Category: প্রশাসন

  • বয়স্ক হওয়ায় প্রেমিককে অস্বীকার, দুই স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    বয়স্ক হওয়ায় প্রেমিককে অস্বীকার, দুই স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

    বরিশাল নগরীর কাশিপুর গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ৬ষ্ঠ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে অপহরণের পর ফ্ল্যাট বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে রাজধানীর সিপাহীবাগ থেকে অপহৃত দুই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অপহরণ ও ধর্ষণে জড়িত মিরাজ শেখ (৩৫) ও রিপন হাওলাদারকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার মিরাজ পিরোজপুরের অমিতপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং একই এলাকার নান্না হাওলাদারের ছেলে রিপন হাওলাদার।

    এর আগে বুধবার সকালে কাশিপুর এলাকা থেকে ওই দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। তাদের বাড়ি নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের চহঠা এলাকায়।

    নগরীর বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি এআর মুকুল বলেন, বুধবার সকালে নিজ নিজ বাড়ি থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর দুই ছাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে দুই ছাত্রীর কান্না অভিভাবকদের শোনানো হয়। এরপর এক ছাত্রীর বাবা থানায় জিডি করেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

    barishal

    পরে মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিং করে রাজধানীর সিপাহীবাগে দুই স্কুলছাত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ। রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে দুই ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অপহরণ ও ধর্ষণে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার দুই যুবক পুলিশকে জানিয়েছে, গত দুই মাস থেকে ওই দুই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে মোবাইলে তাদের কথা চলছিল। তারা দুইজন একাধিক সন্তানের জনক হলেও নিজেদের স্কুলছাত্র পরিচয় দিয়ে দুই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

    বুধবার দুই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কাশিপুর এলাকায় দেখা করে তারা। বয়স বেশি হওয়ায় দুই স্কুলছাত্রী তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায়। সেইসঙ্গে তাদের প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করে ছাত্রীরা।

    এ সময় তারা ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই ছাত্রীকে ঢাকার সিপাহীবাগ নিয়ে যায়। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে দুই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে তারা।

    ওসি এআর মুকুল বলেন, উদ্ধারের পর রোববার দুপুর ১২টার দিকে দুই স্কুলছাত্রী এবং গ্রেফতার দুই যুবককে ঢাকা থেকে বরিশাল বিমানবন্দর থানায় নিয়ে আসা হয়। ছাত্রীদের ধর্ষণে জড়িত মিরাজ ও রিপনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

  • হয়রানি মূলক মামলা কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে

    হয়রানি মূলক মামলা কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে

    নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপির মামলাসংক্রান্ত তালিকা তাঁরা এখনো দেখেননি। তালিকা দেখে যদি মনে হয় যে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, তাহলে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হবে যেন হয়রানিমূলক মামলা না দেওয়া হয়। হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হলে কিছুটা হলেও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আজ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তথ্যপ্রমাণসহ কেউ অভিযোগ করলে নির্বাচন কমিশন আইনে কী আছে, সেটি দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নির্বাচনের আগাম প্রচারসামগ্রী বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগাম প্রচারসামগ্রী আজ দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে সরাতে হবে। আগাম নির্বাচনসামগ্রী কেউ না সরালে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

    বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘থ্যাংক ইউ পিএম’ শিরোনামে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। বিষয়টি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এটি দেখেছেন। চ্যানেলগুলোর নিজস্ব নীতিমালা আছে, টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই, সে ইচ্ছাও নেই।

    তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনটিতে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্য কোনো দল এমন প্রচার করতে চাইলে সেটা করতে পারে। কেউ যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করে, তাহলে এ বিষয়ে আইনে কী আছে, তা দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে এটি আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না।

    নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা, কাউকে এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যদি অতি উৎসাহী কোনো পুলিশ এ ধরনের কাজ করে থাকে, কেউ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে আসা নাম, ঠিকানাগুলো যাচাই করা করা হবে। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    নির্বাচনী কর্মকর্তা কারা হবেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম বলেন, কারা নির্বাচনী কর্মকর্তা হবেন, এ–সংক্রান্ত নীতিমালায় অনেকগুলো শর্ত আছে। যদি কেউ দণ্ডপ্রাপ্ত হন বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, এটা যাচাই করার সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। কাজটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কেউ করে দিতে হবে। এ রকম ক্ষেত্রে যাচাইয়ের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা পুলিশকে অনুরোধ করতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ধরনের নির্দেশ দেননি।

  • বরিশাল নগরীতে রাতে বে-রশিক পুলিশের হানা ৫০ প্রেমিক জুটি আটক

    বরিশাল নগরীতে রাতে বে-রশিক পুলিশের হানা ৫০ প্রেমিক জুটি আটক

    প্রাইভেট ও কোচিং এর কথা বলে নগরীর বিভিন্ন নিরিবিলি বিনোদন কেন্দ্রে প্রেম নিবেদনের মুহুর্তে কোতয়ালী পুলিশের বে-রশিক সদস্যরা হানা দিয়ে কমপক্ষে ৫০ জোড়া প্রেমিক জুটি আটক করেছে।

    অভিভাবকদের থানায় ডেকে এনে ভবিষ্যতে ছেলে মেয়েদের খোজ খবর ঠিক মত রাখবে এই শর্তে বন্ড রেখে অভিভাবকদের জিম্মায় রাতেই ছেড়ে দেয়া হয়। নগরীতে বিভিন্ন কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার কথা বলে প্রতিদিনই প্রেমিক জুটি মিলিত হয় বিনোদন কেন্দ্র গুলোতে। তাদের প্রেম নিবেদন চলে অনেক রাত অবদি।

    এতে করে একদিকে আইনশৃঙ্খলার যেমন অবনতি সম্ভবনা থাকে তেমনি সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে চলছিলো। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেম নিবেদন চালিয়ে যাচ্ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থাকা ছেলে মেয়েরাই বেশি দায়ী।

    তবে উঠতি বয়সি শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে ছিলো না প্রেম নিবেদনে। গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, শিশুপার্ক, বেলস্ পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, স্বাধীনতা পার্ক, কাঞ্চন পার্কসহ একাধিক স্থানে কোতয়ালী পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে স্কুল-কলেজ ও কোচিং ফাঁকি দিয়ে সামাজিক পরিবেশ দূষনের অপরাধে প্রায় ৫০ প্রেমিক জুটিকে আটক করে।

     আটককৃতদের নিয়ে আসার পরে রাতে কোতয়ালী থানায় অভিভাবকদের মিলন মেলার মত সৃষ্টি হয়। এসময় নাম প্রকাশে অনুইচ্ছুক এক অভিভাবক বলে ওঠেন আমার মেয়ের আজ রাতে আক্দ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে যদি এমন সংবাদ তারা পায় তাহলে কি হবে আমার মেয়ের ভাগ্যে আল্লাহই জানে। পরে সেই মেয়ের মুখোমুখি করে তার অভিভাবককে। পুলিশ সদস্যরা জানতে চায় আজ তোমার আক্দ অনুষ্ঠান তুমি কেন বাইরে বেড়িয়েছো। তখন মেয়েটি বলে ওঠে স্যার আমার বয় ফ্রেন্ডের সাথে শেষ বারের মত দেখা করতে এসেছিলাম।

    এমন আর ঘটনার জম্ম দিলো অন্য অভিভাবক মেয়েকে জুতা পেটা করতে চাইলে পুলিশ বাধা প্রদান করে। তবে অনেকের মুখেই ছিলো এমন ঘটনা কেন ঘটায় এর বিচার বাসায় গিয়েই করবো। তবে অভিভাবকদের ভূমিকা পালন করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। কারন পুলিশের এই কাজ করার কথা ছিলো অভিভাবকদের।

    সর্বশেষ কোতয়ালী পুলিশের অফিসার ইনজার্চ নুরুল ইসলাম পিপিএম সকল অভিভাবকদের থানায় আসতে বলেন এবং তাদের সচেতন হওয়ার আহবান জানান। পরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার(এসি) মোঃ রাসেল আহম্মেদ অভিভাবক ও আটক প্রেমিক জুটিদের সামনে নিয়ে অভিভাভকদের আরো সচেতন ও ছেলে মেয়ে কে কোথায় যায় সেদিকে খেয়াল রাখার পরার্মশ দেন।

    তিনি আরো বলেন, এ অভিযান চলমান থাকবে। যাতে করে কোন স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পরে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া আর বাইরে বের না হয়। তবে অনেক অভিভাবক ধন্যবাদ জানান কোতয়ালী থানা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের। তাদের কারনে আমরা আমাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি আরো নজরদারী করবো।

  • মারা গেল সেই নবজাতক

    মারা গেল সেই নবজাতক

    রাজধানীতে গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগে একটি বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা নবজাতকটি বেলা দুইটার দিকে মারা গেছে। আজ শুক্রবার সকালে শিশুটিকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া শিশুটির মারা যাওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    জানা গেছে, গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগে স্থানীয় এক স্কুলের শিক্ষক রোমানা আক্তারের বাসার সামনে নবজাতকটিকে ফেলে যাওয়া হয়। একজন পুরুষ ও নারীকে ব্যাগটি ওই বাসার সামনে রেখে যেতে দেখেছেন কেউ কেউ।

    ব্যাগটি পড়ে থাকার খবর ওই শিক্ষককে আশপাশের লোকজন জানালে তিনি ব্যাগটি খুলে ভেতরে শিশু দেখতে পান। শিশুটিকে তিনি নিয়ে হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে ভর্তি করেন।

    বাচ্চু মিয়া চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানিয়েছিলেন, শিশুটি এক দিন বয়সী হতে পারে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

  • নিরপরাধীদের হয়রানি করা হবে না: মনিরুল

    নিরপরাধীদের হয়রানি করা হবে না: মনিরুল

    রাজধানীর পল্টন এলাকায় গত বুধবার পুলিশের গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধী কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

    আজ শুক্রবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রসি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনিরুল এ কথা বলেন।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, পল্টনের নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।
    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অযথা কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে মন্তব্য করে মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সময় ফৌজদারি অপরাধ না করলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি না ভাঙলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জঙ্গি তৎপরতার আশঙ্কা নেই। তবে জঙ্গিবাদ যেন মাথাচাড়া না দিতে পারে, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

    গত বুধবার দুপুরে পুলিশের ‘রাস্তা চালু রাখার চেষ্টা’য় উৎসবের পরিবেশ সংঘাতময় হয়ে ওঠে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো হয়, ভাঙচুর করা হয় অনেক গাড়ি। এরপর থেকেই চলছে দোষারোপ আর পাল্টা দোষারোপ।

    এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে তিনটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অন্তত ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবি।

  • বিএনপি নেতা নিপুন রায় গ্রেপ্তার

    বিএনপি নেতা নিপুন রায় গ্রেপ্তার

    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা পল্টন থানায় তিনটি মামলা করা হয়। তিনটি মামলাতেই নিপুন রায়কে আসামি করা হয়েছে।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার আতিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, আজ রাত ৮টার দিকে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নিপুন রায় এবং সংগীত শিল্পী ও বিএনপি নেত্রী বেবী নাজনীনকে আটক করে পুলিশ। পরে বেবী নাজনীনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর নিপুর রায়কে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

  • সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে দেশলাই দিয়ে আগুন দেওয়া যুবক শনাক্ত

    সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে দেশলাই দিয়ে আগুন দেওয়া যুবক শনাক্ত

    রাজধানীর নয়াপল্টনে গতকাল বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গাড়িতে দেশলাই দিয়ে যে যুবককে আগুন দিতে দেখা যায়, তাঁকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই দাবি করেন।

    মিশু বিশ্বাসের ভাষ্য, পুলিশের গাড়িতে যে যুবক আগুন দিয়েছেন, তাঁর নাম শাহজালাল খন্দকার। তিনি পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। একই ঘটনার সময় পুলিশের গাড়ির ওপর যে যুবককে লাফাতে দেখা গেছে, তাঁকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এই সহকারী কমিশনারের।

    তাঁর ভাষ্য, এই যুবকও ছাত্রদলের। পুলিশ কর্মকর্তা মিশু বিশ্বাসের এই বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি। মিশু বিশ্বাস বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রাত পর্যন্ত ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে আগুন জ্বালাতে দেখা যুবক ও গাড়ির ওপর লাফাতে থাকা যুবক নেই বলে জানান মিশু বিশ্বাস।

    সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আসামি করে পুলিশ তিনটি মামলা করেছে। গতকাল বুধবার পল্টন থানায় এই মামলাগুলো করা হয়। পল্টন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, রাস্তা অবরোধ, পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গতকাল দুপুরে হাজারখানেক নেতা-কর্মীর মিছিল পুরো রাস্তা আটকে দেয়। মিছিলটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি লেন চালু করার চেষ্টায় পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

    বিএনপির নেতা-কর্মীরাও খুব দ্রুত মারমুখী হয়ে ওঠেন। তাঁদের লক্ষ্য করে পুলিশ প্রচুর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ছররা গুলি ছোড়ে। গুলি-টিয়ার গ্যাসের শেলের দ্রুম দ্রুম শব্দ, গ্যাসের ধোঁয়া, নেতা-কর্মীদের হইচই, ধর ধর চিৎকার, মানুষের ছোটাছুটি, হুড়মুড় করে দোকানের ঝাঁপ নামানোর শব্দ—সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিছু যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষে ২৩ পুলিশ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি উভয় পক্ষের। পুলিশ এ ঘটনার জন্য বিএনপিকে দায়ী করছে। পুলিশ বলছে, সংঘর্ষের জন্য মির্জা আব্বাস, তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, বিএনপির নেতা আখতারুজ্জামান ও নবীউল্লাহ দায়ী। মির্জা আব্বাসের ভাষ্য, ‘এটা সরকার বা আওয়ামী লীগের সাবোটাজ হতে পারে।

  • নয়া-পল্টনে হেলমেট পরিধানকারী ‘ছাত্রদল ক্যাডার শাওন’

    নয়া-পল্টনে হেলমেট পরিধানকারী ‘ছাত্রদল ক্যাডার শাওন’

    য়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত হেলমেট পরিধানকারীর পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গনমাধ্যমের সুত্র ধরে, তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

    পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের পর গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে থাকা হেলমেট পরিধানকারী ব্যক্তিটি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জাহিদুজ্জামান শাওন। মোহাম্মদপুর থানা সুত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

    হেলমেট পরিধানকারী যুবক শাওনের পরিচয় প্রকাশ হওয়া সাথে সাথে সাম্প্রতিক সময়ে ‘হেলমেট বাহিনী কারা’ রহস্যের জটও খুলেছে।

    এছাড়া, এর আগে পুলিশের উপর হামলাকারী মির্জা আব্বাসের একনিষ্ঠ কর্মী শাহজাহানপুর যুবদল ক্যাডার সোহাগ ভুঁইয়ার পরিচয় চিহ্নিত করেছে বিভিন্ন গনমাধ্যম।

    উল্লেখ্য, গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে উস্কানিমুলক বক্তৃতার পর, আজ নয়াপল্টনে পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।

  • বিএনপির সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    বিএনপির সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত: সজীব ওয়াজেদ জয়

    নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পর চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের জেলে ভরে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ওই ঘটনার একটি সংবাদ শেয়ার করে নিজের ভেরিফাইড পেজে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    জয় লিখেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হতে না হতেই বিএনপির সহিংসতাও শুরু হয়ে গেছে। ঠিক যেভাবে তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের জীবন্ত পুড়িয়েছিল।

    তিনি বলেন, বিএনপিকে কোনোদিক থেকেই আর রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কানাডিয়ান ফেডারেল আদালতও একই কথা বলেছে একাধিকবার। তাদের সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত।

    সবাইকে জেলে ভরে রাখা উচিত।

    নির্বাচনী আমেজের মধ্যে হঠাৎ করেই বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে নয়াপল্টন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    এতে আহত হয়েছেন পুলিশ, সাংবাদিক, বিএনপি নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাংচুর করা হয় আরও কয়েকটি যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে।

  • সিকিউরিটির মানে কি আমাকে ঘিরে রাখা : খালেদা

    সিকিউরিটির মানে কি আমাকে ঘিরে রাখা : খালেদা

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, পুলিশ সিকিউরিটির মানে কি আমাকে ঘিরে রাখা। এভাবে ঘিরে থাকলে আমি আইনজীবীদের দেখতে পাই না। তাদের সঙ্গে কথা বলতেও পারি না। পুলিশ তো আদালতের বাইরে থাকবে।

    নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য বুধবার (১৪ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯নং বিশেষ জজ মাহমুদুল কবিরের আদালতে খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয়। হুইল চেয়ারে বসে তিনি আদালতে আসেন। এ কারাগারেই দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া। আদালতে হাজির করার পর তিনি এসব কথা বলেন।

    খালেদা জিয়া আদালতের পরিবেশের কথা প্রশ্ন তুলে বিচারককে বলেন, এই ছোট্ট পরিসরের আদালতে কীভাবে আপনি (বিচারক) এ মামলার বিচার করবেন। আগের আদালতে বিচার করুন।

    এ সময় বিচারক বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আমি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। তবে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রসিকিউটরকে বলছি।

    খালেদা জিয়া শুনানি চলাকালে আরও বলেন, ‘মামলা দিয়ে কোর্টের মাধ্যমে আমাদের আটকে রাখা হচ্ছে। তাহলে বলে দেয়া হোক যে, আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার দরকার নেই।’

    তিনি বলেন, ‘একদিকে মামলা চলবে, অন্যদিকে তারা (ক্ষমতাসীন দল) নির্বাচন করবে- এটা তো হতে পারে না।’
    শুনানিতে অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন রাখেন, ‘আমার মামলাগুলো কেন এত দ্রুত বিচার করা হচ্ছে? কয়টা মামলা দ্রুত বিচারে নিষ্পত্তি করা হয়েছে? সেভেন মার্ডার (নারায়ণগঞ্জের সাত খুন) কি দ্রুত বিচার আইনে হয়েছে?’

    ‘বর্তমান রাজনীতির সঙ্গে সবকিছু চলছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    খালেদা জিয়া নির্বাচনের পর অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আমার নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকবেন। কেউ আসতে পারবেন না। এ কারণে নির্বাচনের পর শুনানির দিন ধার্য করা হোক।’

    খালেদা জিয়ার বক্তব্য শেষে আদালত ৩ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। দুপুর সোয়া ১টায় বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন।