Category: জাতীয়

  • সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন

    সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন

    নিউজ ডেস্কঃঃ জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছেলে শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু জানান, এখনো জানাজা এবং দাফনের সময় চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে সময় নির্ধারণ করা হবে। রাতে মরদেহ সিএমএইচে থাকবে। কাল (সোমবার) সংসদ প্লাজায় জানাজা শেষে নিজ বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে ফের ঢাকায় এনে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৫৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৬৯–১৯৭৫ সময়কালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

    ১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২-১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

    ১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৯৪

    ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৯৪

    অনলাইন ডেস্ক ::: এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২৯৪ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১ হাজার ২৩ জনে।

    শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার একই সময়ের মধ্যে সারাদেশে নতুন করে আরও ২৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৪ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫০ জন।

    এ নিয়ে বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ২৩ জন ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৮৪৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৭৪ জন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯০ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩৫ জন।

    এসময়ে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৮৩২ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ হাজার ৯৭০ জন। ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৩৬৫ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ নিয়ে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। এ বছর ২১ জুন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

    ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গুর সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ এ সারাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। ওই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়।

  • অক্টোবরেই হতে পারে ছাত্রলীগের সম্মেলন

    অক্টোবরেই হতে পারে ছাত্রলীগের সম্মেলন

    নিউজ ডেস্কঃঃ ২০১৮ সালে ২৯তম সম্মেলনের পর পেরিয়ে গেছে চার বছর। বর্তমান সভাপতি-সম্পাদক দায়িত্ব নেওয়ার পরও পেরিয়েছে ৩ বছর। দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্বে থাকলেও আশানুরূপ সাংগঠনিক শক্তি অর্জনে ব্যর্থতার অভিযোগ আছে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে। আছে অছাত্র, বিবাহিত এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের পদ দেওয়ার অভিযোগ। এর মাঝে সম্মেলনপ্রত্যাশী নেতাদের তোপের মুখে একাধিকবার পড়েছেন তারা দুজন। তবে সম্মেলন করার কোনো উদ্যোগ নেননি তারা।

    এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্ব আনতে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন হতে পারে আগামী অক্টোবরে।

    আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় আমরা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলতি বছরের অক্টোবরেই ছাত্রলীগের সম্মেলনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেশে ফিরলে আমরা তার সঙ্গে বৈঠকে বসবো। তখন তিনি সম্মেলনের তারিখ জানাবেন।

    ‘এ মাসে আবার প্রধানমন্ত্রীরর জাতিসংঘ সফরও রয়েছে। এটি শেষ করে এ মাসেই দেশে ফিরবেন তিনি। আমরা আশা করছি, অক্টোবরের মধ্যে সম্মেলনের কাজ সেরে ফেলতে পারবো।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি। নেত্রী যখনই তার সুবিধামতো তারিখের কথা জানাবেন, তখনই সম্মেলন করা হবে।

    এদিকে একাধিক সূত্র বলছে, আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃত্বে আসার যোগ্যতা আছে এমন ছাত্রনেতাদের জীবনবৃত্তান্ত ও কার্যক্রমের তালিকা সংগ্রহ করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এখন হেভিওয়েট প্রার্থীদের অধিকতর তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ লক্ষ্য করেই ছাত্রনেতাদের বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি ও জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ করছেন।

    সম্মেলন নিয়ে যা ভাবছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা

    আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির কথা জেনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

    এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ধন্যবাদ জানাই। জয়-লেখকের কাছ থেকে ছাত্রলীগ মুক্ত হচ্ছে, এটা অনেক আনন্দের। আমরা চাই, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রলীগ তার ঐতিহ্য, ধারাবাহিকতা ও গতিশীলতা ফিরে পাক।

    ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব খান বলেন, নানান কারণে ছাত্রলীগের সম্মেলন এতদিন হয়নি। এতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাতে আমরা আনন্দিত

    ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস আলম বলেন, ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। দুঃখজনকভাবে গত কমিটি গঠনের সময় সম্মেলন করা হয়নি।

    ‘বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলাম। নেত্রীর নির্দেশনায় সম্মেলন হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ করার প্রেরণা-উৎসাহ আসবে।’

    সম্মেলনের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান জয় বলেন, আমরা আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করে দিতে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি বলেছেন, জানাবেন।

  • শোকের মাস ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

    শোকের মাস ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

    নিউজ ডেস্কঃ শোকের মাসকে ঘিরে আগস্টের প্রথম প্রহর থেকে পুরো মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। রবিবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি জানানো হয়।

    শোকের মাসের শুরু উপলক্ষে ৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে আলোর মিছিল করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। একই সময়ে ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

    আগামী সোমবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে কৃষক লীগের আয়োজনে রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। এছড়াও ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৯ টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন।

    বাদ জোহর আজিমপুর এতিমখানায় এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এছাড়াও আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি, আওয়ামী লীগের বণ ও পরিবেশ উপ-কমিটি, আওয়ামী যুবলীগ ও আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ পৃথক আলোচনা সভার আয়োজন করবে। এভাবে পুরো মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ এবং দলের সহযোগী সংগঠনগুলো। আগামী ৩১ আগস্ট ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের আয়োজনে আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে শোকের মাস আগস্টের কর্মসূচি শেষ করবে আওয়ামী লীগ।

    ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে: সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।

    সকাল সাড়ে ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। উক্ত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ-এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। এছাড়াও মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ওই দিন প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। দুপুর সারাদেশে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও গণভোজের আয়োজন। এছাড়াও ১৬ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৩ টায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা।

    ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ১০টায় ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আলোচনা সভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়াও ২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

    আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ গৃহীত মাসব্যাপী শোক দিবসের কর্মসূচি যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একইসাথে আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • জুলাইয়ে রেকর্ড ২.০৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলো দেশে

    জুলাইয়ে রেকর্ড ২.০৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলো দেশে

    নিউজ ডেস্কঃ চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেকর্ড প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। মাস শেষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ২ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন বা ২০৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় যা (এক ডলার সমান ৯৪ দশমিক ৭০ টাকা ধরে) ১৯ হাজার ৭৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের (২০২১-২২) একই মাসের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এসেছিল ১৮৭ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা দিয়ে আসছে। এতে আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এ কারণে অর্থবছরের প্রথম মাসেই রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা। এছাড়া ঈদের মাস হওয়ায় এ মাসে তুলনামূলক বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, নতুন অর্থবছরের জুলাই মাসে ২০৯ কোটি ডলার এসেছে দেশে। গত অর্থবছরের শেষ মাস অর্থাৎ জুলাইয়ের আগের মাস জুনে এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে জুন অপেক্ষা জুলাই মাসে ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

    ২০২১ সালের জুলাইয়ে ১ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা তার আগের মাস জুনের চেয়ে ১৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। ওই মাসে ১ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। ২০২০ সালের জুলাইয়ে ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

    তবে, সামগ্রিকভাবে ২০২১-২২ অর্থবছরের নেতিবাচক অবস্থায় চলে আসে রেমিট্যান্স, যা চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আশার সঞ্চালন করে। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার। উল্লেখযোগ্য অর্থ নেতিবাচক সময়ে আশার সঞ্চালন বলছেন ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্টরা।

    অন্যদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার কমে যায়। তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২০২১) এসেছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার।

    সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মধ্যে ডলার সংকট চলছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন হয় এমন সব প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন টিম যাচ্ছে। হুন্ডি বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় ডলার কেনা-বেচা করছে কি না দেখবে পরিদর্শন টিম।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডলারে অনিয়ম পেলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে। এর আগেও আমরা ১০ টি টিম মার্কেটে পাঠিয়েছি। আভিযানিক এ টিম ডলার মার্কেটে কিছু তথ্য পেয়েছে যা রুলস রেগুলেশন কাভার করে না। লাইসেন্স নেই এমন প্রতিষ্ঠানও ডলার কেনা-বেচনার সঙ্গে জড়িত, এমন তথ্যও এসেছে। আবার একটি লাইসেন্স নিয়ে দুটি শাখায় ব্যবসা করছে। এমনটি যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

    গত জুলাই ১৭ অনিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা জমা আকৃষ্ট করার জন্য ইউরো কারেন্সি রেট প্রত্যাহার করে সার্কুলার জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে বাড়ছে ডলারের দাম। ব্যাংকগুলোতে এখন আমদানির জন্য ১০০ টাকার নিচে ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। রেমিট্যান্সের জন্যও সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। আর খোলাবাজারে দর বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

  • এক মাসে ৩৫৪ নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার ৭৭ জন

    এক মাসে ৩৫৪ নারী-শিশু নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার ৭৭ জন

    নিউজ ডেস্কঃ জুলাই মাসে দেশে ৩৫৪টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৫৯টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৬টি এবং ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে ২টি। এই সময়ে ২ প্রতিবন্ধি শিশু-কিশোরী ধর্ষণ ও ৩ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৭টি ঘটনায় শিশুসহ মারা গেছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৬৬ জন। পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন এবং ১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    রোববার (৩১ জুলাই) সংগঠনের প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়।

    বিভিন্ন গণমাধ্যমে তুলে ধরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমএসএফ এ প্রতিবেদন তৈরি।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও এমএসএফ’র সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যেমন: ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা ও পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বিগত মাসগুলোর মতই অব্যাহত ছিল, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্ষণের শিকার ৫৯ জনের মধ্যে ১৬ জন শিশু, ২৬ জন কিশোরী রয়েছেন।

    অপরদিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১ জন শিশু ও ৭ জন কিশোরী। এবং ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হছে ২ শিশু। এ সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২২টি, যৌন হয়রানির ঘটনা ২৮টি ও শারীরিক নির্যাতনের ৪৪টি ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এক শিশু, ২৮ জন কিশোরী ও ৩৯ জন নারীসহ মোট ৬৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। এদের মধ্যে দুইজন প্রতিবন্ধি নারীও রয়েছেন।

    এছাড়া অ্যাসিড নিক্ষেপে আক্রান্ত হয়েছেন ১ নারী। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ২ কিশোরী ও ২ নারী, অপরদিকে ৩ শিশু ও ৩ কিশোরী নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়াও জুলাই মাসে ১০ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুসহ মোট ৮৮ শিশু, কিশোরী ও নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ শিশু ও কিশোরী রয়েছেন। এ মাসে জুনের চেয়ে ৩২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিশোধ, পারিবারিক বিরোধ, যৌতুক, প্রেমঘটিত ইত্যাদি কারণে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

    এমএসএফ জানায়, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা লক্ষ্যণীয় নয়। এ কারণে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। সমাজে অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। দেশে ধর্ষণ, শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব ও নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন ছাড়াও চলতি বছরের জুলাই মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একজন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন একজন এবং আহত হয়েছেন র্যাবের দুই সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয় ২ জনের, যা গত মাসের তুলনায় কমলেও উদ্বেগজনক। এছাড়াও কারাগারে নির্যাতন ও বিনা অপরাধে কারাগারে আটকের অভিযোগ উঠেছে।

    নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সহিংসতার ৩৭টি ঘটনায় শিশুসহ মারা গেছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন ২৬৬ জন। নির্বাচনী সহিংসতায় ২ জন এবং ৩ জন রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে মারা গেছেন। সীমান্তে জুলাই মাসে ৩টি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশীকারীকে উভয়পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক আটক বা বাধা প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই মাসে ১৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৭ জন নিহত ও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি বা পরকীয়া সন্দেহে গণপিটুনির এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

    এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বিএনপির ৩ নেতাকর্মী ও ২ দম্পতিসহ মোট ৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন। এ মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৬টি মামলা হয়েছে এবং ১টি মামলার আবেদন করা হয়েছে। ১২ ঘটনায় ১ জন সাংবাদিকের মরদেহ, ১ জন নারী সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ, ২ জন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, ৫ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে মারধরের হুমকিসহ তাদের বাসাবাড়ি এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।.

    এমএসএফ জানায়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের যেভাবে হয়রানি ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, তা শুধুমাত্র অনাকাঙ্ক্ষিতই নয় বরং বস্তুনিষ্ঠ ও সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার সামিল। তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় অপমাণ, নিপীড়ন, হত্যার হুমকি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা ও দুষ্কৃতকারীর পাশাপাশি মাদক কারবারিরা এসব কাজে জড়িত।

  • বিএনপি নেতাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি নেতাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত দেশগুলো যখন হিমশিম খায়, তখন আমরা সাশ্রয়ী হচ্ছি। এটার অর্থ এই নয়, আমরা লুটপাট করছি। লুটপাট তো বিএনপি করেছে। আমি দেখেছি- বিএনপি নেতারা হারিকেন নিয়ে আন্দোলন করছে। তাদের হাতে হারিকেনই ধরিয়ে দিতে হবে। আর মানুষকে ভালো রাখতে আমরা সব কাজ করছি। সেটাই করবো।

    আজ সোমবার কৃষকলীগের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমাদান কর্মসূচিতে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    এসময় নেতাকর্মীদের রক্তদানে উৎসাহিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জাতির পিতার আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মী মানুষের সেবায় সব সময় পাশে থাকবে নিবেদিত প্রাণ হয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবনে ক্ষমতার কোনো লোভ ছিল না বলে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। শত কষ্টের পরও কোথাও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তার জীবনে ক্ষমতার কোনো লোভ ছিল না। বঙ্গবন্ধু মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারেননি। তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগের নজির রেখে গেছেন। বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত ছিলেন বাঙালির বিজয় হবেই। যে কারণে কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তিনি মনোবল হারাননি। অথচ এই আগস্টেই জাতির কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নিয়েছিল ঘাতকের দল।

    তিনি বলেন, জাতির পিতার হত্যার পর দেশের কী উন্নতি হয়েছে? চলে গেলো মার্শাল ল’তে। ক্ষমতা দখল করে কুক্ষিগত করা হলো। তারা ক্ষমতায় এসে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে। ইনডেমনিটি দেয়। জাতির পিতার খুনীদের রক্ষা করে। যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় নিয়ে আসে। স্বাধীনতার চেতনা থেকে দেশকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব আয়োজন করলো। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের চোর ডাকাত বানালো। দেশের মানুষ কী পেলো?

    তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করে দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছিল। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ এমন ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

    জনসংখ্যা নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যা এখন সাড়ে ১৬ কোটি। এই জনসংখ্যার হিসেবও কারো কারো পছন্দ হয় না। কেন? তাহলে তারা নিজেরাই সন্তান জন্ম দিক, আমরা খাবার দেবো। আমরা চাই, প্রতিটি পরিবার সুখী সমৃদ্ধ হবে। আমরা সে কাজটি করে যাচ্ছি।

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র থাকলে দেশের যে উন্নতি হয়, এটা আজ প্রমাণিত। আওয়ামী লীগ সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক করে দেওয়াসহ নানা কাজ করেছি। বলতে গেলে ৯৬ থেকে ২০০১ সমৃদ্ধির সময় ছিল বাংলাদেশের। পরে তারা এসে কী করলো? ভিক্ষাবৃত্তি বা দেশকে পরনির্ভরশীল করেছে। দুর্নীতি, খুন খারাবি আর লুটপাট ছিল স্বাভাবিক চিত্র। ভোটের অধিকারই ছিল না মানুষের। বিএনপির সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়েছে। তাদের কাছ থেকেও কথা শুনতে হয়, নির্বাচনের কথা তারা বলে কোন মুখে?

    কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

  • শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস

    শুরু হলো বাঙালির শোকের মাস

    নিউজ ডেস্কঃ সোমবার (১ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে শোকাবহ আগস্ট মাস। এ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ১৯৭৫ সালের এদিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতক চক্রের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন।

    তিনি ছিলেন পরাধীন বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালির প্রেরণার চিরন্তন উৎস ও অবিসংবাদিত নেতা।

    সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী, মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, ছোট ছেলে নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল।

    ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিচাশ রূপি খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করে চলে। আবার এই শোকের মাসেই আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার জন্ম হয়। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। ওই হামলার টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

    শোকের এই আগস্ট মাসকে যথাযথ মর্যাদায় শোকাবহ পরিবেশে পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। মাসব্যাপী ঘোষিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো এসব কর্মসূচি দিয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুকে হত্যা জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যা জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা

    নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালির জন্য পুরো জীবন উৎসর্গকারী বঙ্গবন্ধকে ৭৫’র ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্য করা হয়, এটি জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা।

    সোমবার (১ আগস্ট) শোকাবহ আগস্ট মাস উপলক্ষে কৃষক লীগের কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ‌্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত কষ্টের পরও কোথাও অন‌্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি বঙ্গবন্ধু। পূর্ব বাংলার মানুষের কষ্ট তিনি সহ‌্য করতে পারেননি। ক্ষমতা, পদ-পদবীর লোভের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি মানুষের জন‌্য কাজ করে গেছেন।

    এসময় তিনি বলেন, বাঙালির বিজয় যে নিশ্চিত হবে তাতে তিনি নিশ্চিত ছিলেন। এ কারণে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায়ও মনোবল হারাননি। অথচ এই আগস্টেই জাতির কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নিয়েছিলেন ঘাতকের দল।

  • দায়সারা পড়াশোনা না করে, নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    দায়সারা পড়াশোনা না করে, নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দায়সারা পড়াশোনা না করে, শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য পড়াশোনা না করে, নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। অনেকে কোনো রকম ঘষে-মেজে বিএ-এমএ পাস করেই চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ায়। এই চিন্তাভাবনা থেকে বের হতে হবে।

    রোববার (৩১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভার সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    বুনিয়াদি শিক্ষার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, শুধু বিএ-এমএ পাস করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল ও কলেজ, যেন সত্যিকারের মানুষ তৈরি হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে।

    দেশের যুব সমাজ সুদক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে উঠুক, এই প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, শুধু নিয়মমাফিক একটা পড়াশোনা করা নয়, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ও প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীরা যেন দক্ষতা নিয়ে সমাজে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে পারে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। যত বেশি দক্ষ জনশক্তি গড়া যাবে, দেশে যেমন কাজে লাগবে, বিদেশেও কাজে লাগানো যাবে।’’