Category: খেলাধুলা

  • আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

    আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ

    এবারের ক্যারিবীয় সফরটা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না বাংলাদেশ দলের। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে বিধ্বস্ত হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজটিও খুইয়েছে সফরকারীরা। এবার লড়াই ওয়ানডে সিরিজের।

    রবিবার গায়নার প্রভিডেন্সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে কেমন হতে পারে টাইগারদের প্রথম ওয়ানডে একাদশ?

    নির্ধারিতভাবেই গোটা ওয়ানডে সিরিজে নেই দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ছুটি নিয়েছেন তিনি। তার বদলে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আজ একাদশে ঠাঁই হতে পারে নাজমুল হোসেন শান্তর। ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে উইন্ডিজ সফরে যোগ দেওয়া এনামুল হক বিজয়কে। দুই অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মোসাদ্দেক হোসেনকেও দেখা যেতে পারে।
    সাকিবের বদলে স্পিনে ছড়ি ঘুড়াতে পারেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ। পেস আক্রমণে মোস্তাফিজুর রহমান তো আছেনই। শরিফুল ইসলামের বদলে তাসকিন আহমেদকে দেখা যেতে পারে। আর কিপিংয়ে যথারীতি থাকবেন নুরুল হাসান সোহান। আর ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে আছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও লিটন দাস।

    বাংলাদেশ দলের সম্ভাব্য একাদশ
    তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), এনামুল হক বিজয় (ওপেনার), নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার) নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ হারল বাংলাদেশ

    গায়ানায় তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১০ বল বাকি থাকতেই ১৬৩ রান তাড়া করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৫ উইকেটের জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে তারা। লড়াই করার মতো স্কোর নিয়ে, শুরুতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেও হারল বাংলাদেশ।

    এক সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরকার্ড ছিল এমন—৮ ওভার, ৫৬ রান, ৩ উইকেট। অমন পরিস্থিতির পর আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো প্রথম ওভারে ৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া দলের সেরা বোলারকে। কারণ তিনি বাঁহাতি, ক্রিজে দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

    সাকিব আল হাসান এরপর বোলিংয়ে ফিরলেন ইনিংসের ১৭তম ওভারে, কাইল মায়ার্স আউট হওয়ার পর। ততক্ষণে মায়ার্স ফিরেছেন ৩৮ বলে ৫৫ রান করে, পুরানের সঙ্গে তার জুটিতে উঠেছে ৫১ বলে ৮৫ রান। মায়ার্স ফিরলেও ম্যাচ শেষ করেই ফিরেছেন পুরান। ৩৯ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে উইন্ডিজ অধিনায়ক মেরেছেন ৫টি করে চার ও ছয়।

    টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৬৪ রানের লক্ষ্য দেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান করে বাংলাদেশ।

    লিটন দাসের ৪৯, আফিফ হোসেনের ৫০ রানের ইনিংসের সঙ্গে ৪৯ ও ৫৭ রানের দুই জুটিতে ১৬৩ রান করল বাংলাদেশ।

    পাওয়ার প্লের মধ্যে ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে ভালো একটা ভিত গড়ে দেন লিটন ও আফিফ। লিটন গতি বদলানোর আগেই ফিরে গেছেন, এরপর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আফিফের জুটিতে ওঠে ৫৭ রান। আফিফও ফেরেন ফিফটি পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গেই।

    লিটন ৪৯ রান করতে খেলেছেন ৪১ বল, আফিফের গতি অবশ্য তুলনামূলক ভালো ছিল। এ বাঁহাতি ব্যাটিং করেছেন ১৩১ স্ট্রাইক রেটে। বাউন্ডারি পেলেও মাহমুদউল্লাহ ২২ রান করতেই খেলেছেন ২০ বল।শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন ৬ বলে করেছেন ১০ রান, শেষ ওভারে মারা ২ চারে।

    ৩ উইকেটে ১২৯ রান নিয়ে ১৭তম ওভার শুরু করা বাংলাদেশ শেষ ৪ ওভারে অবশ্য ৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি। তবে গায়ানার উইকেটে স্পিনাররা গ্রিপ পাচ্ছেন, পেসার তাসকিন আহমেদের জায়গায় বাংলাদেশ আজ খেলাচ্ছে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকে।

    স্বাগতিকদের পক্ষে হেইডেন ওয়ালশ ২টি এবং ওডেন স্মিথ ও রোমারিও শেফার্ড একটি করে উইকেট নেন। অন্যটি রানআউট।

    এর আগে উইন্ডিজ-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ।

    বাংলাদেশ একাদশ: এনামুল হক, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।

    উইন্ডিজ দল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে একটি পরিবর্তন আছে। খেলছেন না কিমো পল। তার জায়গায় দলে এসেছেন ডমিনিক ড্রেকস।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: কাইল মায়ার্স, ব্রেন্ডন কিং, শামার ব্রুকস, নিকোলাস পুরান (অধিনায়ক), রোভম্যান পাওয়েল, ডমিনিক ড্রেকস, ওডিন স্মিথ, রোমারিও শেফার্ড, আকিল হোসেন, ওবেদ ম্যাকয়, হেইডেন ওয়ালশ জুনিয়র

    সংক্ষিপ্ত স্কোর:

    বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৬৩/৫ (লিটন ৪৯, এনামুল ১০, সাকিব ৫, আফিফ ৫০, মাহমুদউল্লাহ ২২, সোহান ২, মোসাদ্দেক ১০; মেয়ার্স ০/১৪, ম‍্যাককয় ০/২৯, আকিল ০/৩১, স্মিথ ১/৩৪, শেফার্ড ১/১৯, ড্রেকস ০/৬, ওয়ালশ জুনিয়র ২/২৫)

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৮.২ ওভারে ১৬৯/৫ (কিং ৭, মেয়ার্স ৫৫, ব্রুকস ১২, স্মিথ ২, পুরান ৭৪, পাওয়েল ৫, আকিল ৩; নাসুম ২/৪৪, মেহেদি ১/২১, সাকিব ১/১০, মোসাদ্দেক ০/৩৪, মুস্তাফিজ ০/২৭, শরিফুল ০/১৩, আফিফ ১/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/৭)

    ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।

    সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২-০ তে জয়ী।

    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নিকোলাস পুরান।

  • আমরা চাইলেও ওদের মতো ছয় মারতে পারি না: লিটন

    আমরা চাইলেও ওদের মতো ছয় মারতে পারি না: লিটন

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগেই পাওয়ার হিটারের অভাব নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স। সিরিজ শেষে একই সুরে কথা বললেন তারকা ব্যাটার লিটন দাসও। তার মতে, স্বাগতিকদের মতো চাইলেই ছয় মারতে পারে না বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

    বৃহস্পতিবার ৫ উইকেটের পরাজয়ে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ হারের পর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন লিটন। নিজেদের ব্যর্থতার মেনে নেওয়ার পাশাপাশি কাইল মায়ার্স (৩৮ বলে ৫৫) ও নিকোলাস পুরানকেও (৩৯ বলে ৭৪) কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।

    লিটন বলেছেন, ‘আমাদের বোলিংয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটু সমস্যা হয়েছে। সব বোলাররা সেভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি। এছাড়া মায়ার্স ও পুরানকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। খুব ভালো ভালো বলেও ওরা মেরে দিয়েছে।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি ওদের বাড়তি সুবিধা যে ওরা পাওয়ার ক্রিকেট খেলে। যেটা আমরা খেলতে পারি না। আমার মনে হয়, এ জিনিসটাও অনেক সময় কাজ করে বোলারদের মাথায় যে একটু ১৯-২০ হলেই তো তারা মেরে দেবে।’

    এসময় ৪১ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলা লিটন জানান, পাওয়ার হিটার না থাকার কারণে ছয়ের চেয়ে চারের দিকেই বেশি মনোযোগ দেয় বাংলাদেশ। যার প্রমাণ মিলেছে সিরিজের দুই ম্যাচেই। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৪টি ছক্কার বিপরীতে বাংলাদেশের ছয় ছিল মাত্র ছয়টি।

    একই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের গোটা ইনিংসে যেখানে ছিল মাত্র পাঁচটি ছক্কা, সেখানে পুরান ও মায়ার্স একেকজনের ব্যাট থেকে আসে পাঁচটি করে ছক্কা। বাংলাদেশের ১১ চারের বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মারে ৯টি বাউন্ডারি।

    নিজেদের ছয় মারার সামর্থ্যে ঘাটতির কথা জানিয়ে লিটন বলেন, ‘ওরা জন্মগতভাবে অনেক শক্তিশালী। যেকোনো বড় মাঠে ছক্কা মেরে দিতে পারে। যেটা আমাদের দলের অনেকেই সামর্থ্যবান নয়। আমরা সবসময় ব্যাটিংয়ে নেমে চিন্তা করি চার মারার জন্য। আমাদের খেলায় দেখবেন চারই বেশি হয়। যেটা ওদের তুলনায়… ওরা ছয় বেশি মারে। এই পার্থক্য সবসময় থাকে।’

  • জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘সবাই খেলতে চায়’, ছুটিতে শুধু সাকিব

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ‘সবাই খেলতে চায়’, ছুটিতে শুধু সাকিব

    চলতি মাসের শেষ দিকে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি খেলতে জিম্বাবুয়ে সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সফরের ওয়ানডে সিরিজটি বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ নয়। তবু পূর্ণশক্তির দল নিয়েই যাবে বাংলাদেশ। শুধু সাকিব আল হাসান থাকবেন না।ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে দেশে ফিরে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই জিম্বাবুয়ের উদ্দেশে রওনা হবে টাইগাররা। বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে, এই সফর থেকে নিয়মিত ও পরীক্ষিত মুখদের বিশ্রাম দিয়ে নতুন কাউকে নেওয়া হবে কি না?উত্তর এসেছে নেতিবাচক। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানিয়ে দিয়েছেন, এই সফরে দলের নিয়মিত তারকাদের সবাই খেলতে চান। তাই তাদের রেখেই দল সাজানো হয়েছে। শিগগির এ দুই সিরিজের দল ঘোষণা করে দেওয়া হবে।বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে জালাল বলেছেন, ‘(জিম্বাবুয়ে সফরে) সিনিয়র খেলোয়াড়দের বেশিরভাগই থাকছে। তারা সবাই খেলতে চায়। সিনিয়র মানে যারা খেলে সবাই-ই তো সিনিয়র, কয়েকজন ছাড়া এখন তো সিনিয়ররাই খেলছে। তারা জানিয়েছে তারা এভেইলেবল।’তবে সাকিব যে ছুটি চেয়েছেন সেটি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সাকিব (জিম্বাবুয়েতে) যাচ্ছে না, আগেই আমাদের জানিয়েছে। আজ নির্বাচকদের সাথে আমরা বসেছিলাম। তারা একটা দল চূড়ান্ত করছেন। যে দল এখন আছে, তাদের সবাই থাকছে।’জালালের শেষ কথা, ‘জিম্বাবুয়েতে পূর্ণশক্তির দল যাবে। হয়তো পয়েন্টের খেলা না, চ্যাম্পিয়নশিপ বা সুপার লিগ না। কিন্তু সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। আমরা যাতে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। অনেকে বলছিল দ্বিতীয় সারির দল। দ্বিতীয় সারির দল যাচ্ছে না, আমরা শক্ত বাংলাদেশ দল পাঠাতে চাই।’

  • উত্তাল আটলান্টিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি টাইগাররা

    উত্তাল আটলান্টিকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি টাইগাররা

    কেউ বমি করছেন, কেউবা চিৎপটাং হয়ে পড়ে আছেন ফ্লোরে। রীতিমত যেন এক হাসপাতাল। একসঙ্গে বাংলাদেশের এত ক্রিকেটারকে কোনো বিদেশ যাত্রায় অসুস্থ হতে দেখা যায়নি আগে। এবার তারা ভয়াবহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন আটলান্টিক মহাসাগরে।

    সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনেক হয়ে ডোমিনিকা। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার ভ্রমণ। সমুদ্র পার হতে হবে ফেরি দিয়ে। শুরুতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বেশ উপভোগ করছিলেন উত্তাল সমুদ্র।

    তবে যত সময় গড়াতে থাকে, ততই ঢেউ আর ফেরির দুলোনিতে মনে ভয় ধরে যায় তাদের। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম, উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এবং সাপোর্ট স্টাফের এক সদস্য ‘মোশন সিকনেসে’ আক্রান্ত হন।

    তাদের কয়েকজন বমিও করেন এসময়। কয়েকজন ভীষণ অসুস্থ হয়ে শুয়ে পড়েন ফ্লোরেই। দেড় ঘণ্টা ফেরিতে কাটানোর পর মার্টিনেক নামক দ্বীপে যাত্রা বিরতি ছিল। কয়েকজন ক্রিকেটার অনুরোধ করেন, তাদের যেন সেখান থেকে বিমানের ব্যবস্থা করা হয়।

    কিন্তু যাত্রার মাঝপথে বিরতি দিলেও বিমানের টিকিট জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাকি পথও ফেরিতেই পাড়ি দিতে হয়েছে ক্রিকেটারদের।

    ভাগ্য ভালোই বলতে হবে। পরে সাগর কিছুটা শান্ত হলে ক্রিকেটাররাও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন অনেকটাই। যদিও তাদের মনের ভয়টা দূর হয়নি এখনও। ঢেউয়ের মধ্যে বিভীষিকাময় সেই অভিজ্ঞতার কথা আলাপে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাইগার শিবিরের এক সদস্য। এমন একটি যাত্রায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কী করে রাজি হলো, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি।

    যদিও শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর এই যাত্রা শেষ করে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকায় পৌঁছেছে জাতীয় দলের বহর। ক্রিকেটাররা এখন বিশ্রামে আছেন। বিভীষিকাময় এই ভ্রমণের পরপরই ডোমিনিকায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে টাইগারদের। ২ জুলাই প্রথম টি-টোয়েন্টি।

  • খেলোয়াড়দের খুব বেশি দোষ দেওয়া ঠিক হবে না: সাকিব

    খেলোয়াড়দের খুব বেশি দোষ দেওয়া ঠিক হবে না: সাকিব

    প্রায়ই বলা হয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রতি মনোযোগ নেই। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বেশি জোর দেন- এমন অভিযোগ শোনা যায় হরহামেশা। এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

    তবে তিনি ব্যাট ধরেছেন খেলোয়াড়দের পক্ষে। তার মতে, টেস্টে আগ্রহ না থাকা বা কম থাকার দায় শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের একার নয়। বরং এ প্রসঙ্গে পাল্টা প্রশ্নে তিনি জিজ্ঞেস করেছেন, বাংলাদেশে টেস্ট ক্রিকেট মূলত দেখেন কতজন মানুষ?

    সেইন্ট লুসিয়া টেস্টে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে সাকিব কথা বলেছেন দেশের টেস্ট সংস্কৃতি নিয়েও। তার মতে, দেশের ক্রিকেট সিস্টেমেই টেস্ট ফরম্যাটটা অতটা আলোচিত নয়। যে কারণে টেস্টে বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে পুরো গ্যালারি।

    তার ভাষ্য, ‘এখানে খেলোয়াড়দের খুব বেশি দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। শুধু খেলোয়াড়দের দোষ দিলে হবে না। আমাদের দেশের সিস্টেমটাই এমন। আপনি কবে দেখছেন বাংলাদেশে ৩০ হাজার দর্শক টেস্ট ম্যাচ দেখছে বা ২৫ হাজার দর্শক মাঠে এসেছে টেস্ট দেখতে?’

    সদ্য সমাপ্ত ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে ভরা গ্যালারি। সেই উদাহরণ টেনে সাকিব আরও বলেন, ‘ইংল্যান্ডে তো প্রতি ম্যাচে (টেস্ট) এরকম দর্শক থাকে। টেস্টের সংস্কৃতিটাই আমাদের দেশে ছিল না কখনো, এখনো নেই।’

    এখন নেই দেখে যে কখনও হবে না তা বলছেন না সাকিব, ‘টেস্ট সংস্কৃতি নেই বলে যে হবে না, সেটা কিন্তু নয়। এই জিনিসটা পরিবর্তন করাই আমাদের বড় দায়িত্ব। সবাই মিলে যদি পরিকল্পনা করে আগানো যায়, হয়তো কিছু সম্ভব হবে। নইলে আসলে খুব বেশি দূর আগানো সম্ভব হবে না। কারণ আমাদের টেস্টের সংস্কৃতিই নেই।’

    তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যে টেস্ট ক্রিকেটকে খুব বেশি মূল্যায়ন করি, তা নয়। হ্যাঁ, হতে পারে আমরা ফলাফল ভালো করিনি, এ কারণে মূল্যায়নও হয়নি। তবে একটার সঙ্গে আরেকটার সম্পর্ক আছে। একটার সঙ্গে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাহলেই ভালো কিছু সম্ভব।’

  • পরাজয়ের ‘সেঞ্চুরি’ করলো বাংলাদেশ

    পরাজয়ের ‘সেঞ্চুরি’ করলো বাংলাদেশ

    পরাজয় ছিল অনিবার্য। দেখার বিষয় ছিল, বাংলাদেশ দল ইনিংস পরাজয় এড়াতে কি না। কিন্তু সেটিতে আবার বাগড়া দিলো বৃষ্টি। খেলা শুরুর আগেই বৃষ্টির পেটে চলে গেলো চার ঘণ্টার বেশি। তাই আশা জেগেছিল সেইন্ট লুসিয়া টেস্টটি পঞ্চম দিনে নেওয়ার।

    কিন্তু সেটি করতে হলেও শেষ চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ দলকে ৩৮ ওভার খেলতে হতো। তা সম্ভব হয়নি। তবে নুরুল হাসান সোহানের ৫০ বলে ৬০ রানের সুবাদে ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে দশ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের দল।

    এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে হারের সেঞ্চুরি করে ফেলেছে টাইগাররা। ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রথম হার। এবার ২০২২ সালের জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৪তম ম্যাচে পেতে হলো শততম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ।

    অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৩৪ ম্যাচের মধ্যে ১০০টিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। জয় মাত্র ১৬ ম্যাচে, ড্র হয়েছে ১৮টি ম্যাচ। যার মানে দাঁড়ায় একটি জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ হেরেছে ছয়টির বেশি ম্যাচ। বিশ্ব ক্রিকেটে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে এতো পার্থক্য নেই আর কোনো দলের।

    বাংলাদেশের আগেই টেস্টে একশোর বেশি ম্যাচ হেরেছে শীর্ষ আট দল। তবে তারা সবাই খেলেছে তিনশোর বেশি ম্যাচ। প্রতিটি দলেরই জয়-পরাজয়ের মধ্যে রয়েছে ন্যুনতম ভারসাম্য। কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় পরাজয়ের মাত্রাই অনেক বেশি।

    সবচেয়ে বেশি ৩১৬টি টেস্ট হেরেছে ইংল্যান্ড। তারা খেলেছেও সবচেয়ে বেশি ১০৫১ ম্যাচ। যেখানে জিতেছে ৩৮১ ম্যাচে। ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি জয় রয়েছে শুধুমাত্র অস্ট্রেলিয়ার। তারা ৮৪২ ম্যাচ খেলেছে জিতেছে ৩৯৯টি, হার ২২৬ ম্যাচে।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চেয়ে জিম্বাবুয়েরও জয়-পরাজয়ের হার ভালো। মাঝে কয়েকবছর স্বেচ্ছায় টেস্ট থেকে দূরে থাকা দলটি এখন পর্যন্ত ১১৫ ম্যাচ খেলে হেরেছে ৭৪টি, জিতেছে ১৩ ম্যাচে। অর্থাৎ সামনের ২৬ টেস্টের সব হারলেও পরাজয়ের সেঞ্চুরি করতে তাদের লাগবে ১৪১ ম্যাচ।

  • ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে ১০ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ

    ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে ১০ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ

    হারটা নিশ্চিতই ছিল। তৃতীয় দিন শেষেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ভাগ্য। এমনকি ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কাও ছিল। স্বস্তি একটাই, সেই লজ্জায় পড়তে হয়নি টাইগারদের।

    নুরুল হাসান সোহানের সাহসী ব্যাটিংয়ে ইনিংস হার এড়িয়ে ১২ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩ রানের। এই লক্ষ্য পেরোতে মাত্র ১৭ বল লেগেছে ক্যারিবীয়দের। ক্রেইগ ব্রেথওয়েট ৪ আর জন ক্যাম্পবেল ৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

    সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্টে স্বাগতিকরা জিতেছিল ৭ উইকেটে। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

    ভেজা মাঠ অনেকটা সময় বাঁচিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশের হার। চতুর্থ দিনের প্রথম দুই সেশনে আউটফিল্ড প্রস্তুতই করতে পারেননি মাঠকর্মীরা। অবশেষে চা-বিরতির পর খেলা শুরু হয়।

    মেহেদি হাসান মিরাজ দিনের চতুর্থ ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন ৪ রান করে। ইনিংস হার এড়াতে তখনও ২৬ রান দরকার বাংলাদেশের। শঙ্কা ছিলই। তবে নুরুল হাসান সোহান সেই শঙ্কা দূর করে দিয়েছেন।

    টি-টোয়েন্টি স্টাইলে খেলে দলকে বাঁচিয়েছেন ইনিংস হারের লজ্জা থেকে। ৪০ বলে ঝড়ো তার ফিফটি পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের বোর্ডে লিডও যোগ হয়। যদিও সেটা খুব বড় হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়বার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে নামানো গেছে।

    এবাদত-শরিফুল শূন্য রানে ফিরলে স্ট্রাইক নিয়ে ইনিংস হার এড়ান সোহান। আলজেরি জোসেফের এক ওভারে টানা দুই বলে চার আর ছক্কা হাঁকিয়ে লিড ১০ রান পার করেন তিনি। শেষ ব্যাটার খালেদ আহমেদ রানআউট হলে ১৮৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

    ৫০ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় সোহান সঙ্গীর অভাবে অপরাজিত থেকে যান ৬০ রানে। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি, সব কটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে।

    দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয় বোলারদের মধ্যে ৩টি করে উইকেট নেন কেমার রোচ, আলজেরি জোসেফ আর জেডেন সিলস।

    তৃতীয় দিন শেষেই সেন্ট লুসিয়া টেস্টে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল সাকিব আল হাসানের দল। লক্ষ্য ছিল একটাই, কোনোমতে ইনিংস হারটা এড়ানো যায় কি না। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ইনিংস পরাজয় এড়াতে আরও ৪২ রান করতে হতো সফরকারীদের।

    ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ১৩২ রান। প্রথম ইনিংসে সাকিব আল হাসানের দল গুটিয়ে গিয়েছিল ২৩৪ রানে। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে নেয় ১৭৪ রানের লিড।

    ১৭৪ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামার পর তামিমদের কাছ থেকে যেটুকু ধৈর্য আশা করেছিল সবাই, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। বরং কেমার রোচের ইনসুইংগার-আউটসুইংগার বাছবিচার না করে শট খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি।

    মাত্র ৮ বল খেলে ৪ রান করে দলীয় ৪ রানের মাথায় উইকেট বিলিয়ে দেন তামিম। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে জুটি বাঁধেন মাহমুদুল হাসান জয়। কয়েকটি ভালো শট, কয়েকটি আলগা শটও খেলেন তিনি। রোচকে ৭ম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই তার ইনসুইংগার বলটিকে ঠেকাতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বসেন।

    বল চলে যায় থার্ডম্যানে জার্মেই ব্ল্যাকউডের হাতে। ১৩ রান করে আউট হয়ে যান জয়। দলীয় ৩২ রানের মাথায় কেমার রোচের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন এনামুল হক বিজয়। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে হলেন এলবিডব্লিউ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি আট বছর টেস্টে ফেরা বিজয়।

    মাত্র ৪ রান করে আউট হন বিজয়। তিনি আউট হতে না হতেই নামে বৃষ্টি এবং খেলা বন্ধ হয়ে যায় এ সময়। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলেও বদলায়নি বাংলাদেশের ভাগ্য। একপ্রান্তে নাজমুল শান্ত আশা দেখালেও হতাশ করেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসরা।

    বছরের শুরু থেকে দারুণ ফর্মে থাকা লিটন সাজঘরে ফিরে যান ১৬ রান করে, সাকিব থামেন ব্যক্তিগত ১৯ রানে। দারুণ খেলতে থেকে ফিফটি আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত আলগা শটে আউট হন ৪২ রান করা শান্ত। ১১৮ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

    সেখান থেকে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর মিশনে ব্যাটিং শুরু করেন নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি হাসান মিরাজ। সোহান ১৬ রান আর মিরাজ শূন্যতে অপরাজিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইনিংস হার এড়াতে পেরেছে বাংলাদেশ, তবে এড়াতে পারেনি টেস্ট হার।

  • হতাশার এক সেশন টাইগারদের, লিড নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    হতাশার এক সেশন টাইগারদের, লিড নিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    সকালের সেশনে শেষ সময়ে এসে দারুণ চমক দেখিয়েছিলেন টাইগার বোলাররা। ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটি তো ভেঙেছেই, এরপর ১ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে লড়াইয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ।

    কিন্তু প্রথম সেশনে সফরকারীদের হাসি দ্বিতীয় সেশনে মিলিয়ে দিলেন কাইল মায়ার্স আর জার্মেই ব্ল্যাকউড। ক্যারিবীয় এই যুগল গড়লেন ৩৩ ওভারে ১১৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

    যে জুটিতে ভর করে ইতোমধ্যে লিডও নিয়ে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেন্ট লুসিয়া টেস্টে বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে ৪ উইকেটে ২৪৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের চা-বিরতিতে গেছে স্বাগতিকরা।

    সেট দুই ব্যাটারই ক্রিজে রয়ে গেছেন। মায়ার্স ৬০ আর ব্ল্যাকউড ৪০ রানে আছেন অপরাজিত। ৬ উইকেট হাতে রেখে ক্যারিবীয়দের লিড এখন ১৪ রানের।

    এর আগে বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম সেশনে ৪ উইকেটে তুলেছিল ১৩৭ রান। প্রথম ব্রেক থ্রুটা এনে দিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম।

    দ্বিতীয় ব্রেক থ্রু পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি বাংলাদেশের। ১৩১ রানের মাথায় ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটায় টাইগাররা। এবার উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

    এই ১৩১ রানের মাথায় বসিয়ে রেখে স্বাগতিকদের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন পেসার খালেদ আহমেদ। এরপর আর এক রান যোগ হতে খালেদের ঝুলিতে আরও ১ উইকেট। ১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

    দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন দুই ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট এবং জন ক্যাম্পবেল। দু’জন মিলে ১০০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন।

    এরপরই স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ের ওপর প্রথম আঘাতটা হানেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম। ২৬তম ওভারে তার শেষ বলটি
    ছিল শট পিচ করা। সঙ্গে এক্সট্রা বাউন্স হয়েছিল তাতে।

    ক্যাম্পবেল চেষ্টা করেছিলেন পুল করতে। কিন্তু গতি আর এক্সট্রা বাউন্সের কাছে কুলিয়ে উঠতে পারেননি। বল গ্লাভসে লেগে চলে যায় উইকেটের পেছনে নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে। ৭৯ বল খেলে ৪৫ রান করে আউট হন ক্যারিবীয় ওপেনার।

    এরপর মেহেদি হাসান মিরাজের আর্ম বলটাকে ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্ড করতে চেয়েছিলেন ব্র্যাথওয়েট। কিন্তু বলটাকে ঠিকমত পড়তে পারেননি। বলটা হালকা বাঁক খেয়ে গিয়ে সোজা আঘাত হানে তার স্ট্যাম্পে।

    আউট হওয়ার আগে অবশ্য হাফসেঞ্চুরি করেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ১০৭ বলে ৫১ রানে থাকতেই মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরলেন ব্র্যাথওয়েট।

    এরপর এক ওভারে জোড়া চমক খালেদ আহমেদের। ৩৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলটি ছিল অফ স্ট্যাম্পের ওপর শট লেন্থের ডেলিভারির। স্টিয়ার করতে চেয়েছিলেন রেমন রেইফার। কিন্তু বল ভেতরের কানায় লেগে গিয়ে আঘাত হানে সোজা স্ট্যাম্পে। ২২ রান করে আউট হলেন রেইফার।

    একই ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন এনক্রুমাহ বোনারও। কোনো রানই করতে পারেননি তিনি। খালেদের গতিময় বলটি পা দিয়েও ঠেকাতে পারেননি বোনার। ১৩২ রানে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চতুর্থ উইকেট।

  • সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশে সাকিব!

    সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশে সাকিব!

    একদিন আগেই ভারতের সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ বানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল আইসল্যান্ড ক্রিকেট। সেই একাদশে ভারতের বর্তমান দলের সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলিকে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে রেখেছিল তারা।

    এবার তাদের তরফ থেকে সর্বকালের সেরা টেস্ট একাদশ ঘোষণা করা হলো; যেখানে অলরাউন্ডার ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান।
    বিভিন্ন দেশের টেস্ট একাদশ সাজিয়ে নিজেদের অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে পোস্ট করছে আইসল্যান্ড ক্রিকেট। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও ভারতের টেস্ট একাদশ তৈরি করেছে তারা। এবার তারা সর্বকালের টেস্ট একাদশ সাজিয়েছে। তবে তাদের একাদশে প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ থেকে একজন করে ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র সাকিবই আছেন সেই তালিকায়।

    আইসল্যান্ড ক্রিকেটের সাজানো সর্বকালের সেরা একাদশ: সুনিল গাভাস্কার (ভারত), জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড), ডন ব্র্যাডম্যান (অস্ট্রেলিয়া) (অধিনায়ক), জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা), অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (জিম্বাবুয়ে) (উইকেটকিপার), ইমরান খান (পাকিস্তান), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), রশিদ খান (আফগানিস্তান), ম্যালকম মার্শাল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড), মুত্তিয়া মুরালিধরন (শ্রীলঙ্কা)।

    আইসল্যান্ড ক্রিকেটের সাজানো সর্বকালের সেরা ভারতীয় টেস্ট একাদশ: সুনিল গাভাস্কার, বীরেন্দ্র শেবাগ, রাহুল দ্রাবিড় (অধিনায়ক), শচীন টেন্ডুলকার, বিজয় হাজারে, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটকিপার), কপিল দেব, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, অনিল কুম্বলে, জাভাগাল শ্রীনাথ, জসপ্রিত বুমরাহ। দ্বাদশ খেলোয়াড়: বিরাট কোহলি।