১০-১৫ সেকেন্ডেই ৩০০ মানুষের জমায়েত পরিণত হয় ছিন্ন-ভিন্ন দেহের স্তুপে

১০-১৫ সেকেন্ডেই ৩০০ মানুষের জমায়েত পরিণত হয় ছিন্ন-ভিন্ন দেহের স্তুপে

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরে দশেরার অনুষ্ঠানে রাবণের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া প্রত্যক্ষ করতে ৩০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। মাত্র ১০-১৫ সেকেন্ডের মাথায় উৎসবস্থল পরিণত হয় ছিন্ন-ভিন্ন দেহের স্তুপে। স্বজন-সন্তান হারানোর আহাজারিতে আশাপাশ কেঁপে উঠে। সবাই তখন হন্য হয়ে প্রিয়জনকে খুঁজছিলেন। অন্ধকারে এসেছিলেন ঘাতক ট্রেনটি, যার নিচে পড়ে কমপক্ষে ৬১ জন প্রাণ হারায়, আহত হন ৭২ জন।

অমৃতসর শহরের জোড়া ফটকের কাছে দশেরা উৎসবে রাবণের কুশপুত্তলিকা জ্বালানোর সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেললাইনের ধারে দাঁড়িয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ দশেরা উৎসব দেখছিলেন, সেই সময়ই ট্রেন সেখানে এসে পড়ে। কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর শব্দে ট্রেনের আওয়াজ কেউ শোনেনি। ট্রেনটি এসেছিল অন্ধকারে, এ জন্য কোনো অ্যালার্ম বাজানো হয়নি। আয়োজক কর্তৃপক্ষ কোনো সতর্কতা জারি করেনি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পাদাম সিং ধিংরা বলেন, সন্ধ্যা ৬টা ১৫তে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অমৃতসরের সাংসদ নভোজোত সিং সিধুর স্ত্রী আসতে দেরি করায় অনুষ্ঠানে পিছিয়ে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, অন্যসময় রাবণের কুশপুত্তলিকায় আগেই আগুন দেয়া হয়। প্রধান অতিথির দেরির জন্যই এবার দেরি হয়ে গিয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়ার সময় মাইকে ঘোষণা করা হয়, দর্শকরা যেন পেছন দিকে সরে যান। সেই কথা মতো মানুষ পেছনের একটা রেললাইনের ওপরে চলে গিয়েছিল, তখনই সেখান দিয়ে একটি দ্রুতগামী ট্রেন চলে যায়। ট্রেনের ধাক্কায় বহু মানুষ এদিক ওদিক ছিটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, বহু মানুষ রেললাইনের ওপরেই ভিড় করে দাঁড়িয়েছিল প্রতি বছরের মতোই রাবন দহন দেখতে, হঠাৎ করেই জোরে ট্রেনটা এসে লোকের ওপর দিয়ে চলে গেল। কোনো হর্ন বাজায়নি, ট্রেনের গতিও কমায়নি একটুও। এত জোরে ট্রেনটা চলে এলো, মানুষ সরে যাওয়ার সময়ই পায়নি। ট্রেনটি হর্নও দেয়নি। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

banglarmukh official

banglarmukh official

এই সাইটের লেখক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *