Category: প্রশাসন

  • মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদের

    মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের ওপর হামলা: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশের একটি গাড়ি প্রায় পুড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়, তা দেখবে আওয়ামী লীগ।

    আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, এই উসকানি কারা দিল? নির্বাচন পেছানোর জন্য বিএনপি এই উসকানি শুরু করে দিল? তারা কি জানান দিল যে ২০০১, ২০১৪–এ যেটা করেছে, সেটাই করবে? তিনি বলেন, আজ সেটাই প্রমাণ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে চায়। আজ পুলিশের ওপর সাঁড়াশি হামলা করে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া নেতারা স্বরূপ প্রকাশ করেছেন।

    বিএনপির নেতা-কর্মীর একটি মিছিলে পুলিশের বাধা দেওয়ার ঘটনায় আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের অন্তত দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীর সংঘর্ষের ঘটনার কিছু পরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

  • ইসির সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের ১৪ নেতা

    ইসির সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের ১৪ নেতা

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক চলছে। নির্ধারিত সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেন। অপর দিকে কমিশনের পক্ষে বৈঠকে আছেন সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা।

    নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট ইসির সঙ্গে এই বৈঠক করছে। যদিও গতকাল মঙ্গলবারই সিইসি জানিয়েছেন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথমে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে এ বৈঠকের কথা জানানো হলেও পরে ইসির পক্ষ থেকে পরিবর্তিত এই সময়ের কথা জানানো হয়।

    ইসির সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া ঐক্যফ্রন্টের এই প্রতিনিধি দলে আছেন, ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মওদুদ আহমদ, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী, মোস্তাফা মহসীন মন্টু, মোদাব্বির খান, এস এম আকরাম, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও আবদুল মালেক রতন।

    এদিকে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ইসির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

    নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মির্জা ফখরুল নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার পরিবেশ ঘোলাটে করছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।

    আজ বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

  • সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘চক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, এই সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।

    আজ বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা একটি চক্রান্ত। আমরা নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে নমিনেশন নেওয়ার জন্য তাদের লোকজন ভিড় করেছে, তখন কিছু করেনি।’

    উসকানি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কালকে (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে চিঠি দিল। এই চিঠি দিয়ে আজকে পুলিশের অ্যাকশন। প্রভোকেশন (উসকানি) করে নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে।

    আজ বেলা পৌনে একটার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের একটি পিকআপসহ দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ছোড়া প্যালেট বুলেটে (ছররা গুলির মতো) বিএনপির কমপক্ষে ১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল। পুলিশ রাস্তায় তাঁদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। বেলা পৌনে একটার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বড় একটি মিছিল নিয়ে ঢাকা-৮ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসেন।

    ওই সময় কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর মিছিল সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে কর্মী-সমর্থকেরা সরে না যাওয়ায় একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি মিছিলের ওপর উঠে যায়। ওই সময় কয়েকজন আহত হন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

    মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থককে লাঠিপেটা করে। পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ প্যালেট বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। তবে বিএনপির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। তাঁরা রাস্তায় চলাচল করা অন্যান্য ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর করে।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্যালেট বুলেটে আহতরা হলেন: পিরোজপুরের নেছারাবাদের মো. শামসুল হক, রাজধানীর মুগদার মেহেদি হাসান মিরাজ, অরিন, পল্টনের মো. কাদির, হৃদয় শেখ, মতিঝিলের মকবুল হোসেন, সবুজবাগের মনির হোসেন, খিলগাঁওয়ের মোস্তাক, কলাবাগানের সুমন, বিমানবন্দর থানা এলাকার মহিউদ্দিন রতন, মাদারীপুরের সাখাওয়াত হোসেন এবং পিরোজপুরের আসাদুজ্জামান। তাঁদের গলা, মাথা ও পিঠে গুলির আঘাত লেগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

  • বন্ধুকযুদ্ধে নিহত রবিউল,ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর খুনি

    বন্ধুকযুদ্ধে নিহত রবিউল,ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর খুনি

    শেখ সুমন :

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় বন্ধুকযুদ্ধে রবিউল নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত রবিউল আলম (৩৫) মাদারীপুর জেলার বাসন্দিা ও উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ ঘোষ নান্টুকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত।

    মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। এরআগে সোমবার (১২ নভেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদারীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় রবিউল আলমকে। যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৬ টি হত্যা মামলা রয়েছে।

    এরপর মধ্যরাতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উজিরপুরের ফুলতলা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে যায় পুলিশ। যেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দৃর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি করলে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ গুলি বিনিময়ের সময় রবিউল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

    এদিকে পুরো অভিযানে ১ টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

  • চালকের দুই চোখ উপড়ে অটোরিকশা ছিনতাই

    চালকের দুই চোখ উপড়ে অটোরিকশা ছিনতাই

    নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায় শাকিল (১৮) নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়াপাড়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত শাকিল আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়ার আবু বকরের ছেলে।

    নিহতের বড় ভাই শরিফ জানান, শাকিল প্রতিদিনের মতো রোববার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। সোমবার সকালে ফেসবুকে তার মরদেহের ছবি দেখে তালতলা ফাঁড়িতে গিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন তারা।

    সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আহসান উল্লাহ জানান, সোমবার সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়াপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়।

    তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা চালকের দুই চোখ উপড়ে ফেলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • পাঁচ জনের যাবজ্জীবন: মোস্তফা হত্যায়

    পাঁচ জনের যাবজ্জীবন: মোস্তফা হত্যায়

    ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বজলুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শফিউদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, সুমন, জসীম উদ্দিন ও অসিম উদ্দিন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার জয়নগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে আসামিরা মোস্তফা ও তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, লোহার রড, চাপাতি দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করে। গুরুতর অবস্থায় মোস্তফাকে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিনই রাত পৌনে ৯ টায় মারা যান মোস্তফা। ওই ঘটনায় তার দুই শ্যালক হায়দার আলী ও রবি হোসেন গুরুতর আহত হন।

    পরের দিন নিহত মোস্তফার স্ত্রী সাজেদা খাতুন কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ২০০৬ সালের ১৯ অক্টোবর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আবুল হাশেম ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অপর আসামি এনায়েত হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলায় বিভিন্ন সময়ে ১৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

  • রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

    রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ

    পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। এছাড়াও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে না জানিয়ে কোনো রাজনৈতিক মামলাও করা যাবে না।

    শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষুদে বার্তায় এই নির্দেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    ক্ষুদে বার্তার শিরোনামে লেখা ছিল ‘SUSPENSION OF POLITICAL ARREST (রাজনৈতিক গ্রেফতারে স্থগিতাদেশ)’। পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ও তার ঊর্ধ্বতনদের পাঠানো এই ক্ষুদে বার্তায় কমিশনার বলেন, ‘You are requested not to make any political arrest and not to record any political case without our knowledge until further order as instructed by hon home minister. Thanks, PC DMP’ (পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের অবগত না করে কোনো রাজনৈতিক গ্রেফতার ও মামলা না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।

    এই বার্তার কিছুক্ষণ পর আরেক বার্তায় কমিশনার জানান, ‘CLARIFICATION : No bar to execute warrants of Arrest, No bar to lodge case if any incident happens, It’s a short term strategy to see the political developments in the country.’ (ব্যাখ্যা : গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার ও কোনো দুর্ঘটনার মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা)।

    এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘পুলিশ কখনও সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোত্র বিশেষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। বাংলাদেশ পুলিশ একটি জাতীয় সংস্থা হিসেবে কখনওই এমন করে না। এটি পুলিশের পেশাগত আচরণ ও নীতির পরিপন্থী। পুলিশ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে কাউকে গ্রেফতার করতো না, মামলা দিত না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক (লিখিত) কোনো নির্দেশনা পাইনি।’

    তবে পুলিশের একাধিক উপ-কমিশনার (ডিসি), অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ডিএমপি কমিশনারের মোবাইল থেকে এই ক্ষুদে বার্তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম একটি দাবি ছিল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করা। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের গত বৃহস্পতিবারের রাজশাহী অভিমুখের রোডমার্চটিও বাতিল করা হয় এই কারণে। এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান বলেন, এই নির্দেশনা যদি আন্তরিক হয় তাহলে মঙ্গল, আর যদি রাজনৈতিক হয় বিপজ্জনক। আমাদের অন্যান্য দাবিগুলোকেও তাদের মানতে হবে।

    দ্বিতীয় দফা সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা-গায়েবি মামলা ও গ্রেফতারকৃতদের তালিকা দেন।

  • পুলিশের নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক পেজ-চ্যানেল নিয়ে সতর্কতা

    পুলিশের নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক পেজ-চ্যানেল নিয়ে সতর্কতা

    বাংলাদেশ পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে খোলা সকল ভুয়া ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও চ্যানেলকে সতর্ক করা হয়েছে।

    রোববার পুলিশের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এ সতর্কতা জানিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং) সুদীপ্ত সরকার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের নাম ও লোগো ব্যবহার করে খোলা সকল ভুয়া ফেসবুক পেজ, গ্রুপ ও চ্যানেলকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওইসব ভুয়া পেজ সরিয়ে নিতে হবে।

    বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেজে পোস্টে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের নাম, লোগো বা পরিচয় ব্যবহার করে অননুমোদিতভাবে ও আনঅফিসিয়ালি খোলা ফেসবুক পেজ, চ্যানেল বা গ্রুপে প্রকাশিত সংবাদ বা পোস্টের কারণে নানারকম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, অনিয়ন্ত্রিত এ সকল ফেসবুক গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের এডমিনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং।

    এতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের অ্যাডমিনদেরকে অনুরোধ করা হচ্ছে যেন আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তারা তাদের গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের নাম পরিবর্তন করে। মনে রাখতে হবে, আনঅফিসিয়ালি ও অননুমোদিতভাবে খোলা এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের নামকরণে বাংলাদেশ পুলিশের নাম, লোগো বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না।

    ওই পোস্টে আরও বলা হয়, এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, এ সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজ বন্ধ করে দেয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং, আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইংয়ের সাথে সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কিত সংবাদ ও তথ্যাদি প্রকাশ ও প্রচার করা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় ও কার্যক্রমের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল গ্রুপ, চ্যানেল ও পেজের এডমিনদেরকে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে এএসপি, মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইং, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর ফোন ০১৭৬৯৬৯১৫৮৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

    ইতোমধ্যে যারা নাম ও বিবরণ পরিবর্তন করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস উইংয়ে সাথে সমন্বয় সাধন করেছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদও জানানো হয় বাংলাদেশ পুলিশের ওই ফেসবুক পোস্টে।

  • খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে ৫ নেতা

    খালেদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে ৫ নেতা

    বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে গেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতা। আজ সোমবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাঁরা কারাগারে ভেতরে ঢোকেন।

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে কারা ফটকের সামনে অপেক্ষা করছেন বিএনপির ৫ নেতা। ছবি: দীপু মালাকার

    খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া পাঁচ নেতা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমির উদ্দিন সরকার ও মির্জা আব্বাস।

    কারাগারের ভেতর ঢুকছেন বিএনপির ৫ নেতা। ছবি: দীপু মালাকারকারাগারের ভেতর ঢুকছেন বিএনপির ৫ নেতা।

    মালাকারবিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী আছেন। দুর্নীতির দুটি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালত ১৭ বছর জেল দিয়েছেন।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আজই প্রথমবারের মতো দলটির নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে গেলেন।

  • এসপি শামসুন্নাহারের এক দিন

    এসপি শামসুন্নাহারের এক দিন

    জীবনে কত কিছুই তো ভালো লাগে। কখনো কখনো সেই ভালো লাগা স্বপ্নের বীজ বুনে দেয়। তবে সেই বীজ চারা বা মহিরুহ হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন কয়জন! কত স্বপ্ন অঙ্কুরেই শেষ হয়, সেই জায়গা পূরণ করে নতুন নতুন ভালো লাগা ও স্বপ্ন। তবে যাঁরা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে অবিচল থাকেন এবং সেই স্বপ্নকে ঘিরেই অধ্যবসায়ী হন, তাঁরা নিশ্চয় ওই দলভুক্ত হবেন না। শামসুন্নাহার তেমনই একজন ব্যক্তি।

    শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও সত্যি, একটি ইউনিফর্মের প্রতি ভালো লাগা থেকে হৃদয়কোণে স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। আজ তাঁর গায়ে সেই ইউনিফর্ম। বলা যায়, সেই ইউনিফর্ম বেশ আগেই তাঁর গায়ে উঠেছে। তবে ইউনিফর্মের কোনায় যুক্ত হওয়া নতুন নতুন ব্যাজ জানান দিচ্ছে, তিনি সাধারণ উর্দিধারী নন। তাঁর হেঁটে চলা পথে ঘুরে বেড়ায় চারপাশের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি। শ্রম আর মেধায় নিজেকে সেই অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি।

    শামসুন্নাহারের ভাষায়, ‘ইউনিফর্মের নেশা’ তাঁর এখনো কাটেনি। তাঁকে দেখে কোনো না কোনো মেয়ের মনে যেন এই ইউনিফর্মের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়, সূক্ষ্মভাবে সেই চেষ্টা থাকে তাঁর।

    গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার পিপিএমের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় আগে থেকেই নির্ধারণ ছিল। ২৫ অক্টোবর। তবে সেই দিনের এক ঘটনায় পাল্টে যায় পরিস্থিতি। পেশার প্রতি যত্নশীল এই নারী তাঁর দায়িত্ব পালন করার পরই সাক্ষাৎকারের জন্য কিছু সময় দেন। যতটা দীর্ঘ হতে পারত সেই সাক্ষাৎকার, যতটা খুঁটিনাটি উঠে আসতে পারত কথাবার্তায়, সেটা না হলেও একজন এসপির দৈনন্দিন কাজে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কতটা গুরুত্ব আছে।গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাদক, জঙ্গি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শপথবাক্য পাঠ করাচ্ছেন এসপি শামসুন্নাহার। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমিনওই দিনের (২৫ অক্টোবর) শুরুতে সকাল সোয়া ১০টায় গাজীপুরের শ্রীপুর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের গেট দিয়ে ঢুকলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের হুইসিল, উপস্থিত জনতার ভিড় সব দেখে মাঠে লাইন করে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের চোখে অপার বিস্ময়। এসপি শিক্ষার্থীদের মাদক, জঙ্গি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে বললেন। শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করালেন। এর মধ্যেই খবর এল শ্রীপুরে এক যুবকের দুই হাত শরীর থেকে কেটে ফেলে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নির্ধারিত কর্মসূচি ফেলে এসপি ছুটলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। স্বজনদের মাথায় হাত বুলিয়ে ও দিকনির্দেশনা দিয়ে শামসুন্নাহার ছুটলেন নিহত যুবকের বাড়ি এবং ঘটনাস্থলে।

    একজন নারী এসপির এই ছুটে চলা দেখতে মানুষ খুব একটা অভ্যস্ত নন। তাই যেখানেই যাচ্ছেন, তাঁকে দেখতে এগিয়ে আসা মানুষের জটলা সামলানো নিরাপত্তারক্ষীদের বাড়তি দায়িত্বে পরিণত হচ্ছিল। এসপি শামসুন্নাহার যেখানেই যাচ্ছিলেন, নিজের মুঠোফোনের নম্বরটি লোকজনকে দিয়ে বলছিলেন প্রয়োজনে তাঁকে ফোন দেওয়ার জন্য। উপস্থিত লোকজনের চোখে–মুখে একধরনের স্বস্তি দেখা গেল, যেন বিপদে আস্থা রাখার মতো কোনো অভিভাবক পেলেন তাঁরা।

    শ্রীপুরের কড়ইতলায় খুন হওয়া যুবকের স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন এসপি শামসুন্নাহার। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমিনশামসুন্নাহারের সঙ্গে কথা বলার জন্য সময় নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু খুনের ঘটনায় সব পরিকল্পনা বাতিল। তাই এসপির গাড়িবহরের সঙ্গে প্রতিবেদক, ফটো সাংবাদিক।

    যুবকটি যেখানে খুন হয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে এসপি শামসুন্নাহার কাজের ফাঁকে একবার আক্ষেপ করে বলেন, ‘জনগণ সম্পৃক্ত না হলে অপরাধ দমন করা কঠিন। অপরাধী জানে, খুন করলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছাতে কম করে হলেও ঘণ্টা বা তার বেশি সময় লাগবে। এই যুবককে সবার চোখের সামনে দিনের আলোয় গাড়িতে তোলা, কোপানো, হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা, তারপর ফেলে রেখে চলে যাওয়া—অপরাধীদের অনেক সময় লেগেছে, অথচ এই যুবকটিকে কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি, সব জায়গায় এই একই অবস্থা হয়।’

    গাজীপুরের এসপি শামসুন্নাহার এর আগে চাঁদপুরে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ভালো কাজের জন্য প্রশংসিত হন। গাজীপুরে দায়িত্ব পালন করছেন দুই মাসের বেশি সময় ধরে। দিনের কর্মসূচিতে স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার পর স্কুল থেকে কাছেই শ্রীপুর থানা প্রাঙ্গণে ওপেন হাউস ডে তে শামসুন্নাহারের এলাকার জনগণের সঙ্গে বসার কথা ছিল।

    জনগণ দুপুর পর্যন্ত বসেই ছিলেন। শ্রীপুরের কড়ইতলায় খুন হওয়া যুবকের বাড়ি, সেখান থেকে আধা কিলোমিটার দূরে তাঁর লাশ ফেলা হয়। এসব জায়গা ঘুরে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরত্বে আবার থানায় ফিরলেন শামসুন্নাহার। এলাকাবাসীর কাছ থেকে নানা সমস্যার কথা শুনে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দিতে দিতে দুপুরের খাবারের সময় হয়ে গেল। থানায় দুপুরের খাবার খেলেন তিনি। খাওয়ার শেষ পর্যায়ে এলাকার এক ব্যক্তি তাঁর মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে এলেন। তাঁর সঙ্গে মেয়ে ও যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনিও ছিলেন। দুই পক্ষের কথা শুনলেন শামসুন্নাহার।

    আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কাজে ছুটে চলছেন এসপি শামসুন্নাহার। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমিনখাওয়া শেষ হতেই শামসুন্নাহার ছুটলেন শ্রীপুর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরত্বে গাজীপুরের জয়দেবপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। কার্যালয়ে ঢুকতে ঢুকতে বিকেল প্রায় চারটা। সেখানে এসপির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন বিভিন্ন বয়সী নারী, শিশু। কেউ কেউ আবার সবার সামনে সমস্যার কথা বলবেন না, তখন তাঁকে ভেতরের কক্ষে নিয়ে কথা বললেন তিনি।

    নির্ধারিত সাক্ষাৎকার শুরু করতে বিকেল গড়িয়ে গেল।শামসুন্নাহার জানালেন, তাঁর স্বপ্নের কথা, স্বপ্ন পূরণের কথা, পেশার চ্যালেঞ্জ, প্রত্যাশা—এমনকি পরিবারের কথাও।

    শামসুন্নাহারের জন্ম ফরিদপুর। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রামেই ছিলেন। তাঁরা দুই ভাই, দুই বোন। বাবা মো.শামসুল হক পেশায় আইনজীবী। মায়ের নাম আমিনা বেগম।
    শামসুন্নাহার বলেন, ‘ছোটবেলায় হাট, ঘাট, বিল, ঝিল দাপিয়ে বড় হয়েছি। সাঁকো হেঁটে পার হওয়া কোনো ব্যাপারই ছিল না। আর এই অভিজ্ঞতাগুলোই পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী দায়িত্ব পালনে কাজে লাগছে।’

    কেন পুলিশ হতে চাইলেন?
    এমন কথার জবাবেই উঠে এল পুলিশের ইউনিফর্মের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা। শামনসুন্নার বলেন, ‘পরিবারের সবাই আমাকে ব্যারিস্টার বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ার সুযোগ পেলাম না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তি হলাম।’

    জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে চরম হতাশায় দিন কাটছিল। হলের পক্ষ থেকে বিএনসিসিতে যোগ দেওয়ার পর বিমান শাখায় তিনিসহ সেরা ১০ জনকে একটি কোর্সের জন্য নির্বাচিত করা হয়। কোর্সে গিয়ে ইউনিফর্মের প্রতি ভালোবাসার জন্ম হয়। সিদ্ধান্ত নিলেন, বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পুলিশে যোগ দেবেন।

    হাসতে হাসতে শামসুন্নার বলেন, ‘ইউনিফর্মের নেশা এখনো কাটেনি আমার। কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকে আমি যতক্ষণ পারি, ইউনিফর্ম পরে থাকি। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে। আমাকে দেখে একজন শিক্ষার্থীর মধ্যেও যেন পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন জাগে, সেই চেষ্টা করি।’

    এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন এসপি শামসুন্নাহার। ছবি: সাবরিনা ইয়াসমিনপুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্যারেডে প্রথম নারী অধিনায়ক হিসেবে পরপর দুবার নেতৃত্ব দেওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন শামসুন্নাহার।

    এ পেশার চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে জানান, চাঁদপুরের তুলনায় গাজীপুরে চ্যালেঞ্জের মাত্রা একটু বেশি। গাজীপুরে স্থায়ী মানুষের পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে আসা মানুষের সংখ্যা প্রায় সমান সমান। এই অস্থায়ী মানুষের এলাকার উন্নয়নে বা স্থানীয়দের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না। অপরাধ করে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারেন। পোশাকশিল্প কারখানার শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, জমি দখল, বন দখল, ব্যবসায়িক দলাদলি, ট্রাফিক জ্যামসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং জঙ্গিবাদের মতো সমস্যা তো আছেই।

    ভারী কথার একপর্যায়ে উঠে এল সংসারের গল্পও। তাঁর মতে, সংসারকে প্রাধান্য দিতেই হবে। তাঁর দুই সন্তান। ১৭ বছর বয়সী ছেলে বিদেশে পড়াশোনা করছে। দেশে তাঁর সঙ্গে রয়েছে সাড়ে ৬ বছর বয়সী মেয়ে। স্বামী হেলাল উদ্দিন ব্যবসায়ী। স্বামীসহ পরিবারের সবাই তাঁর চাকরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিচ্ছেন বলে জানান। তাঁর মতে, সংসারে দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হয়।

    বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড পাওয়া শামসুন্নাহার জানালেন, মেয়েকে প্রচণ্ড জ্বরে রেখে সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। এখন ঘরে ফিরে মেয়ের মুখোমুখি হওয়ার পালা।