Category: প্রশাসন

  • বরিশালের ছেলে ডিআইজি মিজানের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পদ ক্রোক

    বরিশালের ছেলে ডিআইজি মিজানের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পদ ক্রোক

    অসাধু উপায়ে অর্জিত সম্পদ বা সম্পত্তির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে বলে ডিআইজি মিজানুর রহমানের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।

    এর আগে গত ১২ জুন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে দায়িত্ব দেয়া হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদকে।

    ঘুষগ্রহণ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে আগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর এই নিয়োগ দেয়া হয়।

    প্রসঙ্গত, ‘তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার!’ শিরোনামে ৭ জানুয়ারি একটি পত্রিকায় ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।

    ‘এক সংবাদপাঠিকার জীবনও বিষিয়ে তুলেছেন ডিআইজি মিজান’ শিরোনামে পরদিন ৮ জানুয়ারি আরও একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।

    এরপর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বিতর্কিত এই ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

  • নুসরাত হত্যা মামলার চার্জ গঠন, পরবর্তী শুনানি ২৭ জুন

    নুসরাত হত্যা মামলার চার্জ গঠন, পরবর্তী শুনানি ২৭ জুন

    আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার চার্জ গঠন হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালত চার্জ গঠন করে ২৭ জুন পরবর্তী শুনানি ও সাক্ষী তলব করেছেন।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে আদালতে আনা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চার্জ গঠন করে ২৭ জুন মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত।

    ফেনী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলার সব আসামি চার্জশিট থেকে অবমুক্তি চেয়ে জামিন আবেদন করলে খারিজ করে দেন আদালত।পরবর্তী শুনানিতে নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল নোমান, নুসরাতের দুই সহপাঠী নিশাত ও ফুর্তিকে তলব করেন আদালত।

    আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হানিফ মজুমদার বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্ত যথার্থ নয়। হত্যার সঙ্গে প্রকৃত জড়িতরা এ মামলায় সংযুক্ত হয়নি।

    feni-pic-20.06-(1)

    ২৯ মে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার নথি ও চার্জশিট দেন।

    ৩০ মে মামলার ধার্য তারিখে আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি না করে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১০ জুন শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। ১০ জুন আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে ২০ মে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করেন।

    নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।

    এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

    feni-pic-20.06-(1)

    চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

    এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

  • বরিশালে ছিনতাইয়ের এক ঘণ্টার মাথায় ৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

    বরিশালে ছিনতাইয়ের এক ঘণ্টার মাথায় ৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

    বরিশালের এক যুবককে মারধর করে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যাওয়ার এক ঘণ্টার মাথায় তা উদ্ধার করল গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সেই সাথে ৩ ছিনতাইকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বুধবার রাত ৯টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

    এর আগে রাত ৮টার দিকে শহরের রাজা বাহাদুর সড়ক এলাকায় আকাশ দেবনাথ (২২) নামে এক যুবককে মারধর করে সাথে থাকা ৫ হাজার ৩৪৯ টাকা ও একটি মোবাইল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

    ছিনতাইয়ের শিকার আকাশ বরিশাল শহরের ভাটিখানা ষোলবাড়ি এলাকার কালা চান দেবনাথের ছেলে। তিনি হিমালয় নামে একটি কসমেটিকস ডিলারের ডেলিভারি ম্যান।

    এই যুবক জানিয়েছে- কাজ শেষে রাতে বাইসাইকেল নিয়ে সদর রোড থেকে চাঁদমারী যাওয়ার পথে রাজা বাহাদুর রোডে তিন যুবক তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা সাইকেল থেকে তাকে নামিয়ে একটি বাসার গেটে ভেতরে ঢুকিয়ে মারধর করে নগদ টাকা ও নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিয়ে যায়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ জানায়- ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম সাথে সাথে অভিযান শুরু করেন। ঘণ্টা খানেকের মাথায় শহরের কেডিসিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনায় জড়িত হৃদয়, মঞ্জু মৃধা ও আছিবকে গ্রেপ্তার করে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছিনিয়ে নেওয়া সমুদয় টাকা ও আকাশের মোবাইল ফোনটি।

    এসআই দেলোয়ার হোসেন বরিশালটাইমসকে জানান- এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।’

  • পিতৃহীন মেয়েকে বেঁধে ধর্ষণ, আল্লাহর কাছে বিচার দিলেন মা

    পিতৃহীন মেয়েকে বেঁধে ধর্ষণ, আল্লাহর কাছে বিচার দিলেন মা

    মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আপার কাগাবলা ইউনিয়নের আথানগিরি এলাকায় পিতৃহীন এক কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিরা হলো- একই এলাকার তিন সন্তানের জনক জাহিদ মিয়া (২৭) ও রাব্বি মিয়া (২৮)।

    ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বলেন, শনিবার মেয়েকে দাদির কাছে রেখে আত্মীয়ের বাড়িতে রোগী দেখতে যাই। ওই দিন রাতে দাদির পাশে ঘুমিয়েছিল মেয়েটি। গভীর রাতে টিনের বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে জাহিদ মিয়া ও রাব্বি মিয়া।

    পরে মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় লাথি দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করে মেয়ে। শব্দ পেয়ে দাদির ঘুম ভেঙে যায়। তখন দাদি-নাতনিকে বেঁধে ফেলে তারা। সেই সঙ্গে মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে চিৎকার দেয়। ওই সময় মেয়ের মুখে শক্ত কিছু একটা ঢুকিয়ে দেয় তারা। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এ অবস্থায় মেয়েকে ধর্ষণ করে জাহিদ মিয়া ও রাব্বি মিয়া। এতে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে যায়।

    ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, অল্পের জন্য আমার মেয়েটা বেঁচে গেছে। ওই দিন সারারাত রক্ত ঝরেছে তার। ভোর রাতে যখন জ্ঞান ফিরে তখন দাদির বাঁধন খুলে দেয় মেয়ে। খবর পেয়ে সকালে প্রতিবেশীরা মেয়েকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালে মেয়েটি ভর্তি আছে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমার কলিজার টুকরা মেয়েটা বেঁচে আছে। যারা আমার কলিজার টুকরা মেয়েটাকে এত কষ্ট দিয়ে ধর্ষণ করেছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করে। আমি ধর্ষকদের কঠিন বিচার চাই।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানা পুলিশের এসআই ইমরান হোসেন বলেন, মেয়েটি ঘটনার দিন থেকে এখনো চিকিৎসাধীন। আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছি। আসামিদের গ্রেফতার করা হবে।

    মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুবই খারাপ একটি ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছি।

  • পিঁপড়ায় ধরা সেই নবজাতককে বাঁচাতে এএসপির উদ্যোগ

    পিঁপড়ায় ধরা সেই নবজাতককে বাঁচাতে এএসপির উদ্যোগ

    মনের সবটুকু অনুনয়ে ডাক্তারের হাত দুটি জড়িয়ে ধরলেন পুলিশের এক কর্মকর্তা। কাঙ্ক্ষিত কণ্ঠে বললেন, ডাক্তার সাহেব শিশুটি বাঁচবে তো। আমি আপনার অনেক সুনাম শুনে মধ্য রাতে আপনার কাছে এসেছি। আপনার সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়ে চেষ্টা করলে হয়তো শিশুটি বেঁচে যাবে।

    কথাগুলো শুনে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. উত্তম কুমার সাহা চেয়ার ছেড়ে শেখ বিলাল হোসেনের কাছে এসে হাতটি জড়িয়ে ধরলেন। শেখ বিলাল হোসেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) পদে কর্মরত। এসময় চেম্বারে অনেক ভিড় ছিল। পুলিশের এ সহমর্মিতা দেখে অন্য রোগীরা অবাক। পুলিশ কর্মকর্তার এমন অনুনয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হলেন ডাক্তার।

    এর আগে গত ৪ এপ্রিল পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পূর্বকার্তিপাশা গ্রামের হতদরিদ্র সোহরাব গাজী মরিচক্ষেতে একটি শপিংব্যাগের ভেতরে কুড়িয়ে পায় শিশুটিকে। এ সময় তিনি দেখেন সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির রক্তমাখা শরীরটা কামড়ে ধরেছে অসংখ্য লাল পিঁপড়া। এমনকি নবজাতকের নাভির ‘ফুল’ পর্যন্ত কাটা হয়নি।

    Patuakhali-baby

    দ্রুত শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে স্ত্রী নূরজাহান বেগমের কোলে তুলে দেন তিনি। পরে দুমকী থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পটুয়াখালী হাসপাতালের শিশু বিভাগের ডা. সিদ্বার্থ শংকর শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি আর্থিকভাবে সচ্ছল না থাকায় কোথাও নিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। ডাক্তারের এমন পরামর্শে পাশ থেকে কে যেন বলে উঠলেন চিন্তার কোনো কারণ নেই। শিশুটির চিকিৎসার ভার আমি নেব। এ সময় এএসপি বিলাল হোসেন হাসপাতালে অন্য একটি কাজে এসেছিলেন। এরপর শিশুটিকে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    পটুয়াখালী থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত শিশুটির পেছনে সব ধরনের ব্যয়ভার বহন করে আসছেন এএসপি বিলাল হোসেন। এমনকি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসা দিতে প্রতিনিয়ত ঢাকায় তার ডাক্তার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

    বৃহস্পতিবার শেবাচিমের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক উত্তম কুমারের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, শিশুটির ওজন মাত্র সাড়ে ৯শ গ্রাম। অপরিপক্ব হওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। তবে অবস্থা একেবারে খারাপ নয়। এদিকে শিশুটির জন্য বরিশাল হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে কুড়িয়ে পাওয়া পরিবারের সদস্যরা। যদিও হতভাগ্য সেই মেয়ের সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) শেখ বিলাল হোসেন বলেন, একটি দরিদ্র পরিবার যদি রাস্তায় পড়ে থাকা শিশুটির পাশে দাঁড়াতে পারে তাহলে আমি কেন পারবো না, এ ভাবনা থেকেই শিশুটির পাশে দাঁড়িয়েছি।

  • বরিশালে ‘ক্লু’লেস ডাকাতি মামলা উন্মোচন করে পুরস্কৃত এসআই দেলোয়ার

    বরিশালে ‘ক্লু’লেস ডাকাতি মামলা উন্মোচন করে পুরস্কৃত এসআই দেলোয়ার

    আলোচিত দুটি ‘ক্লু’লেস ডাকাতি মামলার রহস্য উন্মোচন করে সম্মাননা পেলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন। কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

    মঙ্গলবার (১৮ জুন) পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান তাঁর হাতে সম্মাননাসূচক ক্রেস্টটি তুলে দিয়েছেন।

    পুলিশ সূত্র জানায়- ২০১৭ সালে মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানাধীন বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাত ও ২০১৮ সালে বিমানবন্দর থানাধীন ঘটকের চরে পৃথক দুটি ডাকাতি সংঘটিত হয়। কিন্তু দুটি মামলা তদন্ত পরবর্তী অভিযুক্তদের ধরতে ব্যর্থ হয় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

    পরে দুটি মামলাই তদন্তভার পান এসআই দেলোয়ার হোসেন। মামলা দুটির আসামিদের গ্রেপ্তারের পর রহস্যও উন্মোচনে সফল হন তিনি।

    মূলত এই কারণেই এসআই দেলোয়ারকে এপ্রিল মাসে বেস্ট অফিসার পদক দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এসআই দেলোয়ার হোসেন কর্মক্ষেত্রে বিশেষ ভুমিকা রেখে এরআগেও প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক পদকে ভ‍ূষিত হন।

  • বরিশালে পুলিশের অনুষ্ঠানে পঁচা-বাসি খাবার পাঠালো তাওয়া রেস্তোরাঁ!

    বরিশালে পুলিশের অনুষ্ঠানে পঁচা-বাসি খাবার পাঠালো তাওয়া রেস্তোরাঁ!

    বরিশাল নগরীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘তাওয়া’কে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সংস্থাটির সহকারি পরিচালক সোহেব মিয়া পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই দধন্ডদেশ দেন।

    একাধিক সূত্র জানায়- শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবাত এক তেল দিয়ে একাধিকবার রান্না ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পঁচা-বাসি খাবার সরবরাহ করে আসছিল। আরও অভিযোগ ছিল খাবারে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার।

    সর্বশেষ বুধবার এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের একটি আয়োজন উপলক্ষে দুপুরের খাবার সংগ্রহ করে। কিন্তু খাবারগুলো থেকে পঁচা গন্ধ আসায় সেগুলো ফেলে দিতে হয়।

    এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ভেতরে ক্ষোভ দেখা দেয়। ফলে বিষয়টি অভিযোগ আকারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা অফিসকে অবহিত করে পুলিশ।

    পরবর্তীতে সংস্থাটির সহকারি পরিচালক সোহেব মিয়ার নেতৃত্বে তাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম ভ্রাম্যমাণ আদলতকে সহযোগিতা করে।’

  • পিস্তল রেখে নামাজে গেলেন এসআই, এসে দেখেন পিস্তল নেই

    পিস্তল রেখে নামাজে গেলেন এসআই, এসে দেখেন পিস্তল নেই

    খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ১২টি গুলিসহ পিস্তল গায়েব হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

    একই সঙ্গে এ ঘটনার পর দিঘলিয়া থানা পুলিশের এসআই নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে যায়। অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ ও র‌্যাব।

    এসআই নাজমুল হক বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে একটি ব্যাগের ভেতরে গুলিভর্তি পিস্তল রেখে নামাজ পড়তে যাই। নামাজ শেষে এসে দেখি আমার ব্যাগ থাকলেও পিস্তল ও গুলি নেই।

    এ বিষয়ে খুলনার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ বলেন, এসআই নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অস্ত্র ও গুলি খোয়া যাওয়ার ঘটনায় রাজমিস্ত্রির সহকারী বুলবুল খা ও বিদ্যালয়ের দফতরি সঞ্জীব কুমার রাহাকে আটক করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে সেখানকার একটি ভোটকেন্দ্রে যান দিঘলিয়া থানা পুলিশের এসআই নাজমুল হক।

    ডুমুরিয়া থানা পুলিশের ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, দিঘলিয়া থানা পুলিশের এসআই নাজমুল হক স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ডুমুরিয়া উপজেলার বানিয়াখালী এলাকায় দায়িত্ব করেন। বেলা ২টার দিকে বানিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষে ব্যাগের মধ্যে ১২ রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল রেখে নামাজ পড়তে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে পিস্তল এবং গুলি পাননি।

    খবর পেয়ে পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ ও র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

    এ সময় ওই বিদ্যালয়ের দফতরিসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পাশাপাশি পুলিশের এসআই নাজমুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

  • বরিশালে ইয়াবাসহ বিএনপির সাবেক নেতা দুলাল আটক

    বরিশালে ইয়াবাসহ বিএনপির সাবেক নেতা দুলাল আটক

    বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা থেকে এক হাজার ১০০ পিস ইয়াবাসহ বিএনপির সাবেক নেতা দুলাল শরীফকে (৩৬) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

    আটক দুলাল শরীফ পার্শ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন সুন্দরদী এলাকার মৃত ইউনুস শরীফের ছেলে। তিনি গৌরনদী পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক।

    আটক দুলাল শরীফ পুলিশের জিজ্ঞাসবাদে জানান, তিনি আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ক্ষমতা বদল হলে তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়। এ সময় তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালান। ঢাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তিনি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

    আগৈলঝাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে আগৈলঝাড়া উপজেলার মাগুরা চৌরাস্তা এলাকায় চেকপোস্ট বসায় পুলিশ।

    রাত ১০টার দিকে গৌরনদীগামী মোটরসাইকেল আরোহী দুলাল শরীফসহ তিনজনকে থামানোর সংকেত দেয়া হয়। এ সময় তার অপর দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। পরে দুলাল শরীফের শরীর তল্লাশি করা হয়।

    এ সময় তার সঙ্গে থাকা শপিং ব্যাগের মধ্য থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ হাজার ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। ইয়াবা আটকের ঘটনায় এসআই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে দুলালসহ তিনজনকে আসামি করে বুধবার সকালে মামলা করেন।

    ওসি আরও জানান, দুলাল শরীফ গৌরনদী, আগৈলঝাড়াসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন। তার অন্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

  • ডিআইজি মিজানের ঘুষের অর্থের অনুসন্ধানে পুলিশ

    ডিআইজি মিজানের ঘুষের অর্থের অনুসন্ধানে পুলিশ

    ডিআইজি মিজানের ঘুষের অর্থ কোথায় আছে এবং এ ঘুষের উৎস কী তা জানতে অনুসন্ধান শুরু করেছে গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ডিআইজি মিজানের ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে তা বেধে দেওয়া না হলেও কমিটিকে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত সম্পন্ন করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

    এর আগে গতকাল সোমবার (১৭ জুন) তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দফতর। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মইনুর রহমান চৌধুরীকে (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন)। তদন্ত কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন। আজ মঙ্গলবার (১৮ জুন) তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা।

    সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে দুদকের এক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেন ডিআইজি মিজান। বিষয়টি জানাজানি হলে সব মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘুষ দাতা ও গ্রহীতার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশসহ (টিআইবি) বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষ। এই কর্মকর্তা এর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্যাতন করে সমালোচিত হন। ওই ঘটনায় গত বছর তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে যুক্ত করা হয়। তার নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিরও প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মইনুর রহমান চৌধুরী।

    এদিকে উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তার এহেন কর্মকাণ্ডে পুলিশের নীতিনির্ধারণী মহল বিব্রত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ বাহিনীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চান না কেউ। ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও পুলিশ বাহিনী বদ্ধপরিকর