Category: জাতীয়

  • সারাদেশে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, মানববন্ধন

    সারাদেশে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, মানববন্ধন

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপসচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বাইরে নেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

    ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর আহ্বানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।

    মানববন্ধনে কর্মকর্তারা, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে অগ্নিনির্বাপণকালে ফায়ার সার্ভিস কর্মী নিহতের ঘটনায়ও গভীর শোক প্রকাশ করেন তারা। বিগত সময়ের দুর্নীতির নথি গায়েবের জন্য এটা কোনো ষড়যন্ত্র কিনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

    এ সময় বক্তারা আরও বলেন, উপসচিব পদে পদোন্নতিতে ৫০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।

    তাদের দাবি, নিজ নিজ পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিতে হবে, উপসচিব পদে নিয়োগ হবে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে আলাদা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।

    এছাড়া এই কর্মসূচি থেকে জবাবদিহিমূলক জনবান্ধব সিভিল প্রশাসনের দাবিতে পরিষদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কর্মকর্তারা দৃঢ়তা প্রকাশ করেন। পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন সকল সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

  • হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল: সারজিস

    হাসিনার দালালরা অপকর্মের ফাইল পুড়িয়ে দিল: সারজিস

    সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    সারজিস আলম লিখেছেন, বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা চাটার দল ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম একটা অংশ এই আমলারা। এদের ওপর ভর দিয়েই হাসিনা এই দেশে তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল।

    তিনি আরও লেখেন, যখনই বিপ্লবীরা হাসিনার অপকর্ম, চুরি, লুটপাট, দুর্নীতির দিকে নজর দিয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তখনই সচিবালয়ে ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দালালেরা বিভিন্ন অপকর্মের ফাইলগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে দিল।

    সারজিস আরও লেখেন, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সবার আগে আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনে যেসব চাটার দল এখনো ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে তাদের শেকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে।

    সবশেষে তিনি লেখেন, সাবধান করার সময় আর নেই।

    প্রসঙ্গত, দুই হাজার ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা তার তেমন কিছুই পূরণ করতে পারছে না। উল্টো পূর্ববর্তী সরকারের অনেক কিছুই বহাল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররাই সুবিধা পাচ্ছে। অথচ গণহত্যার বিচার হচ্ছে না সঠিকভাবে। আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

    ফলে সরকার গঠনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অঘটন ঘটছে। সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পরই এমন মন্তব্য করলেন সারজিস আলম।

  • সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

    সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

    রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন) মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    এ কমিটির সদস্য-সচিব হবেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়)।

    সদস্য হিসেবে থাকবেন- জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি (যুগ্মসচিব পদমর্যাদার নিচে নয়), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের প্রতিনিধি।

    সাত সদস্যের ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদঘাটন, অগ্নি দুর্ঘটনার পেছনে কারো ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়দায়িত্ব আছে কি না তা উদ্‌ঘাটন, এ জাতীয় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে সুপারিশ প্রেরণ। কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

    বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলা পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

  • আবারও ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি

    আবারও ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি

    তফশিল ঘোষণার পর যে কোনো পর্যায়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধের ক্ষমতা আবারও নির্বাচন কমিশনের হাতে ফিরতে যাচ্ছে। ওই ক্ষমতা পেলে তফশিল ঘোষণা থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিরূপ পরিবেশ তৈরি হলে পুরো নির্বাচনই বাতিল করতে পারবে ইসি। এজন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯১(এ) উপধারা সংশোধনের সুপারিশ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্যরা। এছাড়া প্রার্থীদের হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা যে কোনো সময়ে বাতিলের ক্ষমতা পাচ্ছে ইসি। এমনকি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তা বাতিল করতে পারবে কমিশন। এটিসহ আরও কিছু ক্ষমতা ইসিকে দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করতে যাচ্ছে এ কমিশন। ১ জানুয়ারির মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, আমরা অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব করার সুপারিশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। এর মধ্যে নির্বাচন বাতিলে ইসির ক্ষমতা বিষয়টিও রয়েছে। তিনি বলেন, ওই ক্ষমতা যখন কমানো হয়েছিল, তখনই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা মনে করছি, এই ক্ষমতা ইসির হাতে থাকা উচিত।

    দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সরকার আরপিও সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাশ করে। ওই সময়ে অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে আরপিওর ৯১(এ) উপধারা ছিল। ওই ক্ষমতা কমানোর প্রস্তাব করেছিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। ওই ঘটনায় সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইসির মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। যদিও তৎকালীন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল দাবি করেন, ৯১(এ)-এর সঙ্গে আরেকটি উপধারা যুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও বেড়ছে।

    জানা যায়, আরপিও ৯১(এ) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ বা বিরাজমান বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইসি যদি মনে করে তারা আইনানুগ ও ন্যায়সংগত নির্বাচন করতে সক্ষম হবে না, তাহলে নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট বন্ধ করার ক্ষমতা ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার তা সংশোধন করে শুধু ভোটের দিন যেসব কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো বন্ধের বিধান করে। পুরো নির্বাচন বাতিলের পথ বন্ধ করে দেয়। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্যরা মনে করছেন, ওই ক্ষমতা ইসির হাতে ফেরত যাওয়া দরকার। প্রয়োজনে ৯১(এ) উপধারার প্রয়োগ আরও সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে।

    এছাড়া আরপিওর ৭৩ থেকে ৯০ ধারায় সংশোধনীর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সংস্কার কমিশন। ওইসব ধারায় নির্বাচনি অপরাধে সাজার বিধান রয়েছে। নির্বাচনি অপরাধ করলে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচনি ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পৃথক সাজার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কমিশন সদস্যরা মনে করেন, সবার জন্য একই ধরনের সাজা দেওয়ার বর্তমান বিধান যৌক্তিক নয়।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে এ কমিশন। বিদ্যমান আইনে প্রার্থীর সাত ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। ওই তথ্য নির্বাচন কমিশন যাচাই করে না। প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণ করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ওই প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পর্যায়ে হলফনামায় তথ্য গোপন বা অসত্য তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই ইসির। এক্ষেত্রে কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার পক্ষে আইন সংস্কার কমিশন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার তথ্য যাচাইয়ে সময় বাড়ানো, হলফনামায় প্রার্থীর তথ্য সুনির্দিষ্ট করা, সম্পদের প্রকৃত দাম উল্লেখ করাসহ বেশকিছু সংশোধনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এমনকি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে ইসি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংস্কার কমিশনের একজন সদস্য বলেন, মাদারীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য আব্দুস সোবহান গোলাপ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা একাধিক বাড়ির তথ্য হলফনামায় গোপন করেছিলেন। ওই সময়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রার্থীরা হলফনামা আমাদের একটা জমা দেবে। কিন্তু সেই হলফনামার সত্য-অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কোনো কিছু করার আইনের ভিত্তি নেই। হলফনামা যেটা দেবে, সেটা জাতিকে তথ্য জানানোর একধরনের দায়িত্ব। সংস্কার কমিশনের ওই সদস্য বলেন, এভাবে সম্পদ লুকানোর প্রবণতা বন্ধে হলফনামার বিধানে সংস্কার প্রস্তাব করার বিষয়ে প্রায় সব সদস্য একমত হয়েছেন। সূত্র আরও জানায়, ভোটার তালিকা আইন ও জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনেও সংস্কার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংস্কার কমিশনের সদস্যরা একমত হয়েছেন। তারা পোস্টাল ব্যালট সহজ করার পক্ষে রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনেও বড় সংশোধনীর প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। ওই প্রস্তাবে জাতীয় সংসদের আসন সীমানা পুনর্বিন্যাসে ইসির কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভূগোলবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের যুক্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এক আসনের সঙ্গে আরেক আসনের জনসংখ্যার ব্যবধান ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এতে শহর এলাকায় আসন সংখ্যা বাড়বে। অপরদিকে যেসব এলাকায় জনসংখ্যা কম, সেখানে আসন কমবে। তবে পার্বত্য অঞ্চলে আসন যাতে না কমে, সেজন্য সুপারিশ থাকবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যমান আইনটি আন্তর্জাতিক মানের নয়। এ আইনে সরকারি দলের ইচ্ছামতো সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের ফাঁকফোকর রয়েছে। এতে নির্বাচনের ফলাফলও বিশেষ ব্যক্তির পক্ষে যায়। ওই ফাঁকফোকর বন্ধ এবং স্বচ্ছতা আনতে এ সংশোধনী প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে খসড়া সীমানা শুনানি মাঠ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের সুপারিশ করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে সীমানা পুনর্নির্ধারণে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনেরও সুপারিশ করা হতে পারে।

    অন্য সুপারিশগুলোর মধ্যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগে বিদ্যমান আইন বাতিল করে আরেকটি নতুন আইনের প্রস্তাব করা হবে। ওই আইনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হবে। এছাড়া ‘না’ ভোটের বিধান আবারও ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব করা হবে। এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ বন্ধ হবে। নির্বাচন কমিশনের জনবল নিয়োগের ক্ষমতা ইসির হাতে দেওয়া, নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটে প্রার্থী চূড়ান্ত করা, একই দলে অন্তত তিন বছর সদস্য থাকা এবং সরকারি খরচে প্রার্থীদের প্রচারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হবে।

    নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার সোমবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে না ভোট এবং নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বন্ধে সুপারিশ করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোয় যারা ইভিএম ব্যবহারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, তাদের বিচারের সুপারিশ করা হবে।

  • সারা দেশে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি

    সারা দেশে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি

    জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাবিত উপসচিব পুলে কোটা পদ্ধতি বহাল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিসের বহির্ভূত করার প্রতিবাদে এবং কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

    মঙ্গলবার ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’র আহ্বানে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রশাসন ক্যাডার বাদে বাকি ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

    কয়েকদিন আগে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন উপসচিব পুলে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস হতে আলাদা করার সুপারিশ করে। ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পরিষদ কলম বিরতি ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তারা।

    এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৬ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সব অফিসে স্ব-স্ব কর্মস্থলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি, ৪ জানুয়ারি (শনিবার) ঢাকায় সমাবেশ আয়োজন। সেখান থেকে বড় কর্মসূচি আসবে।

    ইতোমধ্যে পরিষদের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন থেকে সব সদস্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কাজের তাগিদ

    রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে কাজের তাগিদ

    আইন, সংবিধান এবং বিবেক মাথায় রেখে দেশের মানুষের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল থেকে র‌্যাবকে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তির প্রতি মাথা নত না করে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র‌্যাবকে কাজ করার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

    মানবাধিকার বিষয়ক আইন-কানুন সম্পর্কে র‌্যাব সদস্যদের ধারণা দিতে মানবাধিকার বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন।

    সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তরের এলিট হলে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া শাখা থেকে জানানো হয়েছে, র‌্যাব ফোর্সেসের সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ে সংবেদনশীল হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য সংস্থার মাধ্যমে তাদের মানবাধিকার বিষয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণের অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

    সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। তবে মানবাধিকার, সিআরপিসি, পেনালকোড, জাতিসংঘের ডিকলিয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটস ১৯৪৮ সহ অন্যান্য কনভেনশগুলো আমলে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

    সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চীফ প্রসিকিউটর এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    সেমিনারে র‌্যাব ফোর্সেসের মহাপরিচালক, অতিরিক্তি মহাপরিচালক, র‌্যাব সদর দপ্তরের সকল পরিচালক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকাস্থ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং কর্মকর্তাসহ ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।

    এছাড়াও ভিটিসির মাধ্যমে র‌্যাবের ব্যাটালিয়নগুলোর সক কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

    র‌্যাবের মিডিয়া শাখা থেকে আরও জানানো হয়েছে, সেমিনারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

    বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আলোচক হিসেবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার বিষয়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছেন, যা র‌্যাব ফোর্সেসের দৈনন্দিন কার্যাবলির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত।

    আলোচনার দ্বিতীয় অংশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে মানবাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।

  • সোনার দাম কমল

    সোনার দাম কমল

    দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৪৮ টাকা ক‌মিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    দাম কমানোর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হবে এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৮ টাকা। যা আজ ছিল এক লাখ ৪০ হাজার ৫৮৬ টাকা।

    সোমবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে নতুন এই দর কার্যকর হবে।

    দাম কমানোর ফলে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনা এক লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ১৪ হাজার ৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ৯৩ হাজার ৬০৪ টাকায় বিক্রি করা হবে।

    সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটে প্রতি ভরি রুপার দাম দুই হাজার ৫৭৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ২ হাজার ৪৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২১১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১ হাজার ৫৮৬ টাকা।

    এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর সোনার দাম কমানো হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

  • হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি পেয়ে যা বলল ভারত

    হাসিনাকে ফেরানোর চিঠি পেয়ে যা বলল ভারত

    ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘(হাসিনাকে) প্রত্যর্পণের অনুরোধ সম্পর্কিত একটি কূটনৈতিক পত্র আজ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে আমরা হাতে পেয়েছি। তবে এ মুহূর্তে এই বিষয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।’

    এর আগে ভারতকে কূটনৈতিক পত্র পাঠানোর তথ্য সংবাদমাধ্যমকে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সোমবার (২৩) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান তিনি।

    সোমবার সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    কোন উপায়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী হবে।

    সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পিলখানার বিজিবি সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, এরইমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছি। এক্সট্রাডিশন করার জন্য, এটি প্রক্রিয়াধীন।

    শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর কথা গত কয়েকদিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কিছুদিন আগেই হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তিন আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

    বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তিন আসামি ২ দিনের রিমান্ডে

    নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে প্রাইভেট কার চাপায় বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে ২ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। রোববার শুনানি শেষে পুলিশকে রিমান্ড কার্যকরের এ আদেশ দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাজী নূর মোহসীন।

    আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড পেতে গত শুক্রবার বিকালে আদালতে আবেদন করেছিল পুলিশ। আর রোববার আসামিদের জামিন আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

    নারায়ণগঞ্জ আদালতে পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক কাইউম খান জানান, বিচারক শুনানি নিয়ে আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রিমান্ডে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মুবিন আল মামুন (২০), মিরাজুল করিম (২২) ও আসিফ চৌধুরী (১৯)।

    বৃহস্পতিবার গভীররাতে পূর্বাচল উপশহরের ৩০০ ফুট সড়কে প্রাইভেট কার চাপায় রূপগঞ্জ পুলিশের চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা বুয়েট শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাসুদ মারা যান। আর গুরুতর আহত হন সহপাঠী মেহেদী হাসান খান ও অমিত সাহা।

    ঘটনার সময় প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে মুবিন আল মামুন। ঘটনাস্থল থেকে মামুনের পাশাপাশি তার বন্ধু মিরাজুল ও আসিফকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ডোপ টেস্টে মামুন ও মিরাজুলের ফল ‘পজিটিভ’ আসে।

    তাদের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন রূপগঞ্জ থানার এএসআই মেহেদী হাসান। এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার পর প্রাইভেট কার তল্লাশি করে একটি বিদেশি মদের খালি বোতল এবং এক ক্যান বিয়ার পাওয়া যায়।

    এর আগে শুক্রবার সকালে সড়ক পরিবহন আইনে তিনজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মাসুদ মিয়া।

    এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন বুয়েট ছাত্র মুহতাসিম মাসুদ। পরে তার দুই বন্ধুসহ ৩০০ ফুট সড়কে বেড়াতে যান।

    সেখানে নীলা মার্কেটে তারা রাতের খাবার খান। ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাসায় ফেরার সময় নীলা মার্কেটের অদূরে একটি পুলিশ চেকপোস্টে তাদের থামানো হয়।

    ওই সময় বেপরোয়া গতির একটি গাড়ি চেকপোস্ট অতিক্রম করে বুয়েট ছাত্রদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মুহতাসিম মাসুদ। আহত হন বাকি দুজন।

    পরে মেহেদীকে স্কয়ার হাসপাতালে এবং অমিত সাহাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    এদিকে গাড়ি চাপায় বুয়েটের তিন শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন সতীর্থরা। তারা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থানসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

  • এনআইডির তথ্য বেহাত, বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

    এনআইডির তথ্য বেহাত, বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

    জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন চুক্তি করলেও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল শর্ত লঙ্ঘন করেছে। শর্তানুযায়ী দ্বিতীয় কমিশনের তথ্য-উপাত্ত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্ত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো পন্থায় প্রদান করতে পারবে না বলা হলেও সংগঠনটি তা মানেনি। এমন অভিযোগ এনে কম্পিউটার কাউন্সিলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

    রোববার (২২ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন হতে এনআইডির তথ্য-উপাত্ত যাচাই সেবা গ্রহণকারী সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ১৮৩টি। যার মধ্যে বাংলাদেশ কম্পিটার কাউন্সিল (বিসিসি) অন্যতম। গত ৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখ নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিসিসির দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হয়। উক্ত চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী দ্বিতীয় পক্ষ (বিসিসি) কমিশনের তথ্য-উপাত্ত কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্ত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্য কোনো পন্থায় প্রদান করতে পারবে না মর্মে শর্ত থাকলেও বিসিসি কর্তৃক তা লঙ্ঘন করা হয়েছে।

    হুমায়ুন কবীর আরও বলেন, এ বিষয়ে ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বিসিসির নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও বিসিসি জবাব দানে বিরত থাকে। পরবর্তীতে গত ৬ অক্টোবর তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের জন্য বলা হলে বিসিসি কর্তৃক যে জবাব দেওয়া হয় তা নির্বাচন কমিশনের নিকট সন্তোষজনক নয় মর্মে গণ্য হয়েছে।

    অন্যদিকে, চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি/চার্জসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসিসি কর্তৃক পরিশোধ না করায় চুক্তি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিকট চুক্তিটি বাতিলযোগ্য মর্মে বিবেচিত হয়েছে।

    জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তক্রমে নিবন্ধনের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে বিসিসির ৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে সম্পাদিত চুক্তিটি ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিসিসিকে দেওয়া API সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এছাড়া চিঠি দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সমুদয় বকেয়া ফি/চার্জ পরিশোধপূর্বক চালানের কপি দাখিল করার জন্য বিসিসিকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডার থেকে অন্তত ৫ কোটি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য বিক্রি হয়েছে। তা নিয়েছে সরকারি-বেসরকারি দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় আছে এনজিও-ও। এসব তথ্য বিক্রি করে আসছে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতি একজন ব্যক্তির তথ্যের জন্য ৫, ১০ ও ১৫ টাকা হারে আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘পরিচয়’। ‘সরকারি ই-সেবা’ দেওয়ার নামে নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডারের ডেডিকেটেড সংযোগ এপিআই (অ্যাপলিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) নেয় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ওই সংযোগ ব্যবহার করেই জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করে আসছে পরিচয় প্ল্যাটফরম।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনও নাগরিকদের তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা করেনি। বিসিসিকে তথ্যভান্ডারের মিরর কপি দিয়েছে। ফলে নাগরিকদের সব তথ্যই সরকারের হাতে চলে যায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন দুই কমিশনের সময়ে এসব তথ্য অন্যদের হাতে যায়। এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদায়ি আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন, সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন, আইসিটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও নিজস্ব অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে।

    নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বিসিসিকে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের এপিআই ব্যবহার করে শুরু থেকে এ পর্যন্ত কতজন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই ও বিক্রি করা হয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান ইসির কাছে নেই। এক হিসাবে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৯৭ হাজার ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেছে ইসি। এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত তিন বছর আড়াই মাসে তথ্যভান্ডার থেকে কতসংখ্যক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়, এর হিসাব ইসির কাছে নেই।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসির তথ্যভান্ডারে ১২ কোটি ১৮ লাখের বেশি মানুষের তথ্য আছে। কারণ হিসাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, কোনো চুক্তি ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের এপিআই ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের গেটওয়ে ‘পরিচয়’ প্ল্যাটফরম তৈরি করা হয়।

    ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ‘পরিচয়’ উদ্বোধন করেন বিদায়ি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বিসিসিকে দেওয়া এপিআই চুক্তি ছাড়া ব্যবহার করতে থাকায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তি সই করে বিসিসি।

    তারা বলেন, চুক্তি না থাকায় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহের হিসাব রাখার আইনগত ভিত্তি ছিল না এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডারের পুরোনো সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই তিন বছর আড়াই মাসে কী সংখ্যক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হয়েছে তার হদিস নেই।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর ইসির সঙ্গে চুক্তি সইয়ের আগ পর্যন্ত তথ্যভান্ডারে থাকা একজন নাগরিকের ৪৬ ধরনের তথ্যের সবই পাওয়ার সুযোগ ছিল কম্পিউটার কাউন্সিলের। ইসির সঙ্গে চুক্তিতে একজন নাগরিকের ১৫ ধরনের তথ্য পেয়ে আসছে বিসিসি। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, ছবি, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, পিতা ও মাতার নাম এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পেশা, লিঙ্গ, জন্ম তারিখ ও ধর্ম।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্য-উপাত্ত দেওয়ায় নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ব্যক্তির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা মোবাইল নম্বর দিয়ে তার পুরো পরিবারকে শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিগত দিনে এ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগবিরোধীদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।

    নির্বাচন কমিশনে ভোটার হওয়া নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খানের কাছে, যিনি ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ’ কমিটিরও প্রধান।

    রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত যোগাযোগ করা হলেও এ কমিশনার কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি তার কার্যালয়ে গেলেও তিনি এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করেননি। সর্বশেষ হোয়াটসঅ্যাপে তিনটি প্রশ্ন করা হলে তার কোনোটিরই উত্তরও দেননি। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয়গুলো তার নেতৃত্বাধীন কমিটি দেখভাল করে।

    আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার বিসিসির মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের কাছে যাওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার যতদূর মনে পড়ে, নির্বাচন কমিশনের কোনো সভায় বিষয়টি এজেন্ডা হিসাবে আসেনি।

    তিনি বলেন, চুক্তির বাইরে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ যদি তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে থাকে, যা ইসির জন্য ক্ষতিকর, তাহলে আমাদের টেকনিক্যাল অফিসাররা কমিশনের নজরে আনবেন। তখন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের কোনো বিষয়ে আমার নজরে আসেনি।

    যেভাবে বিক্রি হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত : জানা যায়, ‘পরিচয়’ প্ল্যাটফরম মূলত একটি তথ্য প্রদান ও যাচাইকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আদলে এ প্রতিষ্ঠানের নামে ‘পরিচয় ডট জিওভি ডট বিডি’ নামের ওয়েবসাইট রয়েছে। এটি পরিচালনা করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেড নামক প্রতিষ্ঠান।

    এ প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য-উপাত্ত সংক্রান্ত তিন ধরনের প্যাকেজে তাদের গ্রাহকদের তথ্য সেবা দিয়ে থাকে। প্যাকেজগুলো হচ্ছে বেসিক (জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই), অটোফিল (এনআইডির তথ্য ও অরিজিনাল ছবি সরবরাহ করে স্বয়ংক্রিয় ফরম পূরণ) এবং অটোফিল প্লাস ফ্রি ম্যাচ (অটোফিল প্যাকেজের সব ফিচার, ম্যাচ সেলফি উইথ অরিজিনাল এনআইডি পিকচার, একক এপিআই)।

    এছাড়া পরিচয় প্ল্যাটফরম থেকে মোবাইল নম্বরের বিপরীতে এনআইডি নম্বর সরবরাহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বেসিক প্যাকেজে ৫ টাকা, অটোফিল প্যাকেজে ১০ টাকা এবং অটোফিল প্লাস প্যাকেজে ১৫ টাকা হারে ফি নিয়ে থাকে। ওই টাকা ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসের নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রি-পেইড সিস্টেমে জমা দিতে হয়।

    আরও জানা যায়, এর ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, ১০২টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর গ্রাহক। এর মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, এনবিআর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ ৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ২৩টি ব্যাংক, ৪টি এনজিও, ৩টি ই-কমার্স, ৩টি ইন্সুরেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আছে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানও। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচয় থেকে টাকার বিনিময়ে নাগরিক তথ্য যাচাই বা কিনে থাকে। এর বাইরেও এ প্রতিষ্ঠানের আরও গ্রাহক রয়েছে বলে জানা গেছে।

    জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের আইটি ইঞ্জিনিয়াররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় বিসিসিকে নাগরিকদের বেশি সংখ্যক তথ্য সরবরাহ করছে ইসি। ভোটার তথ্যভান্ডারে থাকা ১৫ ধরনের তথ্য পায় তারা। ইসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১৮৩টি প্রতিষ্ঠান সাধারণ ৮-১০ ধরনের তথ্য পায়, যা এনআইডির দুই পার্শ্বে থাকে। একমাত্র র্যাব ১৮ ধরনের তথ্য পায়।

    বিসিসির এপিআই ব্যবহার করায় পরিচয় প্ল্যাটফরম ওই ১৫ ধরনের তথ্য পাচ্ছে এবং চাইলে ডাউনলোডও করতে পারবে। ইচ্ছা করলে তারা পৃথক তথ্যভান্ডারও তৈরি করতে পারবে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। তারা বলেন, একজন ব্যক্তির মোবাইল বা এনআইডি নম্বর দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তার পুরো পরিবারের তথ্য বের করা সম্ভব। বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে বিসিসির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের এপিআই ব্যবহার করে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

    এ বিষয়ে যোগাযোগ করে ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিস লিমিটেডের কর্ণধার ওয়াহেদ শরীফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আরও জানা যায়, পরিচয় প্ল্যাটফরম চালু, নির্বাচন কমিশনের এপিআই সংযোগ পাওয়াসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলাকালে বিসিসির পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন তারেক মোসাদ্দেক বরকতউল্লাহ। তিনি একাধিকবার ওই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও পান। বিসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচয় প্ল্যাটফরমকে অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক মোসাদ্দেক বরকতউল্লাহ সোমবার যুগান্তরকে জানান, করোনাকালীন কঠিন সময়ে নাগরিকদের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনার সময় তারা বিনামূল্যে সরকারকে সহযোগিতা করেন।

    এ কারণে তাদেরকে সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে ই-সেবা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা যা আয় করবে, তা বিসিসির সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভান্ডার ব্যবহার করায় তাদের ধার্যকৃত ফি পরিশোধ করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান নিয়োগের শর্তে বলা আছে তারা কোনো তথ্য কপি বা চুরি করতে পারবে না। শুধু তথ্য যাচাইয়ের সেবা দেবে।

    আইন লঙ্ঘন করছে বিসিসি : জানা যায়, আইন ও বিধি অনুযায়ী একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে নাগরিকদের তথ্য-উপাত্ত সুরক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ প্রতিষ্ঠানটি এনআইডি যাচাই সংক্রান্ত সেবাও দিয়ে থাকে। বিসিসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন যে চুক্তি করেছে, সেই চুক্তিপত্রের ‘কমিশনের তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা’ বিষয়ক ২ নম্বর অনুচ্ছেদে বিসিসি কোনো অবস্থায় নাগরিকদের তথ্য-উপাত্ত অন্য কোনো ব্যক্তি, স্বত্বা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর, বিনিময়, বিক্রয় কিংবা অন্যপন্থায় প্রদান করতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।

    অথচ ইসির তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে পরিচয় প্ল্যাটফরম শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য সেবা দিয়ে আসছে। তৃতীয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের ওই চুক্তি বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা বাতিল হয়নি। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ’ কমিটির প্রধান হিসাবে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে এ বিষয়ে ব্রিফ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।

    তথ্য-উপাত্ত নিলেও টাকা দিচ্ছে না পরিচয় প্ল্যাটফরম : একজন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাইয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান এক টাকা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫ টাকা হারে (২০২৩ সালের ২ মার্চের আগে ২ টাকা ছিল) পরিশোধ করার বিধান রয়েছে। ওই টাকা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়। বিসিসির নামে এপিআই নেওয়ায় তা সরকারি কাজে ব্যবহার হচ্ছে-এমন যুক্তি দেখিয়ে ১ টাকা হারে বিল করছে ইসি। ওই ১ টাকা হারেই ডিজিকনের কাছে ইসির পাওনা ৫ কোটি ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ওই টাকাও পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫-১৫ টাকা হারে ফি আদায় করছে পরিচয় প্ল্যাটফরম। সরকার পরিবর্তন হওয়ায় বকেয়া ওই টাকা আদায়ে চিঠি দিতে যাচ্ছে ইসি।