Author: Banglarmukh24

  • বরিশালে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে তানিয়া

    বরিশালে স্ত্রীর মর্যাদা পেতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে তানিয়া

    বরিশাল সদর উপজেলা চরকাউয়া ইউনিয়নের চরআইচা গ্রামের আলতাফ খানের ছেলে রাসেল খানের সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয় তানিয়ার।

    গত বছরের ৩ আগষ্ট বিয়ে হয় তাদের । সংসার বেশ ভালোই চলছিলো তানিয়া ও রাসেলের। কিন্তু হঠাৎ পারিবারিক বিরোধের কারণে স্ত্রীর মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয় বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের নৈমিত্র গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানিয়া আক্তার।

    দরিদ্র ঘরের মেয়ে জেনেও প্রস্তাবের মাধ্যমে তানিয়াকে বিয়ে করেন রাসেল খান। তানিয়া গরিব ঘরের কন্যা হওয়ায় এখন তাকে মেনে নিতে চাইছেন না রাসেল ও তার পরিবার ।

    এতে তানিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মাঝে পড়ে যায়। সূত্র জানা গেছে, তানিয়া ও রাসেল ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দেড় লক্ষ টাকা দেনমোহরে তানিয়াকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের ৬-৭ মাস যেতে না যেতেই গা-ঢাকা দে রাসেল। স্বামীকে কোথাও খুজে পাওয়া যায় তানিয়া ।

    জানাগেছে রাসেলের সাথে তানিয়ার বিয়ে হওয়ার ২ মাস পার হতে না হতেই রাসেল ব্যাবসা করার নাম করে তানিয়া ও তার পরিবারের কাছ থেকে ৭৬ হাজার টাকা নেয় ।

    এদিকে নাম প্রকাশ না করে শর্তে চরআইচা এলাকাবাসী বলেন, রাসেল আরও ২-৩ টি বিয়ে করেছেন। এমনকি বিয়ে করার নামে মেয়ে পক্ষের কাছ থেকে টাকা হাতানো হচ্ছে তার মূল পেশা । সুত্রমতে আরও জানা গেছে রাসেল বিভিন্ন নেশা করে এবং বাসায় এসে বউকে মারধর করে, যার সাক্ষি আছেন রাসেলের বর্তমান স্ত্রী তানিয়া।

    তানিয়া আরও বলেন আমার মায়ের কাছ থেকে আবার ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে রাসেল । আমার পরিবারের পক্ষ টাকা দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানালে আমাকে স্ত্রীর হিসাবে মানতে নারাজ ।

    এখন স্ত্রী’র মর্যাদা পেতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যাচ্ছি কিন্তু কোন লাভ হয় না তাতে । কিছুতেই কোন কাজ হচ্ছে না, সকলের দ্বারে দ্বারে গিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে তানিয়া ও তার পরিবার।

    এ ব্যাপারে তানিয়ার মা জানায়, তার স্বামী অসুস্থ, সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে দিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে রাসেল তার মেয়েকে টাকা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে ।

    তিনি আরো বলেন, রাসেলের বাবা আলতাফ খানের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তিনি তাদের বাড়ি থেকে আমাদের তারিয়ে দেন। আলতাফ খান গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি হয় না ।

    এ বিষয়ে তানিয়া আক্তার জানান, তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তার সাথে রাসেল প্রতারণা করছে। তানিয়া আরো জানায়, গোপনে রাসেল তার বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ করে। সঠিক বিচার পেতে সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অসহায় তানিয়া ও তার পরিবার।

    এবিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা হায়দার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে ।

  • বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বেপরোয়া প্রাইভেটকারের তান্ডব, আহত-৫, চালককে গণধোলাই

    বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বেপরোয়া প্রাইভেটকারের তান্ডব, আহত-৫, চালককে গণধোলাই

    আজ (শুক্রবার) কিছুক্ষণ আগে বরিশাল বাধ রোড দিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যান (বেলস পার্ক) এ ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে একটি প্রাইভেট কার।

    এতে বাদাম বিক্রেতা, মোটর আরোহী সহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। উৎসুক জনতা ধাওয়া দিয়ে প্রাইভেট কারটি ধরে চালককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে। চালকের নাম মিরাজ হোসেন। সে ত্রিশ গোডাউন এলাকার বাসিন্দা। গাড়ির মালিক ভাটারখালে রেন্ট এ কার ব্যবসায়ী কালাম।

    আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ড্রাইভার ও গাড়ি কোতয়ালী থানা পুলিশ নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

  • বরিশালে অতিরিক্ত ভিড়ে নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা আগেই ছাড়ছে লঞ্চ

    বরিশালে অতিরিক্ত ভিড়ে নির্ধারিত সময়ের ১ ঘণ্টা আগেই ছাড়ছে লঞ্চ

    অনলাইন ডেস্ক : ঈদ শেষ হওয়ার পর চতুর্থ দিনে আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বরিশাল নৌবন্দরে রাজধানীমুখি কর্মজীবি যাত্রীদের ভিড় ব্যাপক বেড়েছে। এতে সন্ধ্যার আগেই প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীদের ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। লঞ্চের ডেক থেকে শুরু করে প্রথম শ্রেণীর কেবিনের বারান্দাও জায়গা খালি ছিল না।

    এদিকে যাত্রীদের ভিড়ে ওভারলোড এড়াতে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই লঞ্চগুলোকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাট ছাড়তে বাধ্য করে। যাত্রী ভরে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থা না করায় হাজারের বেশি যাত্রী ঘাট থেকে ফেরত গেছেন।

    বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদের প‌রের‌দিন থে‌কে গত তিনদিনে যে যাত্রী হয়নি তার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রীর সমাগম ঘটেছে শুক্রবার। লঞ্চগুলো বরিশাল নদীবন্দর থেকে রাতে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকেই যাত্রীরা ঘাটে আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে ডেক শ্রেণীর যাত্রীরা জায়গা পাওয়ার জন্য আগেভাগে ঘাটে আসেন এবং লঞ্চে উঠেন।

    বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই) মো. কবির হোসেন বলেন, গত ১৩ আগস্ট (মঙ্গলবার) থেকে রাজধানীর উদ্দেশে ঈদ ফেরত যাত্রীদের বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু হয়। গত ক’দিন বৃষ্টি থাকলেও আজ আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভালো। নদী বন্দরে যাত্রীদের চাপ গত কয়েকদিনের তুলনায় অনেক বেশি। দুপুর থেকে যাত্রীরা লঞ্চে উঠতে শুরু করলেও বিকেল নাগাদ নদী বন্দর যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, জায়গা সংকটের কারণ সব লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরের টার্মিনালে বার্দিং করতে পারেনি। যে লঞ্চগুলো বার্দিং করতে পারেনি, তারা অন্য লঞ্চের সঙ্গে বেঁধে কিছুটা ঝুঁকি নেয়ে যাত্রী তুলছে।

    লঞ্চ যাত্রীরা কোনো সমস্যার কথা না জানালেও পন্টুনে ভ্রাম্যমাণ হকার ও ভিক্ষুকদের কারণে তাদের স্বাভাবিক যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি কাউন্টারে গিয়ে কেবিন না পেলেও ঘাটে এসে চড়া দামে স্টাফ কেবিন পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। যা প্রশাসনের সামনেই হাঁক-ডাক দিয়ে বিক্রি করা হলেও কেউ কিছু বলছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

    বরিশাল নৌ-বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, আগের ক’দিনের চেয়ে আজ যাত্রী চাপ বেড়েছে। তবে আমরা কোনো লঞ্চই ওভারলোড হয়ে ছাড়তে দিচ্ছি না। লঞ্চ ছাড়ার আগে চেক করে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লোড লাইন দেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চগুলোকে ঘাট ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    আর লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, ঈদের সময় এমনিতেই কোনো নির্ধারিত সময় থাকে না। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই লঞ্চে উঠতে বলা হয়।

    এদিকে যাত্রীদের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌবন্দরের ভেতরে এবং বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্দর এলাকা ঘিরে র‌্যাব-৮, মেট্রোপলিটন পুলিশ, ডিবি, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, মে‌রিন ক্যাডেট ও স্কাউট সদস্যরা নদী বন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তার কাজ করছেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত নদী বন্দর এলাকায় তাদের মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

  • পিরোজপুরে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন ছাত্রলীগ নেতা

    পিরোজপুরে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন ছাত্রলীগ নেতা

    স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক হাসান।

    গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার মধ্য ঝনঝনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তারেক হাসান উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তুতবাড়ি গ্রামের আবুল হাশেম খলিফার ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র পরিবারের ওই নারী বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। পরবর্তীতে চিতলমারী উপজেলায় তার বিয়ে হলে সেখানে চলে যান। এরই মধ্যে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পাঁচ বছরের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে আবার মামার বাড়িতে চলে আসেন।

    বুধবার ওই নারীর মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা তারেক ওই নারীর ঘরে ঢুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই নারীর মামাতো ভাই সুজনসহ স্থানীয়রা তারেককে হাতেনাতে আটক করেন। পরে কৌশলে পালিয়ে যান তারেক।

    বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী বিয়ের দাবিতে তারেক হাসানের বাড়িতে অবস্থান নেন। ঘটনা জানাজানি হলে মাটিভাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খান মো. মিজানুর রহমান ওই নারীকে তারেকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

    ধর্ষণের শিকার নারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে মেলামেশা করতো তারেক। বুধবার রাতে ঘরে ঢুকে আমাকে ধর্ষণের সময় তারেককে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। ওই সময় তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হয়। কিন্তু রাতে কৌশলে পালিয়ে যায় তারেক। পরে বিয়ের দাবিতে তার বাড়িতে অবস্থান নিলে আমাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম চৌধুরী তাপস বলেন, ঘটনা সত্য হলে তারেক হাসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ করা হবে।

    নাজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুল ইসলাম  বলেন, ঘটনাটি প্রেমঘটিত মনে হচ্ছে। ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তারেক অস্বীকার করে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নারী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি এ শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

    আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    বেলা পৌনে ১১টার দিকে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

    দোয়া মাহফিলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

  • শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আগস্টের শহীদদের স্মরণ

    শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আগস্টের শহীদদের স্মরণ

    শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির স্মরণে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাশাপাশি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের শহীদদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পালন করেছেন বিভিন্ন কর্মসূচি। বৃহস্পতিবার সূর্য উদয়ের ক্ষণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

    pm

    পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিজড়িত ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে ওই ভবনের যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ পড়েছিল সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন। পরে তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন।

    এরপর বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহত প্রধানমন্ত্রীর মা, ভাই, পরিবারের অন্য সদস্য ও আত্মীয়দের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    পরে ১৫ আগস্ট নৃশংসভাবে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ বনানী কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।

    PM-2

    পরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

    এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

    পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এ মিলাদ মাহ্ফিলে অংশ নেন।

    বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ১৫ আগস্ট নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    শোক দিবসে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।

    PM-3

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। সেদিন বিদেশে থাকায় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রাণে বেঁচে যান।

    শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

    বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

    আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের থানা ও ওয়ার্ড ইউনিট।

    জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

  • বরিশালে শোক দিবসে দুস্থ শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    বরিশালে শোক দিবসে দুস্থ শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

    বরিশালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে ব‌রিশাল সি‌টি করপো‌রেশন (বি‌সি‌সি) উদ্যোগে ৩শ দুস্থ ও এতিম শিশুর অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন-রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১ টায় বরিশাল ক্লাবে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

    শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, সরকারি শিশু পরিবার বালক-বালিকা, অপরাজেয় বাংলাদেশের দুস্থ ও এতিম শিশুরা এ চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

    প্রতিযোগিতার শুরুতে বি‌সি‌সি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এতিম শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি ঘুরে ঘুরে শিশুদের আঁকা ছবি পরিদরর্শন করেন।

    প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, শুধুমাত্র দুস্থ ও এতিম শিশু-কিশোরদের নিয়ে এতো বড় আয়োজন এ প্রথম। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দুস্থ ও এতিম শিশু-কিশোররা সবাই উচ্ছ্বসিত।

    প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন বিসিসি মেয়রের সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহ।

    জানা গেছে, বি‌সি‌সি উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যে এবারে ভিন্নধর্মী এ চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। যেখানে দু’টি গ্রুপে রচনা প্রতিযোগিতা এবং তিনটি গ্রুপে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আয়োজনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের ক্রেস্ট, সনদ, পুরস্কার হিসেবে বই ও অর্থ দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সবার জন্য পুরস্কার ও খাবারের আয়োজন করা হয়।

    সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হাসান বাবলু বলেন, প্রতিবার বরিশালজুড়ে জাতীয় শোকদিবসে নানা আয়োজন থাকে। তবে আমার জানা মতে এটাই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতা যেখানে দুস্থ ও এতিম শিশুদের অংশগ্রহণে করা হয়েছে। প্রতিযোগিরাও স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়েছে, যাদের প্রত্যেকের জন্য মেয়রের উদ্যোগে পুরস্কার ও খাবারের আয়োজন করা হয়।

  • শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    অনলাইন ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি এ শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে বেঁজে ওঠে করুণ সুর। প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

    এরপর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে তিনি সরাসরি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান।

    আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আমীর হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ ফারুক খান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। এরপর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    বেলা পৌনে ১১টার দিকে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

    দোয়া মাহফিলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা, সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এরপর বেলা ১১টা ৪০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

  • ১৫ আগষ্ট কালরাতের বুলেটবিদ্ধ হয়ে দু:সহ যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছেন শাহানারা আব্দুল্লাহ

    ১৫ আগষ্ট কালরাতের বুলেটবিদ্ধ হয়ে দু:সহ যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছেন শাহানারা আব্দুল্লাহ

    জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) ও বরিশাল জেলা আ’লীগের সভাপতি সিংহ পুরুষ খ্যাত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির সহধর্মীনি শাহানারা আব্দুল্লাহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে শরীরে বিদ্ধ বুলেটের দু:সহ যন্ত্রণা সহ্য করে স্বামীর সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।

    শিশু পুত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু সহ স্বজন হারানোর সেই দুঃসহ রাত তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িত করে।চোখের সামনে বিভীষিকাময় সেই রক্তস্নাত রাতের স্মৃতি ভেসে উঠলে চোখ বেয়ে তার অশ্রুধারা নেমে আসে। এ কষ্ট আমৃত্যু তাকে বহন করতে হবে। শোকের মাস এলে তার সেই কষ্ট আরও বহুগুন বেড়ে যায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে শিশু পুত্র ও স্বজনদের রক্তমাখা নিথর মৃত মুখ। ১৫ আগষ্ট সেই দু:সহ রাতের কথা মনে পড়লেই তিনি আবেগ আপ্লুত ও অশ্রু সজল হয়ে পড়েন।সেই রাতে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়ায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

    আপসোস করেন সেই রাতে বঙ্গবন্ধুও যদি সপরিবারে বেঁেচে যেতেন তাহলে ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো। বাংলাদেশ রূপ নিতো সোনার দেশে। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ ১৫ আগষ্ট নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বাকী খুনি ও চক্রান্তকারীদের ফাঁসির দাবী জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে রক্তঝড়া অচিন্তনীয় বিয়োগান্তুক অধ্যায়ের শোকগাথাঁয় জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে শ্বশুর তৎকালীণ কৃষিমন্ত্রী ও কৃষক কুলের নয়নের মনি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও নিজের শিশু পুত্র সুকান্ত আব্দুলাহ সহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারান শাহানারা আব্দুল্লাহ ।সেদিন রাতে মৃত্যুর দুয়ার থেকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের অপার কৃপায় অলৌকিকভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বুলেটবিদ্ধ শাহানারা আব্দুল্লাহ ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশু পুত্র বর্তমান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ প্রাণে বেঁচে যান।

    শরীরে বেশ কয়েকটি বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে শাহানারা আব্দুল্লাহ স্বামী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির মতো আ’লীগের সুখ-দুঃখের অংশীদার। জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও মহিলা আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও শহীদ আ. রব সেরনিয়াবাত স্মৃতি পরিষদেরও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালণ করছেন তিনি।

    তিনি তার স্বামী জেলা আ’লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি ও পুত্র বরিশাল সিটির জননন্দিত মেয়র যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সোনারবাংলা বির্নিমানে সমানতালে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছেন।৭৫’র পর সেনাশাসক জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে (৯১-৯৬ ও ২০০১-২০০৬) মিথ্যা মামলা সহ নানা ভাবে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয়। ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হন তারা।

    তবে সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এ পরিবারটি বরিশালে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল ও শেষ ঠিকানা।

  • যথাযথ মর্যাদায় বরিশালে জাতীয় শোক দিবস পালন

    যথাযথ মর্যাদায় বরিশালে জাতীয় শোক দিবস পালন

    হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করল গোটা বরিশালবাসী। এই মহান নেতার ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস আজ বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) উপলক্ষে সকালে ৮টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বর এবং নগ‌রের সো‌হেল চত্বর, আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যাল‌য় চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতরা।

    এছাড়া সকাল ৭টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান, বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান সহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্ধ। 

     

    এরপর শহীদ সোহেল চত্ত্বরে দলীয় কার্যালয়ের পাশে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহান আরা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সংযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

    এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে একটি শোক র‌্যালী বের করা হয়। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হওয়া র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    পাশাপাশি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মাইনুল হাসান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এর আগে প্রেসক্লাবের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।

    অপরদিকে শোক দিবস উপলক্ষ্যে এতিম ও ছিন্নমুল শিশুদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। যা বেলা ১১টায় নগরীর শোহেল চত্ত্বরে পাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামেনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ কর্মসূচি পালন করে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

    এছাড়াও বাদ জোহর নগরীর কালিবাড়ি রোডস্থ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া-মোনাজাত এর আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া বাদ আসর একই স্থানে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।