দালালদের দেখানো ‘সোনার হরিণ’ থেকে সতর্ক থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক ::

বিদেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নানা ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও মানুষ অসচেতনার কারণে দালালের খপ্পরে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (২৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা জিনিস দেখি, কিছু কিছু দালাল শ্রেণির লোক থাকে, যারা গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে মানুষকে বড় বড় স্বপ্ন দেখায়। সোনার হরিণের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাইরে (বিদেশ) পাঠায়। তারা শুধু বাইরেই পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরপর কে কোথায় গেছে, সেই খবর কেউ জানে না।

তিনি বলেন, মানুষ জমিজমা বিক্রি করে, সবকিছু বন্ধক রেখে দালালকে টাকা দিয়ে বাইরে যায়। কিন্তু যাওয়ার পর সেখানে তাদের কোনো খবর থাকে না। অনেক সময় তাদের কোনো কাজের ঠিকানাও থাকে না। তখন আবার তাদের আত্মীয়-স্বজনকে চাপ দেয় এবং তাদের কাছ থেকে আবারও টাকা নেয়। এ ধরনের অনিয়ম সারা বাংলাদেশে আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে অনেক চেষ্টা করছি জনগণকে বোঝাতে। আবার অনেক দেশে আমাদের মেয়েরা যায়। কিন্তু তারা কোন ধরনের কাজ করতে পারবে -সেসব তথ্য নেয়া হয় না। কী ধরনের কাজ করতে পারবে বা করবে -এর জন্য ট্রেনিংও দেয়া হয় না। ফলে যে নারীরা যাচ্ছে তারা কোনো কাজ করতে পারে না এবং সেখানে অত্যাচারেরও শিকার হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো বন্ধ করতে আমরা ইতোমধ্যে তাদের স্মার্টকার্ড করে দেয়া, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কে কোথায় কাজ নিয়ে যাচ্ছে সেগুলোর খবর রাখার কাজ করছি। সারা বাংলাদেশে ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি। এসব সেন্টারের মাধ্যমে তাদের রেজিস্ট্রেশন করা, এ রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাদেরকে পাঠানো, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।

তিনি বলেন, এসব সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই দালালের খপ্পরে পড়ে। যার ফলে বাইরে গিয়ে তারা বিপদে পড়ে যায়। মানুষ যাতে ধোঁকাবাজিতে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে কোথাও কেউ যেন অকালে হারিয়ে না যায়। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা, তাদের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদেরই।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু কিছু দালাল শ্রেণির লোক সোনার হরিণের স্বপ্ন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে মানুষকে দেশের বাইরে পাঠায়। মানুষ যাতে ওদের মুখরোচক কথার ধোঁকাবাজিতে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। এভাবে কোথায়ও গিয়ে কেউ যেন অকালে হারিয়ে না যায়।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের দেশের মানুষ যখন বিদেশে যায়, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার কাজ করে আসছি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে মানুষ বিদেশ যেতে পারে। আর তারা কোথায় কী কাজ করতে যাচ্ছেন তার একটা খবর নেয়া, যেন সঠিক কাজটা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যেখানে যে কাজে যাবে সেভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, সে দেশের আইন-কানুন সম্পর্কে জানানো, এসব বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *