ইবাদত কবুল হবে না। নামাজ-রোজা-তারাবি-হজ কোনো ইবাদত কবুল হবে না। জাকাত-ফেতরা-সদকা-দান-খয়রাত কোনো অনুদান কবুল হবে না।

     

    কোনো মুসলমান মারা গেলে তাকে কবরস্থ করার পর পর তার আত্মীয়দের প্রথম কর্তব্য হলো- তার সম্পদের বিষয়ে পারিবারিক পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এক্ষেত্রে মৃতের পরিবারের যিনি অভিভাবক মূলত: প্রধান দায়টা তার ওপর বর্তায়। কিন্তু আমাদের দেশে মৃতের সম্পদের ক্ষেত্রে এটা হয় প্রথম ভুল। কবরস্থ করার পরপরই এ বিষয়ে পরামর্শে বসা হয় না। অনেক পরিবারে দেখা যায় বিশ বছর-ত্রিশ বছর হয়ে গেছে তাও সম্পদ বণ্টন করা হয়নি। অথচ দায়িত্ব ছিল কবর দিয়ে এসেই সম্পদ বণ্টন করা।

     

    মৃতের সম্পদ বণ্টনের প্রচলিত আরও কিছু ত্রুটি

    ১. বোন, ফুফুদের জমির অংশ না দেওয়া। নামে কিছু দিলেও কিনে রাখা হয়, আবার সঠিক বাজারমূল্যও দেওয়া হয় না। নামমাত্র পরিমাণে অনেক অনেক কম মূল্য দেওয়া হয়।

     

    ২. বোন, ফুফুরা পিতার ওয়ারিশ দাবি করলে খারাপ নজরে দেখা হয়। তাদের মন্দ ভাবা হয়। অথচ এটা তাদের হক। আল্লাহ প্রদত্ত পাওনা। নিজের পাওনা দাবি করা কি কোনো অন্যায়?

     

    ৩. বোন, ফুফুদের আতিথেয়তা, ঈদের উপহার ইত্যাদিকে ওয়ারিশের বিনিময় গণ্য করা হয়। অথচ পিতা মারা যাওয়ার সাথে সাথেই বোন, ফুফুদের পুরোপুরি ভাগ তাদের ভোগদখলে বুঝিয়ে দিতে হবে। আবার এর পরেও তারা বেড়াতে আসলে তাদের আতিথেয়তা করতে হবে, সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদে তাদের উপহার দিতে হবে। আতিথেয়তা আর ঈদের উপহার এটাতো পিতার ওয়ারিশ নয়। এটা হলো ভাই-বোনের সম্পর্কের হক, ফুফু-ভাতিজার সম্পর্কের হক।

     

    ৪. বোন, ফুফু ওয়ারিশ দাবি করলে তাদের ওয়ারিশ দিয়ে দিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক চ্ছিন্ন করা হয়। অথচ ওয়ারিশ দিয়ে দেওয়া ফরজ আবার সম্পর্ক রক্ষা করাও ফরজ। ওয়ারিশ দেওয়ার পরেও বোন-ফুফুর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতেই হবে।

     

    ৫. স্বামী মারা যাওয়ার পর স্ত্রী যদি অন্যত্র বিবাহ বসে তবে তাকে তার মৃত স্বামীর সম্পদের ভাগ দেওয়া হয় না। অথচ এটা বড়ো জুলুম। মৃত স্বামীর সম্পদের ভাগ পাওয়ার জন্য তো মহান আল্লাহ বিধবা থাকার শর্ত জোড়ে দেননি। তাই অন্যত্র বিবাহ বসলেও সে তার পূর্বের মৃত স্বামীর সম্পদের ভাগ পুরোপুরিই পাবে।

     

    ৬. স্থাবর সম্পদ ভাগ করা হলেও অস্থাবর সম্পদ ভাগ করা হয় না। আগে থেকে যার দখলে যেটা ছিল সে সেটা রেখে দেয়। এটাও অন্যায়। সম্পদ বণ্টনের পরামর্শ সভায় সবকিছু উপস্থিত করতে হবে। স্থাবর সম্পদের মতো অস্থাবর সম্পদও আল্লাহর আইন অনুযায়ী ভাগ হবে। সে বস্তু ভাগ করা যায় না, বা ভাগ করলে তা ব্যবহার উপযোগী থাকে না সেই বস্তু ওয়ারিশদের ভেতরে বা বাইরে নিলামে বিক্রি করে যে পরিমাণ মূল্যই পাওয়া যাবে তা-ই ভাগ করতে হবে।

     

    ৭. মৃতের ব্যবহারের জিনিষপত্র ভাগ না করে কোনো মিসকিনকে দান করা হয় বা স্মৃতি হিসেবে কেউ রেখে দেয় বা বরকত হিসেবে কেউ রেখে দেয়। এটাও ভুল। মৃতের সম্পদের সামান্য-বেশি কোনোঅংশই কাউকে দান করা যাবে না, স্মৃতি রক্ষার জন্য, বরকত হাসিলের জন্য কাউকে দেওয়া যাবে না। সব ভাগ করতে হবে। ভাগে যিনি পাবেন তিনি ইচ্ছে হলে দান করবেন বা অন্য কিছু করবেন।

     

    ৮. ওয়ারিশদরর মধ্যে শিশু থাকলে তার ভাগ আলাদা করা হয় না। বড়োরা নিজের মতো করে ভোগ করতে থাকে।

     

    ৯. মেয়েকে ঠকানোর জন্য পিতা ছেলেদের নামে সম্পদ লিখে দেয়ে, এটাও অন্যায় ও গোনাহের কাজ।

     

    ১০. অনেকে সময় আল্লাহর বণ্টনকৃত ভাগ থেকে ভাতিজাদের বঞ্চিত করার জন্য ছেলে না থাকলে মেয়েদের নামে সম্পদ লিখে দেয়। এটাও পাপের কাজ। সর্বাবস্থায় আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে।

  • ঝালকাঠির কায়েদ সাহেব হুজুর (রহঃ) এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    ঝালকাঠির কায়েদ সাহেব হুজুর (রহঃ) এর ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

    বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, অর্ধশত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ঝালকাঠির নেছারাবাদ কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা মুহম্মদ আযীযুর রহমান নেছারাবাদী কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.) এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার।

     

    ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের ২৮ তারিখে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ঢাকাস্থ কমফোর্ট হাসপাতালে হুজুর বার্ধক্য জনিত কারণে মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে কবর পথের যাত্রী হন।

     

    হুজুর কেবলার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সদস্যরা যেমনি শোকাহত, তেমনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের অগণিত মুসলিম ও অমুসলিম নর-নারীর চোখের পানিতে তার জন্য কায়েমেনাবাক্যে মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা জানান। হুজুররে গোটা জীবনটা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য নিবেদিত ছিল।

     

    এ ব্যক্তি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী ১৩৩২ হিজরি সনে ঝালকাঠি জেলার বাসন্ডা (বর্তমান নেছারাবাদ) নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হুজুর কেবলার জীবনের সমগ্রটাই মানবকল্যাণে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ছিলেন অসংখ্য গুণের অধিকারী ছিলেন।

     

    তিনি মুসলমানদের ইসলামের সঠিক দিশা পাইয়ে দিতে আমরণ চেষ্টা করেছিলেন। দেশের আলেমরা যখন আলেমদের শত্রুতে পরিণত হয়েছিল, তখন হুজুর কেবলা আলেমদের তথা সমগ্র মুসলমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তার বিখ্যাত দার্শনিক মত ‘আল ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ তথা মতানৈক্যসহ ঐক্যের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।

     

    তিনি ছিলেন ছারছীনা শরীফের মরহুম শাহ নেছার উদ্দীন আহমদ (রহ.) এর মানসপুত্র। হজরত কায়েদ সাহেব হুজুর ছিলেন সব সময় সকল ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। নাস্তিকতা, দেশদ্রোহ, ভন্ডামি, দুর্নীতি-দুষ্কৃতি, অত্যাচার, অবিচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

     

    তিনি সব ধরনের ইহুদি পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশি পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। হজরত কায়েদ সাহেব হুজুর (রহ.) দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বের এক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সরাসরি রাজনীতি না করলেও রাজনীতি সম্পর্কে এমন কতগুলো ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যা বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে। হুজুর সব ব্যাপারে শিথিল পন্থা এবং চরমপন্থা পরিত্যাগ করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেন। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

     

    দুর্নীতি প্রতিরোধ, অশ্লীলতা পরিহার, বেদায়াত উৎখাতসহ নানাবিধ সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তার আন্দোলনের ফলে সাবকে প্রেসিডেন্ট আঃ সাত্তার সমগ্র বাংলাদেশ থেকে আনন্দ মেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি অনেক সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

     

    যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিজবুল্লাহ দারুল কাজা (সালিশি আদালত বা বিচার বিভাগ), ছাত্র হিজবুল্লাহ, আদর্শ সমাজ বাস্তবায়ন কমিটি, হিজবুল্লাহ শ্রমিক সমিতি, তোলাবায়ে হিজবুল্লাহ, হিজবুল্লাহ দুর্নীতি উচ্ছেদে কমিটি (১৯৭৩) এবং আনজুমানে ইত্তিহাদুল মুসলিমিন (মুসলিম ঐক্য সংস্থা ১৯৬৭)।

     

    এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের সব মুসলমানের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন ‘বাংলাদেশ হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহিন (৩ জানুয়ারি ১৯৯৭, ইসলামী ঐক্য সংগঠন)। হুজুর ছিলেন সাহিত্যানুরাগী ও সংস্কৃতিমনা। ইসলামের খেদমতে তিনি শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইসলামের ভ্রান্তবাদীদের তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে সমালোচনা করে তাদেরও সঠিক ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করার জন্য আহ্বান করেছেন। হুজুরের রচনাবলির প্রতিটি লাইন মানুষের জীবনের এককেটি নির্দেশনা। হুজুরের মৃত্যুর পর তার লিখিত গ্রন্থাবলির মর্ম উপলব্ধি করে নেছারবাদ দারুত্তাছনিফ সেগুলোকে পুস্তকাকারে বাজারে ছেড়েছে যাতে তার লেখনী জাতির মঙ্গলে আসে।

     

    হুজুরের অসংখ্য রচনাবলির মধ্যে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিচয় ও আকাঈদ, ইসলাম ও তাসাউফ, ইসলামী জিন্দেগি, তাজভিদুল কোরআন, ছোটদের কিরাত শিক্ষা, আজকারে খামছা, দোজাহানের সম্বল, ইসলাম ও রাজনীতি, ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও উহার পথ এবং মুসলমান এক হও।

  • তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে’

    তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে’

    সূরা আর রাহমান (বাংলা মর্মবাণী)
    পারা ২৭, আয়াত ৭৮, রুকু ৩ (মাদানী)
    দয়াময় মেহেরবান আল্লাহর নামে

    ১. পরম দয়াময় আল্লাহ। ২. তিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। ৩. তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। ৪. তিনি তাকে (গুছিয়ে চিন্তা করতে ও) স্পষ্টভাবে কথা বলতে শিখিয়েছেন। ৫. সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত কক্ষপথে ভ্রাম্যমাণ। ৬. তারকা ও গাছপালা তাঁকেই সেজদারত (তাঁর নিয়মেই সমর্পিত)।

    ৭. তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং সবকিছুর জন্যেই তৈরি করেছেন মানদণ্ড। ৮. তোমরা কখনো ভালো-মন্দ বিচারে ন্যায়দণ্ড লঙ্ঘন কোরো না। ৯. সবকিছুর ওজনে ন্যায্যমান প্রতিষ্ঠা করো এবং ওজন বা বিচারে কারচুপি কোরো না।

    ১০. তিনি জমিনকে সমস্ত সৃষ্টির জন্যে বিছিয়ে দিয়েছেন। ১১. জমিনে রয়েছে সব ধরনের ফলমূল, খেজুর গাছে নতুন কাঁদি। ১২. নানাধরনের খোসা-আবৃত শস্যদানা আর সুগন্ধি লতাগুল্ম। ১৩. অতএব (হে জ্বীন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ১৪. তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়ামাটির মতো শুকনো মাটি দিয়ে। ১৫. আর (অদৃশ্য) জ্বীনকে সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াহীন আগুনের শিখা থেকে। ১৬. অতএব (হে জ্বীন ও মানুষ!) তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ১৭. তিনিই দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের নিয়ন্ত্রক। ১৮. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ১৯. সমুদ্রের দুই বিশাল স্রোতধারাকে তিনি মুক্তভাবে প্রবাহিত করেন, যাতে তারা পরস্পর মিলিত হতে পারে। ২০. কিন্তু মাঝে রয়েছে অদৃশ্য দেয়াল, ফলে তারা পরস্পরকে অতিক্রম করতে পারে না। ২১. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ২২. আর সমুদ্রে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল। ২৩. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ২৪. সমুদ্রে চলমান পর্বতের মতো শোভাময় নৌযানগুলো তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন। ২৫. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ২৬. মহাবিশ্বে যেখানে যা-কিছু আছে সবই নশ্বর। ২৭. অবিনশ্বর শুধু তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহামহিম, মহানুভব। ২৮. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ২৯. মহাবিশ্বের সবকিছুই তাঁর ওপর নির্ভরশীল, তাঁরই নিকট প্রার্থনা করে। সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে তাঁর মহিমা নব নবরূপে দীপ্যমান। ৩০. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৩১. হে (পাপভারাক্রান্ত) জ্বীন ও মানুষ! একদিন আমি তোমাদের সবারই হিসাব নেব। ৩২. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৩৩. হে জ্বীন ও মানুষ! তোমরা যদি পৃথিবী ও নভোমণ্ডলের সীমানা অতিক্রম করতে চাও, অতিক্রম করো। কিন্তু তোমরা কখনোই আমার অনুমতি ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না। ৩৪. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৩৫. (তখন) তোমাদের প্রতি নিক্ষিপ্ত হবে অগ্নিশিখা ও ধূম্রপুঞ্জ, তোমরা কখনোই তা প্রতিরোধ করতে পারবে না। ৩৬. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৩৭. আর একদিন আকাশ বিদীর্ণ হয়ে (তেল-পোড়া আগুনের মতো) গনগনে লাল হয়ে যাবে। ৩৮. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৩৯. সেদিন কোনো জ্বীন বা মানুষকে তার পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করার প্রয়োজন হবে না। ৪০. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৪১. পাপে নিমজ্জিতদের চেহারাই বলে দেবে তাদের অবস্থা। তাদের চুলের ঝুঁটি ও পা ধরে টেনেহিঁচড়ে পাকড়াও করে নিয়ে আসা হবে। ৪২. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৪৩. এই সেই জাহান্নাম, যা পাপে নিমজ্জিত ব্যক্তিরা অসত্য মনে করত। ৪৪. জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ওরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকবে। ৪৫. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৪৬. কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহ-সচেতন ছিল, তার জন্যে জান্নাতে রয়েছে দুটি বাগান। ৪৭. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? ৪৮. উভয় বাগানই শাখাপ্রশাখায় পরিপূর্ণ সবুজ সতেজ গাছপালায় ভরপুর। ৪৯. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৫০. উভয় বাগানে দুটি স্রোতধারা নিয়ত প্রবহমান। ৫১. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? ৫২. উভয় বাগানেই প্রতিটি ফলই হবে দুই ধরনের। ৫৩. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৫৪. জান্নাতে তারা বর্ণিল ব্রোকেড করা পুরু রেশমি কার্পেটে ঠেস-বালিশে আরামে হেলান দিয়ে বসবে। দুই বাগানের ফল ঝুলবে তাদের নাগালের মধ্যে। ৫৫. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? ৫৬. সে বাগানে থাকবে বিশুদ্ধ দৃষ্টির সমুজ্জ্বল সাথিরা। কোনো জ্বীন বা মানুষ কখনো যাদের কাছে আসে নি। ৫৭. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? ৫৮. ওরা হবে মুক্তা ও চুনির ঔজ্জ্বল্যে দীপ্তিময়। ৫৯. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৬০. উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ছাড়া আর কী হতে পারে? ৬১. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৬২. ঐ দুটি বাগান ছাড়াও থাকবে আরো দুটো বাগান। ৬৩. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৬৪. ঘন সবুজ শ্যামল সতেজ বাগান। ৬৫. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৬৬. প্রতিটি বাগানেই উৎসারিত হবে দুটি ঝর্নাধারা। ৬৭. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৬৮. সেখানেও থাকবে প্রচুর ফলমূল, খেজুর, আনার। ৬৯. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৭০. (বাগানগুলোর) সবকিছুই হবে পরিশুদ্ধ ও মনোহর। ৭১. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

    ৭২. সুসজ্জিত বর্ণিল তাঁবুতে থাকবে পরিশুদ্ধ সমুজ্জ্বল সাথিরা। ৭৩. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে? ৭৪. কোনো জ্বীন বা মানুষ কখনো এদের কাছে আসে নি। ৭৫. অতএব তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে

  • খোশ আমদেদ মাহে রমজান

    খোশ আমদেদ মাহে রমজান

    আজ পহেলা রমজান। গতকাল সূর্য অস্ত যাওয়ার পরপরই নতুন চাঁদ উদিত হয়ে রমজান মাসের সূচনা করেছে। আরবি রমাদান শব্দের ফারসি উচ্চারণ রমজান। রমাদানের শব্দমূল রমদ, যার অর্থ গ্রীষ্মের প্রচণ্ড উত্তাপ।

     

    ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমা থেকে প্রায় ২৯৬ মাইল উত্তরে অবস্থিত মদিনা মনাওয়ারায় হিজরত করে আসেন। এখানে এসে তিনি জানতে পারেন এখানকার ইয়াহুদিরা মুহররমের ১০ তারিখ আশুরার দিনে সিয়াম পালন করে।

     

    তারা জানায়, তাদের নবি হজরত মুসা (আ.) বনি ইসরাইলের হাজার হাজার মানুষকে জালিম রাজা ফেরাউনের কারাগার থেকে উদ্ধার করে লোহিত সাগরের ওপারে যেদিন নিয়ে গিয়েছিলেন, সেদিন ছিল আশুরা। তাই তিনি এদিন কৃতজ্ঞতা ও মুক্তির নিদর্শনস্বরূপ সিয়াম পালন করতেন। তাকে অনুসরণ করে ইয়াহুদিরা আশুরায় সিয়াম পালন করে আসছে।

     

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেলেন, মুসার ওপর আমাদের অধিকার তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই বছর আশুরা এলে তিনি এবং তার সাহাবিগণ আশুরায় সিয়াম পালন করলেন। এর প্রায় সাড়ে সাত মাস পরে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি মোতাবেক দ্বিতীয় হিজরির ১৫ শাবান তারিখে রমাদান মাসে সিয়াম পালনের জন্য নির্ধারণ করে দিয়ে ইরশাদ করেন : রমাদান মাস, যাতে নাজিল হয়েছে মানুষের দিশারি সত্পথের স্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে পার্থক্যকারী পবিত্র আল কোরআন। সুতরাং তোমরা যারা এই মাস প্রতক্ষ করবে, তারা এতে সিয়াম পালন করবে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৫)।

     

    সিয়াম শব্দের শব্দমূল সওম, যার অর্থ বিরত থাকা। দৃঢ়সংকল্প করে যাবতীয় কামাচার, পানাহার ও পাপাচার থেকে সুবিহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকটাই হচ্ছে সিয়াম। এই সিয়ামকে ফারসিতে বলা হয় রোজা। আত্মশুদ্ধি, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি গুণ অর্জনের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ লাভ হয় রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে। আমরা এই মোবারক মাসকে জানাই খোশ আমদেদ।

     

    রমজান মাস অনেক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে রয়েছে। অধিকাংশ আসমানী কিতাব ও সহিফা নাজিল হয়েছিল রমজান মাসে। পহেলা রমজান হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর কাছে নাজিল হয়েছিল সহিফা হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মুসলিম জাতির জনক। তিনিই মক্কা নগরীর পত্তন করেন। তিনি আল্লাহর নির্দেশে কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করেন এবং হজের ঘোষণা দেন।

     

    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রমাদানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের এবং শেষ দশক দোজখের আগুন থেকে নাজাতের।

  • চাঁদ উঠেছে, কাল রোজা

    চাঁদ উঠেছে, কাল রোজা

    দেশের আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। তাই আজ তারারি শুরু এবং কাল রোজা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা কমিটি এ ঘোষণা দেয়।

    আগামী শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে এবং মুসলমানরা রোজা রাখা শুরু করবেন। সেক্ষেত্রে আজ শুক্রবার রাতেই এশার নামাজের পর ২০ রাকাত তারাবি নামাজ পড়া শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে প্রথম সেহরিও খাবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

    রাজধানীর বায়তুল মুকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে কমিটির এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় করোনা সচেতনতা আনতে বিলবোর্ডে মহানবী (সাঃ) এর বাণী

    যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় করোনা সচেতনতা আনতে বিলবোর্ডে মহানবী (সাঃ) এর বাণী

    এখনো পর্যন্ত কার্যকরী কোন চিকিৎসা না থাকায়, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকানোর একমাত্রই কোয়ারেন্টাইন (জনবিচ্ছিন্ন) হয়ে ঘরে বন্দি হয়ে থাকা, এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিশেষেজ্ঞরা। করোনার দাপটে তটস্থ যখন গোটা পৃথিবী, তখন এর দৈরাত্ম্য কমাতে এর কোনো বিকল্প নেই । কিন্তু মহামারিতে এই কোয়ারেন্টাইনের ধারণা সর্বপ্রথম যিনি দিয়েছিলেন তিনি হলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।

    কয়েকদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং আন্তর্জাতিক বক্তা ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন তার লেখায় এমনটি উল্লেখ করেছেন।

     

     

    এবার শিকাগোর ওহারে বিমানবন্দরের সন্নিকটে এক বিলবোর্ডে করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেনতা আনতে ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী শোভা পাচ্ছে । বিলবোর্ডে বিশ্বনবীর বাণী ব্যবহার করে প্রচারণা অনেকের নজর কেড়েছে। এমন কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

     

    বিলবোর্ডে হাদীসের বরাত দিয়ে লেখা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ’সংক্রামক রোগের সময় তোমরা বারবার হাত ধোও, সংক্রামিত এলাকায় প্রবেশ করো না এবং সংক্রামিত এলাকা থেকে বাইরে যেও না।’

     

    বিলবোর্ডটির উদ্যোক্তা গেইনপিস নামক একটি সংগঠন। গেইনপিস যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ভিত্তিক একটি অলাভজনক ইসলামী সংস্থা। ২০০৮ সালে সংস্থাটি যাত্রা শুরু করে।

     

    গেইনপিসের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে সঠিক ইসলামী জ্ঞাণ বিতরণ করা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ইসলাম ফোবিয়া বা ইসলাম ভীতি দূর করা। যেন তারা সঠিক ইসলামী মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে।

     

    এই লক্ষ্যে গেইনপিস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ২০১৯ সালে তারা শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বড় শহরে ইসলাম প্রচারে এমন বিলবোর্ড স্থাপন করেছিল। তাদের একটি হট লাইন নাম্বার আছে। এই নাম্বারে ফোন করে যে কেউ বিনা খরচে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া কেউ যদি ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তবে নব মুসলিমদের যাবতীয় দায়িত্ব গেইনপিস থেকে নেওয়া হয়।

     

    বর্তমানে সংগঠনটির পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন ডাক্তার সাবিল আহমেদ। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসলাম একটি সুন্দর ও বাস্তবসম্মত জীবন ব্যবস্থা। তবে বর্তমানে কিছু বিপথগামী লোকের দ্বারা ইসলামের ভুল বাণী ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই ভুল বার্তায় পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম ফোবিয়া বাড়ছে। আমাদের কাজ গণমাধ্যমের নানা উপকরণ ব্যবহার করে সঠিক ইসলামের বাণী সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়া।

  • রমজানে এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

    রমজানে এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে

    সামনেই আসছে রমজান মাস। আর করোনাকালে এই পবিত্র মাসকে ঘিরে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনা মোকাবেলায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ নির্দেশনা জারি করেছে। করোনার ঝুঁকি এড়াতে রমজানকে ঘিরে করণীয় কিছু নিয়ম কানুনের জারি করেছে ডাব্লিউ এইচ ও।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে ধর্মীয় ও সামাজিক জমায়েত বাতিল করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। ডাব্লিউএইচওর মতে, জনসমাগমকে সীমাবদ্ধ, সংশোধন, স্থগিতকরণ, বাতিল করা বা এগিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিদ্ধান্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন করার পরিস্থিতির উপর বিবেচনা করে নেওয়া উচিত। এ সিদ্ধান্তগুলো করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে সে হিসেবে নেওয়া উচিত। যদিও ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশ বাতিল করা হয় সেক্ষেত্রে বিকল্প ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

    রমজানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ:

    >মসজিদে নামাজ আদায় করার সময় কমপক্ষে ১ মিটার বা ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

    >কোলাকুলি করা, গায়ের উপর হাত দিয়ে ডাকা, শরীরের উপর হাত রাখা এসব অভ্যাস ত্যাগ করুন।

    > রমজানে দোকানে বা বাজারে একসাথে অনেক মানুষ জমায়েত বন্ধ করুন।

    > অসুস্থ মানুষ এবং করোনার সামান্যতম লক্ষণ আছে তাদের বাসায় থাকতে বলুন সেই সাথে সরকারী নির্দেশনা মেনে চলুন।

    >প্রবীণ এবং অসুস্থদের সমাবেশে অংশ নিতে নিষেধ করুন।

    রমজানে যেকোন প্রকার সমাবেশের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ:

    >বাইরের যেকোন সমাবেশ পরিত্যাগ করতে হবে এবং একান্ত প্রয়োজন হলে বাড়ির ভিতর খোলামেলা জায়গায় ব্যবস্থা করতে হবে।

    >সমাবেশের সময়সীমা যতটা সম্ভব কম করুন।

    >বড় বড় সমাবেশে যোগ দেওয়ার চেয়ে কম অংশগ্রহণকারীদের সাথে ছোট সমাবেশের আয়োজন করুন।

    >দাঁড়িয়ে থাকার সময় , নামাজ পড়ার সময়, ওযু করার সময় এবং জুতা সংরক্ষণের স্থানেও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

    > মসজিদে প্রবেশ এবং বের হওয়ার মুহূর্তে সব সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

    > সমাবেশের মধ্যে যদি কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তবে তার ঠিকানায় যোগাযোগ করতে হবে।

    > মসজিদের প্রবেশ দ্বারে এবং ভিতরে হ্যান্ড ওয়াশ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেই সাথে অ্যালকোহল সমৃদ্ধ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

    > পর্যাপ্ত পরিমাণে টিস্যু থাকতে হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    > মসজিদে কার্পেটের উপরে ব্যবহারে জন্য ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে।

    > কভিড-১৯ সম্পর্কে জনসচেতনমূলক বার্তাগুলোকে ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লেতে দেখাতে হবে।

    > জীবাণুনাশক এবং ডিটারজেন্ট ব্যবহার করে নামাজের আগে পরে মসজিদ পরিষ্কার রাখতে হবে।

    > মসজিদের প্রাঙ্গন, ওযু খানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সেই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

    > কিছুক্ষণ পর পর দরজা,লাইটের সুইচ, সিড়ির রেলিং পরিষ্কার করতে হবে।