Category: আইটি টেক

  • সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যুর সাথে সাথে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তার ফেসবুক আইডিটি

    সাংবাদিক শিরিনের মৃত্যুর সাথে সাথে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তার ফেসবুক আইডিটি

    নিউজ ডেস্ক ::

    বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার ঔষধ ব্যাবষায়ী শিরিন মেডিকেল হলের মালিক সাংবাদিক শিরিন আজ রবিবার রাত  ১০ টার দিকে মারা যান। দোকানের সামনে অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিমে) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের সন্দেহ হলে লাশটি সুরাতাল রিপোর্টের জন্য আটকে রাখেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম হাসপাতালের পুলিশের ইনচার্জ এসআই নাজমুল হুদা।

    নিহত শিরিন আক্তার (৩৪) নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার হুমায়ুনের স্ত্রী। জানা গেছে, তার নিজের মেডিসিনের দোকানে বিসাক্ত ইনকেশন পুস করে মৃত্যু হয়েছে।

    মৃত্যুর আগে তিনি তার ফেসবুক থেকে পর পর দুটি লাইভ করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পর তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি ( sherin khanom) কিছুক্ষন দেখা গেলেও পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

    একটি সুত্র বলছে, তার ফেসবুক লাইভে এসে যে কথপোকথন তাতে স্থানীয়  ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ কয়েক ব্যবসায়ী ফেসে যেতে পারে। তাই তার ফেসবুক আইডি বন্ধ করে সেই কথপোকথন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

    অনেকের ধারণা শিরিনের মৃত্যুর সাথে সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেউ নিয়ে ফেসবুক আইডি টি বন্ধ করে দিয়েছে।

  • ভিপি নুরের ফেসবুক আইডি হ্যাক

    ভিপি নুরের ফেসবুক আইডি হ্যাক

    অনলাইন ডেস্ক:

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরের ফেসবুক আইডি ও পেজ হ্যাক হয়েছে।

    বুধবার ভোর থেকে নুর তার আইডিটি ব্যবহার করতে পারছেন না। ভিপি নুর আইডি হ্যাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নুর বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা দীর্ঘদিন ধরে তার আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করছিল। আজ ভোর থেকে আইডিতে ঢুকতে পারছি না। আইডির ইমেইল এবং ফোন নম্বর বদলে ফেলা হয়েছে। পেজটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নেব।

    তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ আমাদের আইডি হ্যাক করেছিল। তারাই এটা করে থাকতে পারে। এর আগে কোটা আন্দোলনের সংগঠক মশিউর ও বিন ইয়ামীন মোল্লার আইডি হ্যাক হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমার আইডি হ্যাক করা হয়েছে।

    নুর বলেন, আমরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে ও অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলি। এধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি শ্রেণি আমাদেরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু তাদের এ ঘৃণ্য চেষ্টা কখনও সফল হবে না।

    তিনি আইডি হ্যাকের প্রেক্ষিতে অপ্রীতিকর কোনো কিছুর জন্য বিব্রত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

  • ভোলার এসপির ফেসবুক হ্যাকড

    ভোলার এসপির ফেসবুক হ্যাকড

    ভোলা প্রতিনিধি//মো:নিশাত ::

     

    ভোলা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মোহাম্মদ কায়সারের ফেসবুক আইডি হ্যাকড হয়েছে। জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সহিংসতার দুদিন পর এসপির আইডি হ্যাকড হওয়ার ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় এসপি ভোলা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

    বোরহানউদ্দিনে সহিংসতার ঘটনার মূল কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, এক সংখ্যালঘু ব্যক্তির হ্যাকড আইডি থেকে সহিংসতার সূত্রপাত।

    তাই এসপির আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া প্রশাসন ‘তৌহিদী জনতার’ যে ছয়টি দাবি মেনে নিয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে জেলার এসপিকে প্রত্যাহার।

    বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামে এক ব্যক্তির হ্যাকড হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আল্লাহ ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বার্তা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গত রোববার (২০ অক্টোবর) বোরহানউদ্দিন উপজেলা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। এতে চারজন নিহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) মোতায়েন করা হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার তাঁর আইডি হ্যাকড হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে জিডি করেন। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনায়েত হোসেন।

    এদিকে হেফাজতের ডাকে আজ বিকেল চারটায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভোলা শহরের হাটখোলা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরে প্রদক্ষিণ করবে। এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে ভোলা শহরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মহড়া দিচ্ছেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন বলেন, শহরে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের জন্য নেতা–কর্মীরা অবস্থান করছেন।

    এর আগে সংঘর্ষের ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র ছয় দফা দাবি মেনে নেয় প্রশাসন। দাবি মেনে নেওয়ায় ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদের’ ব্যানারে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সমাবেশ বাতিল করা হয়।

    ছয় দফা দাবি হলো
    ১. জেলা ও থানা থেকে এসপি এবং ওসিদের প্রত্যাহার করতে হবে

    ২. ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দিতে হবে

    ৩. আহত লোকজনের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে

    ৪. নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে

    ৫. অভিযুক্ত বিপ্লব চন্দ্র শুভর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের ফাঁসি দিতে হবে এবং

    ৬. গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে

  • আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    আবরার হত্যার আগে থেকেই ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ ছিল বুয়েট ছাত্রলীগের

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে মেরে হল থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশ দেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিন।

    আবরারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার একদিন আগে (৫ অক্টোবর) শেরে বাংলা হলের ১৬তম ব্যাচের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এ নির্দেশ দেন তিনি।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা ফেসবুক গ্রুপে ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৭ মিনিটে এ নির্দেশ দেন তিনি।

    ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ নামে ওই ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আবরারকে মেরে বের করে দেয়ার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    গ্রুপটি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হলের ১৫ ও ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    জাগো নিউজের হাতে এ রকম কথোপথনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের চারটি স্কিনশর্ট এসেছে। ওই ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে নেতাকর্মীদের কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে ১৬তম ব্যাচের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মেহেদি হাসান রবিন লিখেন, ‘১৭ এর আবরার ফাহাদ; ১৬তম ব্যাচকে ম্যানশন করে লিখেন, মেরে হল থেকে বের করে দিবি দ্রুত@১৬; এর আগেও বলছিলাম; তোদের তো দেখি কোনো বিগারই নাই; শিবির চেক দিতে বলছিলাম; দুইদিন সময় দিলাম।’

    abrar-11

    রবিন ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে আরও লিখেন, ‘দরকারে ১৬ ব্যাচের মনিরের সঙ্গে কথা বলিস। ও আরো কিছু ইনফো দিবে শিবির ইনভলমেন্টের ব্যাপারে।’

    ‘ওকে ভাই’ জবাব দেন ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির।

    রবিনের নির্দেশ পাওয়া পরদিন রোববার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৫২ মিনিটে মনির গ্রুপে লিখেন, ‘নিচে নাম সবাই’। এখানে উল্লেখ্য যে, মিজান আবরারের রুমমেট। এ ধরনের কথোপকথনের সূত্র ধরে মিজানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

    ওই কথোপকথনের পরপরই রাত ৮টা ১৩ মিনিটে আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় তানিম, বিল্লাহ, অভি, সাইফুল, রবিন, জিওন, অনিক। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর শেরেবাংলা হলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে যা ধরা পড়েছে।

    এরপর রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে ‘এসবিএইচএসএল ১৬+১৭’ গ্রুপে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা লিখেন, ‘আবরার ফাহাদ কি হলে আছে?’ জবাবে শামসুল ও সজিব জানান, ‘২০১১ তে আছে।’ জানা গেছে ২০১১ কক্ষটি অমিত সাহার।

    ম্যাসেঞ্জারে অন্য আরেকটি ব্যক্তিগত কথোকথন পাওয়া গেছে, যা ছিল অমিত সাহা ও ইফতি মোশাররফ সকালের মধ্যে। এতে অমিত সাহা লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদ রে ধরছিলি তোরা’। ইফতি জবাবে লেখেন, হ। পুনরায় অমিত প্রশ্ন করেন ‘বের করছস?’ জবাবে ইফতি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘কী? হল থেকে নাকি স্বীকারোক্তি?’ এবার অমিত লিখেন, ‘স্বীকার করলে তো বের করা উচিত।’

    এরপর ইফতি জবাবে বলেন, ‘মরে যাচ্ছে; মাইর বেশি হয়ে গেছে’ জবাবে অমিত সাহা লিখেন, ‘ওওও. বাট তাকে তো লিগ্যাললি বের করা যায়’ এরপর একটি ইমোজি সেন্ড করেন ইফতি। পরবর্তীতে এই দুজনের আর কোনো কথোকথন পাওয়া যায়নি।

    abrar-22

    ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে কথোপকথনের প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমরা হত্যা সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছি। কথোপকথনের বিষয়টিও যাচাই-বাছাই চলছে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে হয়তো অমিত সাহা উপস্থিত ছিল না। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে আবরার হত্যায় তার প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও পরোক্ষ দায়-দায়িত্ব রয়েছে। তদন্ত, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তা উঠে এসেছে।

    তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বলতে পারি, অপরাধের সাথে জড়িত কেউ ঘটনাস্থলে থেকেও করতে পারে আবার ঘটনাস্থলে না থেকেও করতে পারে। অনেক ঘটনায় দেখা গেছে ঘটনাস্থলে না থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এক্ষেত্রে তেমনই কিছু ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যায় জড়িতরা কে, কি নামে, কোন দলের তা দেখা হবে না। আইনে সুযোগও নেই। কারো সামাজিক অবস্থানও তদন্তে আমলে নেয়া হচ্ছে না। ডিবি পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করছে।

    আবরারের বাবার এজাহার দায়েরের আগেই ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৯ জনের নামে মামলা করার পর আদালতে সোপর্দ করে ১০ জনকে মোট পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়। এজাহারের পর খুবই দ্রুততার সাথে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মোট ১৬ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১২ জন হচ্ছেন- মেহেদী হাসান রাসেল, মো. অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মো. মেহেদী হাসান রবিন, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মো. মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. মনিরুজ্জামান মনির, মো. আকাশ হোসেন ও হোসেন মোহাম্মদ তোহা।

    গ্রেফতারদের মধ্যে এজাহারবহির্ভূত চারজন হলেন- ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও শামসুল আরেফিন রাফাত।। প্রাথমিক তদন্তে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

  • আমাকে মেরে ফেলুন, বাবা-মা একবারেই কষ্ট পাবে : আবরারের ভাই

    আমাকে মেরে ফেলুন, বাবা-মা একবারেই কষ্ট পাবে : আবরারের ভাই

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজকে মারধর করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ফায়াজ।

    বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে যান বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

    সেখানে ভিসিকে বাধা দেয় গ্রামবাসী। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, তার ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী ও আরও একজন নারী আহত হন।

    এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আজকে Additional SP (উনি বলেন ওনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পান আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবিকে মারছেন? নারীদের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেন আপনারা? এই চাটুকারদের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২ মিনিটের মধ্যে জানাজা শেষ করতে বলেছেন কিভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে, আপনার আরেক ছেলে ঢাকা থাকে, আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক। আজ বলেছেন কেউ কিছু করলে এক সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে। বিচার চাই, আমি বিচার চাই…নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন। বাবা মা কষ্ট একবারে পাবে।’

    স্থানীয় সূত্র জানায়, বুয়েট ভিসি আবরারের কবর জিয়ারত করতে পেরেছেন। তবে আবরারের বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। আবরারের ভাই ও বাবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হন উপাচার্য। তাদের জিজ্ঞাসা ছিল, উপাচার্য কেন ওই হত্যাকাণ্ডের পরপর সেখানে উপস্থিত হননি। এখন কেন এসেছেন?

    এ অবস্থায় আবরারের বাড়িতে ঢোকার সময় উপাচার্যকে বাধা দেয় গ্রামবাসী। আবরারের বাড়ি ঢোকার মুখে ভিসির গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন নারীরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে আবরারের ছোট ভাই আবরার ফায়াজসহ পাঁচজন আহত হন।

    রায়ডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে আবরারের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল ভিসির। এ খবরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আবরারের বাড়ির পাশে ও কবরের আশপাশ এলাকায় অসংখ্য র্যাব ও পুলিশ অবস্থান নেয়।

    গত রোববার রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। এরপর তাকে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

  • আবরার ফাহাদের সেই স্টেটাস ফেসবুকে ভাইরাল

    আবরার ফাহাদের সেই স্টেটাস ফেসবুকে ভাইরাল

    বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের ফেসবুকে দেয়া যে স্ট্যাটাসের কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে সেটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার আলোচিত স্ট্যাটাসটি ৫৬ হাজার শেয়ার হয়েছে।

    এতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ২ লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের সংখ্যা।

    ফাহাদের সেই স্ট্যাটাস-
    ‘‘১. ৪৭-এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিল। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

    ২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চায় না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউসেক মিটার পানি দেব।’

    ৩. ভারতকে গ্যাস দেয়ার সমালোচনা করে বুয়েটের এই শিক্ষার্থী লেখেন, ‘কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রফতানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দেব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

    হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
    ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
    এ জীবন মন সকলি দাও,
    তার মত সুখ কোথাও কি আছে
    আপনার কথা ভুলিয়া যাও।’’

    প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

  • ঝালকাঠির সকল ফেইসবুক আইডি সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরে থাকবে

    ঝালকাঠির সকল ফেইসবুক আইডি সার্বক্ষণিক পুলিশের নজরে থাকবে

    জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে একান্ত আলাপকালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক বলেন, ঝালকাঠিতে যত ফেইসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে প্রত্যেকের ID সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারীতে রাখতে হবে। প্রত্যেকের পোষ্ট, কমেন্ট, লাইক এবং শেয়ার ফলো করার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন তিনি। এসময় পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, আরো আগ থেকেই জেলা পুলিশের আইটি বিভাগ এবিষয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির ক্ষতি হয় এমন বিষয়ে গুজব ছড়ানো, সরকার বিরোধী লেখা, জাতির জনক ও প্রধানমন্ত্রীর বিরদ্ধে অপপ্রচার চালানো ফেইবুকারদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে। বর্তমান সরকার প্রযুক্তিগত বিষয়ে দেশের মানুষকে যত সুবিধা দিয়েছে তার যেন কেউ অপব্যবহার না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    সরকারী সফরে গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ঝালকাঠি আসেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক। রাত ১০ টার কিছু আগে তিনি সার্কিট হাউসে পৌছলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন জেলা প্রশাসক জোহর আলী ও পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগ পৃথকভাবে প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান।

  • জয়ের ভুয়া অ্যাকাউন্টের জোয়ার ফেসবুকে

    জয়ের ভুয়া অ্যাকাউন্টের জোয়ার ফেসবুকে

    বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার একদিনের মধ্যে আল নাহিয়ান খান জয়ের অর্ধ শতাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জয়।

    দায়িত্ব পাওয়ার আগে আল নাহিয়ান খান জয় নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চালাতেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার একদিনের মধ্যে বানের জলের মতো ফেক আইডি খোলা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টে কোনোটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, কোনোটায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছবি আবার কোনটায় আল নাহিয়ানের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

    এ সম্পর্কে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘এসব ফেক আইডিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমার নামে একটিই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে যেটা এরই মধ্যে সবাই জানে। নতুন করে যেসব আইডি খোলা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে সবাইকে রিপোর্ট করুন। কোনো আইডি থেকে আমার নামে কোনো প্রচারণা চালালে সেগুলোতে সাড়া দেবেন না।’

  • কোটি টাকা লেনদেন, এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    কোটি টাকা লেনদেন, এবার প্রক্টর-ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    এবার ফাঁস হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতার ফোনালাপের অডিও। একের পর এক অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

    কোটি টাকা লেনদেন নিয়ে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁসের কয়েক ঘণ্টা পরই নতুন এ অডিও ফাঁস হয়।

    প্রক্টরের ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর। হামজা নিজেই এ ফোনালাপ ফাঁস করেন। ফোনালাপের একপর্যায়ে অন্তর বলেন, ‘টাকার কথা এখন টক অব দ্য টাউন। এটা তো অস্বীকার করার কিছু নাই স্যার।’

    ছাত্রলীগের পদ হারানোর আগে অন্তরের মোবাইল ফোন দিয়ে টাকা লেনদেনের খবর নিয়েছিলেন রাব্বানী। টাকার বিষয়ে জানতেই প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলমকে ফোন করেন অন্তর। তাদের ফোনালাপেও টাকা লেনদেনের তথ্য ওঠে আসে। লেনদেনের অডিও ভাইরালের পর জাবি ছাত্রলীগের এই নেতা খোলা চিঠিও দিয়েছেন।

    কথোপকথনের সময় অন্তর দৃঢ়তার সঙ্গে প্রক্টরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত এই টাকার ভাগ পেয়েছে। এটি অস্বীকার করার কিছু নাই স্যার।

    প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম ও হামজা রহমান অন্তরের কথোপকথন নিচে উল্লেখ করা হলো :

    অন্তর : স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
    প্রক্টর : অন্তর, তুমি তোমার ফোন থেকে এমন একটা অডিও বানাইলা কেন?
    অন্তর : স্যার আমি তো কিছু জানি না।
    প্রক্টর : তোমার ফোন থেকেই তো কথা হয়েছে।
    অন্তর : কথা তো হয়েছে দুপক্ষ থেকে স্যার, আমার ফোন থেকে কিছু হয়নি স্যার, এইটা শিউর থাকেন।
    প্রক্টর : তুমিই তো কথা বললা, তোমার ফোন থেকেই তো কথা বলাই দিলা।
    অন্তর : আমার ফোন থেকে কথা হইছে, কিন্তু ওই পাশে তো রাব্বানী ভাই ছিল। এখন রেকর্ডটা কি ওই পাশ থেকে হইছে না কি গোয়েন্দা সংস্থা করছে সেটা তো আমি জানি না।

    প্রক্টর : কবে তোমার সাথে এই কথা হইছে?
    অন্তর : স্যার, পরশু দিন রাতে যখন রাব্বানী ভাইদের কমিটি ভেঙে যাচ্ছিল। তখন আমারে হঠাৎ করে ফোন দিছে রাব্বানী ভাই। তখন আমার সাথেই ছিল। তখন আমি বললাম, ভাই আমিতো বেশি কিছু জানি না, আপনি সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বলেন। পরে সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বললো। কথা বলে, আমার ফোন তো লক দেয়া আছে, আমার ফোনে তো কিছু করার সুযোগ নাই। ফোন কাটার সাথে সাথেই ফোনটা আমার হাতেই চলে আসে।

    প্রক্টর : কিন্তু তোমার ফোন থেকেই তো কথোপকথনটা হলো রাব্বানীর সাথে।
    অন্তর : স্যার, আমার ফোন থেকে কথোপকথন কিন্তু ওই পাশে তো রাব্বানী ভাই ছিলেন।

    প্রক্টর : রাব্বানীর যদি এমন রেকর্ড থাকে তাহলে এতদিন করে নাই কেন? এতদিন তোমার সাথে কথা বলে আজকে সেটা প্রকাশ করতেছে কেন? ওই দিন করতো, কালকে করতো। নিজের হাতে ক্ষমতা নাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়টাকে নষ্ট করতে চায় কেন?
    অন্তর : স্যার, আমি তো বেশিকিছু বলি নাই, আপনি হয়তো শুনেছেন। আমি ধরাই দিছি ফোনটা।
    প্রক্টর : হ্যাঁ, তুমি ধরাই দিছো ফোনটা। কিন্তু আল্টিমেটলি ফোনটা তো তোমার।
    অন্তর : স্যার, আমার ফোনে ফোন দিতে পারে না স্যার? সে আমার নেতা না?
    প্রক্টর : না, ফোন দিতেই পারে। কিন্তু এই যে গল্পগুলো; এই গল্পগুলো আগে বলেনি কেন? যদি এই গল্পগুলো থাকে?

    অন্তর : স্যার, এই গল্পগুলো তো এখন টক অব দ্য টাউন। এটা তো অস্বীকার করারও কিছু নাই স্যার। জাহাঙ্গীরনগরের এইটা তো একটা চলমান ইস্যু। আমি কি এইটা অস্বীকার করব। রাব্বানী ভাই যখন আমারে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাস করছে আমি কি অস্বীকার করব? সে আমার নেতা না?

    প্রক্টর : তুমি কি অস্বীকার করবা, তোমাকে কি অস্বীকার করতে বলছি? তোমাকে তো আমি কিছু অস্বীকার করতেই বলি নাই। তুমি স্বীকার করবা বা অস্বীকার করবা সেটা তো তোমার ব্যাপার।

    অন্তর : স্যার, আপনি তো ভালো করেই জানেন। আমি হয়তো বাইরে একরকম বলব, কিন্তু আমার ঘরে যখন কেউ জিজ্ঞাস করবে তখন তো আমি আর মিথ্যা বলব না।
    প্রক্টর : আমি তোমাকে তো সত্য-মিথ্যা বলতে বলছি না।
    অন্তর : আমার ফোন থেকে কিছু হয় নাই স্যার, এইটা শিউর থাকেন।
    প্রক্টর : কিন্তু এই যে সাদ্দাম যে কথাগুলো বলছে, এই কথাগুলো কতটুকু সত্য?
    অন্তর : স্যার, সত্য-মিথ্যার বিষয়টা তো জাস্টিফিকেশনের দায়িত্ব আমার না। রাব্বানী ভাই যদি সাদ্দাম ভাইয়ের সাথে কথা বলতো সেটাও ফাঁস হইতো। কিন্তু আমার ফোন থেকে কথা বলে ফাঁস হয়ে তো এটা কিছু হয়ে আসে না। এই জিনিসটা তো স্যার সবাই জানে, আপনিও জানেন।

    প্রক্টর : না, আমি বলি তোমাকে, ফোনটা যেহেতু তোমার। দায়টা কিন্তু তোমাকেই নিতে হবে।
    অন্তর : স্যার, ফোনালাপ ফাঁস হয় না? নির্বাচনের আগে দেখেন নাই আওয়ামী লীগ নেতাদের…
    প্রক্টর : হ্যাঁ হয়। কিন্তু যেহেতু তোমার ফোনে করছে তুমি কি দায়টা এড়াইতে পারো?
    অন্তর : স্যার, আমার কোনো দায় নাই স্যার, কারণ আমি করি নাই স্যার।
    প্রক্টর : তুমি কর নাই ঠিক আছে, কিন্তু ধর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে এত বড় ষড়যন্ত্র। ওর অস্তিত্বে টান পড়ছে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এরকম করবে সে?
    অন্তর : বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র, বিষয়টা এরকম না স্যার। ছাত্রলীগ নিয়েও তো ষড়যন্ত্র চলতেছে স্যার, গত চার-পাঁচদিন ধরে।
    প্রক্টর : এইটা তো জাহাঙ্গীরনগরের ইস্যুর সাথে না, তাদের বিরুদ্ধে তো পুরা গ্লোবাল ইস্যু আছে।
    অন্তর : স্যার, আমি জাহাঙ্গীরনগরে না পড়লেও ছাত্রলীগ করতাম। আমার কাছে ছাত্রলীগ আগে।
    প্রক্টর : সেটা তোমাকে আমি বলি নাই। ছাত্রলীগ আগে ভালো কথা। কিন্তু এখন জাহাঙ্গীরনগরে যেহেতু পড় জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগ করো।

    অন্তর : জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ তো আর জাহাঙ্গীরনগরের সাথে তৈরি হয় নাই। এইটা সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের একটা ইউনিট।
    প্রক্টর : তুমি কিন্তু উল্টা দিকে কথা বলতেছো অন্তর।
    অন্তর : না স্যার, আমি যৌক্তিক কথা বলতেছি। আমি আমার বাইরের লোক জিজ্ঞাস করলে আমি একটা কথা বলব। কিন্তু ঘরের লোক জিজ্ঞাস করলে আমি কি উল্টাপাল্টা কথা বলব? আমি কি বলব, ভাই হ্যাঁ এরকম কিছু ঘটে নাই।
    প্রক্টর : আমি তোমারে বলি, তুমি জাহাঙ্গীনগরে যদি না পড়তা, জাহাঙ্গীনগরের ছাত্রলীগ হিসেবে কিন্তু ইস্টাবলিস হতে না। জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ হিসেবেই তোমার পরিচয়।

    অন্তর : স্যার, ক্যাম্পাসের ৪৪ থেকে ৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে। আমি এটা গোপন রাখার কে স্যার?
    প্রক্টর : আচ্ছা তোমাদের কে টাকা দিলো আর কে টাকা দেয় নাই সেটা দেখার দায়িত্ব কি আমার?
    অন্তর : স্যার আমাকেও তো টাকা সাধছে, আমি তো নেই নাই স্যার।
    প্রক্টর : না তোমাকে কে সাধছে, না সাধছে সেটা তো আমি জানি না। কে দিয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নাকি?
    অন্তর : স্যার, আপনি যদি চান আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারব। ৪৪ থেকে ৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।
    প্রক্টর : আরে বাবা, এইটা নিয়ে কেন তুমি পড়ে আছো? টাকা কে দিছে, আমি তো সেটা জিজ্ঞাস করছি না।

    এদিকে এই ফোনালাপ ফাঁস করায় প্রক্টর তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর ফিরোজ-উল-আলম বলেন, অন্তরের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। আমি আসলে ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ফোন দিয়েছি। সে অভিযোগ করছে আমি হুমকি দিয়েছি। আসলে এখানে হুমকিস্বরূপ একটা শব্দও নেই। অন্তর আসলে হতাশা থেকে এমন অভিযোগ করেছে।

  • শায়েখে চরমোনাইয়ের খাদেমের ফেসবুক আইডি হ্যাক

    শায়েখে চরমোনাইয়ের খাদেমের ফেসবুক আইডি হ্যাক

    নিজস্ব প্রতিবেদক :: মুফতী ফয়জুল করীম শায়েখ চরমোনাই এর খাদেম আবু বকর সিদ্দিক এর ফেইসবুক আইডি হ্যাক করেছে একটি প্রতারক চক্র।
    শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে তার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক করে পরিচিত মহলের কাছ থেকে অর্থ দাবি করছে বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে আবু বকর সিদ্দিক বলেন আজ জুম্মার নামাজের পরে আমার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রতারক চক্র টাকা চাচ্ছে এই প্রতারকের কাছথেকে সাবধান থাকুন ।
    এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হবেও বলে জানান তিনি।