Category: ক্রিকেট

  • ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    ইতিহাস গড়া ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

    পাকিস্তানের মাটিতে বাবর আজমদের ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। এ জয় গৌরবের, বহুল আকাঙিক্ষত ও প্রেরণার। বিজয়ী দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    রাওয়ালপিন্ডিতে ৬ উইকেটে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপর টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরার পর ক্রিকেট দলকে সংবর্ধনা দেবে সরকার।

    টেস্ট ফরম্যাটে কখনো হারাতে না পারা পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ জিতেছে লাল-সবুজের দল। টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জনের ২৪ বছর পর এই সিরিজেই এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়।

    প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটের বিশাল জয়ের পর এবার দ্বিতীয় টেস্টেও এলো অসামান্য এক জয়।

    জয়ের পরপরই টাইগার কাপ্তান শান্তকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন,জয়ের পর তিনি মঙ্গলবার বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তকে ফোন করে এ অভিনন্দন জানান। তিনি শান্ত ও গোটা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

    অভিনন্দন বার্তায় ড. ইউনূস বলেন, সরকার ও আমার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের কারণে আজ গোটা জাতি গর্বিত।

    জয়ের পরপর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফোনে করে তাকে এবং দলকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    টেস্টে বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য?

    পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয়কে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা।

    টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে কালেভদ্রে। যেটুকু সাফল্য এসেছে তার বেশিরভাগই আবার ঘরের মাঠে স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলে। তবে এবার পাকিস্তানে ঘটেছে ব্যতিক্রমী ঘটনা।

    পেস সহায়ক উইকেটেও নিজেদের জহর দেখিয়েছেন টাইগার স্পিনাররা। আবার পেসাররাও পিছিয়ে ছিলেন না। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তো পাকিস্তানের দশ উইকেটের সবকটি পেসাররাই ঝুলিতে পুরেছেন। আর ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক-লিটনরা দলকে আস্থা জুগিয়েছেন।

    সবমিলিয়ে টিম পারফরম্যান্সে বিদেশের মাটিতে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বলছে, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর তৃতীয় কোনো দেশের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ২০০৯ সালে সিরিজ জয় করেছিল বাংলাদেশ। আর জিম্বাবুয়ের মাঠে তাদের বিপক্ষে ২০২১ সালের সিরিজ জয়ের ব্যবধান ছিল ১-০। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নিরিখে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় নিশ্চিতভাবেই আগের দুই সিরিজের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবে।

  • রেকর্ড গতিতে বল করে নাহিদের চমক

    রেকর্ড গতিতে বল করে নাহিদের চমক

    বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে গতিময় বোলার এখন নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘণ্টায় ১৫২ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে এই রেকর্ডের মালিক বনে যান তিনি।

    নাহিদের আগে এই রেকর্ড ছিল আরেক পেসার রুবেল হোসেনের দখলে। ১৪৯.৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে সে রেকর্ড নিজের নামে করেছিলেন রুবেল।

    তবে ১৫০ কিলোমিটারের মাইলফলক পার করা প্রথম বাংলাদেশি পেসার নাহিদ রানা-ই। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনে এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

    আগুনে বোলিংয়ে এদিন ৪ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ। শান মাসুদ, বাবর আজম, সৌদ শাকিল ও আবরার আহমেদের উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন এই এক্সপ্রেস বোলার।

  • অনন্য নজির গড়লেন মেহেদি হাসান মিরাজ

    অনন্য নজির গড়লেন মেহেদি হাসান মিরাজ

    ক্রিকেট ইতিহাসের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে অনন্য নজির গড়লেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৩০ রানের নিচে ৮ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ফিফটি হাঁকালেন মিরাজ। শুধু তাই নয় এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নেমে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন মিরাজ। 

    এর আগে ১৯৯৮-৯৯ সালে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের মঈন খান আট নম্বরে খেলতে নেমে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোশুয়া ডি সিলভা ও ইংল্যান্ডের চার্লি অ্যাবসোলম এই পরিস্থিতিতে অর্ধশতক হাঁকান।

    তবে মঈন খান, জোশুয়া ডি সিলভা ও চার্লি অ্যাবসোলমকে ছাড়িয়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৭৮ রান করেন মিরাজ।

    পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিকদের ২৭৪ রানে অলআউট করে ব্যাটিংয়ে নেমে গতকাল কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

    আজ তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপাকে পড়ে যায়। আজ দিনের শুরুতে মাত্র ১৬ রান স্কোর বোর্ডে জমা করতেই বাংলাদেশ হারায় প্রথমসারির ৬ ব্যাটসম্যানের উইকেট। একে একে সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান, সাদমান ইসলাম অনিক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক সৌরভ, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান।

    দলের এমন কঠিন বিপর্যয়ে হাল ধরেন লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেট জুটিতে তারা ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। তাদের এই জুটিতেই বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। না হয় ৫০ রানেই অলআউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল।

    দলীয় ১৯১ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তার আগে ১২৪ বলে ১২টি চার আর এক ছক্কায় করেন ৭৮ রান। মিরাজ আউট হওয়ার ২ রান ব্যবধানে ফেরেন তাসকিন আহমেদ।

    ১৯৩ রানে ৮ উইকেট পতনের পর পেস বোলার হাসান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে ৬৯ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস। এই জুটিতেই তিনি ক্যারিয়ারের চতুর্থ  টেস্ট সেঞ্চুরি আর সবমিলে নবম সেঞ্চুরি হাঁকান।

    লিটন ২২৮ বলে ১৩টি চার আর ৪টি ছক্কার সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ১৩৮ রান করে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন। এরপর আর স্কোর বোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ফেরেন পেস বোলার নাহিদ রানা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ২৬২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

  • বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের দল ঘোষণা, নেই আফ্রিদি

    বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের দল ঘোষণা, নেই আফ্রিদি

    দুই যুগের মাথায় প্রথমবার পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০ উইকেটে ধরাশায়ী হয় পাকিস্তান। তবে একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে চায় শান মাসুদের দল।

    রাওয়ালপিন্ডিতে শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।

    এ ম্যাচ উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে ১২ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। স্কোয়াডে পরিবর্তনও এনেছে স্বাগতিকরা।

    সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের দলে নেই অন্যতম পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। প্রথম টেস্টের সময়ই বাবা হয়েছিলেন বাঁহাতি এ পেসার। যে কারণে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি খেলবেন না বলেই জানিয়েছিলেন। তাই তো তাকে বাদ দিয়েই দ্বিতীয় টেস্টের দল সাজিয়েছে পাকিস্তান।

    দ্বিতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তানের স্কোয়াড:
    আবদুল্লাহ শফিক, সাইম আইয়ুব, শান মাসুদ (অধিনায়ক), সউদ শাকিল (সহ-অধিনায়ক), বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), সালমান আলি আগা, খুররম শেহজাদ, মোহাম্মদ আলী, আবরার আহমেদ, নাসিম শাহ ও মীর হামজা।

  • ক্রিকেটে বিরল ঘটনা, ১৩৭ বলে রান ০!

    ক্রিকেটে বিরল ঘটনা, ১৩৭ বলে রান ০!

    ক্রিকেটে অনেক অদ্ভুত ঘটনারই দেখা মেলে। তবে ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ার ক্রিকেট লিগে ব্যাটার ইয়ান বেস্টউইক যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা রীতিমত অবিশ্বাস্য। নিজের দল ডার্লি অ্যাবির হয়ে ইনিংস শুরু করতে নেমে ১৩৭ বল খেলেছেন তিনি, কিন্তু এতসংখ্যক বল খেলেও রানের খাতা খোলা হয়নি তার।

    বেস্টউইকের এই অদ্ভুতুড়ে ইনিংসে ভর করে মিকলওভার ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে ড্র করেছে ডার্লি অ্যাবি ক্রিকেট ক্লাব।

    ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নামে মিকেলওভারের তৃতীয় একাদশ। তারা ৩৫ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে ২৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে ডার্লি অ্যাবি ক্রিকেট ক্লাব ৪৫ ওভারে ৪ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ২১ রান সংগ্রহ করে।`

    ইয়ান বেস্টউইক ১৩৭ বল খেলে শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। অর্থাৎ, ৪৫ ওভারের মধ্যে প্রায় ২৩ ওভার একাই ব্যাট করে কোনো রান সংগ্রহ করেননি তিনি।

    অপর ওপেনার উইলিয়াম কাটিং ১৪ বলে ৮ রান করেন। রাইলি ফিৎজপ্যাট্রিক আউট হন রানের খাতা না খুলেই। টমাস বেস্টউইক ৭১ বলের মধ্যে ৭০টিই ডট খেলেন, ১টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৪ রান। আর ৩৪ বলে কোনো রান না করে অপরাজিত ছিলেন ডার্লি অ্যাবির নিকোলাস কাটিং। ডার্লি অ্যাবির এমন রহস্যময় ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়েছে।

    তথ্যসূত্র: বিবিসি

  • পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস বাংলাদেশের

    পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের ইতিহাস বাংলাদেশের

    ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলো পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি। পাঞ্জাব প্রদেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয়ের ইতিহাস তৈরি করলো বাংলাদেশ।

    শুধু জয় বললে ভুল হবে। এই ম্যাচে তাদেরই মাটিতে পাকিস্তানকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ছেড়েছে টাইগাররা। জয়ের জন্য মাত্র ৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০ উইকেটের বিশাল জয়টি পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম।

    এর আগে ২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানের ১৩টি টেস্ট ম্যাচ খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। অবশেষে আজ রোববার ২৪ বছরের অপেক্ষা ঘুচলো বাংলাদেশের।

    এই ম্যাচে একটি দুর্দান্ত রেকর্ডও করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে টেস্টে এটিই পাকিস্তানের সর্বনিম্ম স্কোর। এর আগে ২০০৩ সালে মুলতানে টাইগারদের কাছে ১৭৫ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।

    ৩০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে থাকেন দুই টাইগার ওপেনার জাকির হাসান ও সাদমান ইসলাম। সাদমানের ৯ আর জাকিরের ১৫ রানের সুবাদে জয় অর্জিত হয় বাংলাদেশের।

    রোববার ১ উইকেটে ২৩ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। উইকেট শিকারের মাধ্যমে দিন শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদের উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। তাকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচ বানান টাইগার পেসার।

    যদিও প্রথমবারের আবেদনে আম্পায়ার মাথা নাড়িয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেন। তবে রিভিউ কথা বলে বাংলাদেশের পক্ষে। রিভিউতে দেখা যায়, হাসান মাহমুদের বাউন্সি বল শান মাসুদের ব্যাটে সামান্য স্পর্শ করেছে। ফলে ৩৭ বলে ১৪ রান করে ফেরত যেতে হয় শান মাসুদকে।

    এরপর আরও একটি উইকেট শিকারের সুযোগ মিস করে বাংলাদেশ। মাসুদ ফেরত যাওয়ার পরের ওভারেই শরীফুল ইসলামের বলে বাবর আজমের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন লিটন।

    ২৫তম ওভারের তৃতীয় বলে বাবরের লেগ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন পেসার নাহিদ রানা। বাবর ফেরেন ২২ রানে। পরের ওভারে আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ২৬তম ওভারের শেষ বলে সাকিবকে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন সৌদ শাকিল। তবে বলটি মিস করেন আগের ইনিংসে ১৪১ রান করা শাকিল। বল পেয়ে মোটেও ভুল করলেন না লিটন। দ্রুতগতিতে স্টাস্পড করেন তিনি। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরের পথে হাঁটেন শাকিল।

    ৩৩তম ওভারের শেষ বলে সাকিবকে উড়িয়ে মারতে যান আব্দুল্লাহ শফিক। ব্যাটে-বলে ভালো মতো সংযোগ ঘটাতে না পেরে মিড অফে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ হন পাকিস্তান ওপেনার (৩৭ রান)। এই ইনিংসে এটি সাকিবের দ্বিতীয় শিকার।

    পরের ওভারেই নতুন ব্যাটার সালমান আলি আগাকে (০) বোকা বানান মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজকে ঠেকাতে গিয়ে প্রথম স্লিপে সাদমানের ক্যাচ হন তিনি। এতে ১০৫ রানে ৬ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপর ১১৮ রান নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

    বিরতি থেকে আসার পর শাহিন শাহ আফ্রিদির (১৬ বলে ২) উইকেট তুলে নেন মিরাজ। এরপর নাসিম শাহকে (২২ বলে ৩) নিজের তৃতীয় শিকার বানান সাকিব।

    এরপর বাংলাদেশের সামনে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান মোহাম্মদ রিজওয়ান। খুররম শেহজাদকে নিয়ে ২৪ রানের জুটি করেন তিনি। এরমধ্যে হাঁকিয়ে ফেলেন ফিফটিও। তবে রিজওয়ানকে ফিফটির পর বেশি দূর যেতে দেননি মিরাজ। ৮০ বলে ৫১ রান করা পাকিস্তানের ডানহাতি এই ব্যাটারকে বোল্ড করেন টাইগার স্পিনার।

    পাকিস্তানের সর্বশেষ উইকেটও তুলে নেন মিরাজ। মোহাম্মদ আলিকে রানের খাতাই খুলতে দেননি তিনি।

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। জবাবে ৫৬৫ রানের পাহাড় গড়ে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

  • বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ

    বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ।

    গত কয়েকদিন ধরে ক্রীড়াঙ্গনে গুঞ্জন, বিসিবি সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন নাজমুল হাসান পাপন। আর পাপনের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। আজ বুধবার পাপনের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের মধ্য দিয়ে, সেই গুঞ্জনই সত্যি হল।

    দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরে ব্যাপক রদবদল হচ্ছে। এবার দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিসিবির শীর্ষ পদেও পরিবর্তন এল।

    সূত্র বলছে, বিসিবি পুনর্গঠনের জন্য ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কার্যালয় থেকে কয়েকজন ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফারুক আহমেদ।

    বিসিবি সভাপতি হওয়ার দৌড়ে আলোচনায় ছিলেন দুই সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম ও খালেদ মাসুদ এবং ক্রিকেট কোচ ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম। আলোচনায় ছিলেন বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হকের নামও। তবে শেষ পর্যন্ত ফারুক আহমেদের কাঁধেই উঠলো ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ প্রধানের দায়িত্ব।

    উল্লেখ্য, এর আগে দুই মেয়াদে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফারুক আহমেদ। প্রথম মেয়াদে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কলহের জের ধরে পদত্যাগ করেন তিনি।

  • টাইগার একাদশে তিন পরিবর্তন

    টাইগার একাদশে তিন পরিবর্তন

    চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে বোলিং করবে বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতেছে আফগানিস্তান। আজকের ম্যাচটি হাতছানি দিচ্ছে রশিদ খান, মুজিব উর রেহমানদের ইতিহাস গড়ার।

    যদি জিতে যায়, তাহলে প্রথমবারের মতো টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করবে।

    এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচটি আবার মানসম্মান বাঁচানোর লড়াই লিটন দাস, সাকিব আল হাসানদের। ঘরের মাঠে ২০১৪ সালের পর পুনরায় হোয়াইটওয়াশ এড়াতে জয়ের কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের। জিততেই হবে। জিতলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াবে।

    বাংলাদেশ নেমেছে একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে। তিন পরিবর্তনটাই এসেছে পেস বিভাগে। মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী। বাংলাদেশ খেলছে দুই পেসার ও এক স্পিনার।

    তাদের পরিবর্তে খেলছেন শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ। এ ছাড়া আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে খেলা তাইজুল ইসলাম ফিরেছেন একাদশে।
    বাংলাদেশ একাদশ:
    লিটন দাস (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাঈম, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, শরীফুল ইসলাম, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ।

  • চোখের জলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তামিম

    চোখের জলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তামিম

    ‍আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনের ডাক। হঠাৎ কেন সংবাদ সম্মেলন ডাকলেন তামিম ইকবাল? এ নিয়ে গুঞ্জনের শেষ ছিল না। তামিম ক্যামেরার সামনে আসার আগেই আঁচ করা গিয়েছিল বড়সড় কিছু হতে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল।

    আজ বৃহস্পতিবার(৬ জুলাই) চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা দেন বাংলাদেশি তারকা। চট্টগ্রামের একটি হোটেলে নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তামিম। জানান, গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটিই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে থাকল।

    কান্না ভেজা কণ্ঠে অবসরের ঘোষণা দিয়ে তামিম বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকালের ম্যাচটিই আমার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এই মুহূর্ত থেকে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছি। সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া নয়। অনেকদিন ধরেই আমি এটা নিয়ে ভাবছি। পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছি এটা নিয়ে। মনে হয়েছে এটাই আমার সেরা সময়, অবসর নেওয়ার।’

    সেই সঙ্গে পরিবার ও ভক্ত-সতীর্থদের ধন্যবাদ দিতেও ভুল করলেন না তামিম, ‘আমি আমার পরিবারের সদস্যদে সঙ্গে কথা বলছি। আমি ধন্যবাদ জানাই তাদেরকে। আমার বাবাকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে আমার সতীর্থ ও ভক্তদের ধন্যবাদ জানাই।

    এর আগে ২০২২ সালের ১৬ জুলাই হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টি-টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তামিম। এরপর থেকে শুধুমাত্র দেশের হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে দেখা যায় তাকে।

    এবারও হঠাৎ করেই সরে দাঁড়ালেন বাকি দুই ফরম্যাট থেকে। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নাম লেখান তামিম। মাঝে কেটে গেছে ১৬ বছর। এর মধ্যে ওয়ানডেতে খেলেছেন ২৪১টি ম্যাচ। ৩৬.৬২ গড়ে রান করেছেন ৮ হাজার ৩১৩। পাশাপাশি টেস্টে ৭০ ম্যাচে ৩৮.৮৯ গড়ে করেছেন ৫ হাজার ১৩৪ রান। আর ৭৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে ২৪.০৮ গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ রান করে গত বছর অবসর নেন।