Category: ধর্ম

  • ঘুমের আগের এক আমলে মিলবে ২ নেয়ামত

    ঘুমের আগের এক আমলে মিলবে ২ নেয়ামত

    ইসলামিক ডেস্কঃ ঘুম আল্লাহ তাআলার একটি নেয়ামত। তিনি রাতকে ঘুমের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আবার রাতের কিছু সময় তাকে স্মরণ ও তাঁর ইবাদতের কথাও বলেছেন। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ঘুমের আগের এক আমলে ২টি নেয়ামত দান করবেন। সেই আমল ও নেয়ামত দুটি কী?

    ঘুমের আগের ছোট্ট আমলটি হলো- অজু করে ঘুমানো। কেউ যদি ঘুমানোর জন্য বিছানায় যাওয়ার আগে অজু করে নেয় এবং তারপর ঘুমায় তবে মহান আল্লাহ ওই বান্দাকে দুটি নেয়ামত দান করবেন। নেয়ামত দুটির বর্ণনা হাদিসে এভাবে এসেছে-

    ১. ক্ষমার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত

    হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু বর্ননা করেছেন, নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘তোমরা তোমাদের শরীরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করো, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদেরকে পরিচ্ছন্ন করে দেবেন। আর যখন আল্লাহর কোনো বান্দা অজু করে বিছানায় ঘুমাতে যায়, আল্লাহ ওই ব্যক্তির সঙ্গে (তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনায়) একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। ঘুমের মধ্যে ওই বান্দা যখনই নড়াচড়া করে কিংবা এপাশ-ওপাশ করে তখনই ওই ফেরেশতা তার জন্য এ বলে দোয়া করে-

    اَللَّهًمَّ اغْفِرلِعَبْدِكَ

    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি-আবদিকা’

    অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার এ বান্দাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা সে পবিত্রতা অর্জন করে ঘুমিয়েছে।’ (তাবারানি)

    অজু করে বিছানায় শোয়া ব্যক্তি যখন ঘুমিয়ে পড়ে, ফেরেশতা তখন ঘুমায় না। যখনই পবিত্রতা অর্জনকারী ঘুমে নড়া-চড়া করে কিংবা এপাশ-ওপাশ করে তখনই নিযুক্ত ফেরেশতা তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।

    ২. হতাশা-অশান্তি দূর হয়

    মানুষ অনেক হতাশা, দুঃশ্চিন্তা কিংবা অশান্তিতে ভোগে। একটি সময় এসব দুঃশ্চিন্তা ও অশান্তি নিয়ে মানুষ ঘুমাতে যায়। যদি কোনো ব্যক্তি হতাশা-দুঃশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে চায়, আল্লাহর কাছ থেকে কোনো চাহিদা পূরণ করে নিতে চায়, তবে তার জন্য একটি আমলই যথেষ্ট। সেটি হচ্ছে ঘুমের আগে অজু করা। হাদিসে এসেছে-

    নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যখন অজু করে পবিত্র হয়ে ঘুমায় আর ঘুমানোর পর যদি কোনো কারণে রাতে তার ঘুম ভেঙে যায় তবে সে যেন (একটু হলেও) আল্লাহর জিকির করে। যদি কেউ আল্লাহ জিকির করার পর তার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে তবে আল্লাহ তাআলা তাকে (চাহিদা মোতাবেক) তা-ই দিয়ে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ)

    ঘুমোতে যাওয়ার আগে অজুর এ আমলটি মুমিন মুসলমানের জন্য একেবারেই সহজ। অজুতে না আছে কোনো ক্ষতি আর না আছে কষ্ট। সময়ও বেশি প্রয়োজন হয় না। তাই ঘুমের আগে অজু করার মাধ্যমে আমরা পেতে পারি আল্লাহর ক্ষমা ও হতাশা-অশান্তি থেকে মুক্তি।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে অজু করে ঘুমানোর তাওফিক দান করুন। অজু করে ঘুমানোর মাধ্যমে উল্লেখিত নেয়ামতগুলো পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ফেতনামুক্ত মৃত্যু ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

    ফেতনামুক্ত মৃত্যু ও ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া

    ইসলামিক ডেস্কঃ নবিজি বিশ্ববাসীন জন্য রহমত। উম্মতের মায়ায় নবিজি কেঁদেছেন। তাদের দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। দুনিয়ার সব অনিষ্ট থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার দোয়া শিখিয়েছেন। এসবই ছিল উম্মতের জন্য ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এমনকি তিনি উম্মতকে ফেতনামুক্ত মৃত্যু এবং ক্ষমা প্রার্থনায় চমৎকার একটি দোয়ায় সাহায্য প্রার্থনা করতে বলেছেন। কী সেটি?

    নবিজি ক্ষমার দোয়া করেছেন এবং দারিদ্রদের ভালোবাসাও কামনা করেছেন। যখন কোনো জাতির ওপর পরীক্ষাস্বরূপ কোনো ফেতনা আসে, সে ফেতনা থেকে বাঁচার দোয়াও করেছেন। নবিজির দোয়াটি হলো-

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَأَنْ تَغْفِرَ لِي وَتَرْحَمَنِي وَإِذَا أَرَدْتَ فِتْنَةَ قَوْمٍ فَتَوَفَّنِي غَيْرَ مَفْتُونٍ

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ফিলাল খাইরাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি ওয়া হুব্বাল মাসাকিনি ওয়া আন তাগফিরালি ওয়া তারহামানি ওয়া ইজা আরাদতা ফিতনাতা ক্বাওমিন ফা-তাওয়াফ্ফানি গাইরা মাফতুন। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মান ইয়ু হিব্বুকা ওয়া হুব্বা আমালীন ইয়ুক্বাররিবু ইলা হুব্বিকা।

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে সৎ কাজ করার, অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার ও দরিদ্রদের ভালোবাসার তাওফিক দিন। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। আমার উপর দয়া করুন। আর আপনি যখন কোনো জাতিকে কোনো ফেতনায় (পরীক্ষা) ফেলার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফেতনাহমুক্ত মৃত্যু দান করুন।

    হে আল্লাহ! আমি আপনার ভালোবাসা প্রার্থনা করি। যাঁরা আপনাকে ভালোবাসে, তাঁদের ভালোবাসাও প্রার্থনা করি এবং এমন আমলের ভালোবাসা প্রার্থনা করি, যেই আমল আমাকে আপনার ভালোবাসার কাছে পৌঁছে দেবে।’ (তিরমিজি)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ফেতনার জামানায় দারিদ্রের জামানায় আমলের কমতির জামানায় তারই ওপর ভরসা করার তাওফিক দান করুন। উল্লেখিত বিষয়গুলোতে তারই সাহায্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পবিত্র আশুরা আগামী ৯ আগস্ট

    পবিত্র আশুরা আগামী ৯ আগস্ট

    ইসলামিক ডেস্ক ::: বাংলাদেশের আকাশে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামীকাল (রোববার) থেকে শুরু হচ্ছে মহররম মাস ও নতুন হিজরি বর্ষ ১৪৪৪। আর আগামী ৯ আগস্ট (১০ মহররম) দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

    শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার।

    গণমাধ্যমে পাঠানো ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    সভায় আউয়াল হাওলাদার জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও হিজরি ১৪৪৪ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

    তাই শনিবার (৩০ জুলাই) জিলহজ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। আর রোববার (৩১ জুলাই) থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৯ আগস্ট (১০ মহররম) মঙ্গলবার দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে, যোগ করেন অতিরিক্ত সচিব হাওলাদার।

    হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকে।

    কারবালা প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেনের (রা.) শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত আমাদের দেশে আশুরা পরিচিত। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা আরও কিছু তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। আশুরার রোজা (আশুরার দিন এবং আগে বা পরে একদিন) রাখার বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে হাদিসে।

    আশুরার দিনে ফেরাউনের হাত থেকে নবী মূসা (আ.) ও তার অনুসারীদের মুক্তি পাওয়া ছাড়া আর কোনো ঘটনা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। আশুরার দিনে হযরত আদমের (আ.) তাওবা কবুল, মহাপ্লাবনের পর নূহের (আ.) নৌকা জুদী পর্বতের ওপর থামা ও ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করার কথা অনির্ভরযোগ্য সূত্রে কোনো কোনো সাহাবী-তাবিই থেকে বর্ণিত আছে।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারুক আহম্মেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার এডিসি (সাধারণ) মো. ইলিয়াস মেহেদী, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ।

  • আশুরা কবে জানা যাবে আজ

    আশুরা কবে জানা যাবে আজ

    ইসলামিক ডেস্কঃ হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। মাসের ১০ তারিখ পবিত্র আশুরা। ১৪৪৪ হিজরি সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা এবং আশুরার তারিখ নির্ধারণে শুক্রবার (২৯ জুলাই) সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    এদিন সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা বসবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

    বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা ০২-২২৩৩৮১৭২৫, ০২-৪১০৫০৯১২, ০২-৪১০৫০৯১৬ ও ০২-৪১০৫০৯১৭ টেলিফোন এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

  • হঠাৎ অশ্লীল কিছু চোখে পড়লে যে দোয়া পড়বেন

    হঠাৎ অশ্লীল কিছু চোখে পড়লে যে দোয়া পড়বেন

    ইসলামিক ডেস্কঃ অশ্লীলতা পৃথিবীতে বিপর্যয় নামিয়ে আনে। অশ্লীলতার বিস্তার ঘটলে একের পর এক বিপদ নেমে আসে। এর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত ধ্বংস হয়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মুসলিম সমাজও মানুষকে সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। কেননা এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩২)

    হজরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি ব্যভিচার করে, তখন ঈমান তাকে ছেড়ে চলে যায় এবং তার মাথার উপর ছাউনির মতো হয়ে যায়, যখন সে এই কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।- আবু দাউদ, ৪/ ২৯৩

    চলাফেরার পথে বিভিন্ন অশ্লীল বিষয় আমাদের চোখে পড়ে। যা বড় ধরণের পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। বর্তমানে প্রযুক্তি অপব্যবহারের ফলে মানুষ নানান ধরনের অন্যায়-অপরাধ তথা অশ্লীলতায় নিয়োজিত হচ্ছে।

    ইমাম কুরতবী রহ. বলেন, চোখ অন্তরে কোনো কিছু প্রবেশের বড় দরজা। চোখের কারণেই মানুষের পদস্খলনটি বেশি হয়। ফলে চোখ থেকে অধিক সতর্ক হতে হবে। নিষিদ্ধ বস্তু ও ফিতনার আশঙ্কা থাকে এমন সব বস্তুর দিকে তাকানো থেকে চোখকে অবনত রাখতে হবে। চোখ অবনত রাখার অর্থ, একজন মুসলিম নিষিদ্ধ বস্তুর দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকবে, সে শুধু বৈধ বিষয়সমূহ দেখবে। আর যদি অনিচ্ছায় কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর দিকে নজর পড়ে যায়, তবে সাথে সাথে তা ফিরিয়ে নেবে। দৃষ্টিকে দীর্ঘায়িত করবে না।

    আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জা স্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।’ সূরা: নূর, ৩০।

    অশ্লীলতা ও মনের খারাপ আসক্তি থেকে রক্ষা পেতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সাহাবিকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো,

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি সাময়ি, ওয়া মিন বাচারি ওয়া মিন শাররি লিসানি ওয়া মিন শাররি ক্বালবি ওয়া মিন শাররি মানিয়্যি।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানে মন্দ কথা শোনা থেকে আশ্রয় চাই। চোখ দিয়ে মন্দ কিছু দেখা থেকে আশ্রয় চাই। জিহ্বা দিয়ে মন্দ কিছু বলা থেকে আশ্রয় চাই। অন্তরের খারাপ চিন্তা থেকে আশ্রয় চাই। দেহের কামনা-বাসনার খারাপ চিন্তা থেকেও আশ্রয় চাই।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ,২০/১৪৮৪)

    এছাড়া আরো একটি দোয়ার কথা এসেছে হাদিসে,

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلاَقِ وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ

    উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাক্বি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ি।’

    অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তির অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই।’ (তিরমিজি, ১৯/১৪৮৪)

  • পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন আরও ২১৩৩ হাজি

    পবিত্র হজ শেষে দেশে ফিরেছেন আরও ২১৩৩ হাজি

    অনলাইন ডেস্ক ::: হজ শেষে আরও দুই হাজার ১৩৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে বুধবার (২৭ জুলাই) পর্যন্ত এ বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা হাজির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৯১৫ জনে।

    বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    গত ১৪ জুলাই হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৯০টি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪৫টি, সৌদিয়ার ৪০টি ও ফ্লাইনাসের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৪ আগস্ট।

    আইটি হেল্পডেস্ক জানিয়েছে, সৌদি আরবে মোট ২৩ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ইন্তেকাল করেছেন।

    গত ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ১৬৫টি ফ্লাইটে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী।

    হজের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, হজ প্রশাসনিক দলের দলনেতা ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মো. মতিউল ইসলাম বুধবার সকালে মক্কার বাংলাদেশ হজ মেডিকেল সেন্টার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি কর্তব্যরত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অসুস্থ হাজিদের খোঁজখবর নেন। এসময় প্রশাসনিক দলের অন্য সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন।

  • পরিবারের জন্য খরচ যখন ইবাদত

    পরিবারের জন্য খরচ যখন ইবাদত

    ইসলামিক ডেস্কঃ একটি ফার্সি গল্পের ঘটনা। এক ব্যক্তি প্রতিদিন একটি দোকান থেকে ছয়টা রুটি কিনে নিয়ে যায়। একদিন দোকানি কৌতুহল থেকে তাকে জিজ্ঞেস করেন—ভাই আপনি প্রতিদিন ছয়টা রুটিই নেন, এগুলো দিয়ে কী করেন?

    তিনি বলেন, ‘দুটো দিয়ে দেনা শোধ দিই, দু’টো ধার দিই, একটা ফেলে দিই, আরেকটি নিজে খাই।’ দোকানী যারপরনাই কৌতুহলী হয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন—’দেনা শোধ দিই মানে বাবা-মাকে খাওয়াই, তারা একসময় আমাকে খাইয়েছে; ধার দিই মানে ছেলে-মেয়েকে খাওয়াই, ওরা বৃদ্ধ বয়সে ফেরত দেবে; ফেলে দিই মানে ওটা বৌকে খাওয়াই, সে আমাকে কোনো দিন খাওয়ায়নি আর কোনো দিন খাওয়াবেও না, আরেকটি তো নিজে খাই।’

    কেবল ‘আমল করা’ আর আল্লাহর জন্য ‘আমল করার মধ্যে অনেক তফাত আছে। যেমন ধরুন—পরিবারের সদস্যদের ব্যয়ভার বহন করা একটি কাজ। এটি কিন্তু ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই করে থাকে। আপনিও করেন। কিন্তু কেন করেন? উত্তর হতে পারে—’আরে ভাই এটা কোনো প্রশ্ন হলো না কি, আমার পরিবারের ব্যায়ভার আমি বহন করবে না তো কে করবে?’ কিংবা উত্তর হতে পারে উল্লিখিত গল্পের ব্যক্তির মতো। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আবু মাসউদ আল-বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—’নিঃসন্দেহে কোনো মুসলিম যখন তার পরিবারের জন্য খরচ করে তা সাদাকা হিসেবে গন্য হবে যদি সে তাকে (ইবাদাত) মনে করে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    কেনা-কাটায় পকেটের পয়সা সবারই যাবে, এতে কিন্তু কারোরই মাফ নেই। কিন্তু কারোটা নিছক খরচ হবে আর কারোটা ইবাদাত হিসেবে গৃহীত হবে—তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে নিয়তের উপর। নিয়ত যদি ঠিক থাকে তাহলে বৌয়ের রুটিটাও আর ফেলে দেওয়ার খাতায় উঠবে না।

    আপনি যখন পরিবারের জন্য বাজার থেকে মাছ কিনেন, গোস্ত কিনেন, শাক-সবজি কিনেন, যখন তাদের জন্য জামা-কাপড় কিনে দেন, ডাক্তারের ফি দেন, ওষুধ কিনেন, পড়ালেখার জন্য খাতা-পেন্সিল কিনে আনেন—কখনো কি মনের মধ্যে ইবাদাতের অনুভুতি থাকে?

    কখনো সচেতনভাবে অস্ফুট আওয়াজে ঠোট নাড়িয়ে কেবল আল্লাহকে শুনিয়ে বলেছেন—’ও আল্লাহ এই খরচ আমি কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য করছি, তুমি কবুল করো’…?

    হয়তো বলেন নি, হয়তো মনেই হয়নি, হয়তো ভেবেই দেখা হয়ে ওঠেনি এভাবে। পেছনে যতো পয়সা জলে গেছে—তা তো গেছেই। আজ থেকে আর নয়। আসুন, আমরা এক্ষুনি একটি সাধারণ নিয়ত করে নিই যে—পরিবারের ব্যয়ভার আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করবো।

    আর সবসময় মনে না থাকলেও মাঝে মধ্যে কেনা-কাটার সময় সচেতনভাবে একটু বলি—

    اِنَّمَا نُطۡعِمُکُمۡ لِوَجۡهِ اللّٰهِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡکُمۡ جَزَآءً وَّ لَا شُکُوۡرًا

    ‘ইন্নামা নুতইমুকুম লিওয়াজহিল্লাহ, লা নুরিদু মিনকুম জাযাআন ওয়া লা শুকুরান’

    ‘আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদেরকে খাওয়াই; তোমাদের থেকে না এর কোনো প্রতিদান চাই, না কোনো কৃতজ্ঞতা চাই’…। (সুরা আল-ইনসান/দাহর : আয়াত ৯)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রতিটি কাজ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    ফেসবুক পোস্ট থেকে…

  • ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন

    ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন

    ইসলামিক ডেস্কঃ ইসলামে যে ৪ মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন
    আরবি চন্দ্র বছরের ১২ মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা কোরআন শরীফে বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান’। (সুরা তাওবাহ, আয়াত ৩৬)।

    এই ৪ মাস হলো- জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এসব মাসে যুদ্ধবিগ্রহ, কলহবিবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আবার এই ৪ মাসের মধ্যে অন্যতম ‘জিলহজ’ মাস। কারণ জিলহজ মাস হজের মাস। হজের তিনটি মাস শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ। এর মধ্যে প্রধান হলো জিলহজ।

    কোরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘হজ সম্পাদন সুবিদিত মাসসমূহে। অতঃপর যে কেউ এই মাসগুলোয় হজ করা স্থির করে, তার জন্য হজের সময়ে স্ত্রীসম্ভোগ, অন্যায় আচরণ ও কলহবিবাদ বিধেয় নহে। তোমরা উত্তম কাজে যা কিছু করো, আল্লাহ তা জানেন এবং তোমরা পাথেয়ের ব্যবস্থা করবে, আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। হে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, তোমরা আমাকে ভয় করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৯৭)।

    ‘জিলকদ’ মাসে ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত ইবাদত ও আমল না থাকলেও আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত মর্যাদার ৪ মাসের একটি। আল্লাহ তাআলা এ মাসে যে কোনো রক্তপাত, যুদ্ধ-বিগ্রহ বা বাদানুবাদকে হারাম করেছেন। মুসলিম উম্মাহ মাসটি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করবে। হজ, কোরবানি ও জিলহজের রোজার প্রস্তুতিতে বিশ্রাম নেবে। এটিও ইবাদতের অন্তর্গত।

    লিসানুল আরব ও ইবনে মানজুর-এর তথ্য মতে, তৎকালীন যুগে জিলকদ মাসে আরবের লোকেরা বাণিজ্য থেকে ফিরে আসতো, যুদ্ধ থেকে ফিরে আসতো এবং বিশ্রাম গ্রহণ করতো। তাছাড়া ঋতুর পরিবর্তনে এই সময়টায় স্থানীয় আরবের লোকজনের হাতে তেমন কোনো কাজও থাকতো না।

    হিজরি বছরের প্রথম মাস ‘মহররম’। হজরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রস্তাবনায় মহররম মাসকে হিজরি বছরের প্রথম মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। মহররম মাসের ১০ম দিনকে ‘আশুরা’ বলা হয়। এ দিন আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর জাতিকে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এ উপলক্ষ্যে ইসলামের আগমনের আগে থেকেই ইয়াহুদিরাও রোজা রাখতেন।

    আশুরার রোজা রাখার ফজিলত অনেক বেশি। এ দিনের রোজা রাখার ফজিলত বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি বিগত এক বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম)

    আরবি চন্দ্র বছরের সপ্তম মাস ‘রজব’। এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসে রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে দোয়া করতেন; উম্মতকেও দোয়া করতে বলতেন-
    اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
    উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
    অর্থ: ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চারটি মাসের ফজিলত, মর্যাদা ও আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করার তাওফিক দান করুন। এই মাসসমূহে বেশি বেশি ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে দুনিয়ায় কী দোয়া পড়বেন

    পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে দুনিয়ায় কী দোয়া পড়বেন

    ইসলামিক ডেস্কঃ পরকাল মানুষের আসল ঠিকানা। পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য কল্যাণ কামনা করাই মুমিনের একমাত্র কাজ। পরকালকে নিয়েই মুমিনের সব চিন্তা-ভাবনা। সে কারণেই মুমিন মুসলমান দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণের সঙ্গে সঙ্গে পরকালে আল্লাহর ভয়াবহ আজাব থেকে বাঁচতে এ দুনিয়াতেই বেশি বেশি দোয়া করে। সে দোয়াটি কী?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া সম্পর্কে হাদিসে পাকে ঘোষণা করেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত; দোয়াই ইবাদতের মূল।’ এ কারণেই দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণের পাশাপাশি পরকালের আজাব থেকে বাঁচতে মুমিন মুসলমান এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়েন-

    اَللهُمَّ اَتِنَا فِىْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِىْ الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّار

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দুনিয়াতে ও পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন।’

    দোয়াটি সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা এমন

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। (গিয়ে) দেখলেন, (অসুস্থতায়) সে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য শুকিয়ে পাখির মত হয়ে গেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু কামনা করেছিলে? সে বললো- ‘হ্যাঁ’। আমি বলেছিলাম-

    ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে পরকালে যে শাস্তি দেবেন; তা দুনিয়াতেই ত্বরান্বিত করুন।’

    (এবার) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! তোমার এমন শক্তি নেই যে, তুমি তা (পরকালের শাস্তি) বরদাশত করবে? তবে তুমি এরূপ দোয়া করবে যে-

    اَللهُمَّ اَتِنَا فِىْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِىْ الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّار

    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখেরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

    অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দুনিয়াতে ও পরকালে কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের নাজাত দিন।’

    এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ তাকে নিরাময় দান করলেন।’ (মুসলিম)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়াতে জীবিত থাকা অবস্থায় পরকালের শাস্তি থেকে বেঁচে থাকতে সুন্নাতের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দোয়া করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরকালের আজাব থেকে বাঁচার জন্য উল্লেখিত দোয়াটি বেশি বেশি পড়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • মিতব্যয়িতা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

    মিতব্যয়িতা সম্পর্কে ইসলামের বিধান

    ইসলামিক ডেস্কঃ আল্লাহতায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন সব। অক্সিজেন, পানি, গ্যাস, নবায়নযোগ্য শক্তি, ফলমূল, ফুল-ফসল সব দিয়ে ভরে রেখেছেন আমাদের চারপাশ। এসব জীবনোপকরণ থেকে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু খাওয়া ও গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

    পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভক্ষণ ও গ্রহণে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার এবং পান কর, আর অপচয় করো না; তিনি (আল্লাহ) অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। ’ (সুরা আরাফ : ৩২)।
    শুধু খাদ্য নয়; গ্যাস, বিদ্যুৎ কোনোটিই অপচয় করার জায়েজ নেই।

    ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটেরও অন্যতম কারণ অপচয়। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ফ্যান বা লাইটের সুইচ বন্ধ করেছি কি-না তা আমরা অনেকে খেয়াল করি না। প্রয়োজন অপ্রয়োজনের বিবেচনা না করে কেবল আভিজাত্যের প্রতিযোগিতায় এসিসহ নানা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রের ব্যবহার করেন অনেকে।
    টয়লেট থেকে বের হয়ে লাইটটি বন্ধ করি না। অপ্রয়োজনেই সারারাত ঘরের লাইট জ্বালিয়ে রাখি, সামান্য কারণে আলোকসয্যা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার করে বিদ্যুৎ অপচয় করছি। বাড়ির মালিকই তো বিদ্যুৎ বিল দেন, ভাড়াটিয়া হয়ে আমি কেন কম ব্যবহার করব- এমন মানসিকতা অনেকের মাঝেই কাজ করে। ইসলামে তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রসুলুল্লাহ (সা.) অপচয়ের বিরুদ্ধে এতই কঠোর অবস্থানে ছিলেন যে, একটু পানিও অপ্রয়োজনে খরচ করতে নিষেধ করেছেন।

    একদা রসুলুল্লাহ (সা.) হজরত সা’দকে (রা.) অজুতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করতে দেখে বললেন, ‘হে সা’দ! অপচয় করছ কেন? হজরত সা’দ (রা.) বললেন, অজুতে কি অপচয় হয়? নবীজি (সা.) বললেন, হ্যাঁ। প্রবাহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো তা অপচয়’ (ইবনে মাজা)। অপচয়কারীর একটি পরিণাম হলো, দারিদ্র্য তাকে দ্রুত ধরে ফেলবে আর আল্লাহ তাকে পথ প্রদর্শন করেন না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, নিশ্চয় আল্লাহ অপচয়কারী ও মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না। (সুরা মুমিনুন : ২৮)।
    আমার উপার্জিত টাকা আমি যেভাবে ইচ্ছে খরচ করব, অপচয়-অপব্যয় করব সমস্যা কী- এমন চিন্তা অনেকে করেন। না, উপার্জন ও খরচের ক্ষেত্রেও আমরা জবাবদিহির মুখোমুখি হব। উপার্জন হালাল হলেও তা হালাল পথে খরচ হয়েছে কি-না, অপচয় অপব্যয়মুক্ত ছিল কি-না সে ব্যাপারে হাশরের ময়দানে আল্লাহতায়ালার কাছে জবাব দিতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসিত না হওয়া পর্যন্ত একজন আদম সন্তানের পা সরাতে পারবে না। যার মধ্যে রয়েছে সে সম্পদ কোত্থেকে উপার্জন করেছে। সম্পদ কোন পথে ব্যয় করেছে। অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কতটুকু আমল করেছে। ’ (তিরমিজি)। অপচয়-অপব্যয়ের কারণে আমার উপার্জিত সম্পদ যেন জাহান্নামে যাওয়ার কারণ না হয় সে ব্যাপারে অবশ্যই সতর্কতা কাম্য। অপব্যয়কারীকে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা শয়তানের ভাই হিসেবে অভিহিত করে ভর্ৎসনা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, আত্মীয়-স্বজনকে তার হক দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না। নিশ্চয় অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই আর শয়তান তো তার প্রতিপালকের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সুরা বনি ইসরাইল ২৬-২৭)।

    বিদ্যুৎ আমাদের জতীয় সম্পদ। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে সাময়িক যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলায় শুধু সরকার নয়, জনগণেরও আন্তরিক হওয়া উচিত। একজনের অপচয়ের কারণে সংকট বাড়লে অন্য মুসলমান কষ্ট পাবে। যার কারণে অন্যরা কষ্ট পায় সে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে গণ্য হবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার কষ্ট থেকে আশপাশের মানুষেরা নিরাপদ নয় সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারি, মুসলিম)। আমরা সচেতন হয়ে অপচয় বন্ধ করলে জাতীয় সম্পদ রক্ষা হবে, এ বিদ্যুতে অন্যরা প্রয়োজন পূরণ করতে পারবেন, আমি গুনাহ থেকে বাঁচব, পাশাপাশি খরচ কমিয়ে অর্থ জমিয়ে দান সদকা কিংবা ভালো কাজে খরচ করে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারব। যারা অপচয় এবং কৃপণতার পথ পরিহার করে মিতব্যয়িতার পথ অবলম্বন করবে তারা আল্লাহর কাছ থেকে পুরস্কৃত হবেন। আল্লাহ তাদের নিজের বান্দা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘(রহমানের বান্দা তো তারাই) যারা অপব্যয়ও করে না আবার কৃপণতাও করে না। তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী’ (সুরা ফুরকান : ৬৭)। দয়ালু আল্লাহতায়ালার বান্দা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনে আমাদের সব ধরনের অপচয়-অপব্যয় পরিহার করে মিতব্যয়ী হতে হবে।