Author: Banglarmukh24

  • প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যার পর লাশ নিয়ে স্ত্রীর অঝোরে কান্না

    প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে হত্যার পর লাশ নিয়ে স্ত্রীর অঝোরে কান্না

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে স্বামীকে হত্যা করেছে স্ত্রী। এ ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে (২১) আটক করেছেন।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের শিকার ফরহাদুল ইসলামের (২৩) লাশ উদ্ধার পুলিশ।

    তিনি বিরল উপজেলার ৮নং ধর্মপুর ইউপির ধর্মপুর টিকড়িপাড়া গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে। তাদের তিন বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    পুলিশ জানায়, পরকীয়ার কারণে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। প্রায় সময় সংসারে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের বাড়িতে অপরিচিত এক পুরুষ যাতায়াত করতো। তবে এলাকার কেউ তাকে চিনতো না।

    গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্ত্রী তৈয়বা বেগম ও তার প্রেমিক মিলে পরিকল্পিতভাবে গলায় গামছা পেঁচিয়ে স্বামী ফরহাদুল ইসলামকে হত্যা করে। পরে সকাল বেলা লাশের সামনে বসে অঝোরে কান্নাকাটি করে প্রতিবেশীদের জানায় তার স্বামী মারা গেছে। তবে কীভাবে মারা গেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। এ সময় এলাকাবাসী ফরাদুল ইসলামের গলায় দাগ দেখতে পেলে তাদের সন্দেহ হয়। এলাকাবাসী থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ দেখে স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে আটক করে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিরল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এ টি এম গোলাম রসুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, নিহতের স্ত্রী তৈয়বা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ও তার প্রেমিক মিলে স্বামীকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন। প্রেমিককে ধরতে অভিযান চলছে। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

  • এবার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের স্ত্রী-মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

    এবার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের স্ত্রী-মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

    সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসার সহধর্মিণী ও মেয়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।

    শুক্রবার দুপুরে জেদান আল মুসা জানান, বৃহস্পতিবার তার সহধর্মিণী ফারিয়া বিনতে হক আর মেয়ের কডোবা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী লাবিবা নউমির রক্তের প্লাটিলেট নেমে যাওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    জেদান আল মুসা বলেন, গত কয়েকদিন থেকে মা-মেয়ে দুজনেই জ্বরে ভুগছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মা-মেয়ে দুজনের প্লাটিলেট নেমে যাওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে। তিনি সহধর্মিণী ও মেয়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  • সারাদেশে কমছে ডেঙ্গু রোগী

    সারাদেশে কমছে ডেঙ্গু রোগী

    রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমেছে। গত ৭ আগস্ট পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ গত তিন দিনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আয়েশা আক্তার এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি ৪০টি হাসপাতালে পরিসংখ্যান অনুসারে ৭ আগস্ট ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৭৫। ৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৫৯ জন ও ৯ আগস্ট তা আরও কমে ৯৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ঢাকার বাইরে ৭ আগস্ট রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৫৩ জন। ৮ আগস্ট রোগীর সংখ্যা ১৪ জন কমে ১ হাজার ১৬৭ জনে দাঁড়ায়। আজ ৯ আগস্ট রোগীর সংখ্যা কমে ১ হাজার ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাসপাতালে ২ হাজার ২ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী ভর্তি হন। মোট ভর্তি রোগীর মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৪৭ জন ও বিভাগীয় হাসপাতালে ১ হাজার ৫৫ জন।

    রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৮০, মিটফোর্ডে ৬৩, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৭, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫৩, বিএসএমএমইউতে ৩৬, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ১৪, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৩, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানা ঢাকায় ৪, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩৮ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

    বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৩৮, চট্টগ্রামে ২২৩, খুলনায় ১৪৯, রংপুরে ৭৫, রাজশাহী ১০৪, বরিশালে ১৬৭, সিলেটে ২৯ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ইতোমধ্যেই বাড়ি ফিরে গেছেন ২৭ হাজার ৮৭৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮ হাজার ৭৬৩ জন।

  • গাবতলীর অধিকাংশ পশুই স্টেরয়েডমুক্ত : র‌্যাব

    গাবতলীর অধিকাংশ পশুই স্টেরয়েডমুক্ত : র‌্যাব

    রাজধানীর স্থায়ী পশুর হাট গাবতলীর বেশিরভাগ গরু স্টেরয়েডমুক্ত ও আর্টিফিশিয়াল খাবারে মোটাতাজা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (৯ আগস্ট) গাবতলী পশুর হাটে র‍্যাব-৪ ও প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের সহযোগিতায় পশুর হাটে অভিযানের পর এসব জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

    সারওয়ার আলম বলেন, আজ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা গাবতলী পশুর হাটে পশু স্টেরয়েডযুক্ত কি না জানতে অভিযান পরিচালনা করেছি। দেখেছি এই হাটের অধিকাংশ পশু স্টেরয়েডমুক্ত ও আর্টিফিশিয়াল কিছু ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হয়নি। তবে কোথাও কোথাও গরুতে আমরা সমস্যা পেয়েছি, সেই অনুযায়ী তাদের পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, অভিযানকাকালে গরুর গায়ে স্টেরয়েড ইনজেকশন দেয়ার সময় এক বেপারিকে হাতেনাতে ধরেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে বিনাশ্রমে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে।

    তিনি বলেন, কেউ যেন কোনো স্টেরয়েড বা আর্টিফিশিয়াল কিছু ব্যবহার করে কোনো গরুকে ফোলাতে না পারে সেজন্য অভিযান পরিচালনা করছি। এগুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এছাড়া কুরবানির পবিত্র প্রাণীকে যেন কেউ অপবিত্র না করতে পারে। একই সঙ্গে গরু বেচতে এসে এমন শাস্তির কবলে পড়বেন না। আমরা চাই সবাই পবিত্র পশু নিয়ে আসবে এবং পবিত্রভাবেই বিক্রি করে বাড়ি ফিরে যাবেন।

    কুরবানির পশুর হাট চলাকালীন এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। ঢাকা জেলার পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, পশুকে এই ইনজেকশন দিলে পশুর মাংসে পানি জমে। যেহেতু প্রাণীর শরীরে পানি কিডনি দিয়ে ফিল্টার হয়ে শরীরে যায়। যেহেতু এই ইনজেকশনের ফলে কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়, হার্ড ঠিকমতো কাজ করে না, লিভার কাজ করে না।

    ফলে গরু হাপাতে থাকে। আর এভাবে এক সময় গরুটি মারা যায়। আর এ ধরনের পশু কিনে কুরবানি দেওয়ার পরে আমরা যখন খাবো তখন আমাদের শরীরেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে। আমাদের শরীরেও কিডনি ড্যামেজসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিবে। সেজন্য ভোক্তা, বিক্রেতা সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে পুলিশের লিফলেট বিতরণ

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে পুলিশের লিফলেট বিতরণ

    ‘ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হোন, প্রতিরোধে সতেষ্ট হোন’’ এই শ্লোগান নিয়ে পিরোজপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে জেলা পুলিশ উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

    শুক্রবার (৯ অগস্ট) বাদ জুমা পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন মসজিদে এই লিফলেট বিতরণ করা হয়।

    এতে ডেঙ্গু ভয়ঙ্কর নয়, এটি একটি ভাইরাস জনিত জ্বর তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, এডিস মশার বৈশিষ্ট্য, চলাফেরার সময়, রোগের লক্ষণ এবং করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের করনীয় সম্পর্কে নানা তথ্য উপস্থাপন সম্বলিত বিভিন্ন লেখা রয়েছে।

    বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়াটার্সের নির্দেশনা মোতাবেক বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের প্র্রচারনার অংশ হিসেবে পিরোজপুর সদর থানার ওসি এসএম জিয়াউল হকের নেতৃত্বে সকল জামে মসজিদে এ লিফলেট বিতরণ করা হয়

  • বিশ্বকে চমকে দিয়ে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা আমলার

    বিশ্বকে চমকে দিয়ে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা আমলার

    এমন কোনো কথা আগে থেকে শোনা যাচ্ছিল না। অবসরের পরিকল্পনার কথা হাশিম আমলা নিজেও বলেননি। সবাইকে চমকে দিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) হঠাৎই জানিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কোনো ফরমেটেই দেখা যাবে না তাকে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটটা চালিয়ে যাবেন।

    প্রায় ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা এভাবে হঠাৎ থমকে গেল আমলার। ২০০৪ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে অভিষেক হয়েছিল ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের। এরপর ২০০৮ সালে হয় ওয়ানডে অভিষেক, পরের বছর টি-টোয়েন্টি।

    এরপর দেশের হয়ে ১২৪টি টেস্ট, ১৮১ ওয়ানডে আর ৪৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন আমলা। সর্বশেষ বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের সবুজ জার্সিতে দেখা গেছে তাকে। ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান তখনও জানাননি অবসরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা।

    ক্রিকেট মাঠের শান্ত এবং ভদ্র মানুষ হিসেবে দারুণ নাম আছে আমলার। তার লেগ সাইডের ফ্লিক আর কভার ড্রাইভগুলো এক একটি ছিল যেন বাঁধিয়ে রাখার মতো শিল্পকর্ম।

    দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্টে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও গড়েন এই আমলা। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তার কীর্তি ছিল চোখে পড়ার মতো। ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ২ হাজার (৪০ ইনিংসে), ৩ হাজার (৫৭ ইনিংস), ৪ হাজার (৮১ ইনিংস) এবং ৫ হাজার (১০১ ইনিংস) রানের রেকর্ডও ড্যাশিং এই ব্যাটসম্যানেরই দখলে।

    বিদায়বেলায় এক বিবৃতিতে আমলা বলেছেন, ‘প্রথমত, সকল প্রশংসা এবং ধন্যবাদ সর্বশক্তিমানকে। যিনি প্রোটিয়াদের হয়ে আমাকে খেলার ভাগ্য করে দিয়েছেন। এটা আমার জন্য ছিল শুধু আনন্দ আর সম্মানের। অবিশ্বাস্য এই যাত্রায় আমি অনেক কিছু শিখেছি, অনেক বন্ধু পেয়েছি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রোটিয়াফায়ারের (দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের পরিচয় এবং সংস্কৃতি) মতো ভালোবাসার ভ্রাতৃত্ব পেয়েছি।’

    ভালোবাসা ও সমর্থন দেয়ার জন্য আমলা ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাবা মা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব, ক্রিকেট বোর্ড, সতীর্থসহ কোচ ও স্টাফদের। দলের সমর্থকরা তার ভালো করার শক্তি ছিল এমনটাই বলেছেন তিনি। আর শেষটা করেছেন সুন্দর দুটি শব্দ দিয়ে-‘ভালোবাসা এবং শান্তি।’

  • ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যুহার

    ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যুহার

    রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। তবে মৃত্যুহার বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, বুধবারের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪২৮ জন। তারমধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১ হাজার ২৭৫ জন এবং বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ১ হাজার ১৫৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩২৬ জন। তারমধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ১৫৯ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ হাজার ১৬৭ জন।

    এ হিসাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১১৬ জন কমলেও ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ জন।

    রাজধানীতে সার্বিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ১১৬ জন কমলেও সরকারি হিসাবেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মাত্র ৩-৪ দিন আগে মৃতের সংখ্যা মাত্র ৮ জন বলা হলেও বৃহস্পতিবার সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা বলা হয় ২৯ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি!

    সরকারি হিসাবে মৃতদের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চারজন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন এবং অবশিষ্ট ২৪ জন কোন কোন হাসপাতালে মারা গেছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তারা মারা গেছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৬৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়েছেন ২৫ হাজার ৮৭২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৬৭৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২ হাজার ৪২৮ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৩০, মিটফোর্ডে ১১৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫৬, বিএসএমএমইউ ৬৫, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ২২, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৪, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানা ৪, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩১ ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১০০ জনসহ ঢাকা শহরে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৮ জন। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৬৫ জন। বিভাগীয় শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৬৭ জন।

    ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৮৩, চট্টগ্রামে ২২৭, খুলনায় ১৭৯, রংপুরে ৬৬, রাজশাহীতে ১৩০, বরিশালে ১৭৮, সিলেট ৩৩ ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।

  • পপুলারে এডিসের লার্ভা, ২ লাখ টাকা জরিমানা

    পপুলারে এডিসের লার্ভা, ২ লাখ টাকা জরিমানা

    ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় রাজধানীর উত্তরায় পপুলার হাসপাতালকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) এডিস মশার লার্ভা নির্মূলে ডিএনসিসির ৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার।

    অভিযানে উত্তরার উইমেন মেডিকেল কলেজের ভেতরের ড্রেনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ২ লাখ ৫০ হাজার, গরিবে নেওয়াজ এভিনিউর লুবনা হাসপাতালকে ৩০ হাজার এবং উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের জাপান কাগুচি হাসপাতালকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া পপুলার হাসপাতালে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

     

    এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএনসিসি জানায়, এডিস মশার লার্ভা ও এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাওয়ায় মহাখালী অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেমায়েত হোসেন বারিধারার ১১টি বাড়ির মালিককে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া রাস্তা দখল করে কোরবানি পশু রাখার অপরাধে বারিধারা ৮ নম্বর সড়কে ওয়াহিদ খান নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কোরবানি পশু রাখার জন্য তৈরি করা ছাউনিটি উচ্ছেদ করা হয়।

    কারওয়ান বাজার অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর নাহিদ আহসান সাতবাড়ি কনস্ট্রাকশন সাইটের ভেতরে এডিস মশার লার্ভা খুঁজে পান। প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন তিনি।

    অভিযানে ডিএনসিসির সহযোগিতা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যরা। ডিএনসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

  • ফিলিপাইনে ৬২২ মৃত্যু, ডেঙ্গুকে জাতীয় মহামারি ঘোষণা

    ফিলিপাইনে ৬২২ মৃত্যু, ডেঙ্গুকে জাতীয় মহামারি ঘোষণা

    ডেঙ্গুতে অন্তত ৬২২ জনের মৃত্যু এবং দেড় লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডেঙ্গুকে জাতীয় মহামারি ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। এডিস মশা থেকে সংক্রমিত রোগটিতে চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর ডেঙ্গুকে জাতীয় মহামারি ঘোষণা করলো দেশটি।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে গত ২০ জুলাই পর্যন্ত মহামারি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ১ লাখ ৪৬ হাজার মানুষ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯৮ শতাংশ (প্রায় দ্বিগুণ) বেশি।

    কর্মকর্তারা বলছেন, গোটা দেশে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন বলে ডেঙ্গুকে জাতীয় মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। তারা বলছেন, বেশকিছু এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে জরুরিসেবা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ডেঙ্গু হলো এডিস মশাবাহিত একটি ফ্লু; তবে মাঝে মাঝে এটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

    সাম্প্রতিক দশকগুলোতে গোটা বিশ্বে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। গত মাসে ফিলিপাইন সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কতা জারি করে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে জাতীয় মহামারি ঘোষণা করা হলো।

    ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ফ্রান্সিসকো ডুক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে জাতীয় ডেঙ্গু মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে ওইসব এলাকা চিহ্নিত করে বিশেষ জরুরিসেবা দিতে হবে এবং মহামারি ডেঙ্গু মোকাবিলায় জরুরি তহবিল গঠন করবে স্থানীয় সরকার।’

    ফিলিপাইনে মহামারি ডেঙ্গুর কবলে সবচেয়ে বেশি ভুগছে দেশটির ওয়েস্টার্ন ভিসিয়াস অঞ্চল। সেখানে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া তালিকায় থাকা অন্য অঞ্চলগুলো হলো কালাবারজোন, জামবোয়াঙ্গা পেনিনসুলা এবং নর্দার্ন মিনাদানো। তিন সপ্তাহ ধরে দেশটির সাতটি অঞ্চল মহামারি পর্যায়ের ওপর দিয়ে যাচ্ছে।

  • মোবাইল ইন্টারসেপ্টর ক্রয়ের প্রস্তাব উঠছে মন্ত্রিসভায়

    মোবাইল ইন্টারসেপ্টর ক্রয়ের প্রস্তাব উঠছে মন্ত্রিসভায়

    জাতীয় নিরাপত্তা আরো সুসংহত এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা দমনে সক্ষমতা বাড়াতে একটি ভেহিক্যাল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টর সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হবে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই সিস্টেমটি সংগ্রহ করা হবে।

    এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য আগামীকাল বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য এনটিএমসি’র একটি ভেহিক্যাল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টর ক্রয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২)-এ উল্লেখিত আর্থিক সীমা শিথীল করাসহ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের জন্য প্রস্তাবটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

    সূত্র জানায়, দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য যন্ত্রটি ভেন্যুভিত্তিক ভিভিআইপি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে, চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে- এমন গোলযোগময় পরিস্থিতিতে ও মাঠ পর্যায়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হবে। এছাড়াও জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নকারী অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িতদের মোবাইল মাঠপর্যায়ে মনিটরিংয়ের জন্য, এনটিএমসি’র মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কারিগরী ও সরঞ্জাম সহায়তা দেবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীকাজে নিয়োজিতদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে যন্ত্রটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কারিগরি সহায়তা দেবে। এতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

    সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী অবাধ তথ্য প্রবাহের কারণে সংবেদনশীল তথ্যের প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ, অবাধ কার্যক্রমে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সম্ভাব্য জঙ্গি তৎপরতা রোধসহ বাস্তবিক প্রয়োজনে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) অপারেশনাল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভেহিক্যাল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টরটি সংগ্রহ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।