Author: Banglarmukh24

  • ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

    আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সে সময়ের মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবার বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্তভাবে মুজিবনগর দিবস পালন করবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে বাইরে থেকে লোক না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে কুষ্টিয়া জেলার সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালানোর পর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।

    ওই সরকারের শপথগ্রহণের স্থান বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। মুজিবনগরে ১২ জন আনসার সদস্য বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়নীতিবহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।

    এদিকে ঘরে বসেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঘরে বসেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

  • চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প

    চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প

    চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনেট এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে।

    ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মিয়ানমারের ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব এবং ভারতের আইজল থেকে ১৬৮ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ছিল। এটি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার নিচে ছিল। উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯।

     

    চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে একই সময়ে ভূমিকম্প হয়। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

  • করোনা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাই পাশ

    করোনা: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাই পাশ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে পাশ স্ব স্ব ক্লাসে পাশ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ক্লাসে কোন শিক্ষার্থীর পাশে আটকানো হবে না বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।

    বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাসগুলির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। তবে নবম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কী ভাবে পড়াশোনা চালানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে। এসব ক্লাসে কেই ফেল করবে না। নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ই-মেইল,ওয়েবসাইট এমনকি টেলিভিশনের মাধ্যমেও তা করা সম্ভব্য কি না, সে বিষয়ে কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার অনুমোদন দিলেই তা কার্যকর করা হবে।

     

    এদিকে রাজ্যটিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে মমতা সরকার। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭। মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ জন। আর গোটা ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬৫ জন। এক দিনে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৫০।

  • নতুন সূচিতে ব্যাংকে লেনদেন ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত

    নতুন সূচিতে ব্যাংকে লেনদেন ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত

    করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে সীমিত আকারে ব্যাংকের লেনদেন চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বৃজস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবসস্থপক আমিনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন করতে পারবে। আর ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

    এর আগে একই কারণে গ্রাহকের লেনদেনের সুবিধার্থে গত ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটির সময় ৫ দিন সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা ছিল। ওই সময়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়। আর ব্যাংক খোলা ছিল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকের লেনদেন এক ঘণ্টা এবং খোলা রাখার সময় দেড় ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

  • সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে দায়িত্ব পালনকালে সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৃহস্পতিবার বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনকালে মুখে মাস্ক ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরো ২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

     

    আজ আইইডিসিআর-এ ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্য সেবা অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গত ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে মারাত্মক এ ভাইরাসে আরো ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জনে দাঁড়ালো। বাসস

  • মরদেহ সৎকারে প্রতি উপজেলায় ১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণের নির্দেশ

    মরদেহ সৎকারে প্রতি উপজেলায় ১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণের নির্দেশ

    করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটিকে মরদেহ সৎকারে প্রতি উপজেলায় ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন করে প্রশিক্ষণ দিতে নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

    দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাধারণ কিছু রোগের মৃত্যুকে করোনা জনিত মৃত্যু ভেবে আতঙ্কের কারণে মরদেহ সৎকারের ভীতি এবং অনীহা প্রকাশের কারণে এ নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে এবং কমিটির জন্য সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

    ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, অন্য রোগের মৃত্যুকে করোনা জনিত মৃত্যু ভেবে করোনা আতঙ্কের কারণে মৃতদেহ সৎকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে লোকজন ভীতি এবং অনীহা প্রকাশ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মৃতদেহ সৎকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় পর্যায় থেকে তিনজন নারীসহ কমপক্ষে ১০ জনকে (৩ জন মহিলাসহ) স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। এ ১০ জন মরদেহ সৎকারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করবে। তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য স্থানীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা আল-মারকাজুল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    স্থানীয় পর্যায়ে মৃতদেহ সৎকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন ও তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা আল-মারকাজুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ প্রদান করা হলো। সরকারের এ নির্দেশনা অবগতির জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে করোনা প্রতিরোধে ১ মার্চ একটি জাতীয়সহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করে সরকার। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে ইউএনওকে প্রধান করা হয়েছে।

    এছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার ক্যলাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়।বাসস

  • বরিশালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ অনুষ্ঠিত

    বরিশালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ অনুষ্ঠিত

    দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পূর্ব প্রস্তুতি টেকসই উন্নয়নে আনবে গতি এই স্লোগান নিয়ে আজ ১০ মার্চ সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সিপিপি, আভাস, ওয়াল্ড ভিশন, সেভ দ্য চিলড্রেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সেইন্ট বাংলাদেশ, ব্র্যাক, কারিতাস ও সারডো সহযোগিতায় জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে সরকারি জিলা স্কুলের মাঠে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় অতিথিরা দুর্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করে। পরে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের দুর্যোগ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রস্তুতির উপর এক মহড়া প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল এস, এম, অজিয়র রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী, সহসভাপতি বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগ বরিশাল মোঃ হোসেন চৌধুরী, পরিচালক ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স বরিশাল মোঃ মমতাজ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স বরিশাল মোঃ ফারুক হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার বরিশাল মোঃ আনোয়ার হোসেন, বীর প্রতীক কে এস এম মহিউদ্দিন মানিক, প্রধান শিক্ষক বরিশাল সরকারি জিলা স্কুল বিশ্বনাথ দাস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বরিশাল প্রশান্ত কুমার রায়, নির্বাহী পরিচালক সেইন্ট বাংলাদেশ কাজী জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। আগামীকাল সকাল ১০ টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস ২০২০ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

  • বরিশালে ছিনতাইকারী আটক

    বরিশালে ছিনতাইকারী আটক

    শামীম আহমেদ ॥

    পূর্বশত্রুতার জের ধরে ব্যাবসায়ীর স্ত্রীকে কুপিয়ে ভুড়ি বের করে দিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনতাই মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ। বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর)খাইরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

     

    গ্রেফতারকৃত আসামি লাল মিয়া(২৯) বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের রবিপুর গ্রামের বাশার হাওলাদারের ছেলে।

     

    উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) খাইরুল আলম জানান,গত ২০ ফেব্রয়ারি সকালে ঢাকায় টাইলস ব্যাবসায়ী হানিফের স্ত্রী নিশি বেগম বরিশাল থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বরিশাল ফকির বাড়ী রোড হোটেল আবিদের কর্মচারী লাল মিয়া(২৯) কে এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চে সিট রাখতে বলেন।বিকাল ৫ টায় নিশি বেগম বাড়ি থেকে বরিশাল লঞ্চঘাটে এসে লালমিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।

     

    তখন লালমিয়া নিশিবেগমকে কাশীপুরে জমি দেখানোর কথা বলে অটোরিক্সায় কাশীপুর নিয়ে রাস্তার পাশে নির্জন যায়গায় বসে নিশিবেগমকে লালমিয়ার সাথে থাকা চাকুদিয়ে কুপিয়ে ভুড়ি বের করে দিয়ে নিশিবেগমের সাথে থাকা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।পরে স্থানীয়ারা নিশি বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন।

     

    পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।এ ঘটনায় নিশি বেগমের স্বামী ঢাকায় টাইলস ব্যাবসায়ী হানিফ এব্যাপারে গত ২৬ ফেব্রয়ারি বরিশাল বিমান বন্দর থানায় একটি ছিনতাই মামলা করেন।

     

    উপ-পুলিশ কমিশনার খাইরুল আলম আরও জানান,ইতিপূর্বে আসামী লাল মিয়ার সাথে নিশি বেগমের স্বামী হানিফের অর্থলেনদেন সংক্রান্ত শত্রুতা ছিল।

     

    রবিবার (৮ মার্চ)দুপুরে উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) খাইরুল আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারি পুলিশ কমিশনার (এয়ারপোর্ট) মোঃ রবিউল ইসলাম শামিম এর নের্তৃত্বে বিমানবন্দর থানার ওসি (অপারেশন) মোস্তাফিজুর রহমান,এস আই মাইনুলের টিম বরিশাল ফকিরবাড়ী রোড হোটেল আবিদ থেকে লাল মিয়াকে গ্রেফতার করে।

     

    গ্রেফতারকৃত আসামি লাল মিয়াকে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • বরিশালে প্রেম মেনে না নেওয়ায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

    বরিশালে প্রেম মেনে না নেওয়ায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

    শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সমাজ ও পরিবার প্রেম মেনে না নেওয়ায় এবং পরিবারে বিয়ের স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকা আত্মহত্যা করতে একসাথে বিষপান করেছে।

     

    স্বজনদের মাধ্যমে উভয়কে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতালে ভর্তি প্রেমিক-প্রেমিকার আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের পরিমল বিশ্বাসের ছেলে প্রকাশ বিশ্বাস (১৭) এর সাথে একই ইউনিয়নের মোহনকাঠী গ্রামের হীর লাল বৈরাগীর মেয়ে ও মোহনকাঠী স্কুল এ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী পুজা বৈরাগীর (১৬) সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিলো।

     

    উভয়েই তাদের পরিবারে বিয়ের কথা জানালে উভয়ের পরিবার তাতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের বিয়েতে উভয়ের পরিবার অসম্মতি জানালে সোমবার সকালে প্রেমিক প্রকাশ ও প্রেমিকা পুজা একত্রে পাশ্ববর্তি উজিরপুর উপজেলার ভাউধর গ্রামে প্রেমিক প্রকাশের মামা নিহার বাড়ৈর বাড়িতে যায়।

     

    সেখানে তারা সোমবার দুপুরে আত্মহত্যার জন্য একত্রে বিষপান করে। বিষপানের পর উভয়ে অসুস্থ হয়ে পরলে দু’জনকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রধান ডাঃ বখতিয়ার আল মামুন জানান, উভয়কে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ২৪ ঘন্টার আগে তাদের পরিস্থিতি ভাল মন্দ কিছু বলা যাবে না। তবে প্রকাশের চেয়ে পুজার অবস্থা একটু খারাপ।

  • বাবাই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন আরিফাকে

    বাবাই বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন আরিফাকে

    আরিফা চৌধুরী হিমেল পেশায় সহকারী জজ। বর্তমানে কর্মরত মানিকগঞ্জে। জন্ম ১৯৯২ সালের ৩০ জুন। জন্মস্থান বরিশাল। বাবা মো. হান্নান চৌধুরী এবং মা হেনা চৌধুরী। শিক্ষাগ্রহণ করেছেন ব্যাপটিস্ট মিশন বালিকা বিদ্যালয়, অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সম্প্রতি তার স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন । সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাহিদ হাসান—

    ছোটবেলা কেমন কেটেছে? বেড়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই—
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: ছোটবেলা কেটেছে বরিশাল শহরে। আমার বড় হয়ে ওঠা যৌথ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু দুরন্ত ছিলাম। স্কুল-কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, নাচ—সবকিছুতেই অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করতাম। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কখনো কিছু শেখার সুযোগ হয়নি। আমার ফুফু এবং বোন তাসমী চৌধুরীর কাছে ছোটবেলায় ঘরে বসেই নাচ, গান শিখেছি। পরবর্তীতে আমার মা একজন গানের শিক্ষকের কাছে নিয়ে যান। তার কাছে কিছুদিন গানের হাতেখড়ি হয় এবং নতুন কুড়িতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাই। পরিবার থেকে নিয়ম করে দেওয়া ছিল রেজাল্ট ভালো না হলে কোনো কিছুই করা যাবে না। তাই পড়াশোনা ঠিক রেখেই সবকিছু করতে হতো। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়। তাই কলেজে প্রথম আলো বন্ধুসভায় কাজ করার অনুমতি পাই। সেখানে আবারও গান, নাচ, অভিনয় করাসহ সাংগঠনিক কাজ শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

    পড়াশোনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: ছোটবেলায় একটি জিনিসই বেশি শুনেছি, পড়াশোনা না করলে আর কিছুই করা যাবে না। তাই প্রতিবন্ধকতার প্রশ্ন ওঠে না বরং আমার দাদা পড়ার টেবিলের পাশে বসে থাকতেন। চাচি আসমা খন্দকার ছিলেন আমার শিক্ষিকা। তাই স্কুল-বাসা সব জায়গায়ই পড়াশোনায় অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় বাবা-মা ২ জনই পরীক্ষার হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগুলোয়ও বাবা কলা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন তৈরি হলো কখন থেকে?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: আমার ফুফু শামীমা আক্তার আর্ন্তজাতিক সংস্থায় চাকরি করতেন। তিনি দেশ-বিদেশ ঘুরে আমদের সাথে গল্প করতেন। উৎসাহ দিতেন পড়াশোনা করার, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন প্রথম তৈরি হয়; যখন কলেজের এক শিক্ষক একদিন বলেন, শুধু এখানে ভালো ফলাফল করলে চলবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হবে। তখন আসলে স্বপ্নের চেয়ে বেশি জেদ হয়। যেভাবেই হোক ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ে পড়তেই হবে। তবে আমার শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া সহযোগিতা করেছিলেন বলে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শেষ মুহূর্তে ঢাকায় কোচিং করার সুযোগ পাই। তা না হলে আমি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম না।

    jagonews24

    বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: সত্যি বলতে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন আমার নয়, আমার বাবার। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ৫ম হওয়ার কারণে আমার জন্য সব বিষয় উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু আমার বাবা রেজাল্ট জানার সাথে সাথেই বলেছিলেন, ‘আইন পড়তে হবে’। যাতে আমি বিচারক হতে পারি। আমি আইন পড়া শুরু করলেও ছাত্রজীবনে ১ দিনের জন্যও বিচারক হওয়ার কথা ভাবিনি। সবসময় বিতর্ক, ম্যুট কোর্ট, বিভিন্ন এনজিওতে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করি। ফলশ্রুতিতে আমার বন্ধুরা বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও আমি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করা শুরু করি। তবে কিছুদিন পর বুঝতে পারি, আমার কাজে আমার বাবা-মা খুশি নন। তারা চান আমি বিচারক হই। তাই ২০১৭ সালে ঠিক করি, একবার অন্তত সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দেখি। না হলে আর কখনো পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। তবে প্রথম ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই আমি জানতে পারি যে, মা হতে যাচ্ছি। পরবর্তী সময়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে কষ্ট হলেও আমার স্বামী এরশা উল্লাহ, বাবা, মা ও পরিবারের সবার সহযোগিতায় সুস্থভাবে পরীক্ষা দিয়েছি। ফলাফল পাওয়ার কিছুদিন পরে আমার ছেলে আরহানকেও কাছে পেয়েছি।

    ক্যারিয়ারের স্মরণীয় গল্প এবং কাজের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে জানতে চাই—
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: বিচারক হিসেবে আমার কাজের প্রতিটি দিনই স্মরণীয় এবং চ্যালেঞ্জময়। তবে আমার অল্প দিনের ক্যারিয়ারে এ মুহূর্তে স্মরণীয় ঘটনা মনে হচ্ছে—একটি পারিবারিক মামলায় বাবা তার মেয়ে সন্তানের ভরণ-পোষণ দিতে রাজি ছিলেন না। তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন। মেয়ের মা পড়াশোনা জানতেন না। কোনো চাকরিও করতেন না। তবুও বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ের দায়িত্ব আমার। আমি যেভাবে পারি, মেয়েকে সবকিছু দিয়ে মানুষ করে তুলবো।’ পরবর্তীতে আদালতের মধ্যস্থতায় বাবা মেয়ের ভরণ-পোষণ দিতে রাজি হন। তবে সেই নারী ভরা এজলাসে যেভাবে মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলেছিলেন, মনে হচ্ছিল মায়েরাই হয়তো পারে এভাবে নিজের কথা না ভেবে সন্তানের জন্য অবলীলায় যুদ্ধের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তে।

    বিচারকদের নারী হিসেবে আলাদা করে মূল্যায়নের কোনো সুযোগ আছে কি-না?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: আমি মূলত জেন্ডার ইক্যুয়ালিটিতে বিশ্বাস করি। তাই গর্ববোধ করি। কারণ এ সার্ভিসে নারী বা পুরুষ হিসেবে নয় বরং সবাইকে বিচারক হিসেবে সমভাবে মূল্যায়ন করা হয়। যদিও নারী বিচারকের সংখ্যা অনেক কম। তবে দিন দিন আশানুরূপভাবে নারী বিচারকের সংখ্যাও পুরুষের সমপরিমাণে বাড়ছে।

    jagonews24

    বিচারক হিসেবে নারীর অবস্থান, কর্মস্থলের পরিবেশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন—
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: আগেই বলেছি, বিচারকদের জেন্ডারের ভিত্তিতে নয় বিচারক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। তবে বাস্তবিকভাবে আর্থিক এবং পারিপার্শ্বিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে আমরা ইতিবাচক পরিবেশে কাজ করি। আমরা সব বিচারকই আসলে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থাকলেও আমাদের পরিবার কিংবা আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে আমরা নিজেরাও কিছুটা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করি। তবে এসব বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন। সময়ের সাথে এসব প্রতিকূলতারও সমাধান আসবে বলে আশা ব্যক্ত করি।

    যারা বিচারক হতে চান, তাদের উদ্দেশে পরামর্শ—
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: যারা বিচারক হতে চান, তাদের উদ্দেশে প্রথম পরামর্শ থাকবে—আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, বিচারিক জীবনের সব সুবিধার সীমাবদ্ধতা জেনে-বুঝে তবেই আপনি বিচারক হতে চান কি-না। যেদিন সিদ্ধান্ত নেবেন; সেদিন থেকে মূল আইনগুলো সঠিকভাবে পড়া শুরু করুন। সাথে অন্যান্য বিষয় তো আছেই। আপনার বিভাগীয় ফলাফল খুব আহামরী হতে হবে এমনটা নয়, মানসম্মত ফলাফল থাকলেই চলবে। আইনের যে বিষয়গুলো প্রতিদিন আদালতে বেশি দরকার হয়, সে বিষয়গুলো পরিচিত কারও কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন। তাছাড়া প্রিলি বা লিখিত পরীক্ষায় কিছু আইন বাদ দিলেও ভাইভায় আপনাকে যেকোনো ধরনের প্রশ্ন করা হবে। তার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তাই সব আইনের বিষয়ে ধারণা স্পষ্ট থাকতে হবে। সেই সাথে সমসাময়িক আন্তর্জাতিক এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দিকেও নজর রাখতে হবে। মোটকথা, ছন্নছাড়া ভাবে বা কিছু বাদ দিয়ে না পড়ে রুটিন করে গুছিয়ে সব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে তবেই পরীক্ষায় বসতে হবে।

    সহকারী জজ হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: ছাত্রজীবনে স্বপ্ন দেখতাম, বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করতে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে পড়তে যাব। স্বপ্নটাকে এখনো প্রতিদিন যত্ন করে লালন করছি। আপাতত তাই ছেলেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ রয়েছে।

    jagonews24

    দেশ নিয়ে কোন স্বপ্নটি দেখেন, কোন বিষয়টি পাল্টে দিতে খুব ইচ্ছে হয়?
    আরিফা চৌধুরী হিমেল: দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে খুব ভালোবাসি। দেশকে ঘিরে যেকোনো সুসংবাদ আমাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করে দেশের জন্য কিছু করতে। মাঝে মাঝে হতাশও হয়ে যাই, যখন দেখি এদেশের অনেক স্বপ্নবাজরা দেশের জন্য কিছু করতে গিয়ে দেশের মানুষের দ্বারাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে কোনো দিন যদি সৃষ্টিকর্তা সুযোগ দেন, তবে পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করতে চাই। কেননা বর্তমানে আমাদের পরিবেশ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ভবিষ্যতে আমাদের ভুলের জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে।