Category: প্রশাসন

  • সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন কারাগারে

    সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন কারাগারে

    সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার দুপুরে এহছানুল হক মিলনকে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সফিউল আজমের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে তিনটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    আগামী রোববার এসব মামলার শুনানি হতে পারে বলে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর আইনজীবী জানিয়েছেন।

    এহছানুল হক মিলনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম জানান, মিলনের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের কচুয়া থানা ও আদালতে হত্যা, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট, ভাঙচুর, সন্ত্রাসী হামলাসহ ২৫টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

    ৪৪৯দিন জেল খাটার পর ২০১২ সালের ৫ জুন জামিন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান মিলন। এ মাসের মাঝামাঝি তিনি গোপনে দেশে ফিরে আত্মগোপনে ছিলেন।

    চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, মিলনের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলায় পরোয়ানা থাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। মিলনকে রাতে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম থেকে শুক্রবার সকালে আনা হয় চাঁদপুরে। জেলা ডিবি কার্যালয়ে ও কোর্ট পুলিশ কার্যালয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা রাখার পর বেলা পৌনে ১টায় আদালতে ওঠানো হয়। বেলা সোয়া ১টায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

    প্রায় ৫ বছর বিদেশে পালিয়ে থাকা ১৭ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি বিএনপির সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গ্রেপ্তার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরের পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মিলনকে চট্টগ্রামের চকবাজার থানার চটেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ নভেম্বর থেকে ওই বাসাতেই ছিলেন তিনি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মিলনকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

    জানা যায়, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে এ মাসের মাঝামাঝি বিদেশ থেকে দেশে আসেন মিলন। দেশে এসে মিলনের চাঁদপুরের আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও হাজির হননি তিনি।

    এক সপ্তাহ ধরে মিলনের সঙ্গে পুলিশের চোর-পুলিশ খেলা শুরু হয়। মিলনকে গ্রেপ্তারে ছয় দিন ধরে চাঁদপুরের আদালত চত্বরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গত বুধবার সকাল থেকেও চাঁদপুর সদর পুলিশ সুপার (সার্কেল) জাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের কয়েকটি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা জজ আদালতের প্রতিটি প্রবেশ মুখ ঘিরে রাখে। তাই গ্রেপ্তার-আতঙ্কে গত ছয় দিনেও আদালতে আসেননি মিলন।

    মিলনের আইনজীবী কামরুল ইসলাম বলেন, এভাবে আদালতের চতুর্দিকে পুলিশ প্রহরা থাকলে মিলন কেন, কোনো আসামিই আদালতে ভয়ে ঢুকতে পারবেন না। এ ব্যাপারে জাহেদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা মিলনের জন্য কোনো নিরাপত্তাবলয় তৈরি করিনি। আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরকারি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    মিলনের স্ত্রী নাজমুননাহার বেবির ভাষ্য, ‘মিলনসহ কচুয়ার বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী আদালতে গ্রেপ্তারের ভয়ে হাজির হতে পারছিলেন না। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর লিখিতভাবে নির্বাচনের আগে এই হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম।কিন্তু কেউ সহযোগিতা করেননি বলে দাবি বেবির।

    বিএনপি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে মিলন, তাঁর স্ত্রী নাজমুননাহার বেবিসহ কচুয়ার শত শত বিএনপি নেতা-কর্মীকে আওয়ামী লীগের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীরের লোকজন ও নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন মামলা দিয়ে ও হামলা চালিয়ে কচুয়াছাড়া করে রেখেছেন। আদালতে মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ছিনতাই, লুটপাট ও ভাঙচুরের ২৫টি মামলা রয়েছে।

  • জেলা ও দায়রা জজসহ ৩১ বিচারককে বদলি

    জেলা ও দায়রা জজসহ ৩১ বিচারককে বদলি

    বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনসহ ৩১ জজকে বদলি করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের মোঃ নুরুল আলম সিদ্দকী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে।

    পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ রফিকুল ইসলামকে বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনকে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। বরিশালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের জজ মোঃ আলী হায়দারকে রেজিস্ট্রার (জেলা ও দায়রা জজ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় বদলি করা হয়েছে।

    বরিশালের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মোঃ আতাউর রহমানকে রাজশাহী জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে, বরিশালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের জজ মোঃ মহসিনুল হককে বরিশাল বিভাগীয় স্পেশাল জজ হিসাবে, মোঃ আলী আকবর সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) ঢাকা আইন কমিশন বদলি করা হয়েছে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে।

    লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ এ কে আবুল কাশেমকে গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ মীর রুহুল আমিনকে ঢাকা আইন কমিশন সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ বজলুর রহমানকে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে, রাজশাহী বিভাগীয় স্পেশাল জজ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ, রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক বেগম নিলুফার সুলতানাকে রাজবাড়ি জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে।

    পাবনা জেলা ও দায়রা জজ নুরুজ্জামানকে ঢাকা ১ম কোর্ট অব সেটেলমেন্ট চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে, চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মোঃ আবদুল মান্নানকে পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ, রাজবাড়ি জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আমিনুল হককে ঢাকা ২য় কোর্ট অব সেটেলমেন্ট চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ময়মনসিংহের (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আমির উদ্দিনকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) ঢাকা আইন ও বিচার বিভাগের সৈয়দ কামাল হোসেনকে ঢাকা বিভাগীয় (বিশেষ জজ) ঢাকা, মোঃ মঞ্জুরুল বাছিদ চেয়ারম্যান (জেলা ও দায়রা জজ), ২য় কোর্ট অব সেটেলমেন্ট ঢাকা, বদলি করা হয়েছে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ), আইন ও বিচার বিভাগ।

    হোসেন শহীদ আজমেদ সদস্য (জেলা জজ), প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নং-২ ঢাকা কে বদলি করা হয়েছে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) আইন ও বিচার বিভাগ। বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ ফজলুল হক কে সদস্য (জেলা জজ) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নং-২ ঢাকা বদলি করা হয়েছে। শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আতাউর রহমান কে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নং-৩ ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস কে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। ঢাকা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নং-৩ মোঃ হুমায়ুন কবির কে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) আইন ও বিচার বিভাগ।

    ঢাকা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীর কে চাঁদপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান কে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত ৯ বদলি করা হয়েছে। ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোঃ নাজিমুদ্দৌলা সদস্য (জেলা ও দায়রা জজ) কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। ঢাকার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক খাদেম উল কায়েস কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ নং এ বদলি করা হয়েছে।

    নরসিংদির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বিচারক মোঃ শাহেনুর কে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। রাজশাহী জননিরাপত্তা বিঘœকারী বিচারক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস কে বাগেরহাটে জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে। বগুড়ার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের জজ কে এম শহীদ আহমেদ কে শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ হিসাবে বদলি করা হয়েছে।

  • নিপুণ রায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

    নিপুণ রায় রিমান্ড শেষে কারাগারে

    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    আজ বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে নিপুণ ও আরিফাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। দুজনের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম তা নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ নভেম্বর রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর আরিফা সুলতানাকে একই দিন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

  • ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

    ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১০ জানুয়ারি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন তাঁর নিজস্ব ফাইলে মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করে এ আদেশ দেন।

    এ প্রসঙ্গে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্দুল মালেক জানান, মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত থাকলেও আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না এবং তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়নি। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর জন্য বিচারক তাঁর নিজস্ব ফাইলে মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করে আগামী ১০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

    এর আগে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের আদালত চত্বরে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।

    গত ২২ অক্টোবর মানবাধিকারকর্মী রংপুরের বাসিন্দা মিলি মায়া বেগম রংপুরের মুখ্য বিচারিক আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মানাহানির মামলা করেন। ওই দিন আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মামলাটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই দিন মইনুল হোসেনকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি টক শোতে আলোচনার একপর্যায়ে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন মইনুল হোসেন। তাঁর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো পর্যন্ত ২২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মানাহানির মামলা এবং অপর ২টি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা হয়েছে।

  • দিনে ঘুম, রাতে কাটেন গ্রিল

    দিনে ঘুম, রাতে কাটেন গ্রিল

    ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরেছেন। নিজের ঘরে ঢুকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ হয়তো সাইড টেবিল কিংবা খাটের ওপর ফেলে ঘুমিয়ে পড়েছেন। অনেকে আবার মূল্যবান প্রয়োজনীয় এই জিনিসগুলো নিজের ঘরে রেখে হয়তো খাবার টেবিলে বসেছেন।

    কিন্তু ঘুম ভেঙে বা ঘরে এসে দেখেন, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন কিছুই নেই। কখনো কখনো আবার আলমারি, ওয়ার্ডরোব খোলা পাওয়া যায়; সেখান থেকে উধাও হয়ে যায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার। খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে দেখা যায়, জানালার গ্রিলটি ছোট্ট করে কাটা। তখন হতাশার মনে ভাবনায় আসে বারবার, ‘খুব পাক্কা চোরের কাজ।

    পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা বলছেন, এমনই এক ‘পাক্কা চোরের’ নাম মো. সগির ওরফে রাজু (২৭)। হালকা-পাতলা গড়ন। শারীরিক এই গড়নকে চুরিবিদ্যায় ভীষণ দক্ষতায় কাজে লাগিয়েছেন রাজু। যেকোনো উঁচু ভবন বেয়ে উঠে যেতে পারেন তিনি।

    ১০ তলা উচ্চতার ভবনে উঠতে রাজুর এক টুকরো দড়িরও প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি দুটি সুউচ্চ ভবন হলে তো কথাই নেই। রাজু এসব ভবনের স্যানিটারি পাইপ, পানির পাইপ বা সানশেড বেয়ে উঠে যেতে পারেন দ্রুতগতিতে। ভবনে উঠে কোনো ফ্লোরের একটি জানালা খোলা পেলে বাড়তি সুবিধা। ১০ ইঞ্চির মতো ফাঁকা হলেই পুরো শরীরটাকে বিড়ালের মতো চিকন করে ফেলেন রাজু। ঘরে ঢুকে সব জিনিসপত্র নিজের করে নেন তিনি। আর বন্ধ থাকলেও গ্রিল কেটে ফেলেন রাজু। তিনি দিনে ঘুমান, আর রাতে গ্রিল কেটে চুরি করেন।

    পিআইবি সূত্র জানায়, রাজুর ওস্তাদ মো. হজরত আলী ওরফে রকি। আরেক সঙ্গী মো. শাহিন (২৫)। রাজুসহ তিন চোরের দলকে ২০ নভেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে মিরপুরের মণিপুর এলাকার মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক, মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়। পিবিআইয়ের তিন পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, জুয়েল মিয়া ও হুমায়ুন কবির মোল্লা এবং উপপরিদর্শক ফরিদউদ্দিন বিশেষ এ অভিযানে অংশ নেন।

    পরিদর্শক জুয়েল মিয়া বলেন, ২০১২ সাল থেকে রাজধানীর বাসাবাড়ি থেকে মালামাল চুরির সঙ্গে জড়িত এই দল। দলের প্রধান হলেন হজরত আলী ওরফে রকি। রাজুকে লালনপালন করেন রকি। তাঁর আরেক সহকারী শাহিন। রাজুকে সাভারের আমিনবাজারের কাউন্দিয়া এলাকার একটি বাসা ভাড়া করে থাকতে দেন রকি।

    কাউন্দিয়ায় যাতায়াতের জন্য নৌকায় করে তুরাগ নদ পারাপার করতে হয়। রাজু সারা দিন নিজের বাসায় ঘুমিয়ে থাকেন। রাতে জেগে থাকেন। প্রতিদিন রাতে কাউন্দিয়া ঘাট পারাপার হন তিনি। শাহিনের মাধ্যমে বাড়ির খোঁজ করে চুরি করতে নেমে পড়েন। চুরি করে মোবাইল, ল্যাপটপ, গয়না বা টাকা যা–ই পাওয়া যাক না কেন, সবই তুলে দেন ওস্তাদ রকির হাতে। রকি এসব চোরাই পণ্য ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত বিপণিবিতানে কম দামে বিক্রি করেন তিনি।

    আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পিবিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবর মিরপুরের বড়বাগ এলাকার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নামে এক ব্যক্তির বাসার গ্রিল কেটে একটি অ্যাপল (ম্যাক বুক), একটি আসুস ল্যাপটপ, একটি স্যামসাং নোট-৫ মোবাইল ফোন, একটি স্যামসাং এস-৬ মোবাইল ফোন, একটি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক, নগদ পাঁচ হাজার টাকাসহ মোট আড়াই লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়।

    এ ঘটনায় ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে তিন চোরের চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়।

  • ১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম: সিইসি

    ১৫ ডিসেম্বরের পর মাঠে থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম: সিইসি

    আসন্ন একাদশ সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের পর জেলায় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট টিম থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এজন্য তাদের সঙ্গে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে বলে তিনি জানান।

    বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় তিনি একথা জানান।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানায়, নির্বাচনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বিতীয় দফা বৈঠক ডাকা হবে। সশস্ত্র বাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে সেই বৈঠকের পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

  • প্রধানমন্ত্রিত্বকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রিত্বকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখি: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবেই তিনি বিবেচনা করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ আমার কাছে যতটা না মূল্যবান, তার চাইতে এইটা একটা বড় সুযোগ জনকল্যাণের এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের।

    সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মানুষের সেবায় এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি । বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল এবং এটি একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আমরা এই সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি এবং বিশ্বের বহু দেশ এখন বাংলাদেশকে অনুকরণ করতে চাইছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে উন্নয়নের এই গতিকে অব্যাহত রাখা। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব এবং অনেক ঘাত–প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি এবং কেউই এই গতিকে রুখতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, এই স্বাধীনতা কখনোই ব্যর্থ হতে পারে না। আমরা দেশের প্রতিটি ঘরে স্বাধীনতার এই সুফল পৌঁছে দিতে চাই এবং এই দেশের আর কোনো মানুষ দরিদ্র থাকবে না, অনাহারে কষ্ট পাবে না।

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের অংশ ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’র উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

    প্রধানমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার-পরিজন এবং মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।

    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদ এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

    মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর ঘনিষ্ঠ পরিবার-পরিজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • নলছিটিতে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

    নলছিটিতে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

    শামীম ইসলাম:

    ঝালকাঠির নলছিটিতে এক কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে। পুলিশ বলছে, সে ছাত্রলীগের কর্মী।

    নিহত শিক্ষার্থীর নাম রাকিব হোসেন (১৭)। সে ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও পৌরসভার নান্দিকাঠি এলাকার রিকশাচালক মাসুম হোসেনের ছেলে। আটক তরুণের নাম কাওছার হোসেন সালমান। সে পৌর এলাকার হাসপাতাল সড়কের জাকির হোসেনের ছেলে।

    এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাকিবের সঙ্গে একই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু নাফিউল নামে আরেক বহিরাগত যুবক ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায়। এ নিয়ে রাকিব আর নাফিউলের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত সোমবার রাকিবকে কলেজে মারধর করা হয়। তবে ওই দিন বিকেলে বিষয়টির মীমাংসা করে দেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম কবির ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রিন্স মাহমুদ বাবু।

    পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে রাকিব হোসেন কলেজে প্রাইভেট পড়তে গেলে নাফিউল ও তার সহযোগীরা তাকে আবার মারধর করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে সাকিব নামে রাকিব হোসেনের এক সহপাঠীকেও মারধর হয়। একপর্যায়ে নাফিউল তার হাতে থাকা ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে পেছন দিক থেকে রাকিব হোসেনের মাথায় আঘাত করে। এতে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন রাকিবকে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে বরিশালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

    পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাকিব হোসেন নিয়মিত এলাকায় থাকত না। সে ঢাকায় পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সামনে পরীক্ষা থাকায় সে গত শুক্রবার এলাকায় ফেরে।

    কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, কলেজের মাঠে ঘটনাটি আকস্মিক ঘটেছে। সোমবার যে ছেলেকে মারধর করা হয়েছে নিহত ছেলে সে–ই কি না, তা তিনি এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

    নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মী কাওছার হোসেন সালমানকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের আটকে অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • হামলার সময় হেলমেট পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতারা

    হামলার সময় হেলমেট পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতারা

    রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের উপর হামলার সময় পরিচয় এড়াতে হামলাকারীদের হেলমেট পরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতারা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে লাঠি মজুদ ছিল এবং সেসব লাঠি দেখিয়ে কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন কয়েকজন নেতা।

    হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকানি দেওয়া। তারা ভেবেছিল এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাকশনে যাবে এবং নির্বিচারে লাঠিচার্জ করবে। আর সেসব ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে দলটি রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে।

    মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

    সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এইচ কে হোসেন আলী, শাহজাহানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্বাস আলী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহাবুবুল আলম।

    তিনি বলেন, এইচ কে হোসেন আলী হেলমেট পড়ে গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে উঠে লাফিয়েছিলেন, সোহাগ লাঠি হাতে গাড়ি ভাংচুর করে ও শার্ট খুলে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিলেন, আব্বাস খালি গায়ে উন্মত্বতা প্রকাশ করে গাড়ি ভাংচুর করেন, আশরাফুল পুলিশের পিকআপে প্রথম আঘাত করেন, জাকির ও মাহবুবুল উপস্থিত থেকে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের নির্দেশনা দেন।

    এর আগে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এরা সবাই এজাহারনামীয় আসামি। যারা অজ্ঞাত ছিল তাদেরও মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের সহায়তায় শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকেই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

    তিনি জানান, ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, সেদিন যখন হামলা করা হয় তখন কোনো কোনো নেতারা তাদেরক হেলমেট পরে যেতে বলেছেন, যাতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না যায়। লাঠিও ওখানে আগে থেকেই জড়ো করা হয়েছিল, কেউ কেউ লাঠি নিয়ে যেতে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত আছে তাদের কাউকে কাউকে শনাক্ত করা হয়েছে আবার কাউকে শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সেদিন যে ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল সেটি ফৌজদারী অপরাধ। ফৌজদারী অপরাধ বিবেচনায় নিয়েই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এখানে কারও রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়।

    যে যুবক গাড়িতে আগুন দিয়েছে তার পরিচয় নিশ্চিত হতে পারলেও এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এর বাইরেও অনেককে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ঘটনার দিন পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে পুলিশ ইসির নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য। সেদিন পল্টনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল। ৫-৭ মিনিটে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে ডিএমপির ক্যাপাসিটি রয়েছে। সেদিন পুলিশ অ্যাকশনে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলে ৫-১০ মিনিটে সবাইকে সরিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ যথেষ্ট ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে।

    তিনি বলেন, অনেক পুলিশকে সেদিন আক্রমণ করা হয়েছিল, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের লাইফ রেসকিউ করাই সেদিন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, আমরা সেটি করতে পেরেছিলাম।

    হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য, তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকানি দেওয়া। তারা মনে করেছে এর ফলে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করবে এবং এসব অ্যাকশনের ছবি দেখিয়ে বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে।

    দ্যা ইকোনোমিস্টের একটি রিপোর্টে লেখা হয়েছে- সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত নাশকতা করবে এবং তাদের ব্যাকআপ দেবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা সব রাজনৈতিক দলের শুভবুদ্ধি হবে। সবাই গণতান্ত্রিক পন্থায় তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করবেন। কিন্তু কেউ যদি নাশকতা করার চেষ্টা করে, সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পল্টনের ঘটনায় আসামিরা ফেসবুকের অ্যাকাউন্টও ডিঅ্যাকটিভেটেড করেছিল, তবুও তারা পালাতে পারেনি। অপরাধ করে কেউ পালাতে পারবে না।

    জনগণের জান-মাল ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো ফৌজদারি অপরাধ নস্যাৎ করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে বলে জানান তিনি।

    পল্টনের ঘটনায় পুলিশের উপর হেলমেট পরিহিত হামলাকারীদের দ্রুতই গ্রেফতার করা হলো, সেই সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট সাংবাদিকদের উপর হেলমেটধারী হামলাকারীদের কেন এখনও শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়নি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফৌজদারী অপরাধ হলে সেটিকে আমরা অপরাধ হিসেবেই দেখি, কার উপর হামলা হয়েছে বিষয়টি মুখ্য নয়। এই মামলাটির তদন্ত চলছে, দায়ীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে।

  • সম্পদের হিসাব দেননি বিএনপির রফিকুল, ৩ বছরের দণ্ড

    সম্পদের হিসাব দেননি বিএনপির রফিকুল, ৩ বছরের দণ্ড

    সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত–৬–এর বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় রফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির ছিলেন না। আদালত রফিকুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

    মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১০ জুন তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো রফিকুল ইসলামকে সম্পদের হিসাব জমা দেওয়ার নোটিশ দেয়। কিন্তু তিনি সম্পদের বিবরণ জমা দেননি। এই অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বাদী হয়ে ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি রফিকুলের বিরুদ্ধে উত্তরা থানায় মামলা করেন।

    তদন্ত শেষে একই কর্মকর্তা ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। আদালত ওই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ছয়জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত আজ রায় ঘোষণা করলেন।