Category: প্রশাসন

  • বরিশালে যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৩

    বরিশালে যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৩

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    বরিশালে যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় ১২ হাজার মিটার বস্তাভর্তি কারেন্ট জাল জব্দ করেছে বরিশাল র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)। এ সময় বাসচালক আব্দুল জব্বার ও সুপারভাইজার মামুনসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

    রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল কুয়াকাটা সড়কের কাঠালতলা নামক স্থানে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করলে এই কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

    জানা যায়, মায়ের আঁচল নামে একটি বাস বরিশালের রুপাতলী থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাউফলের উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮’র এএসপি আজাদ মিয়ার নেতৃত্বে বরিশাল কুয়াকাটা সড়কের কাঁঠালতলা এলাকা ওই বাসটি থামিয়ে তল্লাশি করা হলে বস্তাভর্তি প্রায় ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ সময় বাসচালক আব্দুল জব্বার ও সুপারভাইজার মামুনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তবে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে আব্দুল জব্বার দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম।

  • বরিশালে ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট আমিনুল আটক

    বরিশালে ইয়াবাসহ মাদক সম্রাট আমিনুল আটক

    নিজস্ব প্রতিবেদক ::

    বরিশালের হিজলায় অভিযান চালিয়ে মাদক সম্রাট আমিনুল ইসলাম (৪৫) কে ৬ শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করেছে পুলিশ।

    আমিনুল ইসলাম একই উপজেলার চর দুর্গাপুর গ্রামের মৃত রহমত আলী’র ছেলে।

    শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হিজলা উপজেলার কাউরিয়া বাজার থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হিজলা থানার এস আই সিদ্দিকুর রহমান, এ এস আই আমিনুল ও এ এস আই নাসিরের নেতৃত্বে একটি  পুলিশ দল ৬শত পিস ইয়াবা ও নগদ ২২ হাজার টাকাসহ মাদক সম্রাট আমিনুল ইসলামকে আটক করেছে।

    সূত্র জানায়, আমিনুল সেনাবাহিনীতে চাকুরী অবস্থায় মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় তাকে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। চাকরিচ্যুৎ হওয়ার পর থেকে আমিনুল মাদক ব্যবসা করে আসছে। ঢাকায় কয়েক বার ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। হিজলা থানায়ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা। আমিনুল ইসলাম বরিশাল জেলার মাদক চালান কারীর অন্যতম সম্রাট।

    হিজলা থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার শিকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    রোববার মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

  • কথিত সরকারি কর্মকর্তা র‌্যাবের হাতে আটক

    কথিত সরকারি কর্মকর্তা র‌্যাবের হাতে আটক

    খুলনা প্রতিনিধি /জান্নাতুল ফেরদৌস:

    সৈয়দ সোহাগ হোসেন প্রেম। বয়স ৩৩ বছর। নগরীর লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ডের এ বাসিন্দার স্থায়ী নিবাস মেহেরপুরের বোসপাড়া এলাকায়। তার পিতার নাম সৈয়দ সরোয়ার হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে জাল সনদপত্র তৈরি করে প্রতারণা করে আসছিলেন সহজ-সরল মানুষের সাথে। কিন্তু শুক্রবার রাতে র‌্যাব-৬-এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেফতার করে জাল সনদ ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ের সীলমোহরসহ। র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার মেজর এ এম আশরাফুল ইসলাম, পিপিএম) জানান, শুক্রবার রাতে লবণচরা থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারের লক্ষ্যে অপারেশন ডিউটি চলাকালীন রাত আনুমানিক ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে লবণচরা বান্দা বাজার এলাকায় অবস্থানকালীন র‌্যাবের স্পেশাল কোম্পানীর দলটির কাছে খবর আসে যে, খানজাহান আলী(রহ:) ব্রীজের নিচে একজন ব্যক্তি ওয়েস্ট বেঙ্গল পরিবহন কর্পোরেশনের(ডব্লিউএসটিসি) বাংলাদেশের সমস্ত বর্ডার ইনচার্জ এবং ঢাকা ও কলকাতার একজন সড়ক পরিবহন অফিসার অবস্থান করছেন। একইসাথে তিনি স্থানীয় সহজ-সরল মানুষের সাথে জাল দলিল দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করেন। র‌্যাবের অভিযানিক দলটি মেজর এ এম আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সেখানে গিয়ে প্রতারক সোহাগ হোসেন প্রেমকে হাতে-নাতে আটক করে। ধৃত সোহাগ হোসেন প্রেম দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার সহজ সরল মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মিথ্যা ও জাল সনদ দেখিয়ে জালিয়াতির ব্যবসা চালিয়ে আসছেন এবং তিনি এলাকায় জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলেও র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে। আসামীকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধি আইনে মামলা রুজু করা হয়।

  • জি কে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে

    জি কে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে

    অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মামলায় আলোচিত যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় পাঁচদিন ও মাদক মামলায় পাঁচদিন। এছাড়া সাত দেহরক্ষীকে অস্ত্র মামলায় চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    সাত দেহরক্ষী হলেন- দেলোয়ার হোসেন, মুরাদ হোসেন, জাহিদুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সামসাদ হোসেন ও আমিনুল ইসলাম।

    শনিবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নেয়া হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দুই মামলায় ১৪ দিন ও সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার পৃথক পৃথক রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

    এর আগে শনিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম ও তার সাত বডিগার্ডকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

    গুলশান থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো. সাদেক জানান, তাদের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিংয়ে তিনটি মামলা হয়েছে।

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনের অফিসে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‌্যাব। অভিযানে এক কোটি ৮০ লাখ নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) পাওয়া যায়, যার মধ্যে তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি ও ২৫ কোটি টাকা তার নামে। পাওয়া যায় মার্কিন ডলার, মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্র।

    চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ থাকায় রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা শামীমকে ধরতে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সাদা পোশাকে শুরু হয় র‍্যাবের অভিযান। বিকেল সাড়ে ৪টায় অভিযান শেষে শামীমসহ আটজনকে আটক করার কথা জানায় র‍্যাব।

    র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জি কে শামীমকে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, যদি তিনি নির্দোষ হন, তাহলে কোর্টে এগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি, কোর্টে তার বক্তব্য সঠিক হলে তিনি ছাড়া পাবেন।

  • বরিশালে মটরসাইকেলের কারণেই হত্যা করা হয় তেল ব্যবসায়ী রিয়াজকে

    বরিশালে মটরসাইকেলের কারণেই হত্যা করা হয় তেল ব্যবসায়ী রিয়াজকে

    বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মরকখোলা পোল এলাকায় তেল ব্যবসায়ী রিয়াজুল হক সরদার হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেনের দিক নির্দেশনায় এয়ারপোর্ট থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুলে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রিয়াজ হত্যার দেড় মাসের মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন তারা।

    গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর পৃথক অভিযানে হত্যাকান্ডে জড়িত দুইজনকে আটক করেন তারা। আটককৃতরা হলো চাঁদপাশা ইউনিয়নের শ্রীমন্তরায় গ্রামের আঃ হাকিম চৌকিদারের ছেলে রুবেল চৌকিদার (২১) ও রহমতপুরের লোহালিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ লিমন (১৮)।

    আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মূলত মটর সাইকেল ছিনতাই ও অর্থলোভের কারণেই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে ঘাতকরা বলে স্বীকারোক্তি দেন আটককৃতরা।

    আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেন (বিপিএম-বার)।

    গত ৫ আগস্ট দিবাগত রাতে কোন এক সময় তেল ব্যবসায়ী রিয়াজকে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। ৬ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে রিয়াজুল হক সরদার (৩৭) নামের ওই ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। এ ঘটনায় রিয়াজের স্ত্রী নাজমিন বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তেল ব্যবসায়ী রিয়াজ ঋণগ্রস্ত থাকায় ব্যবসার পাশাপাশি ভাড়ায় মটরসাইকেল চালাতেন।

    মামলা দায়েরের পরপরই মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল, এসআই এনামূল হক, এএসআই কালাম, এএসআই আউয়াল ও এএসআই জব্বার হত্যার রহস্য এবং আসামীদের গ্রেফতারে নেমে পড়েন। তাদের বিচক্ষণতা,উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেনের দিক নির্দেশনায় সনাতন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন তারা।

    এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে দুইটার দিকে ছিনতাইকারী রুবেলকে চাঁদপাশা গ্রামের ঘটকের চর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বাকি আসামীদের ধরতে অভিযান চালায়। তবে সেখান থেকে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও ২০ সেপ্টেম্বর রাতে বাবুগঞ্জের মীরগঞ্জ লোহালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মো: লিমনকে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনকারী ও তার স্ত্রীসহ আরো তিন ছিনতাইকারী পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ আগস্ট রাত ২ টার দিকে মূল পরিকল্পনাকারীর স্ত্রী ও তার বন্ধু তেল ব্যবসায়ী রিয়াজকে ভাড়া চুক্তিতে বাবুগঞ্জের দিকে নিয়ে যায়। আটককৃত লিমন ও রুবেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, এরপর বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের তালতলা এলাকার উঁচাপোল নামক স্থানে গিয়ে প্রথমে রিয়াজকে বেধে ফেলার চেষ্টা করে তারা। কিন্তু তা না পেরে ছিনতাইকারী লিমন রিয়াজকে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। এসময় রিয়াজ তা ঠেকাতে গেলে তার হাতে কোপ লাগে। এরপর রিয়াজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ছিনতাইকারী দলের অপর ৪ জন তাকে ধরে ফেলে। এ সময় রিয়াজের সাথে ছিনতাইকারীদের ধস্তাাধস্তি হওয়ার এক পর্যায় পাশের ডোবায় পড়ে যায় রিয়াজ ও একজন ছিনতাইকারী এবং সেখানেই শ্বাসরোধ হত্যা করা হয়েছে।

    পরের দিন ৬ আগস্ট সকালে ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ার পর ছিনতাইকারীরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং ৭ আগস্ট আটককৃত লিমন ও মূল পরিকল্পনাকারী রিয়াজের মটর সাইকেলটি বরিশাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। হত্যাকান্ডের মিশনে মোট ৫ জন অংশ নিয়েছিল। অপর তিন ছিণতাইকারী এখনো পলাতক রয়েছে।

    তবে তাদের আটকে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেন (বিপিএম-বার)। মামলার স্বার্থে অপর তিন ছিনতাইকারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  • চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন মিন্নি

    চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাচ্ছেন মিন্নি

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    চিকিৎসা করাতে ঢাকা যাচ্ছেন বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় বরগুনা লঞ্চঘাট থেকে এমভি শাহরুখ লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছেন তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর, নানা জাকির সিকদার ও অন্য এক আত্মীয়।

    এ ব্যাপারে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই আমার মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। কারও সঙ্গে কথা বলে না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না। দিনকে দিন সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিন্নিকে ঢাকা নিয়ে যাচ্ছি।’ মিন্নিকে চিকিৎসক দেখানোর ফাঁকে মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলেও জানান তিনি।

    গত ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশলাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একই দিন রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। এতে এ মামলায় জামিন চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন মিন্নি। আদালতের নির্দেশে তিনি গণমাধ্যমে কোনও বক্তব্য দিতে পারছেন না।

    গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একইসঙ্গে ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। মামলাটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ছয় কিশোর অপরাধী শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এ ছাড়া, মিন্নিসহ জামিনে রয়েছেন দুইজন।

    প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

  • রিফাত হত্যা: ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা

    রিফাত হত্যা: ৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৬ মামলা

    বরগুনা প্রতিনিধি ::

    আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় একটি রিকশাসহ ১৮ ধরনের আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি রিকশা ব্যতীত বাকি ১৭ ধরণের আলামত আদালতে দাখিল করেছে পুলিশ। এছাড়াও এ মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে ৭৫ জনকে। এদের মধ্যে নিহত রিফাতের ঘনিষ্ঠ স্বজনসহ পুলিশ, চিকিৎসক এবং এলাকাবাসী রয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত ২৪ জনের মধ্যে আট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদক, হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    এ মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হামায়ুন কবির চার্জশিটে উল্লেখ করেন, মামলার এজহার ও তদন্তে যাওয়া অভিযুক্তদের বয়সের বিবেচনায় দুভাগে ভাগ করে চার্জশিটটি দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিতে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১০ জন আর অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ১৪ জন।

    চার্জশিট থেকে জানা গেছে, রিফাত হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ও তদন্তে পাওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে আগেও মোট ১৬টি মামলা ছিল। এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মারধর, মাদক, হত্যাচেষ্টা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    আরও জানা গেছে, এ মামলার প্রাপ্তবয়ষ্ক অভিযুক্তদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটে এক নম্বর অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজীর বিরুদ্ধে, মাদক, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় মোট চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন সময় তিনি গ্রেফতারও হয়েছেন। এ চার্জশিটের তিন নম্বর ও চার নম্বর অভিযুক্ত মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত এবং মো. রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের বিরুদ্ধেও মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে বরগুনা সদর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

    প্রাপ্তবয়স্ক অভিযুক্তদের মধ্যে দুটি করে মামলা রয়েছে ছয় ও নয় নম্বর অভিযুক্ত মো. মুছা ও মো. সাগরের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মুছার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটি মাদকের মামলা এবং সাগরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দুটির মধ্যে একটি নারী নির্যাতন ও অপরটি হত্যাচেষ্টা মামলা।

    এছাড়াও এ মামলার কিশোরদের নিয়ে গঠিত চার্জশিটের এক নম্বর অভিযুক্ত মো. রাশেদুল হাসান ওরফে রিশান ফরাজী ও মো. তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধেও একটি করে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের মামলা রয়েছে। এছাড়া মো. ওয়ালিউল্লাহ অলি নামে চার নম্বর কিশোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি মাদক এবং একটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

    রিফাত হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে জানা গেছে, তিনটি পেনড্রাইভ, একটি ডিভিডি, রিফাতের ওপর হামলার স্থানে রক্তমাখা রাস্তার পিচের অংশ বিশেষ, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা, একটি রক্তমাখা অফহোয়াইট শার্ট, একটি স্টিলের চামচ, একটি কালো রংয়ের নারীদের জামা, একটি চিরুনি, মিন্নির বাঁধাই করা একটি ছবি, খোদাই করে নয়ন+মিন্নি লেখা একটি শামুক, সিম-মেমোরি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোন, রক্তমাখা কালো রংয়ের একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি রামদা মামলার আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    এসবের মধ্যে তিনটি পেনড্রাইভ একটি ডিভিডিতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বন্ড ০০৭ গ্রুপের সকল তথ্য ডাইনলোড করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্ক্রিনশটসহ নয়ন বন্ডের জন্মদিনে মিন্নির উপস্থিতির ভিডিও দেয়া হয়েছে একটি পেনড্রাইভে। এছাড়া এ মামলার আলামত হিসেবে দেখানো রিকশাটি মূলত আহত রিফাত শরীফকে নিয়ে কলেজের সামনে থেকে হাসপাতালে গিয়েছিল। শুধুমাত্র এই রিকশাটি মালিকের জিম্মায় প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বাকি সব আলামত আদালতে দেয়া হয়েছে।

    পেনড্রাইভ ও ডিভিডিতে থাকা সকল ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট পুলিশের পুলিশের সাইবার ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া হয়েছে। এসব ডিভাইসে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং স্ক্রিনশট কোনো প্রকার এডিটিং করা হয়নি, বিশেষজ্ঞদের দেয়া এমন সাইবার ফরেনসিক মতামত চার্জশিটে যুক্ত করা আছে। এছাড়া জব্দ করা ছয়টি মোবাইলের মধ্যে চারটি মোবাইলের বিষয়েও নেয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত।

    আলোচিত রিফাত হত্যা মামলায় মোট ৭৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিহত রিফাতের বাবা-মাসহ নিকটাত্মীয় ও বন্ধুরাও রয়েছেন। রয়েছেন পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরাও। এদের মধ্যে ১২ জন পুলিশ সদস্য, চারজন চিকিৎসক এবং বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর নামও রয়েছে সাক্ষীদের তালিকায়। এছাড়াও নয়ন বন্ডের বাসার ভাড়াটিয়ারাও সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।

    মামলায় এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নিহত রিফাতের বাবা মো. দুলাল শরীফকে। ২৬ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে হেলাল সিকদারকে। এই হেলালের মোবাইলকে কেন্দ্র করেই করেই রিফাত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। ৩০ ও ৩৫ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে নয়ন বন্ড ও মিন্নির বিয়ের কাজী মো. আনিচুর রহমান এবং এবং বিয়েতে মিন্নির উকিল বাবা মো. রাইয়ানুল ইসলাম শাওনকে।

    এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবরী বলেন, রিফাত হত্যাকাণ্ড একটি আলোচিত ঘটনা। মামলাটি তদন্তের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে পুলিশ। সততা, নিরপেক্ষতা এবং সচেতনতার সঙ্গেই এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

  • কমিউনিটি পুলিশে কোন দালালের স্থান হবে না : পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান

    কমিউনিটি পুলিশে কোন দালালের স্থান হবে না : পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান

    স্টাফ রিপোর্টার//রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার) বলেছেন, আমরা এখন সেই ব্রিটিস ও পাকিস্তান ভাব ধারার পুলিশ নই। সেসময় আমরা বিভিন্ন কারনেই অনেক কাজ করতে সক্ষম হয়নি।

    পুলিশ এখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাষ নিয়ে একটি ঘুষ,দূর্নীতি মুক্ত পুলিশ প্রশাসন গড়ার লক্ষে সর্বস্তরের জন প্রতিনিধি, গন প্রতিনিধিদের ও তৃনমূলদের সাথে নিয়ে সমাজের সকলস্তরের সেবা পৌছে দিতে চাই।

    তিনি আরো বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চাই তাহলে আপনাদের সোনার মানুষ হয়ে সকলের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।

    আজ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় নগরের অশ্বনী কুমার টাউন হল মঞ্চে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে নাগরিক তথ্য অভিযান-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথাগুলো বলেন।

    মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রলয় চিসিম, উপ- পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোক্তার হোসেন (বিপিএম-বার), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্ত) আবু রায়হান সালেহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খায়রুল আলম।

    এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বিসিসি প্যানেল মেয়র আয়শা তৌহিদা লুনা ও কোতয়ালী কমিউনিটি পুলিশ কমান্ডার নগরের সাদা মনের মানুষ দানশীল শ্রি বিজয় কৃষ্ণ দে।

    পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান আরো বলেন, অপরাধ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে তথ্য সংগ্রহের লক্ষে তথ্য বহুল মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসন গড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। অপরাধী যতই বড় হোক তাকে পুলিশের আইনের আওতায় আসতে হবে এছাড়া যিনি কমিউনিটি পুলিশ থেকে দালালী করতে চান তাকে এখনই চলে যেতে হবে এখানে কোন দালালের স্থান হবে না।

    তাই সমাজের সকলের নিরাপত্তা ও শান্তির সার্থে পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার জন্য তিনি আহবান জানান।

    পড়ে মতবিনিময় শেষে পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান কয়েকটি বাসায় তথ্য ফরম নিজ হাতে বিতরণ করার মধ্যে দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন।

    এরপূর্বে সকাল ১১ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ময়দানে ১০দিন ব্যপি তথ্য সংগ্রহ অভিযান উপলক্ষে ফেস্টুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন।

    এর পরে পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে এক বণ্যাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল চত্বরে এসে শেষ করেন।

  • শান্তিকামী জনগণ পাশে থাকলে সব ধরণের অপরাধ দূর করা সম্ভব

    শান্তিকামী জনগণ পাশে থাকলে সব ধরণের অপরাধ দূর করা সম্ভব

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি ::

    পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. মইনুল হাসান (পিপিএম) বলেছেন, সমাজ থেকে মাদককে দূর করতে হলে সমাজের সকল প্রকার শান্তি প্রিয় জনগণের সহযোগীতা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জিরোটলারেন্স ঘোষণা করেছে এবং তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশ সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গি, ইভটিজিং সহ নানা অপরাধ প্রবনতা রোধকল্পে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সমাজ গঠনে সকলের জোড়ালো ভ‚মিকা রাখতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করা ও পুলিশের সকল অনৈতিক কাজের ব্যাপারে অভিযোগ দিয়ে সহায়তা করুন।

    পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিট পুলিশিং এর উদ্দ্যোগে গলাচিপা উপজেলায় মাদকসেবী আত্মসমর্পনকারী দরিদ্র পুনর্বাসন কর্মসূচী ও বিট পুলিশিং কার্যালয়ের অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. মইনুল হাসান (পিপিএম) শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতার মোর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গলাচিপা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার দে, পৌর মেয়র আহসানুল হক তুহিন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন মোল্লা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু ও গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি খালিদ হোসেন মিলটন প্রমুখ।

    অনুষ্ঠানে সভাপতি ও গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আখতার মোর্শেদ বক্তব্যে বলেন, গলাচিপা উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানা পুলিশ সব ধরণের সহযোগীতা আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে গলাচিপা ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিট পুলিশিং এর অফিস কার্যালয়ে শুভ উদ্ধোধন করেন।

    অনুষ্ঠানে গলাচিপা পৌরসভার বিভিন্ন সুধী গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ৫জন মাদকসেবীর মাঝে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য চায়ের ফ্লাস্ক এবং বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ও গলাচিপা পৌরসভার মাধ্যমে নগদ ২ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

  • এবার ঢাকায় আসছেন মিন্নি

    এবার ঢাকায় আসছেন মিন্নি

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবার ঢাকায় আসছেন।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করতে রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আসবেন তিনি। মিন্নির আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আইনজীবীরা জানান, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে আইনি পরামর্শের জন্যই মূলত ঢাকায় আসছেন তিনি।

    মিন্নির একাধিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সুপ্রিম কোর্টে এসে মিন্নি তার প্রধান আইনজীবী জেড আই খান পান্নার চেম্বারে অন্য সব আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে আদালতের নিষেধ থাকায় মিডিয়ার সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না

    এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর মিন্নিকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত বহাল রাখায় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিন্নি। আদালতে মিন্নির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দীন।

    গত ২৯ আগস্ট মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে জামিনে থাকাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলা যাবে না বলে শর্ত দেন আদালত।

    হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। তবে ওই আবেদনে কোনো সাড়া না পেয়ে নিয়মিত আবেদনের সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত শরিফের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    পরে ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টায় মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইন্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

    পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির।