যুগ পাল্টেছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয় : মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার//রেজুয়ানুর রহমান সফেন:

বরিশাল সিটি করেপোরেশেনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, যুগ পাল্টেছে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে, তাদের আমাদেরই একজন ভাবতে হবে। এখন থেকে বরিশাল নগরে বাড়িসহ যে কোন স্থাপনা করতে গেলে তা যেন প্রতিবন্ধীরা ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

বুধবার (০২ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গনে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতার বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, লঞ্চে যাতে হুইলচেয়ার নিয়ে প্রতিবন্ধীরা উঠতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এমনকি বাসে ও লঞ্চে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট সিটের ব্যবস্থা, হাসপাতালে বিশেষ সেবা নিশ্চিত করা হবে। আর যাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছে, তারা সিটি কর হ্রাসের আওতায় থাকবে। পাশাপাশি এই শহরে যাদের বাড়িতে ছাদ বাগান থাকবে তাদের ২% হারে সিটি কর মওকুফ করা হবে। প্রয়োজনে ছাদ বাগান করতে সহায়তা করা হবে।

মেয়র আরো বলেন, সিনিয়র সিটিজেন ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নগর ভবনে যে স্পেশাল ডেক্স খোলা হয়েছে, সেখানে মন্তব্য বই রয়েছে। যেখানে সেবা বঞ্চিত হলে কিংবা কোন অভিযোগ থাকলে লিখতে পারবেন। আর আশা করি সে বিষয়টি দ্রুততার সহিত সমাধান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোটা দেশে বিশেষ করে দক্ষিনাঞ্চলে যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন এবং যে গতিতে এ অঞ্চলের উন্নয়ন হচ্ছে তাতে বরিশাল হবে উন্নত ও ব্যস্ততম একটি শহর।

তিনি বলেন, বিগত দিনে বরিশালে যেভাবে জুয়া-হাউজি চলতো তা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ধরনের কাজে যারাই লিপ্ত হবেন সে যেই দলের লোকই হোক না কেন কোন প্রশ্রয় দেয়া হবে না। ভালো সকল কাজের সাথে আমি আছি।

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, রফিকুল ইসলাম খোকন, জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক আল মামুন তালুকদার প্রমুখ।

উল্লেখ্য বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ১ হাজার ৪১৩ জন প্রতিবন্ধি ভাতাভোগী রয়েছেন। আজ তাদের মধ্য থেকে ২৭৬ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের মাঝে ভাতার বই বিতরণ করা হয়। যেখানে প্রতিমাসে ৭ শত টাকা হারে জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত ২৩ লাখ ১৮ হাজার টাকার ভাত প্রদান করা হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *