Category: প্রশাসন

  • বরিশালের উজিরপুরে স্কুলছাত্রকে হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

    বরিশালের উজিরপুরে স্কুলছাত্রকে হত্যা, মহাসড়ক অবরোধ

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ইসরাফিল হাওলাদার নয়ন (১৭) হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

    সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার জয়শ্রী বাসস্ট্যান্ডের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা।

    এতে মহাসড়কের দুইপাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি শেখ মো. আতিউর রহমান ও উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ জানান।

    BARISHAL-Protest

    তবে বিক্ষুব্ধরা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে ওসি শিশির কুমাল পাল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

    নিহত নয়নের বাবা আব্দুস সোবাহান বলেন, ২৬ এপ্রিল নয়নকে ডেকে নিয়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে নয়নের মরদেহ গুম করতে বস্তায় ইট ভরে সুগন্ধা নদীতে ফেলে দেয় তারা। পরদিন বাবুগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী থেকে নয়নের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ ঘটনার পরদিন সোবাহান হাওলাদার অজ্ঞাতদের আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। কয়েকদিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাবেক সেনাসদস্য মো. ইদ্রিসের ছেলে মো. মুমিন এবং আসিফ হাওলাদার নামে আরেক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে অজ্ঞাত কারণে মুমিনকে ছেড়ে দেয়া হলেও আসিফকে ওই মামলায় সন্দেহজনক গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

    BARISHAL-Protest

    মামলার বাদী আব্দুস সোবাহান আরও বলেন, এক আসামির স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুমিনের নাম জড়ানোর পর থেকেই আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলা তুলে নিতে আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন সাবেক সেনাসদস্য ইদ্রিস।

    উজিরপুর থানা পুলিশের ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, স্কুলছাত্র নয়নের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বাবুগঞ্জ থানার আওতাধীন এলাকা থেকে। মামলাও হয়েছে বাবুগঞ্জ থানায়। সড়ক অবরোধ করায় জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে বাবুগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছি। বাবুগঞ্জ থানার ওসি নয়ন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীদের জানানো হয়। এরপর তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।

  • কারাগারে সেমি ভিআইপিতে ওসি মোয়াজ্জেম

    কারাগারে সেমি ভিআইপিতে ওসি মোয়াজ্জেম

    ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যার ঘটনায় আইসিটি মামলায় গ্রেফতার ওসি মোয়াজ্জেমকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় বিলাসী আপ্যায়ন করা হয়েছে। খাবার থেকে শুরু করে সকল বিষয় সম্পন্ন হয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পরিদর্শকের কক্ষে। তাকে থানার হাজত কাস্টডিতে রাখা হয়নি। ওসি মোয়াজ্জেম পুরো রাত কাটিয়েছে পরিদর্শক অপারেশনের কক্ষে।

    থানার একাধিক গাড়ি চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন কদমফোয়ারার পাশ থেকে ধরা পড়ার পর রাতে শাহবাগ থানায় রাখা হয় মোয়াজ্জেমকে। তাকে গোপনে পুলিশ অফিসারের কক্ষে রাখা হয়েছিল। সাধারণত আসামিকে হাজতে রাখা হলেও তাকে সেখানে নেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, গ্রেপ্তারের পর রাতে ওসি মোয়াজ্জেম শাহবাগ থানায় অফিসারদের কক্ষেই ঘুমিয়েছেন। সকালে প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মাহবুবুর রহমানের কক্ষে সকালের নাস্তাও সেরেছেন তিনি।

    অপরদিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠনোর নির্দেশের পরই তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গেটে তার বন্দি রেজিস্ট্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরই তাকে বিশেষ সেলে ( সেমি ভিআইপি) নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সেলে তার আপ্যায়ন ও ফুটফরমায়েস করার জন্য ২ জন শিক্ষিত বন্দিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের বিষয়ে তার পিসিতে মোটা অংকের টাকাও জমা দেয়া হয়েছে। একাধিক কারারক্ষী তার সেলের সামনে পাহারা বসিয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানে পিসির টাকা দিয়ে কারা ক্যান্টিনের খাবারের পাশাপাশি বাইরে থেকেও খাবার নেয়া হচ্ছে কারারক্ষীদের দিয়ে। তবে গতকাল রাতে কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া কোনও খাবারই খাননি সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম।

    মোটামুটি ভাবে কারাগারে সবকিছুই পাচ্ছেন তিনি। গতকাল দুপুরে কোর্টহাজতে তার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন ছেলে ও গাড়িচালকসহ স্বজনরা। এসময় তারা ওসি মোয়াজ্জেমের জন্য কাপড়-চোপড়, টুথপেস্ট ব্রাশ, টুপি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবী, ধর্মীয় বই, সেন্ডেলসহ অন্যান্য ব্যবহারিক সামগ্রী দেয়া হয়।

    আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল বিকেলেই পরিবারের পক্ষ থেকে কারাগারে মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছেন স্বজনরা।

    পুলিশের বিশেষ শাখাসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই বাছাই শেষে প্রয়োজন মনে করলে বা গ্রিন সিগন্যাল পেলে কারা কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দিবেন।

    এ বিষয়ে কারা অধিদফতর ডিআইজি ( ঢাকা বিভাগ ) টিপু সুলতান বলেন, শুধু ওসি মোয়াজ্জেম নয়, যে কোনও বন্দি জেলকোড অনুযায়ী তাদের খাবার থেকে শুরু করে সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। জেল কোডের বাইরে কোন বন্দিও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই।

    এদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ প্রতিদিনই আসামি ধরে আদালতে নেয়, কিন্তু এই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় না। নানা সময় ছোটখাটো অভিযোগ নিয়ে আদালতে তোলা আসামিদের হাতকড়া পরিয়ে বা কোমরে রশি বেঁধে নেয়া হয়েছে আদালতে। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেমের হাতও ধরেনি কেউ। তাকে কেবল ঘিরে রাখা হয়। সাংবাদিকরা যেন তার ছবি তুলতে না পারে, আপ্রাণ চেষ্টাও পুলিশ করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশ তার নিজের বাহিনীর এই কর্মকর্তার বিষয়ে নমনীয় কেন।

    শুধু তাই নয়, গতকাল সোমবার ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে হাজির করার সময় ওসি মোয়াজ্জেমের বেশভুষা ছিল পরিপাটি। ইস্ত্রি করা গেঞ্জি পরে ছিলেন। চোখে ছিল কালো একটি সানগ্লাস। বেশ কয়েকদিনের কাটা দাড়িগুলো মোটেও এলোমেলো ছিল না। মনে হচ্ছিল বেশ যত্নে বড় হয়েছে সেগুলো। চেহারাতেও কোনো উদ্বেগ ছিল না।

    এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পালিয়ে যাওয়া সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাতকড়া না পরানোয় আদালতে ক্ষোভ জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলার বাদী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, অন্য আসামিদের প্রতি পুলিশ এ রকম সদয় থাকবে কি না। সাংবাদিকদের সুমন বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমকে হাতে হাতকড়া দিয়ে আনা হয়নি। সে বিষয়ে পুলিশ ভালো জানেন কেন আনেননি। তবে পুলিশ ভাইদের কাছে অনুরোধ করে বলেন, অন্য আসামিদের বেলায়ও যেন একই ট্রিটমেন্ট করা হয়।

    ওসি মোয়াজ্জেমের প্রতি পুলিশের এই আচরণ পক্ষপাত কি না- জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, এ বিষয়টা ওসিকে জিজ্ঞাসা করেন। আমি কি থানায় বসে এসব দেখব? এ ব্যাপারে
    শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, প্রিজন ভ্যানে কোন আসামিকে হাতকড়া পড়ানো হয় না। আপনি আগে ভালো করে জানেন।

    এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান বলেন, কোনো ব্যক্তিকে হাতকড়া পরাতে হবে কি না তার সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তবে আমাদের দেশে সাধারণত পুলিশ অপরাধীদের হাতকড়া পরিয়ে থাকে। তাহলে মোয়াজ্জেম হোসেনকে কেন পরানো হলো না এটা একটি প্রশ্ন। এক্ষেত্রে পুলিশের একটি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ দেখা যায়। সকল ব্যক্তিকে হাত কড়া পরানো হলেও মোয়াজ্জেমকে কেন নয়? পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের ভেতরেও মোয়াজ্জেমকে ঘিরে ছিল পুলিশ সদস্যরা। এ সময় তাকে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়।

    আদালত চত্বরে মোয়াজ্জেমের ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ফটোসাংবাদিকদের। অভিযোগ করা হয়েছে, নিরাপত্তার কথা বলে প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পর সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের তার ছবি তুলতে বাধা দেয়।

  • ঘুম থেকে জাগিয়ে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শিক্ষক গ্রেফতার

    ঘুম থেকে জাগিয়ে শিক্ষার্থীকে বলাৎকার, শিক্ষক গ্রেফতার

    নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে (১১) বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক মুনির উদ্দিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে পৌরসভার রামদী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মুনির উদ্দিন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শালদাহ গ্রামের (২নং ওয়ার্ড) আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসুরহাট পৌরসভার রামদী এলাকার ওই শিশুটিকে স্থানীয় মেমোরিয়াল নুরানী হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এক বছর আগে ভর্তি করা হয়। মাদরাসার হোস্টেলে ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত থেকে লেখাপড়া করতো। রোববার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক মুনির উদ্দিন ওই শিক্ষার্থীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে নিজের রুমে নিয়ে বলাৎকার করেন। এর আগেও কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা কাউকে জানালে ওই শিক্ষক তাকে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়ার ভয় দেখান। ওই শিক্ষার্থী রোববার রাতের ঘটনায় অসুস্থ হয়ে সোমবার সকালে বাড়িতে গিয়ে তার মা-বাবাকে এসব ঘটনা জানায়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক মুনির উদ্দিনকে সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মুনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হবে

  • অবশেষে সেই বিতর্কিত ডিআইজি মিজান বরখাস্ত !

    অবশেষে সেই বিতর্কিত ডিআইজি মিজান বরখাস্ত !

    বরিশালের ছেলে ডিআইজি মিজানকে বরখাস্ত করে তার বিষয়ে আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। ডিআইজি মিজানকে ইতিমধ্যে ওএসডি করা হয়েছে। আইন অনুযায়ীই তার শাস্তির বিধান হচ্ছে’।

    প্রসঙ্গত, এক নারীকে জোর করে বিয়ে এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলার পর পুলিশ সদর দপ্তরে এতদিন সংযুক্ত ছিলেন আলোচিত ডিআইজি মিজানুর রহমান। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদনও পাঠিয়েছিল পুলিশ সদরদপ্তর। অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় গত বছরের ২৫ এপ্রিল ডিআইজি মিজানকে তলব করে দুদক।

    এছাড়াও, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অস্ত্রের মুখে এক টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ পাঠককেও তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের এক কর্মকর্তাকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার দাবি ও তাদের কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেন ডিআইজি মিজান।

    গত ১৬ই জুন, ডিআইজি মিজানকে এখনও কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা তা জানতে চান দেশের সর্বোচ্চ আদালতও।

  • বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন খাবার পাচ্ছে বন্দীরা

    বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নতুন খাবার পাচ্ছে বন্দীরা

    কারাগারের প্রধান ফটকে বড় অক্ষরে লেখা “রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ” বাক্যটি এখন শুধু স্লোগান নয়। বাক্যটি বাস্তবায়ন করার লক্ষে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়ে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তারই ধারাবাহিকতায় এসকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কারাকতৃপক্ষ।
    প্রায় আড়াইশ’ বছর পর কারাবন্দীদের সকালের নাস্তার তালিকা পরিবর্তন এনে সকালের নাস্তায় নতুন তালিকায় থাকছে ভুনা খিচুড়ি, সবজি ও হালুয়া রুটি। একই সঙ্গে, শিঘ্রই স্বজনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পাবে কারাবন্দীরা।
    গত ১৬ জুন কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
    সেই সাথে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে সকালে খাবারে তালিকায় পরির্বতন হওয়ায় সাধারন বন্দীদের মুখে হাসি ফুঠেছে বলে জানিয়েছে কারাগার থেকে সদ্য মুক্তিপাপ্ত ব্যক্তি।
    জেলার ইউনুস জামান জানান, এর আগে ব্রিটিশ আমল থেকে কারাগারে বন্দীরা সকালের নাস্তায় পেতেন ১৪.৫৮ গ্রাম গুড় এবং ১১৬.৬ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি)। একই পরিমাণ গুড়ের সঙ্গে একজন বন্দী পেতেন ৮৭.৬৮ গ্রাম আটা (সমপরিমাণ রুটি)। আর সরকারের নির্দেশ মতে এখন সকালের নাস্তার নতুন তালিকায় কারাবন্দীরা সপ্তাহে দুদিন পাবেন ভুনা খিচুড়ি, চারদিন সবজি-রুটি, বাকি একদিন হালুয়া-রুটি।
    তিনি আরো জানান, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার এখন আর সাধারন কয়েদী-হাজতিদের দুঃখ, কষ্ট করে সাজা ভোগ করতে হবে না। কারন সরকার বন্দীর জন্য দিয়েছেন নানা সুবিধা।
    জানা গেছে- প্রিয়জন ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগে কারাবন্দিদের জন্য চালু করা হয়েছে “প্রিজন লিঙ্ক স্বজন” সার্ভিস। বন্দীরা যেন প্রিয়জনদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে পারেন সেজন্য “প্রিজন লিংক স্বজন” সার্ভিস শিঘ্রই চালু করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ নির্দেশ পেলে এ সার্ভিস চালু করা হবে।
    সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একাধীক ব্যক্তি জানান, সকালের নাস্তার মেনু পরির্বতনের বন্দী সবাই খুশি। জেল খানার খাবার এ রকম কোন দিন পরির্বতন হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। তা ছাড়া আগের তুলনায় দুপুর ও রাতের খাবারের মান পরির্বতন করছে কারাকতৃপক্ষ। এখন মানসম্মত খাবার পেটভরে সব বন্দীরা খেতে পারে।
    কারাবন্দীরা মুক্তির পর যাতে পুনরায় অপরাধে না জড়ান এবং সংশোধনের সুযোগ পান সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বন্দীরা কারাগারে থেকে মানসিক প্রশান্তি পেলে তাদের অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে মনে করেন সুশিল সমাজ। তাই সরকারের এমন উদ্যোগকে সাদুবাদ জানিয়েছেন কারাবন্দীরা।

  • অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারলে ডিসিদের চাকরি ছাড়তে বললেন হাইকোর্ট

    অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে না পারলে ডিসিদের চাকরি ছাড়তে বললেন হাইকোর্ট

    নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারলে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চাকরি ছেড়ে দিতে বলেছেন হাইকোর্ট। রাজশাহীর তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া রিটের শুনানিকালে সোমবার (১৭ জুন) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

    আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

    এরআগে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রাজশাহীর আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

    রিটের শুনানিকালে আদালত বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের রয়েছে। এরপরও যদি পদক্ষেপ না নেন, তবে তারা চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।’

    এরপর আদালত রাজশাহীর তালাইমারী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তেলন বন্ধে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আগামী ২৩ জুনের মধ্যে হাইকোর্টকে জানাতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, রাজশাহীর তালাইমারীর কাজলা এলাকায় পদ্মা নদী থেকে এক ব্যক্তি ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বালু মহাল ইজারা নেওয়া আনোয়ার হোসেন। এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনও সমাধান না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

  • ফার্মেসির মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের ভেতর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

    ফার্মেসির মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের ভেতর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

    ঢাকার ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে বিক্রি হওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের ভেতর সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এক রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    সোমবার দায়ের করা ওই রিটে ঢাকার ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হয় উল্লেখ করে তা বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

    এর আগে গত ১১ জুন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।

    ফার্মগেটের খামারবাড়িতে আ কা মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী মিলনায়তনে ‘বিশ্ব নিরাপদ খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

    মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সেদিন বলেন, গত ৬ মাসে নিয়মিত বাজার তদারকির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার আইনের বিভিন্ন ধারায় অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

  • জামিন আবেদন নাকচ, ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে

    জামিন আবেদন নাকচ, ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আসসামস জগলুল হোসেন এই আদেশ দেন।

    এর আগে বেলা ২ টা ২০ মিনিটে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানির শুরুতে মামলার বাদী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক আদালতকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আইনের সেবক হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাননি। আদালত যেদিন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন তারপর তিনি সরাসরি আপনার আদালতে হাজির হতে পারতেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে পারতেন। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেম তা না করে পালিয়েছিলেন।

    সৈয়দ সাইয়েদুল হক আদালতের কাছে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তা পুলিশ বাহিনীর জন্য কলঙ্ক।

    জামিন আবেদন নাকচ করে আসামি সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন সাইবার ট্রাইব্যুনালের পিপি নজরুল ইসলাম শামীম। সাবেক ওসি আসামি মোয়াজ্জেমের জামিন চান তাঁর আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ।

    মোয়াজ্জেমের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ আদালতকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য তাঁর মক্কেল হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে।

    ফারুক আহম্মেদ আদালতের কাছে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। পত্রিকা মারফত তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ জন্য আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। পালিয়ে বিদেশে যাননি।

    আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ৩০ জুন নতুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।

    হাজতখানা থেকে এজলাসে: ওসি মোয়াজ্জেমকে গতকাল রোববার হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। আজ সকাল থেকে আদালত চত্বরে পুলিশ এবং গণমাধ্যম কর্মীরা ভিড় করতে থাকেন।

    প্রিজনভ্যানে করে মোয়াজ্জেমকে দুপুর সাড়ে ১২ টার পর ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ২ টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোয়াজ্জেমকে হাজির করা হয়। আদালতে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পুলিশ বাহিনীর সদস্য কড়া নিরাপত্তা দিয়ে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমকে আদালতে তোলে। মোয়াজ্জেম এ সময় মাথা নিচু করে ছিলেন। আদালতের এজলাসে তোলার পর উপস্থিত আইনজীবীরা মোয়াজ্জেমের হাতে হাতকড়া পরানোর দাবি তোলেন। এরপর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে তাঁকে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। জনাকীর্ণ আদালতে তখন শুনানি শুরু হয়।

    মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তাঁর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

    ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর দুই দিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। তখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলেছে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি।

    পুলিশের এই গড়িমসির সুযোগে মোয়াজ্জেম হোসেন সটকে পড়েন। এর আগে তাঁর মুঠোফোনটি সচল থাকলেও একপর্যায়ে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক।

  • জানালার ফাঁক দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর পোশাক বদলের ভিডিওধারণ

    জানালার ফাঁক দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর পোশাক বদলের ভিডিওধারণ

    পর্নোগ্রাফি মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে দোহার থানার পুলিশ। তারা হলেন মো. আব্দুস সালাম (৩৫) ও মাসুদ রানা (৩২)। তারা দোহারের লটাখোলা বিলেরপাড় এলাকায় গোপনে গৃহবধূর পোশাক বদলের ভিডিওধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।

    পুলিশ জানায়, লটাখোলা বিলেরপাড় এলাকায় গত ২৭ মে রাতে এক দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী (নাম গোপন রাখা হলো) ঘরে পোশাক পরিবর্তন করার সময় জানালার ফাঁক দিয়ে ভিডিওধারণ করে একই এলাকার সালাম, মাসুদ রানা, কাউছারসহ আরও দু-তিনজন। এরপর ২৯ মে বিকেলে তারা ওই গৃহবধূর বাসায় গিয়ে নগ্ন ভিডিও ও ছবি প্রদর্শন করে।

    এসময় তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল করে দেবে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই গৃহবধূ ঘরে থাকা ২০ হাজার টাকা তাদের দেয়।

    উপায় না পেয়ে তিনি বিষয়টি দোহার থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দু-তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এরপর দোহার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন গৃহবধূকে চাঁদা দেয়ার জন্য রাজি হতে বলে ফাঁদ পাতেন।সেই ফাঁদে ধরা খায় আসামিরা।

    গত ১৪ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুনরায় তারা ওই গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দুজনকে হাতে নাতে ধরে।

    এ বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তাদের কাছ থেকে ওই নারীর ভিডিওসহ মোবাইল উদ্ধার করে সোমবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

  • দেশে ফিরল ভারতে পাচার ৬ কিশোরী ও নারী

    দেশে ফিরল ভারতে পাচার ৬ কিশোরী ও নারী

    বাংলাদেশে ফিরেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া ৬ কিশোরী ও নারী। রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়।

    ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ৫১ বিএন বিএসএফের কমান্ড্যান্ট শ্রী কে উমেশ আনুষ্ঠানিকভাবে পঞ্চগড় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৮ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হকের কাছে তাদের হস্তান্তর করেন।

    এ সময় তেতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে তেতুলিয়া থানা পুলিশ ওই কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তেতুলিয়া থানায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে তাদেরকে দিনাজপুরে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন পরে সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কিশোরী ও নারীদের অভিভাবকরা।

    বিজিবি, পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা জানান, পাচারকারীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথে অবৈধভাবে তাদের ভারতে নিয়ে যান। পরে তাদের ভারতের চেন্নাইয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরা এক বছর থেকে ৭ বছর ধরে ভারতের চেন্নাইয়ে অবস্থান করছিল। ভারতীয় পুলিশ চেন্নাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের ধরে আদালতের মাধ্যমে চেন্নাইয়ের সরকারি একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখেন। সেখান থেকে তাদের ১৫ জুন ভারতের শিলিগুড়ি নিয়ে আসা হয়। ভারতের শিলং এর ইমপালস এনজিও নেটওয়ার্ক নামে একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের একটি এনজিওর (ব্র্যাক) সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য আদান প্রদান করে পাচারকারী কিশোরী ও নারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন। উভয় দেশের এনজিও পাচারকারীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে নিয়ে আসেন।

    দেশে ফিরল ভারতে পাচার ৬ কিশোরী ও নারী

    সিভিল সার্জন অফিসের একটি মেডিক্যাল টিম কিশোরী ও নারীদের তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারি পরীক্ষা করেন। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় তেঁতুলিয়া মডেল থানায়। সেখানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে বিকালে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় দিনাজপুর। সেখানে সোমবার তাদেরকে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    নড়াইলের এক কিশোরীর মা জানান, ‘৭ বছর আগে আমার মেয়েকে তার ১২ বছর বয়সে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয়। দীর্ঘদিন খুঁজেও আমার মেয়ের কোন খোঁজ পাইনি। আজ আমার মেয়েকে আমি ফিরে পেলাম। কত দিন তাকে দেখিনা। আমি বোঝাতে পারবো না আমার কতটা ভাল লাগছে। তবে আমরা চাই পাচার চক্রের সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।’

    তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ কে আজাদ জানান, ‘ওই কিশোরী ও নারীদের নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রিপোর্ট পেলে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’

    দেশে ফিরল ভারতে পাচার ৬ কিশোরী ও নারী

    তেতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘দালালরা তাদের চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতে পাচার করে। তারা ভারতের চেন্নাই পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। এরপর তাদের চেন্নাইয়ের একটি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রে তাদের রাখা হয়। পরে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়। প্রায় এক বছর ধরে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালির পর তাদের বিশেষ ট্র্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে ফেরত আসাদের তেতুলিয়া থানায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে। ওই এনজিওটি পাচার হওয়া কিশোরী ও নারীদের কাউন্সিলিংয়ের পর বৈধ পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হবে। পাচার হওয়া নারী ও কিশোরীরা কেউ ৭ বছর থেকে এক বছর আগে ভারতের চেন্নাইয়ে পাচার করা হয়।’

    পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হক জানান, ‘বিএসএফ বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে তাদের নিয়ে আসে। পরে তারা আমাদের হাতে হস্তান্তর করেন। আমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করি।