Category: জাতীয়

  • অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমান ও মামুনের আপিলের রায় ৬ মার্চ

    অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমান ও মামুনের আপিলের রায় ৬ মার্চ

    সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাজার বিরুদ্ধে আপিলের রায়ের জন্য আগামী ৬ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই দিন ধার্য করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

    গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের সাজাও স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের জরিমানাও স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।

    সিঙ্গাপুরে অর্থপাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর একটি মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারেক রহমানকে খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাইকোর্টে আপিল করেন। ওই আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারিক আদালতের খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।

  • আদালতে সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান

    আদালতে সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় গ্রেপ্তার ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

    এর আগে সোমবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান। একই দিন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অর্গানাইজডের উপ-পরিদর্শক জোনাঈদ হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইমরান হোসেন, তৌহিদুল আলম জেনিথ ও অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মাধ্যমে চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদনহীন ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা পাচার করে। টেকনাফ ও উখিয়া, কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গরু ও মহিষ বাংলাদেশে নিয়ে এসে তা বিক্রয় এবং ভুটান ও নেপাল থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ছোট আকৃতির ভুট্টি গরু বাংলাদেশে বিক্রয় করে। প্রতারণার মাধ্যমে দেশীয় গরু/ছাগলকে বিদেশি ও বংশীয় গরু-ছাগল বলে প্রচার করে উচ্চমূল্যে তা কোরবানির পশুর হাটে বিক্রয় করে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রায় ১২১ কোটি ৩২ লাখ ১৫ হাজার ১৪৪ টাকা টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তর করেছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার কাস্টমস হাউজ কর্তৃক আটক করা এবং সাভারের কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে থাকা ১৫টি ব্রাহমা জাতের গরু সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জবাই করে ন্যায্যমূল্যে মাংস বিক্রয়ের কথা থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজেপত্রে সেগুলো জবাই দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে তা জবাই না করে কৌশলে হাতিয়ে নেয়। অনুমোদনহীনভাবে জোরপূর্বক মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় রামচন্দ্রপুর সরকারি খাল ভরাট ও জবর দখল করে। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ মেটাল লিমিটেডের নামে এফডিআর খুলে ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাক বিনিয়োগ করে রূপান্তর করেছে ইমরান হোসেন।

    এ ছাড়া, সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে সর্বমোট প্রায় ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার ৩৪৪ টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তর করেছে।

  • রোববার কর্মবিরতি পালন করবে ২৫ ক্যাডার

    রোববার কর্মবিরতি পালন করবে ২৫ ক্যাডার

    বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রোববার (২ মার্চ) পরিষদভুক্ত সব ক্যাডার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবে।

    এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের সামনে কালো ব্যাজ পরে ব্যানারসহ অবস্থান করবেন।

    শনিবার (১ মার্চ) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

    এ সময় সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও সেবামূলক রাষ্ট্র গঠনে করণীয় বিষয়ে এদিন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সঙ্গে সাংবাদিকদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

    সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক ড. মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনে ২৫টি ক্যাডারের পক্ষ থেকেই পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপসচিব পদে কোটা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেও সিভিল সার্ভিসে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। অথচ, জনদাবিকে উপেক্ষা করে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ক্ষমতাধর একটি গোষ্ঠীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধির প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। এই রিপোর্ট পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং প্রশাসনিক ফ্যাসিজম আরও শক্তিশালী হবে।

    এ সময় আরও বলা হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ক্যাডার বহির্ভূত করার প্রস্তাব থেকে সরে এসে সুকৌশলে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ভিন্নতা রাখা হয়েছে। যেন ধীরে ধীরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে মূলধারা থেকে বের করা যায়। এছাড়াও, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের বিষয় সংস্কার প্রস্তাবে না রাখা এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারকে অযৌক্তিকভাবে সার্ভিসের বহির্ভূত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে এইসব সেক্টরে মেধাবীরা কম আকৃষ্ট হবে এবং এসব সেক্টরগুলো মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

    প্রবন্ধে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তির মেধা যাচাইয়ের অন্যতম মাপকাঠি হচ্ছে গাণিতিক দক্ষতা। অথচ সেই গণিতকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে মুখস্থ করার প্রবণতাকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। যা যথাযথভাবে মেধা মূল্যায়নের অন্তরায়। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও জেলা পরিষদকে বিলুপ্ত করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বাস্তবতা বিবর্জিত প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার প্রস্তাব জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্তরায়।

    সভায় পরিষদের পক্ষ থেকে কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় (ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার) বাস্তবায়ন, উপসচিব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, সব ক্যাডারের সমতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারসহ সব ক্যাডারকে একই কমিশনের আওতায় রাখা, পরিবার পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান ক্যাডারকে সার্ভিসে অব্যাহত রাখা, সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসে প্রবেশের পর শুধু প্রশাসন ক্যাডারের জন্য পূর্বের সার্ভিসে ফেরার সুবিধার প্রস্তাব বাতিল, জেলা কমিশনারকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব বাতিল, ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’-এর পরিবর্তে ‘ভূমি সার্ভিস’ বা ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা সার্ভিস’ নামকরণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়’ অথবা ‘সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নামকরণসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

    এ সময় আরও জানানো হয়, সম্প্রতি ফেসবুকে লেখালেখির মতো তুচ্ছ কারণে ২৫ ক্যাডারের ১৩ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ধরনের কাজ প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বৈষম্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন ক্যাডার ২৫ ক্যাডারের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে এমন ব্যবস্থা নিয়েছে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন। এ সময় আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।

  • মার্চে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ

    মার্চে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ

    জ্বালানি তেলের দাম মার্চে অপরিবর্তিত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

    শনিবার এক অফিস আদেশ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

    এতে বলা হয়, মার্চ মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাচ্ছে সরকার। এজন্য বিদ্যমান মূল্য কাঠামো অনুযায়ী ডিজেল ও কেরোসিন প্রতি লিটার ১০৫ টাকা, অকটেন ১২৬ টাকা এবং পেট্রোল ১২২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    এর আগে, গেল ৩১ জানুয়ারি পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের মতো জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক টাকা বাড়ানো হয়েছিল। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যা কার্যকর করা হয়। আর জানুয়ারিতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক টাকা কমানো হয়েছিল। পেট্রোল ও অকটেনের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

    বর্তমানে জ্বালানি তেলের দর নির্ধারণ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    অনেকটাই একই প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৪ লাখ টন। মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল ব্যবহার হয়।

    বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে।

    ডিজেল সাধারণত কৃষি সেচে, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার করা হয়। জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করে বিপিসি। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

    প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত বিশ্বে প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

  • নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বদ্ধপরিকর সরকার: প্রেস সচিব

    নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বদ্ধপরিকর সরকার: প্রেস সচিব

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, সরকার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে বদ্ধপরিকর।

    শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

    এ সময় মাহে রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, রোজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম গত রোজার তুলনায় সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সরকার সারা রোজার মাস দাম সহনীয় রাখার সবোর্চ্চ চেষ্টা করবে।

    শফিকুল আলম বলেন, বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাপ্লাই পরিস্থিতি সামনে আরও ভালো হবে।দাম সহনীয় থাকবে বলে আশা করি।

    এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, বাজারে খোলা ও প্যাকেটজাত সয়াবিনের ঘাটতি আছে। তবে নিয়মিত মনিটরিংয়ে খোলা তেলের ঘাটতি কমে এসেছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

  • দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার

    দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার

    বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রোববার রোজা শুরু হচ্ছে।

    শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রাতেই তারাবিহর নামাজ পড়বেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে রাখবেন রোজা।

    মুসলমানদের কাছে রমজান পবিত্র মাস। এই এক মাস সংযম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন ধর্মপান মুসলমানরা।

    এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবে আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাতেও আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামীকাল রোববার থেকে এসব দেশে পবিত্র রোজা শুরু হবে।

    রমজান হলো হিজরি সনের নবমতম মাস। হিজরি সনে বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে। রমজানে রোজা রাখা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং এটি সকল সুস্থ মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে ছোট শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, ভ্রমণকারী, গর্ভবতী, দুধপান করানো বা ঋতুমতী নারীদের রোজা না রাখার ব্যাপারে শিথিলতা রয়েছে।

  • সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেননি: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    সেনাপ্রধান কোনো কথা না বুঝে বলেননি: উপদেষ্টা সাখাওয়াত

    সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, তিনি কোনো কথা না বুঝে বলেননি।

    বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বেক্সিমকো ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    নিজেরা কাদা–ছোড়াছুড়ি, মারামারি ও কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে বলে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে সতর্ক করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। এই দেশ আমাদের সবার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।

    সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেনাপ্রধান আমার জন্য অনেক উঁচু স্তরের লোক। তিনি একটি বাহিনী চালাচ্ছেন। তিনি কোনো কথা না বুঝে বলেননি। বাকিটা ইন্টারপ্রিটেশন কী আপনারা জানুন। আমি যতটা ওনাকে চিনি ভেরি স্ট্রেট ফরওয়ার্ড ম্যান। যা বলার মানুষের মুখের ওপর বলার মতো লোক। সো আই হ্যাভ এ লট অব রেসপেক্ট ফর হিম।

    উপদেষ্টা বলেন, উনি কি বলেছেন না বলেছেন সে ব্যাখ্যা আমি দিতে পারবো না। সেটা উনিই দিতে পারবেন।

    প্রধান উপদেষ্টাকে তিনি যেভাবে সম্বোধন করেছেন সেটা পারেন কি না- এ বিষয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটা আপনারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন।

  • নতুন প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন

    নতুন প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন

    তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর বিদ্যমান নীতিমালা যুগোপযোগী করে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এ নীতিমালা ‘প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা, ২০২৫’ নামে অভিহিত হবে। এ নীতিমালা সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ বা প্রচারের কাজে নিয়োজিত দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

    প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদানের নিয়মাবলিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের অনুকূলে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু, নবায়নের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োজিত কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিলসহ নাম ও পদবি উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে প্রধান তথ্য অফিসার বরাবর আবেদন করতে হবে।

    প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রাপ্তির জন্য তথ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত আবেদন ফরমের সংশ্লিষ্ট স্থানে এতদুদ্দেশ্যে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিয়োজিত কর্মকর্তার সুপারিশকৃত হতে হবে। গণমাধ্যম এতদুদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করলে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করা হবে না। আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে ন্যূনতম ৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি মিডিয়ায় প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে তথ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত আবেদন ফরমে সুপারিশের স্থানে আবেদনকারীর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন থাকতে হবে। এ ছাড়া নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল প্রত্যয়ন/নিয়োগপত্র নিয়োগকারীর অফিশিয়াল ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এ ধরনের কার্ড নবায়নের ক্ষেত্রেও কার্ড ইস্যুর অনুরূপ শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। অন্যথায় কার্ড নবায়ন করা হবে না। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড কমিটি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু, নবায়ন অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যে কোনো সময় আবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যে কোনো তথ্য চাইতে পারবে। অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি প্রয়োজন মনে করলে পুলিশ ভেরিফিকেশন করাতে পারবে। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হারিয়ে গেলে নিকটবর্তী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে এবং এর অনুলিপি সংযুক্ত করে পুনরায় কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে। সেক্ষেত্রে পুনরায় কার্ড ইস্যুর বিষয়টি প্রধান তথ্য অফিসার বিবেচনা করবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ১ মাসের মধ্যে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড আবশ্যিকভাবে তথ্য অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। সময়ের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীর অনুকূলে কোনো প্রকার প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু বা নবায়ন করা হবে না।

    প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে প্রতিবছর ৭ জানুয়ারির মধ্যে ন্যূনতম ছয় মাসের জন্য সাংবাদিকদের অপরিবর্তনীয় হালনাগাদ তালিকা প্রেরণ করতে হবে। বছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য ৭ জুলাইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের অপরিবর্তনীয় হালনাগাদ তালিকা প্রেরণ করতে হবে। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মুদ্রিত হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে তার বর্তমান প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং তিনি নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে পারবেন।প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী ব্যক্তি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে বিরত থাকলে অথবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রধান তথ্য অফিসারকে লিখিতভাবে তা জানাবেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে ইস্যুকৃত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড তথ্য অধিদপ্তরে ফেরত পাঠাবেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যুর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। কোনো গণমাধ্যমের প্রকাশনা বা সম্প্রচারের লাইসেন্স/নিবন্ধন বাতিল করা হলে কিংবা বন্ধ হলে অথবা ডিএফপি মিডিয়া তালিকা থেকে বাদ গেলে কিংবা গণমাধ্যম প্রতিনিধির মৃত্যু হলে বা তিনি মিডিয়া থেকে চাকরিচ্যুত হলে অথবা পদত্যাগ করলে ওই গণমাধ্যমের প্রতিনিধির অনুকূলে প্রদত্ত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ব্যবহার করে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রধান তথ্য অফিসার সংশ্লিষ্ট প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি অ্যাক্রিডিটেশন কমিটিতে প্রেরণ করবেন।

    প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী কর্মরত সাংবাদিক বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ‘কোড অব কনডাক্ট’ বা এই নীতিমালার কোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে কমিটি তার প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করবে এবং তথ্য অধিদপ্তর তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে অথবা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে প্রধান তথ্য অফিসার কার্ড বাতিলের জন্য প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির কাছে সুপারিশ করতে পারবেন।

    রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচির নিউজ কাভারেজ কিংবা অন্য কোনো পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আসা বিদেশি সাংবাদিকদের সাময়িকভাবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান করা যাবে। তবে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন শেষে ৭ দিনের মধ্যে আবশ্যিকভাবে ওই কার্ড প্রধান তথ্য অফিসার বরাবর ফেরত দিতে হবে।প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের সুবিধাপ্রাপ্ত সাংবাদিক সরকারের বিভিন্ন সংবাদ উৎস, তথ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক ইস্যুকৃত সংবাদ ম্যাটেরিয়াল, স্থিরচিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট ও লিখিত তথ্য প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের বিধান অনুসরণ করে প্রবেশাধিকার পাবেন।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু বা বাতিল প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি করবে। কারো কার্ড বাতিল হলে বা কমিটির কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আপিল কমিটিতে আপিল করতে পারবেন। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ইস্যু ও বাতিলের ক্ষেত্রে আপিল কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। তবে প্রধান তথ্য অফিসার যৌক্তিক কারণে কোনো কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন যা পরবর্তী সময়ে কমিটি কর্তৃক অনুমোদন করতে হবে। কোনো আবেদনকারী বা গণমাধ্যম প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অসত্য। প্রতারণামূলক/জাল তথ্য বা প্রমাণক সরবরাহ করলে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে ওই আবেদনকারী বা মিডিয়া প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবে। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার করলে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই নীতিমালা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। তবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ব্যাবহার করে পুরুতর অপরাধ করলে প্রধান তথ্য অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড স্থগিত করতে পারবেন, যা পরবর্তী সময়ে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

    প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডধারী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ইস্যুকৃত অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডটি স্থগিত থাকবে এবং বিচারিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে কার্ডটি বাতিল হবে। তবে আপিল আদালতে বা চূড়ান্তভাবে নির্দোষ সাব্যস্ত হলে তিনি পুনরায় কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড হবে ডিজিটাল।

    ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদানের নিয়মাবলী বিষয়ে।বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ সম্পাদক, বরেণ্য সাংবাদিক/কলামিস্টরা ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাবেন। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকরা পেশাগত এবং প্রধান তথ্য অফিসার নির্ধারিত অন্যান্য তথ্যাদি প্রদান সাপেক্ষে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রাপ্য হবেন।

    ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যমে কমপক্ষে ২০ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং মূলধারার গণমাধ্যমে বছরে অন্তত ১০টি প্রতিবেদন প্রচার বা প্রকাশের প্রমাণ দাখিল করতে হবে। প্রতিবেদনগুলো প্রধান তথা অফিসার যাচাই সাপেক্ষে কমিটিতে উপস্থাপিত হবে।

    নীতিমালায় বলা হয়েছে- গণমাধ্যমে কর্মরত সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, উপসম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, বিভাগীয় সম্পাদক, প্রতিবেদক, আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফারদের মোট সংখ্যার আনুপাতিক হারে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান করা হবে। তবে কার্ড প্রদানের সংখ্যা কোনোক্রমেই মোট সংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি হবে না এবং একক কোনো প্রতিষ্ঠান ১৫টির বেশি কার্ড পাবে না। উল্লিখিত ব্যক্তিদের তালিকা প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্যাডে সিলসহ প্রদান করতে হবে। এই তালিকায় উল্লিখিত সাংবাদিকের বেতন ও নিয়োগ প্রাপ্তির প্রমাণাদিসহ অন্য যেকোনো তথ্য অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি প্রয়োজন মনে করলে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্যে ভুল পাওয়া গেলে সেই প্রতিষ্ঠানের কার্ড প্রাপ্তির যোগ্যতা সর্বনিম্ন ০২ বছর হতে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত স্থগিত করা যাবে।

  • অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়াতে চায় সরকার: শিল্প সচিব

    অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়াতে চায় সরকার: শিল্প সচিব

    অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়াতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। জনশক্তির দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় কাঁচামাল ও সম্পদ ব্যবহার করে শ্রমঘন শিল্পায়নের জন্য কাজ চলছে।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ফারস হোটেল শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) আয়োজিত কর্মশালায় শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম। সভাপতিত্ব করেন এনপিও’র মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামান। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে জানানো হয়, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইতোমধ্যে এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি মাস্টারপ্ল্যান ২০২১-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে’।

    শিল্প সচিব বলেন, যে কোনো দেশের অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান অপরিসীম। যে দেশ যত বেশি শিল্পসমৃদ্ধ, সে দেশ তত উন্নত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও শিল্পখাতের অবদান বাড়ছে। কৃষি থেকে দ্রুত শিল্পোন্নত দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সরকার নানামুখী পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশীয় কাঁচামাল ও সম্পদ ব্যবহার করে শ্রমঘন শিল্পায়ন করতে চায়। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত সুবিধাকে নিয়ে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে জাতীয় শিল্পনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। জনশক্তির দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় আয়ে শিল্পখাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত করতে চায়।

    তিনি বলেন, শিল্প উন্নয়ন টেকসই ও স্থিতিশীল করতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো জরুরি। প্রতিবেশি দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কা উৎপাদনশীলতায় তাদের অবস্থান অনেক এগিয়েছে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত এপিও প্রোডাকটিভিটি ডেটাবুকের (উৎপাদনশীলতার তথ্য) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতি উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এখানে ভারতের ৪ শতাংশ, চীনের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, পাকিস্তানের ২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ২ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের জন্য উৎপাদনশীলতার গড় প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হওয়া সম্ভব।

    নূরুজ্জামান বলেন, এনপিও একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান যা দেশের শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কাজ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশনের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি মাস্টারপ্ল্যান ২০২১-২০৩০ প্রণয়ন করা হয়েছে’। মূলত এই মাষ্টার প্ল্যানের মাধ্যমে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এতে শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের উন্নয়নে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

    মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, মাষ্টার প্লান বাস্তবায়নে দুইটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সবাই সমন্বিত ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনা এবং পরিকল্পনা সময়মত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা। তারমতে, মাষ্টার প্লান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় হতে প্রতিশ্রুতি জরুরি।

  • মার্চ থেকে শহিদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সুবিধা কার্যকর

    মার্চ থেকে শহিদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সুবিধা কার্যকর

    জুলাই আন্দোলনে শহিদদের পরিবার ও আহতদের জন্য অর্থ বরাদ্দ ও সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী মার্চ মাস থেকে তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জুলাই-আগস্টের শহিদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৩৪ জন। আরও খোঁজা হচ্ছে। কেননা অনেকের এখনো হদিস মিলেনি। শহিদ পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তন্মধ্যে চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব পরিবারের সামর্থ্য আছে তাদের সরকারি বেসরকারি-চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।

    প্রেস সচিব আরও বলেন, আহতদের মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরি করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ ক্যাটাগরি করেছেন। আহত ‘এ’ ক্যাটাগরিতে যারা রয়েছেন তাদের এককালীন পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তারাও প্রতি মাসে পাবেন ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এ সংখ্যা ৪৯৩।

    ‘বি’ ক্যাটাগরির আহতদের তিন লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তারা প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এ সংখ্যা ৯০৮। ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতরা সুস্থ হয়ে গেছেন। এই ক্যাটাগরির যোদ্ধারা এককালীন এক লাখ টাকা করে পাবেন। তাদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এই ক্যাটাগরিতে আছেন ১০ হাজার ৬৪৮ জন।