Category: জাতীয়

  • দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না জুলাই আন্দোলনে আহতরা

    দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না জুলাই আন্দোলনে আহতরা

    এক দফা দাবিতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে টানা ২৮ ঘণ্টা ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই আন্দোলনে আহতরা। শুরুতে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হলেও পরে তারা এক দফা দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    তাদের এক দফা দাবি হলো- তিনটি ক্যাটাগরির পরিবর্তে জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য দুটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করতে হবে।

    বুধবার সকাল ৯টা থেকে উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন আন্দোলনরতরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রধান ফটক ঘুরে দেখা গেছে, ৩০-৩৫ জন আন্দোলনকারী শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছেন। ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।

    এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা এসে ঘুরে গেছেন। তারা আহতদের বুঝানোর চেষ্টা করছেন।

    সেখানে অবস্থান নেওয়া আহত ইয়াকুব আলী বলেন, বুধবার সকাল থেকে আমি এখানে অবস্থান করছি। এখান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য নানা জায়গা থেকে চাপ আসছে; কিন্তু দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠব না।

    আন্দোলনকারীরা বলেন, রাতে আমরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করেছি। আজও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জুলাই আহতরা রওনা হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা জুলাই আহতদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। তারা ইতোমধ্যে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশে। আশা করছি, বিকালের মধ্যে সবাই উপস্থিত হবেন।

    দাবির বিষয়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে সরকার বৈষম্য করছে। অনেক গুলিবিদ্ধ আছেন, তাদের সি ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। যেটি স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে দেখছেন তারা। তাই তারা দুটি ক্যাটাগরি চান। তাদের এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

    জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত প্রায় ১৩ হাজার ৮৪৮ জনের নাম তালিকাভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে সহায়তা, চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তিনটি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্যাটাগরিগুলো পুনরায় সংশোধন করা হয়। সংশোধিত ক্যাটাগরির ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ক্যাটাগরি-এ: অতি গুরুতর আহত, যাদের আজীবন সাহায্যের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তারা হলেন- নূন্যতম এক চোখ/হাত/পা ক্ষতিগ্রস্ত ও স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অনুপযোগী, সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন, সম্পূর্ণভাবে মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কাজ করতে অক্ষম বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি।

    ক্যাটাগরি-বি: গুরুতর আহত, যাদের দীর্ঘদিন সাহায্য দিতে হবে। তারা হলেন আংশিক দৃষ্টিহীন, মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি।

    ক্যাটাগরি-সি: আহত যারা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সক্ষম হবেন। শ্রবণশক্তি/দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত, গুলিতে আহত বা অনুরূপ আহত ব্যক্তি। আহত যারা ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে সক্ষম।

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম জানিয়েছেন, প্রত্যেক শহীদ পরিবার ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পাবে। আহতরা পরিচয়পত্রের পাশাপাশি আজীবন ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

    গুরুতর আহতরা (এ ক্যাটাগরি) এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

    যাদের একটি অঙ্গহানি (বি ক্যাটাগরি) হয়েছে, তারা এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং ১৫ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।

    যারা সি ক্যাটাগরিতে আছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা নেই। তবে তারা পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার পাবেন।

  • শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কে কোন পদে

    শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কে কোন পদে

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃ্ত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলটির নাম দেওয়া হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি।দলটির আহ্বায়ক হচ্ছেন নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে বেশ কয়েকটি পদের জন্য নাম চূড়ান্ত করেছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

    নতুন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত আবদুল্লাহর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। আর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে থাকছেন সারজিস আলম।

    তবে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব পদে অনেকগুলো নামের প্রস্তাব থাকায় কাউকে এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে। পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল (২৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন এই রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

    নতুন কমিটি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নেতৃত্ব দেবে বলে জানা গেছে। এজন্য দলের আহ্বায়ক কমিটির আকার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কমিটির একটা খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সম্মুখযোদ্ধাদের স্থান দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে। এছাড়াও জুলাই আন্দোলনের আলোচিত নারী নেত্রীরা নতুন দলে জায়গা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

  • জুলাইয়ে কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়: জাতিসংঘ

    জুলাইয়ে কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়: জাতিসংঘ

    জুলাই মাসে বিক্ষোভকালে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। এ সময় কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে।

    জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) কার্যালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘…রোম সংবিধির ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে- তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

    এতে আরও বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যেই খুব কাছে থেকে তাদের গুলি করে ।

    ওএইচসিএইচআর-এর অফিস গত ১২ ফেব্রুয়ারি জেনেভা কার্যালয় থেকে ‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন’ শীর্ষক তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    জাতিসংঘের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে, নিরাপত্তা বাহিনী সামরিক রাইফেল ও স্বয়ংক্রিয় পিস্তল থেকে জনতার ওপর প্রাণঘাতি গুলি চালিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের মাথা ও শরীর লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের শরীরের এ সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে শটগানের গুলি ছোঁড়ে। সাধারণত একাধিক বন্দুকধারী কয়েক রাউন্ড করে গুলি ছুঁড়ে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যারা হামলা চালাতেন তারা ও তাদের কমান্ডাররা লক্ষ্যবস্তুতে থাকা জনতার কিছুসংখ্যক যেন মারা যায়, সে ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন।’

    এতে আরও বলা হয়, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আত্মরক্ষা বা অন্যদের প্রতিরক্ষা হিসেবে দেখানোর কোনো যুক্তি নেই। কারণ হতাহতরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলেন। তারা সম্পত্তি ভাঙচুর করছিলেন না বা দাঙ্গাকারীও ছিলেন না। তারা কোন হুমকিও ছিলেন না।’

    ওএইচসিএইচআর জানায়, জুলাই মাসের বিক্ষোভের সময় বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের ও অন্যান্য বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ হিসেবে হত্যা, নির্যাতন, কারারুদ্ধতা ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ডের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুযায়ী, একটি বেসামরিক জনসংখ্যার বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্যাপক বা পদ্ধতিগত আক্রমণই মানবতাবিরোধী অপরাধ।

    এতে আরও বলা হয়, ‘যে কোনো বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত আক্রমণ’ বলতে এমন একটি আচরণের ধারা বোঝায়, যা একাধিক হত্যা, নির্যাতন বা অন্যান্য কর্মকাণ্ড যখন তা রাষ্ট্র বা সাংগঠনিক নীতি অনুসরণ করে এ ধরণের আক্রমণের জন্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় এবং এটি রোম সংবিধির ধারা ৭ এর আওতায় নিষিদ্ধ।

    ওএইচসিএইচআর জানায়, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের সময় নির্দিষ্ট কিছু বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে একের পর এক হত্যা, নির্যাতন, কারাদণ্ড ও অন্যান্য অমানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছিল যা রোম সংবিধির ধারা ৭ এর আওতায় পড়ে।

    এতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকালে নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সদস্যরা তাদের হেফাজতে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের ওপরও নির্যাতন চালিয়েছে।

    ওএইচসিএইচআর দাবি করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পদ্ধতিগত আক্রমণটি একটি সরকারি নীতি অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছিল বলে তাদের বিশ্বাস করার যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

    রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকে সহিংস ও বেআইনিভাবে দমন করার এবং ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্য আক্রমণটি সংগঠিত করেন ও নির্দেশনা দেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা পরিষেবা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বও সেই নীতি অনুসরণে সংঘটিত অপরাধ গোপন করার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালায়, ইচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়, অন্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে এবং মিডিয়া, ভুক্তভোগী, ভুক্তভোগীর পরিবার ও আইনজীবীদের ভয় দেখায়।’

  • কৃষকের ছোট হিমাগার কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে: উপদেষ্টা

    কৃষকের ছোট হিমাগার কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে: উপদেষ্টা

    মৌসুমে সবজি উৎপাদন করে প্রতিবছরই মূল্য পাচ্ছে না কৃষক। পাশাপাশি সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। এতে বছরের পর বছর হাড়ভাঙা খাটুনির পরও মলিন থাকছে কৃষকের মুখ। তবে এই দিন বদলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফসল রক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সাভারের রাজালাখ হর্টিকালচার সেন্টারের ‘কৃষকের শীতল ঘর’ নামে হিমাগার তৈরি করা হয়েছে। এতে স্বস্তির নিশ্বাস নিচ্ছেন কৃষক।

    বুধবার কৃষকের এই মিনি কোল্ডস্টোরেজ কার্যক্রম ও খামারি অ্যাপের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    এ সময় তিনি বলেন, কৃষকের মিনি কোল্ডস্টোরেজ ও খামারি অ্যাপ কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি বলেন, একটা সময় জনসংখ্যার চেয়ে কৃষি জমির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। এখন কৃষি জমি কমেছে, জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে। এরপরও কৃষকরা ভালো উৎপাদনের মধ্যদিয়ে আমাদের একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে রেখেছেন।

    কম কৃষি জমিতে অধিক ফলন, পচনশীল কৃষি পণ্য সংরক্ষণের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে খামারি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল সংরক্ষণের জন্য মিনি কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে। সারা দেশে ১০০ মিনি কোল্ডস্টোরেজ তৈরি করা হবে। এ প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাশরুরের তত্ত্বাবধানে দুটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা হয়েছে। সাভারের রাজালাখ হর্টিকালচার সেন্টারের ঘরের ভেতরে ও খোলা আকাশের নিচে কনটেইনারভিত্তিক সৌরচালিতভাবে তৈরি করা হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আধুনিক শীতল সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যকে সঠিক সময়ে বাজারে উঠানো। এর মাধ্যমে মৌসুমে দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ, ফসলের অপচয় রোধ ও কৃষকের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা কমবে। কৃষক সরাসরি বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন। কমবে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব।

    কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, কৃষকের শীতল ঘরের মাধ্যমে আমরা ফসলের অপচয় কমাব। কৃষকদের লাভজনক উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে। সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করা হবে। এ বিষয়ে কৃষককে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। আপাতত সারা দেশে এ রকম আরও ১০০ মিনি কোল্ডস্টোরেজ সরকার নির্মাণ করে দেবে।

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলম বলেন, এই কোল্ডস্টোরেজ কৃষকের জন্য নতুন দরজা খুলবে। এখন কৃষক নিজেই ফসল সংরক্ষণের মাধ্যমে দর নির্ধারণ করতে পারবেন। উন্নত এই প্রযুক্তি আমরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চাই।

    প্রকল্পের পরিচালক তালহা জুবাইর মাশরুর বলেন, স্থানীয় ও আমেরিকান হাইটেক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের শীতল ঘর তৈরি হয়েছে। ইন্টারনেটভিত্তিক এবং রিয়েল টাইম তদারকি সুবিধা থাকায় মোবাইলে ঘরে বসে এই মিনি কোল্ডস্টোরেজ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাত্র ৫ লাখ টাকায় কৃষক নিজের বাড়িতেই এটি তৈরি করতে পারবেন। আর কনটেইনারে সোলারসহ বানাতে লাগবে ১৫ লাখ টাকা। প্রচলিত কোল্ডস্টোরেজের চেয়ে এখানে খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কম লাগবে।

  • নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা করেছেন। এই ছাত্র সংগঠনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’।

    বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নাম ঘোষণা করা হয়।

    সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার এবং সদস্য সচিব হয়েছেন জাহিদ আহসান।

    আহ্বায়ক কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়ামকে। এ ছাড়া রিফাত রশীদকে সিনিয়র সদস্য সচিব, তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরীকে মুখ্য সংগঠক এবং আশরেফা খাতুনকে মুখপাত্র করা হয়েছে সংগঠনটির।

    এদিকে নতুন ছাত্রসংগঠন ঘোষণার আগে মধুর ক্যান্টিনে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের বিক্ষোভের পর নতুন এই ছাত্রসংগঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

  • ডেভিল হান্টে গ্রেফতার আরও ৬৭৮

    ডেভিল হান্টে গ্রেফতার আরও ৬৭৮

    সারা দেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন ডেভিল হান্টে ৬৭৮ জন এবং অন্যান্য মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১ হাজার ১২ জনসহ মোট ১ হাজার ৬৯০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে একটি ৪.৫ এম এম পিস্তল, একটি এলজি ও একটি শুটারগান ছাড়াও একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, একটি ম্যাগজিন, ৭টি কার্তুজ ও একটি রাইফেলের গুলি জব্দ করা হয়েছে।

    এছাড়াও অভিযানে স্টিলের দেশীয় তৈরি একটি কুড়াল ছাড়াও একটি ধারাল চাপাতি, একটি রামদা, একটি লোহার শাবল, একটি ক্ষুর, ২টি সুইচ গিয়ার ও ২টি লোহার রড জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    গত ৭ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার ঘটে। এর প্রতিবাদে ঘটনার পরদিন গাজীপুরে দিনভর বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। পরবর্তীতে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গাজীপুরসহ সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়।

    সবশেষ মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনা করে ৬৩৯ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই সঙ্গে এই সময়ে অন্যান্য মামলার ৯৯৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

  • নতুন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    নতুন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

    অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে মো. নাহিদ ইসলামের পদত্যাগের একদিন পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মাহফুজ আলম।

    বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব জাহেদা পারভীন স্বাক্ষরিত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ কথা জানানো হয়।

    এর আগে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পদত্যাগ করেন।

    প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ন্যস্ত আছে।

    আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছে। এই দলের নেতৃত্ব দেবেন নাহিদ ইসলাম। সে কারণে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

  • বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

    ঢাকার ধামরাইয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক রানী বিলকিস, আনিকা আক্তার ও যুগ্ম সমন্বয়ক পিয়াস মাহমুদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী কমিটি থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। সেই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ধামরাই কমিটি অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন তারা।

    সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ পদত্যাগের ঘোষণা দেন ও কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে পুনর্বাসন করার প্রতিবাদে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামনুল আহমেদ অনিক ও ধামরাই থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলামকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র সমাজের নেতারা।

    এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার ধামরাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সাধারণ ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা। মিছিল সমাবেশে মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম সমন্বয়কারীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করার ঘোষণা ও সদ্য গঠিত আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন।

    তাদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন ও আন্দোলনকারী ছাত্রদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিকে বারবার অবহিত করার পরও তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগের এ পুনর্বাসিত কমিটি গঠন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ধামরাই পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের মো. উজ্জ্বল হোসেনকে ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করেছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের হয়ে মাঠে কাজ করেছেন। তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তাদের আমাদের পাশে পাওয়া যায়নি।

    এসব তথ্য-উপাত্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করার পরও তাকেসহ ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটির অন্তর্ভুক্ত করে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলন চলাকালে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের অনেককে বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে সদ্য গঠিত কমিটি বাতিলের দাবি এবং আমরা মুখ্য সচিব ও সমন্বয়কসহ অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ দাবি করছি।

    এ ব্যাপারে মুখ্য সংগঠক আনিকা আক্তার বলেন, আন্দোলনের বিষয়টি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আমরা আপনাদের অবহিত করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা কাউকে পাশে পাইনি। তখন আমাদের কোনো বড় ভাই আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক কষ্ট করে আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

    তখন ধামরাই পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাল মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল হোসেন ছাত্রলীগের পক্ষে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করেছি। এ সত্ত্বেও তাকেসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ওই উজ্জ্বল হোসেনকে আহবায়ক করে ১৯ ফেব্রুয়ারি ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই প্রতিবাদে আমাদের পদত্যাগ এবং ওই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।

    এ ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক পিয়াস মাহমুদ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছি। অথচ আমাদের মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য তাদের নিয়ে ধামরাই উপজেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা বারবার অবহিত করার পরও তারা আমাদের কথায় কাউকে বাদ দেয়নি।

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়েছেন বলে জানান ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন আহমেদ অনিক।

  • উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রায় বাধা

    উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে পদযাত্রায় বাধা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে গণপদযাত্রা শুরু হয়েছে। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এ গণপদযাত্রা শুরু হয়ে টিএসসি পেরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

    বেলা তিনটার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলকারীদের আটকে দেয়। এ সময় পদযাত্রায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী-তরুণদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি। আন্দোলনকারীরা পুলিশের প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলেছে। তবে পুলিশের বাধার মুখে সামনে সচিবালয়ের দিকে এগুতে পারেনি। পরে রাস্তায় বসে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলা সোয়া ২টার দিকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

    জননিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলোর যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এ গণপদযাত্রা হচ্ছে।

    পদযাত্রা শুরুর আগে শহীদ মিনারে ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ‘পুরুষের ক্ষমতা, ভেঙে হোক সমতা’, ‘নারী থেকে নারীতে, ছুঁয়ে যাক প্রতিবাদ’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়।

    এর আগে শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির মূল ব্যানার ও বিভিন্ন পোস্টার-প্ল্যাকার্ড লিখেন। এ সময় পোস্টার-প্ল্যাকার্ডে ‘পাহাড় থেকে সমতল, সকল ধর্ষণের বিচার চাই’, ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ধর্ষণের রাজনীতি’,‘আমরা জন্ম থেকে শহীদ’, ‘তনু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার কই’—ইত্যাদি প্রতিবাদী স্লোগান লেখা হয়।

    পদযাত্রায় আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। উপদেষ্টার নেতৃত্বে থাকা পুলিশও নির্লিপ্ত। এ অবস্থায় নারীরা অনিরাপদ। তাই আমরা চাই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে গদি ছেড়ে দেবেন। গণঅভ্যুত্থানের পর যেমন বাংলাদেশ আশা করা হয়েছিল, তেমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই রাজপথে নেমেছি।

  • পরিবর্তন হলো দেশের ৪ মহাসড়ক ও ৮ সেতুর নাম

    পরিবর্তন হলো দেশের ৪ মহাসড়ক ও ৮ সেতুর নাম

    সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সারা দেশের চারটি মহাসড়ক ও আটটি সেতুর নাম পরিবর্তন করেছে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ।

    সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম জিলানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রজ্ঞাপন অনুসারে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার ও পচ্চার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেস পরিবর্তন করে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস রাখা হয়েছে।

    সিলেট জেলার বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ জাতীয় মহাসড়কের নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক থেকে পরিবর্তন করে সিলেট জেলার বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ জাতীয় মহাসড়ক করা হয়েছে।

    মাদারীপুর সড়ক বিভাগাধীন মাদারীপুর (মোস্তফাপুর)-ভায়া কাজিরটেক ব্রিজ হয়ে শরীয়তপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ২২২.৭৫ কিলোমিটার মহাসড়ক নাম শেখ হাসিনা মহাসড়ক থেকে পরিবর্তন করে কাজীরটেক ব্রিজ-শরীয়তপুর মহাসড়ক করা হয়েছে।

    চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগাধীন বড়তাকিয়া (আবুতোরাব)-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়কটির নাম শেখ হাসিনা সরণি থেকে পরিবর্তন করে বড়তাকিয়া (আবুতোরাব)-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক করা হয়েছে।

    পীরগঞ্জ উপজেলার কাঁচদহঘাট নামক স্থানে করতোয়া নদীর উপর নির্মিত ২৭৮.৮৮ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নাম ওয়াজেদ মিয়া সেতু থেকে পরিবর্তন করে কাঁচদহ সেতু করা হয়েছে।

    পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪৯তম কিলোমিটারে আন্দারমানিক নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম শেখ কামাল সেতু থেকে পরিবর্তন করে আন্দারমানিক সেতু করা হয়েছে।

    পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬১তম কিলোমিটারে সোনাতলা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম শেখ জামাল সেতু পরিবর্তন করে সোনাতলা সেতু করা হয়েছে।

    পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬৬তম কিলোমিটারে খাপড়াভাঙ্গা নদীর উপর নির্মিত সেতুর নাম শেখ রাসেল সেতুর নাম পরিবর্তন করে খাপড়াভাঙ্গা সেতু রাখা হয়েছে।

    পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলায় বলেশ্বর নদীর উপর নির্মিত ৩৮৭.৩১ মিটার দীর্ঘ ইন্দুরকানি সেতুর নাম শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি সেতুর নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানি সেতু রাখা হয়েছে।

    পিরোজপুর সড়ক বিভাগাধীন রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর জেলা মহাসড়কের ১২তম কিলোমিটারে বেকুটিয়া পয়েন্টে কঁচা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর নাম পরিবর্তন করে বেকুটিয়া সেতু রাখা হয়েছে।

    নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন ২য় শীতলক্ষ্যা সেতুর নাম সুলতানা কামাল সেতু থেকে ডেমরা সেতু রাখা হয়েছে এবং বরিশাল জেলায় অবস্থিত দপদপিয়া সেতুর নাম শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু থেকে দপদপিয়া সেতু রাখা হয়েছে।

    জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।