Author: Banglarmukh24

  • বরিশালে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ!

    বরিশালে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ!

    গত ৩০ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বরিশাল মহানগর আ’লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিপুল ভোটের ব্যাবধানে মেয়র হিসেবে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বরিশাল সিটির উন্নয়নকল্পে তার ব্যাতিক্রী চিন্তা ভাবনা ও তার বহি: প্রকাশ ইতোমধ্যেই নগরবাসীর মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারন জনগনের ভাবনা, তিনি যদি তার এই চিন্তা ভাবনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তবে বরিশাল সিটি একটি মাদক মুক্ত তিলোত্ত্বমা নগরীতে পরিনত হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সর্বপ্রথম দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন যাতে করে কোন ধরনের চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসের সাথে তাদের সংস্পর্ষ না থাকে।

    ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তার নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নিয়েছেন কঠোর ব্যাবস্থা। কোন ধরনের প্রটোকল ছাড়াই নগরময় ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন রিক্সায়। দেশ ব্যাপি ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অত্যন্ত সুনিপূন ভাবে বিচক্ষনতার সহিত মোকাবেলা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনিকোঠায় ইতি মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।

    এমনকি আন্দোলন কালে এক শিক্ষার্থীর নিজের জমানো টাকায় কেনা মোবাইল হারিয়ে গেলে সে বিষয়টিও তার নজর এড়ায়নি। তিনি নিজ বাসায় মেয়েটিকে ডেকে তাকে একটিু নতুন মোবাইল উপহার দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনের অংশ হিসেবে ইতি মধ্যেই ব্যাক্তিগত খরচে নগরীর সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানের সামনে রোড সাইন এবং জেব্রা ক্রোচিং নির্মানের কাজ শুরু করেছেন।

    নির্বাচনে জয়ী হবার পরে শোকের মাসের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের অভিপ্রায়ে কোন ধরনের বিজয় মিছিল কিংবা শুভেচ্ছা গ্রহন থেকে নিজেকে বিরত রেখে নগরবাসীর কাছে নিজেকে অনুন্ন উচ্চতায় স্থাপন করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হবার পর পরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে ইতি মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছেন। জিয়ারত করতে ছুটে গেছেন মরহুম চরমোনাইর পীর সাহেবের মাজার, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার। দোয়া নিয়েছেন ছরছিনা পীর সাহেবসহ দক্ষিনাঞ্চলের আলেম বুজুর্গদের।

    প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নিজেকে বরিশালবাসীর সেবায় বিলিয়ে দিতে। ইশতেহারে নয় উন্নয়ন কাজের মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতা প্রমান করবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের পূর্বেই। আর তার নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন বরিশাল নগরবাসী।

  • ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট কালরাতে বেঁচে যাওয়া সেই শিশু ‘সাদিক’ আজ বরিশালের নগরপিতা

    ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট কালরাতে বেঁচে যাওয়া সেই শিশু ‘সাদিক’ আজ বরিশালের নগরপিতা

    সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে বাবা ও মায়ের সঙ্গে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনের রক্তে ভেজা সেই সময়ের দেড় বছরের শিশু আজকের বরিশালের রাজনীতির ‘আইকন’ যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজের মেধা,প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় আসা এক উদীয়মান
    সূর্য।যার আলোয় আলোকিত বরিশালের আওয়ামী রাজনীতির অঙ্গন। তিনি বরিশাল সিটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সর্বাপেক্ষা আলোচিত ও জনপ্রিয় এক নেতা।

    বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে মন্ত্রী পদ মর্যাদার পার্বত্য শান্তি চূক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি ও স্থাণীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি সিংহ পুরুষ খ্যাত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র পদাঙ্ক অনুসরণ করে মুজিব অন্তঃ প্রাণ সাদিক আব্দুল্লাহ নিজেকে শুধু যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবেই নয় দলীয় নেতা-কর্মীদের আশা ও
    ভরসার প্রতীক হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছেন।তাকে ঘিরেই বরিশালের মেয়র পদটি পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন-সাধ বুকে লালণ করছে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

    বিএনপির কাছে বেদখল হয়ে যাওয়া সিটি মেয়রের পদটি পুনরুদ্ধার করার একমাত্র সক্ষমতা তারই রয়েছে বলে রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে বরিশাল নগরীকে তিলোত্তমা এক অপরূপা শহরে রূপান্তর করতে পারবেন বলেও সবার বিশ্বাস। তাইতো ওই পদে প্রার্থী হিসেবে তাকে দাবী করে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ বর্ধিত সভা করে তার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে তার নাম প্রস্থাব করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।নেতা কর্মীদের ঐকান্তিক বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাস্তবতার নিরিখে তাকেই মনোনয়ন দেবেন।১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে রক্তঝরা অচিন্তনীয় বিয়োগান্তক অধ্যায়ের শোকগাথাঁয় জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে দাদা তৎকালীণ কৃষিমন্ত্রী ও কৃষক কুলের নয়নের মনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও চার বছরের ভাই সুকান্ত আব্দুলাহ বাবু সহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারান সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।সেদিন রাতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের অপার কৃপায় অলৌকিকভাবে বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ,বুলেটবিদ্ধ মা শাহানারা আব্দুল্লাহ ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু পুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ প্রাণে বেঁচে যান।শরীরে বেশ কয়েকটি বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে মা শাহানারা আব্দুল্লাহ ও বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর মতো সাদিক আব্দুল্লাহও আ’লীগের সুখ-দুঃখের অংশীদার।৭৫’র পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-
    জামায়াত জোট সরকার আমলে (৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬) মিথ্যা মামলা সহ নানা ভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তারা।

    তবে সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এ পরিবারটি বরিশালে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল ও শেষ ঠিকানা।

  • ট্রাফিক সপ্তাহের দশদিনে আড়াই লাখ মামলা

    ট্রাফিক সপ্তাহের দশদিনে আড়াই লাখ মামলা

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালনের ঘোষণা দেয় পুলিশ সদর দফতর। নির্ধারিত সময় শেষে ইতিবাচক ফলাফলের কারণে কর্মসূচি আরও তিন দিন বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) ছিল শেষ দিন।

    বিশেষ ট্রাফিক অভিযানে শেষ দিন পর্যন্ত দেশব্যাপী মামলা হয়েছে দুই লাখ ৫৪ হাজার চারশ ৭৩টি। আর জরিমানা করা হয়েছে সাত কোটি আট লাখ ১৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দফতর এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত ট্রাফিক সপ্তাহের শেষ দিন পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে মামলা ও জরিমানার পাশাপাশি পাঁচ হাজার ৪১৮টি যানবাহনের ফিটনেস ও লাইসেন্স না থাকায় আটক করা হয়। এ সময় ৭৪ হাজার ২২৪ চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

    গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ট্রাফিক সপ্তাহের অভিযানে যানবাহনের ফিটনেস, রেজিস্ট্রেশন এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের ঘটনায় সারাদেশে এসব মামলা ও জরিমানা করা হয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পুলিশকে হটিয়ে শিক্ষার্থীরা গাড়ির কাগজপত্র যাচাই ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করে। এরপরই শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার অনুরোধ জানিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করে ট্রাফিক পুলিশ। ঘোষণা করা হয় ট্রাফিক সপ্তাহ।

    ট্রাফিক সপ্তাহে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ায় গত শনিবার ট্রাফিক সপ্তাহ ঢাকায় আরও তিনদিন বাড়ানোর ঘোষণা দেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। পরে সারাদেশেই বাড়ানোর ঘোষণা আসে পুলিশ সদর দফতর থেকে।

  • হত্যার ষড়যন্ত্র উদঘাটনে কমিশন গঠনের ভাবনা

    হত্যার ষড়যন্ত্র উদঘাটনে কমিশন গঠনের ভাবনা

    স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যার পেছনে যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা হত্যার রহস্য রয়েছে তা উদঘাটনে ‘কমিশন’ গঠনের কথা ভাবছে সরকার। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

    আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু দাবি উঠেছে, যেহেতু সবাই চাচ্ছে, সেহেতু আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।’

    এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ১২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এর মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। ছয়জন বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকর করতে সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাকে নিছক কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে ভাবলে তার পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। যে মামলাটির মাধ্যমে ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছিল তাও যথেষ্ট ছিল বলে মনে করেন না অনেকেই। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও এমনটাই মত দিয়েছিলেন ২০১৭ সালের ১৫ আগস্টের এক শোকসভায়।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিজানুর রহমান শেলী বলেন, এটি শুধু মহান একজন ব্যক্তিকে হত্যা নয়, এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চালচ্চিত্র। এর পেছনে অনেক রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ রয়েছে। যদি একটি কমিশন গঠন করা হয়, তাহলে সেটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে এবং জাতির কাছে বিষয়টি ইতিহাস উপযোগী হবে বলে মনে হয়।

    আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারলেও এই হত্যার পেছনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি। এই ষড়যন্ত্রের অনুসন্ধানে একটি কমিশন গঠন করা সময়ের দাবি বলেই তাদের মত।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মানেই হলো বাংলাদেশকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং জিয়াউর রহমান এই হত্যার সঙ্গে জড়িত, এটা সর্বজনবিদিত। প্রতিষ্ঠিত সত্য বিষয়ের জন্য গণকমিশনের প্রয়োজন নেই।

    দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছি। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের যে রহস্য, হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে ষড়যন্ত্র তা এখনো বের হয়নি। হত্যার যে রহস্য, ষড়যন্ত্র উদঘাটনের জন্য একটি কমিশন গঠন করা দরকার। এ দাবিটি আমরা বরাবরই করে এসেছি।

    আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, একটা জুডিশিয়াল কমিশন গঠিত হতে পারে। প্রকৃত ঘটনার পূর্বাপর উদঘাটনে এই কমিশন কাজ করতে পারে। এ ঘটনায় দূর থেকে জড়িতদেরও ফৌজদারি আইনে বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে সম্পূরক চার্জশিট দিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের নতুন করে বিচার করতেও আইনে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ অনেকে দূর থেকে এ ঘটনায় ইন্ধন জোগাতে পারে, অনেকে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে ঘটনা ঘটতে দিতে পারে, এরকম সকলকে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।

  • নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নম্বর

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ৩২ নম্বর

    প্রস্তুত ধানমন্ডির ৩২নম্বর সড়ক চত্বর এবং বঙ্গবন্ধু জাদুঘর। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে পুরো এলাকা। মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) থেকেই এ সড়কে সাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ। বুধবার ( ১৫ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন শেখ হাসিনা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩২ নম্বরের পুরো সড়কের ওপরে ত্রিপল ও শামিয়ানা দিয়ে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার উভয় পাশে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিম পাশে বাঁশ দিয়ে গেট তৈরি করা হয়েছে। যে গেট দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং মন্ত্রীরা প্রবেশ করবেন। এ ছাড়া সড়কে দেয়া হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া। শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যখন প্রবেশ করবেন তখন এ বেড়া খুলে দেয়া হবে।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেয়ার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সৈনিকরা। তারা কয়েকবার রিহার্সেল করেন। বাজান বিউগলের সুর। এ ছাড়া ডগস্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা তল্লাশি করা হয়। গোয়েন্দা বাহিনী, সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিভিন্ন এজেন্সির সদস্যরা মঙ্গলবার থেকেই ৩২ নম্বর ও এর আশপাশ এলাকা নজরদারিতে রেখেছেন।

    মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ৩২ নম্বরের পুরো এলাকা পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও।

    পরিদর্শন শেষে তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জাতীয় শোক দিবসকে (১৫ আগস্ট) ঘিরে বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। এরপরও জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি খাটো করে না দেখে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

    এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালিত হবে। এদিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। ভোরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কের পূর্বপাশ থেকে রাসেল স্কয়ার ও কলাবাগান হয়ে ধানমন্ডি ২নং রোড ক্রসিং পর্যন্ত (মিরপুর রোড) সড়ক বন্ধ থাকবে। এ সময় কোনো যান চলাচল করতে দেয়া হবে না।

    বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, এদিন গাবতলীর দিক থেকে মিরপুর রোড হয়ে আগত যানবাহনকে মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে বামে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে, নিউমার্কেটমুখী যানবাহনকে ধানমন্ডি-২৭ নম্বর পূর্বপাশ থেকে ২৭ নম্বর রোড পশ্চিম পাশ হয়ে সাতমসজিদ রোড- ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড, সিটি কলেজ হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে ডাইভারশন দেয়া হতে পারে।

    এ ছাড়া শাহবাগ বা নিউমার্কেট থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে আসা গাবতলী ও বিমানবন্দরগামী গণপরিবহনগুলো ধানমন্ডি-২ নম্বর রোড হয়ে জিগাতলা-সাতমসজিদ রোড ও ধানমন্ডি-২৭ নম্বর রোড পশ্চিম মাথা হয়ে ২৭ নম্বর রোড পূর্ব মাথা হয়ে যাবে। পান্থপথ ক্রসিং থেকে রাসেল স্কয়ারের দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানায় ডিএমপি।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে ভেন্যু ত্যাগ করার পর সাধারণ জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসবে। এ সময় সাধারণ জনসাধারণের গাড়ি রাসেল স্কয়ার থেকে ধানমন্ডি ৬নং রোডের উভয় পাশে একলাইনে এবং রাসেল স্কয়ার থেকে পান্থপথ ক্রসিং পর্যন্ত উত্তর লেনে এক লাইনে পার্কিং করা যাবে।

  • যার প্রেরণায় আত্মজীবনী লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু

    যার প্রেরণায় আত্মজীবনী লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু

    সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রেরণায় নিজের জীবনী খাতায় লিখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অবশ্য তাকে তার বন্ধুবান্ধব সহকর্মীরাও জীবনী লেখার কথা বলেছিলেন।

    বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের সম্পর্কে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইয়ে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন- বন্ধুবান্ধবরা বলে, ‘‘তোমার জীবনী লেখ।’’ সহকর্মীরা বলে, ‘‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাবলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’’

    বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সম্পর্কে তিনি লিখেছেন- আমার সহধর্মিণী একদিন জেল গেটে এসে বলল- ‘‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবনের কাহিনি।’’

    তখন বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিণীকে উদ্দেশ্য করে যা বলেছিলেন তার বর্ণনাও তিনি দিয়েছেন। বইয়ে লিখেছেন- বললাম ‘লিখতে যে পারি না; আর এমন কী করেছি যে লেখা যায়! আমার জীবনের ঘটনাগুলো জেনে জনসাধারণের কি কোনো কাজে লাগবে? কিছুই তো করতে পারলাম না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, নীতি ও আদর্শের জন্য সামান্য একটু ত্যাগ স্বীকার করতে চেষ্টা করেছি।

    বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীর ডাক নাম ছিল রেণু। এ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থে লিখেন ‘ আমার স্ত্রীর ডাক নাম রেণু- আমাকে কয়েকটা খাতাও জেল গেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।

    খাতায় লেখা এই জীবনকাহিনি যেভাবে গন্থে রূপ পায়

    শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা ২০০৪ সালে আকস্মিকভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে আসে। খাতাগুলো অতি পুরানো, পাতাগুলো জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট। মূল্যবান সেই খাতাগুলো পাঠ করে জানা গেল, এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করতে পারেননি। জেল-জুলুম, নিগ্রহ-নিপীড়ন যাকে সদা তাড়া করে ফিরেছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রাণ, সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেনও, এই বইটি তার স্বাক্ষর বহন করছে।

    বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট, বঙ্গবন্ধুর বংশপরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, দেশভাগ, কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি, দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পূর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা আন্দোলন, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা, যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে। আছে লেখকের কারাজীবন, বাবা-মা, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণীর কথা, যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সব দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুরি চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

    ২০১২ সালে বইটি প্রকাশ করে দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড। এই বইটি ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, চীনা, আরবি, ফরাসি, হিন্দি ও তুর্কি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

  • পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১২ খুনির মধ্যে ছয়জন পলাতক। এই ছয় খুনির মধ্যে দুজন কোন দেশে অবস্থান করছেন তার সঠিক তথ্য কেউ জানে না। এরা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ ও আবদুল মাজেদ।

    এই দুজন এখন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন তা শনাক্ত করতে না পারায় গত ১ আগস্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হয়। ওইদিন সংসদ ভবনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

    বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেয়া হয়। পাশাপাশি বিদেশে বসবাসকারী চিহ্নিত হত্যাকারীদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত যেন স্বাভাবিকভাবে বসবাসের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশে কারান্তরীণ রাখা হয়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে অনুরোধ জানানোর সুপারিশ করা হয়।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে হত্যার শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

    পলাতক খুনিরা কে কোথায়

    সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে ২০১০ সালে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর হয়। বাকিদের একজন জিম্বাবুয়েতে মারা যান এবং ছয়জন পলাতক।

    পলাতক ছয়জন হলেন- আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন।

    এদের মধ্যে চারজনের সম্ভাব্য অবস্থান হলো- কানাডায় নূর চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রাশেদ চৌধুরী। মোসলেম উদ্দিন জার্মানিতে ও শরিফুল হক ডালিম স্পেনে।

    চারজনের অবস্থানই ‘সম্ভাব্য’ বলে জানিয়েছে ইন্টারপোলের বাংলাদেশ শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। তাদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ড জারি করা আছে।

    স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এনসিবির সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক।

    খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘পলাতক ছয়জনের মধ্যে একজন জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন। দুজন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছেন। শুধু দুজনের বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। তাদের একজন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেকজন কানাডায়। তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারি পর্যায়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।’

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় পালিয়ে থাকা দুই খুনিকে ফিরিয়ে আনা এখন কঠিন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

    বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য যদি আমরা প্রকাশ করি তবে তারা জেনে গেল। তাদের অবস্থান তারা পরিবর্তন করবে। সেক্ষেত্রে আমরা যে তথ্যের ভিত্তিকে এগোচ্ছি, সেই তথ্য আর সঠিক থাকবে না। আমার মনে হয়, পরিষ্কারভাবে আমরা তাদের পিন ডাউন করতে পারব, তখনই আপনারা এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করলে ভালো হয়। সেজন্য আমি ওই প্রশ্নে যাব না।’

    উল্লেখ্য, এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে পদে পদে বাধা আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরপরই দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।

    ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর তত্কালীন ঢাকার দায়রা জজ কাজী গোলাম রসুল ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণের শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দ্বিধাবিভক্ত রায় দেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চ ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে তিনজনকে খালাস দেন। এরপর ১২ আসামির মধ্যে প্রথমে চারজন ও পরে এক আসামি আপিল করেন। কিন্তু এরপর ছয় বছর আপিল শুনানি না হওয়ায় আটকে যায় বিচার-প্রক্রিয়া।

    দীর্ঘ ছয় বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলাটি আবার গতি পায়। ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির লিভ টু আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। আপিলের অনুমতির প্রায় দুই বছর পর ২০০৯ সালের অক্টোবরে শুনানি শুরু হয়। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পাঁচ আসামির আপিল খারিজ করেন। ফলে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে হাইকোর্টের দেয়া ১২ খুনির মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে। এর মধ্য দিয়ে ১৩ বছর ধরে চলা এ মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হলে দায়মুক্ত হয় বাংলাদেশ। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ ও মুহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর হয়। ওই রায় কার্যকরের আগেই ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান আজিজ পাশা।

  • বেদনাবিধুর বিভীষিকাময় দিন আজ

    বেদনাবিধুর বিভীষিকাময় দিন আজ

    আজ সেই কলঙ্কময় দিন। শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। ইতিহাসের বেদনাবিধুর ও বিভীষিকাময় একদিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন প্রত্যুষে ঘটেছিল ইতিহাসের সেই কলঙ্কজনক ঘটনা। সেনাবাহিনীর কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন বাঙালির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। এছাড়া এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আরিফ, ভাগ্নি বেবি, ভাগ্নে যুবনেতা, সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, ভাগ্নের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৭ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। ওই সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে।

    রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে আজ পালিত হবে জাতির জনকের ৪১তম শাহাদাতবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

    সেদিন যা ঘটেছিল

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালায় ঘাতক দল। সেই নারকীয় হামলার পর দেখা গেছে, ভবনটির প্রতিটি তলার দেয়াল, জানালার কাচ, মেঝে ও ছাদে রক্ত, মগজ ও হাড়ের গুঁড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। গুলির আঘাতে দেয়ালও ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। চারপাশে রক্তের সাগরের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল ঘরের জিনিসপত্র। প্রথমতলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে আছেন চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মরদেহ। তার তলপেট ও বুক ছিল বুলেটে ঝাঁঝরা। পাশেই পড়েছিল তার ভাঙা চশমা ও অতিপ্রিয় তামাকের পাইপটি।

    অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজি জামাল, নিচতলার সিঁড়ি সংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবির ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের মরদেহ। লুঙ্গিতে জড়ানো শিশু রাসেলের রক্তভেজা মরদেহ দেখে খুনিদের প্রতি চরম ঘৃণা-ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পান না মানবতাবাদী বিশ্বের কোনো মানুষ। এভাবেই নারকীয় পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

    কর্মসূচি

    আজ সরকারি ছুটির দিন। সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা। এছাড়া আলোচনা সভা। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন এবং সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার প্রদান করবে। এছাড়া ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত হবে। পরে ঢাকার বনানী কবরস্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনকের পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্য ও অন্য শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করবেন।

    সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া সেখানে ফাতেহা পাঠ, সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান এবং মোনাজাত হবে। পাশাপাশি সমাধিস্থলে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, অধিদফতর ও সংস্থা স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।

    জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারাদেশে মসজিদগুলোতে বাদ জোহর বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পোস্টার মুদ্রণ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রোথ সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার লাগানো। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিশু একাডেমি এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জীবনীভিত্তিক বক্তৃতার আয়োজন করবে।

    জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তারা কর্মসূচি পালন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিস্থলে এবং ঢাকায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। দেশের সব সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ব স্ব কর্মসূচি পালন করবে।

    তথ্য মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সংস্থা এবং দফতরের মাধ্যমে জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নিরীক্ষা, সচিত্র বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কোয়ার্টারলির বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ, স্মরণিকা ও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ, আলোচনা সভা। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও কারাগারের রোজনামচা গ্রন্থ দুটির পাঠ আগস্টব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন।

    আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কর্মসূচি

    আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সবস্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। এতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষে জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    প্রথম দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবংং সুবিধামতো সময়ে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা ও উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড, পাড়া ও মহল্লায় দুপুরে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বাদ আসর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

    শোক দিবসের পরের দিন বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে দলটি।

  • ‘যে শিশু মায়ের কোলে উঠতে চেয়েছিল তার নিথর দেহ চোখের সামনে’

    ‘যে শিশু মায়ের কোলে উঠতে চেয়েছিল তার নিথর দেহ চোখের সামনে’

    খোকন আহম্মেদ হীরাঃ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কাল রাতে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকের নির্মম বুলেটে শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাহান আরা বেগমের অতি আদরের বড় পুত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত।

    ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের সামনে মা সাহান আরা বেগমের কোলে উঠতে চেয়েছিল চার বছরের শিশু সুকান্ত বাবু। কিন্তু তাকে আর কোলে নিতে পারেননি হতভাগ্য মা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাতকের ছোড়া বুলেটে নিহত বাবুর নিথর দেহ দেখতে পান গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মা সাহান আরা বেগম। ৪৩ বছর পরেও সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি এই হতভাগ্য মা। স্মৃতি হাতড়ে সাহান আরা বেগম বলেন, সব শোক সইবার নয়। আজও বাবুর কথা মনে করে ডুকরে কাঁদি।

    সূত্র মতে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল রাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সঙ্গে সঙ্গে মিন্টো রোডের ২৭ নম্বরে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) বোন জামাতা ও তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতেও হামলা করে ঘাতকরা। যেখানে খুনীরা নির্মমভাবে হত্যা করে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ভাইয়ের ছেলে সাংবাদিক শহীদ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত এবং বরিশালের ক্রিডেন্স শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য আব্দুর নঈম খান রিন্টুকে। এছাড়াও ওই ঘটনায় আহত হন আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সহধর্মিণী ও বঙ্গবন্ধুর বোন আমেনা বেগম, পুত্রবধূ বেগম সাহান আরা বেগম, কন্যা বিউটি সেরনিয়াবাত, হেনা সেরনিয়াবাত, পুত্র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, ক্রিডেন্স শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্য খ.ম জিল্লুর রহমান, ললিত দাস, রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ মাহমুদ।

    সে দিনের বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি’র সহধর্মিণী সাহান আরা বেগম বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ফজরের সময় অতর্কিত হামলায় কেঁপে উঠে ঢাকার ২৭ নম্বরের মিন্টো রোডের বাড়ি। সেদিন ফজরের আযানের সময় গুলির প্রচন্ড শব্দে হঠাৎ আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। আমার শাশুড়ি (বঙ্গবন্ধুর বোন আমেনা বেগম) বলেন, বাড়িতে ডাকাত পড়েছে, আমার ভাইকে (বঙ্গবন্ধু) ফোন দাও। তখন আমার শ্বশুর আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু কি কথা হয় তা আমরা জানি না।

    সাহান আরা বেগম আরও বলেন, এরই মধ্যে আমি শেখ ফজলুল হক মণি ভাইকে ফোন করলাম। ফোনে তাকে বললাম, আমাদের বাড়ির দিকে কারা যেন গুলি করতে করতে আসছে বুঝতে পারছি না। মণি ভাই বলেন, কারা গুলি করছে দেখ। বললাম বৃষ্টির মতো গুলি হচ্ছে, দেখা যাচ্ছে না। হঠাৎ আমাদের দরজা ভাঙ্গার শব্দ পেলাম। ঘাতকরা বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা রুমে প্রবেশ করে হ্যান্ডস আপ বলে আমাদের সবাইকে কর্ডন করে নিচ তলার ড্রইংরুমে সারিবদ্ধ করে দাঁড় করিয়ে রাখে।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহান আরা বেগম বলেন. সিঁড়ির অর্ধেক নেমেই বাবু (সুকান্ত বাবু) বলে, মা আমি তোমার কোলে উঠব। আমি ওকে কোলে নিতে পারলাম না। পরে নিচে নামার পর অস্ত্র ঠেকিয়ে ওরা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, ওপরে আর কে কে আছে? এমন সময় আমার শ্বশুর আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন তার চোখের ইশারায় আমি বললাম, ওপরে আর কেউ নেই। যে কারণে ওপরের রুমগুলো তল্লাশি না হওয়ায় আমার স্বামীকে (আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ) খুঁজে পায়নি ঘাতকরা।

    তিনি আরও বলেন, আমার শ্বশুর ঘাতকদের বলেছিল, তোমাদের কমান্ডিং অফিসার কে? কিন্তু উত্তরে ওরা বলে, আমাদের কোন কমান্ডিং অফিসার নেই। এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাতকরা ব্রাশ ফায়ার শুরু করে। আমরা মাটিতে পরে যাই। আমি আমার শ্বশুরের পেছনে ছিলাম, আমার কোমরে গুলি লাগে। ব্রাশ ফায়ারে ছয়জন মারা যায়। আমরা গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কয়েকজন কাতরাচ্ছিলাম। এর মধ্যে আবার একদল লোক গাড়ি নিয়ে আসে। তখন ভাবলাম এই বুঝি শেষ। কিন্তু পরে দেখি রমনা থানার পুলিশ এসেছে।

    পুলিশ আসার পর বাবুকে শহীদ ভাইয়ের বুকের নিচ থেকে উঠানো হলো। দেখলাম ওর নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। কিছু সময় আগে যে সন্তান আমার কোলে উঠতে চেয়েছিল, তাকে কোলে নিতে পারি নাই। সেই আদরের সন্তানের নিথর দেহ আমার চোখের সামনে। বলেই কান্নাজুড়ে দেন হতভাগ্য মা সাহান আরা বেগম।

    সাহান আরা বেগমের ঘনিষ্ঠজন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী জানান, সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতের জন্ম একাত্তরের ২২ জুন। সে সময় আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেব মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মা সাহান আরা বেগম শিশু সুকান্ত বাবুকে নিয়ে প্রাণের ভয়ে গ্রামকে গ্রাম পাড়ি দিয়েছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সুকান্ত বাবুর পরিবারে খুশি নেমে আসে। এরই মধ্যে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট হঠাৎ ঘাতকের আগমনে চার বছরের শিশুটি অনেকটাই ভয় পেয়ে আশ্রয় চায় মা সাহান আরা বেগমের কোলে। কিন্তু মমতাময়ী মা তার আদরের ছোট্ট শিশুপুত্রকে আর কোলে নিতে পারেননি। তার আগেই ঘাতকের তপ্ত বুলেটের আঘাতে মায়ের চোখের সামনেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সুকান্ত বাবুকে। একজন গর্ভধারিণী মায়ের কাছে এর চাইতে কষ্টকর, বেদনাদায়ক আর কি হতে পারে। সেইদিন ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। সন্তানের মুখটা শেষবারের মতো দেখারও সুযোগ হয়নি তার। সেই কষ্ট এখনও তাড়িয়ে ফেরে হতভাগ্য পিতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে।

    তিনি (মেরী) আরও বলেন, সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত জন্মগ্রহণ করেছিলেন ’৭১ সালের ২২ জুন। বাংলাদেশ স্বাধীনও হয়েছিল ১৯৭১ সালে। সুকান্ত বাবুর জন্মের সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। নয় মাসের যুদ্ধে আমরা পেয়েছিলাম নতুন স্বাধীন দেশ। সুকান্তও দেখেছিল নতুন বাংলাদেশকে। কিন্তু নতুন দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠা হয়নি তার। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে স্বাধীন দেশ থেকে চিরতরে চলে যেতে হয়েছে চার বছরের শিশু সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতকে।

    প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৮

     

  • নিজ উদ্যোগে সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও সতর্ক সাইনবোর্ড স্থাপন করলেন মেয়র সাদিক

    নিজ উদ্যোগে সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও সতর্ক সাইনবোর্ড স্থাপন করলেন মেয়র সাদিক

    শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী মেনে নেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের লক্ষে ইতিমধ্যে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আজ (১২-৮-২০১৮) সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলের সামনের সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতা সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন তিনি। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সহ শিক্ষকবৃন্দরা। বরিশাল শহরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক দূর্ঘটনা এড়াতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, বরিশাল শহর আমাদের তাই এই শহর সুন্দর ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের। গত ৫ আগষ্ট আমার আশ্বাসে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন প্রত্যাহর করে বরিশালের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদেরকে দেওয়া প্রতিটি আশ্বাস পূরন করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। যার প্রথম ধাপ এই জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতা সাইনবোর্ড স্থাপন করা। আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে তাই নিজ উদ্যোগেই প্রতিটি স্কুল-কলেজের সামনে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীরাই আগামীর ভবিষ্যত, তারা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের জন্য আরো বেশ কিছু কার্যক্রম পরিকল্পনায় রয়েছে যার মধ্যে উলে¬খযোগ্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুট ওভার ব্রিজ, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়ক গুলোতে স্পিড ব্রেকার নির্মান, শিক্ষার্থীদের যান-বাহন ও লঞ্চে চলাচল করার জন্য অর্ধেক ভাড়া নির্ধারন, সতর্কতা মূলক ক্যাম্পেইন করা সহ অন্যান্য। তার এমন উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অবিভাবকরাও স্বাগত জানিয়েছে।

    উলে¬খ্য গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

    এ ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাড়া দেশে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তার ধারাবাহিকতায় ৫ আগষ্ট বরিশাল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নিজে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি পূরণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার পাশাপাশি বরিশাল শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।