আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না : প্রধানমন্ত্রী

আমি কিন্তু খেলা দেখেছি। অনেক রাত পর্যন্ত। অফিশিয়াল কাজ যেমন করেছি, খেলাও দেখেছি। হয়তো একবার দেখতে পেরেছি, একবার পারিনি। যতটুকু সময় পেয়েছি, খেলা দেখেছি। আমি তো আমাদের ছেলেদের ধন্যবাদ জানাব, তারা যথেষ্ট সাহসের পরিচয় দিয়েছে। তাদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস কিন্তু এসেছে। ধীরে ধীরে আরও উন্নতি হবে।’ এভাবেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পারফর্মেন্স নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ সোমবার চীন সফর নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ক্রিকেট প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ৩ ম্যাচ জিতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ড, ভারত এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে টাইগারদের পারফর্মেন্স নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে।

কিন্তু ‘ক্রিকেটপ্রেমী’ হিসেবে খ্যাত শেখ হাসিনা এসব উড়িয়ে দেন, ‘আমরা যে এত দূর যেতে পেরেছি, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আমাদের কিছু খেলোয়াড়, সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান এরা বিশ্বে একটা স্থান করে নিয়েছে। আমি দোষ দেব না।

খেলা এমন একটা জিনিস, অনেক সময় কিন্তু ভাগ্যও লাগে। সব সময় যে সবকিছু ঠিকমতো হবে, একই রকম হবে, সেটা নয়। ক্রিকেটাররা সাহসী মনোভাব নিয়ে মোকাবিলা করতে পেরেছে, আমি এটার প্রশংসা করি।

১০ দলর মাঝে মাত্র ৪ দল সেমিফাইনাল খেলছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো দেশ খেলেছে। এর মধ্যে চারটা দেশ মাত্র সেমিফাইনালে উঠেছে। তাহলে কি আপনারা বলবেন বাকিরা সবাই খুব খারাপ খেলেছে? আমরা নিজেরাই নিজেদের ছোট করেন কেন? নিজেদের এত খারাপ বলি কেন? বরং আপনারা এটা বলেন, যে একেকজন জাঁদরেল জাঁদরেল খেলোয়াড়, দীর্ঘদিন যারা খেলে খেলে অভ্যস্ত, তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করে আমাদের ছেলেরা খেলতে পেরেছে। তাদের খেলায় আত্মবিশ্বাসের কোনো অভাব তো আমি দেখি না।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে ক্রিকেটপ্রেমী তা সারাবিশ্বই জানে। সবসময় তিনি ক্রিকেটের খবর রাখেন। ক্রিকেটাররা তার সন্তানের মতো। ক্রিকেটের প্রতি সেই আবেগ থেকেই তিনি বলেন, ‘এখানে দোষ দেওয়ার কিছু নাই। দোষ যদি দিতেই হয়, ওই চারটি দল বাদ দিয়ে বাকি সব দলকেই দোষ দেন। খালি বাংলাদেশকে দোষ দেবেন না। আমি আমার ছেলেদের কখনো নিরুৎসাহিত করি না। আমি বরং ফোন করে ওদের বলি, খেলো তোমরা, তোমরা ভালো খেলেছ। ৩৮১ রান তাড়া করে (অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ) বাংলাদেশ ৩৩৩ রান করল। আপনারা চিন্তা করে দেখেন। তাহলে আপনারা খারাপ বলবেন কীভাবে? আমার ছেলেদের কেউ খারাপ বলতে পারবেন না।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম সরকারের সময় থেকেই যে দেশের ক্রিকেটের উত্থান হচ্ছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা জিনিস খেয়াল করেন; আসলে খেলোয়াড় হিসেবে আসছে কারা, আপনি খেলোয়াড় পাচ্ছেন কোত্থেকে, কত জন পাচ্ছেন। প্রথম যখন সরকারে ছিলাম, আমাদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আমাদের মনোযোগ ছিল, আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যেন বিভিন্ন খেলাধুলায় মনোযোগী হয়। সেই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। ছোট থেকে অভ্যস্ত করে করে, অনুশীলন করে করে, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগানো হয়েছে। তাদের তৈরি করা হয়েছে। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ কিন্তু ভালো করছে। এগিয়ে যাচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *