Category: জাতীয়

  • আইজিপি শহীদুল হকের বিদায়, দায়িত্ব নিলেন জাবেদ পাটোয়ারী

    আইজিপি শহীদুল হকের বিদায়, দায়িত্ব নিলেন জাবেদ পাটোয়ারী

    বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেলের (আইজিপি) দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাবেদ পাটোয়ারী। বুধবার দুপুরে পুলিশ সদরদফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন সদ্য সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক। দায়িত্ব হস্তান্তরের মাধ্যমে ৩২ বছরের কর্মজীবনের ইতি টানেন একেএম শহীদুল হক।

    বুধবার পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত ‘বিদায় সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে শহীদুল হক বলেন, আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার মাধ্যমে পূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে ৩২ বছরের চাকরি জীবনের ইতি টানছি। তিনি আরও বলেন, গত তিন বছর এক মাস আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চেষ্টা করেছি পুলিশের সক্ষমতা উঁচুমাত্রায় নিয়ে যেতে এবং পুলিশকে জনবান্ধব করতে। দায়িত্ব পালনকালে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সাহকিতার সঙ্গে সব সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।

    ‘গত তিন বছরে পুলিশে যা অর্জন তার কৃতিত্ব কনস্টেবল থেকে আইজি পর্যন্ত সবার। আর সব ব্যর্থতার দায় আমার। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সবাইকে হয়তো খুশি করতে পারিনি। একটা প্রশাসনিক কাঠামোতে কাজ করতে হয়েছে। এর বাইরে কিছু চাপ, কিছু গাইডলাইন থাকে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারো প্রতি বিরাগভাজন ছিলাম না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শহীদুল হক বলেন, স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না। তবে অধিকাংশ কর্মপরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করেছি। পুলিশের পেশাদারিত্বের জন্য ২০টি নির্দেশনা দিয়ে গেছি। ৯৯৯- জরুরি সেবা ছিল সবচেয়ে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তবে থানা লেভেলে পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। আমি চেয়েছিলাম মানুষ যেখানে অভিযোগ নিয়ে যায়, যেটা মানুষের শেষ ভরসা, সেখানে সেবা পেয়ে যেন সন্তুষ্টি নিয়ে ফিরে।

    আমি থানা পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে অনেক চেষ্টা করেছি, অনেক উন্নতি হয়েছে কিন্তু পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি। যদিও এটা সময় সাপেক্ষ ব্যপার। পুলিশে নতুন ছেলেরা আসছে, আশা করব তারাই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে। একই অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বিগত দিনগুলোতে আইজিপিকে সবাই যেভাবে সহায়তা করেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সামনের দিনগুলোতেও সে সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার পুলিশের যে প্রয়াস, সেটা অব্যাহত রাখতে পারলে আরও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন সদ্য দায়িত্ব নেয়া জাবেদ পাটোয়ারী।

  • ৩০ দেশের কূটনীতিককে যা বলল বিএনপি

    ৩০ দেশের কূটনীতিককে যা বলল বিএনপি

    দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ৩০টি দেশের প্রতিনিধিদের জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বিকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক সূত্র জানায়, কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি বলেছে, ‘দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা পুরোটাই সাজানো। তাকে হয়রানি করতে এই মামলা করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে সরকার শাস্তি দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।’

    বৈঠক শেষে কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠক সম্পর্কে বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আমরা কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। নাথিং মোর।’

    এ সময় দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, সরকারি খরচে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারাভিযান বন্ধ করতে হবে। না হলে বিএনপিকে জনসভা করার সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারাভিযানে নেমে গেছেন। স্পষ্টভাবে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। তার এই অবস্থানে প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আসলে কী। সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর আগেই সরকারি দল রাষ্ট্রীয় খরচে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কমিশন কতটুকু শক্ত!’

    ইসির প্রতি মওদুদ আহমদ বলেন, তাদের এ ধরনের সরকারি খরচে প্রচারাভিযান করা বন্ধ করতে হবে। না হলে বিএনপিকেও জনসভা করার সুযোগ দিতে হবে। লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রচারাভিযান লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের নমুনা নয়। এখন দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী  আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটে ভোট চাইছেন, আর বিএনপি আদালতের বারান্দায়।

    এদিকে বৈঠক সম্পর্কে দলটির একাধিক নেতা আলাপকালে জানান, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়। কূটনৈতিকদের হাতে এ-সম্পর্কিত একটি ফাইলও হস্তান্তর করেছে দলটি।

    বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা জানান, সরকার যে প্রতিহিংসামূলকভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়ে বিচারকাজ চালাচ্ছে, বিশেষ করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করার কোনো তথ্য-প্রমাণ না থাকার বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচন সামনে রেখে ‘তড়িঘড়ি’ করে এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করার বিষয়টি বলা হয়েছে কূটনীতিকদের।

    বৈঠকে জাপান, নেদারল্যান্ড ও নেপালে রাষ্ট্রদূত ছাড়া ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারসহ জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, মরক্কো, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, কুয়েত, ভ্যাটিকান সিটি, ভিয়েতনামসহ ৩০টির বেশি দেশের কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের প্রতিনিধিদের অংশ নিতে দেখা যায়নি।

    বিএনপি মহাসচিব ছাড়া বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ফাহিমা মুন্নী ও রুমিন ফারহানা উপস্থিত ছিলেন।

  • ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের দুই সাবেক কর্মকর্তা

    ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের দুই সাবেক কর্মকর্তা

    অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও জব্দ করা ভারতীয় রুপি আত্মসাৎ করে ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের দুই সাবেক কর্মকর্তা। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয় এই আলাদা দুটি অভিযোগপত্রের অনুমোদন দিয়েছে। দুদকের রাজশাহী ও রংপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দুই তদন্ত কর্মকর্তা মামলা দুটি তদন্ত করেছেন। এরপর দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল আজিজ ভুঁইয়া খসড়া অভিযোগপত্র অনুমোদনের আবেদন করলে প্রধান কার্যালয়ে তা অনুমোদন হয়। দুদক কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ভুঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    অভিযুক্ত দুজন হলেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার আবদুস শুকুর আকন্দ ও চাকরিচ্যুত উপ-পরিদর্শক (এসআই) এহসানুল ইসলাম। আবদুস শুকুর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিন আকন্দের ছেলে। আর এহসানুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামিয়া কলেজ রোড এলাকার মৃত আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে থাকাকালীন আবদুস শুকুরের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে দুদক। ওই সময় আবদুস শুকুর দুদকে তার সম্পদের যে বিবরণ জমা দেন তার চেয়েও বেশি সম্পদ খুঁজে পায় দুদক। এ নিয়ে ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রংপুরের কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দুদকের রংপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করেন। অন্যদিকে এহসানুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর কোর্ট মালখানার দায়িত্বে নিয়োজিত হওয়ার পর সেখান থেকে ভারতীয় ৯৯ হাজার রুপি আত্মসাৎ করেছেন। জেলার শিবগঞ্জ থানার ২০০৭ সালের একটি মামলার আলামত হিসেবে মালখানায় মোট এক লাখ ভারতীয় রুপি ছিল। কিন্তু ২০১০ সালে এহসানুল ইসলাম মালখানার দায়িত্ব পেলে সেখান থেকে ৯৯ হাজার রুপি সরিয়ে দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ধরা পড়লে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৎকালীন কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব আলম তার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এরপর মামলাটি তদন্তের জন্য দুদকের রাজশাহীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই মধ্যে পুলিশের বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৫ সালে এহসানুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়। দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবদুল আজিজ ভুঁইয়া বলেন, অনুমোদন পাওয়ার পর মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তারা সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট থানা দুটিতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। যে কোনো সময় ওই দুই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান তিনি।

  • নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করালেন প্রধানমন্ত্রী

    নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করালেন প্রধানমন্ত্রী

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে সিলেটে লাখো জনতাকে ওয়াদা করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আগামী যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আমরা সবার কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাই। নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে, উন্নয়নের পক্ষে নৌকা এগিয়ে নিচ্ছে।’

    মঙ্গলবার সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    এর আগে, সিলেট নগরীর আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিকাল ৪টায় বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সিলেট সফর করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় নামলেন শেখ হাসিনা। তিনি নিজের বক্তব্যেও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

    দীর্ঘ ৩৯ মিনিটের বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চারবছর পূর্ণ করে এখন পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে নিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা পূণ্যভূমি সিলেট থেকে শুরু করেছি। বিগত নির্বাচনে নৌকায় সবাই ভোট দিয়েছিলেন। তাই আজ বাংলার সর্বত্র উন্নয়নের ছোঁঁয়া লেগেছে।’

    মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় আলিয়া মাঠে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে ৩৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তিনি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ধ্বংসস্তূপ বাংলাদেশকে গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, জাতির জনককে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমভবে হত্যা করা হয়। ১৯৭৫ এর পর বাংলার মানুষের উন্নয়নের চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান লঙ্ঘন করা শুরু হয়েছিল। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে উন্নয়ন শুরু হয়।’

    প্রধানমন্ত্রীর এই সমাবেশকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে চলছিল সাজ সাজ রব। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন।

    আলিয়া ময়দানের জনসমুদ্রে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি সিলেটসহ সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৪ সালে হযরত শাহজালালের মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়। পরপর দুবার গ্রেনেড হামলায় ৯ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। ৭ আগস্ট আমাদের সাবেক মেয়র কামরানের উপর আক্রমণ হয়। সে আক্রমণে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া একাধিকবার কামরানের উপর হামলা হয়েছে। মহিলা আওয়ামী লীগের উপর বোমা হামলা হয়।’

    বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির হত্যাযজ্ঞ সারাদেশে চলে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেরা রেহাই পায়নি। সারাদেশে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে আমাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়, গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়, বহু নেতাকে গুম করা হয়।’

    তিনি বলেন, ‘বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সে নির্বাচন ঠেকানোর নামে সন্ত্রাস-নাশকতা চালায়। সিলেটে শহীদ মিনারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ২০১৩. ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি দেশে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড চালায়। আমরা গাছ লাগাই, তারা গাছ কাটে; আমরা রাস্তা বানাই, তারা রাস্তা কাটে। আমরা কঠোর হস্তে সেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করি। বিএনপির সময় বাংলা ভাই, আবদুর রহমান তৈরী হয়, সারাদেশে একযোগে বোমা হামলা হয়। বিএনপি ঢাকায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে আমাদের নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রোল বোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রোলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫শ’ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাদের আগুন সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছেন। তাদের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে তিন হাজার ৩৬ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা হাজার হাজার গাড়ি, সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। এরকম ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমরা দেখিনি।’

    তিনি বলেন, ‘আন্দোলন হবে মানুষের জন্য। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন ধ্বংস করার জন্য। তারা পারে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করতে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করে, উন্নয়নে বিশ্বাস করে, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করে।’

    ‘আজ সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছি। সামনে আরো কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হয়েছে।’ নিজের বক্তব্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে চারলেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যুতের জন হাহাকার ছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আজ আমরা দেশে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আমরা কম্পিউটারের উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সহজলভ্য করেছি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা শিক্ষার হার ৬৫.৫ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সাক্ষরতার হার কমিয়ে ৪৫ ভাগে নিয়ে আসেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা এ হারকে ৭২ ভাগের উপরে নিয়ে গেছি। আমরা প্রতিটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বহুমুখী বিশ্ববিদ্যালয় করছি, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করে শিক্ষাকে বহুমুখী করে দিচ্ছি।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ দেশে ১৪ কোটি সিমকার্ড ব্যবহৃত হয়। ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবো। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করছি। মাত্র ১০টাকায় কৃষক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। দুই কোটির উপর কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। এক কোটির উপর কৃষক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ভর্তুকির টাকা পাচ্ছে। যেখানে যে বন্যায় আক্রান্ত, সেখানে বীজ, সারসহ অনান্য উপকরণ আমরা দিচ্ছি। কৃষকের ঋণ আদায় যেন স্থগিত থাকে তার ব্যবস্থা করছি। সিলেটের চা উৎপাদন যেন বৃদ্ধি পায়, তার ব্যবস্থা করছি। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছি। সিলেট থেকে যাতে চায়ের নিলাম হয়, তার জন্য নিলাম কেন্দ্র করছি। দেশের প্রত্যেক এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। সিলেটে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। ঘরে বসে প্রবাসে থাকা স্বজনদের সাথে কথা বলার প্রযুক্তিগত সুযোগ আমরা দিয়েছি। ৮ হাজার ৫শ’ পোস্ট অফিসকে আমরা ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করেছি। ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, ওষুধ দিচ্ছি।  সিলেটে আমরা একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, গ্রামের জনগণের উন্নতি। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, দশের প্রতিটি মানুষ পেট ভরে খাবার খাবে। একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। আমরা জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। আজ আমরা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছি। যারা হতদরিদ্র, শ্রমিকশ্রেণি, সেই সব মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ের জন্য ভাতা দিচ্ছি। ছেলে মেয়েরা যেন উচ্চশিক্ষা নিতে পারে, সেজন্য প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি দিচ্ছি। দেশকে উন্নত করতে হলে, জাতিকে দারিদ্রমুক্ত করতে হলে জাতিকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের টাকায় আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পায়। প্রবাসীদের জন্য তিনটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি হয়ে গেছে। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশেল সুনাম হয়। দেশ পুরস্কার পায়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ , সন্ত্রাস হয়ে যায় তাদের মূল কাজ। এই দেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ২০০৯ সালে আ.লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশে এতো উন্নয়ন হতো হনা। আ.লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোলমডেল হয়েছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। তা করেছি। জাতির জনকের খুনিদের বিচার করেছি। বাংলার মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। প্রত্যেক মা, বোন, শিক্ষক, সচেতন নাগরিক, সকল অভিভাবক সবাইকে নিজেদের ছেলেমেয়েদে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তারা কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী বেশিদিন অনুপস্থিত কিনা, তা খেয়াল রাখতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। ইসলাম জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না।’

    শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সিলেট আজ শান্তির নগরী। এই শান্তি যেন বজায় থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একসাথে মিলে কাজ করতে হবে, যাতে সিলেটের সকল পাড়া-মহল্লায় শান্তি বজায় থাকে। আমরা বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশকে আমরা উন্নত করে গড়ে তুলবো। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করবো।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের জন্য বাংলাদেশকে কারো কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না। আমরা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। আপনারা শুনলেন অবাক হবেন, বিএনপির খালেদা জিয়া, তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বলেছিলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না। তাতে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। যারা নিজেদেরকে ভিক্ষুক হিসেবে অন্যের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারা কিভাবে দেশের উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্ব দরবারে সম্মানের সাথে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’

    আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আমরা সবার কাছে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চাই। নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে। উন্নয়নের পক্ষে নৌকা এগিয়ে নিচ্ছে।’ তিনি হাত তুলিয়ে উপস্থিত জনতাকে নৌকায় ভোট দেয়ার ওয়াদা করান।
    নিজের বক্তব্যে প্রয়াত মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, শাহ এএমএস কিবরিয়া, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দেওয়ান ফরিদ গাজী, আহসান উল্লাহ মাস্টারসহ প্রয়াত জাতীয় নেতাদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আ.লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান, আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে মোমেন প্রমুখ।

    সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, তৌফিক-ই-এলাহী, আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রব্বানি চিনু, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন অপু, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রিজনভ্যান থেকে ২ নেতাকে ছিনিয়ে নিল বিএনপি কর্মীরা!

    প্রিজনভ্যান থেকে ২ নেতাকে ছিনিয়ে নিল বিএনপি কর্মীরা!

    বিএনপি খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে আটক দুই নেতাকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপির কর্মীরা। তবে আটক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার খবর অস্বীকার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাইকোর্টের ঈদগাহ গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর বাংলা নিউজের।

    বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে প্রিজনভ্যানটি ভাঙচুর করে ওই দুইজনকে ছিনিয়ে নেন।

    তবে এ খবর অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল। তিনি বলেন, একটি প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করা হলেও ভ্যানে কোনো আসামি ছিল না। কাউকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

    শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় একটি প্রিজনভ্যান ভাঙচুর করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের আটক করতে অভিযান চলছে।

  • ভাড়া বাকি, তাই বিএনপি কার্যালয় তালাবদ্ধ!

    ভাড়া বাকি, তাই বিএনপি কার্যালয় তালাবদ্ধ!

    চুক্তির শর্তভঙ্গ ও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করায় সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২৫ বছর ধরে সমবায় বিভাগের ভবনটি বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা অফিসটি তালাবদ্ধ করে দেয়।

    সমবায় সমিতির সহকারী পরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, ভাড়া বাকি ও চুক্তির শর্তভঙ্গ করার কারণে চুক্তিনামা বাতিল করা হয়। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২৯ জানুয়ারি কার্যালয়ে সমিতির সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়।

    তিনি আরও জানান, ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদের পাশে সমবায় অফিসের একতলা ভবনটি তৎকালীন সংসদ সদস্য এম আকবর আলী নিজের নামে ভাড়া নেন। আকবর আলীর নামে ভাড়া নিলেও পরে এটি বিএনপি দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রায় দু’বছর ধরে বিএনপি এই কার্যালয়ের ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না। বারবার ভাড়া ও বিল দিতে বলা হলেও তাদের কেউ তা আমলে নেননি। তাই বাধ্য হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উল্লাপাড়া বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ায় অফিস দখল নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই ভাড়া পরিশোধ করেনি। আর এজন্যই উপজেলা সমবায় বিভাগ তাদের অফিস ভাড়ার চুক্তিনামা বাতিল করেছে।

    উপজেলা বিএনপির একাংশের আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আকবর আলী বলেন, কার্যালয়টি আমি ভাড়া নিলেও পরবর্তীকালে বিএনপি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। দলীয় কোন্দলের কারণে দু’বছর ধরে ওই কার্যালয় নিয়মিত ব্যবহার হয় না। এ কারণে ভাড়া বাকি রয়ে গেছে।

    আকবর আলী দাবি করেছেন, বর্তমান সরকারের দলীয় সংসদ সদস্যের চাপে পড়ে সমবায় বিভাগ চুক্তিনামা বাতিল করে এই কার্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে।

  • যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে: আইনমন্ত্রী

    যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে: আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তথ্য নির্ভর সত্য প্রকাশ গুপ্তচরবৃত্তি হবে না। যে কোনও অন্যায় গোপনে ধারণ করা যাবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (৩২ ধারা) ফলে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ হবে। গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে সাংবাদিকতার কোনো সম্পর্ক নেই। অহেতুক ভীতি সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই। প্রধানমন্ত্রী চান না কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার হোক।

    তিনি আরও বলেন, ৫৭ ধারায় বাকস্বাধীনতা হরণের চেষ্টা করা হয়েছে। এখানে তা করা হয়নি। বাকস্বাধীনতা একটুও হরণ করা হবে না।

  • ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই মেলায় নয় : ডিএমপি

    ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বই মেলায় নয় : ডিএমপি

    সাম্প্রদায়িক উসকানি দেয় কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আনা যাবে না হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    আসন্ন অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    বই যাচাই-বাছাই করার জন্য বাংলা একাডেমির একটা ডেডিকেটেড টিম কাজ করবে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এমন বই যারা মেলায় আনবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে কেউ যদি বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে পুলিশকে অবহিত করলে তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, ‘মেলার ভেতর ও চারপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে। চারপাশে পোশাকধারী পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।’

  • ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

    ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

    আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আশপাশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে লোকসমাগম করবে দলটি। সারা দেশেও রাজপথে সরব থাকবেন নেতা-কর্মীরা। ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নেতিবাচক রায় এলে দেশজুড়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে।

    বকশীবাজার এলাকা থেকে বেগম জিয়াকে জেলে নিতেও বাধা দেওয়া হবে। এরপর শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূটির দিকেও যেতে পারে দলটি। প্রাথমিকভাবে এসব কর্মসূচি নিয়ে ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে দলের নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাহী কমিটি চাইলে কর্মসূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, রায়-পরবর্তী দলের করণীয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্নজনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই যেন দলে ভাঙন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলুপ্ত করে তা স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন করিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় দলের সদস্যপদের অযোগ্যতার বিষয়ে যা উল্লেখ ছিল, তাতে কেউ দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনি দলের সদস্য থাকতে পারবেন না। ওই ধারার (ক)-তে আছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নম্বর ৯-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

    লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও সার্বিক বিষয় তদারক করছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা করছেন। গতকালও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। এর আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে উত্তর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। আজ তিনি গুলশানে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, বয়স হয়ে গেছে। সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন, সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই হবে।’

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এক নেত্রী আদালতে যাবেন, আরেক নেত্রী নির্বাচনী জনসভা করবেন, এটা গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হলে এ দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সারাধণ মানুষই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

    এরই মধ্যে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার। রাজধানীতে মধ্যম সারির নেতাদের বাসায় সাদা পোশাকে পুলিশ যাতায়াত করছে বলেও অভিযোগ দলটির। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে মধ্যম সারি ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কেউ গ্রেফতার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে রাত যাপন করতে বলা হয়েছে। কৌশল নিয়ে সবাইকে চলতে বলা হয় দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। রায়ের দিন ঢাকার রাজপথে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, মোড়ে মোড়ে অবস্থান, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।

    এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ হলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভায় সবার বক্তব্য শুনবেন। এরপর তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। এ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ‘রাজদর্শন’ হলে  সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

    বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধানবলে দলের চেয়ারপারসনের পরামর্শক্রমে মহাসচিব জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। তিনি কমিটির সদস্যদের নোটিশ দিয়েছেন ৩ জানুয়ারির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এটাই বর্তমান কমিটির প্রথম বৈঠক। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সারা দেশের শাখাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় সম্পর্কে যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে তখন থেকে এ সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে।’

  • ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি বিএনপির

    আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আশপাশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। একই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে লোকসমাগম করবে দলটি। সারা দেশেও রাজপথে সরব থাকবেন নেতা-কর্মীরা।

    ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নেতিবাচক রায় এলে দেশজুড়ে তাত্ক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে। বকশীবাজার এলাকা থেকে বেগম জিয়াকে জেলে নিতেও বাধা দেওয়া হবে। এরপর শনিবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়ে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল কর্মসূটির দিকেও যেতে পারে দলটি। প্রাথমিকভাবে এসব কর্মসূচি নিয়ে ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। এ নিয়ে দলের নির্বাহী কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আরেক দফা বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাহী কমিটি চাইলে কর্মসূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, রায়-পরবর্তী দলের করণীয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্নজনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই যেন দলে ভাঙন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বিলুপ্ত করে তা স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদন করিয়ে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় দলের সদস্যপদের অযোগ্যতার বিষয়ে যা উল্লেখ ছিল, তাতে কেউ দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর তিনি দলের সদস্য থাকতে পারবেন না। ওই ধারার (ক)-তে আছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নম্বর ৯-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

    লন্ডন থেকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও সার্বিক বিষয় তদারক করছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা করছেন। গতকালও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। এর আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে উত্তর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল। আজ তিনি গুলশানে চেয়ারপারসন কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও দলের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বুড়ো হয়ে গেছি, বয়স হয়ে গেছে। সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন, সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতেই হবে।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এক নেত্রী আদালতে যাবেন, আরেক নেত্রী নির্বাচনী জনসভা করবেন, এটা গণতন্ত্রের রাজনীতিতে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হলে এ দেশের মানুষ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সারাধণ মানুষই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’

    এরই মধ্যে শুরু হয়েছে গণগ্রেফতার। রাজধানীতে মধ্যম সারির নেতাদের বাসায় সাদা পোশাকে পুলিশ যাতায়াত করছে বলেও অভিযোগ দলটির। বিএনপির হাইকমান্ড থেকে মধ্যম সারি ও মাঠপর্যায়ের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কেউ গ্রেফতার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে রাত যাপন করতে বলা হয়েছে।

    কৌশল নিয়ে সবাইকে চলতে বলা হয় দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে। রায়ের দিন ঢাকার রাজপথে নির্দিষ্ট কোনো স্থানে নয়, মোড়ে মোড়ে অবস্থান, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান নেওয়ার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। এদিকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ হলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সভায় সবার বক্তব্য শুনবেন। এরপর তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।

    এ নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী  বলেন, ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার ‘রাজদর্শন’ হলে  সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের বিধানবলে দলের চেয়ারপারসনের পরামর্শক্রমে মহাসচিব জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেছেন। তিনি কমিটির সদস্যদের নোটিশ দিয়েছেন ৩ জানুয়ারির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য।

    ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন মাস পর জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও এটাই বর্তমান কমিটির প্রথম বৈঠক। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ছাড়াও সারা দেশের শাখাগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা পদাধিকারবলে নির্বাহী কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় সম্পর্কে যেটা আমরা আশঙ্কা করছি, সেদিন নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত সরকার কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে যদি আদালত থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে তখন থেকে এ সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হবে।’