
Category: প্রশাসন
-

মুন্সিগঞ্জে’র জেলা প্রশাসক হলেন নলছিটির কৃতি সন্তান মনিরুজ্জামান তালুকদার
নিজস্ব প্রতিবেদক:ঝালকাঠী জেলার নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের কৃর্তি সন্তান মনিরুজ্জান তালুকদার (খোকন) মুন্সিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদোন্মতি পেয়েছেন।১১ জুন ০৫.০০.০০০০.১৩৯.১৯.০০৫.১৬-২৪৮ নং স্বারকের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মনিরুজ্জামান তালুকদার (খোকন) ছাত্র জীবন ও তার পূর্বের কর্মস্থলেও সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে ব্যাপক সুনামের সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।তিনি ২১ তম বিসিএস এ প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়ে প্রথমে মেহেরপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগাযোগ করেন।পরর্বতীতে চরফ্যশনের এসিল্যান্ড, মুলাদীর ইউএনও, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর সচিব, কুমিল্লার এডিসি, দুদক চেয়্যারম্যানের একান্ত সচিব হয়ে এবার জেলা প্রশাসক, মুন্সিগঞ্জ।প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির পূর্বেও তিনি ২০ তম বিসিএসএ সমবায় ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বরগুনার জেলা সমবায় অফিসার ছিলেন এবং এর আগে পুবালি ব্যাংক লিঃ এর সিনিয়র অফিসার ছিলেন। -

তরুণীর গায়ে ঢিল ছোড়ার অপরাধে ৩ যুবককে গুনতে হলো জরিমানা
মোংলায় এক তরুণীর গায়ে ঢিল ছোড়ায় তিন যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পৌরশহরের মেরিন ড্রাইভ রোডে ঘুরতে আসা ওই তরুণী উত্ত্যক্তের শিকার হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এ জরিমানা করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, পৌর শহরতলীর মনপুরা এলাকার এক তরুণী শুক্রবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফেরিঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে ঘুরতে আসে। সেখানে ওই তরুণীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করাসহ তার গায়ে ঢিল ছোড়ে তিন যুবক।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন যুবককে আটক করে। তিন যুবক ওই তরুণীকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মো. রবিউল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই তিন যুবকের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পৌর শহরের শেহলাবুনিয়ার শাহরিয়ার কবির সবুজ (১৯), কেওড়াতলার আল মামুন (১৭) ও বাতেন সড়কের হাসান আলী (১৮)। পুলিশের হেফাজতে থাকা দণ্ডপ্রাপ্তরা নগদ জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাবেন। জরিমানা না দিলে এক মাসের জেল খাটতে হবে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মো. রবিউল ইসলাম।
-

বরিশালে লঞ্চ থেকে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার
বরিশালে যাত্রীবাহি লঞ্চে অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশালের বন্দর (সাহেবেরহাট) থানাধীন চরমোনাই এলাকায় এ অভিযান চালায় কোষ্টগার্ড।
অভিযানে বরিশাল নদী বন্দর থেকে বাহেরচর গামী এম এল হায়াত লঞ্চে তল্লাশী চালিয়ে একটি আমের ঝুড়ির ভেতর পরিত্যাক্ত অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো পাওয়া যায়। পরে মাদকদ্রব্যগুলো স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছেন কোষ্টগার্ড দক্ষিন জোনের আওয়াতীন বিসিজি স্টেশান বরিশালের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এম শাহজামাল-এসসিপিও (এক্স)।
-

ফরিদপুরে বোনের বাড়িতে ভাইয়ের গলাকাটা লাশ
ফরিদপুরে বোনের বাড়ির একটি কক্ষে মিললো ভায়ের গলাকাটা লাশ। বোনের দাবি, তার ভাইয়ের মস্তিষ্ক বিকৃত ছিল এবং সে বটি দিয়ে নিজেই নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল মহল্লায় অবস্থিত বোন লাকী বিশ্বাসের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত ওই ব্যক্তির নাম শিপন বিশ্বাস (৩০)। তিনি পাশের নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের মৃত মানিক বিশ্বাসের ছেলে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তৃতীয়। শিপন বিবাহিত তবে তার কোন সন্তান ছিল না।
শিপনের বোন লাকী বিশ্বাসের সঙ্গে সাড়ে তিন বছর আগে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল মহল্লার লিটন বিশ্বাসের (৪২) বিয়ে হয়। লিটন বিশ্বাস পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। লিটন বিশ্বাস স্ত্রীকে নিয়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল মহল্লায় অবস্থিত হিরু মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন।
গত বুধবার লিটন বিশ্বাসের বাবা দুলাল বিশ্বাস মারা যান। এ খবর পেয়ে শিপন তার মা আলেয়া বেগমকে নিয়ে বুধবার বিকালে লিটন বিশ্বাসের বাড়িতে আসেন।
শুক্রবার দুলাল বিশ্বাসের মৃত্যু উপলক্ষে বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের পর শিপনের মা বাড়ি ফিরে গেলেও শিপন বোনের বাড়িতে থেকে যান।
লিটনের পরিবারের সদস্য ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির একটি চৌচালা টিনের ঘরের মধ্যে লিটনের গলাকাটা লাশ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।
লাশ উদ্ধারকারী পুলিশ জানায়, শিপনের মৃতদেহটি ঘরের মেঝেতে গলাকাটা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তার পড়নে একটি চেক লুঙ্গি ছিল। গায়ে কোন পোশাক ছিল না। মৃতদেহের পাশে রক্তমাখা একটি বটি ও শিপনের ব্যবহৃত এক জোড়া স্যান্ডেল পাওয়া গেছে। যে ঘরে শিপনের লাশ পাওয়া গেছে সে ঘরের দরজা লাগানো ছিল।
আলফাডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলুমুজ্জামান বলেন, শিপন বিশ্বাস বোনের শ্বশুরের মৃত্যু উপলক্ষে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার বোনের বাড়িতে এসেছিল। তিনি বলেন, গত শুক্রবার সাড়ে সাতটার দিকে শিপন বিশ্বাস যে ঘরে ছিলেন ওই ঘরে তার দুলাভাই লিটন ঢুকে বিশ্বাসের গলাকাটা লাশ দেখতে পান।
মৃত শিপনের বোন লাকি বেগমের দাবি, তার ভাইয়ের মস্তিষ্ক বিকৃত ছিল এবং সে বটি দিয়ে নিজেই নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেছে।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম এ মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে শিপন মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে জানা গেছে। নেশার টাকার জন্য সে মাকে মারপিট করতো। বোনের বাড়িতে এসেও টাকার জন্য বোনকে শাবল নিয়ে মারতে গিয়েছিলেন।
-

সীমান্ত হত্যা ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ : বিএসএফ মহাপরিচালক
সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বলে দাবি করেছেন ফোর্সের মহাপরিচালক শ্রী রজনী কান্ত মিশ্রা।
শনিবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দফতরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথমে উঠে আসে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সীমান্ত এলাকায় অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন, বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম।
তবে ওই সময়ের সীমান্তের হত্যাকাণ্ডকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু’ বলে দাবি করেন বিএসএফ মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, জীবনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বিএসএফ, এ জন্য এখন আমাদের পক্ষ থেকে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে না। তবুও মাঝে মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দু-একটি ঘটনা ঘটে থাকে, যা খুবই সামান্য।
গত মে মাসে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্যাতনে এক বাংলদেশি যুবক নিহতের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, সীমান্তে নিহতের ঘটনা কখনওই হত্যাকাণ্ড নয়, এগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু। আমরা সবসময়ই জীবনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি, এ জন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরপরও মাঝে মধ্যে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যা খুবই সামান্য থেকে সামান্যতম।
এর মধ্যেও যে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয় থানায় মামলা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে বলেও জানান তিনি।
ভারতীয় সীমান্ত হয়েও বাংলদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, ইয়াবার জোগানদাতা তৃতীয় কোনো দেশ। ইয়াবাসহ যে কোনো মাদক পাচারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর।
এদিকে, ফেলানী হত্যার ঘটনাটি আদালতে বিচারাধীন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সীমান্ত এলাকায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এবারের আলোচ্য বিষয়ে ছিল না।
সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। সীমান্তের যেসব এলাকায় গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালান হয়ে সেসব স্থানে সমন্বিত যৌথ টহল পরিচালনাসহ যৌথ কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সীমান্তে নিহতের ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছি।
এবারের সম্মেলনে উভয়পক্ষ সীমান্তে নতুন ক্রাইম ফ্রি জোন চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করে কুমিল্লা এলাকায় দ্বিতীয় ক্রাইম ফ্রি জোন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
গত ১২ জুন থেকে বিজিবি সদর দফতরে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৮তম সীমান্ত সম্মলেন শুরু হয়। সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী রজনী কান্ত মিশ্রার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।
-

১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য আটক
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ১০ হাজার ইয়াবাসহ পুলিশের একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি নগর পুলিশের বন্দর জোনে কর্মরত ছিলেন।শুক্রবার (১৪ জুন) রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং র্যাব যৌথভাবে ইয়াবা উদ্ধারে এ অভিযান চালায়। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার মো. শহীদুল্লাহ জানান, সিদ্দিকুর মোটরসাইকেল যোগে ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে সিজিএস কলোনির বাসায় যাচ্ছিলেন। সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয় এবং ১০ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া নগদ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়।
-

হত্যার পর তরুণীর লাশ ধর্ষণ
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে হত্যার পর ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে (২৮) গ্রেফতার করেছেন র্যাব-১১-এর সদস্যরা।
একই সঙ্গে ধর্ষক সাইফুল ইসলামের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী তরুণীর মোবাইল ফোন ও ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নরসিংদী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানায় র্যাব-১১।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক শমসের উদ্দিন বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী সাবিনা আক্তারের (২১) সঙ্গে একই উপজেলার দুলালপুর গ্রামের হানিফ ফকিরের ছেলে সাইফুল ইসলামের পরিচয় হয়।
এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাবিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে সাইফুল ইসলাম। গত ৮ জুন বিয়ে করার কথা বলে সাবিনাকে বাড়ি থেকে কাজিরচর গ্রামের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে সাবিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করে সে। কিন্তু বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে রাজি হয়নি সাবিনা। পরে সাবিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সাইফুল। হত্যার পর সাবিনার মরদেহ ধর্ষণ করে। পরে সাবিনার মরদেহ কলাবাগানে ফেলে চলে যায়।

র্যাব-১১-এর অধিনায়ক শমসের উদ্দিন আরও বলেন, মরদেহ কলাবাগানে ফেলে চলে যাওয়ার সময় সাবিনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি চলে যায় সাইফুল। ঘটনার পর সে আত্মগোপনে চলে যায়। ৮ জুন স্থানীয় লোকজন কলাবাগানে মরদেহ দেখে শিবপুর থানা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় সাবিনার মা আফিয়া আক্তার বাদী হয়ে শিবপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযানে নামে র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ দল।
এরই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে শিবপুর কলেজ গেট এলাকা থেকে ধর্ষক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাবিনাকে হত্যা ও মরদেহ ধর্ষণের কথা স্বীকার সে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান র্যাব-১১-এর অধিনায়ক শমসের উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিন, র্যাব-১১-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মানিক প্রমুখ।
-

বরিশালে ডাক্তারের কাছে চাঁদা চেয়ে গণধোলাই খেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী
অনলাইন ডেস্ক:
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী নিজেকে স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর এ ঘটনা ঘটে।
গণধোলাইয়ের শিকার জুয়েল হাওলাদার (৩২) বাবুগঞ্জ উপজেলার ঘটকেরচর গ্রামের হাকিম হাওলাদারের ছেলে ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।
গৌরনদী থানা পুলিশের এসআই মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে দেখা করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জুয়েল নিজেকে ‘দৈনিক বাংলার বনে’ পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দেন।
এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন জুয়েল। একপর্যায়ে ডা. জয়নাল আবেদীনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন জুয়েল।
এ সময় বাইরে অপেক্ষারত রোগী ও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জুয়েলকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন।
এসআই মো. তৌহিদুজ্জামান আরও বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সদস্যরা। তবে ডা. জয়নাল আবেদীন এ নিয়ে কোনো ঝামেলা করতে রাজি না হওয়ায় পরে জুয়েলকে ছেড়ে দেয়া হয়।
-

অন্তঃসত্ত্বাকে বেঁধে নির্যাতন : ফেঁসে যাচ্ছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা
শেরপুরের নকলায় গাছে বেঁধে অন্তঃসত্ত্বাকে নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় নকলা থানা পুলিশের ওসি কাজী শাহনেওয়াজ ও এসআই ওমর ফারুককে শোকজ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে জেলা পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য নালিতাবাড়ী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাছ উদ্দিন ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি নকলা শহরের কায়দা এলাকার ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি নির্যাতিতা গৃহবধূ ও তার স্বামীসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
একইসঙ্গে তিনি ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং এজাহারনামীয় আসামিদের বাইরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারো মদদ থাকলে তাদেরকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।
এছাড়া এ ঘটনায় নকলা থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি নাসিমা আক্তারকে (৩৯) পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারিক হাকিম শরীফুল ইসলাম খান আগামী রোববার (১৬ জুন) রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার অপর আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাছ উদ্দিন ভুঁইয়ার পরিদর্শনের সময় পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম, নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে জেলা মহিলা পরিষদ সভানেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মীর নেতৃত্বে উপস্থিত হওয়া নেতৃবৃন্দ অতিরিক্ত ডিআইজির কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন। তারা নকলা থানা পুলিশের ওসি এবং এসআই ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফলতির অভিযোগ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থানায় মামলা নেয়া হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ায় পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে তথ্যানুসন্ধানে এসেছি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (সদর সার্কেল) প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজেই নির্যাতিতা নারীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কারও পার পাওয়ার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে একইদিন বিকেলে আদালতে নির্যাতিতা গৃহবধূর স্বামী শফিউল্লাহর দায়ের করা নালিশি মামলার বিষয়েও ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন জামালপুর পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুজ্জামান।
-

বরিশালে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত-১ আটক-৪
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় মুজাহার হাওলাদার (৬৫) একজন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মুজাহার হাওলাদার উপজেলার কদারপুর ইউনিয়নের পূর্ব ভূতেরদিয়া এলাকার মৃত হাশেম হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, স্থানীয় বাসিন্দা কালাম চাপরাশি, ফারুক চাপরাশি ও কাদের বয়াতিদের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে হাবিব হাওলাদার ও মুজাহার হাওলাদারসহ তাদের স্বজনদের সাথে।
শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে হাবিব হাওলাদারের ছেলে সজিব হাওলাদারকে একা পেয়ে কালাম চাপরাশি ও তার স্বজনরা মিলে মারধর করে। এসময় বাধা দিতে গেলে মুজাহার হাওলাদারও হামলার শিকার হন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিবাকর চন্দ্র দাস জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের শরীরে গুরুত্বর তেমন কোন আঘাতের চিহ দেখা যায়নি। তবে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।