Category: ধর্ম

  • কোরবানির গোশত কত ভাগ হবে?

    কোরবানির গোশত কত ভাগ হবে?

    কোরআনুল কারিমের একাধিক আয়াতে কোরবানির গোশত কয় ভাগ করতে হবে তার ইঙ্গিত এসেছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়ে ঘোষণা করেন-
    وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
    ‘আর কাবার জন্য উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের জবাই করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। এরপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার করো এবং আহার করাও; যে কিছু চায় না তাকে এবং যে চায় তাকেও। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৬)

    উল্লেখিত আয়াতে কারিমা থেকে সুস্পষ্ট যে, কোরবানির গোশত মোটামুটি তিনটি ভাগে ভাগ করার একটি নির্দেশনা বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাহলো-
    ১. কোরবানি দাতা নিজেদের জন্য রাখবে তথা আহার করা।
    ২. আত্মীয়-স্বজনদের এক ভাগ দেওয়া। যারা চায় না।
    ৩. যারা অভাবি বা গরিব; (যারা চায় এবং না চায়) তাদের এক ভাগ দেওয়া।

    অধিকাংশ ইসলামিক স্কলাররাই কোরবানির পশুর গোশতকে উল্লেখিত তিন ভাগে ভাগ করাকে মুস্তাহাব এবং উত্তম বলেছেন।

    কোরবানি হবে না; এমনটি ভাবার কারণ নেই…
    তবে হ্যাঁ, কেউ যদি তিন ভাগ করার ক্ষেত্রে কম-বেশি করে তাতেও কোনো সমস্যা নেই। কোরবানি হবে না বা কোরবানি নষ্ট হয়ে গেছে, এমনটি ভাবার কিংবা চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা কোরবানি দাতার জন্য কোরবানির পশুর গোশত একেবারে পাল্লায় মেপে তিন ভাগে ভাগ করা আবশ্যক কোনো বিষয় নয়।

    বরং কোরবানির পশুর এ গোশত ভাগ না করে এমনিতেই প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং গরিব-অসহায়কে দেয়া যাবে। এ জন্য ভাগ করতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

    সুতরাং কোরবানিদাতা ব্যক্তি ইচ্ছা করলে কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করে তা হাদিয়া বা দান করার পাশাপাশি নিজেরাও আহার করতে পারেন। তাতে মুস্তাহাবের ওপর আমল হয়ে যাবে।

    আবার চাইলে নিজের ইচ্ছা মতো ভাগ না করেও হাদিয়া দিতে পারেন বা দান করতে পারেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই।

    প্রচলিত সমাজের ভাগ
    দেশের অধিকাংশ এলাকায় একটা রেওয়াজ প্রচলিত আছে যে, সমাজের ভাগ। সেখানে পুরো গ্রাম বা এলাকা থেকে সমাজের ভাগ নাম দিয়ে বিভিন্ন কোরবানির পশুর গোশত এক স্থানে জমা করা হয়। পরে তা গরিব-দুঃখীর মাঝেসহ সবার ঘরে ঘরে বণ্টন করা হয়।

    এভাগে গোশত উঠিয়ে তা অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করা নিঃসন্দেহে ভালো কাজ। তবে জোরপূর্বক না নিয়ে বরং সেচ্ছায় খুশি মনে সামাজিকভাবে এভোবে গোশত সংগ্রহ করে গরিব এবং অভাবি মানুষের কাছে গোশত পৌঁছে দেওয়াও মন্দ নয়।

    তবে এর একটা কুপ্রভাবও আছে-
    যিনি কোরবানি করেছেন, তিনি হয়তো তার পরিচিত কোনো গরিব বা একান্ত কাউকে দেবেন। আবার হয়তো এখন কোনো গরিব বা অন্য কাউকে দেবেন না ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখবেন। পরে গরিব-অসহায়দের দেবেন বা খাওয়াবেন।

    আবার হয়তো তিন ভাগের একভাগ হয়তো পুরোপুরি গরিবকে দেবেন না কিছু কম বেশি দেবেন। ইসলাম এ স্বাধীনতা প্রত্যেক কোরবানিদাতাকেই দিয়েছেন। সমাজের লোক যদি একভাগ গোশত নিয়ে যায়। তাতে তখন আর করার কিছু থাকে না।

    অনেক সময় লজ্জায় পড়ে হলেও এক্ষেত্রে কিছু বলা যায় না। এ বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অবৈধ বা গোনাহের পর্যায়ে চলে যায়। কারণ মনে সন্তুষ্টিতে না দিয়ে সমাজের চাপের কারণে দিলে তা কোনো অবস্থাতেই বৈধ বা জায়েজ থাকে না।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী যার যার ভাগের কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেভাবে দিকনির্দেশনা ও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআনের উপদেশ অনুযায়ী কোরবানির গোশত ভাগ ও আহার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মুসলিম

    হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু, যোগ দিয়েছেন ১০ লাখ মুসলিম

    সৌদি আরবে চলতি বছরের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এতে দেশি-বিদেশি ১০ লাখ মুসলিম অংশ নিয়েছেন। মক্কায় কাবা তাওয়াফের মাধ্যমে হজ কার্যক্রম শুরু হয়। অনেকেই তীব্র গরম থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু টানিয়েছেন। কারণ সেখানের তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) হজযাত্রীরা মিনার উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করেছেন। গ্রান্ড মসজিদ থেকে মিনার দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। আরাফাতের ময়দানে প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সামনে রেখে তারা সেখানে হাজির হচ্ছেন।

    মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে।

    এদিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মক্কা ও মদিনায় ২৩টি হাসপাতাল ও ১৪৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

    বৈশ্বিক মহামারির কারণে দুই বছর পর এবার বড় পরিসরে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। করোনার বিধিনিষেধের কড়াকড়ি না থাকায় বেশিরভাগ হাজি মাস্কবিহীন অবস্থায় হজ কার্যক্রমে যোগ দিয়েছেন। মিনায় পৌঁছে হজযাত্রীরা ফজর থেকে শুরু করে এশা অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন নিজ নিজ তাঁবুতে। তবে খায়েফ ও কুয়েতি মসজিদের কাছাকাছি তাবু থাকলে মসজিদে গিয়েও নামাজ আদায় করতে পারেন হজযাত্রীরা।

  • হজের দিন আরাফার ময়দানে হাজিদের করণীয়

    হজের দিন আরাফার ময়দানে হাজিদের করণীয়

    ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে পবিত্র হজ। প্রত্যেক আরবি (হিজরি) বছরের শেষ মাসের ৯ তারিখ দিনটিই হজের দিন। হাদিসের পরিভাষায়- ‘আলহাজ্জু আরাফা’ বা আরাফা-ই হজ। ইংরেজি হিসেবে এবার তা হবে ০৮ জুলাই শুক্রবার। আরাফার ময়দানের হাজিদের জন্য রয়েছে বেশকিছু করণীয়। কী সেগুলো?

    সারাবিশ্ব থেকে আগত আল্লাহর মেহমানরা আরাফাতের ময়দানের বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনে একত্রিত হয়। এ দিনে আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি মানুষের গুনাহ ক্ষমা করে নিষ্পাপ করে দেন। এ দিন ও হজ সম্পর্কে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আলহাজ্জু আরাফাহ’ অর্থাৎ আরাফাই হজ। ৯ জিলহজ হজযাত্রীদের জন্য রয়েছে কিছু করণীয়। তাহলো-

    ১. এ দিন ফজরের নামাজের পর যে যেখানে থাকবে সেখানে থাকা অবস্থায়ই তাকবিরে তাশরিক পড়া। তাববিরে তাশরিক ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত পড়া ওয়াজিব।

    তাকবিরে তাশরিক হলো-

    اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَاَللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ্।’

    অর্থ : ‘আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ মহান, আল্লাহ ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ মহান।’

    ২. তাকবিরে তাশরিক পড়ার পর তালবিয়া পড়া। পুরো তালবিয়াকে ৪ ভাগে (নিঃশ্বাসে) ৩ বার পাঠ করা-

    তালবিয়া হলো-

    لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ

    উচ্চারণ : লাব্বাইকা আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।

    অর্থ :‘ আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি উপস্থিত! আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিঃসন্দেহে সব প্রশংসা ও সম্পদরাজি তথা নেয়ামত আপনার এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই ‘

    ৩. জিলহজের ৯ তারিখ সূর্য ওঠার পর তাকবিরে তাশরিক, তালবিয়া, দোয়া এবং তাসবিহ-তাকবির পড়তে পড়তে আরাফাতের ময়দানের দিকে রওয়ানা হওয়া।

    ৪. অবশ্যই জোহরের আগে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়া।

    ৫. আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতের কাছাকাছি অবস্থান করা উত্তম।

    ৬. জোহর ও আসরের নামাজ আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরায় এক সঙ্গে জামাতে নিদিষ্ট শর্তানুসারে আদায় করা ‍উত্তম।

    ৭. মসজিদে নামিরায় অনুষ্ঠিত জামাতে শরিক হতে না পারলে নিজ নিজ তাবুতে যথাসময়ে জোহর ও আসর নামাজ পড়ে নেওয়া।

    ৮. মসজিদে নামিরার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘বতনে উরানায়’ অবস্থান করা যাবে না।

    ৯. আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকালীন সময়ে তাওবা-ইসতেগফার, তাসবিহ-তাহলিল-তাকবির ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা। কেননা আরাফাতের ময়দানের দোয়াই আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি কবুল করেন।

    ১০. দুপুরের আগেই সম্ভব হলে আরাফাতের ময়দানে গোসল করে নেওয়া। অন্যথায় ওজু করে নেওয়া।

    ১১. হজের খুতবা মনোযোগ সহকারে শোনা।

    ১২. সূর্য ডোবা পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। তবে কেউ যদি সূর্য ডোবার আগে আরাফাতের ময়দান থেকে বের হয়ে যায়, তবে তার কর্তব্য হলো তিনি পুনরায় আরাফাতের ময়দানে ফিরে আসবেন এবং সূর্য ডোবার পর আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করবেন। ফিরে না আসলে ওই ব্যক্তি জন্য দম বা কোরবানি আবশ্যক হয়ে যাবে।

    ১৩. আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ে বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার ও দোয়া করা।

    ১৪. সূর্য ডোবার পরপরই মাগরিব না পরেই মুজদালিফার উদ্দেশ্যে তালবিয়া পড়তে পড়তে আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করা।

    ১৫. আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করার সময় মুজদালিফায় না পৌছে রাস্তায় মাগরিবের নামাজ পড়া যাবে না। মুজদালিফায় পৌঁছে এক আজান ও আলাদা আলাদা ইক্বামতে মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করা।

    ১৬. যদি কেউ আরাফাতের ময়দান কিংবা পথে মাগরিবের নামাজ আদায় করে তবে ওই ব্যক্তির জন্য মুজদালিফায় গিয়ে পুনরায় মাগরিবের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ৯ জিলহজ হজের দিনে কাজগুলো যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। সবাইকে হজে মাবরূর দান করুন। হজে পালনকারী সবাইকে নিষ্পাপ হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

  • সৌদি আরবে আরও ১ হজযাত্রীর মৃত্যু

    সৌদি আরবে আরও ১ হজযাত্রীর মৃত্যু

    সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হজযাত্রা শুরুর পর মোট ১৩ বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।

    বুধবার (৬ জুলাই) রাত ২টায় প্রকাশিত হজ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সর্বশেষ যিনি মারা গেছেন তার নাম মো. আব্দুল মোত্তালিব (৫৮)। তিনি মারা গেছেন ৪ জুলাই জুন, মক্কায়। আব্দুল মোত্তালিব ওগাঁ জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তার পাসপোর্ট নম্বর BT0686710।

    এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ১৩ জন হজযাত্রীর মধ্যে পুরুষ ৯ জন, নারী ৪ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ১১ জন, মদিনায় ২ জন।

    সৌদি পৌঁছেছেন ৬০,১৪৬ জন হজযাত্রী

    বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ তিনটি এয়ারলাইন্সের ১৬৫টি হজ ফ্লাইটে ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

    এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৮৭টি ফ্লাইটে ৩০ হাজার ৩৬৩ জন হজযাত্রী, সৌদি এয়ারলাইন্সের ৬৪টি ফ্লাইটে ২৩ হাজার ৯১৯ জন হজযাত্রী এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার ৮৬৪ জন হজযাত্রী নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করেন।

    গত ৫ জুন হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। হজযাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫ জুলাই পর্যন্ত হজ ফ্লাইটের সময় বৃদ্ধি করা হয়।

    আগামী ৮ জুলাই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। শেষ ফিরতি ফ্লাইট হবে ৪ আগস্ট।

  • পেছনের কাতারে একা নামাজ পড়া যাবে কি?

    পেছনের কাতারে একা নামাজ পড়া যাবে কি?

    সামনের কাতারে ফাঁকা থাকলে পেছনের কাতারে দাঁড়ানো মাকরুহে তাহরিমি। তবে যদি সামনের কাতারে জায়গা খালি না থাকে, তাহলে একাকী পেছনের কাতারে দাঁড়াতে পারবে। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সামনে ফাঁকা রেখে পিছনে একাকী দাঁড়ানো ঠিক হয়নি। মাকরূহ হয়েছে। হাদিসে এভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করা হয়েছে।
    আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি (নামাজে এসে) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রুকু অবস্থায় পেলেন। তখন তিনি কাতারে পৌঁছার আগেই (নামাযে শরীক হলেন এবং) রুকুতে চলে গেলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষয়টি জানালে তিনি তাকে বললেন, আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন। তবে ভবিষ্যতে এরকম করো না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮৩)

    তথ্যসূত্র : বাদায়েউস সানায়ি : ১/৫১২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/১৫৭; হালবাতুল মুজাল্লি : ২/৩০৫; আদ্দুররুল মুখতার : ১/৫৭০; রাদ্দুল মুহতার : ১/৫৭০

  • গুনাহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাওয়ার দোয়া

    গুনাহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাওয়ার দোয়া

    গুনাহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চাওয়ার দোয়াছোট্ট একটি দোয়া। উম্মতে মুসলিমার জন্য শিক্ষা। মনের অজান্তে কিংবা যে কোনো সময় কোনো অন্যায় বা গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা মুমিনের গুণ। মনের অজান্তে যেভাবে সামান্য ভুলে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা। সামান্য কিংবা বড় যে কোনো ভুলে ক্ষমা প্রার্থনার ছোট্ট দোয়াটি হলো-أتُوبُ إلى اللَّهِ ممَّا أذْنَبْتُউচ্চারণ : আতুবু ইলাল্লাহি মিম্মা আজনাবতু।অর্থ : ‘আমি যে গুনাহ করেছি, তা থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘একবার তিনি (প্রিয় নবির বসার জন্য) একটি গদি কেনেন। গদিটি ছিল ছবিযুক্ত। রাসুলুল্লাহ (তা দেখে) দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। ঘরে (কামড়ায়) প্রবেশ করলেন না। বিষয়টি লক্ষ্য করে তখনই হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। (বুখারি)সুতরাং কোনো কারণে, ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট কিংবা বড় গুনাহ হয়ে গেলে; তা বুঝার সঙ্গে সঙ্গে ছোট্ট এ দোয়ার মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আর তাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেনআল্লাহ তাআলা সবাইকে অন্যায়-অপরাধ থেকে বেঁচে থাকতে ছোট্ট এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • নামাজ না পড়লে দুনিয়ার যেসব দুর্ভোগ সুনিশ্চিত

    নামাজ না পড়লে দুনিয়ার যেসব দুর্ভোগ সুনিশ্চিত

    নামাজ ফরজ ইবাদত। নবিজী বলেছেন, নামাজ সেভাবে পড়ো; যেভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো। আর আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।’ আবার সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ পড়ার কথাও এসেছে অন্য আয়াতে।

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নামাজ হলো ঈমানদার ও কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়কারী। আবার যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজকে ছেড়ে দিল তবে সে কুফরি করলো বলেও ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি। এসব ঘোষণার পরও অনেক মানুষ নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকে। যারা নামাজ পড়ে না তাদের দুনিয়া ও পরকালে রয়েছে কঠোর আজাব ও কষ্ট। তাহলে নামাজ না পড়লে বেনামাজি দুনিয়াতে কী কষ্ট ভোগ করবে?

    কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিশ্বনবি। কিন্তু কেয়ামতে আগে দুনিয়াতেও বেনামাজি চরম কষ্ট ভোগ করবে; তাহলো-

    বেনামাজির দুনিয়ার জীবনের কষ্ট

    ১. আল্লাহ তাআলা নামাজ ত্যাগকারীকে দুনিয়ার জীবনে সব কাজের বরকত থেকে মাহরূম/বঞ্চিত করেন।

    ২. নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তির চেহারায় কোনো নূর বা উজ্জ্বলতা থাকে না।

    ৩. যে ব্যক্তি নামাজ ত্যাগ করে ওই ব্যক্তি দুনিয়ার অন্যান্য ভালো কাজের কোনো পুরস্কারও পাবে না।

    ৪. নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তির জন্য কোনো লোক দোয়া করলে, ওই ব্যক্তির জন্য দোয়াকারীর দোয়া বা কল্যাণ কামনা কোনো কাজে আসবে না।

    ৫. সর্বোপরি নামাজ পরিত্যাগকারী ব্যক্তি দুনিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপেই আল্লাহ তাআলা সব সৃষ্টিজীবের কাছে ঘৃণিত হবে। কোনো সৃষ্টিজীবই তাকে পছন্দ করে না।

    উল্লেখিত প্রতিটি বিষয় পাওয়া কামনা করে মুমিন মুসলমান। নামাজ না পড়ার কারণে তারা এসব কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্টের মুখোমুখি হবে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথা সময়ে যথাযথভাবে নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। দুনিয়ার কষ্ট ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত রেখে তাঁর নৈকট্য অর্জনে নিয়মিত ও সময়মতো নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জুলুম থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

    জুলুম থেকে মুক্ত থাকার দোয়া

    জুলুমকে আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছেন মর্মে হাদিসে কুদসিতে নবিজী ঘোষণা করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজের জন্যে জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের পরস্পরের মধ্যেও জুলুম হারাম করেছি। সুতরাং তোমরা একজন অন্যজনের উপর জুলুম করো না।’ (মুসলিম, তিরমিজি)

    হাদিসের কুদসির এ ঘোষণা থেকে সব মানুষের জন্য এ শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, কেউ যেন কারো প্রতি জুলুম করবে না। বরং আল্লাহর কাছে তারই শেখানো ভাষায় এভাবে সব সময় জুলুম থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি রহমত কামনায় দোয়া করা জরুরি-
    ১. رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا مَعَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِيۡنَ
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা লা তাঝআলনা মাআল ক্বাওমিজ জালিমিন।’
    অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে জালিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।’ (সুরা আরাফ : ৪৭)

    ২. رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَةً وَّهَيِّئۡ لَـنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا‏
    উচ্চারণ : ‘রাব্বানা আতিনা মিল্লাদুংকা রাহমাতাও ওয়া হায়্যি লানা মিন আমরিনা রাশাদা।’
    অর্থ : ‘হে আমাদের রব! আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন।’ (সুরা কাহফ : আয়াত ১০)

    এমনকি কোনো কথা বা কাজ যেন কারো প্রতি জুলুম না হয়ে যায়, সে জন্য মহান রবের কাছে তারই শেখানো ভাষায় বার বার এভাবে তাওফিক কামনা করা-
    ৩. وَاُفَوِّضُ اَمۡرِيْٓ اِلَى اللّٰهِؕ اِنَّ اللّٰهَ بَصِيۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ‏
    উচ্চারণ : ‘ওয়া উফাওয়্যিদু আমরি ইলাল্লাহি; ইন্নাল্লাহা বাসিরুম বিলইবাদ।’
    অর্থ : ‘আর আমার বিষয়টি আমি আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা গাফির : আয়াত ৪৪)

    ৪. حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ
    উচ্চারণ : ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’
    অর্থ : ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট; তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের প্রভু।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ১২৯)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহান রবের শেখানো ভাষায় জুলুম-অত্যাচার থেকে বেঁচে থাকার ধরনা ধরা। তাঁরই কাছে সাহায্য ও রহমত কামনা করা। কারণ তার সাহায্য এবং রহমতই মানুষকে জুলুম করা এবং জুলুমের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে পারে।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুলুম-অত্যাচার করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। মহান রবের সাহায্য ও রহমত পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল

    জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল

    হজ ও কোরবানির মাস জিলহজ। এটি হিজরি বছরের শেষ মাস। এ মাসের ৯ তারিখ সারাবিশ্ব থেকে আগত মুসলিম উম্মাহ আরাফায় একত্রিত হবেন। পরদিন বিশ্বব্যাপী সবাই কোরবানি করবেন। ৩০ জুন ২০২২ সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে, সে হিসেবে আগামী ১০ জুলাই ২০২২ রোববার যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের নামাজের পর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করবে মুসলিম উম্মাহ। এ মাসের প্রথম দশকের রয়েছে বিশেষ আমল। সে আমলগুলো কী?

    দুনিয়ার সেরা আত্মত্যাগের মাস জিলহজ। এ মাসেই হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তান হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কোরবানির মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এ ধারা মুসলিম উম্মাহ কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখবেন। এ কারণেই আমল ও ফজিলতে মর্যাদাসম্পন্ন মাস জিলহজ।

    যে কারণে মর্যাদার মাস জিলহজ

    ১. নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে এ দিনগুলোর আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমল বেশি প্রিয় নয়। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? উত্তরে নবিজী বললেন, ‘না’, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে হ্যাঁ যদি কোনো ব্যক্তি নিজের জান ও মাল নিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে বের হন এবং সে কোনো কিছু নিয়ে ফিরে না আসেন। (বুখারি)

    ২. আল্লাহ তাআলা সুরা ফজরের শুরুতেই জিলহজের প্রথম দশ রাতের কসম খেয়েছেনে। তিনি বলেন, ‘কসম ফজরের এবং দশ রাতের।’ এ দশ রাত দ্বারা জিলহজ মাসের প্রথম দশকই প্রমাণিত।

    ৩. জিলহজ মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোর মর্যাদা এত বেশি যে, ৯ জিলহজকে হজে অংশগ্রহণকারী সব মানুষকে নিষ্পাপ হিসেবে কবুল করে নেওয়ার দিন।

    ৪. আবার ৯ জিলহজ দিবাগত রাতকে (মুজদালিফার রাত) শবে কদরের চেয়েও মর্যাদা সম্পন্ন হিসেবে মনে করা হয়। এ রাতের ইবাদত বন্দেগিতে আল্লাহ তাআলা জুলুমকারীকেও ক্ষমা করে দেন।

    ৫. মুসনাদে আহমদে এসেছে, ‘জিলহজ মাসের প্রথম দশকের শেষ দুদিন অর্থাৎ ‘ইয়াওমে আরাফা ও ইয়াওমে নাহর (কোরবানির দিন) হওয়ায় তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’

    ৬. জিলহজ মাসের মর্যাদা বেশি হওয়ার আরো দুটি কারণ হলো- এ মাসেই হজ ও কোরবানি আদায় করতে হয়। যা মর্যাদাপূর্ণ মাস রমজানেও আদায় করা সম্ভব নয়।

    জিলহজ মাসের আমল

    ১. কোনো ওজর আপত্তি না দেখিয়ে আর্থিক ও শারীরিক সক্ষম ব্যক্তিদের হজ আদায় করা।

    ২. যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তাদের কোরবানি আদায় করা। আর যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম আত্মত্যাগের নিদর্শন কোরবানি আদায় করা। কারণ সম্পদহীন ব্যক্তি কোরবানির আগ্রহ প্রদানে আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকে স্বচ্ছলতা দান করতে পারেন।

    ৩. জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পাদনের আগে পর্যন্ত নখ, চুল ও মোচ ইত্যাদি না কাটা। হাদিস এসেছে-

    হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে পাবে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন চুল নখ কাটা থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম, ইবনে হিব্বান)

    ৪. জিলহজ মাসের পাঁচ দিন তাকবিরে তাশরিক আদায় করা আদায় করা। তাকবিরে তাশরিক হলো-

    اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَ اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر وَ للهِ الْحَمْد

    উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

    অর্থ : ’আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সব প্রশংসা মহান আল্লাহ জন্য।’

    আর তা শুরু হয় ৯ জিলহজ ফজর নামাজের পর থেকে। আর শেষ হবে ১৩ জিলহজ আসার নামাজে। যা এ পাঁচ দিন ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর পড়া ওয়াজিব। চাই নামাজ একাকী আদায় করা হোক বা জামাতে।

    তাকবিরে তাশরিক পুরুষরা উচ্চ স্বরে আর নারীরা স্বশব্দে পড়বে। অর্থাৎ নারীদের তাকবিরের শব্দ যেন (গাইরে মাহরাম) অন্য লোকে না শোনে।

    ৫. শুধু ঈদের দিন (১০ জিলহজ) ছাড়া জিলহজের প্রথম দশকে (৯দিন) রোজা রাখা অনেক ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ঈদের দিন ছাড়া) জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা পালন করতেন।

    ৬. এ মাসের নবম দিন ও রাত আল্লাহর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দিনটি হলো আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন। আর রাতটি হলো মুজদালিফায় (শবে কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ) অবস্থানের রাত।

    বিশেষ করে ৯ জিলহজ রোজা আদায়ের ব্যাপারে নবিজী সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন যে, এ দিনের রোজা পালনকারীর বিগত এক বছর এবং আগাম (সামনের) এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।

    এ ছাড়াও এ দশকে বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগি করা, আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করা, যথাসম্ভব সব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বেশি বেশি সাদকাহ করা।

    জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমল আল্লাহর কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল যে, মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেককেই বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। আল্লাহর দেওয়া বিধানগুলো যথাযথ আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নাত, নফল, মোস্তাহাব ও নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দান-অনুদান, সাহায্য-সহায়তা বেশি বেশি করা জরুরি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলহজ মাসব্যাপী নামাজ, রোজা (ঈদের দিন ছাড়া), দান-অনুদান, হজ, কোরবানি, জিকির আজকার, কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি কল্যাণকর কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে কাল

    ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে কাল

    ঈদুল আজহার তারিখ জানতে মুখিয়ে আছেন মুসলিমরা। বাংলাদেশে কবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে তা জানা যাবে আগামী কাল বৃহস্পতিবার। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    আজ বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, ‘কাল (বৃহস্পতিবার) বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটি চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করবে। ’

    ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার ১৪৪৩ হিজরি সনের চাঁদ দেখা গেলে শুক্রবার (১ জুলাই) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে।

    সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আগামী ১০ জুলাই (১০ জিলহজ) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
    চাঁদ দেখা না গেলে শুক্রবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে আগামী শনিবার (২ জুলাই) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে, দেশে ঈদ উদযাপিত হবে ১১ জুলাই।

    ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে।

    বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।