Category: জাতীয়

  • জাতিসংঘের সরাসরি সহায়তা চেয়েছে বিএনপি

    জাতিসংঘের সরাসরি সহায়তা চেয়েছে বিএনপি

    আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতিসংঘের সরাসরি সহায়তা চেয়েছে বিএনপি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ জেনকার সঙ্গে সাক্ষাত করে এই সহায়তা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গুতেরেস ঘানায় অবস্থান করায় সহকারী মহাসচিব জেনকোর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়।

    সাক্ষাতে দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিরোধীদের দমন-পীড়নের অভিযোগ এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে থেকে দাবি করা হলেও বিএনপি মহাসচিব এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মহাসচিবের আমন্ত্রণে এসেছিলাম। আসন্ন নির্বাচনসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে।

    জেনকার সঙ্গে বৈঠকে ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল এবং লন্ডন থেকে আসা সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর। সাক্ষাত শেষে বিএনপি মহাসচিব ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে রওনা হন।

  • জিয়া ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্ত করেছিলেন

    জিয়া ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্ত করেছিলেন

    নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আটক করা ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্ত করে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছিলেন। তারপর খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছেন।

    শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের বরফকল মাঠ এলাকায় ড্রেজার বেইজ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, আগুন ও বোমায় অসংখ্য মানুষ হত্যা করে দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিলেন। এছাড়া পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে পারেনি বলেই পাকিস্তান খালেদা জিয়ার ঘাড়ে চেপে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির স্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশের সম্পদ ধ্বংসের জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভূগর্ভ উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নদী খনন কাজ চলছে। তাই উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখতে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

    বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত সচিব ভোলানাথ দে, বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আউয়াল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

  • লজ্জা ঢাকতে পারছেন না মির্জা ফখরুল : ড. হাছান মাহমুদ

    লজ্জা ঢাকতে পারছেন না মির্জা ফখরুল : ড. হাছান মাহমুদ

    আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, মির্জা ফখরুলদের জাতিসংঘে যাওয়া জনগণকে ধোঁকা দেওয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়। তারা জাতিসংঘে গিয়ে জাতিসংঘের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে দেখা করেছেন। এ লজ্জা তিনি ঢাকতেও পারছেন না। এজন্য সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করলেন আপনারা কার সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি তখন আমতা আমতা করছিলেন।

    শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    হাছান মাহমুদ বলেন, ‘জাতিসংঘের মহাসচিব আফ্রিকায়। তারা দেখা করলেন জাতিসংঘের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সঙ্গে। আমাদের দেশের মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকে, তারপর অতিরিক্ত সচিব, উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি তারপর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। অর্থাৎ বিসিএসের মাধ্যমে কেউ প্রশাসনে চাকরি নিলে সর্বপ্রথম অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পান।

    তেমনি জাতিসংঘেরও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সর্বনিম্ন বা প্রাথমিক পদবি। মির্জা ফখরুল ইসলামকে যখন সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করলেন কি আলোচনা হয়েছে, তিনি আমতা আমতা করে কিছুই বলতে পারলেন না। অর্থাৎ এগুলো দেশের জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

    রাজনীতিতে কিছু পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদ আছে উল্লেখ করে সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আব্দুর রব, বদরুদ্দুজা চৌধুরী তারা হচ্ছে রাজনীতিতে পরিত্যক্ত ব্যক্তিত্ব। এই পরিত্যক্ত রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঐক্য করে কোনো লাভ হবে না।

    তাদের নিজেদের এমপি হওয়ারও এলাকায় জনপ্রিয়তা নাই। তারা রাত-বিরাতে মিটিং করে খবরের জন্ম দিচ্ছেন বটে, নির্বাচন এলে দেখা যাবে খালেক ভাই আর বাবলা ভাইয়ের কাছে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে গেছে। সুতরাং এদের এই সমস্ত দৌড়ঝাপেও কোনো লাভ হবে না।

  • ‘আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই’

    ‘আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই’

    শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় কোনো ভুল বা ক্রুটি থাকলে বলবেন, আমরা তা স্বাগত জানাই। কেননা আমরা মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই। আমরা এগিয়ে যেতে চাই, তাই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আজ সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কৃতি শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা ও বৃত্তিপ্রদান অনুষ্ঠানে একথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

    ডিআরইউর সদস্যদের মধ্যে যাদের সন্তান ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে তাদেরকে প্রতি বছরের মতো এবারও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসজিডি) ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী শিক্ষার মানের প্রতি সরকারের মনোযোগ রয়েছে। বর্তমান এবং আগামী দিনের প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

    ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বিশেষ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক মঈন উদ্দিন, কল্যাণ সম্পাদক কাওছার আযম, ক্রীড়া সম্পাদক আরাফত দাড়িয়া প্রমুখ।

  • ‘বিএনপি-জামায়াত তিনশ’ ফেসবুক পেইজ চালাচ্ছে’

    ‘বিএনপি-জামায়াত তিনশ’ ফেসবুক পেইজ চালাচ্ছে’

    দেশবাসীকে ফেসবুক ও অনলাইনের গুজব থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি-জামায়াত দেশের বাইরে থেকে তিনশ ফেসবুক পেইজ চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের গুজব ছড়াচ্ছে। তারা এই ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য এবং অসত্য কিছু তথ্য প্রকাশ করে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের ২২তম অধিবেশনে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সামশুল হক চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১২) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

    তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানো ও সরকারের ইমেজ নষ্ট এবং ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রী-এমপিদের চরিত্র হনন করা তাদের (বিএনপি-জামায়াত) উদ্দেশ্য।

    ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পেইজ সনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় অনলাইন পত্রিকাগুলোর নামে, প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হয়। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের সময় বিবিসির লোগো ব্যবহার করেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। যা পরে মিথ্যে বলে জানা যায়। সকলেই জানে যে বিএনপি-জামাতের অর্থের কোনো অভাব নেই।

    সে কারণে তারা প্রচুর অর্থ খরচ করে ফেসবুক পেইজ এবং কিছু কিছু অনলাইনের মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। তবে সরকার ফেসবুকে গুজব মনিটর করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে গুজব সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ সেল তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষেই এর কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। মনিটরিং সেল ২৪ ঘণ্টা নজর রাখবে কোন কোন তথ্য গুজব। কারণ গুজব যখন রটনা হয় তা কিন্তু অপরাধের পর্যায়ে পরে।

    তিনি আরও বলেন, তিনটি বিভাগে এই গুজব শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ সেল কাজ করবে। যাতে তরুণ প্রজন্ম নিযুক্ত থাকবে। তিন ঘণ্টার মধ্যে এসব তরুণরা গুজব চিহ্নিত করে তা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্র ও রেডিওকে জানিয়ে দেবে যে এই সংসদ গুজব।

    হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলাও করার পরামর্শ :

    হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী তারানা জানান, সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে। অতীতের যে কোনো সরকারের চেয়ে আমরা গণমাধ্যমকে অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছি। কিন্তু তারপরেও কোনো কোনো মিডিয়া ও সাংবাদিক ইনটেনশনালি হলুদ সাংবাদিকতা করে থাকে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে যদি কোনো সাংবাদিক হলুদ সাংবাদিকতা করেন বা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য প্রকাশ করেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানানো যাবে।

    তা ছাড়া আদালতেও মামলা করা যায়। এ ছাড়া ৫৭ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে। কোনো ধরনের মিথ্যে ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য বা খবর প্রচার/ প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

  • খালেদার চিকিৎসায় ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

    খালেদার চিকিৎসায় ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

    কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় অধ্যাপক আব্দুল জলিল চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।  কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- আবু জাফর চৌধুরী বিরু, অধ্যাপক তারেক রেজা এবং অধ্যাপক শামসুন্নাহার।

    কারা-কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন এ তথ্য জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে একবার তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে বিশেষায়িত বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে গত ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়।

  • বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল সংসদে উত্থাপিত

    বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন বিল সংসদে উত্থাপিত

    দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে বহুল আলোচিত ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বিল’ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দিতে বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

    বিলে বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহনে কন্ডাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। শ্রম আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান চুক্তি ছাড়া কাউকে কন্ডাক্টর নিয়োগও করতে পারবে না। গণপরিবহন পরিচালনায় সরকারি গেজেট দ্বারা প্রতিটি মহানগর, বিভাগ এবং জেলায় একটি করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি গঠিত হবে। কমিটিতে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক প্রতিনিধি থাকবেন। এ কমিটি রুট পারমিট দেবে।

    বিলে মোটরযানের মালিক বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বার্ষিক বা এককালীন চাঁদা আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাঁদার অর্থ মোটরযান দুঘর্টনায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীকে ক্ষতিপূরণ বা চিকিৎসা খরচ বাবদ দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ জন্য সরকার কর্তৃক আর্থিক সহায়তা তহবিল পরিচালনায় একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হবে। সরকার ট্রাস্টির চেয়ারম্যান নিয়োগ করবে। এটি একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হবে। বিলে পরিবহন খাতের বীমাসহ সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

    বিলে অপরাধ, বিচার ও দণ্ড অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্যানাল কোডের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর ১৮৮৯-এ ভিন্ন কিছু না থাকলে, সাব ইন্সপেক্টর বা সমমর্যাদার কর্মকর্তা আদলতে অবহিত করলে এ আইনের অধীনে সব অপরাধ আমলযোগ্য হবে। তবে আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধসমূহ ছাড়া অপর সব অপরাধ জামিনযোগ্য হবে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ বা সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে এ আইনের ৬৬, ৭২, ৭৫, ৮৭, ৮৯ এবং ৯২ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহ আপোষ মিমাংসা করতে পারবেন।

    এ ছাড়া অপরাধসমূহ নির্ধারিত টার্মিনাল চার্জ ব্যতীত পাবলিক প্লেসে মোটরযান চলাচলের জন্য অবৈধভাবে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। করলে প্যানাল কোডের অধীন চাঁদাবাজির অপরাধ বলে গণ্য হবে।

    বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে আদালতের নির্দেশে মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিন্যান্স ১৮৮৩ বাতিল হয়ে গেলে আবশ্যকতা বিবেচনায় ২০১৩ সালের ৭নং আইন দ্বারা এটি কার্যকর রাখা হয়। পরে চাহিদা ও নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ প্রণীত হয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে আইনে ১৪টি অধ্যায়ে ১২৬টি ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

    এ ছাড়া আজ সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল ২০১৮ পাস করেছে সংসদ।

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাস চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হন। পরের দিন থেকে রাজধানীর সড়কে অবস্থান করে বেপরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এরপর আইনটি চূড়ান্ত করে সাজা ও জরিমানা বাড়ানো হয়। এর আগেও আইনটি করার উদ্যোগ নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা সম্ভব হয়নি।

  • ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ইন্টারকন্টিনেন্টাল’

    ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ইন্টারকন্টিনেন্টাল’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থাপনা। এই হোটেলে ‘৭১ সালে বঙ্গবন্ধু অনেক রাজনৈতিক মিটিং করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এর নতুনরূপে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অাজ অান্তর্জাতিক মানের একটি স্থাপনা নতুন করে শুরু হলো। ঐতিহ্য অার অাধুনিকতায় নতুন করে সাজানো হয়েছে এই হোটেল।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মো. মহিবুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি সাংবাদিক মার্কটালি এবং সায়মন্ড ড্রিংকসহ অনেকে এই হোটেলে উঠেছিলেন। পাকিস্তানি মিলিটারিরা খবর পেয়ে এই হোটেল ঘেরাও এবং অাক্রমণ করেছিল। রান্নাঘরে লুকিয়ে থাকা সাংবাদিক সায়মন্ড ড্রিংক পালিয়ে যান। তিনি একমাত্র সাংবাদিক যিনি গণহত্যার ছবি তুলে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে অন্য সাংবাদিকরাও ‘৭১ এর হত্যা ও নির্যাতনের অনেক ছবি তোলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু অার্থসামাজিকভাবে উন্নত হচ্ছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ করতে অাসছেন সে কারণে উন্নত হোটেল প্রয়োজন। এ ছাড়া হোটেলটির অবস্থানও খুব সুন্দর জায়গায়। পাশে সবুজবেষ্টিত রমনা পার্ক রয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে উন্নয়নের ছোঁয়া একেবারে গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষকে সুন্দর এবং উন্নত জীবন দেয়ার লক্ষ্যে অামরা কাজ করছি। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকলে, উন্নত জীবন পেলে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলতে পারবে। তখনই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।

  • জাতিসঙ্ঘ বিরক্ত হয়ে মির্জা ফখরুলকে তলব করেছে :  কাদের

    জাতিসঙ্ঘ বিরক্ত হয়ে মির্জা ফখরুলকে তলব করেছে : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতীক নৌকা ভেসে ভেসে বিজয়ের পতাকা নিয়ে বিজয়ের মাসে তীরে ভিড়বে।

    ওবায়দুল কাদের আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সড়ক ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে বিএনপির আগামী মাস থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
    এ সময় সড়ক ও জনপথ ( স ও জ) বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জাতিসঙ্ঘে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি তো এখন পুরোপুরি একটি নালিশ পার্টিতে পরিনত হয়েছে। তারা যে একটি নালিশ পার্টি তারা তা বারবার প্রমাণ করেছে। জাতিসঙ্ঘে গিয়েও তারা তারই পুনরাবৃত্তি করবে।

    তিনি বলেন, কোনো দেশে সংকট থাকলে তা নিরসনের জন্য জাতিসংঘ তাদের একজন দূত পাঠায়। তিনি ওই সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্ঠা চালান। বর্তমানে দেশে কোন সংকট না থাকায় তারা কোন দূত পাঠায়নি।

    কাদের বলেন, কিন্তু এরপরও বিএনপির নেতারা এত নালিশ শুরু করেছে যে জাতিসংঘও বিরক্ত হয়ে তাদের নালিশ শুনার জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তারা তলব করেছে। অবশ্য আমাদের এ নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই। তবে জাতিসংঘে তাকে কেন ডাকা হয়েছে তা নিয়ে আমরা তড়িঘড়ি করে কোন মন্তব্যও করতে চাই না।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বের আন্তঃরাষ্ট্রিক সর্বোচ্চ একটি ফোরাম। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছে। তাই এ বিষয়ে অহেতুক মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

    তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করবে কি না তা আমরা জানি না। তারা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাইতে পারে। আমরাও সে ধরনের নির্বাচনই চাই।
    তিনি বলেন, ‘ আমরা সংবিধানের বাইরে কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না। সংবিধান অনুযায়ী দেশের নির্বাচন হবে। নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি)কে স্বাধীন ও কতৃত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে মাত্র।’
    প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন অ আইনটি পাস হতে পারে।

    ভারতের আসামের নাগরিক পঞ্জী বহির্ভুত অধিবাসীদের বিতাড়নের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা (ভারত) এখনও এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেনি। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখা হবে।
    ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবনির্মিত ১২ তলা ভবনটি উদ্বোধন করবেন। এ ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন ইনটেরিয়রের কাজ চলছে।

    এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)’র অর্থায়নে ভবনটি নির্মিত হচ্ছে বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। 

    জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার রাত ২টায় অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সাথে গেছেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

    জানা গেছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য সংস্থাটির সদর দফতরে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় একটি আলোচনায় অংশ নেবেন বিএনপি মহাসচিব। এতে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল নিজ দল বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।

    একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সফরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও বিএনপি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব। দলটিকে এই আগ্রহের কথা জানিয়ে গত সপ্তাহে বিএনপি মহাসচিবকে নিউ ইয়র্কে যেতে আমন্ত্রণ পাঠান অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

    জানা গেছে, বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘের আবাসিক প্রতিনিধির মাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব বরাবর আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়।

    জানা গেছে, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সুপারিশমালা তুলে ধরবে বিএনপি। একই সাথে বিএনপিসহ বিরোধী দল-মতের ওপর ‘সরকারের দমনপীড়নের’ চিত্রও তুলে ধরা হবে। বিগত তিন সিটি নির্বাচন, গুম, খুনসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বর্ণনাসহ সমসাময়িক পরিস্থিতির একটি সচিত্র প্রতিবেদনও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবকে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানা গেছে।

    গত জুলাই মাসের শুরুতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছিলেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তখন তার আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিন দেখা। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও যৌথ বৈঠক করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।

    বিএনপি ওই সময় জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের সাথে একটি বৈঠকের প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তা যেকোনো কারণেই হোক হয়নি। এরই প্রোপটে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বিএনপিকে নিউ ইয়র্কে ডেকেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিএনপি নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ও বিএনপি একই দাবিতে অনড় ছিল। ওই নির্বাচনের আগে বিবদমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের পাঠানো বিশেষ দূত তারানকো। যদিও তারানকোর সে সমঝোতার ফর্মুলা পরে মানা হয়নি।

  • পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা

    পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা

    পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫১ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু এ তথ্য জানান। যদিও ন্যূনতম মজুরি ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে করার দাবি ছিল পোশাক শ্রমিক সংগঠন গুলোর।

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত মজুরির মধ্যে মূল মজুরি ৪ হাজার ১০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ২ হাজার ৫০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৬০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩৫০ টাকা, খাদ্য ভাতা ৯০০ টাকা।’

    পুনর্নির্ধারিত অন্যান্য ধাপগুলোর মজুরির বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিবুল হক বলেন, ‘ডিটেইলস কাজের এখনও বাকি আছে। পূর্ণাঙ্গ কাজ করে আমরা গেজেট করব। গ্রেডগুলো আগের মতোই থাকবে।’

    চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। স্থায়ী চার সদস্যের সঙ্গে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি ও শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি নিয়ে এই মজুরি বোর্ড গঠিত হয়েছিল। কিন্তু বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না। শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে নির্ধারিত হলো এই মজুরি।

    এর আগে ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। ওই মজুরি কার্যকর হয় একই বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে। ৫ বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে।

    পোশাক খাতে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করে, এদের উপর নির্ভরশীল কয়েক কোটি মানুষ জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন আর নেই, প্রধানমন্ত্রী একটা সেক্টরে ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত তিন বছরে দু’বার মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছেন। এটা গার্মেন্টস সেক্টরের জন্য করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো মিটিং করে বাজার বিশ্লেষণ করে সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করেছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে একটা প্রস্তাব যায়, মালিকদের পক্ষ থেকেও একটা প্রস্তাব আসে। অনেক মিটিং হওয়ার পরও তারা ঐকমত্যে আসতে পারেননি।’

    ‘প্রথমে মালিকদের পক্ষ থেকে মজুরি ৬ হাজার টাকা, এরপর আরও কিছু বাড়াতে বাড়াতে ৭ হাজার টাকায় তারা আটকে যান এবং তারা বলেন, তারা এর বেশি পারবেন না। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ১২ হাজার টাকার প্রস্তাব ছিল, তারা বলেছেন ১২ হাজার টাকার কমে হবে না। এই যখন অবস্থা, আমরা দেখলাম অক্টোবরের পর নির্বাচন কালীন সরকার হবে ও নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে, তখন এই কাজগুলো নীতিগত ভাবে এই সরকার করতে পারবে না,’- বলেন প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, ‘বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যখন অচলাবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের ডেকে আলাপ করেন। আলাপ করে তিনি সিদ্ধান্ত দেন- আমাদের সব পক্ষকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। গার্মেন্টেসের ক্রেতারা এখন মূল্য কমিয়ে দিয়েছে।’

    ‘সার্বিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ন্যূনতম মজুরি হবে ৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ যে শ্রমিকরা আজতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবে তার মজুরি সব মিলিয়ে হবে ৮ হাজার টাকা। গ্রেড অনুযায়ী বেতন আরও বাড়বে। কোনো শ্রমিককে ৮ হাজার টাকার কম মজুরি দেয়ার সুযোগ কোনো মালিকের নেই।’

    প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দুই পক্ষের জন্যই যুগোপযোগী ও যৌক্তিক মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির নেতা মুজিবুল হক বলেন, ‘বোর্ডের সদস্যরাও প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর শেষ হওয়ার পর থেকেই এই মজুরি কার্যকর হবে। এ জন্য সময়মতো গেজেট প্রকাশ করা হবে।’

    গার্মেন্টস শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আশা করি কাঙ্ক্ষিত এই মজুরিতে আপনারা সন্তুষ্ট হবেন। আপনারা আপনাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে কাজ করে যাবেন।’

    ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ন্যূনতম মজুরি বোর্ড আজকে পঞ্চমসভায় বসেছিলাম। আমরা দুই পক্ষের প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলাম বেশ কয়েকটি মিটিংয়ে। একটা পর্যায়ে আমরা থেমে গিয়েছিলাম, মালিকরা কোনো ক্রমেই ৭ হাজার টাকার বেশি দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। আমরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য চেষ্টা করেছি।’

    তিনি বলেন, ‘মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে আরও এক হাজার টাকা বেড়েছে। সেই বিষয়টি আজ বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হয়। আমরাও সবাই সম্মতভাবে মনে করেছি ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা যুক্তিযুক্ত হবে। সেই হিসেবে আমরা আজকে সুপারিশটা তৈরি করেছি।’

    বোর্ডে মালিকপক্ষের সদস্য ও বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ন্যূনতম মজুরি ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হই। শ্রমিক প্রতিনিধিরা ১২ হাজার টাকায়ই থাকে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ৮ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। এটা আগামী ডিসেম্বরের বেতন থেকে কার্যকর হবে।’

    পোশাক শ্রমিকদের প্রতিনিধি ও শ্রমিক লীগের মহিলা সম্পাদিকা সামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘এই মজুরিটা শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান সবকিছু মিলিয়ে খুব বেশি হয়ে গেছে, আমি তা বলব না। মালিকরা ৬ হাজার ৩ টাকার পর আবার বাড়াতে চাচ্ছিলেন না। আমাদের পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম ১২ হাজার ২০ টাকা। পরে প্রধানমন্ত্রী বিজিএমইএ’র সভাপতিকে মাথায় হাত দিয়ে বাচ্চাদের মতো বলতেছিলেন, ছোট ভাই এটা মেনে নাও। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৮ হাজার টাকা আমরা শ্রমিকরাও মেনে নিয়েছি।’

    শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফললুল হক মন্টু বলেন, ‘শ্রমিকরা অনেক দাবি-দাওয়া করেছিলেন, তাদের দাবি ছিল ১২ হাজার, ১৬ হাজার, ১৮ হাজার টাকার। অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী সবকিছু বিশ্লেষণ করে ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দিয়েছেন।’

    এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের নিরপেক্ষ সদস্য কামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।