Category: সিলেট

  • সিলেটে মোটরসাইকেলে আরোহী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা

    সিলেটে মোটরসাইকেলে আরোহী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা

    বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সিলেট মহানগরীতে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে চালক ছাড়া অন্য কাউকে বহন করা যাবে না বলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার রাতে এই নির্দেশনা জারির বিষয়টি জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব।

    এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ১৩টি বিশেষ নির্দেশনা জারির বিষয়টি জানান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মোটরসাইকেলে চালক ছাড়া অন্য কোনো যাত্রী বহন না করা। তবে স্বামী-স্ত্রী একসাথে মোটরসাইকেলে আরোহন করতে পারবেন।

    গণবিজ্ঞপ্তিটি ১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়।

  • আমি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি : জাফর ইকবাল

    আমি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি : জাফর ইকবাল

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, আমি জানতাম না দেশের মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসে। এ আঘাত না পেলে বিষয়টি আমার অজানাা থাকতো।

    বুধবার দুপুর দেড়টায় ক্যাম্পাসে ফিরে নিজ বাসভবনের নীচে এসে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন তিনি।

    এ সময় তার সাথে থাকার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। এসময় তার সাথে অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক ও তার মেয়ে ইয়েশিম ইকবালও উপস্থিত ছিলেন।

    এর আগে অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শাবিপ্রবি ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এসময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর এয়ারপোর্ট থেকে সোজা শিক্ষক কোয়ার্টারে নিজ বাসভবনে পৌঁছান তিনি।

    এ সময় জাফর ইকবাল বলেন, আমি আমার পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। কারো প্রতি তার কোনো ধরনের ক্ষোভ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আমি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি।

    এদিকে, ড. ইকবালের ক্যাম্পাসে ফেরা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে দেখা হচ্ছে। তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

    অল্প পরিসরের মাধ্যমে স্যারকে বরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক রিতেশ্বর তালুকদার বলেন, ‘সবাই আলাদাভাবেই স্যারের কাছে চিঠি লিখছে। এছাড়া স্যারকে নিয়ে আাঁকা বিভিন্ন ছবিও দেওয়া হবে। মুক্তমঞ্চে স্যার সবার সঙ্গে কথা বলবেন এবং পরবর্তীতে নিজ বিভাগে আসবেন।’

    প্রসঙ্গত, গত ৩ মার্চ বিকেলে ইইই ফেস্টিভাল চলাকালীন সময়ে ছুরিকাহত হন ড. জাফর ইকবাল। ওই দিন রাত থেকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আজকে তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়।

  • সিলেটে ওয়াজ মাহফিল নিয়ে সংঘর্ষ, নিহত ১

    সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ওয়াজ মাহফিল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। নিহত যুবক হরিপুর মাদ্রাসার ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন।

    সোমবার দিবাগত রাত ১১টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় আমবাড়ি, ঝিঙ্গাবাড়ি ও কাঠাল বাড়ি নামের তিনটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    জৈন্তাপুর থানার ওসি খান মো. ময়নুল জাকির সাংবাদিকদের জানান, ওয়াজকে কেন্দ্র করে ওই সমাবেশের মধ্যে ওয়াহাবি মতাদর্শের লোকদের সঙ্গে সুন্নি মতাদর্শের লোকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই ওই ছাত্রের মৃত্যু হয়। তবে আহতদের নাম এখনো জানা যায়নি। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

  • মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, বাথরুমে মিলল দুই শিশুর লাশ!

    মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা, বাথরুমে মিলল দুই শিশুর লাশ!

    বিশ্বনাথে বাথরুমে রাখা দুটি বালতির ভেতর থেকে নাহিদ (৩) ও দেড় বছর বয়সী ওয়াহিদ নামে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে নিহতদের মা রনি বেগম স্যাভলন খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

    নিহতরা উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের কোনাউরা নোয়াগাঁও গ্রামের কবির মিয়া ও রনি বেগম দম্পতির সন্তান।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য চমক আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে শিশুদের মা-ই তাদেরকে হত্যা করতে পারে বলে ধারণা করছি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করেছে।

    এব্যাপারে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, লাশ দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে মা-ই সন্তান দুটিকে হত্যা করেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।

  • কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    কর্তৃপক্ষের ভুলে বিশ্বনাথে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত দুই ছাত্র

    সিলেটের বিশ্বনাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক গাফিলতির কারণে ১লা ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠেয় দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না দুই ছাত্র। কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন নামের এই দুই ছাত্র উপজেলার তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসা থেকে এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার কথা ছিল।

    দু’ছাত্রের পরীক্ষা অনিশ্চিতের খবর ছড়ানোর পর মঙ্গলবার সকালে রীতিমত তুলকালাম কাণ্ড ঘটে তেলিকোনা এলাহাবাদ আলিম মাদরাসায়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে প্রহৃত হন অফিস সহকারী দিলহুর আলম। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন এলাকাবাসীও। পরে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মাদরাসার অফিস সহকারীকে। এছাড়া, ঘটনার তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

    জানা যায়, ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্যে রেজিস্ট্রেশন করে উপজেলার তেলিকোনা আলিম মাদরাসার ৬২ শিক্ষার্থী। তারা যথারীতি প্রি-টেস্ট ও টেস্টেও অংশ নেয়। গত ২৯ জানুয়ারী সোমবার ৬০ জন শিক্ষার্থীর এডমিট কার্ড এলেও সেটা পাননি দাখিল পরীক্ষার্থী উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের হাজী জমশিদ আলীর পুত্র কামরান আহমদ ও সিলেটের খাদিমনগর নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুন নুরের পুত্র আবদুল গাফ্ফার লিমন। মঙ্গলবার সকালে মাদরাসায় এসে তারা এ বিষয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অফিস সহকারী দিলহুর আলমের কাছে এর কারণ জানতে চান। এসময় তিনি কোনো সদুত্তর না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার উপর চড়াও হয়।

    খবর পেয়ে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পরিস্থিতি সামাল দেন। এসময় সকলের উপস্থিতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অফিস সহকারী দিলহুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং ঘটনাটি তদন্তে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির দায়িত্বশীল মাওলানা মুখলিছুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য করা হয় ইংরেজীর প্রভাষক ফরিদুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিনকে।

    এব্যাপারে দাখিল পরীক্ষা অনিশ্চিত হওয়া দুই ছাত্র কামরান আহমদ ও আবদুল গাফ্ফার লিমন কান্নাজড়িত কন্ঠে  জানান, তারা যথাক্রমে
    ৩৮০০টাকা ও ৩০০০টাকা দিয়ে দাখিলের রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে, সে সময় শুধুমাত্র তাদের ছবি নেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের দস্তখত নেয়া হয়নি।

    অফিস সহকারী দিলহুর আলম নিজেই সব পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ফরমে ডান হাতে বাম হাতে দস্তখত করেন। এছাড়াও, কামরান ও লিমন সব পরীক্ষার্থীর সাথে
    প্রি-টেস্ট ও টেস্টে অংশ নেন। অথচ, সোমবার অন্যদের এডমিট কার্ড এলেও তাদের এডমিট কার্ড আসেনি। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে রেজিস্ট্রেশনই হয়নি। এসময়
    তারা দিলহুর আলমের বিরুদ্ধে বৃত্তির টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেন।

    এদিকে অভিযুক্ত অফিস সহকারী দিলহুর আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৬২ জনের
    ছবি ও টাকা নেয়া হলেও ৬০ জনের রেজিস্ট্রেশন কেন কেন্দ্রে পাঠানো হল-এমন প্রশ্নের কোনো উত্তরই দিতে পারেননি দিলহুর আলম। তবে বিষয়টি মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শ্রেণিশিক্ষকরা জানেন বলে তিনি জানান।

    মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহির মো. হুসাইন ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, অফিস সহকারীর ভুলের কারণেই এমনটি ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ দুই ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের সাথে আমরা কথা বলে একটা সমাধানের চেষ্টা করছি।

    খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, দু’ছাত্রের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হওয়াটা দুঃখজনক। এর দায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের। আমরা বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। সকলের সাথে কথা বলেছি। একটা সুষ্ঠু সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।

    এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বিষয়টি দেখার জন্যে এখনই উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিচ্ছি। এ ঘটনায়
    দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বাবা হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে জান্নাত

    বাবা হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে জান্নাত

    চলতি মাসের শুরুর দিকে খুন হন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমু। তার একমাত্র সন্তান মেহের নিগার খান জান্নাত। প্রায় চার বয়সী এই ছোট্ট শিশুটি বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চেয়ে দাঁড়াল রাজপথে। আজ সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্মুখে শিমু হত্যার বিচার চেয়ে তার পরিবার ও স্বজনদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    মানববন্ধনে চোখে-মুখে বোবা কান্না নিয়ে এক আত্মীয়ের কোলে বসেছিল মেহের নিগার খান জান্নাত। তার সামনে প্ল্যাকার্ডে লিখা ছিল, ‘আমার আব্বুর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’। মানববন্ধনে আসা এবং সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়া জনসাধারণের মনকে যেন বিষাদময় করে তুলেছিল জান্নাত।
    এদিকে, মানববন্ধনে শিমুর সকল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি চেয়ে বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সহ-সভাপতি কামরুল হুদা জায়গীরদার, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন রানু প্রমুখ।

  • অ্যাকশনে মেয়র আরিফ, ‘ধরলেই’ খরচ ১০ গুণ

    সিলেট সিটি করপোরেশন(সিসিক) নির্বাচনের আগে নগরীকে জলাবদ্ধমুক্ত করতে ছড়া-খাল দখলমুক্তকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রেখে ভোট দিয়েছিলেন নগরবাসী। মেয়রের চেয়ারে বসে ছড়া-খাল দখলমুক্ত করতে অভিযানও শুরু করেছিলেন আরিফ। কিন্তু কিবরিয়া হত্যা মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারান্তরীণ থাকায় থমকে গিয়েছিল সে অভিযান। তবে এ সময়ের মধ্যে নগরীর ছড়া-খাল রক্ষায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ২৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্প পাস হয় একনেকে।

    গেল বছরের জানুয়ারিতে আরিফ কারামুক্ত হওয়ার পর ছড়া-খাল উদ্ধার বা দখলমুক্তকরণের দিকে তেমন মনোযোগ দেননি। তবে সিটি নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ছড়া-খাল দখলমুক্ত করতে এবার জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন তিনি, দিয়েছেন হুঁশিয়ারিও।

    সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যে বা যারা নগরীর ছড়া-খাল দখল করে রেখেছেন, ছড়া-খালের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তাদেরকে এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে।

    আরিফ বলছেন, ‘ছড়া-খালের মধ্যে নির্মিত স্থাপনা যদি দখলদাররা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেন, তবে তাদেরকে বাড়তি ব্যয় বইতে হবে না। স্থাপনা ভাঙতে নিতে যা ব্যয় হয়, তা-ই বহন করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা না ভাঙেন, তবে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে সেগুলো ভাঙবে। এক্ষেত্রে দখলদারকে নিজে ভাঙলে যে খরচ করতে হতো, তার ১০ গুণ বেশি খরচ বহন করতে হবে।’

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর ছড়া-খাল উদ্ধারে ২০০৯ সালে ১১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সিসিক। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ২০ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এ উভয় প্রকল্পেই উপকার হয়নি তেমন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নগরীর ছড়া ও খাল উদ্ধারের জন্য ২৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে সরকার থেকে বরাদ্দ ২০০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং বাকি ৩৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা সিসিকের নিজস্ব তহবিলের। সম্প্রতি এ প্রকল্পের জন্য দুটি দরপত্র আহ্বান করে সিসিক। এর একটি ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছড়া-খাল খনন, অপরটি ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছড়া-খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। আগামী বছরের শেষ সময় পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।

    এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সিলেট নগরীর মালনী ছড়া, গোয়ালী ছড়া, গাভীয়ার খাল, মুগনী ছড়া, কালীবাড়ী ছড়া, হলদি ছড়া, যুগনী ছড়া, ধোপা ছড়া, বুবি ছড়া, বাবু ছড়া, রত্নার খাল, জৈন্তার খাল ও বসুর খাল। এসব ছড়া ও খালে ২৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, পাঁচ কিলোমিটার ইউটাইপ ড্রেন ও সাড়ে তিন কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ১০ কিলোমিটার ছড়া ও খাল খনন করা হবে।

    সিসিকের প্রকৌশল শাখার তথ্যানুসারে, নগরীর ১৩টি ছড়া ও খাল দখল করে এক হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বাসা-বাড়ি, বহুতল ভবন, কমিউনিটি সেন্টার, ক্লিনিক, বিপণিবিতান প্রভৃতি। খোদ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির কিছু অংশ নির্মাণ করা হয়েছে ছড়ার ওপর!

    মেয়র আরিফ বলছেন, নগরীর ছড়া ও খাল দখলমুক্ত করা হবে। এজন্য এগুলোর প্রকৃত গতিপথ নির্ণয় করা প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ‘‘অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ছড়া ও খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা ছড়া ও খালের গতিপথ নির্ণয় করব। এজন্য মালিকপক্ষের একজন ও সিটি করপোরেশনের একজন রেখে ছাপ্পান্ন’র সেটেলম্যান্ট ম্যাপ অনুসারে যৌথ জরিপ করা হবে। ছড়ার উৎপত্তিস্থল থেকে নদীমুখ পর্যন্ত কাজ হবে। ২৩৬ কোটি টাকার যে প্রকল্প, তার আওতায় কাজ চলবে।’’

    মেয়র জানান, ছড়া ও খাল দখল করে নির্মিত স্থাপনার মালিকপক্ষকে সেগুলো ভাঙতে প্রথমে নোটিশ দেয়া হবে। তারা সেটি না করলে সিসিক ভাঙার পদক্ষেপ নেবে। তবে সিসিক ভাঙলে ১০ গুণ বেশি খরচ দিতে হবে।

  • ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড আটক

    ছাত্রলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড আটক

    সিলেটের টিলাগড় এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খাঁন খুনের ঘটনায় ফাইটার খ্যাত ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন ডায়মন্ডকে আটক করেছে পুলিশ।

    সোমবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিলাগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

    শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বলেন, তানিম খুনের ঘটনায় ডায়মন্ডসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।

    আটক অন্যরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা ও সিসিক কাউন্সিলার আজুদর রহমান আজাদের অনুসারি, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরী গ্রুপের ছাত্রলীগকর্মী রুহেল আহমদ, জাকির আহমদ ও সৈয়দ আবিদ আহমদ। রবিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

    বিভিন্ন সূত্র জানায়, ‘ফাইটার’ ডায়মন্ড জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আসেন ডায়মন্ড।

    অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে রবিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে টিলাগড় পয়েন্টে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তানিম আহমদ খাঁন। তিনি ওসমানীনগর উপজেলার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের ইসরাইল খাঁনের ছেলে।

    এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। সোমবার বিকেল ৪টায় নিজ বুরুঙ্গায় তার জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তানিমকে দাফন করা হবে।

  • পরীক্ষায় মেয়ে দ্বিতীয় হওয়ায় শিক্ষক পেটালেন বাবা!

    পরীক্ষায় মেয়ে দ্বিতীয় হওয়ায় শিক্ষক পেটালেন বাবা!

    সিলেটে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী বার্ষিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান পাওয়ায় এক শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন মেয়েটির বাবা। সোমবার জকিগঞ্জ উপজেলার গোটারগ্রাম ত্রিমোহনীতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    জানা যায়, স্থানীয় হাড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী নাঈমা হক লস্করের রোল ছিল এক। গেল বার্ষিক পরীক্ষায় সে দ্বিতীয় হয়। এ নিয়ে গত রবিবার তার বাবা বদরুল হক লস্কর বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের প্রতি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ বিষয়ে গত সোমবার শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমদ লস্করের কাছে বিচার দেন। তখন সেখানে থাকা বদরুল হক লস্কর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সালমান শিব্বিরকে পিটিয়ে আহত করেন।

    সহকারী শিক্ষক আবু সালমান শিব্বির বলেন, জনসম্মুখে আমাকে পিটুনি দিয়েছেন বদরুল হক লস্কর। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি চেষ্টা করছে।

    অভিযুক্ত বদরুল হক লস্কর বলেন, আমি বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান নিয়ে কথা বললে ওই শিক্ষক আমার উপর রাগান্বিত হয়ে খারাপ আচরণ করেন। তিনি আমাকে ঘুষি মারলে আমিও শিক্ষককে পাল্টা জবাব দেই।

    হাড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলম বলেন, শিক্ষক আবু সালমান শিব্বির জনসম্মুখে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনা দুঃখজনক।

    জকিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুস শহীদ তাপাদার বলেন, আমরা শিক্ষকের উপর নির্যাতনকারী অভিভাবকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

    জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি অফিসের কাজে ঢাকায় রয়েছি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন এলাকার বিশিষ্টজনরা। সম্মানজনকভাবে সমাধান না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হামলায় আহত এমপি কেয়া চৌধুরী ওসমানীর আইসিউতে ভর্তি

    হবিগঞ্জের বাহুবলে নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুন কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী উপর হামলা চালিয়েছে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক তারার মিয়া ও তার লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মীরপুরে বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরনীয় অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার নেতৃত্বে তার লোকজন এমপি কেয়া চৌধুরী উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়।

    আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইমন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পরে পুলিশসহ স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। এখন এমপি কেয়া চৌধুরীকে ওসমানীর আইসিউতে রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

    নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জের মিরপুরে বেদে পল্লীতে সংসদ সদস্যের বেদে সম্প্রদায়ের মধ্যে চেক বিতরণে অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগেরর সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়ার লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

    তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে তিনি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে থাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেলে চিকিৎসা জন্য প্রেরণ করা হয়।

    এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক হামদুল করিম বলেন, মিরপুরে বেদে পল্লীর লোকজনকে নিয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুসরাত আরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে কি কারণে ঘটেছে তিনি কিছু জানতে পারেননি।

    এদিকে এমপি কেয়া চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে তার শুভাকাক্ষীরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান তারা মিয়া বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে একটি ছেলে মোবাইলে ছবি ধারণ করছিল। এ সময় সংসদ সদস্যের লোকজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ উত্তেজিত হয়ে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।