Category: জাতীয়

  • গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়াই করছি : ফখরুল

    গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে লড়াই করছি : ফখরুল

    বা:মু:প্র:সিমু আক্তার

    দেশে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আমরা লড়াই করছি, এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই।  আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পনের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা স্বপ্ন দেখেছি, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই দিনে পাকিস্তানিরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাদের মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছিল। তাদের এই আত্মত্যাগ পূরণ হওয়ার নয়।

    এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে

    খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে

    বা:মু:প্র: সিফাত

    বঙ্গবন্ধু ও বু‌দ্ধিজী‌বী হত্যায় জ‌ড়িত বি‌দে‌শে পলাতক আসামিদের যত দ্রুত সম্ভব দে‌শে ফি‌রি‌য়ে এনে বিচা‌রের কাঠগড়ায় দাঁড় করা‌তে সরকা‌রের প্রক্রিয়া চল‌ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কা‌দের।

    আজ বৃহস্প‌তিবার মিরপু‌রে শহীদ বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দ‌লের পক্ষ থে‌কে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবা‌দিক‌দের এ কথা ব‌লেন তি‌নি।

    ওবায়দুল কা‌দের ব‌লেন, তা‌দের ফি‌রি‌য়ে আনার প্রক্রিয়ায় যে জ‌ঠিলতা ‌ছি‌ল সরকার তা সমাধান ক‌রে দ্রুত তা‌দের ফি‌রি‌য়ে আনার দ্বারপ্রা‌ন্তে র‌য়ে‌ছে।

    সকাল ৭টা ৫ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন ও জাতীয় পার্টির নেতারা ফুল দেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

  • বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

    বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল

    বা:মু:প্র: মাহামুদ হাসান

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নেমেছে মানুষের ঢল। আজ বৃহস্পতিবার  ভোররাত থেকেই বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের ঢল নামে সেখানে।

    শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ সবার পরনে শোকের প্রতীক কালো পোশাক। হাতে ফুল ও তোড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানাতে লাইনে দাঁড়িয়েছে।

    মিরপুর ১ নম্বর গোলচত্বর থেকে মাজার রোড পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুই দিক থেকে হাজার হাজার মানুষ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষা করছেন লাইনে দাড়িয়ে। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে উপস্থিত হন।

    সকাল ৭টার পরপরই মিরপুর বু‌দ্ধিজীবী কবরস্থা‌নে হা‌জির হন রাষ্ট্রপ‌তি। এরপর স্পিকারসহ অন্যান্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধটি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

    ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের ঠিক আগে আলবদর, আলসামস, রাজাকার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী এ দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

    তারা মূলত এ দেশকে মেধাশূন্য করার জন্যই এমন জঘন্য কাজটি করেছিল। তবে বীরের জাতি ‘বাঙালীরা’ তাদের  সে উদ্দেশ্য সফল করতে দেয়নি। আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। সারা বিশ্বে আজ আমরা প্রশংসিত। প্রায় সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানিদের চেয়েও বাংলাদেশ আজ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

    নির্মম নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বুকে নিয়ে স্মৃতির ভূমিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সকাল থেকেই একটি ভারি আবহ সৃষ্টি হয় সেখানে। জঙ্গিবাদমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিতে দেখা যায় তাদেরকে।

  • বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

    বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

    শহীদ বুদ্ধিজীবী ‍দিবসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দি‌য়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

    বৃহস্প‌তিবার সকাল ৭টার পর পরই মিরপুর বু‌দ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    রাষ্ট্রপ‌তি শ্রদ্ধা নি‌বেদ‌নের পর মন্ত্রী প‌রিষ‌দের সদস্য ও সমা‌জের বি‌শিষ্ট ব্যক্তিরা শহীদ বু‌দ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এসময় বু‌দ্ধিজীবী কবরস্থা‌নের আশপা‌শের রাস্তা নিরাপত্তার চাদ‌রে ঢে‌কে দেওয়া হয়।

  • রোহিঙ্গা শিশুদের কলেরা থেকে রক্ষায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ

    রোহিঙ্গা শিশুদের কলেরা থেকে রক্ষায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশ

    কক্সবাজার জেলার ১২টি আশ্রয় শিবির এবং মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অস্থায়ীভাবে বসবাসরত ৬ সপ্তাহ থেকে ৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের কলেরা ও অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকা দান কর্মসূচি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে।
    ইউনিসেফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং জিএভিআই ও ভ্যাসিন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সরকার এই কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হবে। সরকার ও স্বাস্থ্য অংশীদারগণ কলেরা চিকিৎসা ও প্রতিরোধে তাদের সহযোগিতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।
    বিভিন্ন সূচকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অন্যান্য স্থানে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশুদের অসুস্থতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মত দুস্থ জনগণ সাধারণত: নিয়মমাফিক কলেরার টিকা গ্রহণ করে না।’
    স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার সম্ভাব্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কলেরার অব্যাহত প্রাদুর্ভাবে সরকারের অনুরোধে হু, ইউনিসেফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য অংশীদারগণ দ্রুত সাড়া দেয় এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
  • রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান

    রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান

    মিয়ানমার থেকে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আগমনের ফলে বাংলাদেশের বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজনের ওপর মারাত্মক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর আহ্বানে আয়োজিত ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আসার ফলে বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। মানবিক কারণে আমরা কক্সবাজারে ১৭৮৩ হেক্টর বনভূমিতে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। বনায়ন হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলে। রোহিঙ্গা সংকট আমাদের বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। ‘

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম, যদিও এই ঝুঁকির জন্য আমরা দায়ী নই। ‘ তিনি বলেন, ‘আমরা সীমিত সম্পদ নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি প্রশমন ও অভিযোজন করে যাচ্ছি। ‘

    শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রণীত টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মূল স্রোতে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় করে আসছে। ‘

    সকল অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ কর্মকাণ্ডে ওয়াটার সাসটেইনেবিলিটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    এ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় আশিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রদান, কুটনীতিবিদ পরিবেশবিদ ও সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইং কিম ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট বক্তব্য দেন। সম্মেলনের শুরুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট তা স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে তাঁর অঙ্গীকারের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে ইউনেস্কো  ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন রক্ষায় ৫০ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকার জনগণকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভাঙন এবং লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষায় সবুজ বেষ্টনি সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রায় ৬৭ হাজার হেক্টর জমি এসব এলাকায় বনায়নের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বনায়ন দুই শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করবে। ফলে বিদ্যমান বনভূমি ২২ শতাংশ থেকে প্রায় ২৪ শতাংশে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, ‘পার্টনারদের সমর্থনসহ আমাদের নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই টার্গেট পূরণে আমরা প্রচেষ্টা জোরদার করব। ‘

    শেখ হাসিনা জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারপূরণ এবং ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

  • বিচার বিভাগ সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে: দুদু

    বিচার বিভাগ সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে: দুদু

    এই দেশের মানুষের সর্বশেষ যে আশ্রয়স্থল ছিল বিচার বিভাগ সেটি নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত সরকারের দখলে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) আয়োজিত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    বিএনপির এই নেতা বলেন, এ দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুধু মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় না, তাকে হেনস্তা করার জন্য এমন কোনো কাজ নাই যা করা হচ্ছে না। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুধু সাজাই দেওয়া হয় নাই এখনও তাকে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং বিচার করা হচ্ছে।

    শামসুজ্জান দুদু বলেন, এ দেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে লুটপাট করে। একেবারে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে বিরোধী মতের ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন অবস্থান করতে পারে না। পেশাজীবীরা যে যেখানে আছে তারা যখনি সরকারের অন্যায় ফ্যাসিবাদী কার্যকালাপের বিরোধিতা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

    দেশে বেনামে বাকশালী শাসন ব্যবস্থা চলছে বলে মন্তব্য করে দুদু বলেন, এই বাকশাল ৭৫ সালের বাকশাল না। এই বাকশাল সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে শুধুমাত্র আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখানে নির্বাচন ব্যবস্থা বলে কিছু নাই।

    এই দেশে এখন মুক্তচিন্তা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়ে তুললেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি অন্যায়কারীদের দখলে থাকে গণতন্ত্র এবং ন্যূনতম ভোটাধিকার না থাকে তাহলে স্বাধীনতার ৪৬ বছর আগে আমরা যে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম সেটি মিথ্যা হিসাবে চিহ্নিত যাবে।

  • আকায়েদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি

    আকায়েদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি

    কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ দেশের কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও তার জড়িত থাকার প্রমাণ এ পর্যন্ত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।

    আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারণা করছি আকায়েদ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেলফ র‌্যাডিকালাইজড হয়েছে। তার স্ত্রী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আকায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ছিল।

    ঢাকার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জিগাতলার বাসা থেকে মিন্টু রোডের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় সোমবার সকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি বাস টার্মিনালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

  • শহীদ বুদ্ধিজীবীগণ আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন’

    শহীদ বুদ্ধিজীবীগণ আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন’

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীগণ আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে যাবেন। আজকের এ শোকাবহ দিনে আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই-আসুন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা একসাথে কাজ করি।

    শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ এক বিবৃতিতে তিনি এসব বলেন।

    বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ১৪ ডিসেম্বর একটি বেদনাময় দিন। বাংলাদেশকে মেধা মননে পঙ্গু করার হীন উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত বিজয়ের ঊষালগ্নে এ দিনে হানাদার বাহিনীর দোসররা দেশের প্রথিতযশা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক বিজ্ঞানীসহ বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করোছিলো।

    সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, অমর বুদ্ধিজীবীগণ দেশের বরেণ্য শ্রেষ্ঠ সন্তান, যারা একটি সমৃদ্ধ এবং মাথা উঁচু করা জাতি দেখতে চেয়েছিলেন। তারা ন্যায়বিচারভিত্তিক শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজের প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক অপশক্তি তাদের সে প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।

    খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বিএনপির চেয়ারপারসন।

  • জরুরি প্রয়োজনে জীবন বাঁচাবে ‘৯৯৯’ এর যাত্রা শুরু

    জরুরি প্রয়োজনে জীবন বাঁচাবে ‘৯৯৯’ এর যাত্রা শুরু

    কাজী সাইফুল

    নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে আজ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ‘৯৯৯’। রাজধানীর আবদুল গনি রোডের ডিএমপি’র কন্ট্রোল রুমে এই সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে। সেখানে আজ বেলা ১১টার দিকে এই সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।উদ্বোধনের পর সজীব ওয়াজেদ জয় জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ কেন্দ্রের কল সেন্টার পরিদর্শন করেন। ৯৯৯ সেবাটি ডিএমপির এই কন্ট্রোল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

    যেভাবে পাবেন ‘৯৯৯’ জরুরি সেবাবিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশগুলোর মতো নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে আজ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ‘৯৯৯’। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে এই নম্বরে ডায়াল করলেই পাওয়া যাবে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশি সেবা।আপনার চোখের সামনে কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটলে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অথবা জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলে এই একটি নম্বরেই ফোন করলে পাওয়া যাবে সব সমাধান। আপনার কাছে পৌঁছে যাবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক দল অথবা অ্যাম্বুলেন্স।

    পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল করতে কোনও টাকা খরচ হবে না। কেউ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহায়তা চাইলে সার্ভিসের প্রশিক্ষিত এজেন্টরা জরুরি মুহূর্তে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন।
    তিনি বলেন, রাজধানীর আবদুল গনি রোডের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে এই সার্ভিসের প্রধান কার্যালয় করা হয়েছে। জনগণকে পরিপূর্ণভাবে এই সেবা দিতে ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দৈনিক তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টায় তারা জনগণকে সেবা দেবেন।

    ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ‘৯৯৯’ সেবা বাংলাদেশ পুলিশ তদারকি করছে জানিয়ে সহেলী ফেরদৌস বলেন, একই সময়ে ৩০-৫০ জন সাহায্যপ্রার্থী ইমার্জেন্সি হেল্পলাইনে ফোন করে কথা বলতে পারবেন এবং সাহায্য পাবেন। এছাড়া মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সরাসারি কথা বলা যাবে। শিগগিরই ফেসবুকেও এই সেবার একটি প্লাটফর্ম যুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।৯৯৯ হেল্প ডেস্ক মোবাইল অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড লিংক: http://bit.ly/2fqnhey

    মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ৯৯৯ জরুরি সেবার কল সেন্টারে সরাসরি ফোন, লাইভ চ্যাট, বিভিন্ন তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ অপশন ব্যবহার করতে পারবেন নাগরিকেরা। এ ছাড়া এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজনে জরুরি সেবার বিভিন্ন তথ্য লোকেশনসহ জানা যাবে।

    এআইজি সহেলী ফেরদৌস আরও বলেন, জরুরি সেবা পেতে সাহায্যপ্রার্থীকে অবশ্যই তার নাম ও ঠিকানা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে হবে। ফোনকারীর সঠিক অবস্থান না জানা থাকলে পাশের বড় রাস্তা, বাজার বা মহাসড়কের নাম বলতে হবে। তবে অকারণে বা হয়রানিমূলক ফোন না করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ হয়রানিমূলক ফোন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে কল সেন্টারটি সার্বক্ষণিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ৯৯৯-এর ব্যবহার, প্রচার ও কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ারনেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রথম ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ‘৯৯৯’ এর কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করে। ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সার্ভিসটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।