Category: প্রশাসন

  • ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও শক্তিশালী!

    ডিআইজি মিজান কি দুদকের চেয়েও শক্তিশালী!

    পুলিশের বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে এখনো গ্রেফতার না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

    রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ উষ্মা প্রকাশ করেন।

    আদালত দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘ডিআইজি মিজানকে কেন এখনো গ্রেফতার করছেন না? সে কি দুদকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?’

    দুদক আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ‘আপনাদের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। যেখানে দুদক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সেই প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যিই অ্যালার্মিং।’

    আদালত আরও বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওই টাকার বিপরীতে বন্ধককৃত সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টে আবার রিট করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’

    রোববার হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামের জামিনসংক্রান্ত শুনানির সময় আদালত এসব মন্তব্য করেন। পরে আদালত জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

    প্রসঙ্গত, ‘তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার!’ শিরোনামে ৭ জানুয়ারি যুগান্তরে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ‘এক সংবাদপাঠিকার জীবনও বিষিয়ে তুলেছেন ডিআইজি মিজান’ শিরোনামে পরদিন ৮ জানুয়ারি আরও একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে।

    এরপর নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বিতর্কিত এই ডিআইজি মিজানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

    এদিকে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত বিতর্কিত ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপুল অংকের অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

    অনুসন্ধান শেষে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির।

    ডিআইজি মিজান ছাড়াও তার এক ভাই ও ভাগ্নের নামে করা সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়।

  • যেভাবে গ্রেফতার হলেন দাড়ি-গোঁফওয়ালা ওসি মোয়াজ্জেম

    যেভাবে গ্রেফতার হলেন দাড়ি-গোঁফওয়ালা ওসি মোয়াজ্জেম

    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর রোববার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগেও তিনি জামিন আবেদনের জন্য হাইকোর্টে গিয়েছিলেন।

    তবে সেখানে তাকে দেখে চিনতে পারেননি কেউ। হাইকোর্টে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবাক হন দাড়ি-গোঁফ ওয়ালা মোয়াজ্জেমকে দেখে।

    গোয়েন্দারা জানান, নুসরাত হত্যার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মোয়াজ্জেম হোসেনের যে ছবি ছড়িয়েছিল, আজকে গ্রেফতার হওয়া মোয়াজ্জেমের সঙ্গে সেই চেহারার মিল খুঁজতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

    রোববার (১৬ জুন) দুপুরে তিনি যখন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে আসেন তখন থেকেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর ছিলেন গোয়েন্দারা।

    দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সকালে ওসি মোয়াজ্জেম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আসার পর প্রথমে সুপ্রিম কোর্টের ১১১ নম্বর কক্ষে বসেন। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেয়।

    তবে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘শাহবাগ থানাধীন কদম ফোয়ারার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল তিনি সেখানে থাকতে পারেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম দুপুরে কৌশলে জামিন আবেদন করেন। এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশিদ বলেন, বেলা ১টার দিকে আইনজীবী সালমা সুলতানা একটি জামিন আবেদন শুনানি করতে সংশ্লিষ্ট আদালতে উপস্থাপন (ম্যানশন) করেন। কিন্তু তিনি তখন বলেননি যে ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন।

    তিনি জানান, আজ আদালতে একমাত্র জামিন আবেদন ছিল এটি। যখন আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাকে ফোন দেন তখনই আমার মনে সন্দেহ হয় এটা ওসি মোয়াজ্জেমের জামিন আবেদন। এর আগে ওসির পক্ষে অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জামিন আবেদন করেছিলেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

    রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ জামিন আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

    এর আগে ফেনীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

    মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তার দিন দশেক আগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

    ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওইদিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

    এ বিষয়ে পিবিআইয়ের এএসপি রিমা সুলতানা বলেছিলেন, ‘তদন্তের সব তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই শেষে ওই ওসির বিরুদ্ধে থানায় বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়াসহ প্রত্যেকটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।’

    পরোয়ানা জারির দুইদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে বিলম্ব নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকারের নানা রকম সমালোচনা চলছিল।

  • নেশার টাকা না দেয়ায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন

    নেশার টাকা না দেয়ায় ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন

    গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নেশার টাকা না দেয়ায় ছেলে আবুল কালাম শেখের ছুরিকাঘাতে মা তাহেরা বেগম (৪৫) শনিবার রাতে খুন হয়েছেন। নিহত তাহেরা বেগম ওই উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বগারভিটা গ্রামের তারাজুল ইসলামের স্ত্রী।

    রবিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আবুল কালাম একজন নেশাখোর। সে প্রায়ই মায়ের কাছে নেশার টাকা আদায় করতো। ওইদিন সন্ধ্যায় সে মা তাহেরা বেগমের কাছে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কালাম তার মা তাহেরা বেগমের কোমরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত তাহেরা বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়ির লোকজন সাথে সাথে তাকে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এরপর আবুল কালাম পালিয়ে যায়।

    রবিবার ঘাতক আবুল কালামকে বাড়ির অদূরে একটি পরিত্যক্ত শ্যালো মেশিনের ঘর থেকে গ্রামবাসী আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক আবুল কালাম এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

  • সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এজন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।

    আজ রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী পর্ষদ পদোন্নতির জন্য এমন সব সেনা কর্মকর্তাদের সুপারিশ করবে যাদের দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্য রয়েছে।

    তিনি বলেন, জাতির পিতা উন্নত ও পেশাদার সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে ১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। সেই আলোকেই বর্তমান সরকার একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আর্ম ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছে।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেই এদেশ শাসন করেছেন। এর আগে যারা শাসন করেন তাদের কারোই জন্ম এদেশে নয়।

    প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতার বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা গড়ার জন্যই তার সরকার নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। যেখানে কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাকে স্বাগত জানান।

    প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হুসেইন ভুইয়া এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

  • বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

    টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় নেভি সিগারেট কোম্পানির গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

    ওই ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাজেট ঘোষণার পর নিজে থেকেই দাম বাড়িয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করছিলেন তিনি।

    শনিবার দুপুরে সিগারেটের ওই গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দেব নাথ।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দেব নাথ বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী পণ্যে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    এছাড়া বিপুল পরিমাণ নেভি ও শেখ সিগারেট জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৬

    মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৬

    মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় নরসিংদীর হাজিপুরে জান্নাতি নামে ১০ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জন গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবার রাতে নিহত জান্নাতির বাবা বাদি হয়ে শাশুরি শান্তি বেগমকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে, একই ঘটনায় আদালতেও মামলা দায়ের করা হয়।

    মামলার আসামিরা হলেন- নিহত জান্নাতির শাশুরি শান্তি বেগম (৪৫), স্বামী শিপলু ওরফে শিবু (২৩), ফাল্গুনী বেগম (২০) ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়া (৫০)। সকলেই চর হাজিপুরের খাসেরচর গ্রামের বাসিন্দা।
    শনিবার রাত থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন- মাদক ব্যবসায়ী শান্তি বেগমের বোন সাথী আক্তার, দেবর নওসের মিয়া, খালা পারুল বেগম, খালাতো ভাই টিউলিপ, মামা রতন মিয়া ও খালাত ভাই জাহাঙ্গীর।

    মামলার এজাহার ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ বছর আগে নরসিংদী সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের শরীফুল ইসলাম খানের ১০ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে জান্নাতি আক্তারের (১৬) সাথে পার্শ্ববর্তী খাসেরচর গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে শিপলু মিয়ার প্রেম হয়। কিছুদিন পরই পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বামীর আসল রুপ বেরিয়ে আসে। স্ত্রী জান্নাতিকে পারিবারিক মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত করতে মাদক ব্যবসায়ী শাশুরি শান্তি বেগম ও স্বামী শিপলু চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এতে রাজি হয়নি জান্নাতি। ফলে জান্নাতির উপর নেমে আসে কঠোর নির্যাতন। যৌতুকের টাকা না দেয়া ও মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় শাশুরি শান্তি বেগম ও তার মেয়ে ফাল্গুনী বেগম ও স্বামী শিপলু জান্নাতির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। দগ্ধ হয়ে ছটফট করলেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। পরে এলাকাবাসীর চাপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

    ঘটনার পর ২৫ এপ্রিল নিহতের দাদা মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম খান আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে। কিন্তু পৌনে দুই মাসের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি পিবিআই। এরই মধ্যে দীর্ঘ ৪০ দিন মৃত্যু যন্ত্রণার পর গত ৩০ মে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পৌনে দুই মাস পার হলেও আসামিরা গ্রেফতার হয়নি।

    সর্বশেষ শনিবার রাতে জান্নাতিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ত না হওয়ায় পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে শাশুরি শান্তি বেগম, স্বামী শিপলু ওরফে শিবু, ফাল্গুনী বেগম ও শ্বশুর হুমায়ন মিয়াকে আসামি করে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পর পরই আসামি গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান শুরু হয়। তাদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব বলা যাচ্ছে না। তবে অচিরেই এজাহার নামীয় আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

  • মেজর সেজে একাধিক বিয়ে, অবশেষে সাভারে গ্রেফতার

    মেজর সেজে একাধিক বিয়ে, অবশেষে সাভারে গ্রেফতার

    ফেসবুকে নিজেকে মেজর সাজিয়েছেন। তারপর টার্গেট করে মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। কাউকে চাকরি বা নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সম্পর্ক তৈরি করে। এরপর নানা কায়দায় টাকা হাতিয়ে নেন।

    এখানেই শেষ নয়। তারপর স্ব শরীরে মেয়ের পরিবারের কাছে হাজির। সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব। মেয়ে হিন্দু পরিবারের হলে, নিজেকে হিন্দু ধর্মালম্বী বলেই পরিচয় দেয়। পরিবার বলতে নিজের স্ত্রী মেঘলাকে বোন পরিচয় করিয়ে দেয় এই ভুয়া মেজর জাহিদ ওরফে সমির।

    আশুলিয়ায় এক ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (১৫ জুন) সকালে র‌্যাব-৪ এর একটি দল সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাকে। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানায়। বর্তমানে তার স্ত্রী মেঘলাকে নিয়ে টাঙ্গাইলের কালীহাতি থানার অস্তিপাড়া গ্রামে বসবাস করে আসছিলেন তিনি।

    আশুলিয়ার ওই ভুক্তভোগী নারী জানান, তার সঙ্গে মেজর সেজে ফেসবুকে পরিচয় হয় জাহিদের। পরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় তিনি। তবে দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও চাকরির কোনও খবর নেই। পরে হঠাৎ একদিন বাসায় উপস্থিত হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয় ও নিজেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বলে জানায়।

    বাবা পুলিশ কমিশনার। দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই মেঘলা নামে এক নারীকে নিজের বোন পরিচয় দিয়ে বিয়ের কথা বলে। গত বছরের ২৫ নভেম্বর হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে বিয়ে হয়। সাভারে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকি। জাহিদ মাঝে মধ্যে রাতে আসতো, আবার ভোরে চলে যেতে। এর মধ্যে আমি জানতে পারি, জাহিদ ভুয়া মেজর ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী। এছাড়া সে একইভাবে প্রতারণা করে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিয়ে করেছে ও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

    এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার এস আই কামরুল ইসলাম জানান, শনিবার দুপুরে ভুয়া মেজর জাহিদকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে ভুক্তভোগী নারী ও পরিবার যোগাযোগ করছে। তাদের প্রতারিত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভুয়া মেজর জাহিদের স্ত্রী মেঘলাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। কারণ এই প্রতারণার সঙ্গে মেঘলা জড়িত রয়েছেন। কারণ স্ত্রী মেঘলাকে প্রেমের ক্ষেত্রে ও অন্য নারীকে বিয়ের সময় তার বোন বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন জাহিদ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন।

  • রাম দা দেখিয়ে জবর দখল, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    রাম দা দেখিয়ে জবর দখল, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

    দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জমি জবর দখলের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ডোয়াইল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন।

    রোববার সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানায় শাকিলা জাহান চাঁন বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করলে ওইদিনই থানা এলাকা থেকে যুবলীগ নেতা কামালকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    মামলা সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার মাজালিয়া বিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের নিকট থেকে ১৯৫৩ সালে হাসড়া মাজালিয়া মৌজার ৬১ শতাংশ জমি সাফ কওলা মূলে মনিরুদ্দিনের ছেলে মৃত মোজাফফর মৃত জন শেখ মালিকানায় ভোগ দখল কর আসছিল। যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন প্রকৃত ভূমি মালিকদের লাগানো প্রায় অর্ধ শতাধিক ফলজ ও বনজ বৃক্ষ কেটে নিয়ে যায়।

    এছাড়াও বাড়ীর আঙ্গীনায় থাকা শতাধিক কলা গাছ ও সবজী বাগানের ক্ষতি সাধন এবং জমিতে একটি ছাপড়া ঘর উত্তোলনসহ জমি জবর দখলের চেষ্টা করে। এসময় প্রকৃত জমির মালিক আলতাব হোসেন ও তার লোকজন বাধা দিতে গেলে যুবলীগ নেতা কামাল সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে।

    এ সময় আলতাব হোসেন (৪৫) রুবেল (২৪) কাদের (৪৫) তোতা (৩৮), চানমিয়া (৫০), ঝর্ণা (৩২), রওশনারা (৩৮) অনিক (১২), তকির (১৪), রিপন (১৩) আহত হয়। গুরুতর আহতদের উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে বাকীদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    এ ব্যাপার সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজেদুর রহমান বলেন, অস্ত্রের মহগা দিয়ে জমি দখলের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ১নং আসামী কামাল হোসেনকে মামলা সংক্রান্তে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • হাত-পা বেঁধে নারীকে গণধর্ষণ, দুই যুবক গ্রেফতার

    হাত-পা বেঁধে নারীকে গণধর্ষণ, দুই যুবক গ্রেফতার

    লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হাত-পা বেঁধে এক নারীকে (৫০) গণধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চর আবাবিল গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বুধবার (১২ জুন) রাতে উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

    থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতাররা হলেন- মো. মাসুদ (২৫) ও বাচ্চু (২৭)। মাসুদ উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মাঝির ছেলে ও বাচ্চু ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ আহমেদ ব্যাপারীর ছেলে।

    স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক রিকশাচালকের ঘরে বুধবার গভীর রাতে কয়েক যুবক ঢুকে তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী অচেতন হয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে ধর্ষকরা নির্যাতিতকে রাতেই পাশের চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

    এ সময় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে নির্যাতিত নারী রোববার সকালে থানায় এসে পুলিশকে জানান। পরে থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে চর আবাবিল গ্রাম থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে।

    জানতে চাইলে উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদ উল্যা বলেন, মর্মান্তিক ঘটনাটি আমি আজই শুনেছি। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া বলেন, নির্যাতিত নারী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। এরই মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

  • রক্তাক্ত অবস্থায় মাছের ঘেরে স্কুলছাত্রীকে ফেলে গেল ধর্ষক

    রক্তাক্ত অবস্থায় মাছের ঘেরে স্কুলছাত্রীকে ফেলে গেল ধর্ষক

    পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে মাছের ঘেরে ফেলে গেছে ধর্ষক।

    শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের তারাকান্ত রায়ের মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।

    ধর্ষণে সহায়তার ঘটনায় গৌতম শিকারী (২০) নামে এক যুবককে রোববার দুপুরে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত গৌতম শিকারী উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের গৌর শিকারীর ছেলে।

    নাজিরপুর থানা পুলিশের ওসি মো. জাকারিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণে সহায়তাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তার মেয়ে উপজেলার পশ্চিম যুগিয়া গ্রামে দাদা-দাদির কাছে থেকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

    শনিবার রাত ১০টার দিকে একই গ্রামের গৌর শিকারীর ছেলে গৌতম শিকারী ও রবিন শিকারীর ছেলে রমেন শিকারী মেয়ের মুখে গামছা বেঁধে কান্তরায়ের মাছের ঘেরে নিয়ে যায়। সেখানে রমেন শিকারী মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় তারা। মেয়েকে ঘরে না পেয়ে দাদা-দাদি স্থানীয়দের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করে রাত ১২টার দিকে ওই ঘের থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা করেছি। ধর্ষকের উপযুক্ত বিচার চাই আমি।