Category: প্রশাসন

  • জঙ্গি দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল : র‍্যাব ডিজি

    জঙ্গি দমনে বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল : র‍্যাব ডিজি

    প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নীতি ও কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ জঙ্গি-ঝুঁকিমুক্ত। এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বিশ্বে বাংলাদেশকে রোল মডেলে পরিণত করেছে— মন্তব্য করেছেন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

    সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুর্মিটোলা র‍্যাব সদর দপ্তরের শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে সভাপতির বক্তব্যে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব চরমপন্থী, জঙ্গিবাদ, জলদস্যু ও সন্ত্রাস দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেপ্তারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ঈর্ষণীয় ভূমিকা রাখছে। র‌্যাব জল, স্থল ও আকাশে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা-সম্পন্ন একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।


    ‘একটা সময় ছিল যখন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রক্তাক্ত করেছিল চরমপন্থীরা। র‌্যাব সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চরমপন্থীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেশে একটি গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় জঙ্গিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল। তারা এ দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করতে চেয়েছিল। ২১ আগস্ট ওই একই গোষ্ঠীর মদদে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। র‌্যাব হামলা-বাস্তবায়নকারীদের গ্রেনেডসহ গ্রেপ্তার করেছে।

    তিনি বলেন, আমরা সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত করেছি। প্রধানমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে দেশকে মাদকমুক্ত করে মাদকাসক্তদের আলোর মুখ দেখাতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ আজ শান্তিতে বসবাস করছেন। সুন্দরবন অঞ্চলে পর্যটনশিল্প বিকশিত হচ্ছে। আত্মসমর্পণ করা ৩২৮ জলদস্যু পুনর্বাসিত হয়েছেন।


    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন ও বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

  • গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে র‌্যাব

    গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে র‌্যাব

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা উন্নয়নের পূর্বশর্ত। দেশের একমাত্র এলিট ফোর্স র‌্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এরই মধ্যে জননিরাপত্তা রক্ষায় গণমানুষের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

    সোমবার (২৮ মার্চ) সকালে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দপ্তরের শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব চরমপন্থিদের আগ্রাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রক্তাক্ত জনপদে মানুষ পেয়েছে নিরাপদ জীবন। ফলে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রেয়েছে। জঙ্গি দমনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণের নিরাপত্তা সমুন্নত হয়েছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, জলদস্যুতা দমনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিরাজমান। বিভিন্ন হত্যা, খুন, অপহরণ, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে ভিকটিম পরিবারের বিচার পাওয়ার পথ সুগম করেছে। র‌্যাব মানবপাচার বিরোধী অভিযান পরিচালনা ও ভিকটিম উদ্ধার করার ফলে নতুন জীবনের স্বাদ পেয়েছে অনেকে। বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকে। র‌্যাব মানবিক দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

    জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিগত ও বর্তমান সময়ে শীর্ষ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালিয়ে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে এই এলিট ফোর্স। সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি দমনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি ও কৌশলের আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদমনে যে সফল তৎপরতা চালিয়েছে তাতে র‌্যাবের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানসহ শোলাকিয়া, সিলেটের আতিয়া মহল, ঢাকার আশুলিয়া, মিরপুর, তেজগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে ও ঝিনাইদহসহ প্রতিটি জঙ্গি দমন অপারেশনে র‌্যাব তার পেশাদারত্ব ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর র‌্যাব একই দিনে আশুলিয়া, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলে অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে। এই দিন হলি আর্টিজান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও জেএমবি প্রধান সারোয়ার জাহান গ্রেফতার এড়াতে বিল্ডিং থেকে লাফিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। এ ধরনের বহু অভিযান চালিয়ে র‌্যাব জনমনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। পাশাপাশি বিপথগামী জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষে কাজ করছে র‌্যাব। মোটিভেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম সহায়তা প্রদান করে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। র‌্যাবের এই মানবিক উদ্যোগটি সফল হোক। এভাবে র‌্যাব মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

    মাদকের ভয়াল ছোবলের কবলে গ্রাস হচ্ছে অনেক মানুষের জীবন ও সংসার উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মাদক বিস্তার রোধে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই সামাজিক যুদ্ধ এবং অভিযাত্রা আমাদের সফল করতে হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা মাদকবিরোধী অভিযান সুসংহত কারার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলায় একটি পরিপূর্ণ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করেছি। একই সঙ্গে আমরা একটি যুগোপযোগী ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করেছি। গত ১ বছরে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ পিস ইয়াবা, ১৪৯ কেজি হেরোইন, ২৮ কেজি আইস, ১ লাখ ৩৯ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭১১ কোটি টাকা।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, জঙ্গিবাদ দমন, চরমপন্থি দমন, জলদস্যু দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সর্বশেষ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। র‌্যাবের বিশেষ উদ্যোগে র‌্যাব ডি-র্যাডিকালাইজেশন ও রি-হ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রাম ‘নবদিগন্তের পথে’ অত্যন্ত অভিনব ও যুগান্তকারী এই উদ্যোগ। অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় আবার তাদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা। আত্মসমর্পণকৃত ৪২১ জন সন্ত্রাসীদের (জলদস্যু ও জঙ্গি) পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যুক্ত রয়েছে।

    মানবিকতা দিয়ে অপরাধ দমনের এ সাফল্য বিশ্বের বুকে নজিরবিহীন বলেও মন্তব্য করেনন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • কোতয়ালী থানায় গুলি, হাসপাতালে এএসআই

    কোতয়ালী থানায় গুলি, হাসপাতালে এএসআই

    বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সেলিম রেজা নামের এক এএসআই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

    গতকাল শনিবার (২৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে থানার দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে।

    পুলিশের দাবি, সেলিম রেজা গুলিবিদ্ধ হয়নি। তিনি আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তার পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালী) শারমিন সুলতানা রাখি।

    কোতয়ালী মডেল থানার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, থানার দ্বিতীয় তলা থেকে হঠাৎ গুলির শব্দ আসে। উপরে গিয়ে তারা দেখতে পান এএসআই সেলিম রেজা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়।

    সহকারী পুলিশ কমিশনার রাখি বলেন, এএসআই সেলিম রেজা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। এ কারণে তাকে ছুটি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ছুটি নেননি। রাতে ডিউটিতে যাওয়ার জন্য ওপর থেকে নামছিলেন তিনি। হঠাৎ তিনি মাথা ঘুরে সিঁড়ির ওপর পড়ে যান। তখন তার সাথে থাকা পিস্তলের গুলি দুর্ঘটনাবসত বেরিয়ে যায়। তবে তার গায়ে গুলি লাগেনি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার আগে এএসআই সেলিম রেজা গুলি লোড করে নিয়েছিলেন। ডিউটিতে যাওয়ার সময় সব অফিসার গুলি লোড করে নেন। এটার নিয়ম আছে।

    এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. নাজমুল আহসান বলেন, এএসআই সেলিম রেজার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। হতে পারে তিনি সে কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

  • বরিশালে পুলিশের অভিযানে ৬ কেজি গাজাঁসহ আটক ৩

    বরিশালে পুলিশের অভিযানে ৬ কেজি গাজাঁসহ আটক ৩

    বরিশালের কোতয়ালী মডেল থানার পৃথক দুইটি অভিযানে ৬ কেজি গাজাঁসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকৃতরা হলেন-আবুল কালাম আজাদ(৩৯), মোঃ মিজানুর(২২), দেলোয়ার আকন হাওলাদার(৪০)।

    শুক্রবার সকালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।


    বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া রোড অক্সফোর্ড মিশন স্কুলের পূর্ব পাশে পাকা রাস্তায় ও সোনালী আইস্ক্রিমের মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করে।


    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় পৃথক দু’টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।

    অভিযানে অংশ নেন কোতয়ালী মডেল থানার

  • রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫৬

    রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫৬

    বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের থেকে দুই হাজার ৯২৯ পিস ইয়াবা, ১০৫ গ্রাম হেরোইন ও ২৬ কেজি ৩৩৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৩টি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

    রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

    বুধবার (২৩ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকাল ৬টা পর্যন্ত ডিএমপির নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

    বৃহস্পতিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি বলেন, গ্রেফতারের সময় তাদের থেকে দুই হাজার ৯২৯ পিস ইয়াবা, ১০৫ গ্রাম হেরোইন ও ২৬ কেজি ৩৩৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

    গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৩টি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

  • ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ৫ পুলিশ আহত, একজনের অবস্থা গুরুতর

    ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে ৫ পুলিশ আহত, একজনের অবস্থা গুরুতর

    রাজধানীর বংশাল থানার গেটে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম রবি হাসানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল নজরুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর।

    বুধবার (২৩ মার্চ) দিবাগত রাতে বংশাল থানার প্রবেশপথের সামনে আটক করে আনা ছিনতাইকারী ইমনের সুইচ গিয়ারের আঘাতে তারা আহত হন।

    আহতরা হলেন এসআই এম রবি হাসান, এএসআই তাজুল ইসলাম, কনস্টেবল নজরুল, সজীব ও শফিকুল আহত হন।

    বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    ওসি জানান, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকা থেকে ইমন ও জুয়েল নামে দুই ছিনতাইকারীকে পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে তাদের থানার গাড়িতে বংশাল থানার সামনে নিয়ে আসা হয়। থানার প্রবেশপথে গাড়ি থেকে নামিয়ে শরীর তল্লাশি করার সময় হঠাৎ ছিনতাইকারী ইমন সুইচ গিয়ার বের করে পাঁচ পুলিশকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে পাঁচজন আহত হন।

    ওসি আবুল খায়ের বলেন, ‘পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে কনস্টেবল নজরুলের অবস্থা গুরুতর। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘গুরুতর আহত নজরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।’

  • এসআই দুর্জয় ও শাপলার ‘দুর্জয়ের ডায়েরি’ উন্মোচন আজ

    এসআই দুর্জয় ও শাপলার ‘দুর্জয়ের ডায়েরি’ উন্মোচন আজ

    পুলিশ বাহিনীর সাফল্যের গল্প জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাংলাদেশ পুলিশ ‘দুর্জয়ের ডায়েরি’ শীর্ষক একটি গ্রাফিক নভেল ও অ্যানিমেটেড ফিল্ম সিরিজ প্রকাশ করছে।

    সিরিজে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসআই দুর্জয় ও এসআই শাপলাকে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার তদন্ত ও রহস্য উন্মোচন করতে দেখা যাবে। প্রথম দুটি সিরিজের বইয়ে গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনাসহ পাঁচটি গল্প ও পাঁচটি অ্যানিমেশন ফিল্ম দেখানো হবে। এছাড়াও সিরিজটিতে আরও কিছু গল্প থাকবে।

    মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তরের মাল্টিমিডিয়া ও প্রচার বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

    এদিন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে বাংলাদেশ পুলিশ নির্মিত গ্রাফিক নভেল ‘দুর্জয়ের ডায়েরি’ ও অ্যানিমেটেড ফিল্ম সিরিজের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ।

    সদর দপ্তর জানায়, অপরাধ দমনে পুলিশ সব সময় তৎপর। সারাদেশে যেখানেই যাবেন পুলিশ কর্মকর্তাদের পাবেন। কিন্তু মামলা মোকাবিলা করার সময় পুলিশ কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষ পরিচিত নয়। এমনকি মিডিয়া পুলিশের স্বাভাবিক সংগ্রামকেও তেমনভাবে তুলে ধরা হয় না।

    গ্রাফিক ও অ্যানিমেটেড বিষয়বস্তুর ব্যবহার মানুষের হৃদয়ে পৌঁছানোর আকর্ষণীয় উপায়। দুর্জয়ের ডায়েরিতে সে ধরনের গল্পগুলোই থাকবে বলে জানায় পুলিশ সদর দপ্তর।

  • গ্রামকে শহরের আদলে গড়তে বিট পুলিশিংয়ের বিকল্প নেই: আইজিপি

    গ্রামকে শহরের আদলে গড়তে বিট পুলিশিংয়ের বিকল্প নেই: আইজিপি

    বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, বর্তমান সরকার চেষ্টা করছে দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরের আদলে গড়ে তোলার। গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তবেই সরকারের এ প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ নিশ্চিত হবে। তবে এক্ষেত্রে বিট পুলিশিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে বিট পুলিশিং নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগের পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ নির্মিত গ্রাফিক নভেল ‘দুর্জয়ের ডায়েরি’ এবং অ্যানিমেটেড ফিল্ম সিরিজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন প্রতিটি গ্রামই হবে শহর। যে সুযোগের আশায় মানুষ শহরে আসে, সে সুযোগ-সুবিধা গ্রামেই তৈরি হবে। শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাসহ অবকাঠামোগত বিষয়গুলো গ্রামে তৈরি করতে পারলে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাবে। আগামী ২০৩০ সালের দিকে এ চিত্র দেখা যাবে।

    ড. বেনজীর বলেন, গ্রামগুলো শহরের আদলে গড়ে উঠলে তখন নিরাপত্তাও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হবে। নিরাপত্তা ছাড়া গ্রাম শহর হবে না। নিরাপত্তা অক্সিজেনের মতো। মানবদেহ যেমন অক্সিজেন ছাড়া জীবিত থাকতে পারে না, নিরাপত্তা ছাড়াও একটি সমাজ চলতে পারে না। গ্রাম তখনই দ্রুত শহর হয়ে উঠবে, যখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। এজন্য সারাদেশে আমরা বিট পুলিশিং নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে গ্রামে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

    আইজিপি বলেন, একটা সময় ছিল, যখন বিপদে পড়লেই দৌড়ে থানায় যেতে হতো। এখন বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা লোকাল এলাকায় পুলিশি সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করছি। সরকারের কাছে চিঠি লিখে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে কক্ষ নিয়েছি। আমাদের বিট অফিসার ইউনিয়নে গেলে সেই কক্ষে বসতে পারেন। বিট অফিসাররা সুযোগ পেলেই নির্ধারিত তারিখে থানা থেকে ইউনিয়নে যান। আমরা প্রথমবার দেখেছি, বিট পুলিশিংয়ের কারণে ২০-২৫ হাজার মামলা কমে গিয়েছিল।

    বিট পুলিশিং সম্পর্কে পুলিশ ও নাগরিকদের ভালোভাবে জানতে হবে উল্লেখ করে ড. বেনজীর বলেন, বিট পুলিশিং সেবার ক্ষেত্রে বিট পুলিশ ও নাগরিক উভয়পক্ষে আগে ভালো করে জানতে হবে, তারা কি সেবা নিতে এবং দিতে পারবেন কি না। এ কারণেই আমরা গ্রাফিক নভেল ও অ্যানিমেটেড ফিল্ম সিরিজ উদ্বোধন করেছি। এসবের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। গ্রাফিক নভেলের মাধ্যমে আমরা নিরাপত্তাজনিত বার্তাগুলো মানুষকে দিতে চাই। আমরা চাই সেবা নেওয়ার বিষয়ে সেবাগ্রহীতার যেন স্পষ্ট ধারণা থাকে। যিনি সেবা দেবেন কাজের বিষয়ে তার ধারণাও যেন স্পষ্ট থাকে।

    সঠিক ধারণা না থাকলে পুলিশি সেবা দিতে ও নিতে সমস্যা সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে পুলিশপ্রধান বলেন, অনেক সময় দেখা যায় সেবা কোথায় থেকে পেতে পারি সে ধারণা না থাকার কারণে সমস্যা হয়। এমন অনেক অভিযোগও আসে। যেমন- জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় অর্থাৎ দেওয়ানি সংক্রান্ত বিষয় পুলিশের কাজের মধ্যে পড়ে না। অনেকে এ ধরনের সমস্যা নিয়ে এলে আমরা তাদের সেবা দিতে পারি না। সঠিক তথ্য না থাকার কারণে দেওয়ানি সমস্যা নিয়ে আমাদের এলেও আমরা সেবা দিই না। তখন সেবা না পেয়ে ধারণা করেন, পুলিশ অন্য পার্টির কাছ থেকে টাকা খেয়েছে।

    গ্রামকে শহরের আদলে গড়তে বিট পুলিশিংয়ের বিকল্প নেই: আইজিপি

    ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, বিগত বছরগুলোতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যদিও এর মাঝে কিছু বছর গেছে গ্রহণকাল। সেই গ্রহণকাল শেষে আমরা যখন সত্যের আসল দিশা পেয়েছি, তখন থেকে বঙ্গবন্ধুর কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি আবারও শুরু হয়েছে। এসব গবেষণার মাধ্যমে আমরা প্রচুর তথ্য জানতে পেরেছি। পুলিশের পক্ষ থেকেও আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিই। পুলিশের গবেষণাটি বেশ উন্নতমানের। এটি খুব দ্রুত আমরা প্রকাশ করতে চাচ্ছি।

    ‘পুলিশের গবেষণায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে থানা করার স্বপ্ন দেখতেন। উনার স্পষ্ট ধারণা ছিল- স্বাধীনতা পরবর্তী পুলিশ কলোনিয়ান বা সেমি-কলোনিয়ান পুলিশ হবে না। স্বাধীনতা পরবর্তী পুলিশ হবে জনবান্ধব পুলিশ। উনি স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রার সব বিষয় স্পর্শ করেছেন। এমন এমন আইন ও পরিকল্পনা করেছেন যেগুলো এ মুহূর্তেও কারো মাথায় আসবে না’- বলেন আইজিপি।

    পুলিশপ্রধান আরও বলেন, করোনার কারণে মানুষের অর্থনৈতিক কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে অপরাধীদেরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা গেছে। সরকার করোনার প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করে আগের জায়গায় ফিরে যাবে। পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনৈতিক চেহারা সমৃদ্ধ।

    অনুষ্ঠানে র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • ধর্মের দোহাই দিয়ে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা’

    ধর্মের দোহাই দিয়ে ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা’

    বিনিয়োগে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতা শাহ আলমসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

    র‍্যাব বলছে, শাহ আলম ২০১০ সালে নরসিংদীতে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে এ প্রতারণা শুরু করে। তিনি প্রতিষ্ঠাটির চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক ব্যবসায় খুব সহজেই উদ্বুদ্ধ হয়। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    শনিবার (১২ মার্চ) রাতে অভিযান চালিয়ে নরসিংদী থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- মো. দেলোয়ার হোসেন শিকদার (৫২), কাজী মানে উল্লাহ (৪৪), মো. সুমন মোল্লাহ (৩৩) ও আ. হান্নান মোল্লাহ (৩০)।

    রোববার (১৩ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

    তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমবায় সমিতির নামে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতারণার ঘটনা প্রচারে দেশব্যাপী চাঞ্চল্য ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করে।

    খন্দকার আল মঈন বলেন, নরসিংদী জেলার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার সাধারণ মানুষ একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েন। তারা ব্যবসায় অতিরিক্ত লাভের আশায় শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হন। বেশির ভাগ মানুষ তাদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত জমানো অর্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রতারক চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রায় দুইশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

    র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় গুটিয়ে নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সবাই গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নরসিংদী জেলার পলাশ থানায় একটি মামলা করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরেও অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগীরা আইনি সহযোগিতার প্রত্যাশায় নরসিংদীতে অবস্থিত র‍্যাব-১১ এর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর র‍্যাব ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

    ‘গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়- ২০১০ সালে নরসিংদীতে শাহ সুলতান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারক চক্রটি। অতি সুকৌশলে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সুদমুক্ত ব্যবসায় প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতো তারা।’

    তিনি আরও বলেন, চক্রের অন্যতম হোতা শাহ আলম নিজে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে চারটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠান ২৪ জন জনবলের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে। এছাড়া অতিরিক্ত ২০ জন পরিচালক নিয়োগ দেন। তারা আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তিদের পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ দিতেন। পরে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন থানার জনবহুল ও ব্যবসায়ীক এলাকায় জাঁকজমকপূর্ণ শাখা অফিস স্থাপন করে তারা। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- শাহ সুলতান এম.সি.এস. কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, স্বদেশ টেক্সটাইল লিমিটেড, শাহ সুলতান টেক্সটাইল লিমিটেড ও শাহ সুলতান প্রপার্টিজ লিমিটেড।

    কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, মাঠ পর্যায়ে গ্রাহক ও অর্থ সংগ্রহের জন্য গ্রেফতারদের প্রায় তিন শতাধিক কর্মী রয়েছে। যাদের কোনো বেতন দেওয়া হয় না। তাদের গ্রাহকদের বিনিয়োগের মাধ্যমে এককালীন ১০ শতাংশ ও বছরে ৬ শতাংশ অর্থ প্রাপ্তির প্রলোভন দেখানো হতো। গ্রেফতাররা বিনিয়োগকারীদের বার্ষিক ১২-১৬ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখাতো। এছাড়াও তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফায় মাসিক ভিত্তিতে ডিপিএসের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতো বলে জানা গেছে। এভাবে তারা গ্রাহক বাড়াতে সক্ষম হয়। তারা বেশকিছু গ্রাহককে উচ্চ মুনাফায় লোন দেয়। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান না হলেও তারা ব্যাংকের মতোই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ প্রদানের কার্যক্রম পরিচালনা করতো। গ্রাহকদের সংগৃহীত অর্থ ল্যান্ড প্রজেক্ট টেক্সটাইল ও নিজস্ব অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

    র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, করোনার ক্রান্তিলগ্নে যখন মানুষের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন ভুক্তভোগীরা তাদের আমানতকৃত টাকা উত্তোলনের আবেদন করে। তখনই তারা বিভিন্ন অযুহাতে গচ্ছিত টাকা ফেরত না দিতে গড়িমসি শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ওমর ফারুক ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসুদ রানা গ্রাহকদের লগ্নিকৃত টাকা দিয়ে নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে ৫-৬ একর জমি নিজেদের নামে ক্রয় করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির নামে নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে ৭-৮ একর জমি রয়েছে বলে জানা যায়। টাকা ফেরতের জন্য গ্রাহকদের ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুঁলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।

  • ১০ বছর ধরে ১৩ চুলায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার, অবশেষে বিচ্ছিন্ন

    ১০ বছর ধরে ১৩ চুলায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার, অবশেষে বিচ্ছিন্ন

    রাজধানীর ভাটারার সাঈদনগরের বাসিন্দা গাজী সিদ্দিকুর রহমান। নিজের আবাসিক ভবনের ১৩টি চুলায় ১০ বছর ধরে তিনি তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করছেন। এসময়ে ওই ভবনে প্রায় ১২ লাখ টাকার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে।

    রোববার (১৩ মার্চ) ঢাকা জেলা প্রশাসন ও তিতাস গ্যাসের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাসসংযোগ ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়ে। শুধু গাজী সিদ্দিকুর রহমান নয়, ভাটারার সাঈদনগর এলাকার অসংখ্য বাসায় একইভাবে অবৈধ গ্যাসসংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    অভিযানে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ব্যবহারকারীদের জরিমানা করা হয়। গাজী সিদ্দিকুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

    অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী গাজী সিদ্দিকুর রহমান জানান, ২০১২ সালে তিনি বৈধ গ্যাসসংযোগের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে অনুমোদন পাননি। বাধ্য হয়ে অবৈধ গ্যাসসংযোগ ব্যবহার করছেন।

    তার বাসায় গ্যাসসংযোগ দেওয়া এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘তিতাসের লোকজন আমাকে লাইন দিয়েছেন। আমার কী দোষ? আমি তো বৈধতার জন্য আবেদন করেছি। তারা যদি বছরের পর বছর লাইন না দেন, তাহলে তো বাধ্য হয়ে আমাকে অবৈধটা নিতে হয়েছে। আর এটাও তো ফ্রি না। দুই বছর হলো তিতাসের লোকজন এসে মাসে মাসে টাকা নেন। আমার গ্যাস দরকার, বাধ্য হয়ে নিয়েছি।’

    তিতাস গ্যাস ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযান

    অভিযানে দেখা গেছে, কেউ মাটির নিচে দিয়ে রাইজার বসিয়েছেন, কেউ আগে থেকেই রাইজার খুলে রেখেছেন। সকালে রান্না করেছেন। কিন্তু অভিযানের খবর পেয়ে দুপুরের আগেই রাইজার কেটে গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন।

    অভিযান চলাকালে অনেকে স্বেচ্ছায় অবৈধ গ্যাসসংযোগ ব্যবহারের কথা স্বীকারও করেছেন। তাদের দাবি, তিতাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে তাদের অবৈধভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য মাসে মাসে তারা এসে টাকাও নিয়ে যান।

    দিনভর এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার হামিদ। এসময় তিতাসের ঢাকা মেট্রো বিপণন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

    জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউছার হামিদ বলেন, ‘ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এক দফা সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর অবৈধভাবে যদি কেউ আবার লাইন ব্যবহার করে, তবে এ অপরাধে তাদের জেলও হতে পারে।’