বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন, বারান্দায় শিশুদের পাঠদান

বরিশাল নগরের রুপাতলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের কারণে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বর্তমানে যে শিক্ষার্থীরা রয়েছে, তাদেরও বিদ্যালয়ের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় নয়তো বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের বারান্দায় বসে পাঠগ্রহণ করতে হয়।

এ চিত্র বরিশাল নগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪৪ নম্বর পশ্চিম রুপাতলী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মাত্র পাঁচজন শিক্ষক নিয়েই চলছে এ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগ সময়ই কাটাতে হচ্ছে ভবন ধসের ঝুঁকি নিয়ে আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছোটাছুটি করে।

বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আ. রব হাওলাদার জানান, বিগত ১০ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনের স্থলে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পেতে লেখালেখি আর ছোটাছুটি করে যাচ্ছেন তিনিসহ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা। কিন্তু এখনও নতুন ভবন তৈরির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ কয়েক বছর আগে পাওয়া এককালীন সরকারি বরাদ্দের টাকা দিয়ে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হলেও দুই সপ্তাহ আগে ঝড়ের সময় গাছ পড়ে সেটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫৪। তাদের জন্য তাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাত্র দুইটি শ্রেণিকক্ষের। আর বাকি দু’টির মধ্যে একটিতে শিক্ষকরা, অন্যটিতে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল রাখা হয়।

অন্যদিকে এই বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষক সংকট। বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক। এছাড়া গত মাসে এ বিদ্যালয়ের জন্য সরকার থেকে একটি মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর পাওয়া গেলেও, এটি ব্যবহারের জন্য কোনো শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। ফলে অকেজোই পড়ে রয়েছে এটি।

এছাড়া বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো নির্ধারিত শিক্ষক কিংবা শ্রেণিকক্ষ। কোনোমতে বিদ্যালয়ের পাশে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চালানো হচ্ছে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহামুদা বেগম বলেন, ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩২৮। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৫৪। ভবন সংকটের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। যা বিদ্যালয়ের জন্য হুমকিস্বরূপ।

প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের ভবন সংকটের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া অনতিবিলম্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটও দূর করা প্রয়োজন।

‘তাই এই বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া হোক- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমন দাবিই জানাই।’

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *