Category: প্রশাসন

  • র‌্যাবের অভিযানে ৫৩ চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী আটক

    র‌্যাবের অভিযানে ৫৩ চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারী আটক

    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকালে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।

    তিনি বলেন, গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত রাজধানীর রমনা, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ ও ওয়ারী এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী চক্রের ৫৩ জন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। এছাড়া চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থ ও চাঁদা উত্তোলনের রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে।

    এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

  • ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৩

    ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৩

    রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিমএমপির নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    মঙ্গলবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৬৬৩ পিস ইয়াবা ও ৮৫ কেজি ৩৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৫টি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • ১৩০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন মানিকগঞ্জের ৩৯ জন

    ১৩০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেলেন মানিকগঞ্জের ৩৯ জন

    মানিকগঞ্জে মাত্র ১৩০ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন ৩৯ জন তরুণ-তরুণী। কোনোরকম ঘুস-তদবির ছাড়াই মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নে চাকরি পাওয়ায় খুশি তারা। স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আনন্দে কেঁদেও ফেলেন অনেকে।

    শনিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান ফলাফল ঘোষণা করেন।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- নিয়োগ বোর্ডের অন্য দুই সদস্য রাজবাড়ী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইন উদ্দিন চৌধুরী ও সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলামসহ মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান।

    পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মার্চ জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ কনস্টেবল পদে ১২০০ চাকরিপ্রার্থীর শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। মাঠ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩২১ জন। ২৯ মার্চ লিখিত পরীক্ষায় ১০০ জন উত্তীর্ণ হন। এদের মধ্য থেকে ৩৯ জন চূড়ান্তভাবে মনোনীত হন। এদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী রয়েছেন।

    চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের একজন মামুন মিয়া। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘পুলিশে চাকরির প্রতি আমার ধারণাই ছিল ভিন্নরকম। কিন্তু ১৩০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করে আমি চাকরির জন্য উত্তীর্ণ হয়েছি। শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই আমাদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এজন্য পুলিশ সুপারকে ধন্যবাদ জানাই।

    প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন বর্ষা আক্তার। বলেন, ‘স্বপ্ন ছিল পুলিশ সদস্য হবো। যখন আবেদন করলাম, তখন অনেকেই বলেছে তদবির আর ঘুস ছাড়া চাকরি হবে না। কিন্তু তদবির আর ঘুস ছাড়াই আমার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে আজ। ব্যাংক ড্রাফট বাবদ মাত্র ১৩০ টাকা খরচ হয়েছে।

    মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান বলেন, আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ কনস্টেবল নিয়োগের একটি যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমাদের এখানে শুধু ভাইবা নেওয়া হয়। যে কারণে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। যারা চাকরি পেয়েছেন তারা বেশিরভাগই হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান।

    পুলিশ সুপার আরও বলেন, উত্তীর্ণরা তাদের নিজ নিজ যোগ্যতাতেই চাকরির জন্য মনোনীত হয়েছেন। আমরা শুরু থেকেই প্রার্থীদের জানিয়েছি তারা যেন কোনো ধরনের দালাল ও মধ্যস্বত্তভোগীদের খপ্পরে না পড়ে। কারণ বাংলাদেশ পুলিশে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই।

  • রাজধানীতে ইয়াবা-আইস-হেরোইনসহ গ্রেফতার ৬৩

    রাজধানীতে ইয়াবা-আইস-হেরোইনসহ গ্রেফতার ৬৩

    রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

    তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৪২১ পিস ইয়াবা, ২৩ গ্রাম হেরোইন, ১৯ কেজি ৯৮৫ গ্রাম (৯০ পুরিয়া) গাঁজা, ৪৫০ বোতল ফেনসিডিল ও ৮০ গ্রাম ভয়ংকর মাদক আইস উদ্ধার করা হয়।

    শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে রোববার (১০ এপ্রিল) সকাল ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

    গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

  • নামাজ পড়ে আসামি ধরলো পুলিশ

    নামাজ পড়ে আসামি ধরলো পুলিশ

    ময়মনসিংহে তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি আল আমীন ওরফে রায়হানকে (৪৫) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে আল আমীন ওরফে রায়হানকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আল আমীন ওরফে রায়হান জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মোতালেবের ছেলে।

    চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রসুন কান্তি দাস জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, আল আমীন ২০১৮ ও ২০২০ সালের তিনটি চেক জালিয়াতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। বিকেলে পাগলা থানার পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন

    শুক্রবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করেন পাগলা থানার উপ-পরিদর্শক মো. জামাল হোসেন।

    উপ-পরিদর্শক মো. জামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আল আমীন ওরফে রায়হান একজন প্রতারক। তার বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন থানা আরও প্রতারণার মামলা রয়েছে। গত ৫ বছর যাবত তিনি পলাতক। পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৮ ও ২০২০ সালের তিনটি চেক জালিয়াতি মামলায় আদালত তাকে সাজা দেন।

    সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানতে পারি, আল আমীন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে বসবাস করছেন। এমন খবর পেয়ে গত শুক্রবার বাহাদুরপুর গ্রামের শরাফত জামে মসজিদে মুসল্লি সেজে নামাজ পড়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার আল আমিন ওরফে রায়হান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি প্রায় ৫ বছর পলাতক থেকে বাহাদুরপুর গ্রামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা ও শরাফত জামে মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৪

    রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৪

    রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রয় ও সেবনের অভিযোগে ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

    শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৬টা থেকে রোববার (৩ এপ্রিল) সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৭২৪ পিস ইয়াবা, ৬০ গ্রাম (৫১ পুরিয়া) হেরোইন, ৭৫ কেজি ৪২০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৩ বোতল ফেনসিডিল ও ২৫ বোতল দেশি মদ জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩০টি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • বুক-মাথার ওপর বসে এএসপি আনিসুলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন আসামিরা

    বুক-মাথার ওপর বসে এএসপি আনিসুলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন আসামিরা

    সরকার অনুমোদিত কোনো হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে এএসপি আনিসুলকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপার্জনের অসৎ উদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান। দৈহিক জখম বা আঘাত বিপজ্জনক এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতেন ডা. মামুন।

    রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ডা. মামুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব কথা উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানা পরিদর্শক (অপারেশন) ফারুক মোল্লা। গত ৯ মার্চ তিনি এ অভিযোগপত্র দেন।

    কোনোভাবে হত্যার দায় এড়াতে পারেন না ডা. মামুন
    মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালটি কেবল অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার জন্য মালিকপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমতি নেয়নি। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় কোনো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জম এবং সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। মাইন্ড এইড হাসপাতালটির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আগে থেকেই জানতেন। এরপরও তিনি সেখানে নিয়মিত চেম্বার করতেন এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিতেন।

    চার্জশিটে বলা হয়, দৈহিক জখম বা আঘাত মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে মর্মে চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানতেন। সুতরাং এ হত্যার দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।

    মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা হয় এএসপি আনিসুলকে
    মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক মোল্লা আরও উল্লেখ করেন, আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও তানিফ মোল্লা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ করেছেন। ডা. মামুনের ইচ্ছেতেই ভুক্তভোগীকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠানো, রোগী পাঠানোর বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সিডিআর, ভিকটিমকে চিকিৎসা দেওয়ার নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা ও মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হৃদরোগ হাসপাতালে বা অন্যত্র ভর্তি দেখিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মর্মে প্রচেষ্টা চালানো, এসব কার্যক্রম মামলার ঘটনায় সমর্থনযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচ্য। তাই ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন পেনাল কোড ৩০২/১০৯ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে তদন্তে প্রমাণিত হয়।

    সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। যে কোনো আঘাতে তার মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা ছিল। এ কথা জানার পরও চিকিৎসার নামে তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ রুমে ঢুকিয়ে অপেশাদার লোক দিয়ে ম্যাট্রেসের ওপর ফেলে দুই হাত বেঁধে নয়জন আসামি মিলে বুক, ঘাড় ও মাথায় আঘাত করেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন আরিফ মাহমুদ জয়। তারা সেদিন এএসপি আনিসুলের মাথার ওপর চেপে বসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছিল।

    সরকার অনুমোদিত কোনো হাসপাতালে ভর্তি না করিয়ে এএসপি আনিসুলকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার আবদুল্লাহ আল মামুন অর্থ উপার্জনের অসৎ উদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠান। দৈহিক জখম বা আঘাত বিপজ্জনক এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতেন ডা. মামুন।

    রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে এএসপি আনিসুলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ডা. মামুনসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব কথা উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানা পরিদর্শক (অপারেশন) ফারুক মোল্লা। গত ৯ মার্চ তিনি এ অভিযোগপত্র দেন।

    কোনোভাবে হত্যার দায় এড়াতে পারেন না ডা. মামুন
    মামলার চার্জশিটে বলা হয়, আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালটি কেবল অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার জন্য মালিকপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার অনুমতি নেয়নি। সেখানে অত্যাবশ্যকীয় কোনো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জম এবং সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। মাইন্ড এইড হাসপাতালটির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আগে থেকেই জানতেন। এরপরও তিনি সেখানে নিয়মিত চেম্বার করতেন এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিতেন।

    চার্জশিটে বলা হয়, দৈহিক জখম বা আঘাত মৃত্যু ঘটাতে পারে বা মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে মর্মে চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানতেন। সুতরাং এ হত্যার দায় তিনি কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।

    মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা হয় এএসপি আনিসুলকে
    মামলার চার্জশিটে তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক মোল্লা আরও উল্লেখ করেন, আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও তানিফ মোল্লা আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ করেছেন। ডা. মামুনের ইচ্ছেতেই ভুক্তভোগীকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠানো, রোগী পাঠানোর বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সিডিআর, ভিকটিমকে চিকিৎসা দেওয়ার নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় আঘাত করা ও মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে হৃদরোগ হাসপাতালে বা অন্যত্র ভর্তি দেখিয়ে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মর্মে প্রচেষ্টা চালানো, এসব কার্যক্রম মামলার ঘটনায় সমর্থনযোগ্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচ্য। তাই ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন পেনাল কোড ৩০২/১০৯ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করেছেন মর্মে প্রাথমিকভাবে তদন্তে প্রমাণিত হয়।

    আরিফের নেতৃত্বে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন ৯ আসামি
    মামলার চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, আসামি আরিফ মাহমুদ জয়ের নেতৃত্বে এজাহারনামীয় আসামি মাসুদ খান (বাবুর্চি), সজীব চৌধুরী (ওয়ার্ড বয়), অসীম কুমার পাল (ওয়ার্ড বয়), তানিফ মোল্যা (ওয়ার্ড বয়), লিটন আহম্মেদ (দারোয়ান), জোবায়ের হোসেন (ওয়ার্ড বয়), তানভীর হাসান (ফার্মাসিস্ট) এবং সাইফুল ইসলাম পলাশ (ওয়ার্ড বয়) চিকিৎসা দেওয়ার নামে ভিকটিম আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন, যা পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ অপরাধ।

    মাইন্ড এইড হাসপালে ছিল না কোনো মানসিক রোগের চিকিৎসক
    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার আসামি মুহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদ ওরফে সোহাগ (মাইন্ড এইড হাসপাতালের এমডি) ও ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বেসরকারি হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। তারা মানসিক রোগীর চিকিৎসক নন। অন্যদিকে আসামি ফাতেমা খাতুন ময়না বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুধুমাত্র মনোরোগ বিষয়ে একটি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনিও মানসিক রোগের চিকিৎসক নন। হাসপাতালের অন্য মালিকদের মধ্যে রেদোয়ান সাব্বির (কো-অর্ডিনেটর), সাজ্জাদ আমিন, সাখাওয়াত হোসেন কেউই মানসিক রোগের চিকিৎসক নন।

    মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণা
    তদন্ত কর্মকর্তা ফারুক মোল্লা চার্জশিটে বলেন, হাসপাতালের মালিকরা বিধিবহির্ভূতভাবে শুধু অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিপ্রায়ে মানসিক চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে মাইন্ড এইড নামক হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতালটিতে অভিজ্ঞ কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছিল না। তাছাড়া অবৈধ হাসপাতালটিতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামাদির ব্যবস্থা নেই। সুতরাং অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির উল্লিখিত মালিকরা এ হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটিকে ত্বরান্বিত ও প্ররোচিত করেছেন, যা পেনাল কেডের ৩০২/১০৯ ধারায় শান্তিযোগ্য অপরাধ।

    মামলার তদন্তকালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত, জব্দ আলামত, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় আসামি আরিফ মাহমুদ জয় (৩৫), মাসুদ খান (৩৮), জোবায়ের হোসেন (১৯), তানিফ মোল্যা (২০), তানভির হাসান (১৮), সজীব চৌধুরি (২১), অসীম কুমার পাল (২৪), লিটন আহম্মেদ (১৮) ও সাইফুল ইসলাম পলাশের (৩৫) বিরুদ্ধে মামলার অপরাধ পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় এবং আসামি রেদোয়ান সাব্বির, ফাতেমা খাতুন ময়না (৪১), এজাহারনামীয় পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাখাওয়াত হোসেন রেমন, সাজ্জাদ আমিন এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামি রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলার অপরাধ পেনাল কোডের ৩০২/১০৯ ধারা মোতাবেক প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলার গ্রেফতার হওয়া অপর আসামি মুহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদ ২০২১ সালের ৫ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যাওয়ায় মামলার দায় হতে তার অব্যাহতির আবেদন করা হয় চার্জশিটে।

    ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনিসুল করিম শিপন রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সে সময় হাসপাতালে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

    এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর আদাবর থানায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন- মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন।

    এ মামলার আসামি মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, পরিচালক ফাতেমা খাতুন ময়না, মুহাম্মাদ নিয়াজ মার্শেদ, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন সেফ মো. মাসুদ, ওয়ার্ড বয় জোবায়ের হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান, ওয়ার্ড বয় মো. তানিম মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, মো. লিটন আহাম্মদ, মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ কারাগারে আছেন।

    অন্যদিকে মামলায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিনে আছেন। এ মামলায় আসামি কিচেন সেফ মাসুদ খান, ওয়ার্ড বয় অসীম চন্দ্র পাল, মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, সজিব চৌধুরী, হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান ও ওয়ার্ড বয় মো. তানিম মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দাখিল করেছে। মামলাটি যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, এ প্রত্যাশা করছি। আসামিদের শাস্তি হলেই আমি শান্তি পাবো।

  • চট্টগ্রামে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

    চট্টগ্রামে ৯ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ৯ বছর বয়সী শিশু ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় মো. শাহীন (১৯) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতার শাহীন সীতাকুণ্ড থানার ইয়াসিন নগর এলাকার নেজাম উদ্দিনের ছেলে।

    বুধবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলার জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ারহাট বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৭।

    র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২৩ মার্চ মাদরাসার ক্লাস শেষে বাড়িতে যাচ্ছিলো তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী। এসময় ওই ছাত্রীর পিছু নেয় শাহীন। ফুসলিয়ে ও ম্যাজিক লাইট দেখানোর কথা বলে ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন তিনি। ছাত্রীর দিনমজুর বাবা-মা কাজের উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে ছিল। ঘরে লোকজন না থাকার সুযোগে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে শাহীন নামে ওই যুবক। এসময় ভিকটিমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে কৌশলে পালিয়ে যায় শাহীন।

    র‌্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, খবর পেয়ে ভিকটিমের বাবা-মা বাসায় এসে ধর্ষিত শিশুকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে (ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) পাঠানো হয়। ভিকটিম এখনও চমেক হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন।

    এদিকে ঘটনার দিন ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। ওই ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে যান শাহীন। বুধবার সন্ধ্যায় শাহীনকে গ্রেফতার করে র‌্যাবের একটি টিম।

    র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফ্লাইট লে. নিয়াজ মো. চপল জাগো নিউজকে বলেন, সীতাকুণ্ডে ৯ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ছায়াতদন্ত করে বারৈয়ারহাট বাজার এলাকা থেকে শাহীনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • ডিএমপির দুই পরিদর্শককে বদলি

    ডিএমপির দুই পরিদর্শককে বদলি

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার দুইজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (৩০ মার্চ) ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের সই করা এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. হারুন আল মাসুদ সরকারকে মিরপুর বিভাগের (পিআই-কাফরুল) ও লাইনওআর পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. খায়রুল হাসান সরকারকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

  • টিপু-প্রীতি হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে মাসুম

    টিপু-প্রীতি হত্যা: ৭ দিনের রিমান্ডে মাসুম

    রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার শুটার মো. মাসুম ওরফে আকাশের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    আজ সোমবার (২৮ মার্চ) তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

    শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে শনিবার (২৬ মার্চ) রাতে বগুড়া জেলা থেকে মাসুমকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    গত ২৪ মার্চ রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে ইসলামী ব্যাংকের পাশে বাটার শো-রুমের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা সামিয়া আফরান প্রীতি (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীও নিহত হন। এছাড়া টিপুর গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

    চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর ওইদিন রাতেই শাহজাহানপুর থানায় নিহত টিপুর স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়।

    মামলার এজাহারে টিপুর স্ত্রী অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানার ২০২ উত্তর শাহজাহানপুর মানামা ভবনের বাটার দোকানের সামনে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা হামলা করেন। তারা আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম টিপুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন।