Category: জাতীয়
-

রোহিঙ্গাদের জন্য ইউএসএইড-ইউনিসেফের ৭.৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুষ্টিমান উন্নয়নের জন্য ৬ ই ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএইড) ফুড ফর পিস প্রোগ্রামের আওতায় ইউনিসেফ এর জন্য ৭.৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেছে। আগস্টের ২৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই পর্যন্ত ৯০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা প্রদান করেছে।আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে ৬২৫,০০০ এরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে স্থায়ী ও অস্থায়ী শিবিরে অবস্থান করছে। ইউএসএইডের মিশন প্রধান ইয়ানিনা জারুজেলস্কি বলেন, ‘এই অনুদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্য করছে সেই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টাতে পুষ্টিমান উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে ইউএসএইড আনন্দিত।’ তিনি আরো গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, ‘ইউনিসেফের সাথে এই অংশীদারিত্ব, অরক্ষিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে শিশুদের জীবনে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে ও দুর্দশা লাঘবে সাহায্য করবে। কোথাও কোনো শিশুরই অপুষ্টিতে ভোগ উচিত নয়।’শরণার্থীদের পুষ্টিমান উন্নয়নে ইউনিসেফ একটি এলাকা ভিত্তিক তীব্র অপুষ্টি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে যার মধ্যে রয়েছে, রেডি টু ইউস থেরাপিউটিক ফুডস ইন ট্রিটমেন্ট (আরইউটিএফ)। এই প্রকল্পটি তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ৬৬,০০০ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুকে সেবা দিবে।শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩৪৮,০০০ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, ৩৬,০০০ গর্ভবতী নারী, ৮৪,০০০ দুগ্ধদানকারী নারী এবং ২০৪,০০০ কিশোরীর মাঝে প্রকট পুষ্টিহীনতা সনাক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই অন্ত:প্রবাহের ব্যাপকতা এবং শরণার্থীদের মধ্যে প্রচুর সংখ্যক শিশু এই সংকট সমাধানের প্রচেষ্টাকে জটিলতর করে তুলেছে। -

নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১৫ জানুয়ারি
নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীর সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মাহমুদুল হাসান এ দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সেনা নিয়ন্ত্রিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বরে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এই মামলাটি করে দুদক। পরের বছরের ৫ মে খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এতে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।
-

অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি ১২৮ কর্মকর্তার
প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ১২৮ যুগ্মসচিব। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার পদোন্নতির আদেশ জারি করা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে জনপ্রশাসনে তিনস্তরে পদোন্নতির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি চূড়ান্ত হলো।
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ১২৮ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। তবে তাদের পদায়ন করা হয়নি। এখন প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা হলো ৫৬০ জন। যদিও অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা একশ’র বেশি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে এমনিতেই নিয়মিত পদের চেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন। তার ওপর আবার পদোন্নতি দেয়া হলো। এতে প্রশাসনে আরও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। পদোন্নতি পাওয়ার পরও অনেককে নিচের পদে কাজ করতে হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি প্রেষণ (এপিডি) অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘লিয়েন প্রেষণসহ আরও পাঁচজনের পদোন্নতির আদেশ জারি করা হবে।’
অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য কোন কোন ব্যাচকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘সর্বশেষ নবম ব্যাচ থেকে এর আগের সব ব্যাচের বঞ্চিত (লেফট আউট) কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’
১২৮ জনকে অতিরিক্ত পদে পদোন্নতি দেয়া হলেও অনেকে পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সবধরনের যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি পাননি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন যুগ্ম-সচিব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘যে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া যায়নি তারা মিডিয়ার সামনে বলবেন যে- আমি তো যোগ্য ছিলাম। যোগ্য ছিলেন কিনা তা এসএসবি (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড, যার নেতৃত্বে আছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব) জানে, আমরা জানি। কারও বিরুদ্ধে বিভাগীয় মোকাদ্দমা আছে, এসিআরে (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) কারও মার্কস কম।’
পদোন্নতিপ্রাপ্তদের কবে নাগাদ পদায়ন করা হবে জানতে চাইলে এপিডি বলেন, ‘আমরা পদায়নের জন্য কাজ করছি। সবাইকে আমরা পদায়ন করতে পারব না। বেশিরভাগ কর্মকর্তা যেখানে ছিলেন ওই কর্মস্থলেই থাকবেন, অর্থাৎ ইনসিটু রাখা হবে। রেগুলার পদ তো কম। এখন তো পদের বিপরীতে তো প্রমোশন হয় না।’
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আরও যাচাই-বাছাই করে পদোন্নতির তালিকা করার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফের সভায় বসে তালিকা চূড়ান্ত করে এসএসবি। এরপরই সেই তালিকা অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী।
‘সরকারের উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২’তে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ৩০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের যুগ্ম-সচিব পদে কর্মরতদের বিবেচনায় নিতে হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, যুগ্ম-সচিব পদে কমপক্ষে তিন বছর চাকরিসহ ২০ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বা যুগ্ম-সচিব পদে কমপক্ষে দুই বছরের চাকরিসহ ২২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হন।
উপসচিব থেকে যুগ্মসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব পদেও পদোন্নতি শিগগিরই আসছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমমর্যাদার ২৬৭ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর জনপ্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি দেয়া হয়। ওই সময় অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব ও উপ-সচিব পদে ৫৩৬ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পান।
-

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ হচ্ছে আজ
নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে আজ প্রকাশ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, গেজেট হয়ে গেছে এখন শুধু প্রকাশের অপেক্ষা। সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার কারণে এ গেজেট প্রকাশে দেরি হয় বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতকাল (রোববার) রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।
ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে আদালতে সময় আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে ৩ ডিসেম্বরের আগেই অধস্তন (নিম্ন) আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ও আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত ১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির হুকুম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এ গেজেট প্রকাশ করব। তিনি অনুমতি দিলে ৩ ডিসেম্বরের আগে গেজেট প্রকাশ করতে পারব। এখন রাষ্ট্রপতির অনুমতির অপেক্ষা।’
এর আগেও গেজেট প্রকাশে দফায় দফায় সময় নেয় সরকার পক্ষ। তারও আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এ জন্য বারবার আদেশ দিতে হয়েছে আপিল বিভাগকে। এমনকি ২০০৪ সালে আদালত অবমাননার মামলাও করতে হয়েছে বাদীপক্ষকে। এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করেন।
এ অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগ চার সপ্তাহ সময় দেন সরকারকে। এরপর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। কিন্তু তা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে আলাদা একটি শৃঙ্খলাবিধি তৈরি করেন। গত ২ জানুয়ারি এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি আপিল বিভাগ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত চারটি বিধিমালা সাতদিনের মধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশের নির্দেশ দেন। তবে এ সংক্রান্ত মামলাটি এখনও আপিল বিভাগে বিচারাধীন। ১২ দফা নির্দেশনার যেসব দফা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ রয়েছে।
-
শরিকদের কাছে খালেদা চাইলেন প্রার্থী তালিকা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কাছে প্রার্থী তালিকা চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সম্প্রতি জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর কাছে মৌখিকভাবে তালিকা চাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা। ছোট অন্য দলগুলোও প্রার্থী তালিকা তৈরি করে বিএনপির কাছে পাঠাচ্ছে বলেও জানা গেছে। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জোটের শরিকদের জন্য অর্ধশত আসন ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সরকারবিরোধী অন্য দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে তাদের জন্যও বেশ কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি।
এ প্রসঙ্গে গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি জোটগতভাবেই নির্বাচনে যাবে। দলের দুঃসময়ে জোট ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জোট ভাঙার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনই গণমাধ্যমে বলার সময় আসেনি। ’
বিএনপি ও জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে জামায়াতের কাছে তাদের প্রার্থী তালিকা চাওয়া হয়েছে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত জামায়াত কোনো তালিকা বিএনপিকে দেয়নি। তবে তারা তালিকা তৈরি করেছে। এর আগেও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে থাকা অবস্থায় ঢাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেই বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের কাছে তাদের প্রার্থী তালিকা চাওয়া হয়। জবাবে কোন কোন আসন জামায়াতকে ছাড়তে চায়- এমন একটি তালিকা বিএনপির কাছে চাওয়া হয়। সূত্র মতে, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৮ আসন দিতে বাধ্য হয়েছিল বিএনপি। জামায়াতের এক নেতা বলেন, জামায়াত বিএনপির কাছে অর্ধশত আসন চাইবে। ইতিমধ্যে এসব আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু আসনে দ্বন্দ্ব থাকায় এখনো তা সম্পন্ন করা যায়নি। বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, জামায়াত চাইলেই তো আর পাবে না। একদিকে তাদের নিজস্ব কোনো প্রতীক নেই। তারপরও দলটির প্রথম সারির নেতারা যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজন জামায়াত নেতা যুদ্ধাপরাধে ফাঁসির রায়সহ নানা মেয়াদে দণ্ড হয়েছে। অনেকের বিচারকার্যও চলছে। এই অবস্থায় তাদের প্রভাবশালী নেতাদের সংখ্যা খুবই কম। এ ছাড়া জামায়াত সাংগঠনিকভাবেও আগের মতো শক্তিশালী নয়। বিএনপিও আগের মতো জামায়াতকে কাছের বন্ধু মনে করে না। জামায়াতের বর্তমান নেতাদের নিয়েও সরকারের সঙ্গে নতুন বন্ধুত্বসহ নানা নেতিবাচক গুঞ্জন রয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে জামায়াতের সফলতা আশব্যঞ্জক নয়। প্রথমবার ২৯টি আসনে নির্বাচন করে মাত্র ১৭টি আসনে জয়লাভ করে। এর পরে ৩৩টি আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করে মাত্র ২টি আসনে। তাই এবার বিএনপির পক্ষ থেকে দলটিকে ১৫ থেকে বিশটি আসনে জোটগত মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও এক্ষেত্রে অনেকটা নমনীয়।
এদিকে এলডিপি, বিজেপি, জাগপা, কল্যাণ পার্টি, লেবার পার্টিসহ অন্য দলগুলোও নিজেদের মতো করে প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে। তাতে জোটের শরিকদেরই চাওয়া অন্তত দেড়শ আসন। যদিও এসব দল এক নেতা সর্বস্ব। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হলে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। ৯ম ও ৮ম দুই নির্বাচনেই বিএনপি-জামায়াত জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে। অতএব, এবারও যে দলের অবস্থান যে আসনে ভালো, সেখানে সেই দলের প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
-

মায়ের স্মৃতিচারণে প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন এবং কাঁদালেন
মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতিচারণ করে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের বক্তব্যের পেছনে তার মায়ের ভূমিকা, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা। বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারানোর সেই রাতটার কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় দর্শকসারিতেও অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এক পর্যায়ে উঠে আসে ১৫ আগস্টের সেই রাতের কথা। সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। আবেগরুদ্ধ কন্ঠে কম্পিত গলায় তিনি বলেন, সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে তিনি ঠিক থাকতে পারেন না।
কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় মিলনায়তন জুড়েই যেনো একটা নীরব কান্নার সৃষ্টি হয়। পরে যখন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ ছিলো আবেগ কম্পিত। তিনি বলেন তার মায়ের কথা, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।
প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই রাতে আমার মাকে হত্যাকারীরা নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তাদের সাথে যাননি। বরং তার স্বামী বঙ্গবন্ধুর সাথে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছিলেন।
“কোন সাধারণ নারী হলে হয়তো বাঁচার চেষ্টা করতো। কিন্তু তিনি মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করেছেন। ” অশ্রুসজল চোখে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। কথাটি বলা শেষ করেই চোখ মুছে নেন তিনি। দর্শকসারিতেও অনেকেই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাদেরকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন সেই ভাষণের আগে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নানা ধরণের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্তু বেগম ফজিলাতুন্নেছাই বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আসে তুমি তাই বলবে, কারণ তুমি এই বাঙলার মানুষদের জন্য এতোদিন সংগ্রাম করেছো। তুমি জানো কি বলতে হবে। আর স্ত্রীর পরামর্শ শুনেই বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি করলেন সেই ‘অমর কবিতা’, ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ’।
-

‘ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে যত টাকা প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দেবেন’
ডিএনডির সংস্কার কাজ ৫শ’ ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প হলেও যত টাকা প্রয়োজন, তা প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী খোদ এ বিষয়টা নিয়ে বেশ আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, টাকার কোন সমস্যা এখানে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান এ প্রকল্পটি দ্রুত হোক এবং ডিএনডিবাসী জলাবদ্ধতা থেকে দ্রুত মুক্তি পাক। মন্ত্রীর এ ঘোষণার পর উপস্থিত জনতা উৎফুল্লা হয়ে পড়ে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যকে করতালী দিয়ে স্বাগত জানায় উপস্থিত ডিএনডিবাসী।
শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ডিএনডি এলাকার নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সানজিদা খানম।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান এসময় বলেন, ডিএনডির সংস্কার কাজ করার সময় এবং ২০ লাখ লোককে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে প্রয়োজনে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের স্থাপনাও ভেঙ্গে দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সর্বোাচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়েছেন। এজন্য সকলের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, এ প্রজেক্ট সম্পন্ন করার জন্য যত টাকার প্রয়োজন প্রধানমন্ত্রী দিবেন বলে পানি সম্পদ মন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এতে করে নারায়ণগঞ্জ ঢাকার চাইতেও আধুনিক একটি শহরে পরিণত হবে।ফলে নতুন প্রজন্মের জন্য আমরা একটা সুন্দর নারায়ণগঞ্জ রেখে যেতে পারব। দুই বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, সাংবাদিকদের নিউজের কারণে এ ফান্ড আনতে আমার অনেক সুবিধা হয়েছে।
এসময় মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ডিএনডি’র প্রজেক্ট করা হয়েছিল সেচ কাজের জন্য। এখানে চাষবাদ করা হবে সে লক্ষ্যেই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। কালের বিবর্তনে এখানে পরিবর্তন এসেছে। এখানে অনেক স্থাপনা, গার্মেন্ট কারখানা, কল কারখানা গড়ে উঠেছে। তখন অনেকের উপলব্ধি হয় নাই যে এটা এক সময়ের চাষের উপযোগি থাকবে না। এখন এখানে প্রচুর মানুষ বসবাস করে। কিন্তু বর্ষার সময়ে এলাকাটি পানির নিচে থাকে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন এ সমস্যা সমাধানের। এখানে এমপি শামীম ওসমানের বিরাট অবদান।মন্ত্রী তিনি বলেন, এ কাজে দুটি করপোরেশন জড়িত। একটি ঢাকার সিটি করপোরেশন ও নারায়ণগঞ্জ করপোরেশন। এছাড়াও একটি বড় অংশের কাজ আছে এলজিইডির। কারণ ড্রেন ও সুয়ারেজের পানির জন্য সিটি করপোরেশন ও এলজিইডি কাজ করবে। ইতোমধ্যে আমি নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের মেয়র, ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গেও কথা হয়েছে। দুইজনই আমাকে কথা দিয়েছে সমান্তরালভাবে কাজ চলবে। শামীম ওসমানও নিশ্চিত করেছে, এলজিইডি তাদের কাজগুলোও দ্রুত করবে। ’
তিনি বলেন, ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যায়ে ডিএনডি এলাকার নিস্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পটি ৫৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায় একটি স্থায়ী সমাধান আনয়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি, ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার আনিস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মোঃ তৌহিদ হোসেন, ২০ ইসিবি’র প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্নেল মুহাম্মদ রোমিও নওরীন খান, নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নাসিক প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি, কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান, ইফতেখার আলম খোকনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ।
-

নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না : ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের অধিকার, এটি কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষিতে নাকে খত দিয়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। নাকে খত দিয়ে নয়, সব দলকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই বাধ্য হতে হবে।
কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে বৃহস্পতিবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপি নাকে খত দিয়ে আগামী নির্বাচনে আসবে।’
এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বরঞ্চ বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তাদেরকে বাধ্য হতে হবে সব রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বাচনে আসে তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এটা শুধু বিএনপির কথা নয়, এটা সমগ্র দেশের জনগণের কথা।’
প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন যে, আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে এই প্রশ্ন এসেছে যে এটা (নির্বাচন) সবচেয় বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সেটা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করা- এই প্রশ্নটা জাতির সামনে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, যে কথাটা আমরা বারবার বলেছি, আমরা সংঘাত চাই না, আমরা অস্থিতিশীলতা চাই না। আমরা এবারকার নির্বাচন যাতে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জন্যে ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হয়, গণতন্ত্রকে এখানে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়, জনগণের অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সেটাই আমরা চাচ্ছি, জনগণ সেটা চাচ্ছে।
‘যদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বশীল নেত্রী হন, তাহলে অবশ্যই তাকে এদিকেই চিন্তা করতে হবে এবং জনগণের মনের আশা-আকাঙ্ক্ষাটা বুঝতে হবে। সেভাবেই তাকে কাজ করতে হবে।’
বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী- সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) দায়। আজকে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসা যিনি সরকারের প্রধান তার দায়। নির্বাচন করবেন কি করবেন না, নির্বাচন হবে কি হবে না এটার দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে ক্ষমা চাইতে হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন এটা জনগণের কাছে হাস্যকর মনে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৪ সালে বিনা নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে জনগণের ওপরে তারা যে অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে, করে চলেছে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ক্ষমা কাকে চাইতে হবে সেটা জনগণই বিচার করবে।’
‘সেজন্য দেশনেত্রী আগেই বলে দিয়েছেন যে, তার ওপরে, তার দলের ওপরে এবং দেশের মানুষের ওপরে যে নির্যাতন চলছে, তিনি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষমা করে দিয়েছেন’ বলেন ফখরুল।
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দিতে গিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, সরকার জিয়া পরিবারের সঙ্গে বৈরী আচরণ করলেও তিনি শেখ হাসিনাকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছেন’, প্রতিহিংসামূলক কিছুই তিনি করবেন না।
-

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ত্রুটি : সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজহারভুক্ত ১১ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিট।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটিসিটির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুল আলম। আগামী ১১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করার দিন ধার্য রয়েছে।
যাদের অব্যাহতির প্রদানের আবেদন করা হয়েছে তারা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭৭ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশখাবাতে জরুরি অবতরণ করে। ত্রুটি মেরামত করে সেখানে চার ঘণ্টা অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির পর ওই উড়োজাহাজেই প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্টে পৌঁছান।
ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এর আগে ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ বিমানের ছয় কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বরখাস্ত হন বিমানের তিন প্রকৌশলীও।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ বিমানের প্রধান প্রকৌশলীসহ ৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়েল ম্যানেজমেন্ট) উইং কমান্ডার (অব.) এমএম আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- বিমানের প্রধান প্রকৌশলী (প্রডাকশন) দেবেশ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) এসএ সিদ্দিক, প্রধান প্রকৌশলী (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড সিস্টেম কন্ট্রোল) বিল্লাল হোসেন, প্রকৌশল কর্মকর্তা এসএম রোকনুজ্জামান, সামিউল হক, লুৎফর রহমান, মিলন চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসাইন ও টেকনিশিয়ান সিদ্দিকুর রহমান।
-

১ জানুয়ারিতে নববর্ষের ভাষণে যে ঘোষণা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ডিসেম্বরের মধ্যেই আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চায়। আগামী ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। ওই বক্তব্যে তিনি ২০১৮কে নির্বাচনের বছর হিসেবে আখ্যায়িত করবেন। জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মধ্যে দিয়েই নির্বাচনের পথে হাঁটবে দেশ।
সোমবার দেশে ফিরেই নেতা কর্মীদের সঙ্গে আলাপ চারিতায় প্রধানমন্ত্রী এরকম ইঙ্গিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরে নেমে যাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। আর অপেক্ষা না করে, নির্বাচনী প্রচারের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির দুর্নীতি লুটপাট এদেশের মানুষ ভুলতে বসেছে। এই সব দুর্নীতি মানুষকে আবার মনে করিয়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদের তথ্য জনগণের মধ্যে প্রচার করতে বলেছেন। সৌদি আরব সরকার সম্প্রতি বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। সেই দেশে বেগম জিয়ার বিপুল অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সৌদি আরবে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কতৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ সভাপতি, এসব তথ্য জনগণকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যেন জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন।
আওয়ামী লীগ অন্তত ১০০টি আসনে তাঁদের প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দিয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, বাকি ২০০ আসনে ৩ জন করে প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত তালিকা এখন সভাপতির টেবিলে। অবিলম্বে এই আসনগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কয়েকটি আসনে, কৌশলগত কারণে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে না। বিএনপি কীভাবে নির্বাচন করে এবং প্রার্থী কে হয়, তার ওপর নির্ভর করবে অন্তত ১০০টি আসনের প্রার্থী বাছাই। ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ১০০ আসনের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করে ফেলবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেছেন, কিছু আসনের প্রার্থী নির্ধারিত। আমরা জানি, তারাই প্রার্থী হবেন।
এরকম আসনে নির্বাচনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ওই নেতা মনে করেন, সব আসনেই নির্বাচনের কাজ চলছে, তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় ওই সব আসনে সমস্যা হচ্ছে। এজন্যই আওয়ায়ী লীগ সভাপতি স্বল্পতম সময়ে অধিকাংশ আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবেন। বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। বিএনপির আন্দোলন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুভাবে প্রতিহত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।