Author: Banglarmukh24

  • বরগুনায় চেয়ারম্যানের পরকিয়ায় বাধা : যুবককে চোখ তুলে হত্যা

    বরগুনায় চেয়ারম্যানের পরকিয়ায় বাধা : যুবককে চোখ তুলে হত্যা

    বরগুনায় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে পরকিয়া প্রেমে বাধা দেয়ায় আল আমীন নামের এক যুবকের চোখ তুলে ফেলা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমীন মারা যায়।

    আল আমীন হত্যার অভিযোগে তার মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে চেয়ারম্যানকে আসামি করে বরগুনা থানায় বুধবার (১৫ আগস্ট) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী হল বরগুনা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগসহ ১২ জন।

    মামলার বাদী জানান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগের সঙ্গে একই ইউনিয়নের এক যুবতীর (নারগিস) সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে পরকিয়া প্রেম চলে আসছে। ওই ইউনিয়নের দক্ষিন হেউলিবুনিয়া গ্রামের ইউনুস মিয়া ও আমার ছেলে আল আমীন পরকিয়া প্রেমে বাধা দেয়। এতে ওই চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাগ ও তার দলীয় লোকজন আল আমীনের প্রতি প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আল আমীনকে রবিবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেউলিবুনিয়া ব্রিজের দক্ষিন পাশে আসামি মিজানের রিক্সার গ্যারেজে ঢুকিয়ে প্রথমে তার দুচোখে মরিচের গুড়া দেয়া হয়।

    পরে ১২ জন আসামীরা আল আমীনের দু’চোখ লোহার রড ও চাকু দিয়ে উপড়ে ফেলে। মুর্মূষু অবস্থায় আল আমীনকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। একদিন পর সোমবার (১৩ আগস্ট) দুপুর দুইটায় আল আমীন মারা যায়। মৃত আল আমীনের মা রাশেদা বেগম বলেন, `আমার ছেলেটা কাজ করে আমাদের ভরণ-পোষণ দিত। চেয়ারম্যান সোহাগের অবৈধ প্রেমে আল আমীন বাধা দিতে গিয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন নির্মম ভাবে তাকে চোখ তুলে হত্যা করে।’

    এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান গোলাম আহাদ সোহাদ মুঠোফোনে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আমার প্রতিপক্ষরা নির্বাচনে হেরে গিয়ে ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে।’

    বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস.এম মাসুদুজ জামান বলেন, ‘মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করার অভিযান চলছে।’

  • ৯ দিনেও খোঁজ মিলেনি ঝালকাঠির মুক্তার

    ৯ দিনেও খোঁজ মিলেনি ঝালকাঠির মুক্তার

    ৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ দুই সন্তানের জননী মুক্তা বেগমের। ঘটনাটি ঘটেছে ঝালকাঠি শহরের পালবাড়ি এলাকায়।

    ঝালকাঠি পালবাড়ি এলাকার নজরুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী মোসা. মুক্তা বেগম, পিতা-মৃত সুলতান কাজী, গ্রাম পশ্চিম ঝালকাঠি-এর সঙ্গে ১৭ বছর আগে শরিয়া মোতাবেক বিবাহ হয় তাদের। দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান জন্মগ্রহণ করে, বড় মেয়ের বয়স (১৪) বছর ও ছেলের বয়স (৬) বছর।

    গত ৮ আগস্ট বুধবার সকাল ৭টার দিকে বাসা থেকে কোথায় চলে যায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে দুদিন পরে ঝালকাঠি সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যার নম্বর ৪২৪।

    নিখোঁজ মুক্তা বেগমের গায়ের রং ফর্সা ও উচ্চতা ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি। যদি কেউ তার সন্ধান পেয়ে থাকেন তাহলে তার স্বামী মাসুমের ০১৭১৯৭৭৮৪৬৬/০১৬২৯৭৫৯২১৬ এই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

  • বরিশালে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বিএমপি

    বরিশালে ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বিএমপি

    ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে বরিশালের নৌপথ, সড়কপথ ও পশুর হাটসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছে হয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। আজ বৃস্পতিবার বেলা পৌঁনে ১২টায় নগরীর চাঁদমারী মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিসার্স মেসের হল রুমে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপত্বি করেন বিএমপি কমিশনার মোঃ মোশারফ হোসেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, বাস ও লঞ্চ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পশুরহাট ইজারাদার ও গণমাধ্যম কর্মীরা সভায় অংশগ্রহন করেন।

    সড়ক ও নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, লাইসেন্স বিহীন চালক দিয়ে যান চলাচল না করানো, বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রন, লঞ্চ-বাস ও টার্মিনালে মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, পকেটমার রোধ, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তা, কোরবানীর বর্জ্য অপসারনসহ সার্বিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে দাবী জানান সভায় অংশগ্রহনকারীরা।

    পুলিশ কমিশনার জনভোগান্তি রোধসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানামুখি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান সভায়। ঈদ উল আযহা উপলক্ষে নগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ৭৮০ জন পোশাকধারী এবং ২২১জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

    ঈদ উপলক্ষে যাতে মাদক নগরীতে প্রবেশ না করতে পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান, উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান, আবু সালেহ মো. রায়হান, জাহাঙ্গীর মল্লিক, খইরুল আলমসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জন্মস্থানে গোলাম সারওয়ারের জানাজা অনু‌ষ্ঠিত

    জন্মস্থানে গোলাম সারওয়ারের জানাজা অনু‌ষ্ঠিত

    দেশব‌রেণ্য সাংবা‌দিক ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়া‌রের জানাজা অনুষ্ঠিত হ‌য়েছে।

    বুধবার (১৫ আগষ্ট) বিকেল ৩টা ৫ মি‌নি‌টে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ম‌ডেল ইউনিয়ন ইনস্টি‌টিউশন (পাইলট) প্রাঙ্গ‌ণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজার আগে বক্তব্য রা‌খেন গোলাম সারওয়া‌রের ছোট ভাই গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, ছে‌লে গোলাম শাহ‌রিয়ার রঞ্জু, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. টিপু সুলতান, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব‌রিশাল জেলা পু‌লিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশ‌নের (বিসিসি) নব‌নির্বা‌চিত মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

    জানাজা শেষে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বি‌ভিন্ন রাজ‌নৈ‌তিক, সামা‌জিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের নেতারা।

    এদিকে পু‌লি‌শের এক‌টি চৌকস দল গোলাম সারওয়া‌রের মরদেহে গার্ড অব অনার দেয়।

    দুপুর ২টা ২০ মি‌নিটে গোলাম সারওয়া‌রের জন্মস্থান ব‌রিশালের বানারীপাড়া উপজেলার জুম্বা‌দি গ্রামে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।

    এর আগে সোমবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গোলাম সারওয়া‌র।

    ১৯৪৩ সালে বরিশাল জেলার বানারীপাড়ায় জন্ম নেওয়া গোলাম সারওয়ারের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। ১৯৬৩ সালে দৈনিক পয়গমের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই খ্যাতিমান সাংবাদিক ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক সংবাদে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পর বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে কিছুদিন প্রধান শিক্ষক পদেও নিয়োজিত ছিলেন একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ইত্তেফাকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধান সহ-সম্পাদক, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন গোলাম সারওয়ার।

    ইত্তেফাকে দীর্ঘ দুই যুগ কর্মরত থাকার পর ১৯৯৯ সালে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক সমকাল।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি গোলাম সারওয়ার লেখালেখিতেও সুনাম অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ছড়াগ্রন্থ ‘রঙিন বেলুন’ এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘সম্পাদকের জবানবন্দি’, ‘অমিয় গরল’, ‘আমার যত কথা’ ও ‘স্বপ্ন বেঁচে থাক’ উল্লেখযোগ্য।

    সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য গোলাম সারওয়ার ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) আজীবন সম্মাননা ছাড়াও ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ স্মারক ট্রাস্ট আজীবন সম্মাননা পান তিনি।

    গোলাম সারওয়ার সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগের সদস্য ছিলেন। দায়িত্ব পালন করছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান হিসেবে। একাধিকবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

  • রাজশাহীতে বইয়ের দোকানে বাস, স্কুলছাত্রীসহ নিহত ৩

    রাজশাহীতে বইয়ের দোকানে বাস, স্কুলছাত্রীসহ নিহত ৩

    নগরীর নওদাপাড়া বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়লে স্কুলছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা রাজশাহী-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

    নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম আনিকা (১৩)। তিনি নগরীর নওদাপাড়ার ভাড়ালিপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর মেয়ে এবং শাহমখদুম স্কুলের ছাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী। তারা হলেন- শাহমখদুম থানার মোড় এলাকার ইসলাম আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন পিঙ্কু (২৪) এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবুজ ইসলাম (৩২)। তারা দুজনেই ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। এ ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রী মিতুসহ চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১১ টার দিকে এ্যারো বেঙ্গল নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহী থেকে নওগাঁ যাচ্ছিলো। বাসটি নওদাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে স্থানীয় লাবিবা লাইব্রেরির মধ্যে ঢুকে যায়। এতে পাশের জাহাঙ্গীর ট্রেডার্সসহ মোট তিনটি দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাইব্রেরিতে থাকা দুই স্কুল ছাত্রীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের  উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে স্কুল ছাত্রী আনিকা মারা যান।

    স্থানীয়রা জানান, ঘাতক বাসটি হেলপার দিয়ে চালানো হচ্ছিল। তার অদক্ষতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

    নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।

    নগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) ইফতেখায়ের আলম জানান, বাসটির চালক ও হেলপার আটক হলেই জানা যাবে বাসটি কে চালাচ্ছিল। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জন্মস্থান বানারীপাড়ায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ

    জন্মস্থান বানারীপাড়ায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ

    কিংবদন্তি সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ তার জন্মস্থান সন্ধ্যা নদী তীরের গ্রাম বরিশালের বানারীপাড়ায় পৌঁছেছে। বুধবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে মরেদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে যাওয়া হেলিকপ্টারটি স্থানীয় হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম সারওয়ারের বাসভবন ‘সিতারা’য়।

    বানারীপাড়া সরকারি মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে গোলাম সারওয়ারের প্রথম জানাজা হবে। একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধা গোলাম সারওয়ার মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। জানাজা শেষে তাকে আবারও ঢাকায় আনা হবে। বুধবার রাতেও মরদেহ রাখা হবে বারডেমের হিমঘরে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নিয়ে আসা হবে তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। এখানে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমকাল সম্পাদকের মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখান থেকে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছেন তার এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। সংবাদকর্মীরা সেখানে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

    নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণ ঘটার পর ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি হলে ৭৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে আনা হয় সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। বিমানবন্দরে শোকার্ত সহকর্মী-স্বজনরা তার কফিন গ্রহণ করেন।

  • টিএসসি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৩ ফুট প্রতিকৃতি

    টিএসসি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৩ ফুট প্রতিকৃতি

    বেশ খানিকটা দূর থেকে দেখা গেল শিল্পকর্মটি। পেছনে আঁচড়ানো কাঁচা-পাকা চুল, কালো মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে খুব চেনা একটি প্রতিকৃতি। পাশেই লেখা কবিতার চরণ, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’ নিচে লেখা, হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি।
    দেড় শ শিল্পীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ৩০ জন শিল্পীর রংতুলিতে উঠে এলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষেÿসর্ববৃহৎ এ প্রতিকৃতি অঙ্কনের কর্মসূচি হাতে নেয় বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে।

    ১৫ দিন ধরে শিল্পীদের নিরলস পরিশ্রম নজরে আসে গতকাল মঙ্গলবার। আজ বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আলোচনায় ছিল বিশাল এ কর্মযজ্ঞ। প্রতিকৃতিটির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলেছেন কেউ কেউ।

    মঙ্গলবার বিকেল চারটার পর থেকেই দৃশ্যমান হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি, যার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী হাশেম খান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ। চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী।

    তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এক বিশাল প্রতিকৃতি দেখে খুবই ভালো লাগছে। এর সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু আমাকে ডাকছেন।’

    তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে বঙ্গবন্ধু দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতেন, সারা জীবন সংগ্রাম করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর দিনে খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেন। তাঁর বোঝা উচিত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গেলে সবাই তাঁর দিকে নজর রাখতেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নেতা।’

    শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মহাত্মা গান্ধী, কেনেডি, আনোয়ার সা’দাত ছাড়াও আরও অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে যা ঘটেছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি; আর ঘটবে বলেও আমার মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু সূর্যের মতোই সত্য। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, সংস্কৃতিকে ভালোবেসে ছিলেন, সকল মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন; মাথা উঁচু করে চলতেও শিখিয়েছিলেন।’

    সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বারবার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। চাইলেও কেউ মুছে দিতে পারবে না তাঁর নামটি। তিনি থাকবেন গানের সুরে, কবিতার ছন্দে কিংবা শিল্পীর রংতুলির আঁচড়ে।

    সন্ধ্যায় হানিফ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে একক আবৃত্তি করেন আহ্কাম উল্লাহ্, রফিকুল ইসলাম, তামান্না সারোয়ার নীপা, মাসুজ আজিজুল বাশার ও ঝর্না সরকার। একক কণ্ঠে আরিফ রহমান গেয়ে শোনান ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’, শিমুল সাহা ‘মুজি বাইয়া যাওরে’, আবিদা রহমান ‘বঙ্গবন্ধু লও সালাম’। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা। তাদের শিল্পীদের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমরা সবাই বাঙালি’, ‘তোমার ও নাম মুছে ফেলবে এমন সাধ্য কার’ ও ‘সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’।

    আয়োজনে চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীরা নিজেদের মেধা, মনন, শ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে গোটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৃষ্টি করে আসছে মহৎ সব শিল্পকর্ম। দেশের জন্য বয়ে আনছে মর্যাদা ও সম্মান। এ আয়োজন সে ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি জানান, সুবিশাল এ কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন দেড় শতাধিক চিত্রশিল্পী। প্রতিকৃতির ছবি নির্বাচন, লে আউট তৈরি, ক্যানভাস প্রস্তুতসহ কারিগরি কাজ শুরু হয় ১লা আগস্ট থেকে। বর্তমানে টিএসসির মিলনায়তন ও সুইমিংপুল চত্বরে হয়েছে ক্যানভাসে লাইন ড্রয়িংয়ের কাজ।

    এবার জাতির জনকের ৪৩তম প্রয়াণ দিবসের নিরিখে এই উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যানভাসের ওপর অ্যাক্রিলিক রঙে আঁকা হয়েছে মূল ছবি। কোনো তুলি বা অন্য কোনো মাধ্যম নয়, ফ্রেমের শরীরে রং লেগেছে শিল্পীদের হাতের আঁচড়ে। এরপর অনেকগুলো টুকরো ফ্রেমের ক্যানভাসে স্বতন্ত্রভাবে একেকটি অংশ এঁকেছেন ভিন্ন ভিন্ন শিল্পী। পরে টুকরোগুলোকে একত্রে জুড়ে দিয়ে তৈরি হয় মূল পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি।

    ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে চিত্রকর্মটি।

  • কোটা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী লুৎফুর নাহার লুমা গ্রেপ্তার

    কোটা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী লুৎফুর নাহার লুমা গ্রেপ্তার

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুর নাহার লুমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোররাত সাড়ে চারটায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার খিদ্রচাপড়ি এলাকার তাঁর দাদার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও বেলকুচি থানার পুলিশ।

    লুৎফুর নাহার ইডেন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

    লুৎফুর নাহারের আত্মীয়দের সূত্রে জানা গেছে, তাঁর খোঁজে পুলিশ সিরাজগঞ্জে তাঁর দাদার বাড়িতে যায়। তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

    বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এটা ছিল কাউন্টার টেররিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও বেলকুচি থানার যৌথ অভিযান। লুৎফুর নাহারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • এ যেন অন্য সাকিব

    এ যেন অন্য সাকিব

    ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলবেন না, সেটি গত মাসেই জানিয়ে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সময়টা কাজে লাগাচ্ছেন পবিত্র এক উদ্দেশ্যে। হজ পালন করতে সাকিব সৌদি আরব পৌঁছে গেছেন দুদিন আগে।

    হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সাকিব শুরুতে গেছেন মক্কায়। সেখানে পৌঁছার পর শুরুতেই হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে মাথা মুণ্ডন করেন। এর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। সাকিবের মুণ্ডিত মাথার ছবি নিয়ে বেশ কৌতূহল তাঁর ভক্ত-সমর্থকদের। ছবিটি এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। ছবি দেখে অচেনাই লাগছে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে!

    পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষেই সাকিব আবারও ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত হবেন কি না, সেটা বলা কঠিন। তাঁর বাঁ হাতে আঙুলের অস্ত্রোপচারের বিষয়টি সমাধান হয়নি এখনো। কাল বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান অবশ্য জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন সাকিবের ওপরই। যদি ব্যথা সামলে এশিয়া কাপ খেলা যায়—বিসিবি চায়, বাংলাদেশ অলরাউন্ডার অস্ত্রোপচারটা করুন এশিয়া কাপের পর।

    এশিয়া কাপের আগে অস্ত্রোপচার করালে সাকিব টুর্নামেন্টটি খেলতে পারবেন না। হজের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ মাসের শেষে দেশে ফেরার কথা আছে সাকিবের। হজ পালন করে এসেই কি তবে অস্ট্রেলিয়ার বিমানে চাপবেন সাকিব? নাকি যাবেন এশিয়া কাপ খেলেই!

    সাকিবকে নিয়ে এখন এ রকম কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্নই ঘুরছে কেবল। ১১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ায় ছুটিতে যাওয়ার সময় জাতীয় দলের ফিজিও থিলান চন্দ্রমোহন সাকিবের আঙুলের চোটের মেডিকেল রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে গেছেন। সেগুলো দেখিয়েছেন আঙুলের চোটের বিশেষজ্ঞ শল্যবিদ গ্রেগ হয়কে। কিন্তু শুধু কাগজপত্র আর রিপোর্ট দেখে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেননি হয়।

    কাল বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিষ চৌধুরী জানিয়েছেন, চন্দ্রমোহন গ্রেগ হয়ের সঙ্গে কাগজপত্র নিয়ে দেখা করেছেন। কিন্তু হয় বলেছেন, তিনি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে চান সাকিবের চোটটা সরাসরি দেখে। অস্ত্রোপচারে এই চোট ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, আগে সেটি বুঝতে চাচ্ছেন তিনি।
    সে ক্ষেত্রে সাকিব হজ পালন করে ফেরার পরই সিদ্ধান্ত হবে, তিনি কবে যাবেন অস্ট্রেলিয়া—এশিয়া কাপ খেলে, নাকি তার আগেই।

  • বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটির আদলে বরিশালে প্রতিকৃতি

    বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটির আদলে বরিশালে প্রতিকৃতি

    বরিশাল নগরে নাজিরের পুলের দক্ষিণ দিকে কয়েক দিন ধরে মানুষের ভিড়। এ সড়কেই রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে প্রতিকৃতি। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উপস্থাপিত হয়েছে ১৫ আগস্টের ঘাতকদের নৃশংসতা। ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত শুক্রবার থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় করছেন, অবনতচিত্তে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে ধিক্কার জানাচ্ছেন ঘাতকদের।

    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এবার বরিশালে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) রফিকুল ইসলাম খোকন। ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের এই প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে বেশ কিছু প্ল্যাকার্ড, যেখানে লেখা আছে ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’, ‘রক্তে ভেজা সিক্ত মাটি, বিবর্ণ এই ঘাস, বুকের মাঝে রাখা আছে বঙ্গবন্ধুর লাশ’। এখান থেকেই মাইকে বেজে উঠছে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান এবং ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডয়ের স্বীকৃতি পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।
    কেন ৩২ নম্বরকে তুলে ধরার এই প্রয়াস? এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘বাড়িটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই বাড়ি, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সম্পর্কে হয়তো জানে না। তাদের জানানো এবং এই সত্য ইতিহাসের বিষয়ে কৌতূহলী করে তোলাই ছিল আমার লক্ষ্য।’

    নানা কারণে বাঙালি ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে একসূত্রে গেঁথে আছে ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক বাড়ি। এই বাড়ি ঘিরে জন্ম নিয়েছে বাঙালি ও বাংলার হিরণ্ময় ইতিহাস। তেমনি মিশে আছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল বাংলাদেশের মর্মন্তুদ বেদনার কালো অধ্যায়। যে বাড়ি ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার, সেই বাড়িকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে কলঙ্কিত ইতিহাসের নিথর সাক্ষী বানিয়েছিল ঘাতকেরা।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এই বাড়িতে। এই দিনটি স্মরণে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলটি নির্মাণ করা হয়। নগরে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম এবং ব্যতিক্রমী। এ জন্য গত শুক্রবার থেকেই সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
    গোলাম সরোয়ার নামে একজন কলেজশিক্ষক বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলে রেপ্লিকাটি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার বিষয়টি দেখতে পারছে।