বরিশাল জেলা পরিষদে স্টল বরাদ্দে অনিয়ম

বরিশাল দক্ষিণ চকবাজার রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে জেলা পরিষদের নির্মাণাধীন ০২ নম্বর মার্কেটের সিড়ি পাশের রুমটি বরাদ্দে চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে- কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই শুধুমাত্র একজন আবেদনকারীকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের চেয়াম্যানের একক সিদ্ধান্তে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ দিয়েছেন এই স্টল।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করে পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম বলেন, স্টল বরাদ্দের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু কমিটির প্রধানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির প্রধান কাকে বানানো হয়েছে তা আমার মনে নেই। তিনি আরও বলেন, আসলে আমার সামনে ফাইল দেয় আমি স্বাক্ষর করি এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানিনা। তবে ঢাকা থেকে আসার পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

একটি সূত্রে জানা যায়, স্টল বরাদ্দ দিতে কোন কমিটি গঠন করা হয়নি। স্টল বরাদ্দ পেতে ওই ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ আবেদন জমা দেননি।

ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে স্টলটি বরাদ্দ দিয়েছেন। দক্ষিণ চকবাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, আবদুল রহমান দুই ভাই মিলে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে স্টলটি বরাদ্দ পেয়েছেন। এর আগে একাধিকবার ওই স্টর পাওয়া দক্ষিণ চকবাজার ব্যবসায়ী সঞ্চয় সমিতি সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান মো. আইয়ুব আলী খানসহ ১৩ জন এ ব্যাপারে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় বুধবার একটি অভিযোগও করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারীরা বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৪ বছর যাবৎ ০২ নম্বর মার্কেটের সকল স্টলের বৈদ্যুতিক মিটার, পানির মোটর, জেনারেটর ও দারোয়ানের থাকার জন্য ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু আমরা সহ সংশ্লিষ্ট কাউকে কিছু না জানিয়ে জেলা পরিষদ স্টলটি ভাড়া দিয়ে দেয়। আর স্টল বরাদ্দ পেয়েই রাতের আধারে স্টলের ভিতরের সকল মালামাল নষ্ট করে স্টলটি দখল করেছে বরাদ্দ পাওয়া দুই ভাই।

অভিযোগের ব্যপারে জানতে চাইলে স্টল বরাদ্দে গঠিত কমিটির সভাপতি জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকতা মানিকহার রহমান বলেন, স্টল পূর্বে কারো নামে দেয়া থাকলে সেটা নতুন করে দেওয়া যায় না। যদি এমন কিছু হয় তাহা হলে বরাদ্দ বাতিল কর হবে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী দের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করা হবে তাতে জটিলতার কিছু নাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, “স্টল বরাদ্ধের ব্যাপারে চেয়ারম্যান কারও মতামত গ্রহণ করেনি। আমরা প্রকৃত ব্যবসায়ীদরে স্টল বরাদ্ধ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেও তার এক ঘেয়ামির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *