Day: September 2, 2019

  • মিন্নির মুক্তিতে বাধা নেই

    মিন্নির মুক্তিতে বাধা নেই

    আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া স্থায়ী জামিনের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন শুনানিতে নো অর্ডার দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে হাইকোর্টের দেয়া মিন্নির স্থায়ী জামিন বহাল রয়েছে জানিয়ে তার আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, এতে মিন্নির মুক্তিতে আর বাধা রইল না।

    রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি নিয়ে সোমবার আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর চেম্বারজজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে আজ মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দীন। তাদের সঙ্গে ছিলেন জামিউল হক ফয়সাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোওয়ার কাজল ও মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

    রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়

    গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না- মর্মে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শর্ত দিয়ে মিন্নির অন্তর্বর্তী স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করে রায় ঘোষণা করেন

    রায়ে আদালত বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া যেহেতু শেষের দিকে এবং এ অবস্থায় তদন্ত প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা জামিন মঞ্জুর করলাম।

    মিন্নির জামিনে আদালতের দেয়া উল্লেখযোগ্য শর্ত হলো- এক. মিন্নি কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, দুই. তাকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে। শর্ত দিয়ে স্থায়ী জামিন দেয়ার সময় হাইকোর্ট বলেছেন, শর্ত ভঙ্গ করলে তার জামিন বাতিল হবে।

    জামিন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী বলেছিলেন, আমরা মর্মাহত। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    গত (২৮ আগস্ট) তার জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি শেষে পরের দিন (২৯ আগস্ট) বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। এর আগে ২০ আগস্ট এক সপ্তাহের রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

    একইসঙ্গে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সিডি (কেস ডকেট) নিয়ে (২৮ আগস্ট) হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। এ ছাড়া মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পুলিশ সুপারকে (এসপি) লিখিত ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়। সে অনুসারে তদন্ত কর্মকর্তা কেস ডকেট নিয়ে হাজির হন। তার পরে শুনানি নিয়ে আদালত রায় দেন।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে প্রাথমিকভাবে রিফাতের স্ত্রী মিন্নির সাহসী ভূমিকা দৃশ্যমান হলেও পরবর্তীতে নানা নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডে আসামি হয়ে কারাগারে যেতে হয় মিন্নিকে। তবে মিন্নির বাবা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার মেয়েকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

  • মুহররমকে যে কারণে আল্লাহর মাস বলা হয়

    মুহররমকে যে কারণে আল্লাহর মাস বলা হয়

    হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। কুরআনে সম্মানিত ৪ মাসের একটি। হাদিসে এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। মুহররম মাসব্যাপী নফল রোজা ও তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করার জোর উপদেশ দেয়া হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ।’ (মুসলিম)

    প্রতিটি দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর সবই মহান আল্লাহর। কিন্তু এ হাদিসে মুহররমকে আল্লাহ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণই বা কী?

    উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
    দুনিয়ার সব মসজিদই ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। আবার কাবা শরিফও ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। কিন্তু কাবা শরিফের মর্যাদার তুলনায় দুনিয়ার সব মসজিদের মর্যাদা সমান নয়।

    ঠিক এভাবেই সব মাস আল্লাহর হলেও মুহররম মাসের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই এ মাসকে আল্লাহর মাস হিসেবে ঘোষণা করে আলাদা মর্যাদা ও গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এ মাসের বিশেষ ফজিলতের সঙ্গে তাওবা বা ক্ষমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস বর্ণিত রয়েছে। আর তাহলো-

    এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের পর আপনি আমাকে কোন মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেন? উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
    ‘তুমি যদি রমজানের পর আরও কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও তবে মুহাররমে রোজা রাখ। কেননা সেটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন। এদিনটিতে ভবিষ্যতেও আরও অনেক মানুষের তাওবা কবুল করবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

    ইসলামি স্কলারদের মতে, হাদিসে নির্দেশিত মুহররমের এ দিনটি হলো ১০ মুহররম বা আশুরার দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা অনেকের তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেকে তাওবা কবুল করবেন।

    তবে শুধু মুহররমের দিনই তাওবা করতে হবে এমন নয়, বরং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম আমল হলো- প্রতিদিন একশত বার তাওবা করার আমল। তাই বছর মাস সপ্তাহের বিশেষ দিন বিবেচনা না করে মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিনই আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইসতেগফার করে থাকে।

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, মহররমের নফল রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা। কুরআন-সুন্নায় এসেছে, এমন কিছু তাওবা-ইসতেগফার তুলে ধরা হলো, যেগুলোর অর্থ ও ভাব বুঝে মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে মুমিন। আর তাহলো-

    رَبَّنَا ظَلَمْنَاۤ اَنْفُسَنَا، وَ اِنْ لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَ تَرْحَمْنَا لَنَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
    উচ্চারণ : রাব্বানা জ্বালামনা আংফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফিরলানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২৩)
    অর্থ : ‘হে আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।’

    > সব সময় ইসতেগফার পড়া-
    أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لاَ إلَهَ إلاَّ هُوَ الحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إلَيْهِ ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ
    উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি; রাব্বিগফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা, ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

    আর সকালে এবং সন্ধ্যায় সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়া-
    أَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ
    উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিং শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বি-নিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউ বিজান্মি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

    মুসলিম উম্মাহর উচিত মুহররমমাস জুড়ে আল্লাহ ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজসহ তাওবা-ইসতেগফারে অতিবাহিত করা। আশা করা যায়, আল্লাহর মাসের ইবাদত ও তাওবা-ইসতেগফার ধন্য হবে মুমিনের জীবন।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মুহররম মাসের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। তাওবা-ইসতেগফার, রোজা ও বেশি বেশি নফল নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • ‘পেলাম না স্ত্রীর মর্যাদা, রাখতে পারছি না ছেলের নামও’

    ‘পেলাম না স্ত্রীর মর্যাদা, রাখতে পারছি না ছেলের নামও’

    জন্ম নেওয়ার চারদিন পার হয়ে গেলেও এখনো নাম রাখা হয়নি নবজাতকটির। এদিকে ওই নবজাতকের বাবা কে তা নিয়ে এলাকায় চলছে ‘টানাহেঁচড়া’।

    জানা যায়, বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন একই গ্রামের কালাম বেপারীর ছোট ছেলে আক্কাস বেপারী। ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এরপর চিকিৎসকেরা জানায় ওই কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

    ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আক্কাসের পরিবারে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য চাপ আসে। সমাজের প্রভাবশালী মহল থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নির্যাতিত ওই কিশোরীর পরিবারেও প্রস্তাব আসে।

    ওই কিশোরীরর পরিবার এতে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। মামলার খবর পেয়ে আক্কাস ওই কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে নির্যাতিত ওই কিশোরী একটি ছেলে সন্তানের মা হয়।

    এ বিষয়ে নির্যাতিত ওই কিশোরী জানায়, ‘আমি যে আমার পোলার একটা নাম রাখবো সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। যেদিন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করেছিলাম সেদিনও আমাকে মারার জন্য আমার ঘরের দরজা কুপিয়ে গেছে আক্কাসের বাবা কালাম বেপারী। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে।’

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই কিশোরী আরও জানায়, ‘স্ত্রীর মর্যাদা না পেয়েও সন্তানের মা হয়েছি। আমার সন্তানের পরিচয়
    চাই।’

    এলাকাবাসী জানায়, যে বয়সে টিফিনের বক্স হাতে নিয়ে দৌড়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই একটি ছেলে সন্তানের মা হলো মেয়েটি। এক কথায় বলা যেতে পারে শিশুর কোলে শিশুর জন্ম। তবে নিষ্পাপ শিশুটি যেন তার বাবার পরিচয় পায়।

    এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আক্কাসের বাবা কালাম বলেন, ‘আমার সম্মানহানি করার জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল এসব কথা রটিয়েছে। তাদের মিথ্যা মামলার কারণে আমার ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’

    নবজাতকটির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ওই নবজাতকের বাবা আমার ছেলে না। বেশ কিছুদিন ওই মেয়ে তার বোনের বাড়িতে ছিলো এবং তার বোন জামাইর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো তার। হতে পারে সন্তানটি তার বোন জামাইয়ের।’

    হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান খান বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই আক্কাস বেপারীকে ওই মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য বলেছি। কিন্তু মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকার কারণে কোনো ধরনের মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি।

  • রিফাত হত্যা : বহু নাটকীয়তার পর ৭ নম্বর আসামি মিন্নি

    রিফাত হত্যা : বহু নাটকীয়তার পর ৭ নম্বর আসামি মিন্নি

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ।

    রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। দুই ভাগে বিভক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন ১০ জন আর অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে ১৪ জন।

    ৬১৪ পৃষ্ঠার এ চার্জশিটে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে সাত নম্বর আসামি করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনকে নিয়ে গঠন করা চার্জশিটে মিন্নির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে মিন্নির বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ আনা হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    এ মামলার ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে রিফাত ফরাজীকে, যিনি বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির রোববার বরগুনা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

    পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মামলার এজাহারের ১ নম্বর আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তার নাম অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় রাখা হয়নি। অভিযোগপত্রের ২৪ আসামির মধ্যে নয়জন পলাতক, বাকি ১৫ জন কারাগারে।

    বরগুনা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) এম এ হান্নান বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টায় পুলিশের ওই প্রতিবেদন হাতে পাই। ততক্ষণে এজলাস থেকে বিচারক নেমে যাওয়ায় প্রতিবেদনটি দাখিল করা যায়নি। সোমবার সকালে আদালত বসলে প্রতিবেদনটি বিচারকের কাছে দাখিল করা হবে।

    মিন্নির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। সময় স্বল্পতার কারণে আজ আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারেননি জিআরও।

    বরগুনা জেলা পুলিশ থেকে পাঠানো প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, চার্জশিটে রিফাত হত্যা মামলায় ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটে পেনালকোড ৩০২, ৩৪, ২১২, ১০৯, ১১৪, ১২০ বি (১) এই ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অভিযোগপত্রের নম্বর ২৮০ ও ২৮০(১)।

    রিফাত হত্যা মামলায় গত ২২ আগস্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেয়ার দিন ছিল। সেদিন মামলার প্রতিবেদন তৈরি করতে না পারায় আদালতে চার্জশিট জমা দেয়া হয়নি। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার চার্জশিট দাখিলের দিন ধার্য করেন আদালত। কিন্তু এরই মধ্যে তড়িঘড়ি করে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। বহু নাটকীয়তার পর মিন্নিকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়।

    এর আগে গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই শর্তে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। এরই মধ্যে রোববার হাইকোর্টে জামিন পাওয়া রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

    রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হৃদয়, সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবণ, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

    তবে মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মুসা বন্ড, ৭ নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামি রায়হান ও ১০ নম্বর আসামি রিফাত হাওলাদারকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

    গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর মারা যান রিফাত। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

    ২৬ জুন স্ত্রী মিন্নির সামনে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল।

    ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    পরদিন মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আদালত মিন্নির পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী।

    এর পরদিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ হত্যার পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

    এর পরদিন বিকেলে মিন্নি একই আদালতে তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

  • ওসমানীকে কেউ মনে রাখেনি

    ওসমানীকে কেউ মনে রাখেনি

    কেউ তাকে মনে রাখেনি! নীরবে চলে গেল মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর জন্মবার্ষিকী। গতকাল ছিল তার ১০১তম জন্মবার্ষিকী। কিন্তু কেউ তাকে স্মরণ করেনি। ১৯১৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এমএজি ওসমানী। তার বাবার নাম খান বাহাদুর মফিজুর রহমান, মাতা জোবেদা খাতুন। তার পিতৃপুরুষের বাড়ি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ তথা বর্তমানে ওসমানীনগর থানা দয়ামীরে। তিনি ১৯৮৪ সালে ৬৬ বছর বয়সে লন্ডনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

    এমএজি ওসমানী ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ব্রিটিশ ভারতের সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর তিনি ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি দেরাদুন থেকে সামরিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে অংশ নেয়া ওসমানী কর্মময় জীবনে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি অবসর গ্রহণ করে ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ থানার সমন্বয়ে গঠিত আসন থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে পাকিস্তানের গণপরিষদে জয়লাভ করেন।
    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জাতির সঙ্কটময় মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক নিযুক্ত হন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে মোকাবেলা করার স্বার্থে একটি সেনাবাহিনী, একটি গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন। চরম বিপর্যয়ের মোকাবেলায় অসম ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের সুশিক্ষিত ও সুসজ্জিত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ বিজয় অর্জন করেন।

    জাতির প্রতি তার চরম ত্যাগ ও মহান সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্নেল ওসমানীকে জেনারেল পদে সম্মানিরত করেন। ১৯৭২ সালের ৭ এপ্রিল হতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় তিনি সামরিক বাহিনী থেকে ছুটি নেন এবং বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে পরিষদের আসন গ্রহণ করেন।
    ওসমানী ১৯৭২ বঙ্গবন্ধুর সরকারের জাহাজ চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ ও বিমান চলাচল মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠন প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে ১৯৭৪ সালের ১ মে তিনি মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ২৯ আগস্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদের অনুরোধে প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ৩ নভেম্বর পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় জনতা পার্টি’ গঠন করেন। তিনি ১৯৭৮ এবং ১৯৮১ সালে দু’বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন।

    মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া জাতির এই কৃতি সন্তানের কথা কেউ মনে রাখেনি। গতকাল ১০১তম জন্মদিনে একটি প্যাড সর্বস্ব দল তাকে স্মরণ করেছে। বলা যায় নীরবে চলে গেছে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের জন্মবার্ষিকী।

  • শুকতারা খেলাঘর আসরের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত

    শুকতারা খেলাঘর আসরের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত

    আজ শুকতারা খেলাঘর আসরের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন জাকির হোসেন মিলন। আগামী ৭/৯/১৯ রোজ শনিবার বিকাল ৫ টায় শুকতারা খেলাঘর আসরের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে।শুকতারা খেলাঘর আসরের প্রতিষ্ঠা থেকে আজ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ের পথ চলায় যারা ছিলেন তাদের কে উক্ত সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করা হল। এই বার্তটি যে যার জায়গা থেকে সবার কাছে পৌছানো জন্য অনুরোধ করেছে তৌছিক আহমেদ রাহাত, সাধারন সম্পাদক, খেলাঘর বরিশাল জেলা।এই অনুষ্ঠানটি আপনাদের সকলকে নিয়ে স্মরনকালের সেরা অনুষ্ঠিত করতে চায় তৌছিক আহমেদ রাহাত, সাধারন সম্পাদক, খেলাঘর বরিশাল জেলা।

  • গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় ববির ২ শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে!

    গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ায় ববির ২ শিক্ষার্থী পুলিশ হেফাজতে!

    ব্যক্তিগত গোপনীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

    রবিবার বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাদের তুলে নিয়ে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। তারা উভয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

    ববি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সবুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এক মেয়ের ব্যক্তিগত গোপনীয় ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ২ জন শিক্ষার্থীকে বেশ কয়েকজন মিলে মারধর করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তার জন্য আমরা তাদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। তবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।

    তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে ঘটনাটি জানিয়েছি। তারা ভিকটিম ও পুলিশি হেফাজতে থাকা ২ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনায় বসবেন। ভিকটিম যদি অভিযোগ করে মামলা দায়ের করেন তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

    সন্ধ্যায় ভিকটিম সহ অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন‍্য বন্দর থানায় নেওয়া হয়। সেখানে ভিকটিম শিক্ষার্থী গোপন ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীকে বন্দর থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে বন্দর থানা সূত্রে জানা যায়।

  • পুলিশের এ কেমন ওয়েবসাইট!

    পুলিশের এ কেমন ওয়েবসাইট!

    দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ওয়েবসাইট রয়েছে। এর মধ্যে কোনও কোনও মন্ত্রণালয়, দফতর বা অধিদফতরের ওয়েবসাইট খুবই সমৃদ্ধ। এগুলো নিয়মিত হালনাগাদ (আপডেট) করা হয়। তবে কিছু কিছু ওয়েবসাইটে নিয়োগ-বদলি ছাড়া অন্য কোনও তথ্য হালনাগাদ করা হয় না। এর মধ্যে পুলিশ সদর দফতরসহ তাদের বিভিন্ন ইউনিট ও ব্যাটালিয়নের ওয়েবসাইটগুলোর অবস্থা আরও বেহাল। অপরাধ বিষয়ক পরিসংখ্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যই সেখানে পাওয়া যায় না। অথচ কয়েক বছর আগেও নিয়মিতভাবে এসব তথ্য হালনাগাদ করা হতো।
    অবশ্য পুলিশ সদর দফতরের আইসিটি শাখার দাবি, নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। তবে কখনও কখনও কাজের চাপে তথ্য আপলোডে সময় লেগে যায়।
    পুলিশ সদর দফতর: ওয়েবসাইটে ‘ক্রাইম স্ট্যাটিসটিক’ নামে একটি ক্যাটাগরি ছিল। তবে সেটি পাওয়া যায় না। ফলে অপরাধ বিষয়ক তথ্যও পুলিশ সদর দফতরের ওয়েবসাইটে নেই। তবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দেখা যায় সেখানে। পুলিশের হাউজিং নিয়েও ২৯ আগস্ট (২০১৯) পর্যন্ত কিছু বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে। আছে টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্যও। ‘রিস্টেন্ট অ্যাকটিভিটিজ’ ক্যাটাগরিতে আইজিপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কিছু প্রেসরিলিজ রয়েছে। তবে অনলাইন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাসংক্রান্ত কোনও ক্যাটাগরিতে হালনাগাদ কোনও তথ্য নেই। কোনও কোনওটি খোলেই না।
    পুলিশের দুটি ব্যাটালিয়নসহ কয়েকটি ইউনিট রয়েছে। ব্যাটালিয়ন দুটি হলো র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এর মধ্যে র‌্যাবের আলাদা একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। মূল ব্যাটালিয়ন এপিবিএন-এর আলাদা কোনও ওয়েবসাইট না থাকলেও তাদের একটি ইউনিট এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের আলাদা ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে ওই টিমের কাজ ও কর্মকর্তাদের বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া আছে।
     র‌্যাব: পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের চেয়ে কিছুটা হালনাগাদ থাকে। ওয়েবসাইটে তাদের ১৫টি ইউনিটের তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
    পিবিআই: বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মামলার তদন্তের কারণে পুলিশের বিশেষ তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত। ইউনিটটির আলাদা ওয়েবসাইট রয়েছে। পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের চেয়ে তাদের ওয়েবসাইটে সংস্থাটির বিষয়ে তথ্য দেওয়াসহ কিছু নতুনত্ব আনার চেষ্টা চোখে পড়ে। তবে সেখানেও প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যায় না।
    এসবি: স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) নিজস্ব কোনও ওয়েবসাইট নেই। তবে পুলিশ সদর দফতরের ওয়েবসাইটের ‘এসবি ক্যাটাগরি’তে ক্লিক করলে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওয়েবসাইট খোলে। সেখানে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেওয়া আছে।
    ডিএমপি: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির অপরাধসংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। তবে দুটি মাসেই ক্লিক করলে কেবল ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন দেখা যায়। সেখানেও কেবল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক, চোরাইগাড়ি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য দেখা যায়। ২০১৮ সালের সব মাসেরও ডেটাতেও কেবল এসব বিষয়ের তথ্য রয়েছে। ২০১৭ সালের তথ্য রয়েছে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। তবে ২০১৫ সালের তথ্য মোটামুটি বিস্তারিতভাবে আছে। ২০১১ সালের ফাইলগুলো খোলে না।
    তবে ‘ডিএমপি নিউজ’ নামে তাদের একটি আলাদা নিউজ পোর্টাল রয়েছে। এতে ডিএমপি কমিশনারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও ছবি ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন উদ্ধার অভিযান, গ্রেফতার, ট্রাফিক পুলিশের মামলাসংক্রান্ত হালনাগাদ কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
     ওয়েবসাইট নিয়মিত কেন আপডেট করা হয় না জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (সদর দফতর ও প্রশাসন) মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু বিষয় আছে, যেমন প্রতিমাসেই আমাদের ক্রাইম কনফারেন্স হচ্ছে। যেখানে যেভাবে আপডেট করা দরকার আমরা সেভাবে করে রাখি।’ ক্রাইমের পরিসংখ্যানের বিষয়টিও কীভাবে নতুন করে আপডেট করা যায় সেটা তারা দেখবেন বলে জানান তিনি।
    সিএমপি: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ওয়েবসাইটেরও একই অবস্থা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর আর কোনও অপরাধ বিষয়ক তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। তবে যে পর্যন্ত তথ্য দেওয়া আছে সেগুলো পুলিশের পুরানো নিয়মে থানা ও অপরাধের ক্যাটাগরি অনুযায়ী মোটামুটি বিস্তারিতভাবে আছে।
    আরএমপি: রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ওয়েবসাইটে ‘আওয়ার সার্ভিস’ কলামে ১০টি ক্যাটাগরি রয়েছে। এর মধ্যে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের দুটো পাতা খোলে। এ দুটি পাতায় দুটি বিভাগ সম্পর্কে কিছু কথা লেখা রয়েছে। বাকি ৮টি ক্যাটাগরিতে ক্লিক করলে দেখা যায় ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’।
    তবে ‘আরএমপি নিউজ’ নামে একটি ক্যাটাগরি আছে। যেখানে বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য রয়েছে। সেটি গত ২৯ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ।
    খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি), বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি), সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি), গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও রংপুর মহানগর পুলিশ এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রেলওয়ে রেঞ্জের কোনও ওয়েবসাইট পাওয়া যায়নি।
    পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের আইসিটি শাখার প্রধান অ্যাডিশনাল ডিআইজি মনিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা নিয়মিতই ওয়েবসাইট আপডেট করে থাকেন। তবে কখনও কখনও কাজের চাপের কারণে তথ্য আপলোড করতে সময় লাগে বলে জানান তিনি।