২৬ নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে কবির-লিনা দম্পতি

আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচন। দিনটি যত এগিয়ে আসছে জমে উঠছে প্রচার-প্রচারণা।

ভোটের মাঠে মেয়র-কাউন্সিলর মিলিয়ে ১৬৮ জন প্রার্থী; সবাই ব্যস্ত ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নিজের জন্য ভোট চাইতে। নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও নাজনীন আক্তার (লিনা কবির) দম্পতিও ভোট চাইছেন। তবে, একে অপরের জন্য নয়, শুধু নিজেদের জন্য।

এ নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসনে লড়বেন এ দম্পতি। হুমায়ুন কবির সাবেক ৬ নম্বর জাগুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার (লিনা) একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। হুমায়ুন এ ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ানোয় লিনা সংরক্ষিত-৯ (২৪-২৬) নম্বরে ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত-৯ আসনের বর্তমান নারী কাউন্সিলর সেলিনা বেগম। এবারও তিনি সেখানে প্রার্থিতা করছেন।

লোকমুখ থেকে জানা গেছে, সাধারণ থেকে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী এলাকা বড় হওয়ায় হুমায়ুনের চেয়ে বহুগুণ বেশি কষ্ট করছেন লিনা। তাই তাকে নিয়ে জনমনে আলোচনা বেশি। কিন্তু তারা এও বলছেন, যিনি ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়ন করতে পারবেন; বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন- তাকেই তারা ভোট দেবেন; বিজয়ী করবেন।

নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার কালাম মিয়া বলেন, শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর গত ১০ বছরে বর্ধিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত আমাদের এ ওয়ার্ডে হাতে গোনা দুয়েকটি সড়ক সংস্কার ছাড়া কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। আমারা এখনও বাঁশের সাঁকোই বাদ দিতে পারলাম না, হঠাৎ করে কেউ এখানে এসে সিটি এলাকা নাও বলতে পারে। সুতরাং ভোট দিতে চাই চিন্তা-ভাবনা করে।

নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর বিএনপির দলীয় প্রার্থী প্রয়াত আহসান হাবিব কামাল এবং তার পরে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র হলেও এ অঞ্চলে কার্যকর উন্নয়ন হয়নি।

আমি মানুষের পাশে নিজের সামর্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী থেকেছি। করোনাকালসহ যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে ছিলাম এবং আছি। গত দুই আমলে বরিশাল নগরে কি হয়েছে তা সাধারণ মানুষও জানে। আর তারাই তো আমাকে ভালোবাসে চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলরও বানিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি মানুষ আমাকে ভোট দেবে।

তিনি বলেন, নারীর স্বাধীনতা রয়েছে। আমি আমার মতো করে সাধারণ আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি আর আমার স্ত্রী লিনা তার ইচ্ছায় সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

যে আসনটি নগরের ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে। আর ওই এলাকা জুড়েই সাবেক জাগুয়া ইউনিয়ন ছিল, তাই ২৪-২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষও আমাদের চেনেন। আমরা দুজন প্রার্থী হওয়ার পেছনে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি ছিল। আমরা মানুষের সেবা করতে চাই।

এদিকে সাধারণ মানুষের আগ্রহে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুনের স্ত্রী লিনা কবির। তিনি বলেন, মানুষ না চাইলে আমি প্রার্থী হতাম না।

আর এখন প্রার্থী হয়ে মানুষের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। আমার এ কাজে পরিবার থেকে কোনো বাধাও নেই, প্রার্থী হওয়া থেকে এখন পর্যন্ত সকল কাজে আমার স্বামী ও পরিবার আমাকে সহযোগিতা করছে। আমরা নির্বাচিত হলে শুধু ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, তিনটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় কাজ করবো।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *