Category: ধর্ম

  • ঘরে তারাবি পড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    ঘরে তারাবি পড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এবার আসন্ন রমজানে তারাবি নামাজ ঘরে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বৃহস্পতিবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়ের সময় তিন এ আহ্বান জানান। গণভবন থেকে তিনি এই ভিডিও কনফারেন্স করেন।

    রমজানে মুসলমানরা এশার নামাজের পর ২০ রাকাত তারাবির নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে পড়ে থাকেন। আগামী ২৫ বা ২৬ এপ্রিল চাঁদ দেখাসাপেক্ষে বাংলাদেশে রমজান মাস শুরু হবে।এবার একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে রমজান আসন্ন। করোনাভাইরাসের কারণে দেশের মসজিদগুলোতে জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। এমতাবস্থায় রমজানে তারাবি মসজিদে পড়া যাবে কিনা তা নিয়ে মুসল্লিরা উদ্বিগ্ন।

    এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন, সৌদি আরবে নামায, জামাত বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি তারাবি নামাজ সেখানে হবে না, সবাই ঘরে পড়বে। খুব সীমিত আকারে সেখানে তারা করছে। তারা নিষেধ করে দিয়েছে।’

    ‘ঠিক এভাবে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, এমনকি ভ্যাটিকান সিটি থেকে শুরু করে সব জায়গায় তারা সুরক্ষার ব্যবস্থা নিয়েছে। নিজেদের সুরক্ষিত করা, অন্যকে সুরক্ষিত করা’-যোগ করেন সরকার প্রধান।

    তিনি বলেন, কাজেই তাদের কাছ থেকে আমাদেরও শিক্ষার বিষয় আছে। যে কারণে আমরা মসজিদে না গিয়ে নিজের ঘরে নামাজ পড়তে বলছি। কারণ- আল্লাহর এবাদত তো আপনি যে কোনো জায়গায় বসে করতে পারেন। এটাতো আল্লাহর কাছে আপনি সরাসরি করবেন। কাজেই বরং আপনার এবাদত করার একটা ভালো সুযোগ আছে।

  • শবে বরাতের ইবাদত সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা

    শবে বরাতের ইবাদত সম্পর্কে হাদিসের নির্দেশনা

    আরবি বছরের অষ্টম মাস শাবান। এ মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হলো লাইলাতুম মিন ‌নিসফা শাবান। এটি লাইলাতুল বরাত নামে ব্যাপক পরিচিত। এ রাতকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে রয়েছে অনেক মত পার্থক্য। কেউ কেউ এ রাতকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক ইবাদত-বন্দেগির বিপক্ষে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন আবার কেউ কেউ এ রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করার পক্ষে থাকেন।

    লাইলাতুল বরাত তথা ভাগ্য রজনী নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ মতপার্থক্য থাকলেও লাইলাতুম মিন নিসফা শাবান এর ইবাদত তথা মর্যাদা সম্পর্কে রয়েছে হাদিসে বর্ণনা। অনেকে আবার এ বর্ণনাকে দুর্বল বলে থাকেন।

    এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বলে অনেকে যেমন বাড়াবাড়ি ও রুসুম রেওয়াজে মেতে ওঠেন আবার অনেকে এ রাতের ইবাদত তথা মর্যাদাকে একেবারেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকেন। যার কোনোটিই কাম্য নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ রাতের ইবাদত-সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। এ রাত সম্পর্কে হাদিসের যেসব বর্ণনা পাওয়া তা হলো-

    > হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ (ইবনে হিব্বান)
    > হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘জিবরিল আলাইহিস সালাম আমার কাছে এসেছিলেন এবং বললেন, আপনার প্রভু আপনাকে নির্দেশ দিয়েছেন (জান্নাতুল) বাকিতে যাওয়ার জন্য এবং তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য।’ (মুসলিম)
    > হজরত আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন মধ্য শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড় এবং এর দিনে রোজা রাখ। কেননা এ দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, কে আছো আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করবো। কে আছো রিজিকপ্রার্থী আমি তাকে রিজিক দেব। কে আছো রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী, আমি তাকে নিরাময় দান করবো। কে আছ এই প্রার্থনাকারী। ফজরের সময় হওয়ার আগ পর্যন্ত (তিনি এভাবে আহবান করেন)।’ (ইবনে মাজাহ) শায়খ আলবানি এ হাদিসকে জইফ জিদ্দান তথা মওজু বলেছেন।

    > হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হারিয়ে ফেললাম (বিছানায় পেলাম না)। আমি (তাঁর সন্ধানে) বের হলাম। এসে দেখলাম তিনি (জান্নাতুল) বাকি কবরস্তানে আছেন। তিনি বলেন, তুমি কি ভয় করছ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি কোনো অবিচার করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অনুমান করলাম আপনি আপনার অন্য কোনো বিবির কাছে গিয়েছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানে (১৫ তারিখের রাতে) দুনিয়ার কাছের আকাশে অবতীর্ণ হন। তারপর কালব গোত্রের বকরির পালের লোমের চেয়েও বেশী সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ) হাদিসটিকেও জঈফ বলা হয়েছে।

    সর্বোপরি আল্লাহর নৈকট্য লাভে রাতের যে কোনো ইবাদত, তাহাজ্জাুদসহ কুরআন তেলাওয়াত-জিকির-আজকারের ফজিলত অনেক বেশি। তাই লাইলাতুম মিন নিসফা শাবান তথা লাইলাতুল বরাত নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং ছাড়া না করাই হবে উত্তম।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইবাদত-বন্দেগিতে হাদিসের দিকনির্দেশনা মোতাবেক ইবাদত-বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। হালুয়া-রুটি ও সাজ-সজ্জা, মোমবাতি জালানোর রুসুম রেওয়াজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ২২২ বছর পর স্থগিত হতে যাচ্ছে হজ

    ২২২ বছর পর স্থগিত হতে যাচ্ছে হজ

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের ১৮০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। করোনাভাইরাসের এই প্রকোপ শেষ হতে আরো কয়েকমাস সময় লাগতে পারে। এমতাবস্থায় আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে পবিত্র হজের আয়োজন করা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
    এমনটা হলে দীর্ঘ ২২২ বছর পর মুসলিম বিশ্বের পবিত্র হজ স্থাগিত হতে যাচ্ছে। এমন খবর প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।
    ১ এপ্রিল, বুধবার, সৌদি আরবের হজ ও ওমরা বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্ম সালেহ বিন তাহের দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, সৌদি সরকার সকল মুসলমান ও নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রস্তুত। আর এ কারণেই আমরা বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের কাছে আমাদের আহ্বান- সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর না করার জন্য অনুরোধ করেছি।’
    কিংস কলেজ অব লন্ডনের ওয়ার স্টাডিজ’র অধ্যাপক শিরাজ মাহের বলেন, ‘হজ যে বাতিল হতে পারে, সেই সম্ভবনার জন্য মানুষকে মানসিকভাব প্রস্তুত করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরছেন। যেখানে বিপর্যয় ও যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে হজ বন্ধ করা হয়ছে। আমি মনে করি- এটা বড় কোন পদক্ষেপ নেয়ার আগে জনগণকে আশ্বস্ত করার প্রয়াস। আর যদি এমনটা ঘটে, তাহলে এটা নজিরবিহীন ঘটনা নয়।’
    সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন মারা গেছে। আর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ৭২ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগেই ইরানের কুম শহর থেকে এসেছেন। ইরানের এই শহরটিতে সবচেয়ে বেশি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটে।

  • থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখিনি, কাউকে কিছু বলিনি : জৈনপুরী বড় হুজুর

    থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখিনি, কাউকে কিছু বলিনি : জৈনপুরী বড় হুজুর

    আলহাজ্ব হযরত মাওলানা সাইফুল হাফিজ সিদ্দিকী জৈনপুরী আলকুরাইশী বড় হুজুর বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে থানকুনি পাতা নিয়ে গতরাতে যে স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ একটা গুজব, আমরা এমন কোন স্বপ্ন দেখিনি এবং এব্যাপারে কাউকে কিছু বলিনি।’

    আজ বুধবার (১৮ মার্চ) যোহরের নামাজের পর বাকেরগঞ্জের কামারখালী বাজারে জৈনপুরি খানকায়ে হাফিজিয়ায় বসে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘কেউ এতে কান দিবেন না বিভ্রান্ত হবেন না। বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া ও তাওবা ইস্তেগফার করুন।’

    উল্লেখ্য, এমনই এক গুজবে রাতের ঘুম হারাম হয়েছে বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানের বাসিন্দাদের। জৈনপুরী পীর স্বপ্ন দেখেছেন এমন গুজবের ওপর ভিত্তি করে তথ্য রটে, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাস আর সংক্রমিত হবে না। মিলবে মুক্তি।

    সেই গুজবে সাড়া দিয়ে বরিশালসহ আশপাশের অঞ্চলের বাসীন্দারা রাতের আঁধারে থানকুনি পাতা সংগ্রহে নেমেছেন।

    অনেকে ইতিমধ্যে চিবিয়ে খেয়েছেন সে পাতা। তারা বলছেন, এই থানকুনি পাতাই করোনাভাইরাসের উত্তম প্রতিষেধক।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে শুরু হয়েছে এ গুজব। বরিশালের অনেকে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ থানকুনি পাতা সংগ্রহ করতে পেরেছেন জানিয়ে ছবিও পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ স্বজন, বন্ধুদের ফোন করে ঘুম ভাঙাচ্ছেন এবং জরুরিভিত্তিতে থানকুনি পাতা সংগ্রহের তাগিদ দিচ্ছেন।

    বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকার বাসিন্দা রাকিব জানান, জৈনপুরী পীর সাহেব স্বপ্নে দেখেছেন যে, তিনটি থানকুনি পাতার আর এক গ্লাস পানি খেলে করোনাভাইরাস ছুঁতেও পারবে না। আর এই রাতের মধ্যেই পাতা তিনটি খেতে হবে।তাই তিনি এই গভীর রাতে থানকুনি পাতা সংগ্রহ করতে নেমেছেন।

    ফেসবুকে অবশ্য এই গুজব কানে তোলেননি স্থানীয়দের কেউ কেউ। তারা গুজবে কান না দিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

    তবে স্থানীয়রা বলছেন, এমন গুজবের উৎপত্তি কোথা থেকে আসলো তা কেউ জানে না।

    করোনাভাইরাস নিয়ে বেশ কয়েকটি ভুল ও ভুয়া তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষকরে ইউনিসেফের বরাত দিয়ে কিছু ভুল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। এ নিয়ে গবেষকরা সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আরও দু’জনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। নতুন আক্রান্ত দু’জনের একজন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। অন্যজন বিদেশ ফেরত একজনের সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, বাকি ৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সারা দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৪ হাজার ৮৩৬ জন। দেশে বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৬ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে ৪৩ জন।

  • থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখেনি ছারছীনা পীর

    থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখেনি ছারছীনা পীর

    ছারছীনার পীর হজরত মাওলানা শাহ মো. মুহেব্বুল্লাহের বড় মেয়ের জামাতা বরিশাল জামে এবায়দল্লাহ মসজিদের খতিব মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ বলেন ‘করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে থানকুনি পাতা নিয়ে গতরাতে যে স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ গুজব। ছারছীনার পীর এমন কোন স্বপ্ন দেখেনি এবং এব্যাপারে কাউকে কিছু বলেওনি।’

    আজ সন্ধ্যায় একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ।

    উল্লেখ্য, এমনই এক গুজবে রাতের ঘুম হারাম হয়েছে বরিশাল নগরীর বাসিন্দাদের। একটি চক্র গুজব ছড়িয়ে দেয় চরমোনাই পীর/জৌনপুরী পীর/ছারছিনা পীর স্বপ্ন দেখেছেন। এমন গুজবের ওপর ভিত্তি করে তথ্য রটে, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাস আর সংক্রমিত হবে না। মিলবে মুক্তি। সেই গুজবে সাড়া দিয়ে বরিশালসহ গোটা বাংলাদেশের বাসীন্দারা রাতের আঁধারে থানকুনি পাতা সংগ্রহে নেমেছেন। অনেকে ইতিমধ্যে চিবিয়ে খেয়েছেন সে পাতা। তারা বলছেন, এই থানকুনি পাতাই করোনাভাইরাসের উত্তম প্রতিষেধক।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে শুরু হয়েছে এ গুজব। অনেকে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ থানকুনি পাতা সংগ্রহ করতে পেরেছেন জানিয়ে ছবিও পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ স্বজন, বন্ধুদের ফোন করে ঘুম ভাঙাচ্ছেন এবং জরুরিভিত্তিতে থানকুনি পাতা সংগ্রহের তাগিদ দিচ্ছেন।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আরও চারজনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিশ্চিত করেছেন।

  • থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখিনি- চরমোনাই পীর

    থানকুনি পাতা নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখিনি- চরমোনাই পীর

    চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে থানকুনি পাতা নিয়ে গতরাতে যে স্বপ্নের কথা বলা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ গুজব। আমরা এমন কোন স্বপ্ন দেখিনি এবং এব্যাপারে কাউকে কিছু বলিনি।’

    আজ জোহেরর নামাজের পর চরমোনাই মাদ্রাসার আল কারীম জামে মসজিদে তারা এসব কথা বলেন। তারা আরও বলেন, ‘কেউ এতে কান দিবেন না বিভ্রান্ত হবেন না। বেশি বেশি আল্লাহর কাছে দোয়া ও তাওবা ইস্তেগফার করুন।’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের ব্যক্তিগত সচীব মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।

    উল্লেখ্য, এমনই এক গুজবে রাতের ঘুম হারাম হয়েছে বরিশাল নগরীর বাসিন্দাদের। একটি চক্র গুজব ছড়িয়ে দেয় চরমোনাই পীর/জৌনপুরী পীর/ছারছিনা পীর স্বপ্ন দেখেছেন এমন গুজবের ওপর ভিত্তি করে তথ্য রটে, থানকুনি পাতা খেলে করোনাভাইরাস আর সংক্রমিত হবে না। মিলবে মুক্তি। সেই গুজবে সাড়া দিয়ে বরিশালসহ গোটা বাংলাদেশের বাসীন্দারা রাতের আঁধারে থানকুনি পাতা সংগ্রহে নেমেছেন। অনেকে ইতিমধ্যে চিবিয়ে খেয়েছেন সে পাতা। তারা বলছেন, এই থানকুনি পাতাই করোনাভাইরাসের উত্তম প্রতিষেধক।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা থেকে শুরু হয়েছে এ গুজব। অনেকে ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। কেউ কেউ থানকুনি পাতা সংগ্রহ করতে পেরেছেন জানিয়ে ছবিও পোস্ট করেছেন। কেউ কেউ স্বজন, বন্ধুদের ফোন করে ঘুম ভাঙাচ্ছেন এবং জরুরিভিত্তিতে থানকুনি পাতা সংগ্রহের তাগিদ দিচ্ছেন।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে আরও চারজনের মধ্যে নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা নিশ্চিত করেছেন।

  • যে জিকিরের পর ক্ষমা চাইলেই সব বিপদে মুক্তি মিলবে

    যে জিকিরের পর ক্ষমা চাইলেই সব বিপদে মুক্তি মিলবে

    মুমিন বান্দা মুখে-হাতে, কথা ও কাজে আল্লাহর জিকির করে। মসজিদে বসে তাসবিহ হাতে শুধু ‘আল্লাহ আল্লাহ’ করার নামই জিকির নয়। তবে দুনিয়ার প্রতিটি কাজ শুরুর আগে সুন্নাহ পদ্ধতিতে আল্লাহর স্মরণই জিকির।

    এ জিকিরে যেমন নেয়ামত লাভ হয় তেমনি দুনিয়ার সব অর্নিষ্টতা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। মহান আল্লাহর জিকির বা স্মরণ- তারই নির্দেশ। তিনি কুরআনে এভাবে ঘোষণা দেন-
    – ‘অতঃপর তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করবো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫২)
    – ‘এবং তোমাদের প্রভু বলেন, আমাকে ডাক, আমার কাছে চাও; আমিও তোমাদের ডাকে সাড়া দেব, তোমাদের চাওয়া-পাওয়া গ্রহণ করবো।’ (সুরা গাফের : আয়াত ৬০)

    মানুষ সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করতে পারবে। জিকিরের প্রতি মনোযোগী করতে আল্লাহ তাআলা জিকিরের পদ্ধতি উল্লেখ করে ঘোষণা দেন-
    – ‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে এবং (বলে) হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি এসব (মানুষসহ সমগ্র সৃষ্টি) নিরর্থক সৃষ্টি করোনি। তুমি পবিত্র। তুমি আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৯১)

    হাদিসে পাকেও জিকিরের পর যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভে এবং কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণের কথা উল্লেখ করেছেন বিশ্বনবি। সুনানে বায়হাকিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই জিকির ও জিকিরের প্রাপ্তি সম্পর্কিত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। আর তাহলো-
    একদিন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এক আরব বেদুইন এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে কোনো একটি ভালো কাজ শিক্ষা দিন-
    প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তার হাত ধরলেন। তাকে এ শব্দগুলো শেখালেন
    – سُبْحَانَ الله : সুবহানাল্লাহ
    – اَلْحَمْدُ للهِ : আলহামদুলিল্লাহ
    – لَا اِلَهَ اِلَّا الله : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
    – اَللهُ اَكْبَر : আল্লাহু আকবার।
    লোকটির হাত ধরে প্রিয় নবি বললেন, এ শব্দগুলো বেশি বেশি পড়বে।

    লোকটি এ কথা শুনে চলে গেলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর লোকটি আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে ফিরে আসে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুচকি হেসে বললেন, লোকটি কি যেন চিন্তা করছে।
    লোকটি ফিরে এসে প্রিয়নবির সামনে বসে বললেন-
    ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ আপনি যে বাক্যগুলো আমাকে শেখালেন, এ বাক্যগুলোতে আল্লাহর জন্য আর আমার জন্য কী রয়েছে? এগুলো পড়লে আমি কী পাবো?
    এবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন-
    তুমি যখন বলবে, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ তখন প্রতিটি শব্দের উত্তরে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি সত্য বলেছ।

    তখন জিকিরকারী আল্লাহর কাছে নিজের (কাঙিক্ষত) চাহিদাগুলো (ধারাবাহিকভাবে) তুলে ধরবে-
    >> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ) আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।
    >> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْزُقْنِىْ) ‘আল্লাহুম্মার জুক্বনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিজিক দান করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাকে ইতিমধ্যে রিজিক দান করেছি।’
    >> বান্দা বলবে- (اَللَّهُمَّ ارْحَمْنِىْ) আল্লাহুম্মার হামনি’ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে অনুগ্রহ করুন। তখন আল্লাহ বলবেন, ইতিমধ্যে তোমার প্রতি রহম করেছি।

    জিকিরের পরে বান্দা এভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে যা চাইবে, আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অচিরেই তা দান করবেন বলেই আরব বেদুইনকে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি।

    উল্লেখ্য, করোনার এ প্রাদুর্ভাবের সময় আল্লাহর কাছে জিকির-আজকারের পর রোনাজারি সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি লাভে প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার সে আবেদনেও সাড়া দেবেন, যা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস দ্বারাই প্রমাণিত।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বেশি বেশি জিকির করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার প্রতিটি কাজেই জিকিরের যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সুরা ইখলাসের অর্থসহ উচ্চারণ, বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত

    সুরা ইখলাসের অর্থসহ উচ্চারণ, বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত

    সুরা ইখলাস। কুরআনুল কারিমের ১১২তম ও ছোট সুরা এটি। যে সুরা তেলাওয়াতের মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি ফজিলত ও নেয়ামত পায় সেটি হলো সুরা ইখলাস। আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরা ৪ আয়াত বিশিষ্ট ছোট্ট সুরাটি হিজরতের আগে মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সুরার নামের অর্থ থেকেই এর ফজিলত, মর্যাদা ও নেয়ামত প্রকাশ পায়।

    সুরাটির উচ্চারণ, অর্থ, মর্যাদা ও তেলাওয়াতের ফজিলতগুলো তুলে ধরা হলো-

    قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ – اللَّهُ الصَّمَدُ – لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ – وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
    উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
    অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)

    সুরার নাম ‘ইখলাস’। যার অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।

    সুরার নামকরণ
    সুরার প্রকৃত মর্মার্থের ভিত্তিতেই সুরাটির নামকরণ করা হয়েছে। এ সুরাটিতে মহান আল্লাহর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরাটি মানুষকে নিশ্চিত শিরক থেকে মুক্তি দিয়ে একত্ববাদের উপর একনিষ্ঠ বিশ্বাস স্থাপনে মানুষ হয় মুখলিস বান্দায় পরিণত হয়।

    সুরার বৈশিষ্ট্য
    সুরাটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার শেখানো ভাষায় তাঁর পরিচয় তুলে ধরেছেন। যে পরিচয় তুলে ধরতে আল্লাহ তাআলা নিজেই এ সুরাটি নাজিল করেছেন। এ সুরার মতো কোনো সুরায় আল্লাহর একত্ত্ববাদের বিষয়টি বর্ণিত হয়নি। আল্লাহর সৃষ্টিরহস্যের নিরসণ করা হয়েছে এ সুরায়।

    সুরাটি নাজিলের কারণ
    – হজরত আনাস রাদিয়ল্লাহু আনহু বলেন, ‘খায়বারের কয়েকজন ইয়াহুদি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে বলল- হে আবুল কাসেম! আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের নূর থেকে, আদমকে মাটি থেকে এবং পৃথিবীকে পানির ফেনা থেকে সৃষ্টি করেছেন। এখন আপনার রব সম্পর্কে আমাদের জানান, তিনি কোন বস্তু থেকে সৃষ্ট?
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন কোনো জবাব দেননি। অতপর (তাদের উত্তরে) হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম সুরা ইখলাস নিয়ে হাজির হন।

    – হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, একদিন নাজরানের সাতজন খ্রিস্টান পাদ্রি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন-
    ‘আমাদের বলুন, আপনার রব কেমন? তিনি কিসের তৈরি? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার রব কোনো জিনিসের তৈরি নয়। তিনি সব বস্তু থেকে আলাদা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা ইখলাস নাজিল করেন।

    সুরা ইখলাসের বিষয়বস্তু
    আল্লাহ তাআলা তার পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে সুরা ইখলাসের ৪ আয়াতের মাধ্যমে ৪টি বিষয় তুলে ধরেছেন। আর তাহলো-
    – আল্লাহ এক। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তার একত্ববাদের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
    – তিনি অমুখাপেক্ষী। এ আয়াতে তিনি কোনো কিছুতেই মুখাপেক্ষী নন। কারো কাছে তার কোনো প্রয়োজন নেই। সব কিছুতেই তিনিই যথেষ্ট।
    – তার জন্ম-সৃষ্টিতে কারো কোনো হাত নেই। তিনি কারো জনক নন আবার তাকে কেউ জন্ম দেননি। তিনি জন্ম-সৃষ্টি দেয়া ও হওয়া থেকে পূত-পবিত্র এবং মুক্ত।
    – জন্মের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং চতুর্থ আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি অতুলনীয়। চারটি আয়াতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ।
    – তার সমকক্ষ কেউ নেই। অর্থাৎ তিনি যে এক ও একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। তার ওপর তাকিদ করা হয়েছে, সত্যয়ন করা হয়েছে যে, তার সমকক্ষ কেউ নেই।

    সুরাটির মর্যাদা
    সুরা ইখলাস অনন্য মর্যাদা সম্পন্ন ৪ আয়াত বিশিষ্ট ছোট্ট একটি সুরা। সুরাটিকে কুরআনের ৩ ভাগের এক ভাগ ঘোষণা করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-
    – হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি রাতের বেলা অন্য ব্যক্তিকে বার বার সুরা ইখলাস পড়তে শুনেছেন। সকাল হলে বিষয়টি রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবহিহত করা হয়। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ওই সত্তার শপথ! যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ। অবশ্যই এ সুরা কুরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (বুখারি, আবু দাউদ, নাসাঈ, মুয়াত্তা মালেক)
    – রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন সাহাবিদের বললেন, তোমারা কি এক রাতে কুরআন মাজিদের ৩ ভাগের একভাগ পড়তে পারবে? সাহাবিরা এ প্রস্তাবকে খুবই কঠিন মনে করলেন। ফলে তারা বলল, আমাদের মধ্যে এ কাজ কে করতে পারবে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, সুরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।’ (বুখারি, নাসাঈ)
    – হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা কুরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। আর এ সুরাটি (সুরা ইখলাস)-কে একটি ভাগে পরিণত করেছেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি)
    – হজরত ওকবা ইবনে আমের রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন তিনটি সুরার কথা বলছি, যা তাওরাত, ইঞ্জিল, জবুর এবং কুরআনে অবতীর্ণ হযেছে। রাতে তোমরা ততক্ষণ ঘুমাতে যেয়ো না, যতক্ষণ সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। ওকবা বলেন, সেদিন থেকে আমি কখনও এ আমল পরিত্যাগ করিনি।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

    সুরা ইখলাসের ফজিলত
    সুরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।

    >> আল্লাহর ভালোবাসা লাভ
    কোনো এক যুদ্ধের সেনাপতি জামাআতে নামাজ পড়ার সময় সুরা ইখলাস দিয়ে নামাজ পড়ান। যুদ্ধ থেকে ফিরে সৈন্যরা বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা অবহিত করেন। তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা কর কেন সে এরূপ করেছে। তখন সে সেনাপতি জানান, এ সুরায় আল্লহার গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে বিধায় আমি এ সুরাকে ভালোবাসি।’ বিষয়টি জানার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের জানান, ‘তোমরা তাকে গিয়ে বলো, আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।’ (বুখারি, মুসলিম, নাসাঈ)

    >> জান্নাত লাভ
    একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ (বুখারি, তিরমিজি)

    >> গোনাহ থেকে মুক্তি
    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।’ (তিরমিজি)

    >> দারিদ্র্যতা থেকে মুক্তি
    হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, ‘যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়।’ (তাফসিরে কুরতুবি)

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।’ (ইবনে কাসির)

    >> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, ‘এটা তার অধিকার।’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- ‘তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    উল্লেখ যে, অনেকেই বলে থাকেন, সুরা ইখলাস ৩ বার পাঠ করলে সম্পূর্ণ কুরআনুল কারিম তেলাওয়াতের সাওয়াবের অধিকারী হয় বা কুরআন খতমের সমান। আসলে বিষয়টি এমন নয়। হাদিসের কোথাও সাওয়াব প্রাপ্তি কিংবা সম্পূর্ণ কুরআন খতম হওয়ার বিষয়টি বলা হয়নি।

    বরং যে ব্যক্তি এ সুরাটির মর্মার্থ বুঝে আল্লাহর বিশেষ গুণাবলীগুলো হৃদয়ে ধারণ করবে সে আল্লাহর একত্ত্ববাদ ও ক্ষমতায় একনিষ্ঠ বিশ্বাসী হিসেবে বেড়ে উঠবে। সে হবে প্রকৃত ঈমানদার। আল্লাহ তাআলার দরবারে এ গুণাবলীর বিশ্বাসই তাকে মর্যাদাবাদ করে দেবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাসের ভাব ও মর্মার্থ নিজেদের মধ্যে ধীর বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর একত্ত্ববাদ ও ক্ষমতায় পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত মর্যাদা ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ইসলাম ও বিজ্ঞানের ভাষ্য

    ইসলাম ও বিজ্ঞানের ভাষ্য

    ইদানীং করোনা নামক একটি ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি সংক্রামক রোগের আতঙ্ক পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এই রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বিভিন্ন দেশের সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে পরিচ্ছন্ন থাকতে এবং জনসমাগম এড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ, তাই এটি সবাই পালন করছে। কিন্তু জনসমাগম এড়ানোর ব্যাপারে অনেকেই অপারগ। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেকের ক্ষেত্রে তা পরিহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকে বলছে, ইসলামে সংক্রামক বলতে কোনো রোগ নেই। ইসলাম ছোঁয়াচে রোগে বিশ্বাস করে না। ফলে ব্যাপারটি নিয়ে ইসলাম ও বিজ্ঞানের আলোকে আলোচনা করা সময়ের দাবি মনে করছি।

    যাঁরা বলেন ইসলামে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই, তাঁরা সাধারণত রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস সামনে রেখে এই কথা বলে থাকেন। হাদিসটি হলো, রাসুল (সা.) বলেছেন, রোগের কোনো সংক্রমণ নেই, কুলক্ষণ বলে কিছু নেই, পেঁচা অশুভের লক্ষণ নয়, সফর মাসের কোনো অশুভ নেই। কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো। (বুখারি, হাদিস : ৫৭০৭)

    এই হাদিস সামনে রেখে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই। এগুলো কুফরি চিন্তাধারা। অথচ বিজ্ঞান বলছে, ছোঁয়াচে রোগ আছে। মানুষ এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাহলে ইসলাম ও বিজ্ঞান কি এ বিষয়ে সাংঘর্ষিক হয়ে গেল? এ বিষয়ে জানতে আমাদের প্রথমে জানতে হবে সংক্রামক রোগ বা ছোঁয়াচে রোগ কী।

    বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সংক্রামক রোগ

    এ বিষয়ে পরমাণুবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক জাকিয়া বেগম তাঁর একটি কলামে লেখেন, আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব বাস করে। এগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি শরীরের জন্য বেশ উপকারী, কোনোটি উপকারী না হলেও ক্ষতিকারক নয়, কোনোটি আবার বিশেষ কোনো অবস্থায় বা কোনো বিশেষ কারণে শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে এবং মানুষকে অসুস্থ করে তোলে। অণুজীব দ্বারা সংক্রমিত রোগগুলোকেই সংক্রামক রোগ বলা হয়।

    অনুপ্রবেশকৃত এ ধরনের সংক্রামককে যখন শরীরের রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্র বিতাড়ন করার চেষ্টা করতে থাকে তখনই এর ফলে জ্বর, মাথা ব্যথা, র‌্যাশ বা অসুস্থতার বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়।…সংক্রামক রোগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উভয় মাধ্যমেই বিস্তার লাভ করতে পারে।

    প্রত্যক্ষ মাধ্যম মানুষ থেকে মানুষে : এ ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সান্নিধ্যে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্য কোনো জীবাণু সরাসরি সুস্থ মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করে থাকে। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, স্পর্শ বা চুমুর মাধ্যমে সুস্থ ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারে।

    জীবজন্তু থেকে মানুষে : সংক্রমিত কোনো জন্তু, এমনকি পোষা কোনো প্রাণীর কামড় অথবা আঁচড় থেকে এ রোগ বিস্তার লাভ করে থাকে (জুনোটিক)। পোষা জন্তুর মলমূত্র পরিষ্কার করতে গিয়েও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    মা থেকে নবজাতকে : গর্ভবতী মায়ের থেকে নবজাতক আক্রান্ত হতে পারে। কখনো গর্ভফুলের মাধ্যমে, কখনো বা প্রসবের সময় জরায়ুর মুখ থেকে জীবাণু নবজাতকের শরীরে প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে।

    পরোক্ষ মাধ্যমে : কোনো কোনো রোগের জীবাণু দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে অথবা দূষিত বাতাস বা পরিবেশের দূষিত কোনো মাধ্যমের সাহায্যে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। কোনো কোনো জীবাণু জীবন্ত কোনো মাধ্যম ছাড়া জড় পদার্থকে নির্ভর করে বেশ কিছু সময় টিকে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে জীবাণুগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করার আশঙ্কা দেখা দেয়। যেমন—ফ্লুতে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিস সুস্থ কেউ ব্যবহার করলে সে সংক্রমিত হয়ে উঠতে পারে।

    মানুষ সাধারণভাবে যেসব অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে সেগুলো হচ্ছে—ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস এবং পরজীবী (প্যারাসাইট)।

    ইসলামের দৃষ্টিতে সংক্রামক রোগ

    ইসলামের দৃষ্টিতে শরীরে রোগ-ব্যাধি দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ, আবার তাঁর ইচ্ছায়ই আরোগ্য লাভ করা যায়। কোনো বস্তু বা ব্যক্তি কাউকে রোগাক্রান্ত করতে পারে না, আবার তা থেকে সুস্থ করে তুলতেও পারে না। আমাদের জীবন-মৃত্যু, সুস্থতা-অসুস্থতা একমাত্র আল্লাহর হাতেই। তাই মহান আল্লাহ বিভিন্ন রোগ যেমন সৃষ্টি করেছেন, তার প্রতিষেধকও সৃষ্টি করেছেন, বান্দা কখনো কখনো তাঁর দয়ায় সেই প্রতিষেধক জানতে পারে, আবার কখনো কখনো জানতে পারে না।

    হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার নিরাময়ের উপকরণ তিনি সৃষ্টি করেননি। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৭৮)

    একমাত্র আল্লাহই রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করেন। এই কথার ওপর ঈমান না রাখলে সে মুমিন থাকবে না। তবে এর মানে এই নয় যে কেউ রোগাক্রান্ত হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা যাবে না। বরং রাসুল (সা.) উম্মতকে অসুস্থ হলে অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন। আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলাই রোগ ও ওষুধ সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক রোগের চিকিৎসাও তিনি সৃষ্টি করেছেন। অতএব, তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৬৪)

    কোনো রোগ আপন শক্তিতে মানুষকে আক্রান্ত কিংবা হত্যা করার শক্তি রাখে না, এটাও সত্য। তাই বলে কোনো এলাকায় রোগ-ব্যাধি দেখা দিলে সেখানে অসতর্ক অবস্থায় চলাফেরার অনুমতিও ইসলাম দেয়নি। কারণ মহান আল্লাহ যেমন রোগ সৃষ্টি করেছেন, তেমনি রোগাক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন মাধ্যমও সৃষ্টি করেছেন। এবং তা থেকে মুক্ত থাকার জন্য তাঁর প্রেরিত রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে মানুষকে দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। কোনো এলাকায় মহামারি কিংবা সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তিনি সেখানে যাতায়াত করতেও বারণ করেছেন।

    একবার সাআদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রা.) উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে প্লেগ সম্পর্কে কী শুনেছেন? উসামা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, প্লেগ একটি আজাব, যা বনি ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের ওপর পতিত হয়েছিল অথবা তোমাদের আগে যারা ছিল। তোমরা যখন কোনো স্থানে প্লেগের ছড়াছড়ি শুনতে পাও, তখন তোমরা সেখানে যেয়ো না। আর যখন প্লেগ এমন জায়গায় দেখা দেয়, যেখানে তুমি অবস্থান করছ, তখন সেই স্থান থেকে পালানোর লক্ষ্যে বের হয়ো না। (বুখারি, হাদিস : ৩৪৭৩)

    দেখুন, এই হাদিস দ্বারা আমরা বুঝতে পারি যে কোথাও রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আমাদের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ওপরে সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই বলতে যে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রোগের কোনো নিজস্ব শক্তি নেই মানুষকে আক্রান্ত করার। তবে যেহেতু রাসুল (সা.) এ সময় সতর্ক থাকতে বলেছেন, তাই কোথাও এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আমাদের অবশ্যই যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কারণেই সেই হাদিসের শেষ ভাগে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কুষ্ঠরোগী থেকে দূরে থাকো, যেভাবে তুমি বাঘ থেকে দূরে থাকো।’ আল্লাহর হুকুম ছাড়া যদি কোনো জিনিস মানুষের ক্ষতি করতে পারত, তাহলে হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে নমরুদের আগুন গ্রাস করতে পারত। কিন্তু মহান আল্লাহর হুকুমে আগুন তাঁর কিছুই করতে পারেনি। কুষ্ঠরোগীর কাছে কেউ গেলেই যে সে সংক্রমিত হবে, ব্যাপারটি এমন নয়। তবে যেহেতু মহান আল্লাহ রোগটিকে সংক্রামক গুণ দিয়েছেন, তাই তা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে রাসুল (সা.) ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই বললে জনৈক বেদুঈন আরব জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে সেই উটপালের অবস্থা কী, যা কোনো বালুকাময় প্রান্তরে অবস্থান করে এবং সুস্থ-সবল থাকে? অতঃপর সেখানে কোনো খুজলি-পাঁচড়ায় আক্রান্ত উট তাদের মধ্যে এসে পড়ে এবং সবগুলোকে ওই রোগে আক্রান্ত করে ছাড়ে? (এর জবাবে) তিনি বললেন, তাহলে প্রথম উটটিকে কে রোগাক্রান্ত করেছিল? যে মহান আল্লাহ প্রথম উটটিকে রোগাক্রান্ত করেছিলেন, তিনিই তো অন্যান্য উটকে আক্রান্ত করেছেন। (মুসলিম, হাদিস : ৫৭৪২)

    অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অসুস্থ উটগুলোর মালিক তার উটগুলোকে সুস্থ পশুর দলে পাঠিয়ে দেবে না। (কারণ এতে ওই সুস্থ প্রাণীগুলো রোগাক্রান্ত হতে পারে।) (মুসলিম, হাদিস : ২৮৭৩)

    তাই আমরা সংক্রামক রোগকে মহান আল্লাহর হুকুমের চেয়ে শক্তিশালী ভাবার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি কোথাও এ ধরনের রোগ দেখা দিলে তাকে অবহেলা করারও সুযোগ নেই। আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) নির্দেশিত পথ অনুসরণ করা।

  • মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ

    মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ

    আল্লাহ জীবন সৃষ্টি করেন

    ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই মৃত থেকে জীবিতের আবির্ভাব ঘটান

    এবং তিনিই জীবন্ত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটান। ভূমিকে পুনর্জীবিত করেন তার মৃত্যুর পর। এভাবেই তোমরা উত্থিত হবে।’

    (সুরা : রোম, আয়াত : ১৯)

     

    স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য আশ্রয়

    ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদের—যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২১)

     

    ভাষা-বর্ণের বৈচিত্র্য আল্লাহর নিদর্শন

    ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২২)

     

    সৃষ্টিজগতের স্থিতি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ

    ইরশাদ হয়েছে, ‘তাঁর অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁরই নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবীর স্থিতি থাকে; অতঃপর যখন আল্লাহ তোমাদের মাটি থেকে উঠার জন্য একবার আহ্বান করবেন, তোমরা উঠে আসবে।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২৫)

     

    প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না

    ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং সীমা লঙ্ঘনকারীরা অজ্ঞতাবশত তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে…।’ (সুরা : রোম, আয়াত : ২৯)