Category: আইটি টেক

  • ইন্টারনেট ডেটার দাম কমলো

    ইন্টারনেট ডেটার দাম কমলো

    গ্রাহকদের সাশ্রয়ী দামে ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম ৩৬০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। ব্যান্ডউইডথ মূল্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে কমিয়ে আনতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
    বৃহস্পতিবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাশ্রয়ী ডিজিটাল অবকাঠামো’ শীর্ষক এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

    ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের মূল্যহ্রাস বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জনবান্ধব সরকার, প্রযুক্তিবান্ধব সরকার। শিক্ষর্থীসহ সাধারণ মানুষ যেন সাশ্রয়ী খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন সে লক্ষ্যে এর আগে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৮ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের এপ্রিলে ১২ হাজার টাকা, ২০১২ সালের এপ্রিলে ৮ হাজার টাকা, ২০১৪ সালের এপ্রিলে ২ হাজার ৮০০ টাকা এবং ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৯৬০ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৩৬০ টাকায় কমিয়ে আনা হয়।

    তিনি বলেন, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি বিকাশে দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। ২০০৮ সালেও দেশে সাড়ে সাত জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে তা ১১০০ জিবিপিএসে উন্নীত হয়েছে।

    বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইন্টারনেট সংক্রান্ত সেবা সমূহের পুনঃনির্ধারিত মূল্য তালিকা:
    আইআইজি এর জন্য আইপি ট্রানজিট: ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৫০০-৯৯৯ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫০ টাকা, ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৩৫ টাকা, ব্যান্ডউইডথ এমিবিপিএস ৫০০০০+ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা। ন্যূনতম ২ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৮৫ টাকা।

    আইএসপিএর জন্য আইপি ট্রানজিট: ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস (৫-১৯) (শুধুমাত্র উপজেলা বা ইউনিয়ন হতে) এমবিপিএস প্রতি চার্জ টাকা ৪০০ টাকা। ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৭৫ টাকা। ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৪০০০০+এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩১০ টাকা। ন্যূনতম ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৯০ টাকা।

    বিটিসিএল লোকাল কনটেন্ট ট্রান্সমিশন চার্জ: সংযোগের স্থান বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা, সংযোগের স্থান ঢাকার বাইরে ট্রান্সমিশন চার্জ প্রতি এমবিপিএস ১০০ টাকা।

    শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এর জন্য: ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৫-৯৯ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩০০ টাকা। ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৭০ টাকা। ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৩০০০ এবং তদুর্ধ এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২০০ টাকা। ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ১৮০ টাকা।

    সরকারি অফিস, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট অফিস এর জন্য: ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৫-৪৯ পর্যন্ত এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৯৫ টাকা। ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ৩৫৫ টাকা। ব্যান্ডউইডথ এমবিপিএস ৩০০০+ এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২৫০ টাকা। ন্যূনতম ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে এমবিপিএস প্রতি চার্জ ২২৫ টাকা।

    ভিপিএন সেবা: সারাদেশব্যাপী এক রেট ব্যান্ডউইডথ (এমবিপিএস) ১ থেকে ৫ পর্যন্ত প্রতি এমবিপিএস ৩০০ টাকা, ব্যান্ডউইডথ (এমবিপিএস) ১০০০০ বা ততোধিক, প্রতি এমবিপিএস ৩০ টাকা।

    এছাড়া গ্রামীণ জনপদের গ্রাহকরা ওপরে বর্ণিত চার্জ থেকে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে লিনাক্স ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজেস এবং উইন্ডোজ ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজের ব্যান্ডউইডথের মূল্য হ্রাস করা হয়েছে।

  • ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন? তাহলে সাবধান

    ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন? তাহলে সাবধান

    ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ফ্রি ওয়াইফাই জোনের এতটাই চাহিদা যে রেলস্টেশন, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বহু রেস্তোরাঁ এমনকি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থাও গ্রাহক টানতে এখন এর দ্বারস্থ হয়েছে। যার ফলে, এই সব স্থানে গেলে কোন পাসওয়ার্ড ছাড়াই বিনামূল্যে ‘ওয়াইফাই’ কানেক্ট করা যায়।

    এসব ‘ওয়াইফাই’ নেটওয়ার্কের জন্য একটি ‘হটস্পট’ মেশিন লাগে। অধিকাংশ সময়ই দেখা যায় এই ‘হটস্পট’ মেশিনের ভাইরাস প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে না। ফলে, এই ‘হটস্পট’-এর সঙ্গে সংযোগ থাকা মোবাইল বা ল্যাপটপেও সেই ভাইরাস ঢুকে যায়। এরমধ্যে এমন কিছু ভাইরাস থাকে যাদের কাজ হলো ডিভাইসের ভিতর থেকে যাবতীয় তথ্য বের করে হ্যাকারকে পাঠিয়ে দেওয়া।

    অনেক সময় পাবলিক ‘ওয়াইফাই’ জোনে নানা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানো থাকে। যাতে এই ‘ওয়াইফাই’ জোনে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপগুলোকে সাবধানে ব্যবহার করার জন্য সতর্ক করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই মানুষ এইসব সাইনবোর্ডকে পাত্তা দেয়না।
    ‘ফ্রি ওয়াইফাই’ জোনে একজনের স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বা ল্যাপটপ ব্যবহারকারীর ‘ডেটা কমিউনিকেশন’ পড়ে ফেলতে পারে অন্য কেউ। এছাড়াও, কোনভাবে হ্যাকাররা যদি মোবাইলে থাকা ব্যাংকিং ডিটেলস, যেমন অ্যাকাউন্ট নাম্বার, ডেবিট কার্ড নম্বর, পিন নম্বর, ক্রেডিট কার্ড নম্বর, পিন নম্বর পেয়ে যায়, তাহলে নিঃস্ব হতে পারে ব্যবহারকারী।
    এইসব ‘ফ্রি ওয়াইফাই’ কানেকশনে কোন পাসওয়ার্ড তো থাকেই না, এমনকি এর রাউটারও অত্যন্ত নিম্নমানের হয়। ফলে, ‘ফ্রি ওয়াইফাই’-এ কানেক্ট হওয়া স্মার্টফোন খুব সহজেই হ্যাক করা যায়।

    তাই, সুরক্ষিত ‘ওয়াই-ফাই জোন’ ছাড়া কোথাও মোবাইল বা ল্যাপটপ কানেক্ট না করতেই পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • মেসেঞ্জারে হত্যার নির্দেশনা, পরিকল্পনা আগের রাতে

    মেসেঞ্জারে হত্যার নির্দেশনা, পরিকল্পনা আগের রাতে

    বরগুনায় স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পরিকল্পনা করা হয় আগের রাতেই। ‘০০৭’ নামে ফেসবুক মেসেঞ্জারের গ্রুপে এ ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়। ওই গ্রুপেই নির্দেশনা দেওয়া হয়, কে কখন কী অস্ত্র নিয়ে উপস্থিত হবে ঘটনাস্থলে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ীই পরদিন সকালে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

    ওই মেসেঞ্জার গ্রুপের কথপোকথনের কিছু স্ক্রিনশট পাওয়া গেছে। এসব স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ঘাতক রিফাত ফরায়েজী আগের দিন রাত ৮টার দিকে মেসেঞ্জার গ্রুপে 007 গ্রুপের সদস্যদের সরকারি কলেজের সামনে থাকার নির্দেশ দেন। এসময় ওই গ্রুপের ‘Mohammad’ ও ‘সাগর’ নামের দু’জন জানতে চান, তাদের কোথায় ও কখন থাকতে হবে। জবাবে রিফাত তাদের বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সকাল ৯টায় থাকতে বলেন।

    স্ক্রিনশটে আরও দেখা যায়, রিফাত মেসেঞ্জার গ্রুপে ‘দা’-এর ছবি দিয়ে বলেন, পারলে এইটা নিয়া থাইকো। তখন ‘Mohammad’ জবাব দিয়ে জানান, ‘দা’ নিয়ে হাজির থাকবেন তিনি।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ডের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এই গ্রুপের নাম রাখা হয়েছে ০০৭। মেসেঞ্জারের এই গ্রুপটির নেতৃত্বে আছেন রিফাত হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড। জানা গেছে ‘বন্ড’ অংশটি নিজের নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন নয়ন নিজেই। আর তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরায়েজী।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, কেবল মেসেঞ্জার গ্রুপ নয়, বাস্তবেও ০০৭ নামে একটি গ্যাং গ্রুপ পরিচালনা করেন নয়ন। দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি সড়ক এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছেন তারা। তাদের সংকেত ছিল ০০৭। এই সংকেত নয়ন বন্ডের মোটরসাইকেল ও বাড়ির দেয়ালেও আঁকা আছে।

    বন্ড বাহিনীর কুকীর্তি
    স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নয়নের নেতৃত্বে এই গ্রুপটি পলিটকেনিক কলেজের শিক্ষার্থীদের মেসগুলোতে নিয়মিত হানা দিত। তারা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে টাকা আদায়ত করত। এছাড়া ছিনতাইয়ের অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। ধানসিঁড়ি এলাকায় ঘুরতে যাওয়া মানুষদের কাছ থেকেও টাকা আদায়, সঙ্গে মেয়ে থাকলে জিম্মি করা ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে। বরগুনা পলিটকেনিকের কয়েকজন ছাত্র জানান, ০০৭ বন্ড বাহিনীর দাপটে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    স্থানীয়রা বলছেন, ২০১৭ সালে রাকিব নামের এক কিশোর ও পরের বছর ক্রোক এলাকার ফারুক পিয়াদার ছেলে জীবনকে কুপিয়ে জখমসহ বেশকিছু সহিংস ঘটনার সঙ্গে এই ০০৭ গ্রুপটি জড়িত। মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সঙ্গেও জড়িত গ্রুপটি। তাদের সব অপরাধে নয়ন সরাসরি অংশ না নিলেও তার নির্দেশনায় রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বে গ্রুপটির সদস্যরা খুবই সক্রিয়।

    জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাদক ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন নয়ন। পরে জামিনে ছাড়া পাওয়ার ফের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে বরগুনা সদর থানায় আটটি মামলা রয়েছে।

    ক্রোক এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, গত বছর শেষের দিকে দীঘির পাড়ের একটি মেসে হানা দিয়ে মোবাইল ও ল্যাপটপ ছিনতাই করে এ বাহিনী। তাদের ভয়ে ১৫ শিক্ষার্থী ওই মেস ছেড়ে চলে যায়। কেজিস্কুল এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা এই ০০৭ বাহিনী করে না।

    ক্রোক স্লুইজ এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত বছর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই গ্রুপকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করে এনেছিল আমার প্রতিপক্ষরা। নয়নসহ এই গ্রুপের সদস্যরা আমার ওপর হামলা করে। ওই ঘটনার বিচার এখনো পাইনি।

    স্থানীয় কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম নান্না বলেন, এই গ্রুপটির কুকীর্তির কথা এলাকার সবাই জানে। ছাত্রদের মেস থেকে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার জন্য আমার কাছে ছাত্ররা বিচার চেয়েছিল। সেই বিচারের জন্য ডাকায় বাবা দুলাল ফরাজীর সামনেই আমার ওপর হামলার চেষ্টা করে নয়ন। আমি তখনকার পুলিশ সুপারসহ সব রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই হয়নি।

    বুধবার (২৬ জুন) সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে সবার সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী বাধা দিলেও আটকাতে পারেননি হামলাকারীদের। রিফাতের পরিবারসহ স্থানীয় সবাই বলছেন, নয়ন বন্ডের নেতৃত্বে তার সহযোগীরাই রিফাতকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় নয়ন বন্ডসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন রিফাতের বাবা।

  • ফেসবুকে মিন্নির শেষ স্ট্যাটাস

    ফেসবুকে মিন্নির শেষ স্ট্যাটাস

    বরগুনায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় চলছে সারাদেশে। এ ঘটনায় চন্দন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনো নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে। নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

    আসামিরা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

    ঘটনার পর থেকে মিন্নির ফেসবুকে ঢু মারছেন অনেকেই। মিন্নির তার ফেসবুকে সর্বশেষ স্ট্যাটাস দিয়েছেন ৭ মে। সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘তোরে ভুলে যাওয়ার লাগি আমি ভালোবাসিনি সব ভেঙ্গে যাবে এভাবে ভাবতে পারিনি তুই ছাড়া কে বন্ধু হায় বুঝে আমার মোন তুই বিহনে আর এ ভুবনে আছে কে আপন???

    তার এই পোস্টটি এখন পর্যন্ত ৫শ’র অধিক শেয়ার এবং চার হাজারের বেশিজন মন্তব্য করেছেন।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

    সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তার সর্বোচ্চটা দিয়ে স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেননি। এই আক্ষেপ আর বেদনা নিয়ে বাকি জীবনটা কীভাবে পার করবেন, সেটা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না।

    তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু আমি পারিনি, আমি আমার স্বামীকে আপ্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি…। আমি চিৎকার করেছি, সবাইরে ডাকছি কেউ আমারে সাহায্যে করেনি।’

    বুধবার সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে একদল দুর্বৃত্ত হামলা করে রিফাতের ওপর। আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল। এর মধ্যেই দা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় রিফাতকে। এই ঘটনায় ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, মিন্নি অস্ত্রধারীদের হাত টেনে ধরার চেষ্টা করছেন। রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

    মিন্নির ফেসবুক স্ট্যাটাস

    এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ ঘটনার ভিডিও ধারণ করছেন, ছবি তুলছেন। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলছেন, কেউ বা চেয়ে চেয়ে দেখছেন। আর হামলাকারীরা মনের আক্রোশ মিটিয়ে চলে গেছে, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।

    এই ঘটনাটি হাইকোর্টের নজরে আনার পর উচ্চ আদালত মর্মাহত হয়েছে। কেউ এগিয়ে আসল না-এটা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দুই বিচারপতি।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বামী হারা তরুণী বলেন, ‘আমি আর আমার স্বামী কলেজে বের হই। হঠাৎ আমাদের উপর আক্রমণ করে। …আমরা কলেজ থেকে বের হবার পর প্রথমে কয়েকজন আমাদের আটকায়। সে সময় ওরা আমার স্বামীকে মারতে শুরু করে। এসময় দা টা কী কী যেন নিয়ে আসে ওরা। পরে সবাই ছেড়ে দেয়। এ সময় রিশাতত নামে একজন ছেলে রিফাতকে ধরে। পরে নয়ন ও রিফাত ফরাজী দুইজন মিলে আমার স্বামীকে কোপাতে থাকে।’ এরপর তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকালে রিফাত শরীফ মারা যান।

  • সরফরাজের হাই কাণ্ড, নেট দুনিয়ায় ট্রল

    সরফরাজের হাই কাণ্ড, নেট দুনিয়ায় ট্রল

    বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে হারের কারণে এখনো তীব্র সমালোচনার শিকার হয়ে চলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। ওই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের হাই তোলার ঘটনা নিয়েও কম তোলপাড় হয়নি।

    সরফরাজের হাই তোলার দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে জোয়ার পর তাকে নিয়ে হাস্যরসে মেতে ওঠে নেটিজেনরা। সরফরাজের হাই কাণ্ড নিয়ে মেম, ট্রলে ভরে যায় নেট দুনিয়া, যার রেশ কাটার আগেই তাকে নিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে কার্টুন!

    ভারতের আয়ুর্বেদিক হেলথকেয়ার সংস্থা ডাবর ইন্ডিয়া লিমিটেড সম্প্রতি ফেসবুকে তাদের অফিসিয়াল পেজে একটি ছবি পোস্ট করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ডাবরের একটি কফ সিরাপের পোস্টারে সরফরাজের হাই তোলা ছবির কার্টুন আঁকা হয়েছে।

    সরফরাজের হাই তোলা ছবিটির পাশে সিরাপের ছবি দিয়ে লেখা হয়েছে, অসময়ে ঝিমিয়ে পড়লে বড় মাশুল গুণতে হয়। ছবিটির ক্যাপশনে তারা লিখেছে, ডাবরের এই সিরাপ খেলে কখনোই তন্দ্রাভাব আসবে না।

  • মোবাইলে লেনদেনে নতুন চার্জের সুযোগ নেই : বিটিআরসি

    মোবাইলে লেনদেনে নতুন চার্জের সুযোগ নেই : বিটিআরসি

    মোবাইলে আর্থিক লেনদেনে গ্রাহকদের ওপর নতুন করে চার্জ আরোপের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

    মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিটিআরসি থেকে মোবাইল অপারেটরদের বিভিন্ন সময় নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যা সমন্বিতভাবে একযোগে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা অনেক দিন থেকেই প্রয়োজন ছিল। এর অংশ হিসেবে গত ১৩ জুন ২০১৯ Directives on Mobile financial Services in Bangladesh 2019 জারি করা হয়, যা গত আগস্ট ২০১৮ থেকে ওই দিন পর্যন্ত কমিশন থেকে জারিকৃত সব নির্দেশনার একটি সংকলন।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ১৪ আগস্ট মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের জন্য Session Based USSD Pricing প্রসঙ্গে বিটিআরসি (কমিশন) থেকে Successful Revenue Generating Transaction ও Successful Non-Revenue Generating Transaction এর প্রতিটি সেশনের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল, যা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটররা গত ১০ মাস থেকে নেটওয়ার্ক অপারেটরদের প্রদান করছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটর এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের প্রতিনিধিদের সমঝোতার ভিত্তিতেই ওই মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

    বিটিআরসি জানিয়েছে, Successful Revenue Generating Transaction হলো সে সব ট্রানজেকশন, যেখানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটরদের রেভিনিউ জেনারেট হয় (যেমন- ক্যাশ আউট, ক্যাশ ইন প্রভৃতি) ও Successful Non-Revenue Generating Transaction হলো সে সব ট্রানজেকশন যেখানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটরদের রেভিনিউ জেনারেট হয় না (যেমন- ব্যালান্স চেক, পিন নম্বর পরিবর্তন প্রভৃতি)। উভয়ক্ষেত্রে আরোপিত প্রতি সেশনের মূল্য মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার জন্য মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অপারেটরদের ওপর প্রযোজ্য হচ্ছে।

    বিটিআরসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহক কোনো ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

  • বাড়ছে মোবাইল খরচ, দুশ্চিন্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

    বাড়ছে মোবাইল খরচ, দুশ্চিন্তায় নিম্ন আয়ের মানুষ

     ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের কর প্রস্তাবে মোবাইল ফোনে সিম ও রিম কার্ডের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি সিম কার্ডের ওপর আরোপিত শুল্ক ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে।

    এর ফলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া বিভিন্ন সেবার খরচ বাড়ছে। আর গ্রাহকদের তাই এসব সেবা পেতে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হবে। যার মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

    মানুষের তাই ইন্টারনেট সেবা নেওয়া, বার্তা আদান-প্রদান, মোবাইল ফোনে কথা বলা ও আর্থিক সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়াতে হবে।

    প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলতে গ্রাহককে আরও ৫ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। অর্থাৎ আগে যেখানে ১০০ টাকায় যতটুকু কথা বলা যেত, এখন সেই একই পরিমাণ কথা বলতে গুণতে হবে ১০৫ টাকা। আগামী ১ জুলাই থেকে সম্পূরক শুল্কের এই বাজেট কার্যকর হবে।

    এছাড়াও প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোনের সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

    এখন প্রশ্ন হলো- মোবাইলে কথা বলতে ১০০ টাকায় একজন গ্রাহক তাহলে আসলে কতুটুকু ভ্যাট প্রদান করবে? মনে করিয়ে দেই, বর্তমানে মোবাইল ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এর সঙ্গে আরও ২ শতাংশ  সারচার্জ আরোপিত রয়েছে। সব মিলে এ খাতে করের হার ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকা মোবাইলে ভরলে কথা বলার সময় এ থেকে ২২ টাকা কর হিসাবে কেটে নেওয়া হয়।

    আর প্রস্তাবিত বাজেটে করের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর আরও ৫ শতাংশ  সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে এ খাতে সম্পূরক শুল্কের হার বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে। তবে ভ্যাটের হার অপরিবর্তিত রয়েছে। তাহলে সব মিলিয়ে এই খাতে মোট কর ২৭ শতাংশ হার দাঁড়াবে। অর্থাৎ এই প্রস্তাবিত কর কাঠামো বহাল থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতি ১০০ টাকায় গ্রাহককে ২৭ টাকা কর দিতে হবে। বর্তমানে গ্রাহককে ১০০ টাকায় ২২ টাকা দিতে হয়।

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সস্থার (বিটিআরসি) হিসাব অনুযায়ী,  বর্তমানে দেশে এখন কার্যকর সংযোগের দিক থেকে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৬ কোটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি সিম বা রিমে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। ইন্টারনেট সেবা নেওয়ার খরচও বাড়বে। পাশাপাশি ম্যাসেজ পাঠানোতেও বাড়তি অর্থ খরচ হবে। কেননা মোবাইল ফোনের সিম বা রিম ব্যবহার করে যেসব সেবা নেওয়া হবে সেগুলোর ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। সিম বা রিম ব্যবহার করে বর্তমানে কথা বলা, ইন্টারনেট সুবিধা নেওয়া, মেসেস  দেওয়া, আর্থিক সেবা নেওয়ার মতো কাজ করা হয়। তাই এসব খাতেও খরচ বাড়বে।

    খাত সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে যেখানে গ্রাহককে ৫০ পয়সার একটি এসএমএসের জন্য সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জসহ দিতে হতো প্রায় ৬১ পয়সা, এখন শুল্ক  বাড়ানোর কারণে সেটি দিতে হবে প্রায় ৬৪ পয়সা।

    এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক সেবার (এমএফএস) ক্ষেত্রে হিসাবের ব্যালেন্স  জানতে মোবাইল অপারেটরদের ওপর ৪০ পয়সা সার্ভিস চার্জ আরোপ করা হয়েছিল। পরে  বিটিআরসি তা প্রত্যাহার করে নেয়।

    বিটিআরসি বলছে, এক্ষেত্রে চার্জ আরোপের সুযোগ নেই। ফলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় বিকাশ, রকেট, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকের এমক্যাশ ও রূপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ইউক্যাশের মতো বিভিন্ন ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আওতায় খোলা হিসাবের ব্যালেন্স জানতে কোনো চার্জ দিতে হবে না।

  • বিশ্বের ৮৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভুয়া সংবাদের শিকার

    বিশ্বের ৮৬ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ভুয়া সংবাদের শিকার

    ভুয়া খবর ইস্যুটি বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। কয়েকদিন পর পরই ভুয়া সংবাদ আমরা দেখতে পাই। বিশেষ করে মৃত্যুর আগেই কারও মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এখন যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শুধু বাংলাদেশে নয়, ভুয়া সংবাদের জয়জয়কার বিশ্বজুড়ে।সম্প্রতি ২৫টি দেশের ২৫ হাজার মানুষকে নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল একটি মার্কিন জরিপকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল গভারন্যান্স এসোসিয়েশন (সিআইজিআই)।গত বছরের ২১ ডিসেম্বর থেকে এই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালানো সেই সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশই ভুয়া খবরের শিকার হয়ে চলেছেন। এসব খবরের বেশিরভাগই ছড়াচ্ছে ফেসবুকে। এছাড়া ইউটিউব, টুইটার এবং ব্লগেও ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে।সমীক্ষা বলছে, বেশিরভাগ ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তারপরই আছে রাশিয়া এবং চীন। ভুয়া খবরে প্রতারিত হতে হতে ইন্টারনেটের ওপরে ক্রমশ আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তার প্রভাব পড়ছে অর্থনীতি ও রাজনৈতিক চর্চায়।সরকার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর অবিলম্বে এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে সিআইজিআই। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ফেন অসলার হ্যাম্পসন বলেন, এ বছরের সমীক্ষা শুধু ইন্টারনেট কতটা ভঙ্গুর, সেই প্রশ্নটাই তুলে ধরেনি। দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো দৈনন্দিন জীবনে তথা ব্যক্তি-পরিসরে যেভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছে তা নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে আছে সাধারণ মানুষ।

  • নারীর ক্ষমতায়নে তৃনমূলে কাজ করছে “তথ্য আপা”

    নারীর ক্ষমতায়নে তৃনমূলে কাজ করছে “তথ্য আপা”

    ফয়জুননেসা খানম পিয়া, বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা। নিজের কর্মদক্ষতা ও অমায়িক ব্যবহার দিয়ে পিয়া এখন বানারীপাড়ার নারী সমাজের কাছে এক অতি “প্রিয় মুখ”। তবে ফয়জুননেসা খানম পিয়া নামে নয় এলাকায় তিনি সবার কাছে “তথ্য আপা” হিসেবে সমধিক পরিচিত ও নন্দিত। পিয়াসহ দেশের ৪৯০ টি উপজেলায় কর্মরত তথ্যসেবা কর্মকর্তাদের নিজ নামের পরিবর্তে সবাই “তথ্য আপা” নামে চেনে।

    সরকার কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০২১ ও সপ্তম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ এবং এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন দেশের সার্বিক অগ্রগতির অন্যতম শর্ত। নারীর ক্ষমতায়নে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গ্রামের অসহায়,দরিদ্র,সুবিধা বি ত কিংবা কম সুবিধা প্রাপ্ত নারীর তথ্যে প্রবেশাধিকার এবং তাদেরকে তথ্য প্রযুক্তির সেবা প্রদান নিংসন্দেহে নারীর ক্ষমতায়নকে তরান্বিত করবে।

    এ লক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় কর্তৃক “তথ্য আপা” ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পটি গৃহীত হয়। স্বাস্থ্য,শিক্ষা,কৃষি,যৌতুক ও নারী নির্যাতন,বাল্য বিবাহ,জেন্ডার সমতা,ইন্টারনেট ভিত্তিক যেকোন সেবা, চাকরীর খবর ও আবেদন সহ যেকোন বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পেতে উপজেলা তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে ফ্রি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। মাত্র কয়েক বছর আগেও প্রত্যন্ত গ্রামা লে ইন্টারনেট,কম্পিউটার ই-মেইল কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মতো সেবা গুলোর সঙ্গে এলাকার যেসব নারীদের পরিচয় ছিলনা তারাই এখন যোগাযোগের এই ডিজিটাল সেবা গুলো গ্রহন করেছেন।

    এই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের কৃতিত্ব ফয়জুননেসা খানম পিয়ার মতো সারা দেশে কর্মরত তথা আপাদের। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে নারীদের পরিচয় করিয়ে প্রযুক্তিকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করে তাদের জীবনমান আরও সহজ, সুন্দর,উন্নত ও সমৃদ্ধ করেছে সরকারের এ তথ্য আপা প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

    জাতীয় মহিলা সংস্থা দেশের গ্রামীন দরিদ্র সুবিধা বি ত ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত নারীদের সুবিধা দিতে ২০১১ সালের ৫ই জুলাই ৭টি বিভাগে নির্বাচিত ১৩টি জেলার ১৩টি উপজেলার ১৩টি তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালু করে সরকার। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ হয়।

    ২০১৭ সালে দেশজুড়ে শুরু হয় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ২০২২ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব কামরুন নাহার জানান, ইনফো লেডি বা তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের এক কোটি নারীকে ক্ষমতায়িত করা হবে। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে “ডিজিটাল বাংলাদেশ ও নারীর ক্ষমাতায়ন” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হবে। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলার ক্ষমতায়ন ‘তথা আপা’ সরকারের সফল প্রকল্পের একটি। তথ্য আপা প্রকল্পের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মিনা পারভীন জানান তৃণমূলে নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই ছিল মুলত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ তথ্য সেবা কর্মকর্তা ও দু’জন তথ্যসেবা সহকারী কর্মরত রয়েছেন।

    একজন তথ্য সেবা কর্মকর্তা তথা তথ্য আপা তথ্য কেন্দ্রে বসেন।সেখানে বসেই তিনি নারীদের বিভিন্ন তথ্য সহায়তা দেন।বাকী দু’জন তথ্যসেবা সহকারী ল্যাপটপ নিয়ে বাড়ী বাড়ী যান। তবে বানারীপাড়ায় উপজেলা তথ্য সেবা কর্মকর্তা (তথ্য আপা) ফয়জুননেসা খানম নিজেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের এ ব্যপারে উদ্বুদ্ধ করছেন।তথ্য আপা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

    শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, জেন্ডার ও আইন এই ছয়টি বিষয়ে সেবা দেয়া হয়।আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে সেবাগ্রহীতাদের নিয়ে প্রতিমাসে দু’টি করে উঠান বৈঠক করা হয়। এ উঠান বৈঠকে ইউএনও,উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারী কর্মকর্তা,আইটি বিশেষজ্ঞ,সমাজসেবী,সাংবাদিক,নারী উদ্যোক্তা,নারী আইনজ্ঞ,সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারী,ইমাম ও চিকিৎসক সহ অনেকেই অংশ নেন।

    সচেতনতামূলক এ উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে নারীরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যপারে অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। এছাড়াও কোন সমস্যা কিংবা প্রশ্ন থাকলে তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই তথ্যসেবা দেয়া হয়। তৃণমূলের নারীদের দোরগোড়ায় তথ্যসেবা পৌঁছে দেয়াই মূলত“তথ্য আপা” প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের ৪৯০টি উপজেলায় তথ্যসেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা ফয়জুননেসা খানম পিয়া জানান,ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র থেকে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে গ্রামীণ নারীদের উদ্বুদ্ধকরণ, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করা, ই-কর্মাস সহায়তা,চাকুরীর আবেদন,স্বাস্থ্য সমস্যা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ,জমিতে উপযুক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করন,বাল্য বিবাহ, ফতোয়া, কিংবা নির্যাতিত হলে কোথায় গেলে পাওয়া যাবে সঠিক সহায়তা সে বিষয়ক তথ্যসমূহ প্রদান করা হয়।

  • বাল্ক মেসেজ পাঠালে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে হোয়াটস অ্যাপ

    বাল্ক মেসেজ পাঠালে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে হোয়াটস অ্যাপ

    একসঙ্গে অনেকজনকে মেসেজ পাঠানোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হচ্ছে হোয়াটস্যাপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া খবর, প্ররোচনামূলক মেসেজ এবং স্প্যাম আটকাতেই এই পদক্ষেপ।

    হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, অ্যাপটি একসঙ্গে অনেকজনকে মেসেজ পাঠানোর উদ্দেশ্যে বানানো হয়নি। এ ছাড়াও ব্যবসায়িক স্বার্থে অটোমেটেড মেসেজ পাঠানোও নিষিদ্ধ। এ বছর ডিসেম্বর ৭ এরপর থেকে অ্যাপ-এর এই শর্তাবলী মানা না হলে ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    তাছাড়া ব্যক্তিগত ব্যবহারের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মেসেজ পাঠাতে চায় সেক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

    হোয়াটস্যাপ-এর এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে হোয়াটস্যাপ-এ যারা শর্তাবলী অমান্য করছে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস অ্যাপ-টিকে আরও উন্নত করার ব্যাপারেও কাজ করছে ফেসবুক।

    তবে ঠিক কি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু বলেনি হোয়াটসঅ্যাপ।

    প্রসঙ্গত, এ বছরের শুরুতেই হোয়াটসঅ্যাপ-এ ভুয়া খবর ছড়ানো ঠেকাতে মেসেজ ফরোয়ার্ড-এর সংখ্যা ৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়।