Category: জাতীয়

  • প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে কমিউনিটি ব্যাংকের অনুদান

    প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে কমিউনিটি ব্যাংকের অনুদান

    অনলাইন ডেস্কঃ কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট তহবিলে ৫০ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এঁর হাতে আজ (৩১ জুলাই) তাঁর কার্যালয়ে এ চেক তুলে দেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

    ব্যাংকের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় এ অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

  • মেজর সিনহা হত্যার দুই বছর

    মেজর সিনহা হত্যার দুই বছর

    নিউজ ডেস্কঃ দেশের আলোচিত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে রোববার। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগী পুলিশ সদস্যদের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা।

    সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কয়েকজন সঙ্গীসহ টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করার কথা বলে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

    হত্যাকাণ্ডের পর ২০২০ সালে পুলিশের ভাষ্য ছিল , ৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হন।

    পুলিশ দাবি করে, তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে মেজর সিনহা অস্ত্র তাক করেন। ফলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এরপর সিনহার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দিয়েও ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়।

    ওসি প্রদীপ শুরুতে এই হত্যাকাণ্ডকে ক্রসফায়ার বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আসল ঘটনা সামনে চলে আসে। এরপর ওসি প্রদীপ ও বাকিদের বিরুদ্ধে হয় মামলা। তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

    এরপর অল্প সময়ের মধ্যে চার্জ গঠন ও রায় দেওয়া দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারী হত্যার মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও এসআই লিয়াকতকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়ে। এ ছাড়া এ মামলায় ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এ রায় ঘোষণা করেন।

    যাবজ্জীবনের ৬ আসামি হলো- বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, প্রদীপের দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

    বর্তমানে এ রায়টি উচ্চ আদালতের আপিলে আছে।

  • সৌদিতে মারা গেছেন আরও এক বাংলাদেশি হাজি

    সৌদিতে মারা গেছেন আরও এক বাংলাদেশি হাজি

    নিউজ ডেস্কঃ হজের পর সৌদি আরবে আরও এক বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন। সর্বশেষ শনিবার (৩০ জুলাই) মেহেরপুরের মো. আবু তালেব মোল্লা মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। আবু তালেবের পাসপোর্ট নম্বর-EA0749782।

    রোববার (৩১ জুলাই) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইটি হেল্পডেস্ক হজের বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়েছে।

    সৌদি আরবে এ নিয়ে মোট ইন্তেকাল করেছেন ২৫ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী ও হাজি। এরমধ্যে পুরুষ ১৮ ও মহিলা ৭ জন। মক্কায় ১৯, মদিনায় ৪ ও জেদ্দায় ২ জন মারা যান।

    অন্যদিকে শনিবার পর্যন্ত হজ শেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৯ হাজার ৭০ জন হাজি।

    ৮ জুলাই সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হয়। ৫ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ১৬৫টি ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যান ৬০ হাজার ১৪৬ জন হজযাত্রী (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) ।

    হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট ১৪ জুলাই শুরু হয়। এ পর্যন্ত মোট ১০৯টি ফ্লাইটে হাজিরা দেশে ফিরেছেন। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫৯টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৪৫টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ৫টি ফ্লাইট রয়েছে.

    আইটি হেল্পডেস্ক জানায়, হজ প্রশাসনিক দলের দলনেতা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মো. মতিউল ইসলাম মদিনার হজ ব্যবস্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে শনিবার বিকেলে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।

  • পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে মনিটরিং কমিটি, কাজে ‘গতি

    পুরোনো মামলা নিষ্পত্তিতে মনিটরিং কমিটি, কাজে ‘গতি

    নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের সদর উপজেলায় প্রায় ২২ বছর আগে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কৃষ্ণা রানী পাল নামের এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু সেই মামলায় এখনো হাইকোর্টে আপিল আবেদন করা হয়নি। ওই মামলাটি এখন নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে এসেছে। একজন আইনজীবী এ বিষয়ে আপিল আবেদন প্রস্তুত করতে যাচ্ছেন। ঝিনাইদহের জরিনা আক্তার নামের অন্য এক আসামি একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন না তিনি কোথায় আছেন। সম্প্রতি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া এক আসামির মাধ্যমে তার ভাই জানতে পারেন বিষয়টি। এরপর তিনি জরিনার জন্য আপিল করেছেন। সেটি এখন শুনানির অপেক্ষায়।

    এভাবে বিভিন্ন মামলায় আসামিদের আপিল আবেদন করার নিয়ম না জানা, গুরুত্বপূর্ণ বা যে কোনো মামলায় নিয়মিত সাক্ষী উপস্থিত না হওয়া, বিচারিক (নিম্ন) আদালতের মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ দেওয়ার ফলে বিচারকাজ বন্ধ থাকা, মামলা শুনানির জন্য মুলতবি রাখাসহ নানা কারণে অনেক মামলা ঝুলে আছে। এসব ঝুলে থাকা মামলার বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তারই আলোকে হাইকোর্ট বিভাগের আটজন বিচারপতিকে দেশের আটটি বিভাগে নিষ্পত্তি না হওয়া মামলা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতার জন্য আরও আটজন কর্মচারীকে সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার ও স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, সম্প্রতি দুই দশক বা ২০ বছরের বেশি সময় আগের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। সেসব মামলা নিষ্পত্তিতে অগ্রগতিও হচ্ছে।

    জানা গেছে, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদেশে গত ২২ জুন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালতগুলোতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১ ডিসেম্বরের মধ্যে এ ধরনের পাঁচ হাজার ৮৬১টি মামলা অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দশকের বেশি সময় আগের মামলায় বিচার না হয়ে আটকে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিচারপ্রার্থীরা। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে বিচার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি বাড়ছে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি।

    এদিকে দেশের অধস্তন প্রতিটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এখন সেই তালিকা চূড়ান্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রাব্বানী।

    তিনি বলেন, অধস্তন আদালতের পক্ষ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মামলার সংখ্যা আমাদের কাছে আছে। এবার চলতি বছরের একটি সর্বশেষ সময় ধরে প্রত্যেক জেলা আদালতের তালিকা প্রেরণ করার জন্যে আমরা চিঠি দিয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজ চলছে। সব আদালতের তথ্য না আসায় বিচারাধীন মামলার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি জানান, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পরই বিচারাধীন মামলার প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের নির্দেশ দেন। মামলার নথি গণনাপূর্বক এ সংখ্যা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছিল। এছাড়া পুলিশ বা অন্য কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছে তদন্তাধীন মামলার প্রকৃত সংখ্যা পৃথকভাবে নির্ধারণ করে পাঠানোরও নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তালিকা প্রস্তুত হলে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মামলার প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসবে। কারণ তদন্তাধীন মামলার সংখ্যাটা পাওয়া গেলেই দেশের আদালতসমূহে কত মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় তার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।

    সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দুই দশক ধরে ঝুলে থাকা মামলার মধ্যে ঢাকা জেলা আদালতে রয়েছে ৬২৩টি, গোপালগঞ্জে ১৬টি, রাজবাড়ীতে ১৪টি, নরসিংদীতে তিনটি, নারায়ণগঞ্জে ৫৫টি, মাদারীপুরে ২২টি, টাঙ্গাইলে ১২টি, গাজীপুরে ৩১টি, মানিকগঞ্জে ৬টি, ফরিদপুরে ১৯টি এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আদালতে ৬৭টি।

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, মনিটরিং কমিটি করার পর মামলা নিষ্পত্তি এবং কাজের গতি বেড়েছে। বিচারকরা পূর্ণ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করছেন এখন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য সব সময়ই নির্দেশ ছিল। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে এসব মামলা নিষ্পত্তি হবে।

    মনিটরিং কমিটি নির্দেশ দিয়েছে, ২০০০ সালের আগের কোনো মামলা বিচারাধীন থাকতে পারবে না। এসব নিয়ে প্রধান বিচারপতিও কমিটির সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করেছেন, নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা নিয়মিত তাকে এসব বিষয় জানাচ্ছি।

    চলতি বছরের শুরুতে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এরপরই মামলাজট নিরসনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় তাকে। এর মধ্যে দেশের আট বিভাগের অধস্তন আদালতের মামলা নিষ্পত্তি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় হাইকোর্টের আট বিচারপতিকে। বিভিন্ন পর্যায়ের অধস্তন আদালতের বিচারকরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা অবহিত করেন মনিটরিং কমিটির বিচারপতিদের। মনিটরিং কমিটির বিচারপতিরা তখন অধস্তন আদালতের বিচারকদের দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নানা নির্দেশনা দেন।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়, অধস্তন আদালতের কার্যক্রম তদারকিতে গঠিত মনিটরিং কমিটি বিচারাধীন মামলার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, ২২ বছর ধরে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলে ৫ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন। এতে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকা মামলা ছাড়া ২০০০ সাল ও তার আগের মামলাগুলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

  • আ’লীগের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি প্রায় ১৫ কোটি

    আ’লীগের ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি প্রায় ১৫ কোটি

    নিউজ ডেস্কঃ ২০২১ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ২১ কোটি ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ১০৬ টাকা। একই সময়ে দলটি ব্যয় করেছে ছয় কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ৮৫২ টাকা। অর্থাৎ গত বছর খরচের চেয়ে প্রায় ১৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে দলটির।

    রোববার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে গত বছরের (২০২১ সাল) আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ূন কবীর খোন্দকারের কাছে জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

    দলের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এ হিসাব জমা দেন। সেখানে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। দলটি মনোনয়নপত্র ও সদস্য ফরম বিক্রি থেকে বেশি আয় করেছে বলে হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    টানা ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের গত দুই বছরের আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দলটির আয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখের বেশি। তবে আগের বছরের (২০২০) তুলনায় ২০২১ সালে দলটির ব্যয় কমেছে তিন কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকে জমা আছে ৭০ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১৬৬ টাকা।

    ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের আয় হয় ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৩ টাকা, যা ২০১৯ সালের আয়ের চেয়ে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা কম। ২০১৯ সালে দলটি আয় করেছিল ২১ কোটি দুই লাখ ৪১ হাজার ৩৩০ টাকা।

    অন্যদিকে ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের ব্যয় হয়েছে ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩১ টাকা, যা ২০১৯ সালের ব্যয়ের চেয়ে এক কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩৫৬ টাকা বেশি। ২০১৯ সালে দলটির ব্যয় হয়েছিল আট কোটি ২১ লাখ এক হাজার ৫৭৫ টাকা।

    ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বছরে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছিল ২৪ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৭০৭ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৫৭ টাকা।

    ২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের নিয়ম চালু করে ইসি। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের বছরের ‘অডিট রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

    দলগুলো কোন খাত থেকে কত টাকা আয় করছে, কত টাকা ব্যয় করছে সেসবের বিল-ভাউচারসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য কমিশনের নির্ধারিত একটি ছকে জমা দিতে হয়। এ হিসাব বিবরণী রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পরপর তিন বছর কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে ইসির সেই দলের নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রয়েছে।

    এর আগে গত ২৮ জুলাই নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সেই হিসাব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ৮৪ লাখ ১২ হাজার ৪৪৪ টাকা। দলটি ব্যয়ে করেছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৭১ টাকা।

  • রেলপথে দায়িত্বে অবহেলা, ৭ মাসে ১০৫২ দুর্ঘটনায় নিহত ১৭৮

    রেলপথে দায়িত্বে অবহেলা, ৭ মাসে ১০৫২ দুর্ঘটনায় নিহত ১৭৮

    নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়ায় রেলক্রসিংয়ে গতকাল শুক্রবার মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১১ জন নিহত হন। এ নিয়ে দেশের রেলপথে দুর্ঘটনায় গত ৭ মাসে নিহতের সংখ্যা হলো ১৭৮ জন। এই সময়ে ছোট-বড় ১ হাজার ৫২টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ‘সেভ দ্য রোড’। ২৪টি জাতীয় দৈনিক, ১৮টি ইলেকট্রনিকস মিডিয়া, ২২টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সারাদেশে সেভ দ্য রোডের স্বেচ্ছাসেবীদের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করেছে সংস্থাটি।

    বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের রেলপথে ২ হাজার ৮৫৬টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ ১ হাজার ৩৬১টি। অর্থাৎ প্রায় ৪৮ শতাংশই রেলক্রসিং অবৈধ। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ৩৩টি ক্রসিং কে বা কারা ব্যবহার করছে, তা কেউ জানে না। এ ছাড়া বৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর মধ্যে ৬৩২টিতে গেটকিপার নেই। অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোতে নেই কোনো সুরক্ষা সরঞ্জামও। ক্রসিংয়ের গেটকিপারদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    এতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৬টি। এতে আহত হয়েছেন ৫২ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন। ফেব্রুয়ারিতে রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১টি। এতে আহত হয়েছেন ১১১ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৭ জন।

    ১-২৮ মার্চ পর্যন্ত রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২২টি। এতে আহত হয়েছেন ১৮৬ জন এবং নিহত হয়েছেন ৩১ জন। ১-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১২টি। এতে আহত হয়েছেন ১৬৬ জন এবং নিহত হন ৪২ জন।

    মে মাসে রেলপথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২২১ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৩ জন। এ মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১২টি। জুনে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৯৭টি। এতে আহত হয়েছেন ১৭২জন এবং মারা গেছেন ১৭ জন। জুলাই মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৪২টি। এ মাসে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ২৪ জন।

    সেভ দ্য রোড দাবি, রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর আহতদের সরকারি অর্থায়নে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

    একইসঙ্গে রেলওয়ের বর্তমান পরিস্থিতির উত্তোরণে সেভ দ্য রোডের পক্ষ থেকে সাতটি সুপারিশ করা হয়। সেগুলো হচ্ছে-

    ১. অবৈধ ক্রসিংগুলোর সমাধান করা।

    ২. দুর্নীতিবাজ রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

    ৩. সরকারি লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক লীগ’-এর নেতাকর্মীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রেলকে গণমুখী বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করা।

    ৪. যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ রেলওয়েকে বেসরকারি খাত থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধায়নে পরিচালনার সুপরিকল্পিত উদ্যেগ গ্রহণ করা।

    ৫. সচিব-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের আরাম-আয়েশ বাতিল করে সারাদেশে রেলওয়ের উন্নয়নে নিবেদিত থাকা।

    ৬. যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সব কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং সারাদেশের সব স্থানে কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা।

    ৭. প্রতি তিন কিলোমিটারে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেলওয়ে পুলিশের বিশেষ বুথ স্থাপন করা।

  • বিএনপি নেতারা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন: কাদের

    বিএনপি নেতারা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন: কাদের

    নিউজ ডেস্কঃ ‘মানুষকে জেগে উঠতে’ বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মানুষ ঠিকই জেগে আছে, কেউ ঘুমিয়ে নেই। বরং বিএনপি নেতারাই জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন।

    শনিবার (৩০ জুলাই) নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, যে দল নিজেদের নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন করতে পারে না তারা নাকি আবার সরকার পতন ঘটাবে, এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।

    আন্দোলনের ফানুস উড়িয়ে তারা গভীর শীত নিন্দ্রায় চলে যাচ্ছেন- এমন দাবি করে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলন মানে নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝেই এক গভীর দীর্ঘশ্বাস আর হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

    ‘কিছু একটা বলতে হবে, তাই এসব হাই সাউন্ডিং শব্দ তারা ব্যবহার করে। বাস্তবে তাদের সক্ষমতা কতটুকু তা আমরা জানি, আন্দোলনের বস্তুগত পরিস্থিতি বিরাজমান কি না সেটাও বিএনপি নেতারা জানে না।’

    বিএনপিকে এখন ‘কুম্ভকর্ণ’ উল্লেখ করে তাদের কুম্ভকর্ণের নিন্দ্রা ভাঙানো দরকার সবার আগে বলে মনে করেন সেতুমন্ত্রী।

    আওয়ামী লীগকে নাকি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেবে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রেখে বলেন, ধাক্কা দিয়ে কাকে ফেলে দেবেন? আওয়ামী লীগকে? আওয়ামী লীগ কি অত ঠুনকো দল? বন্দুকের নল থেকে আওয়ামী লীগ জন্ম নেয়নি।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শিকড় এদেশের মাটি ও মানুষের অনেক গভীরে। আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিলে নিজেরাই খাদের কিনারায় আছেন, আপনাদেরই খাদে পড়ে যেতে হবে।

    মন্ত্রী বলেন, যারা এদেশে বসে ফরমায়েশি রাজনীতি করে তারা জনপ্রত্যাশা থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান করছে এবং তাদের অবস্থানই জনগণের কাছে ঠুনকো ও ভঙ্গুর।

  • করোনায় তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৯

    করোনায় তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৪৯

    নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রামের ও একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ২৮৮ জনে।

    একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩৪৯ জন। শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ২০ লাখ ৪ হাজার ৮৯২ জনে দাঁড়িয়েছে।

    শনিবার (৩০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের ৮৮০টি ল্যাবরেটরিতে ৫ হাজার ১১৮৪টি নমুনা সংগ্রহ এবং ৫ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মহামারির শুরু থেকে দেশে এ পর্যন্ত মোট এক কোটি ৪৬ লাখ ২ হাজার ৯১৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

    ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

    এদিকে, একদিনে করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৭৬৩ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৪২ জন।

    ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • দেশের ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অরক্ষিত, দায় আছে নাগরিকেরও

    দেশের ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অরক্ষিত, দায় আছে নাগরিকেরও

    নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বের প্রায় সব দেশে রেলকে নিরাপদ বাহন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশেও রেলপথে যাতায়াতে যাত্রী চাহিদা ক্রমে ই বাড়ছে। কিন্তু রেলক্রসিংয়ের কারণে পুরোপুরি নিরাপদ হচ্ছে না রেলপথ। রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা পরিণত হয়েছে নিয়মিত ঘটনায়। কখনো যানবাহন পিষে যাচ্ছে কখনো কাটা পড়ছেন পথচারীরা। এসব দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নিলেও তার দৃশ্যমান কোনো প্রভাব নেই। অন্যদিকে পথচারীদেরও রয়েছে সচেতনতার ঘাটতি।

    সূত্রমতে, এখন দেশের ৮২ শতাংশ রেলক্রসিং অরক্ষিত। এসব রেলক্রসিংয়ে ট্রেন চলাচলের সময় যানবাহন আটকানোর জন্য কোনো পাহারাদার বা প্রতিবন্ধক নেই। বাকি ১৮ শতাংশ ক্রসিংয়ে পাহারাদার ও প্রতিবন্ধক থাকলেও দায়িত্ব অবহেলার কারণে অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

    সবশেষ গতকাল শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া রেলস্টেশন এলাকায় পর্যটকবাহী একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে নিয়ে যায় চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস। এতে মাইক্রোবাসে থাকা ১১ যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানকে আটক করে পুলিশ। পরে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে রেলওয়ে পুলিশ।

    আরও পড়ুন: মাইক্রোবাসটি প্রায় এক কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে যায় ট্রেন

    এসব দুর্ঘটনার জন্য সব সময় দায় শুধু গেটম্যানের নয়, দেশের নাগরিকরাও সচেতন নন। সরেজমিনে রাজধানীর মগবাজার রেলক্রসিংয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায়, গেটম্যান প্রতিবন্ধক ফেলার পরও পথচারীরা বারবার ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিং পার হচ্ছেন। ট্রেন একেবারে সন্নিকটে দেখেও কেউ কেউ কয়েক সেকেন্ড ধৈর্য ধরতে পারছেন না। বেশ কিছু যানবাহনকে দেখা গেছে সিগন্যাল পড়ার পরও প্রতিবন্ধক ঠেলে রেড জোনে প্রবেশ করতে।

    প্রতি বছর রেলপথে দুর্ঘটনায় যত প্রাণহানি হয়, এর ৮৫ শতাংশই রেলক্রসিংয়ে মারা যান বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা। বাকি ১৫ শতাংশ মৃত্যু রেললাইনে কাটা পড়ে। এই মৃত্যুর হিসাব রাখে না রেল কর্তৃপক্ষ। কারণ, রেলপথে প্রাণহানির দায়ে ট্রেনচালক বা সংশ্লিষ্টদের শাস্তির বিধান নেই। উল্টো যানবাহনের চালককে দায়ী করে রেল কর্তৃপক্ষ। তাই ক্রসিংয়ে পাহারাদার থাক বা না থাক নিজ দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কমাতে ২০১৫ সালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম) ও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী) আলাদা দুটি প্রকল্প নেয় রেলওয়ে। এই দুটি প্রকল্পের আওতায় ৭০২টি স্থানে রেলক্রসিং প্রতিবন্ধক, পাহারাদার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৯৬ কোটি টাকা। এছাড়া এসব রেলক্রসিংয়ে এক হাজার ৫৩২ জন পাহারাদার নিয়োগ দিয়েছে সংস্থাটি। তারপরও রেলক্রসিং নিরাপদ হয়নি। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রেলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ২২১ জন। এর মধ্যে ১৮৭ জনই প্রাণ হারিয়েছেন রেলক্রসিংয়ে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এখন রেলপথে দুই হাজার ৫৬১টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩২১টির অনুমোদন নেই। সব মিলিয়ে দেশের ৮২ শতাংশ রেলক্রসিংই অরক্ষিত। যেগুলোতে যানবাহন আটকাতে প্রতিবন্ধকতা, পাহারাদার নেই। ফলে কিছুদিন পরপরই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিধান না থাকায় এসব ঘটনার বিচারও হচ্ছে না।

    ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, রেলপথ বা রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সবই জানেন রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। কিন্তু তারা বড় বড় প্রকল্প, রেলওয়ের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। তারা আন্তরিক হলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।

    বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব ও রেলওয়ের অংশীজন মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, রেলপথকে আরও নিরাপদ করতে প্রতিটি অংশীজন সভায় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলা হচ্ছে। কিন্তু রেলওয়ের টনক নড়ছে না। গতকাল মিরসরাইয়ের ঘটনায় রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা ও পাহারাদারই দায়ী। যদিও দুই-চারদিন পর এই দুর্ঘটনার খবর সবাই ভুলে যাবে।

  • মানবপাচার প্রতি‌রোধে শূন্য সহিষ্ণু নীতি দেখা‌চ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    মানবপাচার প্রতি‌রোধে শূন্য সহিষ্ণু নীতি দেখা‌চ্ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    অনলাইন ডেস্ক ::: মানবপাচারকারীরা সাইবার স্পেসে ঢুকে গেছে, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা মানবপাচার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মানবপাচার বেড়েছে। বিশেষ করে মহামারি করোনাকালে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    দেশের অর্থগুলোও তারা অবৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে পাচার করছে। মানবপাচার রোধে পাচারকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে মানবপাচার রোধে এগিয়ে আসতে হবে।

    শনিবার (৩০ জুলাই) হো‌টেল ইন্টারক‌ন্টি‌নেন্টা‌লে ‘বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আইওএম (আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা।

    অনুষ্ঠা‌নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মো‌মেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে মানবপাচার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার করে মানবপাচার রোধ করতে পারি।

    মানবপাচার প্রতিরোধে চারটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে মানবপাচারকারীদের সনাক্ত ও অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ব‌লে‌ন, মানবপাচার প্রতি‌রোধে শূন্য সহিষ্ণু নীতি দেখা‌চ্ছে সরকার।

    এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, বাংলাদে‌শের জন‌্য বোঝা হ‌য়ে দা‌ড়ি‌য়ে‌ছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশ চায় তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকশন বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেমন পাচারকারীরা তাদের কাজ করছে, আমরাও প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারি।

    মহামারির কারণে পাচারের সংখ্যা বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও পাচার অন্যতম সমস্যা। পাচার রোধে আমরা বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সাহায্য ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রায় ৩০ হাজার নারীকে অবৈধভাবে পাচার রোধে প্রশিক্ষণ দিয়েছি।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড বলেন, মানবপাচার রোধে সুইজারল্যান্ড সরকার ও বাংলাদেশ সরকার গত ১২ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পাচার বেড়েছে। তবে আমরাও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পাচার রোধ করতে পারি।

    আইওএম’র বাংলাদেশি অভিবাসনের প্রতিনিধি প্রধান আব্দুস সাত্তার ইসোভ বলেন, করোনার সময় থেকে মানবপাচাকারীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচারে আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদেরও পাচার প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। তবে এটি একার পক্ষে সম্ভব নয়, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানবপাচার ঠেকানো সম্ভব।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ সপ্তম দেশ হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। প্রযুক্তির ফলে সহজে অপরাধীরা পাচারের জন্য মানুষকে খুঁজে পায়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদেরও উচিত তাদের বিরুদ্ধে কাজ করা। অবশ্য মানবপাচারবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।