Author: Banglarmukh24

  • আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে: চরমোনাই পীর

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে: চরমোনাই পীর

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘কোমলমতি শিশুরা যখন রাস্তায় নেমে এসেছে, তখন তাদেরকে লাঠিপেটা ও রক্তাক্ত করায় সচেতন মানুষ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে… তা দেশবাসীর সামনে নিয়ে এসেছে শিশুরা। দেশে যে কোনও নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই, চেইন অব কমান্ড বলতে কিছু নেই, তা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছে তারা। শিশু শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছে।’

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করে সরকার আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গ্যারান্টি দিতে পারছে না। লোভ ও ক্ষমতার লোভ পরিহার করতে পারলে অত্যন্ত বলিষ্ঠতার সঙ্গে যে দায়িত্ব পালন করা যায়,তা শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এ নির্বাচন কমিশন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

  • বরিশালে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

    বরিশালে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

    বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর সিকদার (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুক্রবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।

    আটক আলমগীর সিকদার সফিপুর ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামের ছালাম সিকদারের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির বাবা-মা শিশুটিকে রেখে এক আত্মীয়র বাড়িতে যান। তাদের ফিরতে দেরি হওয়ার সুযোগে প্রতিবেশী আলমগীর সিকদার শিশুটিকে একা পেয়ে ঘরের মধ্যে মুখ চেপে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। শিশুটির বাবা-মা বাড়ি ফিরে রক্তক্ষরণ হতে দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে ধর্ষণের কথা বলে দেয়। পরে মেয়েটির বাবা-মা পার্শ্ববর্তী লোকজনদের জানিয়ে বিচারের দাবি জানান এবং রাত ১টার দিকে ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে মুলাদী হাসপাতালে যান। মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করেন। শিশুর বাবা বিষয়টি মুলাদী থানায় জানালে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে আলমগীর সিকদারকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন।

    মুলাদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে আলমগীর সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

  • চরমোনাইতে মাদক সেবীর হামলায় ব্যবসায়ী শেবাচিমে

    চরমোনাইতে মাদক সেবীর হামলায় ব্যবসায়ী শেবাচিমে

    বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের নানা অপরাধের গডফাদার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা হিসাবে পরিচিত মাইদুল গাজি আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের জালাল গাজীর পুত্র মাইদুল গাজির হাতে প্রায় দিনেই মারধরের শিকার হন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েক দিন পূর্বে সাহেকেরহাট-রাজারচর খেয়াঘাটের এক মাঝিকে বেধম মারধর করেছে মাইদুলের গঠিত নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। মাইদুল গাজিসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। সরকার যখন মাদক নির্মূলে নিরালস ভাবে কাজ করছে এর পরেও মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিনিয়তই হামলার শিকার হন সাধারন ব্যবসায়ীরা।

    গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রাজারচর খেয়াঘাটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী রুম্মান হাওলাদার (২৭) নিজ দোকান বন্ধ করে বাসা দিকে যাওয়ার পথেই হাজির মাইদুলের ক্যাডার বাহিনী। এই বাহিনীর নেতা মাইদুল গাজী বলে উঠেন শালাকে শেষ করে দেয়। ওর কাছে অনেক দিন টাকা চাই টাকা দেয় না। আমরা আমাদের দল চালাবো কেমনে। সূত্র জানা গেছে মাইদুল কতাকথিত ছাত্রলীগ নেতা। এসময় রাজারচর খেয়াঘাটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী রুম্মানের হাত ও পা ভেঙ্গে দেয় তারা। সূত্র জানা গেছে, মাইদুল গাজির বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালানোর ঘটনায় খল নায়ক ছিলো মাইদুল। এলাকাবাসী জানান, সাধারন মানুষের আতংকের আরেক নাম মাইদুলে পরিনত হয়েছে। আহত ক্রোকারিজ ব্যসায়ীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার ডান পায়ের অবস্থা অনেকটা খারাব তাকে যে কোন মূহুর্তে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরন করা হবে বলে জানিয়েছে শেবাচিমের চিকিৎসকরা। জানা গেছে আহত রুম্মান চরমোনাই ইউনিয়নের রাজার চর গ্রামের দুলাল হাওলাদারের পুত্র। আহত রুম্মান জানান, আমার সাথে তাদের কোন লেনদেন নেই। আমরা এক সময় ভাগে ড্রেজারের ব্যবসা করতাম এর পরে মন মানিলণ্য হয় পরে আমি ড্রেজার ব্যবসা দিয়ে সরে আসি। আমি অনেক টাকা লোসখান দিয়ে সরে এসেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাইনি। এদের বিরুদ্ধে মাদকসহ নানা বিধ একাধিক মামলা রয়েছে। আহত রুম্মান আরো জানান, আমাকে মূলত মারধর শুরু করেছে মাইদুল গাজী আর তার সাথে ছিলো আলতাফ মল্লিকের পুত্র শাকিল মল্লিক ও হুয়ায়নের পুত্র শান্ত। এদের সাথে আরো বেশ কয়েকজন ছিলো তাদের আমি দেখলে চিনবো তাদের নাম জানা নেই। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কোতয়ালী থানার এএসআই আজমল হোসেন। তিনি জানান সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলাম। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমরা ঘটনাস্থল থেকে আহতকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এবিষয় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ৩৬ বিলাসবহুল লঞ্চ

    ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ৩৬ বিলাসবহুল লঞ্চ

    ঈদে ঘরমুখো লঞ্চযাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তি লাঘবে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    যাত্রীসেবায় সরকারি-বেসরকারি ৩৬টি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করবে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে। এরই মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস। শনিবার থেকে শুরু হবে বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস।

    বিআইডব্লিউটিএ সূূত্রে জানা গেছে, নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, ঈদের আগে ও পরে ৭ দিন করে ১৪ দিন নদীতে বাল্কহেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, নদীতে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর টহল নিশ্চিত করা, মেরিন ক্যাডেট, স্কাউট, গার্লস গাইডের সদস্যরা যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামসহ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

    যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নৌ-বন্দর এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী বয়া আছে কি না তা নিশ্চিত করা হবে।

    এছাড়া বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদের সময় জেলেরা যাতে জাল ফেলে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারহ, যাত্রীদের সচেতন করতে মাইকে প্রচারণা চালানো, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও গভীর রাতে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের বন্দর ভবনের বিশ্রামাগারে নিরাপত্তা দেয়া, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি স্থাপন করাসহ সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    বিআইডব্লিউটিসি বরিশাল অফিস থেকে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে ১৩ দিনের বিশেষ ঈদ সার্ভিস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে। মোট ৬টি জাহাজ দিয়ে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ সার্ভিস চলবে।

    বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক/যাত্রী পরিবহন) শেখ মু. নাছিম বলেন, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে নিয়মিত রুটের জাহাজ ও ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, হুলারহাট, মোড়েলগঞ্জ ও খুলনা রুটের যাত্রীদের চলাচলে সংযোগ-সুবিধা দেবে। ১৩ দিনের বিশেষ ঈদ সার্ভিসে ৬টি স্টিমার চলাচল করবে।

    বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশনের সহ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে টাগবোট, পাইলটিং সার্ভিস প্রস্তুত থাকবে। ১৬৯ কিলোমিটার ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের ভাড়া বাড়বে না। বিশেষ সার্ভিসে ১১টি উপকূলীয় রুটের জন্য থাকবে সি-ট্রাক সার্ভিস। এমভি মনিরুল হক এবং এমভি বারো-আওলিয়া সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচল উপযোগী জাহাজ দিয়ে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগ রক্ষা করা হবে। ওয়াটার-বাস এবং ফেরি সার্ভিসও সব সময় সচল রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    এদিকে, শনিবার থেকে ঢাকা থেকে শুরু হবে বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস। এ সময় এ রুটে সরাসরি যাত্রীসেবা দেবে এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯, কীর্তনখোলা-২ ও ১০, সুরভী-৭, ৮ ও ৯, সুন্দরবন-৮, ১০ ও ১১, পারাবত-৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২, দ্বীপরাজ, ফারহান-৮, টিপু-৭, কালাম খান-১, গ্রীনলাইন-২ ও ৩।

    বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদের সময় লঞ্চে মালামাল পরিবহন অনেকটা বন্ধ রাখা হয়। এ সময় লঞ্চগুলো মালামাল পরিবহন বন্ধ রেখে লোড লাইনের ওপর ভিত্তি করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লোড লাইনের ওপরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে কোনো লঞ্চকে সুযোগ দেয়া হবে না। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর মনিটরিং ছাড়াও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    সভায় জনভোগান্তি রোধে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান বিএমপির নবাগত কমিশনার মোশারফ হোসেন। সভায় তিনি বলেন, লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় বরিশালে নৌ-বন্দর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। চুরি, ছিনতাই ও পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে যান চলাচল না করা ও বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

  • স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাল কলমানি মার্কেটের সুদহার

    স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাল কলমানি মার্কেটের সুদহার

    আর মাত্র কয়েক দিন পর কোরবানির ঈদ। ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও কোরবানির পশু কেনাসহ নানা কারণে ব্যাংকে নগদ টাকার চাপ বেড়েছে। বাড়তি চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলোকে যেতে হচ্ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট)। তবে পরিমাণের দিক থেকে কলমানির চাহিদা বাড়লেও সুদহার এতটাই কমেছে যে, তা স্মরণকালের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ আগস্টের (মঙ্গলবার) তথ্যে দেখা গেছে, কলমানিতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়েছে। তবে সুদের হার না বাড়লেও লেনদেন বেড়েছে এই বাজারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ বিনিয়োগ স্থবিরতায় অধিকাংশ ব্যাংকের কাছেই উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এ কারণে ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লেও কলমানিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে প্রতিদিনই লেনদেন বেড়েছে। এ সময়ে কলমানি মার্কেটে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসাবে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক-টু-ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল সাড়ে ৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক-টু-ব্যাংকের গড় কলমানির গড় সুদহার ছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত এক দশকে এত কম সুদহারে লেনদেন হয়নি কলমানি মার্কেটে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের অক্টোবরে গড়ে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়। ২০০৩ সালের পর থেকে কখনওই কলমানির সুদহার এত কম দেখা যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার কমানোর ফলে বাজারে নগদ টাকার সরবরাহ বাড়ায় কলমানি সুদহার বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬ আগস্ট কলমানিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৯৫০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তার আগের দিন ছিল সাত হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ১৪ আগস্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাসহ বাড়তি কেনাকাটায় নগট টাকা তুলতে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করে। এ কারণে ঈদের সময় লেনদেন বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট নেই। এ কারণে লেনদেন বাড়লেও কলমানি মার্কেটে সুদহার স্থিতিশীল রয়েছে।’

    নগদ টাকার সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, তাই ঈদের আগে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না বলে তিনি জানান।

    অথচ ২০১০ সালে কোরবানির ঈদের আগে কলমানি মার্কেটের সুদের হার প্রায় ২০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তখন বেসরকারি একটি ব্যাংক ১৯০ শতাংশ হার সুদে অন্য একটি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা ধার নিয়েছিল। এরপর অবশ্য আর কখনও কলমানির সুদের হার খুব একটা বাড়তে দেখা যায়নি। ২০১২ সালে ঈদের আগে ১৫ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল কলমানি মার্কেটের সুদহার। এরপর থেকে কলমানির সুদহার ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

  • শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ডে থাকবে ইউনিক নম্বর

    শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ডে থাকবে ইউনিক নম্বর

    মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত) প্রোফাইল বা ডাটাবেইজ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশপাশি এ পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ইউনিক আইডেন্টিটি নম্বরসহ আইডিকার্ড দেয়া হবে। ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্ট্রিগ্রটেড এডুকেশনার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় এসব করা হবে।

    এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত। মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে একনেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়, শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, সব শিক্ষা বোর্ড, ব্যানবেইস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরসহ সব সংস্থা ও দফতর স্ব স্ব উদ্যোগে শিক্ষা তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি এনআইডি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, প্রাথমিক শিক্ষাতথ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ইত্যাদি তথ্য যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    তাছাড়া সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা সেকেলে। বর্তামান অবস্থায় ডাটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বর্তমানে প্রচলিত হার্ডওয়্যার দিয়ে ওইসব সফটওয়্যার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে নানারকম কারিগরি সমস্যার সৃ্ষ্টি হচ্ছে।

    এসব সমস্যা সমাধানে ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্ট্রিগ্রেটেড এডুকেশনার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বোর্ডগুলোর জন্য সমন্বিত সফটওয়্যার প্রণয়ন করে ফলাফল প্রকাশ এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ বোর্ডগুলোর অধীনেই সহজে করা যাবে। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের কাজ অটোমেশন করা জন্য আরও বেশ কিছু সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে হার্ডওয়্যার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত) প্রোফাইল বা ডাটাবেইজ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশপাশি এ পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ইউনিক আইডেন্টিটি নম্বরসহ আইডি কার্ড দেয়া হবে।

  • চাকরিতে প্রবেশ-অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সরকার

    চাকরিতে প্রবেশ-অবসরের বয়স বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সরকার

    মেয়াদের শেষ সময়ে এসে চাকরিতে প্রবেশ ও চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে সরকার। কিছুদিন আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বয়সসীমা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। ঈদুল আজহার পর এই সুপারিশের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রক্রিয়া শুরু করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে চাকরিতে প্রবেশ ও চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত দিতে পারে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। আর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫৯ বছর। মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০ বছর। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬৫ ও বিচারপতিরা ৬৭ বছর বয়সে অবসরের সুবিধা পাচ্ছেন।

    দেশে বেকারত্বের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, উচ্চশিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট, গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি প্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দাবি আদায়ে কয়েকবার রাজপথেও নেমেছেন তারা। এই দাবি সংসদেও উঠেছিল, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ানোর দাবি নাকচ করে দেয়া হয়।

    অপরদিকে, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাকরি থেকে অবসরের বয়স বাড়ানোর দাবি রয়েছে। ক্রমেই এ দাবি জোরালো হচ্ছে। সরকারি চাকুরেরা বলছেন, আগের তুলনায় দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। সরকারের অর্থে কর্মকর্তারা দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে, লেখাপড়া করে পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ হয়ে যখন অবসরে যাচ্ছেন, তখন অনেকেই কর্মক্ষম থাকছেন। শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের দিকে তাকিয়ে অনেকেই ৫৯ বছরকে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স মনে করছেন না।

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স বাড়ানোর জন্য সুপারিশ করলেও প্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেয়া হয়।

    অক্টোবরে গঠিত হবে নির্বাচনকালীন সরকার। এর তিন মাসের মধ্যেই হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই প্রেক্ষাপটে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দেয়া সুপারিশ সরকার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সুপারিশ আমাদের পর্যালোচনা করতে হবে। আমরা কতটুকু, কী বাস্তবায়ন করতে পারব বা বাস্তবায়ন করতে পারব কি না সেটা দেখব। আমরা এ ব্যাপারে পেপার্স তৈরি করছি। আমাদের কিছু সময় দিতে হবে। তারপর যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘তবে কোনো কিছু আমরা গুরুত্বহীনভাবে গ্রহণ করছি না।’

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা সংসদীয় কমিটির কাছ থেকে একটা প্রস্তাব পেয়েছি। বয়স চাকরির এন্ট্রি লেভেলে ৩৫ ও এক্সিট লেভেলে ৬৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।’

    তিনি বলেন, ‘মূলত রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা থেকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সামনে নির্বাচন রয়েছে। সরকার চাকরি প্রত্যাশী ও চাকরিরতদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে চায়। ঈদের পরই এ বিষয়ে কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু হবে। হয়তো যেভাবে সুপারিশ করা হয়েছে সেভাবে হবে না। ২/১ বছর করে বাড়তে পারে।’

    এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, ‘সেশনজটসহ নানা কারণে লেখাপড়া শেষ করতে অনেক বয়স হয়ে যায়। শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ চায় সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স আরও ৫ বছর বৃদ্ধি পাক। ভারতসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স আমাদের চেয়ে বেশি। অন্যান্য দশের সঙ্গে সমতা রেখে আমরা বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ ও অবসরের বয়স ৬৫ বছর করার সুপারিশ করেছি। এরসঙ্গে আসলে অর্থনীতির বিকাশের সম্পর্ক। আমাদের অর্থনীতির বিকাশ হচ্ছে। মধ্যম আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি আমরা। এতে আমাদের কর্মসংস্থান বাড়ছে, মানুষের দক্ষতা বাড়ছে। তাই চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স বাড়ানো যেতে পারে।’

    ‘এছাড়া এখন বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রও অনেক সম্প্রসারিত হয়েছে। মেধাবীদের সরকারি চাকরিতে আকৃষ্ট করতে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ও দক্ষ চাকরিজীবীদের বেশি সময় ধরে রাখতে অবসরের বয়স বাড়ানো দরকার’- বলেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।

    সরকারি চাকরিতে প্রবেশে বয়স বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে কি না- জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কোন বিবেচনায় এটা করা হবে?’

    তিনি বলেন, ‘সেশনজট, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতার কথা বলা হচ্ছে। তাহলে সেশনজট কমান, নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করুন। আমরা তো বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছি, এক বছরের মধ্যে সব শেষ হয়েছে।’

    বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে বিসিএস (প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ছাড়া) ২৬ ক্যাডারের সমন্বয়ে গঠন করা বিসিএস সমন্বয় কমিটির মহাসচিব মো. ফিরোজ খান বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ও অবসরের বয়স সরকার যদি বৃদ্ধি করে, তবে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে সামাজিক অবস্থা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ছেলে-মেয়েদের অনেকটা বয়স চলে যায়। কয়েকবার বিসিএস দেয়ার পরও অনেকে চাকরি পান না। সেক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে।’

  • ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

    ভুটানকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

    দুই অর্ধের শুরুর দিকে ভুটানকে মনে হয়েছিল লড়াকু; কিন্তু স্বাগতিকরা লড়াই করার শক্তিটা আর এগিয়ে নিতে পারেনি বেশিদূর। বাংলাদেশের মেয়েরা খেলা ধরতে একটু সময় নিলো। ব্যাস, তারপর সব গল্পই মারিয়া, তহুরাদের। ভুটানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেভারিট-সেমিফাইনালের আগে সেটাই ছিল বাস্তবতা। ম্যাচও বলে দিলো তাই।

    স্বাগতিক দেশের কিশোরীরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারলো না। সুতরাং, ভুটানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ উঠে গেলো সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। শনিবার ভারতের বিরুদ্ধে ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গত বছর ডিসেম্বরে যাদের ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা।

    চ্যাম্পিয়নশিপের মুকুট ধরে রাখতে বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে এখন মাত্র এক ম্যাচ বাকি। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভারত। জিতলে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট থাকবে মারিয়া-তহুরাদের মাথাতেই। গ্রুপ পর্বের ২ ম্যাচ ও সেমিফাইনলে দুর্দান্ত দাপুটে জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশই থাকবে ফেবারিট।

    বাংলাদেশ প্রথমার্ধে এগিয়েছিল ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে করে ২ গোল। ১৮ মিনিটে ছোটনের দলকে এগিয়ে দেন আনাই মগিনি। মারিয়া মান্দার কর্নার ধরে শট নিয়েছিলেন শামসুন্নাহার। ভুটানের এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে গেলে বল পান বক্সের বাইরে আনাই। তিনি একটু সামনে এগিয়ে দুর্দান্ত শটে কাঁপিয়ে দেন নেপালের জাল। তারই বোন আনুচিং মগিনি ব্যবধান দ্বিগুন করেন ৩৮ মিনিটে। ৪৩ মিনিটে তহুরার গোল বাংলাদেশকে প্রথমার্ধে এগিয়ে রাখে ৩-০ ব্যবধানে।

    দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ৬৯ মিনিট পর্যন্ত। মাঝবৃত্ত থেকে বল ধরে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা ভুটানের সীমানায় ঢুকে বা পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে গোল করেন। বাংলাদেশ পঞ্চম গোল করে ৮৬ মিনিটে। ৭৬ মিনিটে তহুরার বদলি হিসেবে মাঠে নামা শাহেদা আক্তার রিপা দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বল জালে পাঠান। এ নিয়ে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে টানা ৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো। কোনো গোলও হজম করেনি টানা ৭ ম্যাচে।

    দিনের প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ২-১ গোলে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। গত ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের ফাইনালও খেলেছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয় বাংলাদেশ।

  • বরিশালে বসছে অর্ধশত পশুর হাট

    বরিশালে বসছে অর্ধশত পশুর হাট

    অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়সহ জেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ৫১ টি পশুর হাট বসতে যাচ্ছে।

    স্থায়ীহাটের অনুমোদন আগে থেকে নেয়া থাকলেও অস্থায়ী হাটের অনুমোদনের বিষয়ে চূরান্ত সিদ্ধান্ত বৃহষ্পতিবারর (১৬ আগষ্ট) দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বরিশাল জেলায় ১৬ টি স্থায়ী পশুর হাঁট রয়েছে। যারমধ্যে বরিশাল সদর উপজেলায় ১ টি, বাকেরগঞ্জে ৩টি, বানারীপাড়ায় ২ টি, গৌরনদীতে ২ টি, মুলাদীতে ৬ টি, হিজলায় ১টি ও মেহেন্দিগঞ্জে ১ টি।

    এছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩ টি, বরিশাল সদর উপজেলার ৮ টি, মুলাদীর ৫ টি, গৌরনদীর ২ টি, আগৈলঝাড়ার ৩ টি, বাবুগঞ্জের ৫ টি, বাকেরগঞ্জে ৩ টি ও উজিরপুরের ৪ টি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যারমধ্যে মুলাদীর ৫ টি বাদে বাকীগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ৫ টিরও অনুমোদন দ্রুত সময়ের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    অপরদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের হাটঁ-বাজার শাখা সূত্রে জানাগেছে, বরিশাল নগরের বাঘিয়া এলাকায় ১টি ও পোর্টরোডে ১টি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে। এরবাহিরে বরিশাল নগরের রুপাতলী মোল্লা বাড়ির মাদ্রাসা মাঠ, কালিজিরা বাজার ও সিএন্ডবি রোড সেচ ভবনের পাশে তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য এ পর্যন্ত আবেদন পাওয়া গেছে।

    যারমধ্য থেকে নীতিগতভাবে তিনটি অস্থায়ী পশুর হাটকেই অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটঁ-বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম।

    তিনি জানান, বিগত সময়ে অস্থায়ী হাট নিয়ে উদ্যোক্তদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে না। গত বছরও ৫ টি অস্থায়ী পশুর হাট ছিলো বরিশাল নগরে কিন্তু এ বছর এ পর্যন্ত তিনটি অস্থায়ী হাটের জন্য আবেদন পরেছে, যার অনুমতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে স্থায়ী হাট কেউ ইজারা না নেয়ায় নিজস্ব জনবল দিয়ে স্থায়ী হাট দুটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, এরবাহির নগরে কেউ পশুর হাট বসালে তার বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ লক্ষে শহরজুড়ে নজরদারী জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি দেখভাল করবেন।

    এদিকে হাটগুলোকে ঘিরে চাঁদাবাজি রোধ, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।পাশাপাশি প্রতিটি হাটে জাল টাকা সনাক্তকরণে মেশিন ও অনলাইন-মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখা হবে।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচন : ৩০ ভোটকেন্দ্রের তদন্ত সম্পন্ন

    বরিশাল সিটি নির্বাচন : ৩০ ভোটকেন্দ্রের তদন্ত সম্পন্ন

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০টি ভোটকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) তদন্ত শেষ হয়েছে। চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ১১ আগস্ট তাদের তদন্ত কাজ শুরু করে।

    আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং বিসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, এ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওইসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে কিনা বা সরকারিভাবে ফল ঘোষণা করা হবে কিনা, সেসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্তকারীরা শুধু সংগৃহীত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের বিবেচনার জন্য রিপোর্ট দেবেন।

    তদন্ত দলের আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২) খোন্দকার মিজানুর রহমান মঙ্গলবার জানান, তারা রাতেই ঢাকা ফিরে যাবেন। ইতোমধ্যে তারা সহস্রাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নিয়েছেন। তবে এর বাইরেও নির্বাচন কমিশনে আরও বেশ কিছু কেন্দ্রের বিষয়ে লিখিত এবং অডিও-ভিডিওসহ আরও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। তাই সেগুলোর বিষয়েও নির্বাচন কমিশন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিলে ঈদের ছুটির পর সেগুলোর তদন্তে তদন্ত দল আবারও বরিশাল আসতে পারে।

    তিনি জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলে তারা নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এরপর ইসি তা পর্যালেচনা করে ফলাফল বাতিল, পুনরায় ভোটগ্রহণ অথবা চূড়ান্ত ফল ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবে।

    তদন্ত কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন- কমিশনের উপসচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ হোসেন, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) শহিদ আব্দুস ছালাম, সিনিয়র সহকারী সচিব (সংস্থাপন-২) মো. শাহ আলম।

    এর আগে তদন্ত শুরুর দিন ১১ আগস্ট তদন্ত দলের আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব (নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২) খোন্দকার মিজানুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, মোট ১৫টি ভোটকেন্দ্রের ফল স্থগিত এবং একটি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ থাকার পর, প্রার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আরও ১৪টি কেন্দ্রের তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফল ও ভোটগ্রহণ, স্থগিত কেন্দ্রগুলোসহ অন্য কেন্দ্রগুলোতে কি অনিয়ম ঘটেছিল, সে ব্যাপারে বিভিন্ন অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী চারদিনে তারা মোট ৩০টি কেন্দ্রের তদন্ত করবেন। সে সময় অনিয়মের ধরন, তার জন্য দায়দায়িত্ব কার ছিল; সেটাও তারা খতিয়ে দেখবেন।

    তিনি বলেন, ‘এসব অনিয়মের তদন্তে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের ইনচার্জসহ দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য ও আনসার প্লাটুন কমান্ডারসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সাক্ষ্যও নেওয়া হবে। ওইসব কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের বক্তব্যও আমরা নেবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩০টি কেন্দ্রের তদন্তের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আমরা ডাকিনি। তবে প্রার্থীরা যদি কোনও বক্তব্য দিতে চান, তাহলে সেটা আমরা শুনবো। কোনও প্রার্থী যদি লিখিত অভিযোগও দিতে চান, তাহলে সেটাও আমরা নেবো।’