Category: জাতীয়

  • ‘৩ লাখ সাড়ে ১০ হাজার সরকারি পদ শূন্য’

    ‘৩ লাখ সাড়ে ১০ হাজার সরকারি পদ শূন্য’

    বর্তমানে দেশে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের আওতাধীন ৩ লাখ ১০ হাজার ৫১১টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

    সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী।

    জনপ্রশাসনমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় মোট শূন্য পদের সংখ্যা ২ হাজার ৫৯৬টি। কোনও কোনও দফতর ও সংস্থার নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন, কিছু কিছু পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণযোগ্য এবং কিছু কিছু পদ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশনের মাধ্যমে পূরণযোগ্য বিধায় শূন্য পদ পূরণের তারিখ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

    সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন- ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ জারির পূর্বে জনপ্রশাসনের কর্মচারীগণ ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে বিভাজিত ছিল। শ্রেণিভিত্তিক বিভাজনে ১ম গ্রেড হতে ৯ম গ্রেড ১ম শ্রেণি, ১০ গ্রেড হতে ১৩তম গ্রেড ২য় শ্রেণি, ১৪তম গ্র্রেড হতে ১৬তম গ্রেড ৩য় শ্রেণি এবং ১৭তম গ্রেড হতে ২০তম গ্রেড ৪র্থ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

  • যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের রিপোর্ট দাখিল

    যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের রিপোর্ট দাখিল

    অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতায় যদি কোনো ব্যক্তি সরকারি কোনো কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে তথ্য পাচারের অপরাধ সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা তিনি ১৪ বছর কারাদন্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়া আইনে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি ও গ্রেফতারের পাশাপাশি ক্ষতিকর তথ্য-উপাত্ত ব্লক বা অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে।

    ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া সভাপতিতে সংসদের ২০তম অধিবেশনের সোমবারের বৈঠকে উপস্থাপতি ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮-এর প্রতিবেদনে নতুনভাবে সংযোজিত আইনের এসব বিধান উল্লেখ করা হয়। ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা নিরীক্ষার এ রিপোর্ট সংসদে পেশ করেন কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ। রিপোর্টে সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক ও তাদের সুপারিশ বিলটিতে সন্নিবেশিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিলে ২১ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতির পিতা, জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রপাগান্ডা ও প্রচারণা চালান বা তাতে মদদ দেন তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি ওয়েবসাইট আ অন্য কোন ডিজিটাল মাধ্যমে (ক) ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্বেও কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত অপমান, অপদস্ত বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে কোন তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ বা প্রচার করেন বা (খ) রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুন্ন করার বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা তদুদ্দেশ্যে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে জানা থাকা সত্বেও কোনো তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত আকারে প্রকাশ বা প্রচার করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি ৩ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থ দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। উক্ত একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বা উস্কানি প্রদানের অভিপ্রায়ে ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কিছু প্রকাশ বা প্রচার করেন তাহলে তিনি ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ২৯ ধারায় ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে প্যানাল কোডের ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানিকর কোনও তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করার দায়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইট বা অন্যকোন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা বিভিন্ন শ্রেণী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শক্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটাইবার উপক্রম হয়, তাহলে তিনি ৭ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি (অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট ১৯২৩-এর আওতাভুক্ত) কোনো অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে সংঘটন করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা তিনি ১৪ বছর কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যদি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার সংঘটিত করেন, তাহলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

    ৪৩ ধারায় পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, মালামাল জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এক্ষত্রে জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে পুলিশ যে কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি করতে পারবে এবং বাধাপ্রাপ্ত হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম ও নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য সরঞ্জাম ও দলিলাদি জব্দ ও উক্ত ব্যক্তি গ্রেফতার করতে পারবে। তবে তল্লাশি সম্পন্ন করার পর এ বিষয়ে ট্রাইবুনালকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

    ৮ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিলের মহাপরিচালকের নিজ অধিক্ষেত্রভুক্ত কোন বিষয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোন তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে তিনি উক্ত তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ক্ষেত্রমত ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবেন। একইধারায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জন শৃঙ্খলা রক্ষায় মহাপরিচালকের মাধ্যমে একইভাবে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনের এ ধারায় সরকারকে অবহিত করে বিটিআরসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্ত অনুরোধ কার্যকরার সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১: ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ নিরাপদ ব্যবহার আবশ্যক। বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে এর সুফলের পাশাপাশি অপপ্রয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাইবার অপরাধের মাত্রাও বাড়ছে। তাই জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডিজিটাল অপরাধসমুহের প্রতিকার, প্রতিরোধ, দমন, সনাক্তকরাণ, তদন্ত এবং বিচারের উদ্দেশ্য আইন প্রনয়ন আবশ্যক।

  • ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি ‘চিরস্মরণীয়’?

    ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি ‘চিরস্মরণীয়’?

    দেশের সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বর্তমানে বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। এই বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত সমিতির এক মতবিনিময় সভায় সম্প্রতি বক্তৃতা দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। তার যুক্তফ্রন্ট এখনও বিএনপি জোটে শামিল হয়নি। কথাবার্তা চলছে।

    তার আগেই ড. কামাল হোসেন বিএনপির যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবিগুলোর পক্ষে উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে শুরু করেছেন। তাতে বিএনপির দাবিগুলোর পরিপূরক কিছু নিজস্ব কথাও আছে। তিনি হয়তো ভাবেন, তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নেতা, তিনি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথা বললেও কেউ তার প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না।

    তার এই ধারণাটা সত্য নয়। তিনি যতই নামজাদা মানুষ হোন, তার উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কথাবার্তা যে সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না, তার প্রমাণ অতীতে সব নির্বাচনে দলবলসহ তার শোচনীয় পরাজয়। এমনকি যদু-মধু প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছেও।

    সেজন্য তিনি সাময়িকভাবে দমে গেলেও আবার একটি সাধারণ নির্বাচন সামনে দেখে নতুন করে জেগে উঠেছেন এবং আওয়ামী লীগের প্রতি বিরূপ দলগুলোর মঞ্চে, সেমিনারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ, বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার শুরু করেছেন।

    সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেসব কথা বলেছেন, তার প্রতিবাদে ঢাকার একটি দৈনিকের কলামে (যুগান্তরে নয়) আমি কিছু না লিখে পারিনি। ড. কামাল হোসেন খুবই জ্ঞানী-গুণী মানুষ হতে পারেন।

    তাই বলে দেশের আর সব মানুষকে বোকা মনে করেন কেন? আইনজীবী সমিতির মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেয়া রায়কে ‘চিরস্মরণীয়’ আখ্যা দিয়ে এই সিনহাকে যারা চাকরিছাড়া, দেশছাড়া করে ছেড়েছেন, তাদের বিচার করে ছাড়বেন বলে হুমকি দিয়েছেন। অতীতে অনেক ব্যাপারে তিনি এই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। তারপর নিজেই প্রতিপক্ষের ভয়ে দেশ ছেড়ে উধাও হয়ে গেছেন।

    আমার মতে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে চিরস্মরণীয় নয়, স্মরণীয় রায় আখ্যা দেয়া যেত, যদি বিচারপতি সিনহা এই রায়ের সঙ্গে অবজারভেশনের নামে একটি দীর্ঘ পর্যালোচনা যুক্ত না করতেন।

    জুডিশিয়ারির এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে তিনি এমন একটি পর্যালোচনা অনাবশ্যকভাবে রায়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, যেটি পাঠ করলে যে কোনো মানুষের ধারণা হবে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক পর্যালোচনা।

    এই পর্যালোচনায় সরকার, ক্ষমতাসীন দল, তাদের মন্ত্রী, এমপি- এমনকি পার্লামেন্টকেও এমনভাবে নিন্দা করা হয়েছে, যাতে মনে হতে পারে, জুডিশিয়ারি সরকারের প্রতিপক্ষ এবং প্রতিপক্ষ হিসেবেই এই পর্যালোচনা লেখা হয়েছে এবং রায়ের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে।

    পরে জানা গেছে, এই পর্যালোচনা বিচারপতি সিনহা নিজে লেখেননি, বাইরে থেকে লিখে তাকে গেলানো হয়েছে। যারা বাইরে থেকে এই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণটি বিচারপতি সিনহাকে লিখে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের আইন ব্যবসায়ের এক সহযোগী এবং একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদকের নাম বাজারে ছড়িয়েছিল।

    এর সত্য-মিথ্যা আমি জানি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, এই পর্যালোচনাটি লেখা এবং বিচারপতি সিনহাকে দিয়ে তা গেলানোর ব্যাপারে যে গুজব রটেছে, তার পেছনে কিছু সত্য আছে।

    গত বছর মে মাসে আমি ঢাকায় যাই। তখনও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়া হয়নি। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সিনহা কী ধরনের রায় দিতে পারেন, তা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। সম্ভবত আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও চিন্তিত ছিলেন। তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি।

    এই সময় একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। আমি সোবহানবাগে এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছিলাম, এই সময় বিচারপতি এসকে সিনহা নিজে আমাকে টেলিফোন করে জানালেন, আপনাকে আমরা সুপ্রিমকোর্টে আমন্ত্রণ করে এনে একটু সম্মান দেখাতে চাই। আপনি আসবেন কি?

    আমি তাকে বিনীতভাবে বলেছি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছ থেকে সম্মান লাভের যোগ্য আমি নই। তবু কয়েক বছর আগে একবার তা পেয়েছি। এখন আপনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে আসতে পারি, যদি আপনি সম্মতি দেন। তিনি বললেন, আপনি আমার বাসায় এলে খুশি হব। কবে আসবেন, বলুন। আমি তাকে একটি তারিখ দেই।

    বিচারপতি এসকে সিনহাকে আমি শ্রদ্ধা করতাম, এখনও করি। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে মৃণাল হকের তৈরি একটি নারী ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠা করে (তখনও ভাস্কর্যটি সরানো হয়নি) তিনি যে শিল্পবোধ ও সাহসের পরিচয় দেখিয়েছেন, সেজন্য তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই তার প্রতি আমার মনে শ্রদ্ধা জেগেছিল।

    তার বাসায় তিনি এবং তার বিদুষী স্ত্রী আমার জন্য রাতের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। দীর্ঘকাল পর এই প্রথম তার সঙ্গে আমার আবার সাক্ষাৎ। একথা-সে কথার পর তিনি তার আসন্ন রায় দেয়ার কথা বলে বললেন- এই রায়ে সরকার হয়তো খুশি হবে না।

    আমি কী করব, আমি তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দায়বদ্ধ। আমি তাকে বলেছি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী বিভাগের আওতা থেকে বিচার বিভাগের মুক্তি আমাদের সবার কাম্য।

    সেদিন এর বেশি তার সঙ্গে কথা হয়নি। ইতিমধ্যে একদিন অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা। তিনি আমার পকেটে টুক করে একটা কাগজ গুঁজে দিলেন। বাসায় এসে কাগজটা খুলে দেখি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কিত রায় যে ধরনেরই হোক, দেশে তা কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে সে সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে ব্রিফ করেছেন। আমি সাংবাদিক এসব নিয়ে লেখালেখি করি। ভেবেছি, তিনি এ সম্পর্কে ব্রিফিং দিতে পারেন।

    কয়েকদিন পরেই বিচারপতি সিনহার বাড়িতে আবার আমার আমন্ত্রণ। আমার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন বন্ধু। তিনি তাদের ড্রয়িং রুমে বসিয়ে রেখে আমাকে নিয়ে একটি খাস রুমে ঢুকলেন। তারপর যা বললেন, তাতে একটু বিস্মিত হলাম।

    তিনি বিভিন্ন মামলায় তার দেয়া রায় এবং বিভিন্ন দেশের বিচারপতিদের বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশংসামূলক বক্তব্যের একটি ফাইল আমার হাতে তুলে দিলেন এবং বললেন, আমি বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতার গণ্ডি না ভেঙে আওয়ামী লীগকে অনেক বিচারিক চক্রান্ত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। আমাকে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই।

    আমি জিজ্ঞাসা করেছি, আপনাকে কেউ সরকারবিরোধী বলে সন্দেহ করেন? তিনি বললেন, সরকারের শীর্ষস্থানীয় কেউ কেউ করেন। আমার সম্পর্কে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর কান ভারি করার চেষ্টা করছেন। আমাকে হয়তো প্রধান বিচারপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হতে পারে।

    তাকে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনার মনে এ ধরনের সন্দেহ কেন হচ্ছে? তিনি বললেন, আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করেন এমন কিছু প্রাক্তন সহকর্মী আছেন। তাছাড়া আমার কাছে বিখ্যাত আইনজীবীদের অনেকে আসেন, আমাকে নানা ধরনের পরামর্শ, উপদেশ দেন।

    আইনের পেশায় তারা আমার সিনিয়র। আমি সবার কথাই শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনি। তবে নিজের ইচ্ছায় কাজ করি। আমার কাছে এদের আসা-যাওয়া নিয়েও সরকারের কান ভারি করা হচ্ছে।

    আমার একটু শঙ্কাবোধ হল, জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে ড. কামাল হোসেন এবং তার বন্ধুরা পরামর্শ, উপদেশ দেন কি? তিনি বললেন, আমি কারও নাম করতে চাই না। প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি কারও জন্যই আমার ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে পারি না।

    তার কথা শুনে আমার মনে হয় দৃঢ়প্রত্যয় জন্মালো প্রধান বিচারপতি যখন ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় নিয়ে ব্যস্ত, তখন নিশ্চয়ই ড. কামাল হোসেন এবং তার কয়েকজন আইনজীবী বন্ধু প্রধান বিচারপতির স্বনিযুক্ত কনসাইন্স কিপার সেজে এই রায় সম্পর্কে তার নিজস্ব বিচার-বিবেচনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

    প্রধান বিচারপতিকে বলেছি, আমি একজন সামান্য সাংবাদিক। আপনাকে পরামর্শ দেয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। আপনি প্রধানমন্ত্রীয় সঙ্গে বসে ভুল বোঝাবুঝিটা দূর করুন। আর যেসব বিজ্ঞ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ আপনাকে রাজনৈতিক মতলব নিয়ে পরামর্শ দিতে আসেন, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।

    আপনার ও জুডিশিয়ারির ওপর কোনো আঘাত এলে আমার ক্ষুদ্র সাধ্য অনুযায়ী তার প্রতিবাদ করব। আমি তাকে দেয়া কথা রেখেছি। কিন্তু তিনি হয়তো আমার সন্দেহের এই বিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রভাব ও পরামর্শ এড়াতে পারেননি।

    এরপর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বেরিয়েছে। তা নিয়ে দেশে হৈচৈ হয়েছে। আমার অত বড় রায় পড়ার সময় ছিল না এবং ইচ্ছাও ছিল না। শুধু বুঝেছি, রায়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার আগ্রহ দেখানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মিডিয়ায় এক সময় নানা প্রচার-প্রোপাগান্ডা শুরু হয়। আমি তাতে কান দেইনি। মনে করেছি, তার অনেক শত্রু আছে। এটা তাদেরই কাণ্ড। দু’দিন পর এগুলো হাওয়ার মিলিয়ে যাবে।

    কিন্তু এরপরই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি অবজারভেশন বা পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়। এটি পাঠ করে আমি বিস্মিত হই। এটি রায়ের কোনো আইনি বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা নয়। সরকার, মন্ত্রিসভা ও এমপিদের অযোগ্যতা নিয়ে ঢালাও রাজনৈতিক সমালোচনা।

    এ ধরনের বিতর্কমূলক রাজনৈতিক বিবৃতিদানের এখতিয়ার উচ্চ আদালতের আছে কিনা আমি জানিনা। সরকারের বা সরকারি কোনো বিভাগের ভুল-ত্রুটি ধরা পড়লে আদালত সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে থাকেন বলে দেখেছি। কিন্তু গোটা সরকার ও পার্লামেন্টকে এমনভাবে তুলাধুনো করার উদাহরণ আমার জানা নেই।

    প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে যেভাবে তার পদ থেক সরতে হয়েছে, তা আমি আগেও সমর্থন করিনি, এখনও করি না। তিনি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু দশচক্রে ভগবান ভূত হয়েছেন। আমার ধারণা সঠিক কিনা জানিনা, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের সঙ্গে যুক্ত পর্যবেক্ষণটি সাবেক প্রধান বিচারপতির লেখা নয় বলেই আমার বিশ্বাস।

    পর্যবেক্ষণের বক্তব্য, ভাষা ও আক্রমণের ভঙ্গিতে তথাকথিত সুশীলসমাজ এবং তার বিজ্ঞ ও প্রবীণ আইনজীবীদের প্রভাব লক্ষণীয়। গোটা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেশে যে একটি জুডিশিয়াল ক্যু ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল এবং বিচারপতি সিনহাকে তার অজ্ঞাতেই এই ক্যু ঘটানোর শিখণ্ডি হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়া হয়েছিল, তাতে সন্দেহ পোষণের অবকাশ কম।

    আমার দুঃখ হয়, ড. কামাল হোসেনদের সংস্রবে এসে, পরামর্শ শুনে দেশের বহু ভালো মানুষ ও সৎ মানুষের সর্বনাশ হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন একজন। দেশের দুর্দিনের সারথি, একজন সৎ ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ব্যক্তি হয়ে থাকতে পারতেন।

    জেনারেল এরশাদের পতনের পর অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করে তার নীতিপরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার জন্য সারা দেশের মানুষের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন তিনি।

    কিন্তু ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি থাকাকালে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে চারপাশে তার কনসাইন্স কিপার হয়ে এসে জুটলেন ড. কামাল হোসেন, সঙ্গে ডা. বদরুদ্দোজা, মান্নান ভুঁইয়া প্রমুখ। বেগম খালেদা জিয়াও তার সঙ্গে ঘনঘন দেখা-সাক্ষাৎ শুরু করেন। দশচক্রে ভগবান ভূত হলেন। আজ তিনি আগের সুনাম ও জনপ্রিয়তা হারিয়ে বেঁচে থেকেও বেঁচে নেই। বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছেন।

    ড. ইউনূসের যতই সমালোচনা করি, তিনিও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে মামলা-মোকদ্দমায় যেতে রাজি ছিলেন না। তাকে রাজি করালেন কে? বাজারে প্রচলিত নামটা আর উল্লেখ করতে চাই না। এই মামলা-মোকদ্দমা চলাকালে আমি ছিলাম ঢাকায়।

    ড. ইউনূসের অন্যতম আইনজীবী রোকনউদ্দিন মাহমুদ আমাকে জানালেন, নোবেলজয়ী সরকারের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে চান, সরকার আপস করতে রাজি কিনা তা আমার মাধ্যমে জানতে চান। আমি তখনকার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিককে জানাই। তিনি বললেন, সরকার ইউনূসের সঙ্গে বিবাদ চায় না। আপস চায়। আগামীকাল আদালতে মামলার তারিখ। ড. ইউনূসের আইনজীবীকে বলুন, কাল আদালতে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে আমাকে জানাতে। আমি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যা করণীয় তা করব।

    ঠিক হল পরদিন সকালে রোকনউদ্দিন মাহমুদ আমাকে তা জানাবেন। আমি আইনমন্ত্রীকে জানাব। কিন্তু আমি বনানীতে আমার হোটেল কক্ষে বসে আছি। সঙ্গে আমার বন্ধু সাবেক সিএসপি মোকাম্মেল হক। সকাল দশটায় আইনমন্ত্রী জানতে চাইলেন, খবর কী? বললাম, এখনও কিছু জানি না।

    এর পরপরই রোকনউদ্দিন মাহমুদ জানালেন, মামলা উইথড্র হবে না। ড. ইউনূস মত পাল্টেছেন। কারণ কী? পরে জানলাম, ড. ইউনূসকে তার প্রধান আইনজীবী মামলায় জেতার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান আইনজীবীর পরামর্শ শুনে তিনি মামলায় জেতেননি। আম এবং ছালা দুই-ই হারিয়েছেন। এখন তিনি উড়ন্ত বিমানে দুরন্ত ব্যবসায়ী।

    এই ড. কামাল হোসেন নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের কাঁধে সওয়ার হয়েছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে নিজে দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি? তার অতীতের ইতিহাস কী বলে? নিজে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন না। চক্রান্তের রাজনীতিতে জড়িত হয়ে বিএনপি-জামায়াতকে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ করে দেন। তাতে গণতন্ত্রের সর্বনাশ হয়, মঙ্গল হয় না।

  • মৈয়ূরীকে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান’

    মৈয়ূরীকে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান’

    তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। খবর বাসসের।

    রোববার সংসদ ভবন কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

    তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন আবিদা ইসলাম মৈয়ূরী।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত আবেগঘন হিসাবে বর্ণনা করেন।

    তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্বৃত করে বলেন, মৈয়ূরী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাকে তার (শেখ হাসিনার) নিজের সন্তান হিসাবে গ্রহণ করার অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই তুমি আমার সন্তান।’

    এ সময় মৈয়ূরী প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘অতীতে কোন সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করেনি।

    প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ হাতে নিয়েছে এবং তাদেরকে পরিবারের সঙ্গে থাকার অধিকার নিশ্চিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রোববার ‘তৃতীয় লিঙ্গে’র পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। ছবি-সংগৃহীত

    সরকার হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়।

    এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ‘সিরি সমাজ কল্যাণ সংস্থা’-এর আওতায় জামালপুর জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের লোকদের কল্যাণে কাজ করে।

  • নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ: বার্নিকাট

    নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ: বার্নিকাট

    ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট বলেছেন, ‘বাংলাদেশে শান্তি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক মনোভাব- এ সবকিছুরই রয়েছে এক জোরালো ঐতিহ্য। একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে থাকা একটি রাষ্ট্রের জন্য।’

    সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইউএসএআইডি-ইউকেএআইডির যৌথ সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার বিষয়ক কর্মসূচি ‘শান্তিতে বিজয়’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    বার্নিকাট বলেন- ‘হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার মাধ্যমে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় অবদান রাখতে পারবো। সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, মিডিয়া ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা-বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে মিলে এ কাজ করতে সক্ষম হবো।’

    তিনি বলেন- ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের অবশ্যই নিজেদের রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ, প্রচারণা চালানো এবং ভয়ভীতি, প্রতিশোধ বা জবরদস্তিমূলক বিধিনিষেধ ছাড়া শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত।’

    তিনি আরও বলেন- ‘ইস্যু বা নীতির বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বৈধ অংশগ্রহণকারী এবং পরবর্তী সরকারের সম্ভাব্য নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত।’

    মার্শিয়া বার্নিকাট বলেন- ‘বাংলাদেশিদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে- নির্বাচনের আগে, চলাকালে ও পরে- সংশ্লিষ্ট প্রত্যেককে অহিংস আচরণ করার আহ্বান জানাতে হবে। সহিংসতা শুধু তাদেরই কাজে আসে যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ ও তার নাগরিকদের স্বার্থহানি করতে চায়।’

    অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ক কর্মসূচি ‘শান্তিতে বিজয়’র অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র সরকার, যুক্তরাজ্য সরকার এবং সবার অর্থাৎ বাংলাদেশি সহযোগীদের অনন্য সহযোগিতার ফসল।

  • নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সফরের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল উত্তেজনা

    নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সফরের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল উত্তেজনা

    বা:মু:প্র/ শেখ সুমন :

    নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সমর্থনে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি র‌্যালির পাশাপাশি ‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির সমর্থনে বিএনপির মানববন্ধন, আলোচনা সভা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    জাতিসংঘে ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসবেন শেখ হাসিনা। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘে ভাষণ প্রদানের পর লন্ডন হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। ৫ দিনের এই সফরের সময়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়ই ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। এটি অনুষ্ঠিত হবে মিডটাউন ম্যানহাটানে হোটেল হিল্টনের বলরুমে। এই সমাবেশের বাইরেও বিক্ষোভ ও কাল পতাকা দেখাবে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন। এজন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ। এর আগে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে হাজারো নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, শ্রমিক লীগ। একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, যুবদল, জাসাস। এসব সংগঠনের পক্ষে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন এ সংবাদদাতাকে জানান, বিনা চ্যালেঞ্জে কিছুই করতে দেয়া হবে না শেখ হাসিনাকে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো।

    জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ভাষণের সময়ে বাইরে আওয়ামী লীগ করবে শান্তি সমাবেশ, অপরদিকে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশের। বিএনপির কর্মসূচির জন্যেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আগেই এয়ারপোর্ট, জাতিসংঘসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করেছেন।

    আওয়ামী লীগের পক্ষে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, প্রতিবাদের নামে জামায়াত-শিবিরের প্ররোচনায় বিএনপি যদি কোন অসভ্য-অগণতান্ত্রিক আচরণের চেষ্টা করে তাহলে তার সমুচিত জবাব দেয়া হবে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আগের মতো এবারও শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

    পক্ষ ও বিপক্ষের কর্মসূচির সমর্থনে ১৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ আর যুবলীগের ব্যানারে দুটি র‌্যালি এবং বিএনপির ৩ গ্রুপের ৩টি র‌্যালি হয়েছে কাছাকাছি দূরত্বে। সকলেই পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান আর বক্তব্য দিলেও তা শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির র‌্যালি চলাকালে তা থেকে ৪/৫ গজের মধ্যেই প্রদীপ রঞ্জন করের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন কিন্তু কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। বিএনপির কর্মসূচি শেষ হলেই প্রদীপ কর ও আব্দুর রহিম বাদশা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের র‌্যালি শুরু হয় ডাইভার্সিটি প্লাজায়।

    স্টেট বিএনপির এ র‌্যালিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো সে নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জসীমউদ্দিন, সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাইদুর রহমান, মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, শ্রমিক দলনেতা রফিকুল মাওলা প্রমুখ।

    অপরদিকে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, আব্দুর রহিম বাদশা, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, কাজী কয়েস, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, কায়কোবাদ খান, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শাহীন আজমল, মুক্তিযোদ্ধা আর আমিন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

    প্রায় একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি সভা হয় নিকটস্থ কাবাব কিং পার্টি হলে। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা পারভেজ সাজ্জাদ।

    নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ বশির, প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ডা. মজিবর রহমান মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, আনোয়ার হোসেন এবং ফিরোজ আহমেদ, মহিলা সম্পাদিকা সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি রাফেল তালুকদার, বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম মজনু, বাসিত রহমান, শাহাদৎ হোসেন রাজু, হেলালউদ্দিন, এমলাক হোসেন ফয়সল, কাজী আমিনুল ইসলাম, যুবদল নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

    অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার নির্বাচিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ দাবির সমর্থনে বিশ্বজনমত গড়তেই জাতিসংঘের সামনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে হবে।

    বিএনপির অপর অংশের আরেকটি প্রস্তুতি সভা হয় ইত্যাদি পার্টি হলে। ডা. মজিবর রহমান, সৈয়দ এম রেজা, মোহাম্মদ বশীর প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

  • মুক্তি পেল ১৪২ আসামি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

    মুক্তি পেল ১৪২ আসামি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৪২ আসামিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

    রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের একথা জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

    তিনি বলেন, লঘু অপরাধে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আটক আসামিরা তাদের ‘অপরাধ স্বীকার করায়’ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৪২ আসামিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

    পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন।

  • সফর শেষে দেশে ফিরলেন ফখরুল

    সফর শেষে দেশে ফিরলেন ফখরুল

    পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ঝটিকা সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রবিবার বিকেল ৫টা ২০মিনিটে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছান তিনি।

    গত ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে নিউইর্য়ক যান তিনি। এ সফরে তিনি জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মেরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন।

    ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সঙ্গেও বৈঠক হয় তার। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের নানা অনিয়ম, বিরোধী দলের উপর দমনপীড়নের তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন বিএনপি মহাসচিব। একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জাতিসংঘ ও ট্রাম্প প্রশাসনেরও করণীয় আছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানান তিনি।

    শুক্রবার বিকেলে লন্ডনের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল ওয়াশিংটন ত্যাগ করেন। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইর্য়ক থেকে লন্ডনে পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব। সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

    লন্ডনে এসে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোল ও জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন শীর্ষ দুই নেতা।

    মির্জা ফখরুলের সফরসঙ্গী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়ালও একই ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মহাসচিবের আকস্মিক এ সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • আওয়ামী লীগকে জনগণ আবারো ভোট দিয়ে  নির্বাচিত করবে :  শেখ হাসিনার

    আওয়ামী লীগকে জনগণ আবারো ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে : শেখ হাসিনার

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেছেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্যই জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় নির্বাচিত করবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের মাঝে এখনও আওয়ামী লীগের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে, কারণ জনগণ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপেও এটা উঠে এসেছে।’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রাতে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন।
    সততাকেই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল যারা অপেক্ষা করেই থাকে কখন দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতা দখল করবে আর তাদের অবস্থার উন্নতি হবে।’

    ‘কিন্তু, সেই আশা করে আর লাভ নেই। উত্তরপাড়া আর আসবে না তাদের ক্ষমতায় বসাতে,’ বলেন তিনি।
    প্রধানমন্ত্রী এ সময় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভিন্ন জোট গঠনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা যেখানে চাইবে সেখানেই সরকার তাদের সভা করতে দেবে।
    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন দুটি ঐক্য ফোরাম গঠনকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরকম হওয়া উচিত। আরো নতুন নতুন পলিটিক্যাল অর্গানাইজেশন তৈরি হোক।

    তিনি বলেন, তাঁরা আগামীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মিটিং করতে চেয়েছেন, তাঁরা যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান, আমরা করতে দেব। আমাদের কোন আপত্তি নাই, আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি। পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করবো আপনারা বাধা দেবেন না।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দরকার হলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি স্থায়ী মঞ্চ করে দেব। যার যত খুশি সেখানে বক্তৃতা দিতে পারবে। আমি বলবো একটি কর্ণার ঠিক করে দিতে সেখানে বক্তৃতা দিক, আন্দোলন করুক, যা খুশী করুক। কারণ আমরা কারো গলা চেপে ধরিনি, আমরা কারো মুখ বন্ধ করিনি।

    ‘কিন্তুু যারা মিথ্যাচার করবে, উস্কানিমূলক কাজ করবে এবং সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • ‘লাখ টাকা বেতন দিলেও কেউ কেউ বলবে আরও লাগবে’

    ‘লাখ টাকা বেতন দিলেও কেউ কেউ বলবে আরও লাগবে’

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, সরকার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা থাকলেও তা পাত্তা দিচ্ছেন না শ্রম মন্ত্রণালয়। এই মজুরি নিয়ে অসন্তোষের কোনো ‘সুযোগ’ নেই।

    তিনি বলেন, ভালো কাজ করলে কেউ না কেউ বিরোধী তো থাকেই। এক লাখ টাকা বেতন দিলেও কেউ কেউ বলবেন এতে হয় না, আরও লাগবে।

    রবিবার সচিবালয়ে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে বিএসআরএম-এর লভ্যাংশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাধারণ শ্রমিকদের সমর্থন আমাদের সঙ্গে আছে। তাই কোনও সমস্যা হবে না। আর কোনও ধরনের অসন্তোষ যাতে না হয় সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট অনুযায়ী মজুরি ঘোষণা করেছি।

    তবে কিছু সংগঠনের ‘উদ্দেশ্য ভালো নয়’ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়নি নিয়ে খুবেই সতর্ক। উদ্দেশ্যমূলকভাবে যদি কিছু করতে চায় তবে তারা কিছু করতে পারবে না।

    গত বৃহস্পতিবার গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে সরকার। সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা রেখে এই মজুরি ঘোষণা করা হয়। যা আগামী ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    বর্তমানে পোশাক শ্রমিকরা ২০১৩ সালে ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা পেয়ে আসছেন।
    এ দফায় তা ১৬ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন সংগঠন।

    চুন্নু বলেন, সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণার আগে আমি শ্রমিক, শ্রমিক ফেডারেশন, ইউনিয়নের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা করা হলে হয়তো সবাই সেটা গ্রহণ করবে।