Author: Banglarmukh24

  • ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি

    ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তার আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘাতকচক্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করলেও তার স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। তিনি বলেন, আসুন, আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তার ত্যাগ এবং তিতিক্ষার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ ধারণ করে সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

    আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান তিনি।

    জাতীয় শোক দিবসে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, ‘জাতির পিতার দূরদর্শী, সাহসী এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, নিজস্ব পতাকা ও জাতীয় সংগীত। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন পুরো জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধী চক্র তাকে হত্যা করে। এ হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়।’

    ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। তারা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথও বন্ধ করে দেয়।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে। বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়। রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে।’

    ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ১০ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকেও ঘৃণ্য ঘাতকরা এ দিনে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলও নিহত হন। ঘাতকদের কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজনও হতাহত হন।

  • জাতীয় শোক দিবস আজ

    জাতীয় শোক দিবস আজ

    শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত দিন। জাতীয় শোক দিবস আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিন জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ দিনে বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্ক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী কর্মকর্তা আর ক্ষমতালিপ্সু কতিপয় রাজনীতিক। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের নারী-শিশুরাও সেদিন রেহাই পায়নি ঘৃণ্য কাপুরুষ এই ঘাতকচক্রের হাত থেকে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্য। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। জনমানস থেকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে ঘাতকরা ৪৪ বছর আগে যাকে হত্যা করেছিল, বাঙালির হৃদয়ে অবিনাশী হয়ে আছেন।

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি পালনে সারাদেশে আজ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। আজ সরকারি ছুটি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে ১৫ আগস্টে শাহাদাৎবরণকারী জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আজ টুঙ্গীপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ও ঢাকায় ৩২ নম্বরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে তার জনককে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

    বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে। জাতির পিতা ও তার পরিবারবর্গের নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি দীর্ঘ ৩৪ বছরেরও বেশি সময় পর সেই কলঙ্ক থেকে জাতির দায়মুক্তি ঘটে। বঙ্গবন্ধু হত্যার চূড়ান্ত বিচারের রায় অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতের পর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতির জনক হত্যা, ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলের ঘৃণ্য ও তমসাচ্ছন্ন অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বাঙালির বিজয়ের অভিযাত্রাও আরেক ধাপ এগিয়েছে। বিদেশে পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে।

    যারা শহীদ সেই কালরাতে: একাত্তরে পরাজিত শক্তি মুজিব দর্শন ও তার আদর্শে এতটাই ভীত ছিল যে, কাপুরুষোচিত আক্রমণ থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরাও রেহাই পাননি। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামে যিনি ছায়ার মতো পাশে থেকে মনোবল দিয়েছেন, সেই সাহসিনী বঙ্গমাতা বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবও ঘাতকদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। বরং মাথা উঁচু করে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী হয়ে চলে গেলেন দেশের তরে। ঘাতকের বুলেট থেকে বঙ্গবন্ধুর তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, শেখ জামাল ও নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলও রেহাই পাননি। বঙ্গবন্ধুর নিজের পছন্দের পুত্রবধূ সুলতানা কামাল দেশের একজন খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ এবং আরেক পুত্রবধূ রোজী জামালও শহীদ হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের পায়ের সমস্যা নিয়েও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। তার মতো শান্ত ও বিচক্ষণ প্রগতিশীল মানুষকেও ঘাতকরা হত্যা করেছে ওই রাতে।

    বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিল আহমেদ, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও ধানমন্ডির বাড়িতে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করে ঘাতকরা। ঘাতকদের মূল টার্গেট ছিল, তারা বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবার ও নিকটাত্মীয় কাউকেই পৃথিবীতে জীবিত রাখবে না। সে অনুযায়ী সেদিন ওই ঘাতকরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হত্যার এক জঘন্য উল্লাসে মেতে উঠেছিল। হত্যা করেছিল বিভিন্ন ঘরে ও একাধিক বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ মোট ২৬ জনকে।

    জানা যায়, ১৫ আগস্ট কালরাতে খুনি মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে প্রথমেই আক্রমণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণির বাসায়। এরপর আক্রমণ করা হয় বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে। প্রথমেই খুনি বজলুল হুদা ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালকে। বাসার নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির মাঝামাঝিতে গুলি করে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধুর বুকে ও পেটে ১৮টি গুলি লাগে। নিথর দেহ পড়ে থাকে সিঁড়িতে। এরপর ধীরে ধীরে সবাইকে গুলি ও ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের। ঘাতকের হাত থেকে রেহাই পায়নি ১০ বছরের শিশু রাসেলও।

    দাফন : পরদিন ঢাকার স্টেশন কমান্ডার আবদুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর মরদেহ ছাড়া ১৫ আগস্টে নিহতদের দাফন করেন। আবদুল হামিদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে কফিনে নিহতদের মরদেহ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ সংগ্রহ করে বনানী কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। বনানী কবরস্থানে সারিবদ্ধ কবরের মধ্যে প্রথমটি বেগম মুজিবের, দ্বিতীয়টি শেখ নাসেরের, এরপর শেখ কামাল, সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, শেখ রাসেল, ১৩ নম্বরটি শেখ মণির, ১৪ নম্বরটি আরজু মণির, ১৭ নম্বরটি সেরনিয়াবাতের আর বাকি কবরগুলো সেদিন এই তিন বাড়িতে যারা মারা গিয়েছিলেন তাদের।

    ১৬ আগস্ট বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গীপাড়ায়। সেখানে তাকে দাফন করা হয় তার বাবার কবরের পাশে। কিন্তু দাফনের আগে যে ধর্মীয় বিধিবিধান তা পালন না করেই মরদেহের সঙ্গে যাওয়া সেনাসদস্যরা জাতির পিতাকে কবরস্থ করতে আদেশ দেয়। কিন্তু স্থানীয় উপস্থিত ইমাম সাহেব ও অন্যান্য সবাই মরদেহ কবর দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাধ্য হয়েই ঘাতকদের প্রতিনিধিরা মাত্র ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়। ফলে একজন দৌড়ে গিয়ে পাশের মুদি দোকান থেকে একটা কাপড়কাচা সাবান নিয়ে এলে তা দিয়েই গোসল করানো হয়, সাদা পুরনো কাপড় দিয়ে কাফন বানানোর পর বঙ্গবন্ধুর মরদেহ সমাহিত করা হয়েছিল।

  • ১৫ আগস্ট কালরাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশু সাদিক আজ বিসিসি মেয়র

    ১৫ আগস্ট কালরাতে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া শিশু সাদিক আজ বিসিসি মেয়র

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে ঢাকার ২৭ মিন্টো রোডের বাসায় গুলিবিদ্ধ মায়ের কোলের মধ্যে থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনের রক্তে ভেজা সেই সময়ের মাত্র দেড় বছরের শিশু আজকের বরিশাল সিটি কর্পোরেশেনর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

    স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় আসা এক উদীয়মান সূর্য সাদিক আব্দুল্লাহর আলোয় আলোকিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির অঙ্গন। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি (সাদিক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন।

    তিনি (সাদিক) বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠপুত্র মন্ত্রী পদমর্যাদার পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র জ্যেষ্ঠপুত্র। তাই পূর্বপুরুষের পদাঙ্ক অনুসরণ করে মুজিব অন্তঃপ্রাণ সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নিজেকে শুধু যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবেই নয়; দলীয় নেতাকর্মীদের আশা ও ভরসার প্রতীক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে বিএনপির কাছে বেদখল হয়ে যাওয়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। দলীয় মনোনয়নে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সাদিক আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বরিশাল নগরীকে একটি তিলোত্তমা অপরূপা শহরে রূপান্তরিত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে রক্তঝরা অচিন্তনীয় বিয়োগান্তক অধ্যায়ের শোকগাঁথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে দাদা তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও চার বছরের ভাই সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারিয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সেই ভয়াল কাল রাতে অলৌকিকভাবে তার (সাদিক) বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বুলেটবিদ্ধ হয়ে মা শাহান আরা বেগম ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশুপুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ প্রাণে বেঁচে যান। শরীরে ঘাতকের বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মা শাহান আরা বেগম ও স্বজন হারানো বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ন্যায় সাদিক আব্দুল্লাহও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুখ-দুঃখের অংশীদার।

    ৭৫’র পরবর্তী সেনাশাসক জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার এবং ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও মিথ্যা মামলাসহ নানা ষড়যন্ত্রে হয়রানির শিকার করা হয় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারকে। তবে সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এ পরিবারটি বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল ও শেষ ঠিকানা।

    আজও তারা করে স্বজন হারানোর দুঃসহ বেদনা ॥ ভয়াল ও আতঙ্কের কালো রাত্রির রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের পাশাপাশি হামলা চালিয়েছিল সেরনিয়াবাত পরিবারের ওপর। ওইদিন ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন মন্ত্রী (বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা) আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ২৭ মিন্টো রোডের বাসভবনে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ঘাতকরা তাদের পরিকল্পনা সফল করতে হেভি মেশিনগান সংযোজিত দ্রুতগতির জীপ, প্রচুর পরিমাণে এমুনিশন ও গুলিসহ এক প্লাটুন ল্যান্সার সৈন্য নিয়ে ইতিহাসের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মিন্টো রোডের বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ বরিশালের একটি ব্যান্ড গ্রুপের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রথমেই বাসার সিকিউরিটিকে নিষ্ক্রীয় করতে খুব দ্রুতগতিতে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে। শুরু করে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ। গুলি শব্দে বাড়ির সকলের ঘুম ভেঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে পরেন। ব্যাপক আক্রমণের একপর্যায়ে ঘাতকরা বাড়ির সবকিছু তছনছ করে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে আক্রমণের শুরুতেই আব্দুর রব সেরনিয়াবাত তার বাড়ির রেডফোন দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ মনিকে বিষয়টি অবহিত করে জানতে পারেন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির চারদিকেও একই অবস্থা। এতে সে (রব সেরনিয়াবাত) তাৎক্ষণিকভাবে বিমূঢ় হয়ে বসে পরেন। সে সময় আব্দুর রব সেরনিয়াবাত শুধু মুখে একটি কথাই বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ বংশে বাতি দেয়ার মতো তওফিক রেখ’। ঠিক সেই মূহূর্তে ঘাতক সৈনিকরা দরজা ভেঙ্গে বাসার মধ্যে প্রবেশ করে সকলকে নিচতলায় নিয়ে আসে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন-আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার স্ত্রী আমিনা বেগম, মেয়ে বেবী ও বিউটি সেরনিয়াবাত, ছেলে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী শাহান আরা বেগম ও তার সন্তানসহ বরিশালের অনেকেই। ঘাতকরা দোতালা থেকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে নিচতলায় নামিয়ে আনার সময় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ৪ বছর ১ মাস ২৩ দিন বয়সের শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত মায়ের কোলে যেতে চাইলে শহীদ সেরনিয়াবাত তাকে কোলে তুলে নেন। পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের ঘাতকরা একটি কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ সময় ঘাতকের হুংকারে আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের স্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বোন আমিনা বেগম ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন-‘বাবা তোমরা কি আমাদের মাইরা ফেলবা’ এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঘাতকদের নির্মম ব্রাশফায়ার।

    ঘাতকের ক্রমাগত ব্রাশফায়ারে একে একে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার স্ত্রী আমিনা বেগম, পুত্রবধূ শাহান আরা বেগম, শহীদ সেরনিয়াবাত ও কোলে থাকা সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতসহ অন্যান্যরা। কোমরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহান আরা বেগমসহ অন্যরা কাতরাচ্ছিলেন। ঘাতকরা এ অবস্থায় চলে যায়। এ সময় আহত বিউটি সেরনিয়াবাত রক্তাক্ত রব সেরনিয়াবাতকে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলে ঘাতকরা ফিরে এসে দ্বিতীয় দফায় গুলি চালায়। ঘাতকের নির্মম ১৬টি বুলেট বিদ্ধ হয় বেবী সেরনিয়াবাতের শরীরে। এ সময় ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়ে যায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একমাত্র মেয়ে কান্তা সেরনিয়াবাত ও দেড় বছরের ছেলে (বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র) সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। ঘাতকের গুলিতে সেদিন আরও নিহত হয়েছিলেন বরিশালের ক্রিডেন্স ব্যান্ড গ্রুপের সদস্য আব্দুর নাঈম খান রিন্টু ও আহত হন ক্রিডেন্স ব্যান্ডের সদস্য ডাঃ খ.ম জিল্লুর রহমানসহ অনেকে।

    সেই ভয়াল কাল রাতে তৎকালীন মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মিন্টো রোডের বাড়িতে বরিশালের ছয়জন নারী-পুরুষ নির্মম হত্যার শিকার হয়েছিলেন। তারা হলেন, সাবেক মন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বোনজামাতা কৃষক নেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ভাইয়ের ছেলে সাংবাদিক শহীদ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত, ক্রিডেন্স শিল্পগোষ্ঠীর সদস্য আব্দুর নঈম খান রিন্টু। আহত হয়েছিলেন নয়জন। তারা হলেন, আমিনা বেগম, শাহান আরা বেগম, বিউটি সেরনিয়াবাত, হেনা সেরনিয়াবাত, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, রফিকুল ইসলাম, ললিত দাস ও সৈয়দ মাহমুদ।

    পরেরদিন সকালে তৎকালীন রমনা থানার ওসি এসে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসায় গুলিবিদ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে যায় রব সেরনিয়াবাতের স্ত্রী আমিনা বেগম, মেয়ে বিউটি সেরনিয়াবাত, ছেলে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতসহ আরও কয়েকজন।

    সেদিন ভাগ্যক্রমে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ঘাতকের নির্মম বুলেট থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও আজও ভয়াল রাতের দুঃসহ স্মৃতি ও স্বজন হারানোর তীব্র বেদনা বইয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি (হাসানাত) সহ সেরনিয়াবাত পরিবারের সদস্যরা।

  • দেশে পর্যাপ্ত লবণের মজুদ: তবুও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে লবণের দাম বাড়ানোর পায়তারা

    দেশে পর্যাপ্ত লবণের মজুদ: তবুও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করে লবণের দাম বাড়ানোর পায়তারা

    জেলা করেসপন্ডেন্টঃ কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত লবণের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক সংকট তৈরি করে লবণ আমদানির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এমন অভিযোগ লবণ চাষি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।

    তবে মিল মালিকরা বিষয়টি সম্পুর্ণভাবে অস্বীকার করেন। এ অবস্থায় লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদ, উপকূলের চাষিদের বাঁচাতে লবণ আমদানির অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

    কক্সবাজারের উপকূলবর্তী এলাকা লবণ উৎপাদনের মাঠ। হাজার হাজার একর জমিতে চাষিরা সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জমিয়ে সূর্যের তাপে ৩ থেকে ৪ দিন কড়া রোদে পানি শুকিয়ে তৈরি করেন লবণ। কক্সবাজার ও বাঁশখালীর ৬০ হাজার একর জমিতে ৫৫ হাজারের বেশি চাষি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন করে থাকে লবণ।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী রেকর্ড পরিমান অর্থাৎ ১৮.২৪ লক্ষ মে.টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

    গত ৩১ জুলাই ২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমান ৮.৮৭ লক্ষ মে. টন। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে।

    লবন চাষিদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে চাষিদের কাছে স্বল্পমূল্যে লবণ ক্রয় করে অধিক মুনাফা করছে মিল মালিকরা। তবুও দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সংকট তৈরি করে আমদানির পাঁয়তারা চালাচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু মিল মালিক।

    এক লবণচাষী জানান, ‘কেজিপ্রতি আমরা লবনের মূল্য পাচ্ছি ৭ টাকা। আর পাশ্ববর্তী দেম ভারত থেকে আনলে তাদের খরচ পড়ে ২-৩ টার কম। কিন্তু তাদের লবন নিম্নমানের হওয়ার সত্বেও বেশি মুনফার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আমদানির ষড়যন্ত্র করছে। ফলে দেশের লবণ চাষিরাও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

    আরেকজন জানান, ‘যারা বড় বড় মিলার আছেন, তারা কেজি প্রতি ৪০-৪৫ টাকা দরে লবণ বিক্রি করে। দেশে চাহিদা অনুযায়ী প্রচুর পরিমাণ লবণ উৎপাদন হওয়ার পরও তারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে লবণ আমদানি করতে চাচ্ছে।’

    তবে মিল মালিকরা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে দায় চাপালেন মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর। এ অবস্থায় উপকূলের চাষিদের বাঁচাতে লবণ আমদানি বন্ধ করার দাবি জানালেন লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের নেতা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইরে বরিশাল বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অঃ দাঃ) মো. জালিস মাহামুদ জানান, বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে। তবুও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এছাড়া বিসিক চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সারাদেশে জরুরি নোর্টিস জারি করা হয়েছে যেন কেউ লবণ সংকট সংক্রান্ত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফায়দা লুটতে না পাড়ে।

    বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর জরুরি নোর্টিসে বলা হয়।

    বিসিকের সকল শিল্প সহায়ক কেন্দ্র প্রধানের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, লবণ চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সরকারের সার্বিক সহায়তার ফলে লবণ উৎপাদনে এ বছর বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী রেকর্ড পরিমান অর্থাৎ ১৮.২৪ লক্ষ মে.টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।

    গত ৩১/০৭/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমান ৮.৮৭ লক্ষ মে. টন। বর্তমানে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে, তথাপিও একটি মহল লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। সেই সাথে সম্মানীত লবণ ব্যবসায়ীগণকে লবণ ক্রয় সংক্রান্ত যে কোন প্রয়োজনে বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়, লবণ শিল্পের উন্নয়ন কর্মসুচি, মোটেল রোড, কক্সবাজার-এর সাথে মোবাইল নং ০১৭৩৩-৭০৭২১৭ এবং টেলিফোন নং ০৩৪-১৬৩৫৪০ তে) অবস্থিত বিসিকের লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যক্রম কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করতে হবে।

  • হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু

    হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু

    বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫০টি দেশ থেকে আসা ২৫ লাখের বেশি মুসলিমদের হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এদের বেশিরভাগই সৌদি আরবের বাইরের নাগরিক। শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাতে মিনায় অবস্থান করবেন হাজিরা। শনিবার (১০ আগস্ট) ফজরসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর তারা যাবেন মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাতের ময়দানের দিকে।

    মক্কার আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, হজের সময় মক্কার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। আর্দ্রতা থাকবে ৮৫ শতাংশ। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, যা হজযাত্রীদের জন্য কিছুটা হলেও আরামদায়ক হবে।

    আরাফাতে যাওয়ার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে মুসল্লিরা পায়ে হেঁটে, হুইল চেয়ারে, বাসে; যে যেভাবে পারেন পৌঁছাবেন। সবার শরীর সাদা কাপড়ে ঢাকা থাকবে। এদিন ‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের ময়দান।

    শনিবার আরাফাতের ময়দান থেকে মুসল্লিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই রওনা দেবেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন। এখানে খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন তারা। তারপর মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য পাথর সংগ্রহ করবেন।

    রোববার (১১ আগস্ট) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়। জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এরপর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা।

    হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে হাজিদের দেশে ফেরার পালা।

  • পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়, দামও চড়া

    পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড়, দামও চড়া

    ঈদুল আজহা বাকি আর মাত্র তিনদিন। ইতোমধ্যে ভরে গেছে রাজধানীর পশুর হাটগুলো। কোরবানির পশু কিনতে ভিড় জমিয়েছে মানুষ। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। তবে দাম বেশ চড়া বলছেন ক্রেতারা। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় পশু বিক্রি করছে না বিক্রেতারা।

    শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। প্রতিটি পশুর হাটে গরু-ছাগলের ও খামারিদের পাশাপাশি ক্রেতা দিয়ে হাট কানায় কানায় পূর্ণ।

    শুক্রবার বিকেল থেকে হাটে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। পছন্দের গরু কিনতে চলছে দর কষাকষি। দাম সাধ্যের মধ্যে হলে কুরবানির গরুটি কিনে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন।

    বাপ্পি রহমান নামের রাজধানীর পুরান ঢাকায় একজন ক্রেতা এসেছেন সামসাবাদ মাঠ ও নয়াবাজার পশুর হাটে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গরুর অভাব নেই তবে দাম অনেক বেশি। কেজি ৬০০ টাকা ধরেও মাংস অনুপাতে যে গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা হওয়ার কথা, ওই গরুর দাম হাকাচ্ছে দেড় লাখ টাকা। যে চড়া দাম দেখা যাচ্ছে আজকে মনে হচ্ছে কিনতে পারব না।

    রহমান বলেন, ভেবেছিলাম দুপুরের পর দাম কিছুটা সাধ্যের মধ্যে আসবে কিন্তু এখনো কেনাবেচা পুরোদমে শুরু হয়নি। পাইকাররা গরু ছাড়ছে না বাজার দেখছে। ঘুরছি পছন্দ হলে কিনবো তা না হলে কাল আবার আসবো।

    কমলাপুর পশুর হাটে গরু কিনতে আসা আহসানুল্লাহ বিক্রেতার সঙ্গে দর দাম করছে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গরুর বেপারি দাম চেয়েছিল এক লাখের উপরে। ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনলাম; হাসিল (খাজনা) নিয়ে ৮০ হাজার পড়ে যাবে। দাম খুব চড়া। তারপরও কি আর করা, কুরবানির গরু পছন্দ হয়েছে তাই কিনলাম।

    গরুর দামের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনার সাথিয়া থেকে আসা খামারি হাফিস উদ্দিন জানান, কসাইর মাংসের হিসেবে কোরবানির পশু বিক্রি করা যায় না। তাছাড়া গরুর দাম অত বেশি না। আমাদের গরুপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বড় হোক আর ছোট, সব গরুর ভাড়া একই। তাদের খাওয়ার খরচও এক, তাই সামান্য একটু দাম বেশি হতেই পারে।

    বাজার সম্পর্কে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে বড় গরুর তুলনায় ছোট গরুর দাম বেশি। বিক্রেতারা এখনো গরুর দরদাম দেখছেন। গরু ছাড়তে চাইছেন না তারা।
    এদিকে গরুর পাশাপাশি ছাগলও কেনা-বেচা হচ্ছে। তবে গরুর মতো ছাগলের দামও চড়া। ছোট আকারের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। তবে ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ছাগলের বেশি চাহিদা। এসব ছাগলের দাম হাকা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

    এছাড়া বড় আকারের ছাগলও হাটে উঠেছে। কমলাপুর পশুর হাটে সিরাজগঞ্জ থেকে এক মণ ওজনের ছাগল নিয়ে এসেছে হাফিজ। সাদা হরিণ নামের এ ছাগলটির বিক্রেতা দাম হাঁকাচ্ছেন ৬০ হাজার টাকা।

  • তাপমাত্রা বাড়তে পারে শনিবার

    তাপমাত্রা বাড়তে পারে শনিবার

    দেশে অধিকাংশ জায়গায় আজ (৯ আগস্ট) বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় কম হয়েছে শুক্রবার। যে নিম্নচাপটির কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে, সেটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে দেশে মৌসুমী বায়ু মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। সেই হিসাবে আগামীকাল শনিবারও বৃষ্টিপাত হবে, তবে তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

    সেজন্য সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।

    পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও বলছে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। আর পরবর্তী ৫ দিনে বৃষ্টিপাত প্রবণতা বাড়তে পারে। শুক্রবার ভোর ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৭৩ মিলিমিটার। তার পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় (শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ঢাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১ মিলিমিটার।

    সন্ধ্যা ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে কুতুবদিয়ায়, ১১৫ মিলিমিটার। শনিবার ঢাকায় সূর্য উঠবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে।

  • স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষকের খোঁজে তথ্যমন্ত্রী

    স্কুলজীবনের প্রিয় শিক্ষকের খোঁজে তথ্যমন্ত্রী

    চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ছাত্র ছিলেন হাছান মাহমুদ। সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ তথ্যমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে দিন-রাত ব্যস্ত থাকলেও ভুলতে পারেননি মুসলিম হাই স্কুলের স্মৃতি।

    ভালোবাসার টানে শুক্রবার (৯ আগস্ট) সকালে শৈশবের স্মৃতি জড়ানো বিদ্যাপীঠ মুসলিম হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাককে তার বায়েজিদের বাসায় দেখতে যান তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

    শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে তথ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।

    ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মুসলিম হাই স্কুলে শিক্ষকতা করেছেন মোহাম্মদ ইসহাক। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। বহুদিন পর কাছে পেয়ে ড. হাছান মাহমুদের কাছে মোহাম্মদ ইসহাক জানতে চান, তোমার সন্তান কয়জন? মন্ত্রী জবাব দেন, ‘আমার এক ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, মেয়ে এ-লেভেলে পড়ছে।’ বলতেই শিক্ষক বলে ওঠেন, ‘দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ভালো। চট্টগ্রামে সবচেয়ে ভালো স্কুল হচ্ছে তিনটি- মুসলিম হাই, কলেজিয়েট ও খাস্তগীর।’

    নবম শ্রেণির শেষের দিকে হাছান মাহমুদ বয় স্কাউট টিমের ক্যাপ্টেন হন। একই সঙ্গে রেডক্রস টিমেরও সদস্য তখন। এসবে মেতে থাকার ফলে প্রিয় ছাত্র লেখাপড়ায় কিছুটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন বলে মনে হয়েছিল ইসহাক স্যারের। তাই তিনি একদিন সাইকেল চালিয়ে হাছান মাহমুদের বাবার কাছে গিয়ে অভিযোগ দেন। বলেন, আপনার ছেলে তো এখন পড়ে না, নেতাগিরি করে। হাছান মাহমুদের বাবা রাগী মানুষ ছিলেন। শুনেই ছেলেকে দিলেন মাইর। সেই স্মৃতি হাতড়ে কিছুক্ষণ হাসাহাসি করেন ছাত্র-শিক্ষক।

    প্রিয় শিক্ষকের কাছে তথ্যমন্ত্রী জানতে চান, এখন মুসলিম হাই স্কুলে পড়াশোনার মান কেমন? জবাব আসে, ‘খুবই ভালো। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়- এর মধ্যে থাকেই।’ পাশ থেকে আরেকজন যোগ করেন, ‘শতভাগ পাসের হার, এবার ৩১২ জন জিপিএ- ৫ পেয়েছে।’

    প্রসঙ্গক্রমে প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘উদারতার কোনো বিকল্প নেই। আকাশসম উদারতা দেখাতে হবে।’ বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজামকে নিজের প্রিয় সাংবাদিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    আলাপচারিতায় শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করেছি, আবার বৈরুতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে এমএ করেছি, এরপর শিক্ষকতায় এসেছি।’ এ সময় তথ্যমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘স্যারের যোগ্যতা এত বেশি যে, শিক্ষকতায় না আসলে পাকিস্তানের সচিব হতেন।’

    মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, ‘আমি তো সেখানে (প্রশাসনের কর্মকর্তা) যাব না বলে আগে থেকেই ঠিক করেছিলাম।’ স্মৃতিচারণ করে তথ্যমন্ত্রী জানতে চান, স্যার আগে সাইকেল চালাতেন, এখনও চালান? জবাব আসে, ‘অনেকদিন ধরে চালাই না।’

    তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে আগামীতে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে প্রত্যাশার কথা জানান প্রবীণ শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাক। তিনি বলেন, একজন ডক্টর আরেকজন ডক্টরের মূল্য বুঝবেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একজন লিডার, তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্বে ভালো করতেন বলেও বিশ্বাস করেন এ শিক্ষক।

    একটু দ্বিমত পোষণ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ডা. দীপু মনি শিক্ষায় খুব ভালো করছেন।’

    ফিরে যাওয়ার আগে আরেকবার প্রিয় শিক্ষকের পা ধরে সালাম করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শিক্ষক মোহাম্মদ ইসহাকও মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করেন প্রিয় ছাত্রকে।

    তথ্যমন্ত্রীর একই ব্যাচের স্কুলবন্ধু জামাল নাছের ও সামশুদ্দিন দুলাল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

  • কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টায় অপসারণ

    কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টায় অপসারণ

    কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নগরবাসীর সহায়তা চেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেছেন, প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির বর্জ্য প্রথম দিনে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে।’

    শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার মোড়সংলগ্ন ধোলাইখাল পশুর হাট পরিদর্শন এবং মশার লার্ভা ধ্বংস ও ফগিং কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ সব কথা বলেন ঢাকা দক্ষিণের এ নগরপিতা।

     

    মেয়র খোকন বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও কোরবানির বর্জ্য প্রথম দিনে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করা হবে। এ জন্য নগরবাসীকে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি দেয়ার আনুরোধ জানাচ্ছি। তবে কেউ যদি কোনো কারণে নির্দিষ্ট স্থানের পরিবর্তে নিজ আঙিনা বা সুবিধাজনক স্থানে কোরবানি করেন, তাহলে সেই পশুর বর্জ্য ড্রেনে ফেলবেন না। কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে দেয়া বর্জ্য ব্যাগে ভরে মুখ বন্ধ করে সড়কের পাশে রাখবেন যাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহজেই এ ময়লা অপসারণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধে নগরী পরিচ্ছন্ন করতে পারে। এ ছাড়া কোরবানির স্থানে স্যাভলনের পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন যেন পরিবেশ দূষণ না ঘটে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির ২য় দিনের বর্জ্য দিনশেষে রাতের মধ্যে এবং ৩য় দিনের বর্জ্য ওইদিন রাতের মধ্যেই অপসারণ করা হবে। পরিচ্ছন্নতা কাজে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। অন্যথায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    হাট পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ছাত্রদলের কাউন্সিল ১৪ সেপ্টেম্বর

    ছাত্রদলের কাউন্সিল ১৪ সেপ্টেম্বর

    আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। একইসঙ্গে বিলুপ্ত কমিটির ১২ নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের কমিটি করার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের স্কাইপের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ছাত্রদলের পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। ঈদের পর ১৩ অথবা ১৪ আগস্ট ছাত্রদলের কাউন্সিলের দিন-ক্ষণ ও স্থান জানানো হতে পারে।

    ছাত্রদলের কাউন্সিল উপলক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘ছাত্রদলের কাউন্সিল ১৪ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা অফিসিয়ালি ঘোষণা দেয়া হবে। ছাত্রদলের যে ১২ জন বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের বহিষ্কার আদেশও প্রত্যাহার করা হবে, তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

    আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, ২০০০ সালের আগে যারা এসএসসি পাস করেছে তারা কাউন্সিলে প্রার্থী হতে পারবেন না। তখন এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ছাত্রদলের ‘বয়স্ক’ নেতাদের একাংশ বিদ্রোহ শুরু করেন। বাদ পড়া নেতারা বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সামনে টানা বিক্ষোভ করেন। ফলে ১৫ জুলাই কাউন্সিল করতে ব্যর্থ হন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ক্ষুব্ধ নেতাদের সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্কাইপের মাধ্যমে কথা বলে তাদের শান্ত করেন।

    যদিও ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের ক্ষোভ প্রশমনে বিশেষভাবে কাজ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তারাই মূলত সমাধানের পথ বের করেন। তাদের বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, হাবিবুর রশিদ হাবিব, তাইফুল ইসলাম টিপু, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, নিপুণ রায় চৌধুরী, আব্দুল মতিন, আবু সাঈদ। বিদ্রোহীদের মধ্যে ইখতিয়ার রহমান কবির ও জহির উদ্দিন তুহিন।

    বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের শেষ দিকে ছাত্রদলের কাউন্সিলের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেয়া হবে।