Category: ইসলাম

  • ট্রাম্পের উদ্দেশ্য পৃথিবী থেকে মুসলমান নিধন করা : চরমোনাই পীর

    ট্রাম্পের উদ্দেশ্য পৃথিবী থেকে মুসলমান নিধন করা : চরমোনাই পীর

    যুদ্ধ লাগিয়ে পৃথিবী থেকে মুসলমান নিধন করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি মো. সৈয়দ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

    জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিবাদে সোমবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

    জেরুজালেম মুসলমানদের রাজধানী উল্লেখ করে চরমোনাই পীর বলেন, ইহুদিরা বিশ্ব মানচিত্রে ছিলেন উদ্বাস্তু। মুসলমানরাই তাদের জায়গা দিয়েছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের ঘোষণা বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এর উচিত জবাব আমাদের দিতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ কোনো কাজের নয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেটা প্রমাণ হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনে, ইরাকে ও আফগানিস্তানে জাতিসংঘ কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

    সমাবেশ শেষে দলটির পূর্বঘোষিত ‘মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও’ করতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। যা পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে এলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এসময় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ ডিসেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার নির্দেশনা দেন চরমোনাই পীর।

  • কাকরাইলে তাবলীগের মারকাজ মসজিদে ২ গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    কাকরাইলে তাবলীগের মারকাজ মসজিদে ২ গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    রাজধানীর কাকরাইলে তাবলীগ জামাতের মারকাজ মাসজিদে মুসল্লিদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মওলানা জুবায়ের ও মওলানা ওয়াসিফুল হক গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

    পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়,  কয়েকদিন আগে মওলানা জুবায়ের পাকিস্তান যান। সেখানে তাবলীগ নেতা মওলানা আহমেদ লাটসাহেব বাংলাদেশে তাবলীগ মুসল্লিদের একটি বিশেষ বার্তা দেন। মওলানা জুবায়ের দেশে ফিরে আসার পর তিনি ওই বার্তা মুসল্লিদের কাছে জানাননি। এরইমধ্যে পাকিস্তান থেকে আহমেদ লাটসাহেব তার বার্তা অন্য মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেন। এ খবর জানাজানি হলে মওলানা জুবায়েরের বিরুদ্ধে একটি গ্রুপ সোচ্চার হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে আজ সকালে কথাকাটা, হাতাহাতি ও একপর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল হক জানান, আজ এখানে তাদের একটি শুরা মিটিং ছিলো। মিটিংয়ে মতাদর্শগত বিরোধের সূত্র ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি আরও বলেন, তাবলীগের ঊর্ধ্বতন মুরব্বিদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। বড়ধরনের কোন ঘটনা না ঘটে সেজন্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।

  • ছেলের খুনিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন বাবা!

    রায় দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন বিচারক। সকলেই জানেন, মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে।

    বা যাবজ্জীবন। থমথম করছে গোটা আদালত কক্ষ।

    সেই সময় সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে বিচারকের দিকে তাকিয়ে করজোড়ে ৬৬ বছরের আবদুল-মুনিম সোমবাত জিতমউদ বলে উঠলেন, ‘অল্প বয়সের ছেলে। ওকে ক্ষমা করে দিলাম। ইসলাম ধর্ম ক্ষমার কথাই বলে। ’

    জিতমউদের কাছে ক্ষমা চাইল অভিযুক্ত। জিতমউদ জড়িয়ে ধরলেন আসামির স্ট্যান্ডে দাঁড়ানো ট্রে আলেকজান্ডার রেলফোর্ডকে।

    চোখের পাতা ভিজে উঠল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট জজ কিমবার্লি বানেলেরও। কিছু ক্ষণের জন্য আদালত মুলতুবি ঘোষণা করে তাঁর নিজের ঘরে চলে গেলেন বিচারক বানেল।

    গোটা আদালত কক্ষে যেন তখন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে!

    পিৎজা খেতে গিয়ে আড়াই বছর আগে জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করার অভিযোগ রয়েছে ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে। রয়েছে পিৎজার দোকানে ডাকাতি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ। তদন্ত, তথ্যাদিতে তা প্রমাণিতও হয়েছে আদালতে। এত কিছুর পরেও বাবা হয়ে কীভাবেই বা তাকে বেমালুম ক্ষমা করে দিলেন জিতমউদ! আইনজীবী থেকে শুরু করে আদালত কক্ষে হাজির সকলেই মুখ চাওয়াচায়ি করতে থাকলেন।

    বিস্ময়ের আরও কিছু বাকি ছিল গত মঙ্গলবার কেনটাকির ফেয়েতে কাউন্টি সার্কিট আদালতের ওই কক্ষে হাজির সকলেরই। বিচারক, আইনজীবীরা দেখলেন, রেলফোর্ডকে ক্ষমা করে সাক্ষীর স্ট্যান্ড থেকে আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেই থেমে থাকলেন না জিতমউদ, আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরে রেলফোর্ডের কানে কানে সালাউদ্দিনের বাবা বললেন, ‘কোনও চিন্তা কোরো না। ইসলামকে স্মরণ করবে সব সময়। ’

    রেলফোর্ডের বিরুদ্ধে যে যে ধারায় অভিযোগ ছিল, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় মৃত্যুদণ্ড, না হলে ৩১ বছরের কারাদণ্ড। জিতমউদের বক্তব্য শুনে কিছু ক্ষণ পর আদালতে ফিরে এসে বিচারক বানেল ৭ বছরের কারাদণ্ড দিলেন রেলফোর্ডের।

    তার পর আসামীর স্ট্যান্ডে গিয়ে রেলফোর্ডকে আরও এক বার আবেগে জড়িয়ে ধরলেন জিতমউদ। তার পাশে গিয়ে বললেন, ‘ভাবছ কেন? সময়টা দেখতে দেখতে কেটে যাবে। এর পর তোমার জীবনটা আবার নতুন করে শুরু হবে। একেবারে অন্য ভাবে এ বার গড়ে তোল জীবনটাকে। শুধু ভাল ভাল কাজ করবে এ বার, আর সকলকে ভাল কাজ করতে উৎসাহ জোগাবে। সঠিক পথে চলবে সব সময়। ইসলামকে স্মরণ করে চলার মাধ্যমে সেটা তুমি জেল থেকেই শুরু করে দাও না। এই করতে করতে ৭ বছর পর তোমার ৩১ বছর বয়সে যখন তুমি জেল থেকে বেরিয়ে আসবে তখন জীবনটাকে সুন্দর ভাবে গড়ে তোলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে পারবে। ’

    শুনে চোখে পানি এসে গেল আসামী রেলফোর্ডের। জিতমউদ তখনও তাকে ধরে রয়েছেন বুকে। চোখের পানি মুছতে লাগল রেলফোর্ড।

    জিতমউদ তাঁর পরিবার পরিজন নিয়ে এখন থাকেন থাইল্যান্ডে। আগে অবশ্য তিনি বহু বছর কাটিয়েছেন মার্কিন মুলুকে। আমেরিকার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। প্রধান ছিলেন লেক্সিংটন ইউনিভার্সাল অ্যাকাডেমিরও।

    এই লেক্সিংটনেই একটা পিৎজার দোকান ছিল জিতমউদের ছেলে সালাউদ্দিনের। সেখানে ২২ বছর বয়সী সালাউদ্দিনকে ছুরি মেরে খুন করেছিল রেলফোর্ড। তার পর তার দোকান লুঠপাট করে ক্যাশবাক্স ভাঙচুর করেছিল, আড়াই বছর আগে।
    বিচারক রেলফোর্ডকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার পর তাকে জড়িয়ে ধরে জিতমউদ বলেছেন, ‘আমি তোমাকে দোষ দিই না। দোষ সেই শয়তানটার। যে তোমাকে ওই জঘন্য অপরাধ করতে প্ররোচনা দিয়েছিল। সেই শয়তানটা আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। আমরা কেউ কেউ তাকে বাড়াবাড়ি করতে দিই, কেউ দিই না। ’

    রায় দেওয়ার আগে বিচারক রেলফোর্ডের মা গেল কুট বার্ডের সাক্ষ্যও শুনেছেন। রেলফোর্ডের মা বলেছেন, জিতমউদ যে তাঁর ছেলেকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি তা ভাবতেও পারেননি। তিনি অভিভূত। ছেলে রেলফোর্ড যে ছোটবেলা থেকেই মাদকাসক্ত, আদালতে সে কথাও বলেন তার মা কুট বার্ড।

    জিতমউদ জানিয়েছেন, আদালত কক্ষে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি রেলফোর্ডের মা-ও। জিতমউদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য তাঁর ই-মেল অ্যাড্রেস নিয়েছেন রেলফোর্ডের মা। আর ইসলাম সম্পর্কে তিনি আরও জানতে চেয়েছেন জিতমউদের কাছে। কথা দিয়েছেন, তিনি নিয়মিত মেল পাঠাবেন জিতমউদকে, ইসলামের আদর্শ জানতে, বুঝতে।

    ৭ বছরের জন্য জেলে গেল রেলফোর্ড। তাইল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছেন জিতমউদও।
    আর জিতমউদ ও রেলফোর্ডের পরিবার পরিজনদের কাছে থেকে গেল আদালত কক্ষের বাইরে দুই পরিবারের গ্রুপ ফোটোগ্রাফ।

    ক্ষমায় এক হয়ে গেল পৃথিবীর দুই গোলার্ধের দুটি পরিবার

  • আমিরাতের ৭০ ভাগ মসজিদের দায়িত্বে বাংলাদেশিরা

    আমিরাতের ৭০ ভাগ মসজিদের দায়িত্বে বাংলাদেশিরা

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা আল বিদিয়া মাটির মসজিদ ও আবুধাবিতে নির্মিত বৃহত্তম শেখ জায়েদ মসজিদ ছাড়াও আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, আল আইন, ফুজাইরা, আজমান ও রাস আল খাইমা প্রদেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার মসজিদ রয়েছে।

    কারুকাজে নির্মিত মসজিদগুলোর সৌন্দর্য প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে পর্যটকদের। এসব মসজিদে প্রতিদিন লাখো মুসল্লিকে নামাজ পড়ান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাফেজ-ইমামরা। প্রতিটি মসজিদে আবার ইমামের সহযোগী হিসেবে রয়েছেন একজন করে মুয়াজ্জিন।

    Amirat

    আর এই ইমামদের তালিকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান কম হলেও মুয়াজ্জিন হিসেবে আমিরাতের প্রায় ৭০ ভাগ মসজিদে দায়িত্ব পালন করছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মুয়াজ্জিন হলেও তারা পান ইমামের মর্যাদা। এমনকি ইমাম পেশা রেখেই ভিসা ইস্যু করা হয় তাদের।

    এমনটাই জানান স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে দায়িত্বরত বাংলাদেশি ইমাম-মুয়াজ্জিনরা। তবে এ পেশায় আসতে হলে স্থানীয় ইসলামিক সোসাইটি ওয়কাফে জমা করতে হয় শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ, দিতে হয় দক্ষতা ও পারদর্শীতার পরীক্ষা।

    Amirat

    আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশ ঘুরে জানা গেছে, ছোট-বড় প্রায় মসজিদে এ পেশায় এশিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কদর বাংলাদেশিদের। এজন্যে সরকারি ওয়কাফের ইমাম-মুয়াজ্জিন ছাড়াও অনেক মসজিদে স্থানীয় আরবীদের অধীনে কাজ করেন বাংলাদেশি ইমাম-মুয়াজ্জিনরা।