বরিশালের উপজেলার গ্রামগুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীদের পেঁয়াজ বাণিজ্য!

রাতুল হোসেন রায়হান:

পেঁয়াজের বাড়তি দামকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরী জুড়ে চলছে অভিযান। অভিযানের ফলে পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল অবস্থায় আসছে। এ সকল অভিযানের খবর মিডিয়াসহ সর্ব মহলে প্রচারিত হলেও অন্ধকারে থেকে যাচ্ছে বরিশাল জেলার উপজেলা ও গ্রামগুলো। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের শহরের বাজারগুলোতে নজরদারি দেখা গেলেও দেখা মিলছে না বরিশাল জেলার উপজেলা ও গ্রামগুলোতে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে নিজেরা লাভবান হচ্ছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।

অবস্থা এমন যে, বাজার থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পেঁয়াজ’। সম্প্রতি ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বন্ধের বিষয় জানতে পেরে কিছু অসাধু আড়তদার-ব্যবসায়ী তড়িঘড়ি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের বাজারে আগুন লেগেছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বরিশালের পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন ভূমিকা না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বরিশালের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, আমরা টিসিবির পণ্য পাই না। সকল সুযোগ সুবিধা কেন শহরের মানুষদের দেওয়া হয়। আমরা কেন এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। সরেজমিনে গ্রামগঞ্জের বাজারগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, বর্তমানে গ্রামগঞ্জের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১শত টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া দোকানদারদের কাছে মজুদ থাকা পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে- এমনটাই জানিয়েছের ক্রেতারা। পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর ফলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষসহ ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। দাম বাড়ায় অনেক ক্রেতা আবার শুধু দর করে পেঁয়াজ না নিয়েই ঘরে ফিরছেন। কেউবা আবার প্রয়োজন তাই বেশি দামেও কম করে নিচ্ছেন।

বাকেরগঞ্জের রিকশা চালক দিলু জানান, প্রতিদিনই সংসারের বাজার সদাই করে থাকি। কিন্তু পেঁয়াজ কিনতে এসে চোখে অন্ধকার দেখছি। ফলে চাহিদার অর্ধেক পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হয়েছি।

ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি আড়তদারদের কাছ থেকে পেঁয়াজ আনতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচা সুযোগ বুঝে বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আমাদের কিছু করার নেই। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলাগুলোতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *