Category: জাতীয়

  • তিন দিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক বিটুবি(B2B) সম্মেলনের উদ্বোধন

    তিন দিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক বিটুবি(B2B) সম্মেলনের উদ্বোধন

    তিন দিন ব্যাপি আন্তর্জাতিক বিটুবি(B2B) সম্মেলনের উদ্বোধন সংঘটিত হয়েছে।

    ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ৫ জানুয়ারী ২০২১ এ অনুষ্ঠিত “প্রথম ডিসিসিআই বিজনেস কনক্লেভ ২০২১” শীর্ষক তিন দিনের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এ কে আবদুল মোমেন, বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগ দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম। তিন দিনের এই সম্মেলনে ১০ টি দেশের ২২৭ সংস্থাগুলি ১৭৬ বিটুবি( B2B) ম্যাচ তৈরির জন্য মিলিত হয়।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী (এ কে আব্দুল মোমেন) বলেছেন যে, বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়ীদের সংযোগ করার জন্য এই বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজনে ডিসিসিআইয়ের সাথে অংশীদার হতে পেরে তিনি অনেক আনন্দিত।

    তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় এবং বাংলাদেশ বৈদেশিক মিশন, এফডিআই এবং বাণিজ্যকে আকৃষ্ট করতে এই ধরণের প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডিসিসিআইকে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সক্ষম নেতৃত্বে সরকার জীবন-জীবিকার ভারসাম্য পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। ডিসিসিআই আয়োজিত এই ব্যবসায়িক সম্মেলন আমাদের বিদেশী ব্যবসায়ী অংশীদারদের সাথে সংযুক্ত করবে এবং একটি বিজয়ী পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ব্যবসায়ের দৃষ্টান্ত জোরদার করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে।

    তিনি আরও বলেছেন, আগামী মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ এলডিসির স্ট্যাটাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, সার্ক ও দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ এখন লাভজনক গন্তব্য। তিনি বলেন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি সরকারের সর্বাধিক অগ্রাধিকারমূলক কাজ।

    তিনি জানিয়েছেন, সরকার এখন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিয়েছিল যার মাধ্যমে আমরা ন্যায়সঙ্গত বাজার অ্যাক্সেস,
    আমাদের রফতানির প্রসারণ, এফডিআই প্রবাহ, প্রযুক্তি স্থানান্তর পাব। মন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উত্পাদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি আরও বলেছিলেন যে “আমরা বিশ্বাস করি সংযোগ উত্পাদনশীলতা” ” মন্ত্রী বিশেষত এসএমই খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। শেষ অবধি তিনি জানিয়েছিলেন যে এমওএফএ-তে সমস্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিষয়াদি মোকাবেলা ও সমন্বিত করার জন্য একটি নতুন শাখা প্রতিষ্ঠা করেছে।

    ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেছিলেন যে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ধীরে ধীরে সিওভিডির প্ররোচিত সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, বাংলাদেশ সে অনুযায়ী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কৌশল পরিকল্পনা করছে। তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উত্পাদন খাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের তীব্রতর অর্থনৈতিক বিকাশের লভ্যাংশ কাটাতে বিটুবি-তে অংশ নেওয়া দেশগুলির উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    এই আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলন বাংলাদেশের এবং অংশগ্রহী অর্থনীতির অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলির জন্য বহুগুণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগকে সহজ করবে।

    বিআইডির নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, কোভিড-নেতৃত্বাধীন মহামারীকালীন সময় সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করছে। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা, রফতানি ও রেমিট্যান্স কোভিড সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশ ২০১৯-২০ সালে রফতানির মাধ্যমে ৩৩.৬৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে এলডিসি স্নাতকের জন্য পর্যালোচনার জন্য প্রস্তুত। বিজনেস কনক্লেভ দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে। তিনি আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, পাদুকা, কৃষি, শিপ-বিল্ডিং, হালকা প্রকৌশল ও পাটজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    চেয়ারম্যান বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশের বিনিয়োগের প্রাকৃতিক দৃশ্যকে রূপান্তর করবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ওএসএস দ্বারা ৪১ টি পরিষেবা সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এ মাসের মধ্যে আরও দশটি ওএসএসে যোগ করা হবে। বিটুবি-তে যোগদানকারী বিদেশি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের দরজা সবসময় ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত থাকে তাই দয়া করে বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করুন।

    বিল্ডের চেয়ারম্যান, আবুল কাসেম খান বলেছেন, কোভিড ১৯ আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে আমাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষত এসএমইগুলিকে টেকসই করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুর্বল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দিকে নজর দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় দ্রুত বর্ধনশীল দেশ এবং এশিয়ার মধ্যে দ্রুততম যে দেশটির সময়োচিত সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের কারণে। তিনি ধরা দিয়েছিলেন, বিশ্বের নতুন সাধারণ পরিস্থিতিতে বেকারত্বই সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠবে। তিনি কাউকে পিছনে না রাখার লক্ষ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান হিসাবে বিশ্ব পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান। উন্নত ও টেকসই ভবিষ্যত গড়ার জন্য তিনি সকল স্টেকহোল্ডারদের থেকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন।

    ডিসিসিআইয়ের পরিচালক ও তাত্ক্ষণিক অতীতের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেছেন, কোভিড ১৯ এর ফলস্বরূপ সত্ত্বেও, প্রযুক্তি নতুন বাস্তবতা এবং উদ্ভাবনী আইসিটি সমর্থিত সমাধান নিয়ে এসেছে এবং আমাদেরকে নতুন সাধারণ পরিস্থিতি মোকাবেলার সুযোগটি গ্রহণ করতে হবে। তদুপরি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে পুনরুদ্ধার করতে আমাদের আমাদের পণ্যের ঝুড়ি, বাণিজ্য গন্তব্য এবং উদ্ভাবনী বাণিজ্য ব্যবস্থার বৈচিত্র্য আনতে হবে।

    ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন, এফসিএস, এফসিএ ধন্যবাদ জানান। ডিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ার হোসেন, দেশ-বিদেশের ৩৪ জন কূটনীতিক, ১০ টি দেশের ২০০ টিরও বেশি বিপিবি অংশগ্রহণকারী এবং ব্যবসায়ী নেতারাও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
    ——[Technical Soulation by Pix Power]

  • সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

    সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

    আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার।

    ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বাবা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাজ্য চলে যান সৈয়দ আশরাফ। প্রবাসজীবনে যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

    আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ আশরাফ। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

    সৈয়দ আশরাফ ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর ময়মনসিংহ জেলার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ নেন প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

  • ডিসেম্বরে ৪০২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৪

    ডিসেম্বরে ৪০২ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৪

    গেল বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০২টি। নিহত ৪৬৪ জন এবং আহত ৫১৩ জন। নিহতের মধ্যে নারী ৭৬, শিশু ৫১। এককভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১৩৮ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৪৭ জন, যা মোট নিহতের ৩১.৬৮ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪.৩২ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১২৮ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ২৭.৫৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৪ জন, অর্থাৎ ৯.৪৮ শতাংশ।

    এই সময়ে ৫টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত হয়েছে। ১২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৯ জন, আহত ৪ জন।

    রোববার (৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

    দুর্ঘটনায় বাস যাত্রী ১৮, ট্রাক যাত্রী ১৩, পিকআপ যাত্রী ১১, লরি যাত্রী ৭, ট্রাক্টর যাত্রী ৫, মাইক্রোবাস যাত্রী ৯, প্রাইভেটকার যাত্রী ৭, সিএনজি যাত্রী ১২, ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী ৬০, নসিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-বোরাক-টেম্পু যাত্রী ২৭, টমটম-ভ্যান ৬, বাই-সাইকেল আরোহী ৫, রিকশা-রিকশাভ্যান যাত্রী ৯ জন নিহত হয়েছে।

    গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ১ জন, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা ১ জন, পুলিশ সদস্য ৫ জন, সেনা সদস্য ২ জন, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ১৩ জন, পল্লী চিকিৎসক ৩ জন, ডাক পিওন ১ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ১ জন, মানসিক প্রতিবন্ধি ৪ জন, স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক ৩ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১১ জন, ঔষধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ১৮ জন, পোশাক শ্রমিক ৯ জন, ইটভাঙ্গা শ্রমিক ৩ জন, ট্যাঙ্ক লরি শ্রমিক ২ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ৪২ জন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৮ জন এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬৯ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

    রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১২৪ টি (৩০.৮৪%) জাতীয় মহাসড়কে, ১২৯ টি (৩২.০৮%) আঞ্চলিক সড়কে, ১০৪ টি (২৫.৮৭%) গ্রামীণ সড়কে, ৪২ টি (১০.৪৪%) শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে (ফেরিঘাট, নদীর তীর) ৩ টি (০.৭৪%) সংঘটিত হয়েছে।

    দুর্ঘটনাসমূহের ৭৭ টি (১৯.১৫%) মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৪৭ টি (৩৬.৫৬%) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩১ টি (৩২.৫৮%) পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেয়া, ৩৮ টি (৯.৪৫%) যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯ টি (২.২৩%) অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

    দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়ী- ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ২০.৪৯ শতাংশ, ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি ৪.২৯ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ২.৬৩ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১০.৮০ শতাংশ, মোটরসাইকেল ১৯.৫২ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-লেগুনা) ২৮.২৫ শতাংশ, নসিমন-করিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-বোরাক ৯.৪১ শতাংশ, রিকশা-রিকশাভ্যান, বাই-সাইকেল ২.৪৯ শতাংশ এবং অন্যান্য (তেলবাহী ট্যাঙ্কার, দুধবাহী ট্যাঙ্কার, বিদ্যুতের খুঁটিবাহী লরি, পুলিশের পিকআপ, আনসার ব্যাটালিয়নের পিকআপ, হ্যান্ড ট্রাক্টর, ড্রাম ট্রাক, ডাম্পার এবং টমটম) ২.০৭ শতাংশ।

    দুর্ঘটনায় আক্রান্ত যানবাহনের সংখ্যা ৭২২টি। (ট্রাক ১০৮, বাস ৭৮, কাভার্ডভ্যান ১৩, পিকআপ ২৭, লরি ৬, ট্রলি ৯, ট্রাক্টর ১৬, মাইক্রোবাস ১১, প্রাইভেটকার ৮, তেলবাহী ট্যাঙ্কার ১, দুধবাহী ট্যাঙ্কার ১, বিদ্যুতের খুঁটিবাহী লরি ১, পুলিশের পিকআপ ১, আনসার ব্যাটালিয়নের পিকআপ ১, হ্যান্ড ট্রাক্টর ২, ড্রাম ট্রাক ৪, ডাম্পার ২, টমটম ২, মোটরসাইকেল ১৪১,নসিমন-করিমন-ভটভটি-মাহিন্দ্র-বোরাক ৬৮, ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-টেম্পু-লেগুনা ২০৪, বাই-সাইকেল ৫, প্যাডেল রিকশা-রিকশাভ্যান ১৩টি।

    সময় বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনাসমূহ ঘটেছে ভোরে ৪.৪৭%, সকালে ৩৩.০৮%, দুপুরে ১৫.৯২%, বিকালে ২০.৩৯%, সন্ধ্যায় ৬.৯৬% এবং রাতে ১৯.১৫%।

    দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১১৭ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৮ জন। সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে। ২০ টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ জন। একক জেলা হিসেবে টাঙ্গাইল জেলায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ১৬টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত। সবচেয়ে কম পিরোজপুর জেলায়। ২ টি দুর্ঘটনায় ১জন নিহত।

    দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ:

    ১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন;

    ২. বেপরোয়া গতি;

    ৩. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা;

    ৪. বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা;

    ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল;

    ৬. তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো;

    ৭. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা;

    ৮. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা;

    ৯. বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি;

    ১০ গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি।
    সুপারিশসমূহ:

    ১. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করতে হবে;

    ২. চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে;

    ৩. বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে;

    ৪. পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;

    ৫. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা তৈরি করতে হবে;

    ৬. পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে;

    ৭. গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে;

    ৮. রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে;

    ৯. টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ১০.“সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮” এর সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রতিবেদনে মন্তব্যে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সামান্য কমলেও প্রাণহানির হার বেড়েছে। নভেম্বর মাসে ৪১৭টি দুর্ঘটনায় ৪৩৯ জন নিহত হয়েছিল। এই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে দুর্ঘটনা কমেছে ৩.৫৯%, কিন্তু প্রাণহানি বেড়েছে ৫.৬৯%। দুর্ঘটনায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষ নিহত হয়েছেন ৩৪২ জন, অর্থাৎ ৭৩.৭০%। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার ক্রমেই উর্ধমুখী হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার সবসময় বেশি থাকলেও গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। মোটরসাইকেল চালক ও পথচারী নিহতের ঘটনা চরমভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা এবং ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতা এর প্রধান কারণ। দেশের দুর্বৃত্তায়িত কলুষিত রাজনীতিতে মোটরসাইকেল সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এসব মোটরসাইকেল চালক চরম বেপরোয়া এবং এরাই বেশি দুর্ঘটনাক্রান্ত হচ্ছে। রেল ক্রসিংয়ে ৩টি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। দেশে ৮২% রেল ক্রসিং অরক্ষিত, ফলে মাঝে-মধ্যেই ট্রেনের সঙ্গে সড়ক পরিবহনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব রেল ক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই, যা দুঃখজনক। জাতীয় স্বার্থেই এক্ষেত্রে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং গণপরিবহন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা- উভয়ই জরুরি। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

  • সাইবার অপরাধ দমনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    সাইবার অপরাধ দমনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

    দেশে সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বাড়ছে জানিয়ে তা দমন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    রোববার (৩ জানুয়ারি) ৩৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। সাইবার ক্রাইম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটাকে আমাদের দমন করতে হবে। ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাহায্য করার জন্য মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নানা ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়। সেগুলো আমাদের দমন করতে হবে বলে জানান শেখ হাসিনা।

    গুজব বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে সরকার প্রধান আরও বলেন, আরেকটা বিষয় হচ্ছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে- ফেসবুক আছে, বিভিন্ন ধরনের অ্যাপস আছে সেগুলোর মাধ্যমে অনেক ধরনের অপরাধ; বিশেষ করে কিশোর বা উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। সেখান থেকে তাদের বের করে নিয়ে এসে তারা যেন সুস্থ জীবনে ফিরে আসে তার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণভাবে গুজব রটানো বা এই ধরনের কাজ যাতে করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

    অন্যান্য অপরাধ দমনের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা চলছে সেটা প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এসব বিষয়ে যেগুলো সামাজিক অপরাধ বা নানা ধরনের পারিবারিক অপরাধ সেখানেই কিন্তু পুলিশ অনবদ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। এটাকে আরও দক্ষতার সঙ্গে দমন করতে হবে।

    ‘মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার ইত্যাদি এগুলো শুধু বাংলাদেশ নয় বৈশ্বিক ক্রাইম। এই ক্রাইম থেকে দেশকে রক্ষা করা। তাছাড়া সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমন করা।’

    মাদকের হাত থেকে প্রতিটি পরিবারকে রক্ষা করার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাদক যেটা আমাদের সমাজকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে এই মাদকের হাত থেকে প্রতিটি পরিবারকে রক্ষা করা।’

    পুলিশ সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করে সরকার প্রধান বলেন, জরুরি সেবা প্রদানে পুলিশ ভুয়সী প্রশংসা পাচ্ছে এবং ভালো কাজ করে যাচ্ছে।

    সন্ত্রাস-জঙ্গী দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ দমনে পুলিশ যথেষ্ট শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। এখানে অনেকে (পুলিশ) জীবন পর্যন্ত দিয়েছে। পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

    অনুষ্ঠানে কৃতিপ্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

    রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা

  • বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতার চেক হস্তান্তর

    বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতার চেক হস্তান্তর

    এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ডিসেম্বর মাসের সরকারি অংশের চেক হস্তান্তর করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    রোববার (৩ জানুয়ারি) বেতন-ভাতার ৮টি চেক অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখা থেকে ডিসেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ উত্তোলন করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মাউশি।

  • ৪ মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন আগামী বছরের জুনে

    ৪ মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন আগামী বছরের জুনে

    পদ্মা সেতুসহ চার মেগা প্রকল্প আগামী বছরের জুনের মধ্যে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    রোববার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক ইস্যুতে প্রেস ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে মানুষকে কী দিতে পেরেছে আওয়ামী লীগ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের যে দায়িত্বটি আমি পালন করছি সেখানে তিনটি মেগা প্রজেক্ট আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেলের কাজ এগিয়ে চলছে। সবগুলো আগামী বছর উদ্বোধন করতে পারব, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

    তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন। ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সেগুলো বাস্তবায়ন মূল চ্যালেঞ্জ। করোনা সারাবিশ্বকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করেছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একদিকে করোনা মোকাবিলা করছি এবং অর্থনীতি সচল রেখেছি। ফরেন কারেন্সি রিজার্ভ ৪৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ জায়গায় আছে। সবদিক থেকে আমরা আগাচ্ছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে আগাচ্ছি। করোনার জন্য অনেকে কাজ হারিয়েছে বেকার হয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করা এবং কাজ দেয়া একটা চ্যালেঞ্জ। আমাদের ইশতেহারে আছে বেকারদের কর্মসংস্থান।

    ‘পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত আছে, সেটা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন। ভ্যাকসিনের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- জানুয়ারির শেষনাগাদ ভ্যাকসিন আসতে পারে। একটি সরকার এত বছর ধরে ক্ষমতায় আছে, ফলে অসম্পূর্ণ কাজ করতে পারছে। আমাদের দেশে এক সরকার গেলে অন্য সরকার সেটি বাতিল করে। এমনও হতে পারে আওয়ামী লীগ করেছে বলে পদ্মা সেতু ভেঙে দেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় থাকতে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা দরকার।’

    কাদের বলেন, আজ সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার স্মৃতিচারণ করছি। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রীর প্রতি আস্থাশীল ছিলেন, তিনি দলের জন্য অনেক কাজ করেছেন আমি আজ তাকে পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ অসুস্থ, তিনি আমার এলাকার মানুষ। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

  • দেশে আরও অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    দেশে আরও অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে আরও অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে। তরুণরা চাকরি পেয়ে যাতে দেশের ভেতরে থাকতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।

    জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এ নির্দেশনা দেন। এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

    এসময় এনইসিতে প্রধানমন্ত্রী আরও দুটি অনুশাসন দিয়েছেন। অনুশাসন দুটি তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ভেতরে থাকার জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, তরুণরা যাতে দেশের ভেতরেই চাকরি পেতে পারেন।’

    প্রধানমন্ত্রীর তিন নম্বর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আর ফসলি জমি যাতে নষ্ট না হয় (ধান পাট গমের জমি), এর জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান করা হবে। ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান বা ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। অন্যান্য দেশে এই পরিকল্পনা আছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আজকে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, ভূমি ভিত্তিক পরিকল্পনা করো সব ইউনিয়নের জন্য। যাতে করে এখানে-ওখানে ঘরবাড়ি না উঠায়। এটা প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ নির্দেশনা।

  • স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি নেব: প্রধানমন্ত্রী

    স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুতি নেব: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি। নৌবাহিনীতে অ্যাভিয়েশন সিস্টেম থেকে শুরু করে সবকিছু করে দিয়েছি।

    বুধবার নৌবাহিনীর মিডশিপম্যান-২০১৮ আলফা এবং ডিইও-২০২০ ব্রাভো ব্যাচের শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে দেওয়া ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সব সময় লক্ষ্য- আমাদের স্বাধীন দেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেব। কিন্তু কারও সঙ্গে যুদ্ধ নয়।’

    ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই পররাষ্ট্র নীতি নিয়েই আমরা চলব। আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যাতে সব ধরনের উদ্যোগ, প্রশিক্ষণ থাকে, সেভাবেই প্রতিটি বাহিনীকে গড়ে তুলছি’ যোগ করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমার সম্পদ যাতে আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নকাজে ব্যবহার করতে পারি, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

    করোনা মহামারীর কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচি সীমিত আকারে পালন করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘২০২১ সাল আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচিও পালন করবো সীমিতভাবে- ভার্চুয়ালি এবং যেখানে বেশি জনসমাগম হবে না।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা প্রণোদনা দিয়েছি। সেই সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছি স্বাস্থ্য সুরক্ষার। আশা করছি, সবাই সচেতন থাকবে, যাতে করোনাভাইরাসে খুব বেশি আক্রান্ত না হয়, এটি ছড়িয়ে না পড়ে।’

    এ সময় নবীন অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা নবীন অফিসার, তারা কমিশন পেয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। আপনারা ২০৪১ সালে আরও উন্নত হবেন… ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হবেন। দেশকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন।’

  • একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দুই বছরপূর্তি

    একাদশ জাতীয় নির্বাচনের দুই বছরপূর্তি

    আজ ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছরপূর্তি। ২০১৮ সালের এদিন দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয় পায় এবং টানা তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন এবং ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রী সভা গঠন করেন।

    এর আগে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষণায় ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হলেও ১২ নভেম্বর পুনঃতফসিলে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়।

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোটসহ বাংলাদেশের নিবন্ধিত সর্বমোট ৩৯টি দল অংশগ্রহণ করে।

    নির্বাচনে ১ হাজার ৮৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন যার মধ্যে ১২৮ জন স্বতন্ত্র। এছাড়া গাইবান্ধা-৩ আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ফজলে রাব্বি চৌধুরী ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন কমিশন আসনটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। ২০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি এ আসনে ভোটগ্রহণের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়।

    নির্বাচনে সারাদেশে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। যার মধ্যে ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন পুরুষ ও ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন নারী ভোটার।

    বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এ নির্বাচনের ৬টি নির্বাচনী আসনে সম্পূর্ণভাবে ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোট গ্রহণ করা হয়। ইভিএম ব্যবহার করা আসনগুলো ছিল, ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২।

  • মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনায় ২ বছর জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনায় ২ বছর জেল, ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করলে দুই বছর জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করে ‘মহাসড়ক আইন’ করতে যাচ্ছে সরকার। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ আইনে আরও বলা হয়েছে, মহাসড়কে ত্রিচক্রযান চলতে পারবে না। কেউ মহাসড়কের ক্ষতি করলে তারও প্রতিকার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন এ আইনে।

    প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

    সচিব বলেন, বর্তমানে ১৯২৫ সালের একটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার কাজ চলে আসছে। বর্তমানে অনেক সড়ক ও মহাসড়ক চার লেনের হচ্ছে। ফলে আগের আইন বাতিল করে নতুন আইন করতে হচ্ছে। এ আইন কার্যকর হলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে। দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে।

    তিনি বলেন, নতুন এ আইন কার্যকর হলে মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলতে পারবে না। কেউ মহাসড়কের ক্ষতি করলে তার প্রতিকার ও শাস্তির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।