Author: Banglarmukh24

  • ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে ‘ঈদের খুশি’ পরিবারে

    ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে ‘ঈদের খুশি’ পরিবারে

    সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র ইকতিদার হোসাইন অয়নের বাবা এবাদত হোসেন তালুকদারের চোখে আনন্দাশ্রু। আদালত এলাকা থেকেই ছেলের জামিন পাওয়ায় খুশির খবর মোবাইল ফোনে জানাচ্ছিলেন স্বজনদের। এরপরই ছেলেকে মুক্ত করতে ছুটে গেলেন কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে। শুধু অনয় নন, রোববার ঢাকার তিনটি আদালতে ৩৭ শিক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন।

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাংচুরের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এখন নতুন মামলায় গ্রেফতার না দেখালে জামিনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। আর এক দিনে ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে তাদের পরিবার ও স্বজনের মধ্যে ‘ঈদের খুশি’ ছড়িয়ে পড়ে।

    ঢাকার থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে- আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী।

    পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি আনিসুর রহমান  বলেন, বুধবার ৩৭ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তারা সবাই জামিনও পেয়েছেন।

    কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম  বলেন, শিক্ষার্থীদের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পরপরই তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    বাড্ডার থানার মামলায় গ্রেফতার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তার বাবা এম এ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাই ভেঙে পড়ছিল। ঈদের আগে ছেলে জামিন পাওয়ায় আমরা খুশি।’

    জাহিদুল হক নামে এক শিক্ষার্থীর জামিন পাওয়ার পর তাদের বোন জাফরিন হকের খুশি ছিল দেখার মতো। জাফরিন চিৎকার বলে বলছিলেন- ‘ভাইয়ার জামিন হয়েছে। ভাইয়াকে এখন মুক্ত করতে পারব।’ এরপরই আদালত এলাকায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন জাফরিন। শিক্ষার্থীদের জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকাল থেকে আদালত চত্বরে হাজির হন তাদের স্বজন ও সহপাঠীরা। একে একে তারা জামিন লাভের পর সহপাঠীরা সেখানে উল্লাস প্রকাশ করেন। অনেকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

    ধানমন্ডির মামলায় গ্রেফতার হন দুই ভাই মাহমুদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান। মাহমুদ পড়েন ইউল্যাবে। আর মাহবুব বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। বো সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হওয়ার খবর শুনেই তাদের স্বজনরা বলেন, ‘দুই ভাইয়ের জামিন হয়েছে। এতে তারা আমরা খুশি। এক সঙ্গে ঈদ করা যাবে। ‘

    ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এবং ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈনউদ্দিন সিদ্দিকী ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈদ ও পরীক্ষা- এই দুই দিক বিবেচনা করে বিচারকরা আসামিদের জামিন দিয়েছেন।

    জামিন পাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ২২ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আফতাব নগরের ইষ্ট ওয়েষ্ট, বসুন্ধরা এলাকার নর্থ সাউথ, তেজগাও এলাকার সাউথ ইষ্ট ও মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জামিন পেয়েছেন ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা তিন মামলায় ৯ শিক্ষার্থীরও। ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে ৫ হাজার টাকায় মুচলেকায় জামিন হয় নয়জনের। এরা হলেন-সোহাদ খান, মাসরিকুল ইসলাম, তমাল সামাদ, মাহমুদুর রহমান, ওমর সিয়াম, মাহাবুবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, নাইমুর রহমান ও মিনহাজুল ইসলাম।

    গত ৪ আগস্ট বিকেলে ঝিগাতলা ও ধানমন্ডিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অফিস ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শাহবাগ, উত্তরা (পশ্চিম), নিউমার্কেট ও কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা পৃথক মামলায় আরও সাত জনের জামিন হয়েছে।

    বাড্ডা থানার মামলায় জামিন পাওয়া ১৪ ছাত্র হলেন- রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান।

    অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলায় জামিন পাওয়া আট ছাত্র হলেন- আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

    রোববার সকালে আদালতের কাছে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। অ্যাডভোকেট কবীর হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া, আক্তার হোসেন জুয়েল, মিজানুর রহমান, আদনান রোজীসহ কয়েকজন আইনজীবী এ আবেদন করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও অনেকের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহিদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত ৫ আগষ্ট শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেলেও বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের চেষ্টা করে। পরদিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা।

  • ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন, স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু

    ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন, স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু

    জাফরিন হক চিৎকার দিয়ে ‘আব্বু, ভাইয়া (জাহিদুল হক) জামিন হয়ে গেছে’ বলেই আদালতের বারান্দায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন। জাহিদুল হক সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় ৬ আগস্ট বাড্ডার ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তিনি কারাগারে আছেন। জাহিদুল হকের মতো আরও ২৪ শিক্ষার্থীকে আজ রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) জামিন দিয়েছেন।

    নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাজে বাধা এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় এসব শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন।

    ঢাকার থানা ও আদালত সূত্র বলছে, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এঁদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী। আজ ঢাকার আদালতে জামিন চেয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও তাঁদের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্র।

    আদালত শুনানি নিয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন।

    বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ জামিন পেয়েছেন ১০ জন। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার আট শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ছয়জন। অন্যদিকে, ধানমন্ডি থানার পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার নয় শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ধানমন্ডি এলাকায় ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার বাকি শিক্ষার্থীদের কারও কারও জামিন শুনানি আগামীকাল হতে পারে।

    কয়েক ছাত্রের স্বজনেরা  জানান, জামিন হওয়ায় এখন তাঁরা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে যাচ্ছেন। আদালত সূত্র বলছে, আদালত থেকে ছাত্রদের জামিনের কাগজ কারাগারে পাঠানো হবে।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

    স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু
    জামিনের আবেদন করেছেন—এমন শিক্ষার্থীদের বাবা-মা, ভাই-বোন আজ সকাল থেকে আদালতে ভিড় করতে থাকেন। ধানমন্ডির মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভাই মাহমুদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান। মাহমুদ পড়েন ইউল্যাবে। আর মাহবুব বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এখন আইইএলটিএস করছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হওয়ার খবর শুনেই তাঁদের মা বলে ওঠেন, ‘আমার ছেলেদের জামিন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

    বাড্ডার মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তাঁর বাবা এম এ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।  তিনি বলেন, ‘আজ আমার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কত যে যন্ত্রণায় ছিলাম, সে কথা কাউকে বোঝাতে পারব না।’ ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র রেদোয়ান আহমেদের বাবা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ছেলের জামিন হওয়ায় বেজায় খুশি। তিনিও  বলেন, ছেলের জামিন হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নূর মোহাম্মাদের বোন মাবিয়া বললেন, ‘ভাইয়ার জামিন হওয়ায় আমার অনেক ভালো লাগছে। আমরা একসঙ্গে ঈদ করতে পারব’।

    সেদিন স্বজনদের চোখে ছিল উৎকণ্ঠা, ভয়
    বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার ভাঙচুরের মামলায় ১৪ ছাত্রকে এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাঙচুরের মামলায় ৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ আগস্ট ২২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এজলাসে স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্ররা। দুই দিনের রিমান্ড শেষে যখন ছাত্রদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।

    জাহিদুল হক ও নূর মোহাম্মাদের আইনজীবী আখতার হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন করাতে পেরে তিনি নিজেও খুব আনন্দিত।

    যাঁরা আজ জামিন পেলেন
    বাড্ডার মামলায় জামিন পাওয়া ১০ শিক্ষার্থী হলেন রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, জাহিদুল হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় জামিন পেয়েছেন আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার ও সাখাওয়াত হোসেন। ধানমন্ডির মামলায় জামিন পাওয়া নয় শিক্ষার্থী হলেন সোহাদ খান, মাসরিকুল আলম, তমাল সামাদ, ওমর সিয়াম, মাহমুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ইকবাল হাসান, মিনহাজ রহমান ও নাইমুর রহমান।

  • ‘পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়’

    ‘পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আজকের দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার নির্মাণ পরিকল্পনা তারই একটা অংশ। কেউ যদি কোনো প্রকল্পের কাজ না পায়, সেটা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অযাচিতভাবে লেখালেখি হয়। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তা ছাড়া কিছু পত্রিকা আছে, যারা একটু খুঁত পেলেই উন্মুখ হয়ে বসে থাকে সেগুলো ছাপানোর জন্য। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অকারণে পিছিয়ে যায়।

    রোববার সকালে প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা ওয়াসার দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাসেরকান্দি প্রকল্পটি ছাড়াও ঢাকায় রুট নিয়ে বিতর্কে বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প পিছিয়েছে কয়েক বছর। সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে রুটের পরিকল্পনা ঠেকাতে নাগরিক সমাজের একটি অংশ নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে। আর কিছু গণমাধ্যম সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।

    এসব বিতর্কে বছর তিনেক পেছানোর পর ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধন হয় মেট্রোরেলের কাজ। ২০২১ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী বহন শুরু হবে। অথচ এ নিয়ে বিতর্ক না হলে এরই মধ্যে কাজ প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারত। স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পও পিছিয়েছে দুর্নীতি চেষ্টার ভুয়া অভিযোগের কারণে। যে সেতু দিয়ে এখন যান চলাচলের কথা, সেটি চালু হতে হতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় লেগে যেতে পারে।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্প এলাকার একটি রেপ্লিকা দেখানো হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী, বারিধারা, সেনানিবাস এবং সংসদ ভবন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যার যেমন সমাধান হবে তেমনি বাসিন্দারা একটি উন্নত পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা পাবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো ধরনের প্রকল্পের কাজ করতে গেলে আমাদের নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি পাইপে আধা ইঞ্চির সমস্যা নিয়ে আমাদের অনেক দিন সময় নষ্ট হয়ে গেল।

     

    এসব বিতর্ক কেন তোলা হয়, তা বর্ণনা করে সরকারপ্রধান বলেন, কারণটা আমি জানি। কারণটা আর কিছুই না, কাজটা কে পেল না পেল। কেউ যদি না পেল, ওমনি দিল একখানা পত্রিকায় লিখে। আর কিছু পত্রিকা তো উন্মুখ হয়ে বসে থাকে, ওটা লিখবেই। তারপর সেটা নিয়ে আবার নানা জল্পনা-কল্পনা, তারপর আবার মাপামাপি, তার ওপর আবার রিপোর্ট দেন। অনেক ঝক্কি ঝামেলা, খামাখা সময়টা নষ্ট। অথচ হাতিরঝিল করেছি, হাতিরঝিলের পানি প্রায়ই পচে যায়। এই ট্রিটম্যান্ট প্লানটা যদি আমরা না করি, তাহলে হাতিরঝিলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না, এটা হলো বাস্তবতা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের অনেক পুকুর ভরাট হয়ে বিল্ডিং হয়ে গেছে। পুকুর ভরাট করা চলবে না, সব ধরনের জলাধার সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। ঢাকায় এখন হাতেগোনা কয়েকটা পুকুর। এই পুকুরগুলো সব সংরক্ষণ করতে হবে। আর যেন কেউ পুকুর ভরাট না করে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

    রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা শহর এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও পানি ও পয়োসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়ারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এই তিন পদক্ষেপ নিতে হবে এই কারণ যে, আমরা প্রত্যেকটা প্রামকে শহরে উন্নীত করতে চাই, গ্রামের মানুষ যেন শহরের মতো একটা উপযোগী ব্যবস্থা পায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীর প্রধান নদী বুড়িগঙ্গার তলদেশে থাকা বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে নদীটিতে পুরোপুরি দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনাও নেই আমরা। বুড়িগঙ্গা তো প্রায় পচে দুর্গন্ধ। প্রচুর ময়লা দেখান থেকে বের করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখনও সেভাবে হয়নি। ওখানেও কতগুলো স্যুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে।

    বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরীও ড্রেজিং করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী ড্রেজিং করলে প্রচুর জমি আমরা উত্তোলন করতে পারি। কোথাও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করব, কোথাও আমরা চাষের উপযোগী জমি ব্যবহার করব, কোথাও আমরা শহর গড়ে তুলব।

    ‘জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত ভাগ্যহারা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই বঙ্গবন্ধু সারাজীবন কাজ করেছেন। গভীরভাবে এ দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন। আমরা সন্তান হয়ে বাবার কাছ থেকে সে সময়টুকু পাইনি। দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরে আমরা যা না পেয়েছি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১০ বছরে এ দেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হতো। যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিল তখনই হত্যা করা হয় জাতির জনককে।

  • সাত বছর পর আবার রানী হামিদ

    সাত বছর পর আবার রানী হামিদ

    জাতীয় মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৮ তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। চ্যাম্পিয়নশিপে এটি তার ১৯তম শিরোপা। ৯ খেলায় ৮ পয়েন্ট পেয়ে শিরোপা জিতেছেন তিনি। ২০১১ সালে শেষবার জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রানী হামিদ। শিরোপা পুনরুদ্ধারে ৭ বছর লাগলো দেশ সেরা দাবার এ রাণীর।

    এবার ৯ রাউন্ডে রানী হামিদ ৮টিতে জয়ী হয়ে হেরেছেন শুধু প্রতিভা তালুকদারের কাছে। শিরোপা লড়াইয়ে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দী ছিলেন মহিলা ফিদে মাস্টার নাজরানা খান ইভা। তাকে হারিয়েছেন ষষ্ঠ রাউন্ডে। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরাতন ভবনে দাবা কক্ষে অনুষ্ঠিত নবম বা শেষ রাউন্ডের খেলায় রানী হামিদ হারিয়েছেন মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানাকে।

    মানিকগঞ্জের নাজরানা খান ইভা ৭ পয়েন্ট পেয়ে রানারআপ হয়েছেন। ইভা শেষ রাউন্ডে জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে হেরে যান। সাড়ে ৬পয়েন্ট করে অর্জন করেন ৩ জন খেলোয়াড়, টাইব্র্রেকিং পদ্ধতিতে এদের মধ্যে নরসিংদীর নোশিন আনজুম তৃতীয়, জান্নাতুল ফেরদৌস চতুর্থ এবং ঢাকা বিভাগের কাজী জারিন তাসনিম পঞ্চম স্থান লাভ করেন।

    ৬ পয়েন্ট করে নিয়ে মহিলা ফিদে মাস্টার জাকিয়া সুলতানা ষষ্ঠ, ঠাকুর জানিয়া হক সপ্তম ও ওয়াদিফা আহমেদ অষ্টম স্থান লাভ করেন। সাড়ে ৫ পয়েন্ট করে নিয়ে নবম হতে দ্বাদশ স্থান পান যথাক্রমে উম্মে তাসলিমা প্রতিভা তালুকদার, মহিলা ফিদে মাস্টার আফরোজা খানম বাবলী, আহমেদ ওয়ালিজা ও নারায়ণগঞ্জের মোছাম্মৎ ঝর্না বেগম।

  • সিলেটে চাকরি পেলেন ৬০ প্রতিবন্ধী

    সিলেটে চাকরি পেলেন ৬০ প্রতিবন্ধী

    সিলেটে প্রতিবন্ধীদের জন্য চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনভর নগরের আরামবাগ এলাকায় আমানউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে এই মেলায় প্রায় ৬০ জন প্রতিবন্ধী চাকরির নিশ্চয়তা পেয়েছেন।

    সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজ-অ্যাবিলিটি নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ অ্যামপ্লোয়ার্স ফেডারেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন প্রতিবন্ধীদের এই চাকরি মেলার আয়োজন করে।

    মেলায় ২০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। চাকরির জন্য প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকে চার শতাধিক আবেদনপত্র জমা পড়ে মেলায়।

    মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এমপি ইমরান আহমদ। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান, বাংলাদেশ অ্যামপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি কামরান টি রহমান ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির কো-চেয়ার সালাউদ্দিন কাশেম খান।

    অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের বি-সেপ প্রজেক্টের ডিজেবিলিটি কনসালটেন্ট অ্যালবার্ট মোল্লা।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিজনেস অ্যান্ড ডিজেবিলিটি নেটওয়ার্কের কো-চেয়ারম্যান মোর্তেজা আর খান, ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ নুরজ্জামান, জালালাবাদ প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান রোটারিয়ান মাহবুব সোবহানী চৌধুরী, সিলেট চেম্বারের সহ-সভাপতি এমদাদ হোসেন, আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলীমুল এহছান চৌধুরী, ফুলকলির উপ-মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন খন্দকার, লুব-রিফ বাংলাদেশ লি. এর পরিচালক সালাউদ্দিন ইউসুফ, মেলায় চাকরিপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধীদের পক্ষে পল্লব সাহা ও আব্দুস সালাম বাবুল।

    অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী।

    চাকরি মেলা আয়োজনে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল জার্নি মেকার ডট কম, গ্রিন ডিজ-অ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন, জালালাবাদ প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্র ও হাসপাতাল এবং আলীম ইন্ডাস্ট্রিজ লি.।

  • খাগড়াছড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

    খাগড়াছড়িতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

    খাগড়াছড়ির স্বনির্ভর এলাকায় সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর শনিবার রাতে খাগড়াছড়ির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম এই কমিটি গঠন করেন।

    খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু ইউছুফকে আহ্বায়ক ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামছুল তাবরীজকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- খাগড়াছড়ি সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আওয়াল, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নয়নময় ত্রিপুরা এবং খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন মজুমদার।

    খাগড়াছড়ি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম এ কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের স্বনির্ভর এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ’র অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ ছয়জন নিহত হন।

  • বিষাক্ত রংয়ে মুখরোচক খাবার, মুন স্টারকে জরিমানা

    বিষাক্ত রংয়ে মুখরোচক খাবার, মুন স্টারকে জরিমানা

    খাদ্য আইন লঙ্ঘন করে বিষাক্ত রং ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে মুখরোচক সব খাবার। এ অপরাধে রাজধানীর কলাবাগানের মুন স্টার কাবাব অ্যান্ড মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

    এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অপরাধে আরও ছয় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।

    প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- কলাবাগান এলাকার তেজপাতা রেস্টুরেন্ট, আলম রেস্তোরাঁ, রানা ফার্মেসি, হক ফার্মেসি, সজিব ফার্মেসি এবং কাকরাইলের বিপাশা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।

    শ‌নিবার রাজধানীর কলাবাগান ও কাকরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ও ৫১ ধারায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হ‌য়।

    এর ম‌ধ্যে তেজপাতা রেস্টুরেন্টকে ২৫ হাজার টাকা, আলম রেস্তোরাঁকে ৪০ হাজার টাকা, রানা ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা, হক মেডিকেল স্টোরকে ২ হাজার টাকা, সজিব ফার্মেসিকে ২ হাজার টাকা এবং কাকরাইলের বিপাশা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    অভিযান প‌রিচালনা ক‌রেন অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। সহযোগিতা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রজবী নাহার রজনী। এ সময় সার্বিক সহায়তা করেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন)-১১ এর সদস্যরা।

    মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় আইন লঙ্ঘন করে ভেজাল সামগ্রী মিশিয়ে খাবার তৈরি করছে। মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত ক্যামিক্যাল রং; যা খেয়ে ক্রেতারা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ অপরাধে মুন স্টার কাবার অ্যান্ড মিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া আজকে আরও ৬ প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হ‌য়।

  • জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই

    জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান আর নেই

    আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান মারা গেছেন। শনিবার (১৮ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডে জাতিসংঘের সপ্তম এই মহাসচিব ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    জাতিসংঘের প্রধান হিসেবে মানবিক কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত ঘানান বংশোদ্ভূত কফি আনান শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। কফি আনানই প্রথম কোনো আফ্রিকান; যিনি বিশ্বের শীর্ষ এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত।

    পরবর্তীতে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেন তিনি। জাতিসংঘের প্রধান হিসেবে আনান যখন দায়িত্ব পালন করেন; সেই সময় ইরাক যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে এইচআইভির প্রকোপ বেড়ে যায়।

    ১৯৩৮ সালের ৮ এপ্রিল ঘানার কুমাসিতে জন্ম নেয়া আনান পরিবারে রেখে গেছেন স্ত্রী ন্যানি ও তিন সন্তান।

    কফি আনান ফাউন্ডেশন ও তার পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হালকা অসুস্থ ছিলেন নোবেল বিজয়ী কফি আনান। শেষ দিনগুলোতে সাবেক এই জাতিসংঘ মহাসচিবের পাশে ছিলেন স্ত্রী ন্যানি ও তাদের তিন সন্তান আমা, কোজো ও নিনা।’

    ‘কফি আনান ছিলেন বৈশ্বিক এক রাজনীতিক; যিনি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য সারাজীবন লড়াই করে গেছেন। জাতিসংঘের নেতৃত্বকালীন ও কর্মজীবনে তিনি ছিলেন শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।’

    শোকের এই সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কফি আনানের পরিবার। আরো পরে তার শেষকৃত্যের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

  • পটুয়াখালীতে র‌্যাবের হাতে ওয়ান শুটার গানসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী জুয়েল প্যাদা গ্রেফতার

    পটুয়াখালীতে র‌্যাবের হাতে ওয়ান শুটার গানসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী জুয়েল প্যাদা গ্রেফতার

    র‌্যাব-৮ এর অভিযানে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী জুয়েল প্যাদাকে (৩২) ওয়ান শুটার গানসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় কলাপাড়া থানাধীন ৭নং ওয়ার্ডস্থ চাকামাইয়া পুরাতন ব্রিজ রোড সংলগ্ন মোকলেস স-মিলস এর সামনে পাকা রাস্তা উপর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মোঃ জুয়েল প্যাদা(৩২) কলাপাড়া থানার টিয়াখালী মোঃ ফারুক প্যাদার ছেলে। র‌্যাব-৮ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    সূত্রটি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানাধীন ৭নং ওয়ার্ডস্থ চাকামাইয়া পুরাতন ব্রিজ রোড সংলগ্ন মোকলেস স-মিলস এর সামনে পাকা রাস্তা উপর একজন লোক অবৈধ অস্ত্র সহকারে অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে অবস্থান করিতেছে । প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের বিশেষ আভিযানিক দলটি ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী অধিনায়ক মোঃ হাছান আলী, সিনিঃ সহকারী পরিচালক এর নেতৃত্বে আনুমানিক ২২.২০ ঘটিকায় উল্লিখিত ঘটনাস্থলে পৌছলে র‌্যাবের আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে জুয়েল প্যাদাকে আটক করেন।

    এ সময় আসামী জুয়েলের শরীর তল্লাশী করে একটি ওয়ান শুটার গান, ০৪টি কার্তুজ, নগদ ১৫৫০/-টাকা, ০২টি মোবাইল সেট ও ৪টি সীম কার্ডসহ উদ্ধার করেন। জুয়েল প্যাদ্যার বিরুদ্ধে আমতলী থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ, পটুয়াখালী কলাপাড়া থানায় ৭টি মামলার ওয়ারেন্ট আছে। এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • বরিশাল ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    বরিশাল ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি

    বরিশাল ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন এর ২০১৮-২০১৯ ও ২০১৯-২০২০ সালের ২১ (একুশ) সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত ২৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় বরিশাল ক্লাব লি: এর গোলাম মাওলা কনভেনশন হলে (২য় তলা) বরিশাল ক্লিনিক এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের সধারন সভার সিদ্ধান্তনুযায়ী এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কমিটি, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের ১৬ আগষ্টের এর উপস্থিত সভায় ১ (এক) টি পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়।

    নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন কাজী মফিজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ডাঃ আনোয়ার হোসেন। অন্যান্য পদে যারা নির্বচিত হয়েছেন, সহ সভাপতি- মাহবুবুল আলম, ডা: মিজানুর রহমান, ডা: এস.এম. জাকির হোসেন, সানোয়ার হোসেন ও শহিদুল্লাহ কবির। যুগ্ম সাধারন সম্পাদক-লিয়াকত আলী লিকু, কাজী মিরাজ। এছাড়াও কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন-ডা: নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সোভন কুমার দাশ, প্রচার সম্পাদক শেখ সাইদ আহমেদ মান্না, সমাজসেবা সম্পাদক- হাবিবুর রহমান।

    নির্বাহী সদস্যরা হলেন- ডা: মোঃ শামসুল হক, ডা: মোঃ ইশতিয়াক হোসেন, ডা: মাসুদ আহম্মেদ, আব্দুল জলিল সিকদার, কাজী আফরোজা, কাজী মামুন, আক্তার ফারুক শাহিন, মাহাবুব আলম।