Category: জাতীয়

  • সামিট গ্রুপের ১৯১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

    সামিট গ্রুপের ১৯১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

    গোপালগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফারুক খানের ভাই সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান, পরিবার এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ১৯১ হিসাবের ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    রোববার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।

    দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে সামিট গ্রুপ এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ১৯১ হিসাবের ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করা হয়। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

    দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেন এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধে চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

    আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সামিট গ্রুপ এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগসহ ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে তাদের নামে সঞ্চয়ী, এফডিআর ও অন্যান্য হিসাবসমূহের তথ্য পাওয়া যায়। এসব হিসাবসমূহে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে।

    এসব হিসাবসমূহে বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। যেকোনো সময় এসব অর্থ উত্তোলনপূর্বক বিদেশে পাচার/গোপন করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে অনুসন্ধানকালে প্রতীয়মান হয়।

    সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে ১৯১ টি ব্যাংক হিসাবে জমা ৪১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬০ টাকা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ১৪ ধারা অনুযায়ী অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

  • বাল্যবিয়েতে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    বাল্যবিয়েতে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হয়েছে এমন তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে। দেশটিতে ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে ৫১ শতাংশ মেয়ের।

    শনিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ইউনিসেফ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএন উইমেনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

    ‘গার্লস গোলস: হোয়াট হ্যাজ চেঞ্জড ফর গার্লস? অ্যাডোলেসেন্ট গার্লস রাইটস ওভার ৩০ ইয়ার্স’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ ও নীতি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০-২৪ বছর বয়সি নারীদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগে। ২৪ শতাংশ নারী ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সন্তান জন্ম দেয়।

    এছাড়া ১৫-১৯ বছর বয়সি কিশোরী-তরুণী মেয়েদের ২৮ শতাংশ আগের ১২ মাসের মধ্যে তাদের সঙ্গীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। মাত্র ৪৭ শতাংশ জেনেবুঝে প্রজনন স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের যে সাতটি দেশে কিশোরী মেয়ে ও তরুণ নারীদের ডিজিটাল দক্ষতার হার ২ শতাংশ বা তারও কম তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

  • নারীদের হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    নারীদের হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

    মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে দেখতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে নারী হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    রোববার (৯ মার্চ) সকালে শিশুটিকে দেখতে তিনি সিএমএইচ এ যান।

    ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাগুরায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় মাগুরা সদর থানায় চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    তিনি বলেন, দোষীরা যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায় -এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোচ্চার রয়েছে।

    উপদেষ্টা বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নারী হয়রানি ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এ যাবত নারীর প্রতি যত সহিংসতা হয়েছে সেগুলোর তালিকা করে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছি।

    তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

    তিনি আরও বলেন, নারীরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ঘরে-বাইরে দায়িত্ব পালন করবে। এতে যারা তাদের বাধা দিতে আসবে, সহিংসতা করতে আসবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

    উপদেষ্টা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে। পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ লালন করতে হবে।

  • হিজবুত তাহরীরের মিছিল, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

    হিজবুত তাহরীরের মিছিল, পুলিশের টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

    রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ‘মার্চ ফর খিলাফা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল বের করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন হিজবুত তাহরীর।

    শুক্রবার (৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর এ মিছিল শুরু হয়। পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    পর মিছিলকারীদের ওপর টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ সদস্যরা।

    বিস্তারিত আসছে…

  • ১৫ রোজা থেকে রাতে স্পিডবোট ও বাল্কহেড চলাচল বন্ধ

    ১৫ রোজা থেকে রাতে স্পিডবোট ও বাল্কহেড চলাচল বন্ধ

    ১৫ রোজা থেকে রাতে স্পিডবোট ও বাল্কহেড চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন নৌপথে জলযানসমূহ সুষ্ঠুভাবে চলাচল, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ যথাযথ কর্মপন্থা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

    সাখাওয়াত বলেন, নৌযানে নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে শুধু জরিমানা নয়, সেই লঞ্চের রুট পারমিটও স্থগিত করা হবে। এছাড়াও ঈদযাত্রায় লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া যাবে না।

    তিনি বলেন, সদরঘাট এলাকায় জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এমন বিশৃঙ্খলা থাকে যে, তিন ঘণ্টা আগে রওনা দিলেও অনেকে লঞ্চ ধরতে পারেন না। তাই রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রয়োজনে রেকার দিয়ে অবৈধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি সরিয়ে নেওয়া হবে।

    শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা বলেন, কোনো লঞ্চ নির্ধারিত সিরিয়ালের বাইরে ছেড়ে যেতে পারবে না। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। শুধু সদরঘাট নয়, রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা যাবে না। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদারকি করবে, নৌবাহিনীও সহযোগিতা করবে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপ্রয়োজনে লঞ্চে চেক করে সময় নষ্ট করবে না। ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো লঞ্চ চলতে পারবে না ও নির্ধারিত গতিসীমার বেশি চালানো যাবে না।

  • আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন

    আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যমটি।

    তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত দলটিকেই নিতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে, তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় বলেও জানিয়েছেন নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ।

    ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নতুন সরকারের দায়িত্ব নিতে বলা হলে তিনি চমকে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস।

    তিনি বলেন, আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে, আমি সরকারের নেতৃত্ব দেব। আমি এর আগে কখনো সরকারি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করিনি এবং এরপরও পরিস্থিতি বুঝে ঠিকভাবে কাজ করতে হয়েছিল।

    নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, একবার এটি স্থির হয়ে গেলে আমরা অন্যান্য কিছু জিনিস সংগঠিত করতে শুরু করি। যার মধ্যে— আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা এবং অর্থনীতি ঠিক করা দেশের জন্য অগ্রাধিকার ছিল।

    শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে তিনি সেদেশেই রয়েছেন। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের পর একে একে বের হয়ে আসছে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ নানা চিত্র। হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, দাবি উঠেছে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারেরও।

    অধ্যাপক ইউনূস ঢাকায় তার সরকারি বাসভবনে বিবিসিকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগকে) সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এটা (নির্বাচন) করতে চায় কিনা, আমি তাদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবে তা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়।

    তিনি বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এবং এরপর অর্থনীতি। (সাবেক সরকারের রেখে যাওয়া) এটি এক ছিন্নভিন্ন অর্থনীতি, বিধ্বস্ত অর্থনীতি। এটা এমন কিছু যেন ১৬ বছর ধরে কিছু ভয়ানক টর্নেডো হয়েছে এবং আমরা এখন টুকরোগুলো তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করবেন। তার সরকার কত দ্রুত সংস্কার করতে পারে তার ওপর নির্বাচনের এই সময়সীমা নির্ভর করছে। কারণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এসব সংস্কারকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন তিনি।

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যদি আমাদের ইচ্ছামতো দ্রুত সংস্কার করা যায়, তাহলে ডিসেম্বরে আমরা নির্বাচন করতে পারব। আর যদি সংস্কারের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

    গত গ্রীষ্মে বাংলাদেশকে ঘিরে থাকা সহিংস বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা থেকে এসেছি। (এমন বিশৃঙ্খলা যেখানে) মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

  • আনিসুল শাজাহানসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ৯

    আনিসুল শাজাহানসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ৯

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজধানীর বিভিন্ন থানার হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খানসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

    গ্রেফতার দেখানো অন্যরা হলেন—সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম, সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহম্মেদ এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হোসেন।

    এর মধ্যে আনিসুল হক, শাজাহান খান, আতিকুল ইসলামকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। খিলগাঁও হত্যাচেষ্টা ও পল্টন থানার হত্যা মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামকে, মিরপুর থানার হত্যা মামলায় কামাল আহমেদ মজুমদার ও লালবাগ থানার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

    এছাড়া সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রূপা ও শাকিল আহম্মেদকে যাত্রাবাড়ী থানার দুই হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।

    এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানকে যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুই হত্যা ও এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন সি আর আবরার

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিচ্ছেন। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

    বুধবার বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমে শহিদদের স্মরণে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়।

    এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সি আর আবরারকে শপথবাক্য পাঠ করান।

    অধ্যাপক সি আর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেছেন পিএইচডি।

    পেশাগত জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন সি আর আবরার। পাশাপাশি মানবাধিকার ইস্যুতে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ তিনি। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিক, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ব্যাপক পরিসরে কাজ করেছেন অধ্যাপক আবরার। নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অভিন্ন অবস্থানের কঠোর সমালোচনাও করেছেন এই অধ্যাপক।

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহফুজ আলম। এবার আরেকজন নতুন উপদেষ্টা দায়িত্ব নিচ্ছেন।

    উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। ওই দিনই বিলুপ্ত হয় মন্ত্রিসভা। পরদিন ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ওই সময় নিয়োগ পান ১৬ জন উপদেষ্টা। ঢাকা ও দেশের বাইরে থাকায় তিনজন উপদেষ্টা ওইদিন শপথ নিতে পারেননি। তারা পরে শপথ নেন। পরে আরও চারজন উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারে যুক্ত হন। সর্বশেষ গত বছরের ১০ নভেম্বর তিনজন উপদেষ্টা যুক্ত হন।

  • হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সকল সহযোগীর বিচার হবে

    হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সকল সহযোগীর বিচার হবে

    মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাশপাশি অপরাধের সঙ্গে জড়িত হাসিনার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদেরও বিচার হবে বলেও জানান তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি স্থানীয় সময় বুধবার (৫ মার্চ) প্রচারিত হয়।

    সাক্ষাৎকারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

    তিনি বলেন, ‘বিচার হবে। শুধু তার (হাসিনা) নয়, তার সাথে জড়িত সকল লোক — তার পরিবারের সদস্য, তার ক্লায়েন্ট বা সহযোগীদেরও। ’

    তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রমাণ সরকারের কাছে আছে। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে শারীরিকভাবে উপস্থিত নেই। তাই প্রশ্ন হলো আমরা কী তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পারব কি না- এটি নির্ভর করছে ভারতের উপর এবং আন্তর্জাতিক আইনের নির্দেশনার ওপর। ’

    ড. ইউনূস আরও বলেন, তাকে ফেরত দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ।

    সম্প্রতি ‘হাউস অফ মিররস’ বা আয়নাঘর নামক কুখ্যাত গোপন কারাগারগুলোর মধ্যে একটি পরিদর্শন করেছেন ড. ইউনূস। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরগুলো যখন আপনি (সাংবাদিক) নিজের চোখে দেখবেন এবং নির্যাতিতদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে, কতটা ভয়ঙ্কর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আয়নাঘরগুলো সেনাবাহিনীর আওতাধীন। তাই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। তবে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, এগুলো জাদুঘরে রূপান্তরিত করার। যাতে জনগণ সেখানে আসতে পারে এবং ইতিহাস জানতে পারে। ’

    হাসিনার বিরুদ্ধে তার নিরাপত্তা বাহিনী এবং পুলিশকে ব্যবহার করে শত শত নেতাকর্মীকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার তদারকি করার অভিযোগ রয়েছে। হাসিনা, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং প্রায় ৮০০ গোপন কারাগারের নেটওয়ার্ক তদারকি করার দায়ে অভিযুক্তদের অনেকেই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।

    এ বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অভিযুক্ত অপরাধের সাথে জড়িত লোকের সংখ্যা এবং পরিসর (বেশি হওয়ায়) কাজ করতে ‘সময় লাগছে’।

    তিনি বলেন, ‘সবাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। পুরো সরকার এর সাথে জড়িত ছিল। সুতরাং এটা বের করা কঠিন যে— কারা সত্যিই এবং উৎসাহের সাথে এই অপরাধগুলো করছিল, আর কারা উচ্চপদস্থদের আদেশের অধীনে এসব কাজ করেছিল এবং কারা পুরোপুরি এসব অপরাধের সমর্থনকারী না হলেও এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গিয়েছিল। ’

    ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। নাটকীয় এই পটপরিবর্তনের পর একে একে বের হয়ে আসছে সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ নানা চিত্র।

    শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশ ছেড়ে পলায়নের পর তার পরিবারের সদস্যসহ অনেকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ বের হয়ে আসছে এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তাদের একজন শেখ হাসিনার ভাগ্নি সাবেক ব্রিটিশ লেবার এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে নাম আসার পর গত জানুয়ারি মাসে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের দুর্নীতিবিরোধী মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে মামলাটি খুবই গুরুতর। দেশে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে এবং সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।

  • এবার গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন থাকবে?

    এবার গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন থাকবে?

    ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাত। অর্ন্তবর্তী সরকারের গত প্রায় সাত মাসে সেই পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    আসন্ন সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতেও দেখা গেছে সরকারকে। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও বাড়িঘরে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি পরিপত্র জারি করেছে সরকার।

    যারা এই নির্দেশনা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করেই অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

    ফলে ৩১ হাজার মেগাওয়াটের উৎপাদন সক্ষমতা থাকার পরও সেটার অর্ধেক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। তারওপর বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে।

    পেট্রোবাংলার হিসেবেই বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে গ্যাসের সরবরাহ করা রয়েছে দুই হাজার আটশ’ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দৈনিক প্রায় এক হাজার দুইশ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে।

    অন্যদিকে, ডলার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাস, কয়লা এবং জ্বালানি তেলের পুরোটা আমদানি করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সংকটে ইতোমধ্যেই বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকগুলো কেন্দ্র ধুকছে।

    জ্বালানি বিষেশজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, পরিস্থিতি খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বলে আমরা দেখছি না। সংকটগুলো রয়েই গেছে। গত কয়েক বছর ধরেই বিদ্যুৎখাতের প্রধান সংকটের জায়গা হলো জ্বালানি।

    আরেক জ্বালানি বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, এর মধ্যেই এবার রোজা, সেচ মৌসুম এবং গরম একসঙ্গে শুরু হওয়ায় বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে যে, এখন পর্যন্ত তারা দৈনিক সাড়ে বারো হাজার মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে।

    তারপরও অনেক এলাকায়, বিশেষতঃ ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হতে দেখা যাচ্ছে। যদিও উপদেষ্টা বলছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণেই কিছু এলাকায় বিভ্রাট দেখো যাচ্ছে।

    সরকার বলছে যে, এখন পর্যন্ত তারা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছেন। তবে গরম বাড়তে শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য আগেভাগেই সাশ্রয়ী নীতিতে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    সামনে সংকট বাড়বে?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে।

    অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, তখন গরমে বিদ্যুতের চাহিদা কতটুকু বাড়ে এবং সেই চাহিদা পূরণে সরকার বিদ্যুতের জ্বালানির যোগান কতটুকু দিতে পারেন, তার ওপর লোডশেডিং নির্ভর করবে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, এবছরেও গ্রীষ্মের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। তাই সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ড. এম শামসুল আলম বলেন, উৎপাদনের ক্যাপাসিটি আমাদের রয়েছে। এখন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কোনো সমস্যা থাকবে না। ফলে সরকারকে এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    সরকারও বলছে যে, তারা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। এছাড়া কয়লার সরবরাহও যেন ঠিক থাকে, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টো।

    বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলছেন, চাহিদার তুলনায় এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন যেমন ঠিক আছে, সেটাই আমরা ধরে রাখতে চাই।

    সরকার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, ওমানসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে গ্যাস আমদানি করছে।

    ফাওজুল কবির খান বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩৫টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সরকারের এই উপদেষ্টা।

    ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যেন অসুবিধা না হয়, সেজন্য গরমকালে স্যুট-কোট পরিধান করে অফিসে না আসার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাগুলো ঠিকমত মানা হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় শিগগিরই নজরদারি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উপদেষ্টা।

    কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অফিস কিংবা বাড়িঘরে কেউ যদি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি চালান, তাহলে সরকার নজরদারি করে সেটা চিহ্নিত করবে কীভাবে?

    তবে ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘এটা করা কঠিন কিছু হবে না, খুব সহজ।’

    এদিকে, গ্রাহক যেখানে টাকা দিয়ে কিনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, সেখানে সরকার এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে কী-না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

    ঢাকার বেসরকারি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার খন্দকার জাহিদুল ইসলাম বলছেন, সরকার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না, সেটা তাদের ব্যর্থতা। আমাকে কেন সেটার খেসারৎ দিতে হবে? আমি তো বিল পরিশোধ করেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে শীতকালের তুলনায় গরমকালে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। এ বছর গ্রীষ্মে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করছে সরকার। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাও দেশটির রয়েছে। কিন্তু চলমান আর্থিক ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাহিদার পুরোটা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলছেন, ‘এক্ষেত্রে সবাই সহযোগিতা করলে দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। এতে রোজা ও গরমের সময় লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

    নজরদারি হবে কীভাবে?

    সরকারের পক্ষ থেকে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না রাখার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে কীভাবে নজরদারি করা হবে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ ধরনের কাজে আদৌ নজরদারি করা সম্ভব কী-না, সেই প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।

    তবে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলছেন যে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার এবং মোটেও কঠিন কিছু হবে না।

    বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফাওজুল কবির খান বলেন, বিদ্যুৎ যেহেতু একটা ফিডারের মাধ্যমে যায়, কাজেই সেই ফিডার পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে যে, কোথায় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচের বিষয়টি সনাক্ত করা হবে কীভাবে?

    ফাওজুল কবির খানের ভাষ্য, আমাদের কাছে তো আগের সব তথ্য রয়েছে। আমরা তো জানি যে, ফিডারে গতকাল কত ছিল, আজকে কত হলো। শীতকালে কত ছিল এবং গরমকালে এসে কত বাড়লো, সেই তথ্য দেখলে বিষয়টা বোঝা যাবে।

    বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেলে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলে জানাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

    বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বলছেন, যদি দেখা যায় যে, জেনুইন বা যৌক্তিক কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে, তাহলে সমস্যা নাই। কিন্তু অকারণে অপচয় করা হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেখানে সরকারি কার্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতেও সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ফাওজুল কবির খান বলছেন, সরকারি অফিসগুলোতে প্রতিদিন মনিটরিং করা হবে। যদি কোনো অফিসে বিদ্যুৎ অপচয় করা হয়, তাহলে সেই অফিসের প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।

    যদিও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, সেটা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালির ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে, সে বিষয়ে অবশ্য পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন উপদেষ্টা।

    এভাবে সংকট কমবে?

    ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি না চালানোর জন্য সরকারের তরফ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আসন্ন সংকট মোকাবিলায় সেটি কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে হঠাৎ এ ধরনের আবেদন করে সফল হওয়ার নজির বাংলাদেশে খুব একটা দেখা যায়নি।

    তবে সরকারি অফিস ও বাণিজ্যিক মলগুলোকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা গেলে সংকট কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ। এসব জায়গাগুলোতে যদি ঠিকমত মনিটর করা হয়, তাহলে হয়তো কিছুটা ডিমান্ড কমানো সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য যে, ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক মলগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাপক আলোকসজ্জা দেখা যায়।

    এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরসহ বড় বড় সরকারি গুলোতে প্রায় প্রতিটি কক্ষেই আলাদা এসি রয়েছে, যার কারণে প্রতিবছর গরমের সময় সরকারকেই মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎবিল গুনতে হয়।

    স্থানীয় গণমাধ্যমের ২০২১ সালের খবরে বলা হয়েছে যে, সেবছর গ্রীষ্মকালে কেবলমাত্র ঢাকার পানি ভবনেই প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল গুনতে হয়েছিল ২৫ থেকে ২৭ লাখ টাকা।

    বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সরকারের স্থায়ী নীতি গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

    ড. ম. তামিম বলেন, ডিমান্ট সাইড ম্যানেজমেন্টের জন্য আসলে একটা পার্মানেন্ট পলিসি গ্রহণ করা দরকার। যেমন: পুরনো প্রযুক্তির এসি বা ফ্যান যেগুলো চালাতে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেগুলো বাদ দিয়ে আধুনিক ও এনার্জি সেভিং এসি-ফ্যান ব্যবহার প্রোমোট করা যেতে পারে। অগ্রাধিকারভিত্তিতেই এ ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা তাগিদ দিচ্ছেন কেউ কেউ।

    আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, কেবল অনুরোধ করে তো কাজ হবে না, সরকারকে অ্যাকশনে যেতে হবে। সেজন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা