টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বহিষ্কার দাবি

টাঙ্গাইল শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অবিভাবকবৃন্দ। অন্য দাবিগুলো হল শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, সহকারি শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সহকারি শিক্ষক এ্যানি সুরাইয়া, হাবিবুর রহমান, মাকসুদা রানা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদারের বদলি।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক কমান্ডার ফেরদৌস আলম রুঞ্জু বীরপ্রতীক, এডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল, হাসান রেজা অপু, খন্দকার খালেদা ফেরদৌস, সুলতানা সরোয়ার, ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা হোসাইন মিতু, তাহিয়া তাবাসছুম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকার কথা। কিন্তু সেখানে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে ছাত্রীরা। তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের সন্তানদের মানুষ করবো। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট না পড়লে তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্যেরও ভয় দেখায়। তাই বিদ্যালয়ে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, সহকারি শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন শিক্ষককের বদলি কামনা করছি।

অপর অভিভাবক হাসান রেজা অপু বলেন, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে ও ক্লাসের বাইরে অশালীন মন্তব্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন শিক্ষক সাঈদুর রহমান। শুধু ছাত্রী নয়, অভিভাবকদের নিয়েও সে অশালীন মন্তব্য করে থাকে। সুযোগ পেলেই ছাত্রীদের শরীরে হাত দিত এবং মানসিক নির্যাতন করত।

অভিভাবক সুলতানা সরোয়ার বলেন, গত রোববার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয় সাইদুর। ওই দিনই সকল ছাত্রীরা প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদার অভিযুক্ত ওই শিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কিছু ছাত্রীর স্বাক্ষর নেন। শিক্ষকরা নিরাপত্তার পরিবর্তে ছাত্রীদেয় কু-প্রস্তাব দেয়া এরকম শিক্ষকদের বদলি দাবি করছি।

৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারজানা হোসাইন মিতু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সাঈদুর রহমান অনেককে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি একাধিকবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মামুন তালুকদারকে জানানোর পরও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সাইদুর রহমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রধান শিক্ষক মামুন তালুকদারের অপসারণ দাবি করছি। টিফিনের জন্য প্রতিমাসে আমাদের নিকট থেকে টাকা নেওয়া হয়। টাকা নিয়েও আমাদের টিফিনেও অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হয়। আমরা স্বাস্থ্যকর খাবারের দাবি করছি।

অপর শিক্ষার্থী তাহিয়া তাবাসছুম বলেন, আমাদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা সেল, স্বাস্থ্যকর টিফিন, শতভাগ মহিলা শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের দাবি করছি। পাশাপাশি সহকারি শিক্ষক সাইদুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সহকারী শিক্ষক এ্যানি সুরাইয়া, হাবিবুর রহমান, মাকসুদা রানা ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদারের বদলির দাবি করছি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার ছাত্রীদের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও যৌন হয়রানির অভিযোগে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমানকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার সকালে ছাত্রী-অভিভাবকরা বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার ও শাস্তির দাবিতে তারা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করে। এসময় সাইদুর রহমান বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করলে ছাত্রীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে এনে বেদম মারপিট করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ছাত্রীদের গণধোলাইয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুর রহমানকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার রহমান এই রায় দেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *